বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : কংসের গল্প
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :Sourav
          IP Address : 4512.139.342323.151 (*)          Date:19 Dec 2018 -- 10:24 AM




Name:  Sourav Mitra          

IP Address : 4512.139.342323.151 (*)          Date:19 Dec 2018 -- 10:25 AM

কংসের গল্প ভাবা যাক, -লোকটি আগেই জেনে ফেলল ভাগ্নের হাতে তার মরণ। বোন-ভগ্নীপতিকে গ্রেফতার করল, অতগুলো বাচ্চা মারল, তবুও ‘ভাগ্নে’র জন্ম আটকাতে পারল না! -এই কাহিনী ‘সত্য’ হলে কংসের, আর ‘কল্পনা’ হলে ব্যাসদেবের বুদ্ধি নিয়ে যে কোনও যুক্তিবান মানুষের-ই সন্দেহ জাগবে। - বোন আর ভগ্নীপতিকে দু’টো আলাদা ঘরে বন্দী রাখলেই তো ল্যাঠা চুকে যেত, কারাগারে কি প্রকোষ্ঠ কম পড়েছিল? আসল রহস্য কী? –logical error নাকি lost in translation? একজন দোর্দন্ডপ্রতাপ রাজা বা একজন মহান লেখক এমনধারা ভুল করবেন, -মানতে কষ্ট হয়।

শব্দার্থবিধি না চিনে প্রথমে যদি ‘ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল’ –স্তবকের শুধু আক্ষরিক অর্থটুকুই ধরি, আর তারপর ‘সুগন্ধী হিসেবে রৌদ্রের উপকার’ –গোছের টিকা রচনার প্রয়াস করি, -তাহলে তা শুধু ত্রুটিপূর্ণ-ই নয়, হাস্যকর-ও। আসল সমস্যা হল, ‘কংস’ শব্দটি শুনলে একজন ‘ভোজবংশীয় রাজা’-ই মাথায় আসে। কাঁসার বা ‘কংস’ধাতুর থালায় খেয়েছি, তবু লক্ষ্য করি নি -এই ধাতুটি আসলে ‘একাধিক দুর্বল সত্ত্বার সংমিশ্রণে সৃষ্ট একটি সবল ও উজ্জ্বল সত্ত্বা’ (ব্যক্তি-বিশেষ নয়)। বৃহত্তর অর্থে একটি ‘শক্ত-সবল যৌথসমাজ’। -যার জন্মদাতা ‘উগ্র-সেন’। শব্দকল্পদ্রুম অভিধান অনুসারে ‘সেনা’ শব্দটি ‘সেন’ শব্দের প্রকৃতিরূপ! আবার ‘ক্ষেত্র-ক্ষেত-ক্ষত্র-ক্ষত্রিয়’ –এই শব্দপরিবারের দিকে তাকালে আন্দাজ করা যায় এই ‘সেন’ বা ‘সেনা’র পূর্বপরিচয়। এদিকে দূর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শ্রীমদ্ভাগবত’ অনুসারে কংস উগ্রসেনের ‘ক্ষেত্রজ’ (ক্ষেত্র হইতে জাত) সন্তান! –পুরো ব্যাপারটা কি তাহলে আজকের ভাষার ‘কৃষক অভ্যুত্থান’? -হতেই পারে! পালবংশের আগেও হয়তো এদেশের জনগণের তাদের রাজা বা নেতা নির্বাচন করেছিল।

যাই হোক, এই কংসের বিনাশ ঘটিয়ে (তার-ই জমিতে) ‘পুঁজিবাদের অবতার’ (কার্ল মার্কসের কথায়, ‘…the world still jogs on, solely through the self-chastisement of this modern penitent of Vishnu, the capitalist.’ - Capital, Vol. - 1, Chapter - 24, Sec. - 3) ‘কৃষ্ণ’ধনের রাজত্ব শুরু। যৌথসমাজের সেই আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। কৃষ্ণধনের সম্ভাব্য উৎসগুলিকে সে সবরকম ভাবে অবরুদ্ধ বা ‘restrict and restrain’ করার আপ্রাণ চেষ্টা করে। কিন্তু, একসময়ে এসে তার রক্ষীরা তন্দ্রা যায়, ‘iron curtain’ লুটিয়ে পড়ে। কৃষ্ণধনের ‘গোপনে বাড়া’র কথা জেনেও যৌথসমাজ তাকে ‘খতম’ করতে ব্যর্থ হয়। জন্মমাত্রই তার রূপে গুণে মানুষ মুগ্ধ। সে জগতবাসীর ঘরের মাখন (মানসিক অর্জন, উপার্জিত ধন) চুরি করে ফাঁক করলেও মানুষ তাকে আশকারা-ই দেয়। মাঝেমাঝে অনুযোগ জানাতে গেলে পণ্যবাদ হরেকরকম ‘লীলা’ দেখাতে শুরু করে। তার বাঁশীর সুরে (বিজ্ঞাপনের চটকদারিতে) পুরনারীদের ‘মাখনে’র পর চরিত্রটুকুও যায়।... ওদিকে জগতবাসীর ট্যাঁক ফাঁকা করা ‘নৈবেদ্য’য় ফুলে-ফেঁপে ওঠে (বাণিজ্যের জমিতে) ‘ধন-বর্ধন’ পর্বত (ভোলা উচিৎ নয়, ভারতের আদি মুদ্রা ছিল গরু) । বিপদে পড়লে সেই পর্বতকেই আবার রক্ষাকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।...

এই বিষ্ণু বা নারায়ণ প্রথমে জ্ঞানবাদী বা ‘গদাধারী’ ছিল। {গদ = ‘গামীর দাতা যাহাতে’ বা ‘যে শব্দ কথকের মনোভাব বহন করে’। গদগদ = জ্ঞানের কথায় মজে যাওয়া। গদাঘাত = যুক্তির আঘাত। ‘গদ’-এর চলমান বা যোগ্য (য) রূপ হল ‘গদ্য’।} পরে সেই ‘গদ’-এর ন-করণের (negation) ফলে সে পুঁজিবাদী বা ‘ন-গদ নারায়ণ’ হয়ে যায়। সময়ের প্রয়োজন অনুসারে যার দশরকম manifestation. তার অনুগামী (স্ত্রী) ধনের দেবী, -যে আবার ‘বাণিজ্যে বাস করে’।...

কিন্তু প্রশ্ন হল, এই ভাবে ভাষাতত্ত্বের রাস্তায় ইতিহাস খুঁজতে যাওয়া কি আদৌ যুক্তিসঙ্গত? ইতিহাসকার নীহাররঞ্জন রায় (১৯০৩-১৯৮১) বা জার্মান নৃতত্ববিদ ইগন ফ্রিয়েরার ভন ইক্সস্টেড (Egon Freiherr von Eickstedt, 1892- 1965) -দের মতে ভাষাতত্ত্ব বাদ দিয়ে শুধু নৃতত্ত্বের মাধ্যমে ঐতিহাসিক জনতত্ত্ব (demographics)-এর সঠিক পরিচয় পাওয়া সম্ভব নয়। ‘দ্যা জার্নাল অফ্ আফ্রিকান হিস্ট্রি’ অনুসারেও আফ্রিকা মহাদেশে প্রাচীন ইতিহাস সন্ধানে অন্যতম প্রধান পন্থা ছিল ভাষাতত্ত্ব।




এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1