বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3


           বিষয় : কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবস্থা নাকি শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের "অভিযোগ" ?
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :সব্যসাচী মুখার্জি
          IP Address : 785612.35.671212.114 (*)          Date:01 Dec 2018 -- 11:51 PM




Name:  সব্যসাচী মুখার্জি          

IP Address : 785612.35.671212.114 (*)          Date:01 Dec 2018 -- 11:53 PM

বিষয়টা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রদের কম উপস্থিতি নয় । কম উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার আবদার নয় । বিষয়টা বরাবর একই রয়ে গেছে । সেটা হলো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জঘন্য পরিকাঠামো । যে পরিকাঠামোতে বছরের পর বছর ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে চলেছে এই বিশ্ববিদ্যালয় । আন্দোলন হলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন ছাত্রদের পড়াশোনা করতে ; অথচ পড়াশোনা করার সেই পরিবেশটাই তৈরি নেই কোথাও । যে বিশ্ববিদ্যালয় বছরে একবার পরীক্ষা নিয়ে সঠিকভাবে খাতা দেখে রেজাল্ট বার করতে পারে না ; সেই বিশ্ববিদ্যালয় যে সঠিকভাবে সেমিস্টার নিতে পারবে না সেটা জানাই কথা । বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা দেখুন । সেকেন্ড ইয়ার জেনারেলের পরীক্ষা শেষ হয়েছে জুন মাসে । ফার্স্ট ইয়ার অনার্স পরীক্ষা শেষ হয়েছে জুলাই মাসে । সেখানে এই সপ্তাহে ফার্স্ট ইয়ার অনার্সের রেজাল্ট বেরিয়ে গেলো ; অথচ সেকেন্ড ইয়ার জেনারেলের রেজাল্ট কবে বেরোবে কেউ জানে না । অথচ সেকেন্ড ইয়ারের রেজাল্ট আগে বার করা উচিৎ ছিলো কারণ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা হয় ফেব্রুয়ারি মাসে । অর্থাৎ সেকেন্ড ইয়ার জেনারেলের কোনো ছাত্র কোনো পেপারে অকৃতকার্য হলে সে থার্ড ইয়ার পরীক্ষা দেওয়ার আগে সেই পেপারের পরীক্ষা আবার দিতে পারে যাতে সে একসঙ্গে থার্ড ইয়ারে ফাইনাল রেজাল্ট পায় । সে কারণেই আগে রেজাল্ট বেরোয় সেকেন্ড ইয়ার জেনারেলের । কিন্তু কোথায় কী । গতবছর ফার্স্ট ইয়ার অনার্সের রেজাল্ট বেরোয় ডিসেম্বরের শেষের দিকে । এবারে একদিনের নোটিশে সেটা প্রায় একমাস এগিয়ে চলে এলো ; অথচ সেকেন্ড ইয়ারের রেজাল্টের কোনো পাত্তা এখনও অবধি নেই । এরপর রেজাল্ট বেরোলে কোনো ছাত্র খাতা স্ক্রুটিনিই করবে কখন , আরটিআই বা করবে কখন , সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপই বা করবে কখন , আর সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার প্রিপারেশনই বা করবে কখন । বছরের পর বছর একই জিনিস চলে আসছে । নাম্বার মনমতো না হলে সেটাকে যাচাই করতে যা সময় লাগে ; ততদিনে পরের বছরের পরীক্ষা হয়ে যায় । ফলে সেই ঝামেলায় যাওয়া ছাত্রদের পক্ষে আর সম্ভব হয় না । বছর বছর ভুরি ভুরি অভিযোগ রেজাল্ট নিয়ে । বছর বছর রেজাল্ট বার করতে ইউনিভর্সিটি এতো দেরী করে যে সেই নিয়ে ছাত্রদের আন্দোলন করতে হয় । গতবছর হঠাৎ করে রেগুলেশন পাল্টে বহু ছাত্রছাত্রীকে ফেল করানো হয় । সেই নিয়েও ছাত্রদের আন্দোলন করতে হয় । এহেন ইউনিভর্সিটিতে সেমিস্টার চালু হলে যা হওয়ার তাই হয়েছে । কোথাও উপস্থিতির হার কম , কোথাও বা ছাত্ররা অ্যাডমিট কার্ড পায়নি । কলেজে উপস্থিতি দরকার পঠনপাঠনের জন্য । সেটা হওয়ার পরিবেশ আদৌ আছে কলেজগুলোতে ? বহু কলেজের নানা ডিপার্টমেন্টে স্থায়ী শিক্ষক নেই । পরিকাঠামোর গলদ আছে নানা কলেজে । অতএব ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট টিউশন নিতে হচ্ছে ; তারা নিতে বাধ্য হচ্ছে । তারপর সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয় কী করে আশা করতে পারে যে তাদের উপস্থিতির হার সঠিক থাকবে ? স্কুল স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত প্রাইভেট টিউশবের রমরমা কিন্তু আজকে শুরু হয়নি । সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থাটাকে বহুবছর ধরে সেদিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে । আজকে হঠাৎ করে ছাত্রদের দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই । যদিও সেমিস্টার সিস্টেমে এগুলো হবে না ; এটা না বোঝার মতো বোকা ইউনিভর্সিটি বা সরকার নয় । আমার মনে হয় ; সব জেনেশুনেই সেমিস্টার সিস্টেম চালু করা হয়েছে । ইউনিভার্সিটির এই পরিকাঠামোতে সেমিস্টার চালু করলে এরকম হবে সেটা জানাই কথা ছিলো । এরপর কয়েকবার বাদ থেকে "ইউনিভর্সিটির এই পরিকাঠামোয় সেমিস্টার নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না" বলে কলেজগুলোকে অটোনোমাস করে দিলে এবং কলেজগুলো প্রাইভেটাইজ হয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না । যতই ছাত্রদের শুধুমাত্র পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে বলে হাত ধুয়ে ফেলার চেষ্টা হোক ; ছাত্রদের নিজেদের দাবী আদায়ে লড়াইয়ের পথেই ছাত্রদের যেতে হবে ।


Name:  ইও          

IP Address : 3490012.90.2312.117 (*)          Date:02 Dec 2018 -- 07:13 AM

বছরে তিনটা সেমেস্টার করেন। সব ফাঁকিবাজি ঠিক হয়ে যাবে।


Name:  pi          

IP Address : 2345.110.674512.11 (*)          Date:02 Dec 2018 -- 09:18 PM

কীরকম?

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3