এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3


           বিষয় : শব্দের স্মৃতিমাত্রিকতা- ঢেউ আর দহের আলোছায়ারা
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :অ
          IP Address : 52.110.153.160 (*)          Date:12 Nov 2017 -- 04:06 PM




Name:  অ          

IP Address : 52.110.153.160 (*)          Date:12 Nov 2017 -- 04:07 PM

শব্দের ভ্রাম্যমাণ অর্থ এবং প্রয়োগরূপের গতিপথ ভারি আশ্চর্যের..

মানুষের মুখের শব্দ আসলে কী? যোগাযোগ মাধ্যমের ধ্বনিরূপ মাত্র? কলিম খান বলেছেন ভাবের শব(দেহ অর্থে) বহন করে নিয়ে চলে শব্দ। বৈখরি কলা, স্ফোটতত্ত্ব,মীমাংসা মতের অপূর্বের তত্ত্ব,মন্ত্রের ঈশ্বরকে ছাপিয়ে যাওয়া মহাগুণ বোঝায় প্রাচীন কাল থেকেই শব্দ এবং ধ্বনি দুইই কত গুরুত্ববহন করেছে।পবিত্র হয়ে উঠেছে লোগোস এবং বাকের উপলব্ধি এবং প্রকাশ। বিপুল বেদরাশী যে অনুভূত জ্ঞানের প্রকাশিত শব্দমালাই তা নিয়ে তাত্ত্বিকরা জাগ্রত।এবং কখন কোন মানবজ্ঞান সংকলিত হবে তা ঠিক করে চলা ব্যাস হলেন অমর। ভেবে দেখতে বলবো যে এই শব্দ 'Vedas' সেই আদি শব্দ থেকেই সঞ্জাত যা থেকে এসেছে Wit এবং হ্যাঁ Ideas। এই সেই চিন্তা যা প্লেটোনিক ভাবজগতের ঠিকানা ভাবতে চায়।
এই প্রাণী - মানুষ ভাবময় শব্দ ব্যবহার করতে সক্ষম বহু সহস্রাব্দ,হয়ত বা লক্ষ বছর। প্রাকৃতিক ধ্বনি, গুঞ্জনের নকলনবিশি এবং নানা প্রকারের জৈবিক অনুভবের ব্যঞ্জনাময় ধ্বনি হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীতে পর্যবসিত হয়ে পড়েছে।
এক গোষ্ঠীর শব্দেরা এক আদিমূল থেকে আসলেও, ভাষায় স্থানিক রূপের 'হয়ে ওঠা'র স্মৃতি ধরা থাকে,ধরা থাকে চলমান কালস্রোতের ইতিহাসের কথাও। শব্দের আঁশ ছাড়িয়ে ভাষাতাত্ত্বিকেরা সেসব ইতিহাস,ভুগোল এমনকি জনজাতিদের লুকিয়ে থাকা ক্রমবিকাশমান মনস্তত্ত্বকেও ঘেঁটি ধরে টেনে বার করার প্রক্রিয়া আবিষ্কার এবং অনুধাবন করে চলেছেন।

দুটো উদাহরণ দেওয়া যাক -
১) বাংলা আয়না শব্দ এসেছে পহ্লবী(মধ্যস্তরের পারসিক) থেকে।
ynh-->আয়না,ynh মানে হলো চোখ।দ্যাখা অর্থেও প্রযুক্ত।
মজার কথা হলো ইংরাজি মিররের রুট হলো প্রাচীন 'smey' ধাতু, যেখান থেকে মিরাকল এবং স্মাইল (মানে আশ্চর্য হয়ে যাওয়া/খুশীতে আশ্চর্য হয়ে স্মিতভাব) দুই শব্দই এসেছে।তুলনীয় সং সহোদরা 'স্ময়তে'।
তার মানে পূবদেশে যা হলো নিজেকে স্রেফ দ্যাখা, পশ্চিমে তাতে কিঞ্চিৎ নার্সিসিজমের ছোঁয়া আছে :-) মানে দেখে আবার আপ্লুত হওয়াও!

২) মহাভারতে নহুষের কথা পড়েছেন নিশ্চয়ই। কুরুবংশের আদি পুরুষ, যিনি স্বর্গ থেকে শাপভ্রষ্ট হয়ে বিতারিত। নাগ রূপে যিনি পরিণত হন এবং যার সাথে যুধিষ্ঠিরের দ্যাখাও হয় কবির মানসলোকে- বনপর্বে।
সেমিটিক সাপ 'নাহাশ'কে মনে পড়ে? সেই যার প্ররোচনায় আদি নর-নারীকে স্বর্গ ত্যাগ করতে হয়।
এই শব্দের চিত্ররূপময় অভিজ্ঞান ছিলো এমন এক চিহ্ন যার থেকে এসেছে গ্রীক অক্ষর ইটা এবং পরে রোমান n..বস্তুত ইটার ক্ষেত্রে চিহ্নটা প্রায় একটা সাপের মতনই দেখতে।
পাঠক খেয়াল করবেন যে মোজেস যখন ফ্যারাওদের সাথে দ্যাখা করতে গিয়েছিলেন, সাথে ছিলো এক যাদু লাঠি যা ছুঁড়ে সাপে পরিণত করা যায়। সে লাঠি ছিলো ইটার মতন দেখতে।
কত শত অজস্র যুগের স্মৃতি,গল্প,আলো,আঁধার,ছবি চাপচাপ জমে থাকে শব্দের গায়ে হেলান দিয়ে। ক্রমে ক্রমে একদিন তারা ঝুরোঝুরো হয়ে মিশে যায় মানবমনের অধ:স্তরে। পলির ওপরের স্তর শক্ত হয়, মাটি জমে ওঠে নতুন ফ্যাসাদ। রূপ নিয়ে নতুন শব্দরূপ, ধ্বনিত হয়।
প্রাচীন স্মৃতিরা ফসিল হয়ে থেকে যায় অতিকথা,পুরাণে, রূপকথায়,স্বপ্নে আর হয়তো বা অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া চেতনার কিছু স্তর নিচেই।









Name:  ফ্যাসাদ-->ফাসাদ          

IP Address : 52.110.153.160 (*)          Date:12 Nov 2017 -- 04:09 PM

.


Name:  pi          

IP Address : 57.29.224.207 (*)          Date:12 Nov 2017 -- 05:15 PM

খুবই ইন্টারেস্টিং। আরো শুনি !

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3