এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--7


           বিষয় : কথায় কথায় হ্যারি পটারঃ ভুত এবং রাজনীতি
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : রৌহিন
          IP Address : 233.223.141.155 (*)          Date:22 Oct 2017 -- 01:04 AM




Name:   রৌহিন           

IP Address : 233.223.141.155 (*)          Date:22 Oct 2017 -- 01:05 AM

তা কথা হচ্ছিল ভুতের গপ্প নিয়ে – সুমন মাইতির টইতে, আমি যথারীতি এনে ফেললাম হ্যারি পটার। এটা আমার এক বদভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে – কথায় কথায় পটার টানা – লোকে এরপরে আমায় পটার চাড্ডি বলে গাল দিলে কিছু বলার থাকবে না। তাই এইবেলা বলে নিই – আমি আদতেই খানিক পটার চাড্ডি আছি। কিন্তু তাই বলে চাড্ডি বললে তো গায়ে লাগবেই – তাই নিজেকে একটু জাস্টিফাই করে নেওয়ার চেষ্টা। রাওলিং কী ভেবে লিখেছেন তা তিনিই জানেন, কিন্তু পটার কাহিনীর যে পলিটিক্স, তা আমাকে আকর্ষণ করে – যদিও তা কোন কোন সময়ে হয়তো আমার ব্যক্তিগত পলিটিক্স নয়। এবং হ্যাঁ, পটার কাহিনীকে আমি পলিটিকাল মেটাফোর হিসাবেই দেখি – যদিও অস্বীকার করব না, প্রথম দু’বার পড়ে (অপেক্ষাকৃত কম বয়সে) অন্যরকমই লেগেছিল। কিন্তু যত দিন গেছে, পরের পরের পাঠে ক্রমশঃ প্রতিবার আরো বেশী করে এটা আমার কাছে রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে। প্রোটাগনিস্টের ব্যক্তি রাজনীতি নয় – যে সমাজে সে বড় হচ্ছে, সেই সমাজের, এবং এমন কি তার প্রতিবেশী সমাজের রাজনীতিও। রাষ্ট্রক্ষমতা, ক্ষমতার দম্ভ, তার প্রায় কমিকাল পর্যায়ের রক্ষণশীলতা, তাকে রক্ষা করার নামে প্রবল অন্যায়কে মান্যতা দেবার চেষ্টা, মিডিয়ার ভূমিকা, প্রবল রাষ্ট্রের ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিরোধী পক্ষের শক্তি এবং দুর্বলতা, সিস্টেমের বিরুদ্ধে সিস্টেম এবং সব সিস্টেম থেকে বেরিয়ে গিয়ে সংখ্যালঘুর লড়াই, সমাজের নায়ক তৈরীর চেষ্টা এবং নায়কের অপেক্ষায় হা-পিত্যেশ, আদেখলামো, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার সাহস এবং প্রশ্নহীন আনুগত্যের প্রতি ক্ষমতার পক্ষপাত --- লিস্ট আরো বাড়তেই পারে। এক কথায় রাজনীতির সমস্ত উপাদান একদম ফলিত উদাহরণ নিয়ে হাজির। লিখে ফেলার আগে রাওলিং নিজেও সম্ভবতঃ উপলব্ধি করেন নি যে একটি এপিকের জন্ম দিচ্ছেন তিনি।
যাই হোক শিবের গীত শেষ – এবার ধান ভানার পালা। ভুতেদের আলোচনায় ফিরে আসি। তা হ্যারি পটার যদিও কোনমতেই ভুতের গপ্প নয় – তাহলেও ভুতেরা এখানে আছে – প্রচুর পরিমাণে আছে। আপাততঃ এই ভুতেদের নিয়েই আলোচনা। এবং যে রাজনীতির কথা বলেছি তাতে এরা কে কিভাবে কতটা জড়িয়ে পড়ছে তা-ও একবার দেখে নেওয়া যাবে। কাহিনীতে ভুতেদের দেখা মূলতঃ মিলেছে হগওয়ার্টস স্কুলেই। স্কুলের চারটি হাউসের চারজন হাউস ঘোস্ট – এর মধ্যে হাফলপাফ হাউসের ভুত – ফ্যাট ফ্রায়ার, গল্পে সেভাবে কোথাও আসেনি – দু-একবার অন্য কারো আলোচনায় ছাড়া (ফ্যাট ফ্রায়ারের বর্ণনা পড়ে আমার ব্যক্তিগতভাবে রবিনহুড গল্পের পাদরি ফ্রায়ার টাকের কথা মনে পড়েছে – কিন্তু তার কোন যৌক্তিক পরম্পরা নেই, স্রেফ মনে হওয়াই), কিন্তু বাকি তিনটি হাউসের ভুতেদেরই কিছু ভূমিকা আছে।
হ্যারির নিজের হাউস গ্রিফিনডোরের ভুত সার নিকোলাস দা মিমসি পর্পিংটন ওরফে নীয়ারলি হেডলেস নিক স্বভাবতঃই সবচেয়ে বেশীবার গল্পে এসেছে – প্রায় প্রতিটি পর্বেই তার কিছু না কিছু ভূমিকা আছে। দ্বিতীয় পর্বে হ্যারি, রন এবং হারমায়োনি এই নিকের ডেথডে পার্টিতেও গেছিল। এই ডেথডে পার্টির আইডিয়া এবং বর্ণনা কিন্তু যে কোন ভুতের গল্পকেও লজ্জা দিতে পারে। এই নিকের সঙ্গে হ্যারির আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল যেটা নিয়ে একটু পরে আলোচনা করব।
পোল্টারজিস্ট পীভস প্রায় সব পর্বেই থাকলেও তার অতীতের কোন উল্লেখ কোথাও নেই। সে কেবলমাত্র ব্লাডি ব্যারণ ছাড়া আর কারো কথা শোনে না – মানুষ বা ভুত। কিন্তু একেবারে আপৎকালে ফ্রেড এবং জর্জের কথামতো কাজ করা অথবা শেষ যুদ্ধে তার অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রফেসারদের তার বিভিন্ন অপকর্মের প্রতি একধরণের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় থেকে তার অবস্থান মোটামুটি বুঝে নেওয়া যায়। পীভসকে আমরা বোধ হয় লুম্পেন প্রলেতারিয়েত শ্রেণীভুক্ত করতে পারি। আলোচনাটা ভুতেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখলে পীভস প্রসঙ্গে আরেকটি ইন্টারেস্টিং চরিত্রের আলোচনা আনা যেত – কেয়ারটেকার আর্গাস ফিলচ – কিন্তু আপাততঃ তা থেকে বিরত থাকছি।
স্লিদারিনের ব্লাডি ব্যারণ এবং র‍্যাভেনক্ল এর গ্রে লেডি – এদের ইতিহাস পরস্পরের সম্পৃক্ত – গ্রে লেডির আসল নাম হেলেনা র‍্যাভেনক্ল – র‍্যাভেনক্ল হাউসের প্রতিষ্ঠাতা রোয়েনা র‍্যাভেনক্ল’র কন্যা যে তার মায়ের বিখ্যাত ডায়াডেম (একধরণের মুকুট)টি চুরি করেছিল। রোয়েনার বিশ্বাসভাজন ব্লাডি ব্যারণ (প্রকৃত নাম জানা যায় না) হেলেনাকে (এবং ডায়াডেমটি) ফিরিয়ে আনতে আলবানিয়া যায় – কিন্তু হেলেনা তার সঙ্গে ফিরতে অস্বীকার করলে সে রাগের মাথায় হেলেনাকে খুন করে এবং তারপর অনুশোচনায় নিজেও আত্মহত্যা করে। সেই জোড়া খুনের রক্ত গায়ে লেগে আছে বলেই তার নাম ব্লাডি ব্যারণ। হেলেনা তরুণ টম রিডলের (ভলডেমর্ট) কথায় ভুলে তাকে আলবানিয়াতে ডায়াডেমটির অবস্থান জানিয়ে দেয় – পরে এই ইতিহাস সে হ্যারিকে জানায়, ভলডেমর্টের পরাজয় নিশ্চিত করতে। পুরো কাহিনীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য ছোটখাটো চরিত্রের মতই এই দুটি চরিত্রও, বিশেষতঃ হেলেনা, খুব অল্প সময়ের মধ্যে খুব ডিস্টিংটিভলি তার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে গেছে। ভৌতিকভাবেই, এবং ভয়ঙ্কর না হয়েই।
এরা ছাড়া আরেকজন উল্লেখযোগ্য ভৌতিক চরিত্র হলেন প্রোফেসর কাথবার্ট বিনস। ইনি হগওয়ার্টসে ম্যাজিকের ইতিহাস পড়ান। ছাত্রছাত্রীরা কে কতটা মনোযোগ দিচ্ছে তার প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন থেকেই এই শিক্ষক মূল্যবান তথ্যগুলি একের পর এক শেয়ার করে যান। ইনি জীবিতাবস্থাতেও পড়াতেন এবং একদিন টীচার্স রুমে ঘুমের মধ্যেই মারা যান – কিন্তু নিজেও সেটা টের পাননি – একই ভাবে উঠে তিনি পড়াতে চলে যান ভুত হয়ে। এর একমাত্র ভৌতিক কার্যকলাপ হল দেওয়াল ভেদ করে ক্লাসে ঢোকা। কিন্তু এই ধরণের শিক্ষকদের আমরা চিনি। চারপাশের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধু এবং শুধুই নিজের কাজটুকু করে যাওয়াও এক ধরণের রাজনৈতিক স্টেটমেন্ট। এবং বিষয়টা – ইতিহাস।
চতুর্থ পর্বে আমরা খুব সংক্ষিপ্তভাবে একজন ভ্যাম্পায়ারের দেখা পাই – কিন্তু তার চিন্তাভাবনা নিয়ে বিশেষ কিছু জানতে পারা যায় না। যদিও তার বন্ধু, যিনি সেই ভ্যাম্পায়ারের জীবনী লিখেছেন, তিনি হ্যারির জীবনী লিখতেও একই ভাবে উৎসাহী ছিলেন – যদিও মিডিয়া কী জিনিষ তা ততদিনে হ্যারি বুঝতে শুরু করেছে – এবং তাকে এড়িয়ে চলতেও।
কিন্তু এই ভুতেরা কোথাও তেমনভাবে ভীতিপ্রদ নয় কেন? যেখানে ইউরোপীয় সাহিত্যে ভুতেদের বেশীরভাগ সময়েই ভীতিপ্রদ হিসাবেই তুলে ধরা হয়েছে এবং হয়ে থাকে? এর কারণ পটার কাহিনীর ভুতেরা অন্ততঃ একটা ক্ষেত্রে প্রিভিলেজড (অথবা অসহায় – নির্ভর করছে কোন দিক থেকে বিষয়টাকে দেখবেন) – তাদের প্রত্যেকের একটা চয়েস আছে। হ্যাঁ – এই চয়েস ব্যপারটা পুরো পটার কাহিনীতে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ – প্রায় প্রতিটা চরিত্রেরই কোন না কোন সময়ে একটা চয়েস ছিল – কে কী হতে চায়, তা তারা প্রায় সকলেই নিজেরাই বেছে নিয়েছে। মুক্ত মানুষের যেমন থাকার কথা। এবং ভুতেরাও এর ব্যতিক্রম নয়। বিশ্বসাহিত্যে সাধারণতঃ আমরা দেখি, ভুতের কাহিনীতে কনসেপ্টটা হল মানুষ মরে গেলে তার চেতনা ভুত হয়ে যায় এবং তা আমাদের মধ্যেই অশরীরি রূপে ঘুরে বেড়ায়। সেইসব অশরীরি আত্মার সঙ্গে শরীরি আমাদের ইন্টেরাকশনই মূলতঃ ভুতের গল্প। অর্থাৎ এখানে ভুতেদের অস্তিত্বে কোন চয়েস নেই – মানুষ মরে গেলে ভুত হয় (বিশ্বাস করুন বা না করুন)। আমাদের ভারতীয় গল্পে অবশ্য আরেকটু সুযোগ আছে – কারো জীবনের কর্মফল যদি খুব ভালো হয় (অর্থাৎ দেবতাদের যথেষ্ট ঘুষ টুষ দিয়ে খুশী করতে পেরে থাকেন) তাহলে আপনার আত্মা একদম ডায়রেক্ট পরমাত্মায় বিলীন হবে – মাঝে ভুতের কেত্তন সইতে হবে না। কিন্তু সে আর কজনের ভাগ্যেই বা জোটে বলুন। তাছাড়া সেখানেও আত্মার কোন চয়েস নেই। কিন্তু রাওলিং তার ভুতেদেরও একটা চয়েস দিয়েছেন। তার কাহিনীতে যতজন মরে গেছে তারা সকলেই ভুত হয়ে যায়নি। সিরিয়াস ব্ল্যাক মারা যাবার পর তাকে ভুত হিসাবে দেখতে পাবে কি না জানতে চেয়েছিল হ্যারি – তখন নীয়ারলি হেডলেস নিক তাকে জানায়, ভুত হওয়াটা চয়েসের ব্যপার। মৃত্যুর পরেও যারা একেবারেই চলে যেতে চায় না (আমরা মায়ার বাঁধন কাটিয়ে ওঠা বলতে যা বুঝি আর কি), তারা ভুত হয়ে থেকে যাবার একটা অপশন নিতে পারে। অপশনটা খুবই হরিবল – কারণ যা থেকে যায় তা জীবিত মানুষটার আত্মার একটা ছাপ মাত্র – একটা অর্ধস্বচ্ছ চেহারা, কিছু সীমিত আবেগ এবং ভেসে বেড়ানো – ব্যস। অধিকাংশ মৃতই এই অপশনটাকে গ্রহনযোগ্য মনে করেন না – সামান্য কয়েকজনই তাই ভুত হয়ে থেকে যান।


Name:   রৌহিন           

IP Address : 233.223.141.155 (*)          Date:22 Oct 2017 -- 01:19 AM

প্রথম লাইনেই ভুল আছে। "সুমন মাইতি"র নয়, "সুমিত রায়"এর লেখা


Name:  Deb          

IP Address : 100.192.243.216 (*)          Date:22 Oct 2017 -- 04:45 AM

রৌহিন বোধ হয় সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূত টিকেই মিস করে গেছেন, সচেতন ভাবেই কিনা জানি না - moaning myrtle ,,, কিশোরদের চোখ দিয়ে মেয়েদের একটি ছিঁচকাঁদুনে, ঘ্যানঘেনে স্টিরিওটাইপ - এটা কি কোনো লিঙ্গ রাজনীতির প্রকাশ, নাকি অন্য কিছু ?


Name:  Deb          

IP Address : 100.192.243.216 (*)          Date:22 Oct 2017 -- 04:53 AM

লেখাটি ভালো লেগেছে। HP বিশ্ব নিয়ে নানারকম দৃষ্টিকোণ আরো উঠে আসুক।


Name:             

IP Address : 116.193.232.252 (*)          Date:22 Oct 2017 -- 08:38 AM

মন দিয়ে পড়তে হবে। প্রিয় বিষয়।
কিন্তু আপনেরা এন্টার দেন না কেন? মানে প্যারাগ্রাফের মধ্যে ফাঁক টাক? মোবাইলে পুরো একখান ডাবল বেডশিটের মতন খুলতে চায় ---- এ তো মহা ইসে


Name:  রৌহিন          

IP Address : 116.203.163.32 (*)          Date:22 Oct 2017 -- 09:34 AM

দ - ওয়ার্ডে লিখতে লিখতে একটা এন্টারে অভ্যস্ত হয়ে গেছি - এখানে ডাবল এন্টার দেওয়াটা জরুরী। সেটা এখন থেকে মনে রাখব।

দেব একদম ঠিক বলেছেন - মাই ব্যাড। মোনিং মির্টল কে জাস্ট মিস করে গেছি - অথচ সে অবশ্যই একটা বড় প্যারাগ্রাফ দাবী করে। আজ রাতে জুড়ে দেব।


Name:   রৌহিন           

IP Address : 116.203.183.203 (*)          Date:23 Oct 2017 -- 08:43 AM

মোনিং মির্টলের অংশটুকু জুড়ে পুরো লেখাটা,আয়ার ব্লগে দিলাম। যারা ইন্টারেস্টেড ওখানেই আলোচনা চলতে পারে

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--7