এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3


           বিষয় : ভালবাসার সহজপাঠ
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন :Dipankar Patra
          IP Address : 37.63.191.231 (*)          Date:08 Oct 2017 -- 02:33 PM




Name:  Dipankar          

IP Address : 37.63.191.231 (*)          Date:08 Oct 2017 -- 02:34 PM

মহানগরের মাল্টিস্ক্রীন প্রেক্ষাগৃহের আরামকেদারায় বসে সিনেমা দেখছিলাম। মনোরম গ্রামবাংলার সবুজ দৃশ্যপট। নানারকম পাখী আর পোকামাকড়ের ডাক। দুটি বালক পুকুরের পাড়ে বসে, বড়টি ছিপ ফেলে সেইদিকে তাকিয়ে, ছোটটি পুকুরে ঢিল ছুঁড়ছে আর নানারকম প্রশ্নবানে উত্তক্ত করছে দাদাকে। একেবারে সবুজ বাংলার প্রাণজুড়ানো বিজ্ঞাপন। গা টা আর একটু এলিয়ে দিলাম সোফায়। ধারের আসন হওয়ায় ডান পা টা বেশ অনেকটা ছড়িয়ে দেওয়া গেল। বউএর হাতে ধরা পপকর্ণের ডিবে থেকে এক খাবলা নিয়ে মুখে দিলাম। বেশ সুন্দর চিজের গন্ধওলা নোনতা স্বাদ জিভ দিয়ে নিয়ে গলার ভিতরে ঠেলতে যাচ্ছি -

আটকে গেল!

আর নামাতে পারছিনা গলার ভিতরে!

গলার মধ্যে কেমন যেন দলা পাকিয়ে উঠছে সব কিছু!

দাদা বলছে ভাইকে, মা কে বলে কিছু খাবার আনতে। সকাল থেকে কেউ কিছু খায়নি। ভাই বলছে, খেতে চাইলে মা মারবে। বাবা অসুস্থ। মা সারাদিন কাঁদছে আর বলছে বাবা আর বাঁচবেনা। দাদা তবু জোর করে বলছে, তুই আমার নাম করে বলগে যা, যদি কিছু খেতে দেয়।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "তালনবমী" পড়েছিলাম অনেকদিন আগেই। ভালই, যেমন ওনার আর সব গল্প হয়। কিন্তু এইভাবে ধাক্কা দেয়নি যেমন ভাবে "সহজপাঠের গপ্পো" দিয়ে গেল। সত্যজিতের "পথের পাঁচালি" অসাধারণ, পথপ্রদর্শক। কিন্তু মনে হয় "আম আঁটির ভেঁপু" থেকে সত্যজিৎ অনেক দৃশ্যপটের প্রেরণা পেয়েছেন। সেই তুলনায় "তালনবমী" নেহাত আড়াই পাতার গল্প। মূল গল্পে ছেলেদুটির বাবা যজমানী করে সংসার চালাত, অপুর বাবা হরিহরের মতই। 2017 সালের সিনেমায় খুব স্বাভাবিক লেগেছে যজমানের ভ্যানচালক হয়ে যাওয়া। ছেলেদুটি এবং তাদের মা - এই তিনজনে দেড় ঘন্টা জুড়ে সমস্ত মন ক্ষতবিক্ষত করে গেছে দর্শকের। পেটের খিদে যে কি সাংঘাতিক হতে পারে তা সুগার-প্রেশার-অম্বলে ভোগা নাগরিক জীবন জানতেই পারেনা। আর তাই দুটি বালকে খাদ্যের সন্ধান এফোঁড়ওফোঁড় করে আমাদের মন। এবং তার সাথে আছে ভালবাসা। মাঝেমাঝেই আমার মনে হয় প্রকৃত ভালবাসা একমাত্র সম্ভব শিশুবয়সেই। তখন মানুষের এত চাহিদা থাকেনা, স্বার্থ থাকেনা, ইগো থাকেনা, গর্ববোধ থাকেনা। শুধু থাকে ভালবাসা আর তজ্জনিত সুখ আর অভিমান। দুই ভাইয়ের ভালবাসা এই সিনেমার কিছু কিছু দৃশ্যে এমনভাবে নাড়া দিয়ে গেল যার তুলনীয় খুব কমই আছে। বিশেষ করে একটি দৃশ্য যেখানে ছোটু তার অভুক্ত দাদা গোপালকে দুটি পেয়ারা এনে দেয়, বলে সে খায়নি বলে মা খুব কাঁদছিল, এবং তারপর দাদা যখন পেয়ারায় কামড় বসায় তখন তার ঘাড়ের কাছে মুখ নিয়ে তাকে আদর করে - সাম্প্রতিক সিনেমায় আমি এমন ভালবাসার অভিব্যক্তি দেখেছি বলে মনে পড়ে না। আরো একটি দৃশ্য মনের গভীরে দাগ কেটে গেল। গোপালের স্বপ্ন দেখার দৃশ্য, যখন সে মায়ের শাড়ি বুকের মধ্যে একটু একটু করে গুটিয়ে জড়িয়ে কাঁদছে, মা ট্রেন লাইনের দিকে ছুটে যাচ্ছে তখন। স্পষ্টতই সিনেমার এই দৃশ্য সত্যজিতের সেই বিখ্যাত অপু-দুর্গার রেলগাড়ি দেখার দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত। কিন্তু ওই যে মায়ের শাড়ি জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়া এ আমার মনে এক স্মৃতিকে জাগিয়ে দিয়ে গেল। আমার ভাই যখন ছোট ছিল, মায়ের একটা শাড়ি ওকে ঘুমানোর সময় দিতে হত। পাশে মা না থাকলেও সেই শাড়ি জড়িয়ে ধরে ও অকাতরে ঘুমাতো। এরফলে মা কে ঘরের অন্যান্য কাজ করতে কোনদিন ঝামেলায় পড়তে হয়নি। মজার ব্যাপার,ঘুমের মধ্যেও যদি শাড়িটা আস্তে করে টেনে সরিয়ে দিতাম, ও কেঁদে উঠত। মা ছুটে আসত তখন, আমাকে বকাঝকা করে আবার শাড়ি ধরিয়ে দিত ভাইয়ের হাতে। আবার সে ঘুমে কাদা।

না, এই লেখাটি আলোচ্য সিনেমার কোন সমালোচনা বা আলোচনা কিছুই না। সিনেমার তেমন বোদ্ধা আমি নই। ভাললাগে, তাই সিনেমা দেখি। ভাললাগে, তাই বই পড়ি। ভাললাগে, তাই বেড়াতে যাই। "সহজপাঠের গপ্পো" আমার সেই ভাললাগার অনুভবে জায়গা করে নিয়েছে। ঠিক যেমন জায়গা করে নিয়েছিল বছরখানেক আগে দেখা আরেকটি সিনেমা, "আসা যাওয়ার মাঝে"।


Name:  aranya          

IP Address : 83.197.98.233 (*)          Date:10 Oct 2017 -- 09:38 AM

টাচিং, দীপঙ্করের লেখা। ভালবাসার চেয়ে বড় আর কিছু নেই, তা আমরা ভুলে যাই..

এই সিনেমাটার এত দারুণ সব রিভিউ/ফিডব্যাক পড়ছি, দেখতেই হবে


Name:  nabagata          

IP Address : 24.139.222.72 (*)          Date:10 Oct 2017 -- 10:16 AM

দীপন্করের লেখাতে সহজ পাঠের গপ্পো র সঙ্গে আসা যাার মাঝে র তুলনায় ভালো লাগলো, কয়েক দিন আগে অন্য টৈ তে আমিও এই তুলনা করেছিলাম সত্যি অসাধারন দুটি সিনেমা

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--3