এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1


           বিষয় : হাসির গপ্প- পাগলা দাশু
          বিভাগ : অন্যান্য
          শুরু করেছেন : Anindya Mitra
          IP Address : 126.193.138.85 (*)          Date:28 Apr 2017 -- 06:06 AM




Name:   Anindya Mitra           

IP Address : 126.193.138.85 (*)          Date:28 Apr 2017 -- 06:06 AM

হাসির গল্প
সুকুমার রায়
রূপান্তর - পাগলা দাশু

আমাদের নবান্নের দিদিমনির বেজায় ভুলভাল বলিবার সখ। যেখানে সেখানে সভায় আসরে নিমন্ত্রণে, তিনি তাঁহার আইডিয়ার ভাণ্ডার খুলিয়া বসেন। দুঃখের বিষয়, তাঁর আইডিয়া আর জ্ঞান অতি সামান্য— কতগুলি বাঁধা গল্প, তাহাই তিনি ঘুরিয়া ফিরিয়া সব জায়গায় চালাইয়া দেন। কিন্তু একই গল্প বারবার শুনিতে লোকের ভাল লাগিতে কেন? দিদির গল্প শুনিয়া আর লোকের হাসি পায় না। কিন্তু তবু দিদির উৎসাহও তাহাতে কিছুমাত্র কমে না।
সেদিন হঠাৎ তিনি কোথা হইতে একটা নূতন আইডিয়া সংগ্রহ করিয়া, রাজ্যের শিল্পপতিদের শুনাইয়া দিলেন। গল্পটা অতি সামান্য কিন্তু তবু ম্যাডাম খাতির করিয়া সকলেই হাসিল। ম্যাডাম তাহা বুঝিইয়াও বুঝিলেন না, তিনি ভাবিলেন তেলেভাজা শিল্পের গল্পটা খুব লাগসই হইয়াছে। সুতরাং, তার দুদিন বাদে দলীয় মিটিং এ বক্তৃতা দেবার সময়, তিনি খুব আড়ম্বর করিয়া আবার সেই গল্প শুনাইলেন। দলীয় সমর্থক সে সব শুনিয়া বেশ উৎসাহ পাইল। দিদিমনি ভাবিলেন তেলেভাজার গল্পটা জমিয়াছে ভাল।
বিশ্ববঙ্গ সম্মেলনে তিনি আবার সেই তেলেভাজার গল্পই খুব উৎসাহ করিয়া শুনাইলেন। এবারে হোঁৎকা পার্থ য়ার শুঁটকো অমিত ছাড়া আর কেহ গল্প শুনিয়া হাসিল, না, কিন্তু দিদি নিজেই নিজের আইডিয়া শুনিয়ে স্বীয় পিঠ চাপড়াইলেন। তারপরেও যখন তিনি আরও দু তিন জায়গায় সেই একই গল্প চালাইয়াদিলেন, তখন জনগণের মধ্যে কেহ কেহ বিষম চটিয়া গেল। সূর্য বলিল, "না হে, আর ত সহ্য হয় না। বিরোধী ব'লে আমরা এতদিন সয়ে আছি— কিন্তু ওঁর আইডিয়ার উৎসাহটা একটু না কমালে চলছে না।"
দুদিন বাদে, দিদি রাজ্যের শিল্পের সম্ভবনা লইয়া সাংবাদিক সম্মেলন করিয়েছে, এমন সময় হোঁৎকা পার্থর নাদুস্‌নুদুস্‌ মূর্তিখানা দেখা দিল। সাংবাদিকরা ঠিক করিল ওঁর আইডিয়া শুনে কেউ প্রশ্ন না করে থাকিবেন না! দেখি উনি কি উত্তর দেন ।" দিদি মাইক লইতেই বসিতেই এক সাংবাদিক বলিয়া উঠিল, "নাঃ, দিদি আজকাল যেন কেমন হ'য়ে গেছেন। আগে কেমন মজার মজার ঐতিহাসিক গল্প বলতেন। আজকাল, কৈ? কেমন যেন ঝিমিয়ে পড়েছেন।" দিদি একথায় ভারি ক্ষুণ্ণ হইলেন। তাঁর গল্প আর আগের মত জমে না, একথাটি তাঁহার একটুও ভাল লাগিল না। তিনি বলিলেন, "বটে? আচ্ছা রোস। আজ তোমাদের এমন গল্প শোনাব, হাস্‌তে হাস্‌তে তোমাদের নাড়ি ছিঁড়ে যাবে।" এই বলিয়া তিনি তাঁহার সেই মামুলি পুঁজি হইতে একটা গল্প আরম্ভ করিলেন সেই গান্ধীজী কে রবি ঠাকুরের ফলের রস পান করাইবার গল্প। কিন্তু গল্প বলিলে কি হইবে? সাংবাদিক কেহ হাসিতে রাজি নহি— সকলেই কাঠ হইয়া বসিয়া রহিল। একজন বলিল, "নাঃ, এ গল্পটা জুৎসই হল না।" তখন দিদি তাহার সেই পুঁজি হইতে একে একে পাঁচ সাতটি গল্প শুনাইয়া দিলেন যেমন রাকেশ রোশনের চাঁদে, যাওয়া, নাড়ির ৪৪ পালস, ডহর বাবুর খোঁজ করা, আর কতো কি । কিন্তু তাহাতে সকলের মুখ পেঁচার মত আরও গম্ভীর হইয়া উঠিল! তখন দিদি ক্ষেপিয়া গেলেন। তিনি বলিলেন, "যাও যাও! তোমরা ইতিহাস কিছু জান না— সততার কদর বোঝ না— আবার গল্প শুনতে চাও! এই গল্প শুনে সেদিন মোদী সাহেব পর্যন্ত হেসে গড়াগড়ি— তোমরা এসব বুঝবে কি?" তখন আমাদের মধ্যে একজন বলিয়া উঠিল, "সে কি দিদি? আমরা হাস্‌তে জানিনে? বলেন কি! আপনার গল্প শুনে কতবার কত হেসেছি, ভেবে দেখুন ত'। আজকাল আপনার গল্পগুলো তেমন খোলে না— তা হাস্‌ব কোত্থেকে? এই ত, সেদিন কে যখন রবীন্দ্রনাথ আর সেক্সপীয়ার কে নিয়ে বললেন তখন কি আমরা হাসিনে? কি বলেন?"
দিদিমনি হাসিয়া বলিলেন, "পার্থ? এরা আমার সাথে ফাজলামো মারে নাকি? আরে, এক সঙ্গে দুটো কথা বলতে ওর মুখে আট্‌কায়, ও আবার গল্প বলবে কি?" পার্থ বলিল, "আমার দিদির গল্প শোনেন নি বুঝি?" আমরা সকলে উৎসাহ করিয়া বলিলাম— "হাঁ, হাঁ, একটা শুনিয়ে দাও ত।" পার্থ তখন গম্ভীর হইয়া বলিল, "এক ছিল রানী"— শুনিয়া আমাদের চার পাঁচজন হো হো করিয়া হাসিয়া বলিল, "আরে রানীর গল্প রে রানীর গল্প!— হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ।"
পার্থ বলিল, "রানীর এগারোটা ধাড়ি ধাড়ি ভাই"—
শুনিবামাত্র আমরা একসঙ্গে প্রাণপণে এমন সশব্দে হাসিয়া উঠিলাম যে, পার্থ নিজেই চম্‌কাইয়া উঠিল। সকলে হাসিতে হাসিতে, এ উহার গায়ে গড়াইয়া পড়িতে লাগিলাম— কেহ বলিল, "দোহাই হোঁৎকাদা, আর হাসিও না"— কেহ বলিল, "পার্থবাবু রক্ষে করুন, ঢের হয়েছে।" কেহ কেহ এমন ভাব দেখাইল, যেন হাসিতে হাসিতে তাহাদের পেটে খিল ধরিয়া গিয়াছে।
দিদি কিন্তু বিষম চটিয়া গেলেন। তিনি বলিলেন, "এসব ঐ সূর্যের কারসাজি। ওই আগে থেকে সব শিখিয়ে এনেছে। নইলে, ও যা বললে তাতে হাস্‌বার মত কি আছে বাপু?" এই বলিয়া তিনি রাগে গজ্‌গজ্‌ করিতে করিতে উঠিয়া গেলেন।
সেই সময় হইতে দিদির গল্প বলার সখটা বেশ একটু কমিয়াছে। এখন আর তিনি যখন তখন কথায় কথায় হাসির গল্প ফাঁদিয়া বসেন না ভাই গুলোর ওপরে সমনের খাঁড়া ঝুলছে কি না !

এই সুতোর পাতাগুলি [1]     এই পাতায় আছে1--1