আপনার মতামত         


সম্পাদকীয়র বদলে


ইরাকে সাদ্দামের ফাঁসি আর বঙ্গে প্রথম রাউন্ড শিল্পায়নের পরে এখন দশ মিনিটের ছোট্টো বিরতি। কলকাতা শহরে ময়দান, শীত, হাইকোর্ট আর বইমেলার টুকি-টুকি খেলা চলছে। শীতের দেশে দুমদাম এসে যাচ্ছে ঝড় ও বাদল বাতাস, তাতে কিঞ্চিৎ বরফের ছোঁয়াও থাকছে, পরিযায়ী পাখিরা রিটার্ন টিকিটের ডেট নিয়ে কনফিউশানে। এইরূপ অস্থির সময়ে, যখন দেশ ও দশ এমনিতেই শতসমস্যায় জর্জরিত, ঠিক তখনই , বিস্তর লাফ ঝাঁপ , হৈচৈ, অনেক মেল চালাচালি, বিস্তর লোকের খাটাখাটনি, এবং প্রভূত পরিমান সম্পাদকীয় মিসম্যানেজমেন্টের পরে, নয় নয় করে ছয়মাস পরে নেটে এসে গেল গুরুচন্ডা৯ নয়।

একে বইমেলা সংখ্যা বললেও চলত, কিন্তু সুধীজন জানেন, আমরা এইসব কূটকচালে নেই। ট্রেন ধরতে হবে বলে উর্ধ্বশ্বাসে স্টেশনপানে দৌড়ানো আমাদের বিলকুল না পসন্দ। আমাদের চলনের নাম গজেন্দ্রগমন, সোজা বাংলায় গদাইলস্করি। বইমেলা টইমেলা নিমিত্ত মাত্র, আমরা জানি, যে, ট্রেন গেলে আবার ট্রেন আসবে, যে বিরিক্ষে যটি ফল ফলবার তটিই ফলবে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে তবেই পায়েসের বাটি নিয়ে এসে দাঁড়াবে স্লিভলেস সুজাতা সান্যাল। আর তপস্যার ফুল যখনই ফুটবে, তখনই আমাদের বসন্ত। বইমেলা হোক বা না হোক, তখনই আমাদের কার্নিভ্যাল।

অতএব, ছ মাস দেরি হল বলে ভুরু কোঁচকাবেননা। পাশের বাড়ির টেঁপিসুন্দরীকে দেখুন, আট থেকে নয়ে পড়তে সময় নিয়েছে পাক্কা একটি বছর, আর আমরা নিয়েছি মোটে ছমাস। গ্লাসকে অর্ধেক ভর্তি দেখতে শিখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন ছমাস পরে নয়, ছমাস আগেই আবার এসেছি ফিরে। ধানসিঁড়িটির তীরে। হুঁহুঁ বাবা, ইয়ার্কির কথা নয়, কারণ, কবি বলেছেন, এভাবেও ফিরে আসা যায়।
প্রকাশ: ২২ শে জানুয়ারি ২০০৭