Can not see Bangla
|
গুগল, গুগল
লিখছেন --- সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
সম্প্রতি, এই ২০০৭ সালের জুন মাসে, গুগলের বড়োকর্তার এক বক্তব্য নিয়ে একটি খুচরো বিতর্ক হয়ে গেল। দূর পাল্লায় গুগলের লক্ষ্য কি, সেটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গুগলের চিফ এক্সেকিউটিভ এরিক স্মিট বলেছিলেন, যে, এমন একদিন আসবে, যখন মানুষ আর শুধু ইন্টারনেট থেকে পড়া, দেখা, বা জানার বস্তু খুঁজে বার করার জন্য সার্চ করবেনা, বর,ং আরও কিছু "অতি-ব্যক্তিগত' প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে। বাবরের সমাধি কোথায়, এ বছর বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষ কে, বা মানুষের অ্যাপেন্ডিক্স কোথায় থাকে এই জাতীয় নৈর্ব্যক্তিক ব্যক্তিনিরপেক্ষ প্রশ্ন ছাড়াও, এমন দিন আসবে যখন আরও আরও কিছু চরম সাবজেক্টিভ জিনিস, যেমন, "আমি কাল কি করব' বা "কোন কলেজে আমার পড়া উচিত', এই জাতীয় একান্ত ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তরও মানুষ, ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিনের কাছ থেকে জানতে চাইবে।
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, স্মিট জানালেন, দূর পাল্লায় এই জাতীয় প্রশ্নগুলির উত্তর গুগল দিতে চায়। কোনো প্রশ্ন, মানুষের কোনো জিজ্ঞাসার সামনেই গুগল আর নিরুত্তর থাকবেনা। যেকোনো প্রশ্নের উত্তর, এমনকি চূড়ান্ত ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তরও গুগল নিজের নখদর্পণে রাখতে চায়। "" আংশিক ভাবে এই ধরণের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতেও এখনও বেশ কিছু বছর লাগবে। কিন্তু এমন দিন আসবে যখন এই ধরণের হাইপোথেটিকাল প্রশ্নের উত্তরও গুগল দিতে পারবে।'' স্মিট বলেছিলেন।
অর্থাত্, এমন একদিন আসবে, যখন প্রেমে আঘাত পেয়ে একুশের তরুণ গুগলাবে "আমার কি প্রতিশোধ নেওয়া উচিত?'। পঁচিশের কর্পোরেট তরুণী জানতে চাইবে বসের সঙ্গে একান্তে ডিনারে যাওয়ার প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া কি ঠিক হবে, নাকি কাটিয়ে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত। মনে রাখতে হবে, এটা শুধু একজন ব্যক্তির পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে ফেলেই করা যাবেনা। ব্যক্তির পছন্দ অপছন্দের সঙ্গে যোগ করতে হবে, সে পৃথিবীকে কোন চোখে দেখে, সে কি চায়, ইত্যাদি একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় থেকে শুরু করে জগত্ সংসার সংক্রান্ত যাবতীয় জ্ঞান ও তথ্যভান্ডার, এবং ব্যক্তির সঙ্গে সেসবের জটিল আন্ত:সম্পর্কের অকল্পনীয় জটিলতার এক জালকেও। যেমন, ধরুন, আপনি জানতে চাইতে পারেন, এই শীতে চেরাপুঞ্জি যাওয়া কি ঠিক? এর উত্তর দিতে গেলে, প্রথমে চেরাপুঞ্জির এ বছরের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি জানতে হবে। গত কিছু বছরের স্ট্যাটিস্টিক্সের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে এ বছরে চেরাপুঞ্জির বৃষ্টির সম্ভাবনার একটি যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য পূর্বাভাস বানাতে হবে। তারপর গুগলকে জানতে হবে, আপনি বৃষ্টি ভালোবাসেন কিনা। আপনার সঙ্গে কোনো সঙ্গী/সঙ্গিনী যেতে পারে কিনা, গেলে তার বৃষ্টি পছন্দ কিনা। ধরা যাক, আপনার বৃষ্টি পছন্দ, কিন্তু তার নয়, সেক্ষেত্রে জানতে হবে, তার চাওয়া-না চাওয়ার গুরুত্ব আপনার কাছে কতখানি। ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব, এবং আনুষঙ্গিক আরও অসংখ্য প্যারামিটারকে যথাযথ দিয়ে বিবেচনা করার পরই, মোটামুটি বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রশ্নটির উত্তর দেওয়া সম্ভব।
এর দুটো দিক আছে। একটি টেকনিকাল। যে, গুগল কিভাবে এই বিচিত্র ব্যাপারটি, যা আপাত:দৃষ্টিতে অ্যাবসার্ড মনে হয়, সেই কাজটি করতে পারবে বলে আশা করছে। বিষয়টির সঙ্গে আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স এবং কম্পিউটার অ্যালগরিগম সংক্রান্ত কিছু গবেষণার কাজ জড়িয়ে আছে, যা গুগলের ট্রেড সিক্রেট, আমাদের সেগুলো জানার কোনো প্রশ্নই নেই, ফলে সেই টেকনিকাল এবং টেকনোলজিকাল জটিলতার মধ্যে ঢোকার কোনো উপায় নেই। কিন্তু উপর উপর বিষয়টা মোটামুটি এইরকম, যে, একজন নেট ব্যবহারকারী ঠিক কি ধরণের জিনিস নেটে খোঁজেন, তার পুরো ইতিহাস গুগলের কাছে রাখা থাকে। তাঁর প্রতিটি গুগল মেল, গুগল চ্যাটের প্রতিটি বাক্য, নেট তোলপাড় করে খোঁজা প্রতিটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা, দিনক্ষণ, তারিখ সর্বক্ষণ থাকে গুগলের নজরদারিতে। গুগল প্রতিটির ব্যবহারকারীর এই ব্যাপক বিরাট ইতিহাস জমিয়ে রাখে দেড় বছর পর্যন্ত। এবং গুগলের কর্তাদের দাবী, যে, দেড় বছরের ইতিহাস একটি মানুষকে বুঝে ফেলার পক্ষে যথেষ্ট। দেড় বছরের যাবতীয় কথোপকথন, দেড় বছরের যাবতীয় মেলচালাচালি, দেড় বছরের যাবতীয় নেট খোঁজাখুঁজির ইতিহাসকে যথাযথ কায়দায় বিশ্লেষণ করতে পারলেই খুলে ফেলা যাবে ব্যক্তির অন্ত:স্থলের বর্মী বাক্স, যা তাকে বুঝে ফেলার এবং পথনির্দেশ করার পক্ষে যথেষ্ট।
মনে করার কোনো কারণ নেই, যে, এই একান্ত ব্যক্তিগত ইতিহাস গুগলের সার্ভারে বসে কোনো একজন বা একদঙ্গল মানুষ খুঁটিয়ে পড়ে চলবেন, বা বিশ্লেষণ করে চলবেন/চলেছেন। ব্যাপারটা অসম্ভব। বর,ং গুগলের ট্রেড সিক্রেট এটাই, যে, এমন একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম তারা লিখতে সমর্থ হবে বলে আশা করছে, যা, ঐ ব্যক্তিগত ইতিহাস পড়ে একটি মানুষকে সম্পুর্ণ "বুঝে' ফেলতে পারবে। শুধু তাইই নয়, "আগামীকাল কি করা উচিত' বা "কোন কলেজে ভর্তি হওয়া উচিত' জাতীয় জটিল মানবিক ব্যাপারেও তাকে পরামর্শ বা উপদেশ দিতে পারবে।
এটি গেল টেকনোলজি সংক্রান্ত দিক। কিন্তু এর একটি নৈতিক দিকও আছে, যা বিষয়টিকে নিছক টেকনোলজিকাল তর্কবিতর্কের সীমানা থেকে বার করে সামাজিক বিতর্কের এলাকায় এনে ফেলেছে। সেটা কি? না, এই যে ব্যক্তিগত তথ্য, গোপন তথ্য, গুগলের কি অধিকার আছে, সেই তথ্যকে ব্যবহার করার, বিশ্লেষণ করার? গুগলের কর্তারা অবশ্য এর জবাবে বারবার বলেছেন, যে, এই উপদেশ বা পরামর্শ ব্যাপারটি সম্পূর্ণ অপশনাল, ঐচ্ছিক। অর্থাত্, কেউ চাইলে তবেই তাকে পরামর্শ দেওয়া হবে নচেত্ নয়। কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি, কারণ,মনে রাখতে হবে, পশ্চিমে ব্যক্তির গোপনীয়তা একটি পবিত্র অধিকার, ধর্মীয় পবিত্রতার চেয়ে তা কম কিছু নয়। সেখানে কোনো ব্যক্তি, পরামর্শ চাক বা না চাক, তার একান্ত গোপন তথ্যকে আঠারো মাস ধরে জমিয়ে রাখা হচ্ছে ইন্টারনেটে কোনো সার্ভারের গহনে এবং তাকে নিয়ে বিশ্লেষণ চালানো হচ্ছে, ব্যক্তির গোপনীয়তা পর্দা তুলে ফেলবার জন্য এইটুকুই যথেষ্ট। একজন মানুষ, তার যাবতীয় সভ্যতা, ভব্যতা, নাগরিক পোশাক খুলে রেখে সম্পূর্ন নগ্ন হয়ে শোবার ঘরের নির্জনতায় ইন্টারনেটের সামনে বসে, তার যৌন ও অযৌন যাবতীয় চাহিদাকে খুঁজে বেড়ায় নেটময় -- সেই নগ্নতাকে গুগল রেকর্ড করছে। মানুষের স্বপ্নদৃশ্যগুলি, গোপন বাসনা গুলি, লিখতে চেয়েও না লিখতে পারা ডায়রির পাতাগুলি হাট হয়ে খুলে যাচ্ছে এক সার্চ ইঞ্জিনের বিরাট যান্ত্রিক চাকার সামনে -- ব্যক্তির অধিকার ভঙ্গ করা ছাড়া এ আর কি?
এই গোটা বিতর্কে কোনো নৈতিক অবস্থান এখানে, এই লেখায়, পরিসরের কারণেই, নেওয়া হচ্ছেনা। অবস্থান না নিয়েও, শুধু বিষয়টা একটু নৈর্ব্যক্তিক ভাবে খুঁটিয়ে দেখলে আজকের দুনিয়ার নজরদারি সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত চমকপ্রদ বিষয় চোখের সামনে উঠে আসে। বলাবাহুল্য, বিষয়টা পশ্চিমী নজরদারি সংক্রান্ত, গ্লোবাল নয়। গুগলের এই দু:সাহসিক পরিকল্পনা, যা ভূমিষ্ঠ হোক বা না হোক, একটা জিনিস দেখিয়ে দেয়, আজকের দুনিয়ার নজরদারি ক্রমশ: ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হয়ে উঠছে। শারীরিকভাবে পশ্চিমের প্রতিটি মানুষ এমনিতেই নজরদারির আওতায়। সুপারমার্কেট থেকে শুরু করে এয়ারপোর্ট, অফিস থেকে শুরু করে গ্যাস স্টেশন, পাড়ার মোড়ের ম্যাকডোনাল্ডস থেকে শুরু করে হাসপাতাল, সর্বত্র ছড়ানো আছে সার্ভিলিয়েন্স ক্যামেরার জাল, -- ক্যামেরাবন্দী না হয়ে কোনো ব্যক্তির রেহাই নেই। নিছক ছবি তোলার বাইরেও প্রতিনিয়ত রেকর্ড করা হচ্ছে, মানুষের "স্বভাব', "চরিত্র', "স্বাস্থ্য' এর হিসেবনিকেশ। ক্রেডিট হিস্ট্রি দিয়ে মেপে রাখা হচ্ছে ব্যয়ের অভ্যেস ও তার প্যাটার্ন। ড্রাইভিং রেকর্ড দিয়ে ধরে রাখা হচ্ছে গাড়ি চালানোর ধরণধারণ। এর বাইরে আছে ক্রিমিনাল রেকর্ড, মেডিকাল হিস্ট্রি, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, ব্যক্তির প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি মূহুর্তকে রেকর্ড করা, ডকুমেন্ট করার বিরাট প্রকল্পটি এখনও অনেক অনেক দূর যেতে পারে, যেতে চায়, গুগলের উদাহরণ তাইই প্রমাণ করছে। গুগলের প্রকল্প দেখিয়ে দিচ্ছে, নজরদারির অক্টোপাসসদৃশ শুঁড়সমূহ এখনও ক্ষুধার্ত, ব্যক্তির প্রতিটি চিন্তন, প্রতিটি প্রশ্বাসকে চেখে নেবার এক্সপ্লোর করার বাসনা তার ক্রমশ: বর্ধমান।
এটা যদি এই নজরদারির একটি দিক হয়, অন্যটি আরও ইন্টারেস্টিং। ব্যক্তির প্রতিটি মূহুর্তকে রেকর্ড করে রাখার এই যে বিপুল প্রয়াস, তা কিন্তু ব্যক্তিকে বেঁধে রাখার জন্য, বা নিষেধ করার জন্য, তা নয়। এর একটা স্থূল নিষেধমূলক দিক অবশ্যই আছে। যেমন, সার্ভিলিয়েন্স ক্যামেরায় অপরাধ ধরা পড়লে তার জন্য শাস্তি দেওয়া হয়। অর্থাত্ শাস্তির ভয় দেখিয়ে অপরাধ ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অপরাধকে ভয় দেখিয়ে প্রতিরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু এটুকু শুধু হিমশৈলের ভাসমান অংশটুকু। স্রেফ ভয় দেখানোর জন্য, চোখ রাঙিয়ে সিধে করার জন্য এই নজরদারির বিরাট জালের খুঁটিনাটি অংশগুলি কাজ করছেনা। নজরদারির প্রকল্পটি আসলে আরও অনেক ব্যাপক। যদি ক্রেডিট হিস্ট্রির উদাহরণ নেওয়া যায়, তাহলে দেখা যাবে, যে, ক্রেডিট হিস্ট্রিকে কাজে লাগিয়ে, মানুষের খরচার ধরণধারণের রেকর্ডেড ইতিহাস জমিয়ে রাখা হচ্ছে স্রেফ অর্থনৈতিক অপরাধ ধরতে সুবিধে হবে বলে নয়। বরং এই বিপুল তথ্যসম্ভারকে বিশ্লেষণ করে বাজারে আনা হচ্ছে নতুন ইকনমিক ডিভাইসসমূহকে। বাজারে আসছে নতুন নতুন ক্রেডিট কার্ড, বিনিয়োগের নতুন নতুন প্যাকেজ, দমন করা নয়, বরং যারা আরও আরও খরচ করার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে। অর্থাত্ খরচ বন্ধ কোরোনা, দেউলিয়া হয়ে গেলেও R্ণ নেওয়া থামিওনা, বরং আরও R্ণ নাও, আরও খরচ করো, শুধু এফিশিয়েন্টলি করো। এই "এফিশিয়েন্ট' ব্যাপারটা কি, কি করে করা যায়, সেটা বের করার জন্যই ব্যবহতৃ হচ্ছে ক্রেডিট হিস্ট্রির যাবতীয় ডেটা, অজস্র ব্যক্তিমানুষের টুকরো টুকরো খরচের খতিয়ানের সমষ্টিগত ইতিহাস।
অর্থাত্ ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কিন্তু চোখ রাঙিয়ে নয়। তার "স্বাভাবিক' প্রবণতার উপর শাস্তির নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে নয়। বরং তার প্রবণতাকে স্টিমুলেট করা হচ্ছে। একটি বিশেষ খাতে বইয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাকে বলা হচ্ছে এফিশিয়েন্ট। এই কাজের গবেষণার জন্য ব্যক্তিগত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সমষ্টিগতভাবে। অনেক মানুষের টুকরোটুকরো প্রবণতা সংক্রান্ত তথ্য একসঙ্গে জড়ো করলে তবেই তাতে একটা প্যাটার্ন খুঁজে পাওয়া যাবে। প্যাটার্নটা জানা জরুরি, কিন্তু ব্যক্তির পরিচয় জানার কোনো প্রয়োজন নেই। প্যাটার্নটা জানা জরুরি, কারণ সেই প্যাটার্নটিকেই ক্রমশ: করে তোলা হবে "এফিশিয়েন্ট'। ফলে ব্যক্তির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ব্যক্তি নয়। তার "ব্যক্তিগত' অধিকারও রইল, গোপণতাও রইল, কিন্তু "অ্যাননিমাস' লেবেলের আড়ালে পাচার হয়ে গেল তার ব্যক্তিগত তথ্য -- সব মিলিয়ে এ এক বিচিত্র মেকানিজম।
গুগলের প্রস্তাবিত মেকানিজমটি একেবারে এই মডেলের উত্তরসূরী। শুধু কিঞ্চিত্মাত্রায় দু:সাহসী। নজরদারির প্রক্রিয়া এতদিন ধরে হেলে ধরায় হাত পাকিয়ে এবার কেউটে ধরতে বেরিয়েছে আর কি। গুগল মানুষের যাবতীয় প্রবণতাকে রেকর্ড করে ফেলার কথা ভাবছে। এবং অজস্র ব্যক্তিমানুষের প্রবণতার যোগফল যে বিপুল পরিমান "অ্যাননিমাস' তথ্য, তাকে বিশ্লেষণ করে বেশ কিছু প্যাটার্ন, বেশ কিছু মডেল বানিয়ে ফেলার কথা ভাবছে। অত:পর, প্যাটার্নগুলি নিয়ে গবেষণা হবে। দমন নয়, নিষেধাজ্ঞাও নয়, দেখা হবে কিকরে প্যাটার্নগুলি "এফিশিয়েন্ট' করে তোলা যায়, কিকরে আরও স্টিমুলেট করা যায় ব্যক্তির চাহিদাকে, কিসে আনা যায় চাহিদার পরম পরিতৃপ্তি। অর্থাত্ মদ খাবার ইচ্ছা হলে, শারীরিক এবং মানসিক প্যাটার্নকে বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দেওয়া হবে, ঠিক কোন ব্র্যান্ডটি আজকে আনবে তৃষ্ঞার জলের তৃপ্তি। ধ্রুপদী সঙ্গীতের ভক্তকে অবসাদ কাটাতে দেওয়া হবে সঠিক সঙ্গীতের দাওয়াই। পর্নোবোদ্ধাকে দেওয়া হবে তার প্যাটার্ন অনুযায়ী সঠিক পর্নোর খোঁজ, ক্রীড়ামোদী পাবে খেলার খবর, বিপ্লবী পাবে বিপ্লবের।
পুরুষ চায় সঙ্গিনী, জনতা চায় বিপ্লব, যার যেটা চাহিদা, তাকে সেটা যোগান দিতে পারাই বাজারের এফিশিয়েন্সির সূচক। কিন্তু এই নতুন ধাঁচের নজরদারি, সঙ্গে নিয়ে এসে গেছে এই নতুন ধরণের এক সীমাহীন এফিশিয়েন্সির ধারণা, গুগল তার লক্ষ্যস্থির করার ছলে সেটাই আরেকবার জানিয়ে দিয়ে গেল। গুগল তার লক্ষ্যে সফল হবে কি হবেনা, সে কথা সময়ই বলবে, কিন্তু সফল না হলেও একটা কথা ঠিক। এই এফিশিয়েন্সির ধারণা, নজরদারির ধারণা আসলে কোন অসম্ভব পর্যায় পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে, ভবিষ্যতকে কতটা পরিমানে নিয়ন্ত্রণ করার স্পর্ধা দেখানো যেতে পারে, গুগল একবার সেটা জানিয়ে দিয়ে গেল।
নজরদারির কোনো সীমা নেই। এফিশিয়েন্সিরও কোনো শেষ নেই। স্কাই ইজ দা লিমিট।
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০০৭
|
|