গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12] [13] [14] [15] [16] [17] [18] [19] [20] [21] [22] [23] [24] [25] [26] [27] [28] [29] [30] [31] [32] [33] [34] [35] [36] [37] [38] [39] [40] [41] [42] [43] [44] [45] [46] [47] [48] [49] [50] [51] [52] [53]     এই পাতায় আছে1544--1574


           বিষয় : পর্বে পর্বে কবিতা - তৃতীয় পর্ব
          বিভাগ : অন্যান্য
          বিষয়টি শুরু করেছেন : pi
          IP Address : 128.231.22.133          Date:17 Dec 2011 -- 07:10 AM




Name:  কাছে          

IP Address : 233.186.41.235 (*)          Date:11 Oct 2017 -- 03:18 PM

“ভালোবাসা দিতে পারি"

কতকাল তোমার নিকটে আসি কেবলি দুঃখ বহন করে
কতকাল তোমার নিকটে আসি দ্বিধার বোঝা নিয়ে
তোমার নিকটে যাই একা কতকাল
তোমার নিকটে আছে ভালোবাসা সঙ্গীত ও স্মৃতি
তার কাছে কেবলি দুঃখ নিয়ে আসি এই অপয়া বিষাদ
তোমার নিকটে যাই একাকী সন্ধ্যাবেলা হেঁটে
ম্লান যখনই হয় চেনা প্রান্তর মানুষের বাড়িঘর
গমক্ষেতে হরিণেরা আসে, ধোঁয়া ওড়ে দূরান্তে
খামারে চাষের
তোমার নিকটে যাই অপরের সঙ্গে যেন এড়াতে দৃষ্টিবিনিময়
সাবধানে পারা যায়, আবছায়া ঘিরে থাকে যেন তোমারই বিপ্রতীপ।

লীলাময়ী, এই করপুটে ঝরে যায় তোমার সকল ভালোবাসা
শাশ্বত সহজতম দান,
তোমার নিকটে যেতে কেবলই কাতর অপয়া এ বিষাদ


Name:  Ramiz Ahamed           

IP Address : 233.176.98.109 (*)          Date:12 Oct 2017 -- 12:55 PM

ক্রিয়াকষ্ট

তরঙ্গ ইতিউতি
অগ্রন্থিত জড়গহ্বরে
বীজাণু মিছিল।

একটানা মর্গসঙ্গীত
গুঁড়ো গুঁড়ো নাভিশ্বাস
ছড়িয়ে যায়,

ঠান্ডা হতে হতে
জমে যাওয়া কষ্ট,
অসুখের গ্রাফিতি আঁকা
দেওয়ালে,

শীর্ষরাগ ঘেঁষে
প্রয়োজনীয় অন্ধকারে
মিথোজীবিদের ঝাপসা ডকুমেন্টরী
নামছে, মগ্নছন্দে।


Name:   ফরিদা           

IP Address : 11.38.4.14 (*)          Date:16 Oct 2017 -- 03:06 AM



প্রেমে বিশ্বাস রাখি, সে আমাকে পথেই বসাল
গাছের ছায়ায় যখন স্বপ্নের সুফল রসাল
নদী বয়ে গেছে ধীরে, আজীবন ঘুরে ঘুরে
এতদিন পরে সে কীসের খোঁজে ফিরে পথ আটকাল?

ভেবেছি, যখন প্রায় সেরে গেছি, রোগব্যাধিহীন
আচমকা দেখি না মেঘ, ফুলগুলি যা কী না যথেষ্ট রঙিন
অজস্র মানুষের ভিড়ে, চেনা গানে জ্বলে হীরে
তখনই কপালফেরে গ্রেপ্তার করেছে সে রাখবে অন্তরীণ।

কেন প্রেম, তোমাকে কি যথেষ্ট জ্বালাতে দিইনি বলো
মাঝরাতে জাগিয়েছ, বারবার জ্বেলে দিয়ে আলো
অনুতপ্ত প্রণত শিরে, দিইনি কি আমার মৃত্যুবাণটিরে
তুলে দিয়ে- প্রাণ নাও, আর একটু বাসতে দাও ভালো?

যেমন কয়লাখণ্ড জ্বলে ক্রমে ভাবে সে হীরকজন্ম পেল
প্রেম, যাকে ছোঁবে, ছোবলাবে, শেষমেশ পথেই বসাল।


Name:   ফরিদা           

IP Address : 181.78.226.104 (*)          Date:16 Oct 2017 -- 09:40 PM

পল


তুমি জানো জ্যোৎস্না ফটফটে হলে
আশ্চর্য কথা বলে ওঠে গাছের পাতারা,
তাতে শাবককে বুকে টেনে
পক্ষীমাতারা খুশি হয়।
নদীজলে রূপোলী রাংতা নাচে।
জানো পল, তুমি কাছাকাছি হলে
পৃথিবীর সব মন খারাপেরা মিলে মিশে -
আনন্দে বাঁচে।

আমি জানি, তুমি কিছু বলো না তো,
তোমার অদ্ভুত দৃষ্টি,
মনে পড়ে কিছু অব্যক্ত ক্ষত, মানুষ লুকিয়ে রাখে
নিজস্ব গাছের গভীর গোপন সুড়ঙ্গে।
সেই গাছ বড় হয়, ডালপালাপাতাময়,
ভাড়াটে বসায় ক্রমে, যারা নিজের নিজের মতো শাড়িলুঙ্গিগেঞ্জিগামছাজামা বাচ্চার কাঁথাকানি
রোদ্দুরে শুকোয়।
পরে আর সেইসব কথাদের
বাড়ি নিয়ে যেতে মানুষ ফেরেনা।

তুমি সেই কথা বুকে নিয়ে নীরবে তাকিয়েছ।
এ জ্যোৎস্নার শত প্রলোভন সত্বেও
তুমি কখনোই সে কথা বলবে না।




Name:   ফরিদা           

IP Address : 11.38.4.14 (*)          Date:20 Oct 2017 -- 10:07 AM

যথেষ্ট

একদিন সখ্যতা ছিল, বয়সের ধর্ম -
ছুট ছুট হরিণের পায়ে,
দেওয়া নেওয়া করতে করতে
দেখি আমি আর সে মুখোমুখি জেগে
মাঝরাতে ঘটাং ঘটাং শব্দে পেরোয় নদী
পূর্বা এক্সপ্রেস, থ্রি-টায়ার স্লিপার কোচের দরজায়।

ক্রমে ঘর সংসার আসে, আনাচ কানাচ থেকে
উপহারের বাক্স ভরে রাশি রাশি অতৃপ্ত বাসনা
মেঘ করে সেইদিনে, যেদিন অফিসে কাজের চাপ
কয়েকদিন জ্বরের পর ঘর থেকে বেরোতে পারিনা।

দেখা আর কখনও হয় না,
সেই নদী, সেই রাত, মুখোমুখি ট্রেনের দরজায়
পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে এত ভাব ভালোবাসা
কীভাবে বজায় রাখে মানুষ একটা সময়ের পর?

আমারও যথেষ্ট’র মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়।


Name:   ফরিদা           

IP Address : 11.38.4.15 (*)          Date:20 Oct 2017 -- 06:13 PM

শেষ কবিতার পরে

আরও একটি বড়লোক বাপের
অকালকুষ্মাণ্ড কবিতা জন্মের পর
তেলতেলে সফল কবি দেখছেন-
অবাধ অকুণ্ঠ স্তুতি বর্ষণে সভাস্থল পিচ্ছিল।
তিনি তার শিশু কবিতার সঙ্গে বুকে হেঁটে
নিজের স্মৃতির কাছে মার্জনা ভিক্ষা করেন।

মনে পড়ে শেষ সফল কবিতাটি তাঁর
এক বহুতল সিঁড়ির বারান্দায় পাওয়া
যা উচ্চারণের পর সেই কবিতার সঙ্গে
তিনি কার্ণিশ থেকে ঝাঁপ মেরেছিলেন
স্বিধাদ্বন্দহীন, নিরাসক্ত সম্পূর্ণ নৈর্ব্যক্তিক।
কবিতাটি তাকে পালকের ডানা দিয়ে
শেষে এনে ফেলে এই তেলতেলে সভায়
সফল কবিতার জন্মে, কবি ততটাই মরে যায়।


Name:   ফরিদা           

IP Address : 181.78.216.169 (*)          Date:31 Oct 2017 -- 06:51 AM


দুই-পা ঝুলিয়ে রেখেছে তেতলার কার্ণিশে চাঁদ
কবিতার ছিরিছাঁদ থাকছে না,সে হা-ক্লান্ত ঘুমোয়
চশমা মাটিতে পড়ে, চাদরটি এলোমেলো হয়ে আছে
পাশ থেকে সরে আসি যত, ঘটেছিল আরও বিপর্যয়।

কেন ভুল, কেন শীতকালে যাবতীয় পশম রঙিন ফুল
ধীরে ধীরে সাজে? কী এমন কুয়াশা ঢাকা গূঢ় অভিপ্রায়
রোদ্দুরে বেরোবে সকালে আপাতত নীল অহংকার
প্রতিটি গাছের থেকে কীভাবে সে এত প্রেমপত্র পায়?

ওই চাঁদ, তেতলার কার্ণিশ থেকে টুপ করে খসে যাবে
শিশিরেই ধোওয়া রাজপথে তার জ্যোৎস্না রক্ত নীল
মিলিয়েছে। পাতায় ঠিকানা লিখে সকাল শুরুর দিকে
ঘুমন্ত কবিতার ঘরে হানা দেয় অপর্যাপ্ত আলোর মিছিল।

মৃত চাঁদটির নীল রক্ত জ্যোৎস্নার সম্ভার যেন পায়ে পায়ে
সাক্ষী দিতে এসে কুণ্ঠিত। রৌদ্রস্নাত তেতলার বারান্দায়।



Name:   ফরিদা           

IP Address : 11.38.4.12 (*)          Date:31 Oct 2017 -- 04:30 PM


যত দূরে তুমি যতিচিহ্ন গুলি রাখ,
বাতিঘর, ডাকনাম, নৌকার খোল
গল্পের ছেঁড়াফাটা মলাটে উতরোল
জলদস্যু একচোখে সতত জাগ্রত।

যত দূরে তুমি ফেলে আস প্রিয় ডাঙা
পাটাতন বুকে চেপে সমুদ্রে ভেসেছি
ভাড়াবাড়ি ফল ফুল বন কিছু মৌমাছি
তাদের পাথর চোখ, ছবির কোণটি ভাঙা

যত দূর থেকে ছোট হয়ে আসে রাত্রি ও দিন
যত দূর থেকে গানে ভেসে আসে পৃথিবীতে
আলো, যার আকাঙ্ক্ষাপূরণ করে দুই হাতে
রূপকথা নাম দিলে ঝলমলে কথারা রঙিন।

দূরে যাই ফুটো নৌকায়, ভেঙে যাওয়া হাল
ছেড়ে দিলে ফের ফিরে আসে পুষ্যি বিড়াল।


Name:  kumu          

IP Address : 132.162.184.171 (*)          Date:01 Nov 2017 -- 10:44 AM

"দুই-পা ঝুলিয়ে রেখেছে তেতলার কার্ণিশে চাঁদ
কবিতার ছিরিছাঁদ থাকছে না,সে হা-ক্লান্ত ঘুমোয়
চশমা মাটিতে পড়ে,"
সাংঘাতিক!!


Name:   ফরিদা           

IP Address : 11.38.4.8 (*)          Date:07 Nov 2017 -- 09:10 AM

কুমুদিদি,
থ্যাঙ্কু :)




আমিও জলের কথা অল্পবিস্তর জানি
অভিমানের কুয়াশা, কলেজের মেঘেরা
সারি বেঁধে যেতে যেতে চিঠি পায় যত
বাক্সে ভরেছি তার সব কুড়োন কানাকানি।

নিসর্গ সঙ্কুল ভ্রমণে নদীপথ কিছুটা দেখেছি
পাহাড়ের গায়ে জনপদ, রাতে আলো জ্বালে
নলকূপ মেলা ঘিরে পাখিদের সাঁঝে ও সকালে
কাকলির মর্মোদ্ধার না করে যদিও হেসেছি।

তবু জল, প্রশ্রয় দেয়, এ দেহ নিছক ভাড়াবাড়ি
কল খোলা থাকে, আলো জ্বলে সারা দিনমান
নিছক বৃষ্টির দিন, প্রিয় গান শুনে শরীরী ভাসান
কুয়োতলায় বালতির দড়ি বুঝি ছেড়ে দেবে গাড়ি।

জলের কাছে, জল হয়ে ক্রমে কাছাকাছি আসি।
কুয়াশা, মেঘ, বৃষ্টির নদী নালা কুয়ো ভালোবাসি।


Name:   ফরিদা           

IP Address : 181.78.216.60 (*)          Date:08 Nov 2017 -- 07:41 AM

বর্ষপূর্তি

প্রকৃত হারামি জানে তারা ছাড়া বাকিরা হারামি
যত পারে কাঠি করে আগুন লাগায় ঘরে ঘরে
দুই চোখ কুতকুতে অশিক্ষা অবিশ্বাস্য ভাঁড়ামি
সংক্রামক ব্যধি বাকিদের স্বধর্মে দীক্ষিত করে।

প্রকৃত হারামি জানে তারা ছাড়া বাকিরাই ভুল
অন্ধত্ব বধিরতা নিয়ে চালকের আসনে বসেছে
খর জিভ শুধুই বোঝাবে বিচ্যুতি কার কত চুল
ক্রমাগত অপপ্রচারে শুধু নিজ জয়গান গেয়েছে।

প্রকৃত হারামি নিজের কোলেই সব ঝোল টানে
অপব্যাখ্যা মিথ্যের ঝুড়ি বোনে তীব্র অবিশ্বাস
যেহেতু বধির, বলে চলে কিছুই ঢোকেনা কানে
সামান্য বিরোধীতা পেলে টেনে ধরে স্বধর্ম ফাঁস।

প্রকৃত হারামি পৃথিবীতে আসে পাপে অমঙ্গলে
অসন্তোষ সীমাহীন তার হারামিপনার ফলে।


Name:   সিকি           

IP Address : 192.69.204.49 (*)          Date:08 Nov 2017 -- 08:06 AM

চুমু।


Name:   ফরিদা           

IP Address : 11.38.4.10 (*)          Date:11 Nov 2017 -- 07:59 AM

১২
তুমি যাকে সুস্বপ্ন বল, পদাবলী শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
যথেষ্ট সঞ্চয় মজুত, পূর্ণিমায় সত্যনারায়ণ -
সিন্নি মাখছে ঠাকুমা, সেই দিন টিভি চলছে না
একটাই যন্ত্রণা আছে, কেন তার ফোন আসছে না।

যত ঘুম বাকি থেকে যায় যে স্বপ্ন পারি নি মেলাতে
যেখানে চেতনা পৌঁছবে, ঢের আগে হিসেব থেমেছে
সে রাস্তা বড় দ্রুতগামী যদিও ছিলাম ফুটপাথে
সাবধানীদের অনুগামী খাঁচা থেকে পাখি পালিয়েছে।

পালিয়ে কোথায় বা যাবে, কমজোরি ডানা তালকানা
যে রাত্রি ফেলে ছড়িয়েছি সারাদিনে ফিরে যাওয়া মানা।
তবু আসে কুলপি বরফ রাতে ফেরিওয়ালা ডাকলেন
কয়েক দশক পিছনে ঘটিপাড়া মতিলাল বসাক লেন।

আমি তার খবর রাখি না, সেই পাড়া অধুনা অচেনা
নারকেল গাছটাও নেই, তবু কেউ ঘুড়ি বাড়ছে না।



Name:   ফরিদা           

IP Address : 132.161.113.92 (*)          Date:12 Nov 2017 -- 06:43 PM

১৩
এক ঘুম থেকে অন্য ঘুমে আমি পাই ছুটি
এক ঘুম অন্যটিকে জেগে ওঠা বলে
দুই ঘুমের মধ্যে দেখাসাক্ষাৎ যদিও নেই তবু
এক ঘুম থেকে অন্যতে অনায়াসে আসা যাওয়া চলে।

একজন আরেকজনকে বলে ঘোর অবাস্তব
একজন অন্যজনকে সূচ্যাগ্র মেদিনী ছাড়বে না
যে ঘুমের মধ্যে আমি কাল যার হাত ছুঁয়ে থাকি
অন্য ঘুমে সে আমায় চিনতেও চাইবে না।

এক ঘুম থেকে অন্য ঘুমে তবু চলে যেতে হয়
এক ঘুমে উৎসব, অন্যদিকে গরমের ছুটি
কেউ কাউকে দু-চক্ষে দেখতে পারছে না
মাঝরাস্তায় স্টেশনে আমি চিবোচ্ছি ডিম পাউরুটি।


Name:   ফরিদা           

IP Address : 132.161.113.92 (*)          Date:12 Nov 2017 -- 07:04 PM

১৪
যে রাত্রি ফেরাই খালিহাতে
যে রাত্রি ট্রেন ছেড়ে দিল
যে রাত্রি আমি দোষারোপ শেষে
কেটেকুটে রক্তাক্ত হল -
ভোরের দিকে আচমকা টের পেয়ে
ছুটে গেছি বারান্দা ধারে
বলেছিল যন্ত্রণা চেপে
সে আমাকে ভুলে যেতে পারে।

আমি তাই রাত্রি জাগছি না।
ট্রেনবাঁশি কানে আসছে না
যে রাত্রি একলা হেঁটেছে
তার ফোন কিছুতে ধরছি না।


Name:   ফরিদা           

IP Address : 132.161.113.92 (*)          Date:12 Nov 2017 -- 07:25 PM

তিন নং লাইনে "আমি" নেই মনে করবেন প্লিজ।



Name:   ফরিদা           

IP Address : 132.161.113.92 (*)          Date:12 Nov 2017 -- 08:50 PM

১৫
অনেকের সঙ্গে দেখা হল তার সন্ধ্যায়
আজ অনেক অনেক দিনের পর
তারা সব কে কেমন আছে
এই সব গল্পে ওরা মেতেছে পরস্পর।

দল বেঁধে বসে ছিল ওরা
বিছানায় ঘেঁষাঘেঁষি করে
এতদিন পরে দেখা হলে খুব কাছাকাছি যারা
ঠিক এভাবেই আড্ডাটি মারে।

যেভাবে আচমকা এসেছিল,
কিছু পরে তেমনিই গেল চলে
ন্যাপথলিন গন্ধ মাখা গল্প-কথারা
দেখা করে গেল আলমারি গোছানর ফলে।



Name:   ফরিদা           

IP Address : 132.161.113.92 (*)          Date:12 Nov 2017 -- 09:56 PM

১৬

আমি ও অসীমকাকু




“পৃথিবীকে সর্বস্ব দিয়েছি” -
শ্লাঘাবোধে থাকি মশগুল
তার থেকে সবটা নিয়েছি
সে যদিও বলেনি একচুল।




তুমি যদি আইন বানাও
সে আইন আমিই ভেঙেছি
প্রক্ষিপ্ত অসীম তটে
অনিয়ম বিন্দু এঁকেছি।




কেন তুমি কাল ফিরে গেলে?
কেন এই পরশু আসবে না?
মানচিত্রের স্কেলটা বাড়ালে
“এই তো পাশেই আছি সোনা”।




“ও লোকটা বাপের বয়সী
ছেলেটার বয়স কী কম”
পরমাণুগুলির হাসাহাসি
বিগ ব্যাঙ থেকে হরদম।


Name:   ফরিদা           

IP Address : 11.38.4.15 (*)          Date:12 Nov 2017 -- 11:31 PM

১১
যেন ঘুম ভাঙেনি আমার কখনোই সঠিক সময়ে
কখনও দেখিনি কীভাবে শিশিরবিন্দু ঘাসে ঘাসে
আকাশের ছবি তুলে আলো জ্বেলে রৌদ্র জমায়
তারারা সকালে নাকি এইভাবে ঘুমোতেই আসে।

যেন আমি কিছুই জানি না দেখবার কী রয়েছে এত
পরমায়ু বালতির জলে, পান স্নান কলঘরে গান
সাবলীল দাঁড় বেয়ে বেয়ে চরে ঠেকে পরিচিত ক্ষত
সেখানে থাকবে তুমি জানি সর্বদা অপেক্ষমান।

যেন কার শীতের দুপুরে আচমকা অতিথি আসলে
সে ঘরের একলা জানলা কিছু রোদ মেঝেতে ঢেলেছে
চিনিদানা পিঁপড়ের ঠোঁটে তাই নিয়ে দু কূল ভাসালে
এ পৃথিবী একবারই মোটে, তোমাকে সলজ্জ দেখেছে।

যেন ঘুম কখনও ভাঙেনি, যেন রাত শেষ হব হব
তোমাকে যে কথা দেওয়া ছিল, সেইটুকু নিয়েই ফিরব।


Name:   ফরিদা           

IP Address : 132.161.105.197 (*)          Date:17 Nov 2017 -- 06:31 AM

১৯
রাত থাকতেই কাঁধে ঝোলা নিয়ে সাইকেলে
লোকটা অভ্যস্ত চোখে গ্রামের রাস্তা পেরিয়ে
একসময়ে সাঁই সাঁই হাইওয়ে ধরেছে।
ঠান্ডাটা এইবার বেশি নাকি তার বয়স বেড়েছে?

শান্তিনিকেতনের ট্যুরিস্ট রিসোর্টে পৌঁছে
ঝোলা থেকে চটপট বেরোল
গেরুয়া আলখাল্লা, পাগড়ি আর একতারা
প্রায় একই পোশাকে সকালের সূর্যটিও
“রাই জাগো রাই জাগো” বলে দরজায় নাড়ে কড়া।



Name:   ফরিদা           

IP Address : 181.78.203.125 (*)          Date:23 Nov 2017 -- 09:20 PM

কালাকাঁদ জ্যোৎস্না

জ্যোৎস্না প্রিয়ংবদ,
পৃথিবীর বশবর্তী যেহেতু
রম্য কালাকাঁদ অনিন্দ্য
এমন হেমন্তে একদা
একবারই বেঁধেছিল সেতু।

ভাষা সন্ধানে নেমেছিল
দুরন্ত অভিযাত্রী দল, তখনই
মৃদুমন্দ স্বাদু ঘ্রাণ মিঠে আঁচে
পাক খায় ক্ষীর ছানা তাল
পৃথিবী শব্দস্নান সেরে জেগে ওঠে
শুভ প্রার্থনা শেষে কালাকাঁদ
প্রসাদে অভিযাত্রীরা উথালপাথাল।

মিষ্টান্নরন্ধনরত মিঠুন ও ঈপ্সিতা জ্যোৎস্নাই এ কবিতা প্রস্তুত করেন। আমি অনুলেখক মাত্র।


Name:   ফরিদা           

IP Address : 181.78.203.125 (*)          Date:23 Nov 2017 -- 10:55 PM



এ পৃথিবী মাঝে মাঝে পাশ ফেরে দিনশেষে
কিছুটা সময় যেন শূন্য হয়ে আসে
চোখের পলক পড়ে কারও চিন্তাস্রোত ছিড়ে গেল
ঘাম মোছে ট্রাফিক পুলিশ ডিউটির পর মানুষের বেশে।
আমাদের শিশু আকাঙ্ক্ষা ভরন্ত অফিসে
টলমল পায়ে হেঁটে আসে আচমকা।

ফোনে ডাকে পুরনো নম্বর, চশমা ঝাপসা হয়,
চৈ চৈ ডাক শুনে ঘরে ফেরা হাঁস যেন চমকে উঠেছে
হোস্টেলে স্বাধীন ছেলেটার মনে পড়ছে বাবাকে
তখনই, বিকেলের রোদ যেন উঁকি দেখে যাবে
হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা ম্লান লোকটাকে-

এ পৃথিবী তখনই অভিমানে পাশ ফিরে থাকে।


Name:   ফরিদা           

IP Address : 11.38.4.12 (*)          Date:24 Nov 2017 -- 04:22 PM



মনে হয় একা একা মাঝরাতে সমুদ্রের পাড়ে গিয়ে
চুপিচুপি অদৃশ্য দাঁড়িয়েছি নির্জন, সেদিন প্রচুর হাওয়া
দেখেছি ঢেউগুলি মৃত শুক্লা নবমী জ্যোৎস্নার থেকে
রূপোলি তবক গুলি খুঁটে খুঁটে তুলে চুলে লাগিয়েছে
পাড়ে এসে বালিময় ফেলে ছড়িয়েছে ফেনায় ফেনায়
বাকি রাত কেটেছিল জ্যোৎস্নারহিত লাল চাঁদের বেদনায়।

একা একা অন্য রাত নির্জন প্ল্যাটফর্মে মোড়াম বিছান।
দিনেই যা দু-একটি ট্রেন দয়াপরবশ থামে টামে জানি
আকাশে হীরের খনি সারারাত সেইখানে ঝুঁকে পড়ে
করে কানাকানি, কার যাত্রা কবে ছিল, কারা চলে গেছে
কারা যেন কখনও যায় নি। রাতে ওরা ট্রেন ট্রেন খেলে
ঝমঝম শব্দে কাঁপিয়ে আলো ঝলসিয়ে ফিরে যায় চলে।

রাত্রির গাঢ় অন্ধকার ক্ষীণ হতে হতে ক্রমশ ফ্যাকাশে
মৃত সমুদ্রবেলায় স্টেশনে লোকে প্রাতঃভ্রমণে আসে।



Name:   ফরিদা           

IP Address : 181.50.135.12 (*)          Date:26 Nov 2017 -- 10:51 AM


রিক্ত হয়ে তিক্ত ব্যথা আস্থাবিহীন অক্ষে
তোমার একটি ভাবনা পেলে চিরহরিৎ সখ্যে
মিলিয়ে দিতাম নদীর স্রোতে ভিন্ন জনপদও
ভালোবাসার বন্যা ভাঙত কঠিনতম বাঁধও।

যখন তুমি দেখছ পাথর চাপা হলুদ প্রত্ন
শব্দে করো সঞ্জীবিত সেও পোখরাজ রত্ন
কিম্বা যত্নে মুকুল ফোটাও জীবনধারণ ছন্দে
এগোয় পিছোয় বেঁচে থাকা নাচেরই আনন্দে।

ছন্দ তোমার গুণগ্রাহী, শব্দ সুশীল প্রজা
সেই রাজত্বে প্রতি পঙক্তির নতুন রাস্তা খোঁজা
আস্তে আস্তে দরজা খোলে ঘরের ভিতর ঘর
এক কবিতায় অনেক জীবন বহু জন্মান্তর।



Name:  b          

IP Address : 24.139.196.6 (*)          Date:26 Nov 2017 -- 05:16 PM

(য্ক্ষঃ কঃ বার্তাঃ?)

কটাহে বড় মায়া হে,
রোদ ওঠে, কখনো ট্রেন থামলে অন্ধকারে চুপচাপ স্লীপার ক্লাস
ঝিঝিঁর ডাক, বৃষ্টির শব্দ ভারতবর্ষ জুড়ে
হেমন্তের অন্ধকারে ধোঁয়া ওঠে ট্রামলাইনের উপরে
জন্ম নেয় মধূকুপী ঘাস
দাদুর কোঁচকানো হাত ধরে নাতি দৌড়ে দৌড়ে যায় পার্কের ভিতরে
শ্মশানের পাশের দোকান ২৪ ঘন্টা খোলা পাইবেন,
দশকর্ম্মার সমস্ত জিনিস পাওয়া যায়
প্রোঃ রাজু দাস, দেওয়ালের ছবি ঝুলছে শুকানো মালায়।


Name:   ফরিদা           

IP Address : 181.50.135.12 (*)          Date:26 Nov 2017 -- 10:13 PM

১৪

সবুজ রঙের বিলাস নিয়ে শেষ বিকেলের ইচ্ছে
অন্ধকারটি নামার আগে ওড়ার হাওয়া দিচ্ছে।
এখন ঘুড়ি তুললে সে আর ফেরৎ আসবে না
এই অসময় হাওয়ায় লেখা জল্পনা কল্পনা
যদি থাকত বাঁধা বশংবদ কাগজে পেন্সিলে
সত্যি বলছি ভর্তি হতাম আরও একবার স্কুলে।

সবুজ বিলাস, জলের গেলাস মন্ত্র দিতাম জুড়ে
যখন তখন ছুট লাগাতাম বৃষ্টিতে রোদ্দুরে
প্রিয় শহর খোলা সদর সোঁদা গন্ধের সকাল
বৃষ্টি আসছে রঙের বুঝলে খিচুড়ির চাল ডাল
মিলিয়ে দিতাম মিশিয়ে দিতাম সেইদিন ওই ঘুড়ি
বাড়ি থাকত পরদিন তার অন্য শহর পাড়ি।
মাঝে মধ্যে চিঠি লিখতাম - কুশল সংবাদের
শেষ বিকেলের ইচ্ছে একটি বটচারা চিল ছাদের।


Name:  dd          

IP Address : 59.207.57.222 (*)          Date:27 Nov 2017 -- 08:53 AM

b'র কবিতাটা খুব ভাল্লাগ্লো।

আর বাচনবংগীও একেবারে স্বতন্ত্র - যাকে বলে ইউনিক।


Name:  de          

IP Address : 69.185.236.53 (*)          Date:27 Nov 2017 -- 04:21 PM

এক্কেবারে ছুপা রুস্তম - দা-আ-রু-উ-ণ!

বি - স্তব্ধ এবং মুগ্ধ!


Name:   Subhadeep Maity           

IP Address : 53.251.168.7 (*)          Date:27 Nov 2017 -- 09:00 PM

#

সাঁওতাল গাঁয়ের মত কুলীন অন্ধকার বুকে
মেয়েটি এসে দাঁড়াল দীঘিটির সম্মুখে।

তীব্র শীতের রেশ বুকে টেনে দীঘি ক্রমশ শুকিয়ে আসছে,
এখন পাড় বরাবর অজস্র ফাটল;
কল্পনায় লাগে-
প্রাচীন বটের সহস্র-মূল জটিলতায় ছেয়ে যাচ্ছে
অলক্ষ্যের জমিন।

দূর থেকে কান্নার মত ভেসে আসে শঙ্খধ্বনি
এক পা দু' পা মেয়েটি এগোয়,
ফাটল আরও স্পষ্ট হয়।

মেয়েটি কোনদিন প্রকৃতির ক্ষয় দেখেনি,
সে দেখেছে লাঙলের ফালে ছিন্ন শক্ত মাটি।

অথচ, সে কখন দেখেনি প্রকৃতির ক্ষয়
দেখেনি আপনা থেকে শক্ত মাটি কিভাবে ঝুরো মাটি হয়।

দীঘি এবার আপন মনে বলে-
যে ফাটলের দুদিকে দুজন
দাঁড়িয়ে ছিল আজন্মকাল
সে ফাটল তৈরী করে মানুষ;
আর যে ফাটল জন্ম নিয়েছে নিজের মত করে
মানুষের সে দুঃসাহস নেই তাকে উপেক্ষা করে।

আসলে
মানুষ চিরকাল বিরহ সহ্য করে মুখ বুজে,
ভাঙে অধিক ভালোবাসায়।

(নভেম্বর ২৭,২০১৭)


Name:   ফরিদা           

IP Address : 11.38.4.11 (*)          Date:08 Dec 2017 -- 07:45 PM

১৬
একটি ইচ্ছে পিঁপড়ে ঠাকুরের থালা থেকে
চিনিদানা চুরি করে খাওয়ায় শিশুকে
একটা ইচ্ছে চড়াই, ভীষণ মিশুকে
প্রতিবেশী বাড়ি থেকে চামচ ক্লিপটা
এনে ফেলেছে উঠোনে -
যাতে বাড়ে কথা চারা তুলসীতলার পাশে এক মনে।

ওদিকে ইচ্ছে ঘুড়ি বেড়ে মেঘে ডুবে স্নান সেরে এল
সেই কথা চারাগাছ বৃক্ষ হয়েছে এতদিনে
অস্পষ্ট লিখনে এ হেমন্তে যে চিঠিপত্র পাঠাল
শূন্য উঠোনে ভাগ্যিস তা চির অপঠিত
ওই তুচ্ছতা ব্যতিরেকে এ জন্ম শর্করা তাড়িত।



Name:   ফরিদা           

IP Address : 181.50.130.86 (*)          Date:09 Dec 2017 -- 09:30 AM

১৭
এস দেহ, এ পৃথিবী প্রেমে জীর্ণ হয়েছে সহে
সবুজ ঘাসের মোহে রোদ্দুর শান্তি পেতে ক্রমে
মুখ লুকিয়েছে সেই ভ্রমে তুমিও প্রস্ফুটিত হও।
খলখলে পথশিশু, দেরাজের বাতিল দলিল
পুরনো বন্ধুদের ঠেকগুলি তালা পড়ে গেছে
পথ নির্জন, ব্যাঙ্কারে শুধু যুদ্ধ সিনেমা চলছে।

তবু দেহ, সুপ্ত ভ্রূণে যে বিশ্বাস রাখা ছিল গল্পে
পাতালের গুহায় কাঠের কৌটোয় নিস্পৃহ ভ্রমর
মৃদুস্বরে জীবনসঙ্গীত গায় আজও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে,
যখন জেনেছে প্রচারিত হত্যাদৃশ্য জ্বলন্ত কুপিয়ে।
এ কাল মৃত্যু নয়, এ সামান্য রাত্রির ঝোঁক, মৌতাত
যথা পেটভরা ভাত, পরিধেয়, আশ্রয় সু-বন্দোবস্তর
বদলে আরকের নেশা, সহজলভ্য দেশপ্রেম মোড়কে।
উত্তাপ রেখো, জেনো, আলোতেই বদলায় লোকে।

এই সুতোর পাতাগুলি [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12] [13] [14] [15] [16] [17] [18] [19] [20] [21] [22] [23] [24] [25] [26] [27] [28] [29] [30] [31] [32] [33] [34] [35] [36] [37] [38] [39] [40] [41] [42] [43] [44] [45] [46] [47] [48] [49] [50] [51] [52] [53]     এই পাতায় আছে1544--1574