বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

জয়ন্তী অধিকারী

“Do you know or could tell me anything about Mrs Ganguly, or give me any advice? … (she) has already passed what is called the first licentiate in medicine and surgery examinations and is to go up for the final examination in March next. This young lady, Mrs. Ganguly, married! after she made up her mind to become a doctor! and has had one, if not two children since. But she was absent only thirteen days for her lying-in!! and did not miss, I believe, a single lecture!!"

“কে এই মিসেস গাঙ্গুলী, আমায় কিছু জানাতে পারো? সে নাকি এর মধ্যেই ফার্স্ট লাইসেনসিয়েট ইন মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি পাশ করে ফেলেছে আর আগামী মার্চ মাসে ফাইনাল পরীক্ষা দেবে। এই তরুণী বিয়ে করে ফেলেছে, ডাক্তার হবে ঠিক করার পরে! তার পর অন্তত একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছে, যদি না দুটি জন্মে থাকে। কিন্তু ছুটি নিয়েছিল মাত্র ১৩ দিন, আর শুনছি নাকি একটাও লেকচার মিস করেনি!"(২০ ফেব্রুয়ারী,১৮৮৮)।

এই কথাগুলো ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল স্বয়ং তাঁর এক ভারতীয় বন্ধুকে চিঠিতে লিখেছিলেন ,সুদূর বিদেশ থেকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আজীবন কর্মরত প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসাবে যাঁকে ভাবা হয়,সেই কাদম্বিনী গাঙ্গুলী দেশে বিদেশে কতখানি আলোড়ন তুলেছিলেন , এই চিঠিটি থেকে তার একটা ধারণা পাওয়া যায়। তাঁর মুকুটে রয়েছে অনেকবার “প্রথম” হওয়ার গৌরব,যেমন-

  • তিনি প্রথম মহিলা যিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৮৭৮ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করেন।
  • ১৮৮০ সালে তিনি ও চন্দ্রমুখী বসু প্রথম দুই মহিলা যাঁরা এফ. এ (first arts) পরীক্ষায় পাশ করেন।
  • তিনি ও চন্দ্রমুখী বসু ১৮৮৩ সালে (৫ই মার্চ) ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে, (ব্রিটিশ অধিকৃত সকল দেশের মধ্যেও) প্রথম বি.এ পাশ করেন।
  • তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা যিনি ভারতীয় মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে গ্র্যাজুয়েট অব দ্য মেডিক্যাল কলেজ অব বেঙ্গল উপাধি পান,যা তাঁকে দিয়েছিল চিকিৎসা করার অধিকার (১৮৮৭ সাল)
  • ভারতে তিনি-ই প্রথম মহিলা যিনি বিদেশ থেকে মেডিকেল ডিগ্রী ( LRCP, LRCS , LFPS ডিগ্রী ) অর্জন করেন ও সারাজীবন চিকিৎসকের পেশায় নিযুক্ত ছিলেন ( সত্যজিত রায়ের জন্মের সময় তিনিই চিকিৎসক ছিলেন )।
  • কাদম্বিনী জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম নারী সদস্যদের অন্যতমা, কংগ্রেস অধিবেশনে (১৮৮৯ সালে বোম্বাইতে) যোগ দেওয়া প্রথম দুই নারী প্রতিনিধির মধ্যে একজন।
  • তিনিই প্রথম মহিলা যিনি ভারতীয় কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধীজির আন্দোলনের জন্য টাকা তুলেছেন, কলকাতায় মহিলাদের জাতীয় সভা করেছেন, নীলরতন সরকার-প্রাণকৃষ্ণ আচার্যের মতো প্রতিষ্ঠিত ডাক্তারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্র্যাকটিস জমিয়েছেন কলকাতায়, নেপালে, বাংলার মেয়েদের শিল্পকৃতি নিজের উদ্যোগে সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন বিদেশের প্রদর্শনীতে।

হীরকখণ্ডের মত ছিল কাদম্বিনীর বহুমুখী ব্যক্তিত্ব। প্রতিভা ও আত্মশক্তির বলে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একজন অত্যন্ত সফল মহিলা চিকিৎসকরূপে,অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা জয় করে রেখেছিলেন কালজয়ী কীর্ত্তির স্বাক্ষর। কাদম্বিনী গাঙ্গুলী (জন্ম ১৮ ই জুলাই,১৮৬১ - মৃত্যু ৩ অক্টোবর, ১৯২৩) তাঁর সময়ের থেকে তো বটেই ,একবিংশ শতাব্দীর থেকেও এগিয়ে থাকা এক আশ্চর্য মানুষ,বিজ্ঞানের বিশাল ক্ষেত্রে যিনি নিজের আসনটি অর্জন করে নিয়েছিলেন অসাধারণ মেধা,আত্মবিশ্বাস ও অপরাজেয় মনোভাবের শক্তিতে।

১৮৬১ সালে জন্ম হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, ডাক্তার নীলরতন সরকারের। আর এই বছরেই জন্ম কাদম্বিনী বসুরও, ১৮৬১ সালের ১৮ই জুলাই বিহারের ভাগলপুরে (মতান্তরে পরিবারের আদি বাসস্থান বরিশালের চাঁদসীতে)। ব্রাহ্ম সমাজ সংস্কারক তাঁর পিতা ব্রজকিশোর বসু ভাগলপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি ও অভয়চরণ মল্লিক ভাগলপুরে মহিলাদের অধিকারের আন্দোলন করেছিলেন এবং প্রথম ভারতীয় মহিলা সংগঠন ভাগলপুর মহিলা সমিতি স্থাপন করেছিলেন ১৮৬৩ সালে । ব্রাহ্ম সমাজের অনুপ্রেরণাতেই কাদম্বনীর বাবা ব্রজকিশোর বসু মেয়েকে শিক্ষিত করে তুলতে উদ্যোগী হন। কাদম্বিনীর শিক্ষা শুরু হয় ঢাকার ইডেন মহিলা বিদ্যালয়ে। 

মাত্র চোদ্দো বছর বয়সে কাদম্বিনী আসেন ভাগলপুর থেকে কলকাতায়। ভর্ত্তি হন ‘হিন্দু মহিলা বিদ্যালয়ে’ ।এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন Annette Susannah Akroyd Beveridge  নামে একজন উচ্চশিক্ষিত ইংরেজ মহিলা,শিবনাথ শাস্ত্রী, দ্বারকানাথ গাঙ্গুলী,দুর্গামোহন দাশ, আনন্দমোহন বসু, ভগবান চন্দ্র বসু , মনমোহন ঘোষ,অন্নদাচরণ খাস্তগীরের সহায়তায়,১৮৭৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। উদ্দেশ্য ছিল মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা। কয়েকজন সমাজপতির ধারণা ছিল,মেয়েরা দর্শন, অঙ্ক, বিজ্ঞান পড়লে তাদের নারীত্ব নিয়ে টানাটানি হবে, কিন্তু এমন কথা মানতে রাজি ছিলেন না দ্বারকানাথ প্রমুখরা। মেয়েদের বোর্ডিং স্কুল খোলা হল, সেখানে গণিত,ভূগোল,বিজ্ঞান,বাংলা,ইংরেজী,ইতিহাস,গান,সেলাই,বিলিতি কায়দায় কাঁটা-চামচ দিয়ে খাওয়া শেখান হত ,মেয়েরা স্কুলের হিসাবপ্ত্র রাখতে শিখত এবং তাদের রান্নাও শিখতে হত,পালা করে রান্নাঘরের ভার নিতে হত,নিয়মিত মেয়েদের বনভোজন ও ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হত । এই বহুমুখী শিক্ষা কিশোরী কাদম্বিনীর ব্যক্তিত্ব গঠনে ও পরবর্ত্তী জীবনের নানা ক্ষেত্রে খুবই কাজে লেগেছিল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন স্ত্রীশিক্ষায় প্রবল উৎসাহী ব্রাহ্ম সমাজনেতা ও অবলাবান্ধব নামে একটি মাসিক পত্রিকার সম্পাদক পণ্ডিত দ্বারকানাথ গাঙ্গুলী । Annette ইংল্যান্ড ফিরে যাওয়ার পর এই বিদ্যালয়ের অগ্রগতি কমে যেতে থাকে,তবে প্রগতিশীল ব্রাহ্মরা ১৮৭৬ সালে এই বিদ্যালয়টিকে বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয় নামে পুনরুজ্জীবিত করেন এবং স্থির করেন এন্ট্রেন্স পরীক্ষার জন্য এখানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম অনুসরণ করা হবে। দু বছর পরে এটি যুক্ত হয় প্রায় অর্ধমৃত বেথুন স্কুলের সঙ্গে,বেথুন স্কুল নামেই পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কাদম্বিনী এই বেথুন স্কুলে পড়ছিলেন, কিন্তু যখন তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসার উপযুক্ত হলেন,তখন দেখা গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি অনুযায়ী মহিলারা পরীক্ষায় বসতে পারেন না (অক্সফোর্ড ও কেম্ব্রিজের নিয়মকে অনুসরণ করে এই নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল)। এই সময়ে দেরাদুন থেকে চন্দ্রমুখী বসু নামে আর একজন মহিলাও এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসার জন্য আবেদন করেন। দ্বারকানাথ এই মেয়েদের জন্য প্রচন্ড লড়াই করে ,বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য Sir Arthur Hobhouse এরসাহায্যে পরীক্ষায় বসার অনুমতি আদায় করেন। উপাচার্য কাদম্বিনী ও সরলা দাশকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে দিতে রাজি হন এই শর্তে যে যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক ইংরেজীর, অধ্যাপক রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিহাসের, অধ্যাপক গ্যারেট গণিতের আর পণ্ডিত মদনমোহন তর্কালঙ্কার বাংলার পরীক্ষা নিলেন । দু’জনেই যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন এবং পূর্ণ গঠিত বেথুন স্কুল থেকে প্রথম বার দুটি ছাত্রী কাদম্বিনী বসু ও সরলা দাসকে (ব্রাহ্মনেতা দুর্গামোহন দাসের কন্যা) ১৮৭৮ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য পাঠানো হল ।

বিয়ে হয়ে যাওয়ার জন্য সরলা অবশ্য পরীক্ষা দিতে পারেন নি। কাদম্বিনী পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন,মাত্র এক নম্বরের জন্য প্রথম বিভাগ পান নি। চন্দ্রমুখীকে Junior Board of Examiners “এন্ট্রান্স স্ট্যান্ডার্ড” এর উপযুক্ত বলে ঘোষণা করেন।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্ত্তন উৎসবে উপাচার্য Sir Alexandra1 Arbhutnot বলেছিলেন,“I must not omit to mention a circumstance which is interesting and important ,I refer to the fact of the senate having passed rules for fee examination of female candidates, under the operation of which one Hindu young lady educated at the Bethune School, passed the Entrance examination with great credit The young lady, to whom I refer, Kadambini Bose, obtained very high marks in Bengali, tolerable marks in History and even in exact science- a subject which is not usually considered to be congenial to the female intellect,she acquitted herself creditably.”

এরপর শুরু হল কাদম্বিনীর ইতিহাস রচনা। মনে রাখতে হবে ,গোটা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে তখনও কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা মেয়েদের জন্য খোলা ছিল না। কাদম্বিনী সেই দরজা তো খুললেনই, উপরন্তু মেয়েরাও যে বিজ্ঞান পড়তে পারে, তার নিদর্শন রেখে রীতিমতো চমকে দিলেন পৃথিবীকে। ডাক্তারি পড়তে চেয়ে কাদম্বিনী বসু মেডিক্যাল কলেজে আবেদন করলেন, সুযোগ পেলেন না ,কিন্তু উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য তাঁর গভীর আগ্রহে প্রভাবিত হয়ে সরকার কলকাতায় মহিলাদের একমাত্র সরকারী প্রতিষ্ঠান বেথুন স্কুলে ডিগ্রি পর্যায়ের শিক্ষাক্রম,প্রথমে এফ এ (ফার্স্ট আর্টস) এবং তারপর অন্যান্য স্নাতক শ্রেনী চালু করার উদ্যোগ নেয়।

শুধুমাত্র কাদম্বিনী বসুকে ছাত্রী তালিকাভুক্ত করে ১৮৭৯ সালে বেথুন কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৮৮০ সালে কাদম্বরী বেথুন কলেজ থেকে ও চন্দ্রমুখী Free Church of Scotland College থেকে এফ এ (ফার্স্ট আর্টস) পাশ করেন।

১৮৮৩ সালে কলকাতার বেথুন কলেজের ছাত্রী হিসেবে কাদম্বিনী বসু ও চন্দ্রমুখী বসু বিএ পরীক্ষায় অংশ নেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন ( ৫ ই মার্চ,১৮৮৩ সাল)। তাঁরাই ছিলেন ভারতে এবং সমগ্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রথম মহিলা গ্র্যাজুয়েট (বি এ ) কেননা, তখনও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কি খোদ বিলেতেও মহিলাদের স্নাতকস্তরের পরীক্ষায় বসার অধিকার ছিল না। ব্রিটিশ মহিলারা বিলেতের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকস্তরে পড়ার অনুমতি পান কাদম্বিনীদের এক বছর পর। এই অনুমতি দিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট প্রগতিশীল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ,কাদম্বিনী ও চন্দ্রমুখী নারীশিক্ষার জগতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। সেই সময় একজন বালিকার পক্ষে প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসাই স্বপ্নের অতীত,স্নাতক হওয়া তো অনেক দূরের কথা। চন্দ্রমুখী ও কাদম্বিনীর বি এ পাশ করার বিষয়ে Director of Public Instructions মন্তব্য করেছিলেন “the most notable event in the history of Female education in Bengal”.(Convocation Address,University of Calcutta,10 March,1883)।

কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় অশিক্ষিতা ,অবহেলিতা বাঙালী মেয়েদের দেখে সখেদে লিখেছিলেন,”হায়,হায়,ওই যায় বাঙালীর মেয়ে। তিনি এখন লিখলেন-

“হরিণ-নয়না শুন কাদম্বিনী বালা
শুনো ওগো চন্দ্রমুখী কৌমুদীর মালা
যে ধিক্কারে লিখিয়াছি “বাঙালীর মেয়ে”
তারি মত সুখ আজি তোমা দোঁহে পেয়ে
ভাসিল আনন্দ ভেলা কালের জুয়ারে।।
ধন্য বঙ্গনারী ধন্য সাবাসি তুহারে।”

স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর কাদম্বিনী সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ার। নারী শিক্ষার সমর্থক পিতা ব্রজকিশোর বসু সানন্দে কন্যার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। ১৮৮২ সাল পর্যন্ত কলকাতা মেডিকেল কলেজে কোন নারী শিক্ষালাভের অনুমতি পান নি। আবার দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীর সংগ্রাম শুরু হয় এবং ১৮৮৩ সালে তিনি অসাধ্যসাধন করেন। মেডিক্যাল কলেজের নিয়মই ছিল, বি এ পাশ করলে যে কেউ বিনা খরচে মেডিসিন পড়তে পারবে , কাদম্বিনী তার সুযোগ নিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যয়ন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করলেন প্রথম ছাত্রী হিসাবে,যুগযুগান্তের এক রুদ্ধদ্বার খুলে দিলেন নারীদের জন্য। ।তাঁকে মাসিক কুড়ি টাকা জলপানিও দেওয়া হয়। কাদম্বিনীর মেডিকেল কলেজে প্রবেশ করার এই ঘটনা অবশ্য সমাজের অনেকের কাছেই অসহ্য মনে হয়, নানা তিক্ত মন্তব্য ও বিরোধিতা চলতেই থাকে।

ঐ সময়ে দাঁড়িয়ে এ যে কত বড় অসমসাহসের পরিচয়,তা বোঝার জন্য পাঠিকাকে অনুরোধ করি বাবু নীলকমল মিত্রর, লেখা এই চিঠিটি দেখতে। তিনি এক সরকারি কর্তাকে লিখছেন যে তিনি তাঁর নাতনিকে ডাক্তারি পড়াতে চান, কিন্তু “মেয়েটিকে চিক বা পর্দার আড়াল থেকে নোট নিতে দেওয়া হবে কি? আর মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদের সময়ে পুরুষ সহপাঠীদের থেকে অন্য ঘরে, তার স্বামী বা আমার উপস্থিতিতে, তা করতে দেওয়া হবে কি? বর্তমানে হিন্দু সমাজ মানবদেহের কিছু কিছু অঙ্গ নিয়ে অপরিচিতদের সামনে মেয়েদের কাজ করতে দেবে না।” কাদম্বিনীর মেডিক্যাল কলেজে পড়া নিয়ে সমাজে ভয়ংকর সমালোচনার ঝড় উঠেছিল,প্রবল বাধা ছিল ডাক্তারদের মধ্যেও। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল গেজেট ১৮৭৫ সালে লিখেছিল, ‘that females of any kind are fit to be doctors is a very doubtful point.’

১৮৮৩ সালের ২রা জুলাই আনন্দবাজার পত্রিকা মেডিকেল কলেজে পুরুষ ছাত্রদের সঙ্গে মহিলা ছাত্রীদের একত্র অধ্যয়নে কি কি অসুবিধা তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়, ‌যার মধ্যে মোক্ষম অস্ত্র ছিল,”আরও অন্যান্য আপত্তির মধ্যে উক্ত কলেজের একদল ছাত্র বলেন যে,নিয়ম আছে,সমস্ত বক্তৃ্তাতে উপস্থিত না থাকিলে পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হওয়া যায় না। এবং যদি এই পাঁচ বৎসরের মধ্যে যদি কোন রমণীর গর্ভ হয়,তবে প্রসবকালীন তিনি কি করিয়া বক্তৃ্তায় উপস্থিত থাকিবেন? আপত্তি কয়েকটি যুক্তিসঙ্গত।”

কোন অজ্ঞাত কারণে শিক্ষক রাজেন্দ্রচন্দ্র চন্দ্র আগাগোড়াই মেডিকেল কলেজে কাদম্বিনীর শিক্ষালাভের ভয়ংকর বিরোধিতা করেছিলেন, তিন বছরের শেষে প্রথম পরীক্ষায় তাঁর কাছে Materia Medica and Comparative Anatomy পেপারে মাত্র ১ নম্বরের জন্য ফেল হলেন কাদম্বিনী। Science and Culture এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বি কে সেন বলছেন,”This prevented her from getting the certificate of the first MB examination held in 1888. As a result, she got only the certificate of First LMS examination from CU.” কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের Minutes,1886-87 এ লেখা হয়েছিল “First MB result was accepted by University as equivalent of a pass in the First LMS examination.”

এম বি পড়া হল না, সেনেট ‘লাইসেন্সিয়েট ইন মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি’ পড়ার অনুমতি দিল। দু’বছর পর ফাইনাল পরীক্ষায় আবারও একই পরীক্ষক ফেল করালেন, সেনেটের অনুরোধে পুনর্মূল্যায়ন হল, তাতেও পাশ করালেন না। তখন অধ্যক্ষ ডঃ কোটস তাঁর উপর ন্যস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে কাদম্বিনীকে ‘গ্র্যাজুয়েট অব দ্য মেডিক্যাল কলেজ অব বেঙ্গল’ উপাধি (ডিপ্লোমা বলা হয়েছে কয়েক জায়গায়) দিলেন । কাদম্বিনী ডাক্তারি প্র্যাকটিস করার পূর্ণ অধিকার পেলেন।

তিনি ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়াতে পাশ্চাত্য শিক্ষাপ্রাপ্ত প্রথম দুজন মহিলা চিকিৎসকের একজন। অন্যজন ডাঃ আনন্দী গোপাল যোশী,উইমেন'স মেডিক্যাল কলেজ অব পেনসিলভ্যানিয়া থেকে তিনি  ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১১ই মার্চ এমডি ডিগ্রী লাভ করেন। (ডিগ্রী লাভের পর কোলাপুর রাজ্যের কিং অ্যালবার্ট এডওয়ার্ড হাসপাতালে যোগ দেবার জন্য আমন্ত্রণ পেলে আনন্দী দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পরে অসুস্থ অবস্থায়  বোম্বাই ফিরে এসে হাসপাতালে কাজে যোগদান করেন। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই পুনরায় অসুস্থ হয়ে কিং অ্যালবার্ট এডওয়ার্ড হাসপাতালে ভর্তি হলেন। কিন্তু কালাপানি পেরিয়ে আসা জাতিচ্যুত আনন্দীকে তাঁর সহকর্মী এবং অন্যন্য চিকিৎসকেরা চিকিৎসা করতে অস্বীকার করেন। প্রায় বিনা চিকিৎসায় ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দের ২৬ শে ফেব্রুয়ারী রাত দশটায় আনন্দীবাঈয়ের মৃত্যু হয়)। 

মেডিকেল কলেজে ঢোকার এগারো দিন আগে(১২ই জানুয়ারী ,১৮৮৩) কাদম্বিনী তাঁর শিক্ষক,বিখ্যাত সমাজসংস্কারক ও মানবদরদী সাংবাদিক,‌বিপত্নীক ,উনচল্লিশ বছর বয়ষ্ক,তিন সন্তানের পিতা  দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীকে বিবাহ করেন। দ্বারকানাথ নিজে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি, কিন্তু তিনিই বাংলার নারী-শিক্ষার জন্যে বিশেষ করে তাদের উচ্চশিক্ষা এবং জ্ঞানার্জনে নারী-পুরুষের সমাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন।তাঁর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ও দৃঢ় অবস্থানের জন্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম প্রবেশিকা পরীক্ষা দেবার ও প্রথম ডাক্তার হবার সুযোগ মেলে কাদম্বিনীর, অন্য নারীদের-ও উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয় তখনই। যেহেতু সেই সময় বিয়ের পরে মেয়েরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারতেন না, অনেক নিকটজন এমন কি অনেক ব্রাহ্ম নেতাও এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। হিতৈষীরা ভেবেছিলেন, কাদম্বিনীর মত অসাধারণ মেধাবী ও দৃঢ়চেতা নারীর পড়াশোনা এখানেই শেষ হবে যেমন হয়েছিল দুর্গামোহনের দুই কন্যা, সরলা ও অবলা দাশের। রাগ করে এই বিয়েতে তাই ঘনিষ্ঠ বন্ধু শিবনাথ শাস্ত্রী পর্যন্ত আসেননি।

এই বিবাহ উপলক্ষে “Rayes and Ryot,”পত্রিকার সম্পাদক শম্ভুচন্দ্র মুখোপাধ্যায় লেখেন, “A famous girl of the period Miss Kadambini has, for a being (sic?) of light and leading who was to revolutionize our society by her example suddenly married (sic?) to-beneath hear-it is said, but that is her affair and of the disappointed lovers. We can appreciate better the opposition of her friends to the match-an opposition which had nearly caused another schism in the continually divided Brahmo community।

সবচেয়ে মজার কথা এই যে,শম্ভুচরণই আবার নববধূর রূপের প্রশংসা করে একটি সনেট লেখেন,যার প্রথম কয়েকটি পংক্তি এই রকম-
“She was phantom of
delight
When first she gleaned upon my sight,
A lovely apparition sent
To be a moment’s ornament
Her eyes as stare of
Twilight fair .”

পন্ডিত রামকুমার বিদ্যারত্নের পৌরোহিত্যে সম্পন্ন এই বিবাহ অনুষ্ঠানে বহু ভারতীয় ও ইয়োরোপীয় অতিথি এসেছিলেন। ইতিহাস সাক্ষী দেবে, প্রেম,নির্ভরতা ও পারষ্পরিক সম্মানবোধের ভিত্তিতে এই দম্পতির জীবন পরিপূর্ণ,সার্থক ও কল্যাণময় হয়ে উঠেছিল। কাদম্বিনীর  সংগ্রাম ও প্রতিষ্ঠালাভের জন্য তাঁর নিজস্ব যোগ্যতা, দৃঢ়তা, পরিশ্রম, মেধা ও ক্ষমতার সঙ্গে স্বামীর অকুন্ঠ সহযোগিতারও অত্যন্ত মূল্যবান ভূমিকা ছিল ।

মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করার পর,সমাজের বিভিন্ন অং‍‌শের মহিলাদের চিকিৎসা করার সুযোগ পাবেন মনে করে তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস শুরু করেন। Bengalee পত্রিকায় তাঁর প্রথম বিজ্ঞাপনটি ছিল এইরকম-

“Mrs. Ganguly B, A, (45/5 Beniatola Lane, College Square, North East Comer, Calcutta).
Having studied in the Medical College for five years and obtained a college diploma to practice MEDICINE, SURGERY AND MIDWIFERY has commenced practice and treats WOMEN AND CHILDREN.
Consultation free for poor patients at her home between 2 and 3 daily.”


তিন বছরের মধ্যেই তিনি ঠিকানা পরিবর্তন করেন, পরের বিজ্ঞাপন ছিল -

Mrs. Ganguly B.A. GMBC Medical Practitioner Can be consulted at her residence 57, Sukia Street, Calcutta, where she has nowremoved, terms moderate.


কেবলমাত্র মহিলা রোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত ডাফরিন হাসপাতালে কাদম্বিনী ৩০০টাকা মাসিক বেতনে যোগ দেন। ডাফরিন হাসপাতালে কাজ পেতে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল অনেক সাহায্য করেছিলেন। তিনি 1888 সালে বন্ধু Mary Scharlieb কে লেখেন “Mrs. Gangooly is, I believe, a woman of high caste and cultivation and it would be great encouragement to the Hindoo ladies to embrace medicine, if she was appointed.(Women in SouthAsia Published on the Occasion of One Hundred and Fifty Years of Bethune School Bethune Praktani Samlty, Calcutta, 2001. P. 133.)

একজন বাঙালী নারী, যিনি নিজের সাহস ও আত্মবিশ্বাসের বলে ঊনবিংশ শতাব্দীর রক্ষণশীলতা ও গোঁড়ামীর বাধা ভেঙে ডাক্তার হয়ে উঠতে পেরেছিলেন,তাঁকে ফ্লোরেন্স জানিয়েছিলেন অকুন্ঠ সম্মান।

কিন্তু এখানেও তিনি জাতি-বৈষম্যের শিকার হলেন। মেমসাহেব ডাক্তাররা কাদম্বিনীকে রোগীদের সরাসরি চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে ,অন্যধরনের কাজ করিয়ে নিত।

অন্যদিকে, গোঁড়া হিন্দুরা তাঁর ডাক্তার হওয়াটাকে মোটেই ভালো চোখে দেখে নি,সমাজছাড়া জীব হিসেবে তাঁকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা-মস্করা ,এমনকি চরিত্রহনন শুরু হয়। তখনকার ‘বঙ্গবাসী’ নামে সাময়িক পত্রিকার ডাকসাইটে সম্পাদক মহেশচন্দ্র পাল একটি কার্টুন(বারবণিতা ডাঃ কাদম্বিনী স্বামী দ্বারকানাথের নাক ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন) ছেপে কাদম্বিনীকে ‘স্বৈরিণী’র সঙ্গে তুলনা করেন, কারণ কাদম্বিনীর নাকি সংসারের দিকে মন নেই, সন্তানদের মা হওয়া সত্ত্বেও তিনি নাকি মাতৃধর্ম পালন করছেন না, চিকিৎসা সমাজসেবা, স্বদেশী,সভাসমিতি করে বেড়াচ্ছেন। দ্বারকানাথ অবিলম্বে পত্রিকা অফিসে হাজির হয়ে সম্পাদককে কার্টুনটি জল দিয়ে গিলে খেতে বাধ্য করেন ও আদালতে মামলা করেন। সম্পাদকের ১০০টাকা জরিমানা আর ৬ মাসের জেল হয়।বলা বাহুল্য সেই সময় এই ধরনের মামলা করাটা মোটেই সহ‍‌জ ছিল না। কিন্তু বিষাক্ত বাউন্সারের সেই শুরু, দাম্পত্যজীবনের পিচে উল্টোদিকের ব্যাটসম্যান সহযোগী হলেও স্বামীর প্রথম পক্ষের তিন সন্তান এবং বিধবা ননদকে সামলে ডাক্তারি পড়তে চাওয়া কিম্বা বিদেশ যাওয়া সহজসাধ্য ছিল না কোনটাই। কিন্তু প্রতিটি সংকট মুহূর্তে সহযোদ্ধা হয়েছিলেন তাঁর স্বামী। কাদম্বিনীর জীবনে দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রভাব সুগভীর ও সুবিস্তৃত - একাধারে তাঁর শিক্ষক ও জীবনসঙ্গী দ্বারকানাথ নিজের জীবনবোধ ও আদর্শের নিরিখে গড়ে তুলেছিলেন কাদম্বিনীকে। স্বেচ্ছায় সংসারের দায়িত্ব সামলেছিলেন,পাশে শোয়ানো রয়েছে সদ্যোজাত সন্তান , লন্ঠনের আলোয় পড়ে চলেছে মেয়েটি, রান্নাঘরে বিধবা অগ্রজার জন্য নিরামিষ ব্যঞ্জন তৈরী করছেন মেয়েটির স্বামী,এ ছিল দৈনন্দিন চিত্র । তাঁরা দুর্গম পথে প্রেমের নিশান উড়িয়েছিলেন,দুঃসহতম কাজকে ভয় পান নি। সে সময়ে মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণের বিরুদ্ধে যে-সকল অযৌক্তিক যুক্তি খাড়া করা হত, এই দম্পতি তার বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন,তা চিরকালীন।

এত কিছুর পরেও কিন্তু লোকের মন থেকে তাঁর দক্ষতার ব্যাপারে ভুল ধারণা ভাঙা যাচ্ছিল না। কাদম্বিনী বুঝতে পারেন, বিলিতি ডিগ্রি নাহলে এই বাধা বা দ্বিধা দূর করা যাবে না। দ্বারকানাথের অসাধারণ উৎসাহ, প্রেরণা ও সহায়তায় এক বছর বয়সের কনিষ্ঠ পুত্রসহ পাঁচটি ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে স্বামী এবং সৎ কন্যা বিধুমুখীর তত্ত্বাবধানে রেখে এক রবিবা্রের সন্ধ্যায় (২৬ শে ফেব্রুয়ারী,১৮৯৩) তারিখে কাদম্বিনী জাহাজে বিলেত যাত্রা করেন।

নারায়ণ দত্তর লেখা “কাদম্বিনী ও তাঁর বিলিতি ডিগ্রি”(দেশ,১৪ই মার্চ,১৯৮৭) প্রবন্ধ অনুযায়ী ঐ সময় আমেরিকা আবিষ্কারের ৪০০ বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে শিকাগোতে এক বিশাল শিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন হচ্ছিল। কাদম্বিনী জাহাজের ভাড়া জোগাড় করার জন্য এই সুযোগ কাজে লাগান। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি নানা শিল্পদ্রব্য(ত্রিপুরার হস্তশিল্প,আসামের মেখলা,ঘাগরা,শাল ইত্যাদি, কাত্যায়নী বিশ্বাস নাম্নী এক মহিলার হাতের কাজ করা কাঁথা,সোনার জরি বসানো শাড়ি,কাজ করা রুমাল,কলকাতার বাঁশের তৈরী নানা জিনিস ,হাতের কাজ করা শাড়ি ইত্যাদি) সমগ্রহ করেন ও লন্ডনে ইংল্যান্ডের রাজপরিবারের কাছে জমা করেন,শিকাগো পাঠানোর উদ্দেশ্যে । বামাবোধিনী পত্রিকায় লেখা হয়েছিল,রাজপরিবারের মহিলারা এই শিল্পদ্রব্যগুলি দেখে খুবই প্রশংসা করেন ও শিকাগো পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

লন্ডন পৌঁছনোর কুড়ি দিনের মধ্যে কাদম্বিনী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরত্তির জন্য আবেদনপত্র জমা দেন ও তাঁর অস্থায়ী ঠিকানা 35,Blackfield road,Mydavelle,London থেকে ক্লাশ করা শুরু করেন। তিনি পরতেন শাড়ি, ফুলহাতা ব্লাউজ, স্কার্টব্লাউজ‍‌, নয়। সেই সময় বিলেতের বুকে বিলিতি পোশাককে অগ্রাহ্য করে ভারতীয় পোশা‍‌কে ক্লাস করাটা কত কঠিন ছিল, সেটা আজ হয়তো বোঝা সম্ভব নয়।

অল্প সময়ের মধ্যে তিনি তিনটি উপাধি লাভ করেন, Licentiate of the College of Physicians, Edinburg (LRCP), Licentiate of the College of Surgeons, Glasgow (LRCS), and Licentiate of the Faculty of Physicians and Surgeons, Dublin (LFPS).

নাতনী পুণ্যলতা লিখেছেন বিদেশ প্রত্যাগত কাদম্বিনীকে নিয়ে পারিবারিক উৎসবের কথা,শিশুপুত্রটি কাছে আসছে না দেখে কাদম্বিনীর মন খারাপের কথাও।

এখন তিনি হলেন বিলিতি ডিগ্রিধারী প্রথম ভারতীয় পেশাদার মহিলা ডাক্তার । ডাফরিন হাসপাতালে এবার তিনি পেলেন সিনিয়র ডাক্তারের পদ,এক বছরের মধ্যে পান ইডেন ফিমেল হাসপাতালে ডক্টর ইন চার্জের পদ কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর নিজস্ব প্রাকটিস এত জমে ওঠে যে তিনি হাসপাতালের কাজ ছেড়ে দেন ।তখন দেশি মহিলা ডাক্তারের অসম্ভব প্রয়োজন ছিল , তাই, দেশে ফেরার পর কাদম্বিনীকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তাঁর খ্যাতির জন্য তিনি ১৮৯৫ সালে সুদূর নেপাল থেকে ডাক পান রাজমাতার চিকিৎসার জন্য। দীর্ঘ দিন নেপালের রাজপরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল তাঁর,পেয়েছিলেন প্রচুর উপহার -দুটো মস্ত হাতির দাঁত, দু’কুইন্টাল ওজনের রুপোর বাসন (রাজপরিবারে খেতে দেওয়ার পর বাসন ফেরত নেওয়ার নিয়ম ছিল না), একটা টাট্টু ঘোড়া,রায় ও গাঙ্গুলী পরিবারের বাচ্চারা মহানন্দে তার পিঠে চড়ত আর দেড় বছরের ছেলে প্রভাতচন্দ্রের জন্য রাজপোশাকের খুদে সংস্করণ ইত্যাদি। কিন্তু এও শোনা যায়, যশ ও খ্যাতির শিখরে থাকা কাদম্বিনী ও তাঁর ধাত্রী নগেন্দ্রবালাকে কলকাতার কোন বনেদী ঘরে জটিল প্রসব করানোর পর বারান্দায় , কলাপাতায় খেতে দেওয়া হয়,বলা হয় “দাইরা” যেন খেয়ে উঠে পাতা তুলে ফেলে দেয়,দাসীরা ওতে হাত দেবে না।

ডাক্তারির পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজে ও রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দিতেও দেখা গেছে তাঁকে সারা জীবন। তিনি কখনো ভুলে যাননি সমাজের প্রতি, দেশের প্রতি তাঁর দায়িত্বের কথা।

১৮৮৫ সালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বারকানাথ কংগ্রেসে নারীদের প্রতিনিধিত্বের দাবি তোলেন, ফলে কাদম্বিনীর নেতৃত্বে ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ৬ জন নারী কংগ্রেসের বোম্বাই অধিবেশনে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের অগ্রজা স্বর্ণকুমারী দেবী ও তাঁর কন্যা সরলা দেবী চৌধুরাণী ছিলেন। পরের বছর অর্থাৎ ১৮৯০ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের অধিবেশনে কাদম্বিনী ইংরাজীতে ধন্যবাদ (Vote of Thanks) দেন। কাদম্বিনী-ই কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রথম কোনো নারী বক্তা। মাতৃভাষার মতো স্বচ্ছন্দে ও নিখুঁত উচ্চারণে প্রদত্ত তাঁর বক্তব্য সকলের মনে দাগ কেটেছিল। রাজনীতি ও নারী আন্দোলনের নেত্রী আনি বেসান্তের মতে, ‘The first woman who spoke from the Congress  platform, is a symbol that India’s freedom would uplift India’s womanhood.’

১৯০৬ সালে কলকাতায় মহিলাদের কনফারেন্সের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। তখনকার দক্ষিণ আফ্রিকার ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ছিলো প্রবল জাতিবিদ্বেষী। সেখানকার ট্রান্সভালের কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানাতে কলকাতায় সভার আয়োজনের প্রধান হোতা ছিলেন কাদম্বিনী। শুধু তাই নয়, গান্ধীজীর সহকর্মী হেনরি পোলক প্রতিষ্ঠিত ট্রান্সভাল ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সাহায্যের জন্যে কলকাতায় যে সভার আয়োজন করা হয় সেই সভার সংগঠক ও প্রথম সভাপতি ছিলেন তিনি। ১৯১৪ সালে গান্ধীজীর কলকাতায় আসা উপলক্ষে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের যে সভা হয় সেই সভায় সভা পরিচালনা করেন কাদম্বিনীই।

সেই সময় আসামের চা-বাগানগুলিতে বাগিচা-শ্রমিকদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালাতো ইংরেজ বাগান-মালিকরা। দ্বারকানাথ আসামের চা বাগানের শ্রমিকদের কাজে লাগানোর পদ্ধতির তীব্র নিন্দা করেছিলেন-স্বামীর সঙ্গে কাদম্বিনীও এই ব্যাপারে প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন। ভারতের বিভিন্ন খনিতে কর্মরত নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যহানি ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে এই বিষয়ে কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করার জন্যে পরামর্শ দেন এই দম্পতি।  ইউরোপীয় মালিকদের অত্যাচারের খবর দ্বারকানাথের প্রতিষ্ঠিত এবং সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা সঞ্জীবনীতে প্রকাশিত হয় এবং এর ফলে গণসচেতনতার মাধ্যমে এক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ১৯২২ সালে সরকার বিহার ও ওড়িশার খনিগুলিতে কর্মরত মহিলা শ্রমিকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি নিয়োগ করে। এই কমিটির সদস্যা হিসেবে কাদম্বিনী মহিলা শ্রমিকদের দুর্দশা সরেজমিনে তদন্ত করে দেখার জন্যে বিহার ও ওড়িশায় যান।

 শোনা যায়, দ্বারকানাথ-কাদম্বিনীর ছয় নম্বর গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাড়িটির ছাদে রবীন্দ্রনাথ মাঘোৎসবের গান শেখাতে আসতেন, গান গলায় তুলে নিতে আসতেন যে যুবকরা তাঁদের মধ্যে ছিলেন নরেন্দ্র দত্ত, বেহালা হাতে বসতেন উপেন্দ্রকিশোর। এক দিকে ঠাকুর বাড়ি, যার সদস্যদের মধ্যে সরলা ছিলেন কাদম্বিনীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু,কংগ্রেসের ও নারীকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে প্রায়-ই দেখাশোনা হত দুজনের। সেই সময়ের দুই বিখ্যাত পরিবারের, রায় পরিবার ও গাঙ্গুলী পরিবারের মধ্যে গড়ে ওঠা বহু কালের সখ্য,উপেন্দ্রকিশোর ও দ্বারকানাথের প্রথম পক্ষের কন্যা বিধুমুখীর বিবাহ আরও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার বন্ধন রচনা করে। এর পর কি হ’ল তা লীলা মজুমদার এইভাবে বলেছেন – “উপেন্দ্রকিশোর ব্রাহ্মকন্যাকে বিয়ে করেছেন এবং নিজেও ব্রাহ্মমতে দীক্ষা নিয়েছেন শুনে সারদারঞ্জন খুবই রুষ্ট হয়ে বলেছিলেন, ‘ওর বাড়ি থেকে একটুকরো কাগজও যেন কখনো এ বাড়িতে না আসে।” সে সময়ে সমাজ-রাজনীতি-সংস্কৃতিতে যাঁরা অগ্রগণ্য, তাঁদের সকলেরই পরিচিতি ছিল কাদম্বিনীর পরিবারের সঙ্গে ।

তাঁর নাতনী পুণ্যলতা চক্রবর্তীর লেখায় পাওয়া যায় এক ঘরোয়া কাদম্বিনীকে- “একদিকে খুব সাহসী আর তেজস্বিনী অন্যদিকে ভারী আমুদে মানুষ…মাতৃভাষার মত অনর্গল ইংরেজি বলতে পারতেন। তখনকার সবচেয়ে আধুনিক ফ্যাশনের শাড়ি, জামা, জুতো পড়ে স্বচ্ছন্দে চলাফেরা ও কাজকর্ম করতেন… একটুও সময় তিনি নষ্ট করতেন না।…যখন যেখানে বসতেন হাসি গল্পে একেবারে মাতিয়ে তুলতেন।”

লীলা মজুমদার “উপেন্দ্রকিশোর” বইতে লিখেছেন,”সাজসজ্জাতেও কাদম্বিনী ছিলেন তখনকার আধুনিকা। তখনকার মহিলারা কৃত্রিম কিছু ব্যবহার করতেন না কিন্তু ভারতের ভিক্টোরীয় যুগের এই আধুনিকা মহিলার চালচলন সাজসজ্জাতে ভারি একটা সম্ভ্রান্ত রুচির সঙ্গে গাম্ভীর্যের মিষ্রণ ছিল।অনেকটা পারসি মেয়েদের মত করে কাপড় পরে বাঁ কাঁধে সোনার সেফটিপিন লাগাতেন।মাথায় তিনকোনা ভেল পরতেন,দুটি খুদে খুদে ব্রুচ দিয়ে আটকে,কনুই পর্যন্ত লম্বা জামার হাত থেকে চার ইঞ্চি চওড়া লেসের ঝালর ঝুলত,পায়ে থাকত কালো মোজা আর ছোট্ট একটুখানি গোড়ালি তোলা বন্ধ জুতো।উপেন্দ্রকিশোরের পরিবারের ওপর তাঁর যে একটা গভীর প্রভাব থাকবে ,এ ত বলাই বাহুল্য।” তিনিই ১৯২০ সালে লেখেন,” তাঁর (কাদম্বিনীর) জীবনটাই এক আশ্চর্য ব্যাপার। আমি যে সময়ের কথা বলছি তার অনেক আগেই তিনি বিধবা হয়েছিলেন। বয়সে জ্যাঠাইমার (উপেন্দ্রকিশোরের স্ত্রী,দ্বারকানাথের প্রথম পক্ষের কন্যা বিধুমুখী) চাইতে সামান্য বড় ছিলেন। দেখে মনে হত অনেক ছোট। মস্ত দশাসই চেহারা,ফুটফুট করত গায়ের রং,থান পরে এবং এত বয়সেও রূপ চাপা পড়ত না তবে কেমন একটু কড়া ধরণের ভাব। আমরা দূর থেকে দেখতাম,তিনিও কাছে ডাকতেন না।”

১৮৯৮ সালের ২৭শে জুন মৃত্যু হয় দ্বারকানাথের,সেই বেথুন স্কুলে পড়ার সময় থেকে যিনি প্রতি মুহূর্ত্তে কাদম্বিনীর পাশে থেকে যুদ্ধ করেছেন,পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছেন,প্রয়োজনমত দশভুজা স্ত্রীর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন,তিনি কাদম্বিনীকে একা রেখে অনন্তের পথে যাত্রা করলেন। এই মহাবিচ্ছেদের পরেও প্রায় চব্বিশ বছর কাদম্বিনী তার বিপুল কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রাখেন। আটটি( কেউ বলেছেন ন’টি ) ছেলেমেয়েকে কৃতী মানুষ করে তোলেন, তাদের বিয়ে দেন, নাতি-নাতনি নিয়ে সংসার করেন পুরোমাত্রায়।

মৃত্যুর দিন সকালেও তিনি একটা অপারেশন করেছিলেন। বাড়ি ফিরে পুত্রবধূকে বলেছিলেন, সেদিন কাজ খুব ভাল হয়েছে, “আমার আজ উড়তে ইচ্ছে করছে ।” স্নান করতে গিয়ে সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়, মারা যান ডাক্তার আসার আগেই। হাতব্যাগে পাওয়া গিয়েছিল সে দিনের ফি ৫০ টাকা।



বিখ্যাত আমেরিকান ইতিহাসবিদ ডেভিড কফ লিখেছেন, "Ganguli's wife, Kadambini, was appropriately enough the most accomplished and liberated Brahmo woman of her time. ---- Her ability to rise above circumstances and to realize her potential as a human being made her a prize attraction to Sadharan Brahmos dedicated ideologically to the liberation of Bengal's women."(David Kopf  History at Minnesota. Regents of the University of Minnesota) ।

বাংলার প্রথম মহিলা ডাক্তার কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের উপর নতুন নতুন আলোকপাত হবে, সেটাই প্রত্যাশিত। কয়েকটি বইয়ের নাম-মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডক্টরাল গবেষণার ফসল, কাদম্বিনী গাঙ্গুলী: দি আর্কিটাইপাল উওম্যান অব নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি বেঙ্গল (দ্য উইমেন প্রেস)। তৎকালীন খবরের কাগজ, সরকারি বিজ্ঞপ্তি, চিঠিপত্র ইত্যাদির ভিত্তিতে কাদম্বিনীকে তাঁর সমকালীন সমাজের প্রেক্ষিতে দেখার চেষ্টা করেছেন লেখিকা। একটি তথ্য খুব কৌতুহল জাগায়-১৮৮০ র দশকে কাদম্বিনীকে কেন্দ্র করে মেয়েদের ডাক্তারি পড়ার যোগ্যতা নিয়ে বিশাল আলোড়ন হল , অথচ ১৮৭১ সালের সালতামামিতে কলকাতায় ২৯০ জন মহিলা কবিরাজ আর ২১৫ জন মহিলা হাকিমের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। তা হলে কি পর্দা থেকে বেরোনর ব্যাপারটাই বেশি আপত্তির ছিল? নারায়ণ দত্ত কাদম্বিনী ও দ্বারকানাথকে নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করছেন,তাঁর লেখাকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন গবেষকরা। ঝড়ের মেয়ে কাদম্বিনী (সূত্রধর, ৬০.০০) বইটি কিশোর-কিশোরীদের জন্য লেখা-কাদম্বিনীর একটি সংক্ষিপ্ত, সহজ জীবনী ।তাঁর “অবলাবান্ধব-দ্বারকানাথ ও কাদম্বিনী “ প্রকাশিত হয় ১৯৮০ সালে,অমৃত পত্রিকায়। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় মূল্যবান তথ্য দিয়েছেন মালবিকা কার্লেকর- বিশেষ উল্লেখযোগ্য Voices from Within: Early Personal Narratives of Bengali Women (Women's Studies) 1991 by Oxford University Press, USA

কালজয়ী কাদম্বিনী  (পারুল প্রকাশনী) বইটি লিখেছেন সুনীতা বন্দ্যোপাধ্যায়,Kadambini Ganguly-Portrait of a doctor at dawn লিখেছেন সোমা বসু (রূপালী)। বরুণ চট্টোপাধ্যায় এবং প্রবুদ্ধ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন পাঁচশো পাতার বই দায়বদ্ধ দাম্পত্য: কাদম্বিনী ও দ্বারকানাথ (ছাপাখানা)। এই বইটিতে বিদেশের পত্র-পত্রিকা, নথিপত্র থেকে কাদম্বিনীর চিকিৎসক-জীবন এবং দ্বারকানাথের সমাজ আন্দোলনের জীবন বিষয়ে নানা তথ্য আহরণ করা হয়েছে,আছে অদেখা কিছু ছবিও । এই দম্পতি যে দেশ-বিদেশের মানুষকে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলেছিলেন, তার নিদর্শন পাওয়া যায় বইটিতে।বহু মূল্যবান তথ্যসমৃদ্ধ বই -চিত্রা দেব, মহিলা ডাক্তার: ভিন গ্রহের বাসিন্দা, (কলকাতা: আনন্দ পাবলিশার্স, ১৯৯৪)।

নান্দীকার গোষ্ঠী মঞ্চস্থ করেছেন একটি নাটক “রাণী কাদম্বিনী”।

কাদম্বিনীকে কোন ছাঁচেই ঠিকঠাক ফেলা যায় না,তিনি স্নেহময়ী মাতৃমূর্তি নন, বিদ্রোহিনী নন, সন্ন্যাসিনীও নন -আবার এই সবই। তাঁর ছবিটা এই রকম - ফিটন চেপে এক মহিলা যাচ্ছেন শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, রোগী দেখতে। হাতে কুরুশ-কাঠি, অপূর্ব সূক্ষ্ম কাজের লেস বুনছেন যাতায়াতের সময়টুকুতে , বিধবা বড় ননদের জন্য হিন্দু মতে রান্না করছেন, পূত্রবধূকে লিখছেন, ‘কাল বিকালেও রাঁধুনি আইসে নাই। আজও ক্যাঁও ক্যাঁও করিয়াছে শরীর ভাল না। কাল আসিবে কি না জানি না।’ আবার বিহার, ওড়িশায় খনিমজুর মেয়েরা কেমন আছেন, তা সরেজমিনে দেখে রিপোর্ট দিচ্ছেন সরকারকে।

এমন মেয়েকে ঠাহর করা বা মাপা সহজ নয়। তাঁর সময়ে কাদম্বিনীকে নিয়ে অজস্র লেখালেখি হয়েছিল- পড়াশোনা, চাকরি খোঁজা, বিলেতযাত্রা, সব কিছুর খুঁটিনাটি বেরিয়েছিল কাগজে কাগজে। কাদম্বিনীর মধ্যেই উনবিংশ শতাব্দীর দেশ ও সমাজ প্রথম প্রত্যক্ষ করেছিল সেই মেয়েকে, যার কাছে ঘরের কাজ আর বাইরের কাজে কোনও বিরোধ নেই, পেশার জগতে সে প্রতিযোগিতা করে নিজের জায়গা তৈরি করে, ডাফরিন হাসপাতালের জন্য ২৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করে, সভা-সমিতিতে বক্তৃতা দেয়, আবার নিঁখুত ভাবে সংসার ধর্ম পালন করে, ছেলেমেয়েদের জামায় নিজের হাতে সূঁচসুতো দিয়ে শিল্পসৃষ্টি করেন।

মালবিকা কার্লেকর লিখছেন, ঘর-বাহির সমান ভাবে সামলানোর যে চেষ্টা কাদম্বিনী করেছিলেন তখনকার বাঙালি সমাজে সেটা সমাদর পায়নি। ‘যা প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছিল তা হল, তিনি এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করেছেন যেখানে এই দুয়ের স্বার্থে সংঘাত হতে পারে। আর ঠিক এই সংঘাতের ধারণাটাই বাঙালি সমাজের অধিকাংশ মানুষ এড়িয়ে চলতে চাইতেন।’

পরম পরিতাপের বিষয়,এত মূল্যবান ও ব্যতিক্রমী একটি জীবন সম্বন্ধে যা জানা যায় তা খুবই অল্প। ইন্টারনেটে এই মহিয়সী নারীর একটিই ছবি পাওয়া গেল,তাঁর স্বামীরও তাই,অথচ তিনি রবীন্দ্রনাথের সমসাময়িক। নীলরতন সরকার বঙ্গবন্ধু পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলায় সহায়তা করেন,এইটুকু জানা যায়,কিন্তু প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও কাদম্বিনীর কি সংযোগ হয়েছিল ?১৮৯৩ সালে কাদম্বিনী বিদেশ যাত্রা করেন,সেই সময় রবীন্দ্রনাথ গল্পগুচ্ছের গল্পগুলি লিখছেন,শিলাইদহে যাচ্ছেন, প্রকাশিত হয়েছে চিত্রাঙ্গদা। সংকটে,সম্পদে অবিচলিত এই নারী,অনেক বন্ধদ্বার যিনি খুলে দিয়েছেন ,তাঁর কথা কি রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন কোথাও ?

কাদম্বিনী অনেক উজ্জ্বল মশাল জ্বেলেছিলেন,নতুন পথ দেখিয়েছিলেন।

তাঁকে যেন আমরা ভুলে না যাই।



1396 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 31 -- 50
Avatar: i

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

কুমুদিদি,
পাকদন্ডীর কথা আমি তো তুলি নাই।

যে কথা বলতে এলাম-
স্বাতী ভট্টাচার্যর একটি প্রবন্ধে ( প্রকাশের দিন ক্ষণ মনে নেই, ২০১০ হ'তে পারে) বরুণ চট্টোপাধ্যায় ও প্রবুদ্ধ চট্টোপাধ্যায়ের ‘কাদম্বিনী ও দ্বারকানাথঃ দায়বদ্ধ দাম্পত্য’ বইটির উল্লেখ ছিল-তখন প্রকাশিতব্য। কুমুদিদির লেখায় জানলাম, বইটি প্রকাশিত। ঐ লেখাটিতেই মালবিকা কার্লেকারের বক্তব্যও পড়ি, আবার রাঁধুনী আইসে নাই -প্রসঙ্গও। আর ছিল, 'মৃত্যুর দিন সকালেও তিনি একটা অপারেশন করেছিলেন। বাড়ি ফিরে পুত্রবধূকে বলেছিলেন, সেদিন কাজ খুব ভাল হয়েছে, “আমার আজ উড়তে ইচ্ছে করছে ।” স্নান করতে গিয়ে সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়, মারা যান ডাক্তার আসার আগেই। হাতব্যাগে পাওয়া গিয়েছিল সে দিনের ফি ৫০ টাকা।'
মৃতুদিনের এত ডিটেইল্স এর মূল সূত্র জানতে ইচ্ছে হয়। স্বাতী ভট্টাচার্যের লেখায়, তথ্যসূত্র হিসেবে শুধুই বরুণ ও প্রবুদ্ধ চট্টোপাধ্যায়ের প্রকাশিতব্য বইটির কথাছিল-যতদূর মনে পড়ে। আর মৃত্যুদিনের লাইনগুলি ,যতদূর মনে পড়ছে, এই প্রবন্ধে আর স্বাতী ভট্টাচার্যের প্রবন্ধে হুবহু এক। সেজন্য মনে হচ্ছে- ‘কাদম্বিনী ও দ্বারকানাথঃ দায়বদ্ধ দাম্পত্য’ ই হয়তো মূল সূত্র।
স্বাতীর লেখা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের চিঠি টি দিয়েই শুরু হয়েছিল-সেজন্যই হয়ত মনে পড়ে গেল আরো।

আর বলতে এলাম, সমসাময়িক আর একজন মহিলার কথা সম্প্রতি পড়লাম-ডক্টর হৈমবতী সেন।
Avatar: অর্জুন অভিষেক

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী


@Kumu-দি, লীলা মজুমদারের এই তথ্যটি ভুল। কাদম্বিনী (বসু) গঙ্গোপাধ্যায় বালবিধবা ছিলেন না। লীলা মজুমদারের 'পাকদণ্ডী' তে এইরকম দু- একটি তথ্য ভুল আছে যেমন লীলাবতী ভার্গবকে উনি উত্তরপ্রদেশীয় বলে উল্লেখ করেছেন যিনি আসলে মরাঠী।

@i ‘কাদম্বিনী ও দ্বারকানাথঃ দায়বদ্ধ দাম্পত্য’ প্রবন্ধটি'র সন্ধানের জন্যে ধন্যবাদ। কাদম্বিনী সম্পর্কে আরেকটি বইয়ে ডিটেল আছে।

চিত্রা দেব'র 'মহিলা ডাক্তারঃ ভিন গ্রহের বাসিন্দা' । বইটি ওয়েল রিসার্চড ও মূল্যবান।




Avatar: i

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

কুমুদিদির মানে জয়ন্তী অধিকারীর মূল লেখাতেই কাদম্বিনী ও দ্বারকানাথঃ দায়বদ্ধ দাম্পত্য বইটির কথা আছে। আমি সন্ধান দিই নি তো। আমার প্রশ্ন আলাদা।
Avatar: দ

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

@অর্জুন - কুমুর লেখাতেই কুমুর বয়ানেই আছে তো "উপেন্দ্রকিশোরের পরিবারের ওপর তাঁর যে একটা গভীর প্রভাব থাকবে ,এ ত বলাই বাহুল্য।" তারপর আনুষঙ্গিক বাকী তথ্য। অর্থাৎ কুমু এই প্রভাবের কথা বলেইছে।
এক্ষেত্রে আপনি কুমুর লেখার রেফারেন্স না দিয়ে এমনভাবে লিখেছেন যেন অতিরিক্ত তথ্য জানাচ্ছেন, কুমুর কাদম্বিনী ও বিধুমুখী সংক্রান্ত বক্তব্যের সাথে একমত হচ্ছেন না। বা সেটাকে ধর্তব্যেই আনছেন না।

চিত্রা দেবের 'মহিলা ডাক্তার ভিন গ্রহের বাসিন্দা' বইটাও এই লেখাতেই রেফারেন্স হিসেবে দেওয়া আছে। '------ দায়বদ্ধ দাম্পত্য' বইটার কথা ছোট আই দেখিয়েই দিয়েছেন।
Avatar: দ

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

আচ্ছা যেটা বলতে এলাম। উপরে স্বাতী ভট্টাচার্য্যের রেফ দেখে (ছোট আই-এর পোস্ট) স্বাতী ভট্টাচার্য্যের লেখা আমার খুব পছন্দের হওয়ায় গুগল করতে খুব সহজেই পেলাম লেখাটি। ২০১২ সালে রবিবাসরীয়-তে প্রকাশিত। তো এই লেখাটা পড়তে গিয়ে একেবারে আমূল চমকে গেলাম। হঠাৎ পড়লে মনে হচ্ছে কি অদ্ভুত মিল দুটো লেখার মধ্যে।

জয়ন্তী অধিকারি'র লেখাটিতে অবশ্যই অনেক বেশী তথ্য আছে, আছে স্বাতী ভট্টাচার্য্য উল্লেখিত বইটি ছাড়াও আরো বেশ কিছু বইয়ের উল্লেখ। কিন্তু বহু জায়গায় বাক্যগঠন, ব্র্যাকেটের ব্যবহার, দুই একটা শব্দ এদিক ওদিক -- দেখে মনে হচ্ছে স্বাতী ভট্টাচার্য্যই যেন ২০১৯ এ লিখতে গিয়ে ২০১২র লেখাটিকে পরিবর্ধন ও কিছু পরিমার্জন করেছেন। স্বাতী ভট্টাচার্য্য যখন ২০১২র ১২ই ফেব্রুয়ারী লেখাটি লিখেছেন, তখনও 'কাদম্বিনী ও দ্বারকানাথ - দায়বদ্ধ দাম্পত্য' বইটি প্রকাশিত হয় নি, উনি এটিকেই একমাত্র রেফারেন্স হিসেবে রেখেছেন।

তো, আমার কৌতুহল হচ্ছে এই মিল কি ঐ দায়বদ্ব দাম্পত্য বইটির থেকে মূল রেফারেন্স নেবার কারণেই? এই গুরু লেখাটিতে যে মিল দেখছি সেটিতে কোন কোটেশান মার্ক দেখছি না। আবার জয়ন্তী স্বাতী ভট্টাচার্য্যের লেখাটি নিজের রেফারেন্সে উল্লেখও করেন নি।

আমি নীচে কতগুলো মিলের জায়গা কপি করে দিচ্ছি। জয়ন্তী/কুমু কি একটু জানাবেন এগুলো ঐ বইটি থেকেই নেওয়া কিনা? বা অন্য কোন পাঠক/পাঠিকার কাছে যদি থাকে বইটি, তাহলে একটু দেখে বলবেন প্লীজ?

===========================================

Jayanti A
এই কথাগুলো ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল স্বয়ং তাঁর এক ভারতীয় বন্ধুকে চিঠিতে লিখেছিলেন ,সুদূর বিদেশ থেকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আজীবন কর্মরত প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসাবে যাঁকে ভাবা হয়,সেই কাদম্বিনী গাঙ্গুলী দেশে বিদেশে কতখানি আলোড়ন তুলেছিলেন , এই চিঠিটি থেকে তার একটা ধারণা পাওয়া যায়। তাঁর মুকুটে রয়েছে অনেকবার “প্রথম” হওয়ার গৌরব,যেমন-

Swati B
কথাগুলো লিখেছিলেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, সেই বিলেতে বসে, তাঁর এক ভারতীয় বন্ধুর প্রতি চিঠিতে। কলকাতার মেয়ে কাদম্বিনী যে কতখানি আলোড়ন ফেলেছিলেন দেশ-বিদেশে, এ থেকে তার একটা আন্দাজ পাওয়া যায়।

Jayanti A
মৃত্যুর দিন সকালেও তিনি একটা অপারেশন করেছিলেন। বাড়ি ফিরে পুত্রবধূকে বলেছিলেন, সেদিন কাজ খুব ভাল হয়েছে, “আমার আজ উড়তে ইচ্ছে করছে ।” স্নান করতে গিয়ে সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়, মারা যান ডাক্তার আসার আগেই। হাতব্যাগে পাওয়া গিয়েছিল সে দিনের ফি ৫০ টাকা।

Swati B
মৃত্যুর দিন সকালেও একটা অপারেশন করেছিলেন। বাড়ি ফিরে পুত্রবধূকে বলেছিলেন, সেদিন কাজ খুব ভাল হয়েছে। ‘আমার আজ উড়তে ইচ্ছে করছে,’ বলেছিলেন তিনি। স্নান করতে গিয়ে সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়, মারা যান ডাক্তার আসার আগেই। হাতব্যাগে পাওয়া গিয়েছিল সে দিনের ফি ৫০ টাকা।

Jayanti A
কাদম্বিনীকে কোন ছাঁচেই ঠিকঠাক ফেলা যায় না,তিনি স্নেহময়ী মাতৃমূর্তি নন, বিদ্রোহিনী নন, সন্ন্যাসিনীও নন -আবার এই সবই। তাঁর ছবিটা এই রকম - ফিটন চেপে এক মহিলা যাচ্ছেন শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, রোগী দেখতে। হাতে কুরুশ-কাঠি, অপূর্ব সূক্ষ্ম কাজের লেস বুনছেন যাতায়াতের সময়টুকুতে , বিধবা বড় ননদের জন্য হিন্দু মতে রান্না করছেন, পূত্রবধূকে লিখছেন, ‘কাল বিকালেও রাঁধুনি আইসে নাই। আজও ক্যাঁও ক্যাঁও করিয়াছে শরীর ভাল না। কাল আসিবে কি না জানি না।’ আবার বিহার, ওড়িশায় খনিমজুর মেয়েরা কেমন আছেন, তা সরেজমিনে দেখে রিপোর্ট দিচ্ছেন সরকারকে।

তাঁর সময়ে কাদম্বিনীকে নিয়ে অজস্র লেখালেখি হয়েছিল- পড়াশোনা, চাকরি খোঁজা, বিলেতযাত্রা, সব কিছুর খুঁটিনাটি বেরিয়েছিল কাগজে কাগজে। কাদম্বিনীর মধ্যেই উনবিংশ শতাব্দীর দেশ ও সমাজ প্রথম প্রত্যক্ষ করেছিল সেই মেয়েকে, যার কাছে ঘরের কাজ আর বাইরের কাজে কোনও বিরোধ নেই, পেশার জগতে সে প্রতিযোগিতা করে নিজের জায়গা তৈরি করে, ডাফরিন হাসপাতালের জন্য ২৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করে, সভা-সমিতিতে বক্তৃতা দেয়, আবার নিঁখুত ভাবে সংসার ধর্ম পালন করে, ছেলেমেয়েদের জামায় নিজের হাতে সূঁচসুতো দিয়ে শিল্পসৃষ্টি করেন।

Swati B

তিনি স্নেহময়ী মাতৃমূর্তি নন, আত্মত্যাগী সন্ন্যাসিনীও নন। সশস্ত্র বিপ্লব করেননি, অনশন-অরন্ধন করেননি, আবার বনেদি জমিদার গিন্নির ইমেজও তাঁর নয়। তাঁর ছবিটা এই রকম টাট্টুঘোড়ায় টানা ফিটন চেপে এক মহিলা যাচ্ছেন শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, রোগী দেখতে। হাতে কুরুশ-কাঠি, অপূর্ব লেস বুনছেন রাস্তায়। বিধবা বড় ননদের জন্য হিন্দু মতে রান্না করছেন, আবার বিহার, ওড়িশায় খনিমজুর মেয়েরা কেমন আছেন, তা সরেজমিনে দেখে রিপোর্ট দিয়েছেন সরকারকে। এমন মেয়েকে ঠাহর করা সহজ নয়। `

তাঁর সময়ে কাদম্বিনীকে নিয়ে কাগজে কাগজে অজস্র লেখালেখি হয়েছে। পড়াশোনা, চাকরি খোঁজা, বিলেতযাত্রা, সব কিছুর খুঁটিনাটি বেরিয়েছে কাগজে কাগজে। তবু মানুষটি ঠিক ‘পপুলার’ ছিলেন বলে মনে হয় না। তাঁকে ঘিরে বারবার বিতর্ক হয়েছে মেয়েরা কী করতে পারে, কী পারে না, কী করা উচিত, কী নয় এ সব ধারণাই তাঁর জন্য নতুন করে ঢেলে সাজতে হয়েছে। কিন্তু তবু তিনি ঠিক কারও রোল মডেল হয়ে ওঠেননি। তাঁর মতো একটা চরিত্রকে মাঝখানে রেখে কেউ নাটক-নভেল লেখেনি, এমনকী নারী আন্দোলনের ইতিহাসেও তাঁর কথা তেমন ভাবে আসে না। বোধ হয় তার কারণ এই যে, কাদম্বিনীর মধ্যেই তাঁর সময় প্রথম দেখেছিল সেই মেয়ে, যার কাছে ঘরের কাজ আর বাইরের কাজে কোনও বিরোধ নেই। পেশার জগতে সে প্রতিযোগিতা করে নিজের জায়গা তৈরি করে, গাঁধীর আন্দোলনের জন্য টাকা তোলে, ডাফরিন হাসপাতালের জন্য ২৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করে, সভা-সমিতিতে বক্তৃতা দেয়, আবার পুত্রবধূকে চিঠি লেখে, ‘কাল বিকালেও রাঁধুনি আইসে নাই। আজও ক্যাঁও ক্যাঁও করিয়াছে শরীর ভাল না। কাল আসিবে কি না জানি না।’


Jayanti A
তখন দেশি মহিলা ডাক্তারের অসম্ভব প্রয়োজন ছিল , তাই, দেশে ফেরার পর কাদম্বিনীকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তাঁর খ্যাতির জন্য তিনি ১৮৯৫ সালে সুদূর নেপাল থেকে ডাক পান রাজমাতার চিকিৎসার জন্য। দীর্ঘ দিন নেপালের রাজপরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল তাঁর,পেয়েছিলেন প্রচুর উপহার -দুটো মস্ত হাতির দাঁত, দু’কুইন্টাল ওজনের রুপোর বাসন (রাজপরিবারে খেতে দেওয়ার পর বাসন ফেরত নেওয়ার lxনিয়ম ছিল না), একটা টাট্টু ঘোড়া,রায় ও গাঙ্গুলী পরিবারের বাচ্চারা মহানন্দে তার পিঠে চড়ত আর দেড় বছরের ছেলে প্রভাতচন্দ্রের জন্য রাজপোশাকের খুদে সংস্করণ ইত্যাদি।

Swati B

পড়াশোনা বা চাকরিতে যত বৈষম্যই থাকুক মেয়েদের প্রতি, নেটিভদের প্রতি, বাজারে তখন দেশি মহিলা ডাক্তারের দারুণ চাহিদা। এমন ছড়িয়েছিল তাঁর খ্যাতি যে নেপাল থেকে ডাক এল রাজমাতার চিকিৎসার জন্য। তাঁকে সারিয়ে কেবল মোটা ফি পেয়েছিলেন তাই নয়, পেয়েছিলেন দু’কুইন্টাল ওজনের রুপোর বাসন (রাজপরিবার থেকে খেতে দেওয়ার পর বাসন ফেরত নেওয়ার নিয়ম ছিল না), দুটো মস্ত হাতির দাঁত, একটা টাট্টু ঘোড়া, আর দেড় বছরের ছেলের জন্য রাজপোশাকের খুদে সংস্করণ।

Jayanti A
শোনা যায়, দ্বারকানাথ-কাদম্বিনীর ছয় নম্বর গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাড়িটির ছাদে রবীন্দ্রনাথ মাঘোৎসবের গান শেখাতে আসতেন, গান গলায় তুলে নিতে আসতেন যে যুবকরা তাঁদের মধ্যে ছিলেন নরেন্দ্র দত্ত, বেহালা হাতে বসতেন উপেন্দ্রকিশোর। এক দিকে ঠাকুর বাড়ি, যার সদস্যদের মধ্যে সরলা ছিলেন কাদম্বিনীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু,কংগ্রেসের ও নারীকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে প্রায়-ই দেখাশোনা হত দুজনের। সেই সময়ের দুই বিখ্যাত পরিবারের, রায় পরিবার ও গাঙ্গুলী পরিবারের মধ্যে গড়ে ওঠা বহু কালের সখ্য,উপেন্দ্রকিশোর ও দ্বারকানাথের প্রথম পক্ষের কন্যা বিধুমুখীর বিবাহ আরও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার বন্ধন রচনা করে।

Swati B
শোনা যায়, দ্বারকানাথ-কাদম্বিনীর ছয় নম্বর গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাড়িটির ছাদে রবীন্দ্রনাথ মাঘোৎসবের গান শেখাতে আসতেন, গান গলায় তুলে নিতে আসতেন যে যুবকরা তাঁদের মধ্যে ছিলেন নরেন্দ্র দত্ত, বেহালা হাতে বসতেন উপেন্দ্রকিশোর। এক দিকে ঠাকুর বাড়ি, যার সদস্যদের মধ্যে সরলা ছিলেন কাদম্বিনীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অন্য দিকে রায়চৌধুরী পরিবার, উপেন্দ্রকিশোরের স্ত্রী বিধুমুখী কাদম্বিনীর সৎকন্যা। সে সময়ে সমাজ-রাজনীতি-সংস্কৃতিতে যাঁরা অগ্রগণ্য, তাঁদের সকলেরই পরিচিতি ছিল কাদম্বিনীর পরিবারের সঙ্গে তিনি আলোকপ্রাপ্ত ব্রাহ্মিকাদের এক জন।


ধন্যবাদান্তে
দময়ন্তী
Avatar: দ

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

আচ্ছা যেটা বলতে এলাম। উপরে স্বাতী ভট্টাচার্য্যের রেফ দেখে (ছোট আই-এর পোস্ট) স্বাতী ভট্টাচার্য্যের লেখা আমার খুব পছন্দের হওয়ায় গুগল করতে খুব সহজেই পেলাম লেখাটি। ২০১২ সালে রবিবাসরীয়-তে প্রকাশিত। তো এই লেখাটা পড়তে গিয়ে একেবারে আমূল চমকে গেলাম। হঠাৎ পড়লে মনে হচ্ছে কি অদ্ভুত মিল দুটো লেখার মধ্যে।

জয়ন্তী অধিকারি'র লেখাটিতে অবশ্যই অনেক বেশী তথ্য আছে, আছে স্বাতী ভট্টাচার্য্য উল্লেখিত বইটি ছাড়াও আরো বেশ কিছু বইয়ের উল্লেখ। কিন্তু বহু জায়গায় বাক্যগঠন, ব্র্যাকেটের ব্যবহার, দুই একটা শব্দ এদিক ওদিক -- দেখে মনে হচ্ছে স্বাতী ভট্টাচার্য্যই যেন ২০১৯ এ লিখতে গিয়ে ২০১২র লেখাটিকে পরিবর্ধন ও কিছু পরিমার্জন করেছেন। স্বাতী ভট্টাচার্য্য যখন ২০১২র ১২ই ফেব্রুয়ারী লেখাটি লিখেছেন, তখনও 'কাদম্বিনী ও দ্বারকানাথ - দায়বদ্ধ দাম্পত্য' বইটি প্রকাশিত হয় নি, উনি এটিকেই একমাত্র রেফারেন্স হিসেবে রেখেছেন।

তো, আমার কৌতুহল হচ্ছে এই মিল কি ঐ দায়বদ্ব দাম্পত্য বইটির থেকে মূল রেফারেন্স নেবার কারণেই? এই গুরু লেখাটিতে যে মিল দেখছি সেটিতে কোন কোটেশান মার্ক দেখছি না। আবার জয়ন্তী স্বাতী ভট্টাচার্য্যের লেখাটি নিজের রেফারেন্সে উল্লেখও করেন নি।

আমি নীচে কতগুলো মিলের জায়গা কপি করে দিচ্ছি। জয়ন্তী/কুমু কি একটু জানাবেন এগুলো ঐ বইটি থেকেই নেওয়া কিনা? বা অন্য কোন পাঠক/পাঠিকার কাছে যদি থাকে বইটি, তাহলে একটু দেখে বলবেন প্লীজ?

===========================================

Jayanti A
এই কথাগুলো ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল স্বয়ং তাঁর এক ভারতীয় বন্ধুকে চিঠিতে লিখেছিলেন ,সুদূর বিদেশ থেকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আজীবন কর্মরত প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসাবে যাঁকে ভাবা হয়,সেই কাদম্বিনী গাঙ্গুলী দেশে বিদেশে কতখানি আলোড়ন তুলেছিলেন , এই চিঠিটি থেকে তার একটা ধারণা পাওয়া যায়। তাঁর মুকুটে রয়েছে অনেকবার “প্রথম” হওয়ার গৌরব,যেমন-

Swati B
কথাগুলো লিখেছিলেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, সেই বিলেতে বসে, তাঁর এক ভারতীয় বন্ধুর প্রতি চিঠিতে। কলকাতার মেয়ে কাদম্বিনী যে কতখানি আলোড়ন ফেলেছিলেন দেশ-বিদেশে, এ থেকে তার একটা আন্দাজ পাওয়া যায়।

Jayanti A
মৃত্যুর দিন সকালেও তিনি একটা অপারেশন করেছিলেন। বাড়ি ফিরে পুত্রবধূকে বলেছিলেন, সেদিন কাজ খুব ভাল হয়েছে, “আমার আজ উড়তে ইচ্ছে করছে ।” স্নান করতে গিয়ে সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়, মারা যান ডাক্তার আসার আগেই। হাতব্যাগে পাওয়া গিয়েছিল সে দিনের ফি ৫০ টাকা।

Swati B
মৃত্যুর দিন সকালেও একটা অপারেশন করেছিলেন। বাড়ি ফিরে পুত্রবধূকে বলেছিলেন, সেদিন কাজ খুব ভাল হয়েছে। ‘আমার আজ উড়তে ইচ্ছে করছে,’ বলেছিলেন তিনি। স্নান করতে গিয়ে সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়, মারা যান ডাক্তার আসার আগেই। হাতব্যাগে পাওয়া গিয়েছিল সে দিনের ফি ৫০ টাকা।

Jayanti A
কাদম্বিনীকে কোন ছাঁচেই ঠিকঠাক ফেলা যায় না,তিনি স্নেহময়ী মাতৃমূর্তি নন, বিদ্রোহিনী নন, সন্ন্যাসিনীও নন -আবার এই সবই। তাঁর ছবিটা এই রকম - ফিটন চেপে এক মহিলা যাচ্ছেন শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, রোগী দেখতে। হাতে কুরুশ-কাঠি, অপূর্ব সূক্ষ্ম কাজের লেস বুনছেন যাতায়াতের সময়টুকুতে , বিধবা বড় ননদের জন্য হিন্দু মতে রান্না করছেন, পূত্রবধূকে লিখছেন, ‘কাল বিকালেও রাঁধুনি আইসে নাই। আজও ক্যাঁও ক্যাঁও করিয়াছে শরীর ভাল না। কাল আসিবে কি না জানি না।’ আবার বিহার, ওড়িশায় খনিমজুর মেয়েরা কেমন আছেন, তা সরেজমিনে দেখে রিপোর্ট দিচ্ছেন সরকারকে।

তাঁর সময়ে কাদম্বিনীকে নিয়ে অজস্র লেখালেখি হয়েছিল- পড়াশোনা, চাকরি খোঁজা, বিলেতযাত্রা, সব কিছুর খুঁটিনাটি বেরিয়েছিল কাগজে কাগজে। কাদম্বিনীর মধ্যেই উনবিংশ শতাব্দীর দেশ ও সমাজ প্রথম প্রত্যক্ষ করেছিল সেই মেয়েকে, যার কাছে ঘরের কাজ আর বাইরের কাজে কোনও বিরোধ নেই, পেশার জগতে সে প্রতিযোগিতা করে নিজের জায়গা তৈরি করে, ডাফরিন হাসপাতালের জন্য ২৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করে, সভা-সমিতিতে বক্তৃতা দেয়, আবার নিঁখুত ভাবে সংসার ধর্ম পালন করে, ছেলেমেয়েদের জামায় নিজের হাতে সূঁচসুতো দিয়ে শিল্পসৃষ্টি করেন।

Swati B

তিনি স্নেহময়ী মাতৃমূর্তি নন, আত্মত্যাগী সন্ন্যাসিনীও নন। সশস্ত্র বিপ্লব করেননি, অনশন-অরন্ধন করেননি, আবার বনেদি জমিদার গিন্নির ইমেজও তাঁর নয়। তাঁর ছবিটা এই রকম টাট্টুঘোড়ায় টানা ফিটন চেপে এক মহিলা যাচ্ছেন শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, রোগী দেখতে। হাতে কুরুশ-কাঠি, অপূর্ব লেস বুনছেন রাস্তায়। বিধবা বড় ননদের জন্য হিন্দু মতে রান্না করছেন, আবার বিহার, ওড়িশায় খনিমজুর মেয়েরা কেমন আছেন, তা সরেজমিনে দেখে রিপোর্ট দিয়েছেন সরকারকে। এমন মেয়েকে ঠাহর করা সহজ নয়। `

তাঁর সময়ে কাদম্বিনীকে নিয়ে কাগজে কাগজে অজস্র লেখালেখি হয়েছে। পড়াশোনা, চাকরি খোঁজা, বিলেতযাত্রা, সব কিছুর খুঁটিনাটি বেরিয়েছে কাগজে কাগজে। তবু মানুষটি ঠিক ‘পপুলার’ ছিলেন বলে মনে হয় না। তাঁকে ঘিরে বারবার বিতর্ক হয়েছে মেয়েরা কী করতে পারে, কী পারে না, কী করা উচিত, কী নয় এ সব ধারণাই তাঁর জন্য নতুন করে ঢেলে সাজতে হয়েছে। কিন্তু তবু তিনি ঠিক কারও রোল মডেল হয়ে ওঠেননি। তাঁর মতো একটা চরিত্রকে মাঝখানে রেখে কেউ নাটক-নভেল লেখেনি, এমনকী নারী আন্দোলনের ইতিহাসেও তাঁর কথা তেমন ভাবে আসে না। বোধ হয় তার কারণ এই যে, কাদম্বিনীর মধ্যেই তাঁর সময় প্রথম দেখেছিল সেই মেয়ে, যার কাছে ঘরের কাজ আর বাইরের কাজে কোনও বিরোধ নেই। পেশার জগতে সে প্রতিযোগিতা করে নিজের জায়গা তৈরি করে, গাঁধীর আন্দোলনের জন্য টাকা তোলে, ডাফরিন হাসপাতালের জন্য ২৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করে, সভা-সমিতিতে বক্তৃতা দেয়, আবার পুত্রবধূকে চিঠি লেখে, ‘কাল বিকালেও রাঁধুনি আইসে নাই। আজও ক্যাঁও ক্যাঁও করিয়াছে শরীর ভাল না। কাল আসিবে কি না জানি না।’


Jayanti A
তখন দেশি মহিলা ডাক্তারের অসম্ভব প্রয়োজন ছিল , তাই, দেশে ফেরার পর কাদম্বিনীকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তাঁর খ্যাতির জন্য তিনি ১৮৯৫ সালে সুদূর নেপাল থেকে ডাক পান রাজমাতার চিকিৎসার জন্য। দীর্ঘ দিন নেপালের রাজপরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল তাঁর,পেয়েছিলেন প্রচুর উপহার -দুটো মস্ত হাতির দাঁত, দু’কুইন্টাল ওজনের রুপোর বাসন (রাজপরিবারে খেতে দেওয়ার পর বাসন ফেরত নেওয়ার lxনিয়ম ছিল না), একটা টাট্টু ঘোড়া,রায় ও গাঙ্গুলী পরিবারের বাচ্চারা মহানন্দে তার পিঠে চড়ত আর দেড় বছরের ছেলে প্রভাতচন্দ্রের জন্য রাজপোশাকের খুদে সংস্করণ ইত্যাদি।

Swati B

পড়াশোনা বা চাকরিতে যত বৈষম্যই থাকুক মেয়েদের প্রতি, নেটিভদের প্রতি, বাজারে তখন দেশি মহিলা ডাক্তারের দারুণ চাহিদা। এমন ছড়িয়েছিল তাঁর খ্যাতি যে নেপাল থেকে ডাক এল রাজমাতার চিকিৎসার জন্য। তাঁকে সারিয়ে কেবল মোটা ফি পেয়েছিলেন তাই নয়, পেয়েছিলেন দু’কুইন্টাল ওজনের রুপোর বাসন (রাজপরিবার থেকে খেতে দেওয়ার পর বাসন ফেরত নেওয়ার নিয়ম ছিল না), দুটো মস্ত হাতির দাঁত, একটা টাট্টু ঘোড়া, আর দেড় বছরের ছেলের জন্য রাজপোশাকের খুদে সংস্করণ।

Jayanti A
শোনা যায়, দ্বারকানাথ-কাদম্বিনীর ছয় নম্বর গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাড়িটির ছাদে রবীন্দ্রনাথ মাঘোৎসবের গান শেখাতে আসতেন, গান গলায় তুলে নিতে আসতেন যে যুবকরা তাঁদের মধ্যে ছিলেন নরেন্দ্র দত্ত, বেহালা হাতে বসতেন উপেন্দ্রকিশোর। এক দিকে ঠাকুর বাড়ি, যার সদস্যদের মধ্যে সরলা ছিলেন কাদম্বিনীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু,কংগ্রেসের ও নারীকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে প্রায়-ই দেখাশোনা হত দুজনের। সেই সময়ের দুই বিখ্যাত পরিবারের, রায় পরিবার ও গাঙ্গুলী পরিবারের মধ্যে গড়ে ওঠা বহু কালের সখ্য,উপেন্দ্রকিশোর ও দ্বারকানাথের প্রথম পক্ষের কন্যা বিধুমুখীর বিবাহ আরও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার বন্ধন রচনা করে।

Swati B
শোনা যায়, দ্বারকানাথ-কাদম্বিনীর ছয় নম্বর গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাড়িটির ছাদে রবীন্দ্রনাথ মাঘোৎসবের গান শেখাতে আসতেন, গান গলায় তুলে নিতে আসতেন যে যুবকরা তাঁদের মধ্যে ছিলেন নরেন্দ্র দত্ত, বেহালা হাতে বসতেন উপেন্দ্রকিশোর। এক দিকে ঠাকুর বাড়ি, যার সদস্যদের মধ্যে সরলা ছিলেন কাদম্বিনীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অন্য দিকে রায়চৌধুরী পরিবার, উপেন্দ্রকিশোরের স্ত্রী বিধুমুখী কাদম্বিনীর সৎকন্যা। সে সময়ে সমাজ-রাজনীতি-সংস্কৃতিতে যাঁরা অগ্রগণ্য, তাঁদের সকলেরই পরিচিতি ছিল কাদম্বিনীর পরিবারের সঙ্গে তিনি আলোকপ্রাপ্ত ব্রাহ্মিকাদের এক জন।

============================================
স্বাতী ভট্টাচার্য্যের লেখাটির লিঙ্ক

http://archives.anandabazar.com/archive/1120211/12rabipro.html

ধন্যবাদান্তে
দময়ন্তী
Avatar: Ishan

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

লেখিকা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ তথ্যসূত্র লেখায় দেওয়া হয়নি। সেটি আমাকে পাঠিয়েছেনও। লেখায় সংযোজন হিসেবে তুলে দেব। এখানেও দিলাম।

Quotation of Fluorence Nightingale
1.1. English version - Fluorence Nightingale on Social Changes in India,Collected works of Fluorence Nightingale Vol 10,Gerard Vallee,Wilfrid Laurier,Univ Press,6th December,2007.
1.2. Bengali version-Anandabazar Patrika,Rabibasariya,DR GANGULY,Swati Bhattacharyya,12 February,2012.Internet sources.
The Rays Before Satyajit-Creativity and Modernity in Colonial India, Chandak Sengoopta,Oxford University Press.
Anandabazar Patrika,Rabibasariya,DR GANGULY,Swati Bhattacharyya,12 February,2012.
Kadambini Ganguly,the first female graduate and doctor in India,Sumit Kumar Ganguly,Internet.
Kadambini Ganguly -a woman of substance ,Times of India,18th July,2011.
Doctors Kadambini Ganguly and MuthuLaxmi Reddy- Shodhganga Website.
Malavika Karlekar-Various articles.
Narayan Dutta,Abalabandhav Dwarakanath o Kadambini,Amrita,12 Oct,1979.
Punyalata Chakrabarty -Chelebelar dinguli and others.
Lila Majumdar Pakdandi and others.
Kadambini Ganguly-first woman lady practitioner Samsad Bangla Charitabhidhan,Sahitya Samsad.
Sen,B.K., (2014),Kadambini Ganguly -an illustrious lady, ,Science and Culture,Vol 80, 271-274.
Amrith R Rao,Orner Karim,Hanif G Motiwala,(2007),The life and work of Dr Kadambini Ganguly ,the first modern Indian Woman physician- Journal of Urology,Vol 177, 354.
A New Image of Health-Kadambini Ganguly,The Telegraph,27 May,2007.
Kadambini Basu theke Dr Ganguly -Soma Mukhopadhyay,Internet.
N Saritawaler kache khola chithi ,Swasther Britte,Feb- March,2015 .
17.Malavika Karlekar (1986),Kadambini and the Bhadralok: Early Debates over Women's Education in Bengal,Economic and Political Weekly, 21, No. 17 , WS25-WS31.
18. Pratham bangali mahila daktar-ek adamya jibaner kahini -R p mandal,Priyalekha website.


19.Sen, B.K. (2014),Niscair online peridicals repository, Female Graduate of British Empire – Kadambini Ganguly,NISCAIR-CSIR, India,53-55.
One hundred and fifty years of Bethune School,Bethune Praktani Samity,Calcutta ,2001,P 133.
Pustak parichay, Anandabazar Patrika,14 April,2012.
Mahila Daktar,vingraher basinda -Chitra Deb,Ananda Publishers.

Avatar: de

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

মিলগুলো অস্বস্তিকর, প্লেগিয়ারিজম নিয়ে বহুকথা বলার জায়গায় ও দিনে আরো’ই খারাপ লাগে এগুলো দেখলে।
Avatar: kumu

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

প্লেগিয়ারিজম কথাটি ব্যবহার করার আগ দুটি প্রবন্ধ মিলিয় পড় নিল ভাল হত।
Avatar: খ

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

বেশ কিছু দিন আগের এই ওরিজিনাল প্রবন্ধর সঙ্গে এসে থাকলে , তথ্য সূত্র পঞ্জী ছাপা হবে নাই বা কেন, এটা যদি ক‍্যাজুয়াল ল‍্যাদজনিত হয়ে থাকে, বেশ খারাপ হয়েছে।
Avatar: Ishan

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

না। বেশ কিছুদিন আগে বা প্রবন্ধের সঙ্গে আসেনি।
Avatar: দ

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

আচ্ছা থ্যাঙ্কু ঈশান! রেফারেন্সগুলো দেখলাম।

পরিবর্ধিত রেফারেন্স লিস্টে স্বাতী ভট্টাচার্য্যের প্রবন্ধের উল্লেখ আছে দেখছি। সেক্ষেত্রেও শুধু রেফারেন্স উল্লেখ করলেই সমস্যা মিটছে না বলেই আমার মনে হচ্ছে। মিলগুলো এত বেশী জায়গা জুড়ে যে হয় প্রবন্ধটিতে উপযুক্ত কোটেশান মার্ক যোগ করা দরকার নয়ত গোটা প্রবন্ধটিই পুনর্লিখন দরকার বলে আমার মনে হচ্ছে।

আমার অস্বস্তি জানালাম। এবার কর্তৃপক্ষ ও লেখিকা দেখুন। আমার তরফে আর কিছু বলার নেই।
Avatar: অনিকেত পথিক

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

যে রচনা মূলতঃ তথ্যভিত্তিক তার তথ্য কোনো না কোনো জায়গা থেকেই নেওয়া হয়। অনেক সময়ই এমন হয় যে একই জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে একাধিক লেখক লেখেন, তাঁদের লেখায় তাই অনেক মিল পাওয়া যায়। তাই যে রচনা মৌলিক নয়, তথ্যনির্ভর তার ক্ষেত্রে এক কথায় প্লেগিয়ারিজ্‌মের অভিযোগ আমার ঠিক বলে মনে হয় না। বেশ কিছুদিন আগে লীলা মজুমদারের (চারু মজুমদারের সহধর্মিণী) ওপর মৌসুমী ভৌমিকের বই বিষয়েও আমি এই কথা বলেছি। কিন্তু দুটি লেখায় যদি ভাষায় ও উপস্থাপনায় লাইন বাই লাইন মিল পাওয়া যায়, তা তথ্য বিষয়ক হলেও, তা নিয়ে নকল করার অভিযোগ ওঠাও স্বাভাবিক।

কুমুদির এই লেখা পড়ে আমিও স্বাতী-র লেখার সঙ্গে মিল পেয়েছিলাম, ইন্দ্রানীও তখনই এই মিলের কথা লিখেছিলেন। আমার ধারণা ছিল স্বাতী ও কুমুদি একই জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে এতটা মিল পাওয়া গেছে। কিন্তু আজ যখন কুমুদির দেওয়া তথ্যসূত্রে স্বাতীর প্রবন্ধটাও রয়েছে দেখলাম, তার মানে প্রবন্ধটা কুমুদিও পড়েছেন, সে ক্ষেত্রে একটু সচেতন ভাবে ভাষা ও উপস্থাপনায় কিছুটা পরিবর্তন বজায় রাখা কুমুদির মত লেখকের কাছে প্রত্যাশিত ছিল। কারণ তথ্যসূত্রে উল্লেখ করে দেওয়া থাকলেই যে দুটি প্রকাশিত লেখায় যে কোনো মিল মেনে নেওয়া যায় তাও তো নয়।

যাই হোক এই বিষয়ে কুমুদি নিজে একটু আলোকপাত করলে ভালো হয়।
Avatar: T

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

এটা আশা করা যায় না। দমদির পোস্ট থেকে দেখা যাচ্ছে প্রচুর জায়গায় হুবহু মিল পাওয়া যাচ্ছে। শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে গিয়ে এরকম দায়সারা কাজ কল্লে ব্যাপারটা খুবই খারাপ দেখায়। সম্পাদকের সেরম কিশু করার নেই জানি কারণ হাজার হাজার প্রবন্ধের মধ্যে থেকে কোন ফাঁকে কে যে কী টুকে দিচ্চে এ বোঝা হেবি চাপ, তবু ভবিষ্যতে এ বিষয়ে জনতা সতর্ক থাগবে এই আশা করি।
Avatar: jayanti

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

দ র অভিযোগের উত্তর

১।আমার লেখাটি ডঃ কাদম্বিনী গাঙ্গুলির জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে লেখা একটি প্রবন্ধ,কোন কল্পিত গল্প বা উপন্যাস নয়।খুব স্বাভাবিকভাবেই এটি লেখার জন্য বিভিন্ন বই,প্রবন্ধ ইত্যাদি থেকে তথ্য নিতে হয়েচে। আর একটি কথা- সমসাময়িক অন্য মানুষ যথা রবীন্দ্রনাথ ,প্রফুল্লচন্দ্র ইত্যাদির তুলনায় এক্ষেত্রে তথ্য খুব কম। আমার প্রবন্ধে আমি কাদম্বিনীর জন্ম থেকে শুরু করে শিক্ষালাভ,বিবাহ,বিদেশ যাত্রা,চিকিৎসক জীবন,সমাজসেবা ও ব্যক্তিজীবনকে পর্যায়্ক্রমে ও বিশদে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি,যাতে পাঠক তাঁর জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি পান।স্বাতীর লেখায় কাদম্বিনীর জীবন কাহিনী আছে কিন্তু বিশদ বর্ণনা নেই।তাঁর নিজস্ব মন্তব্যই লেখাটির বেশির ভাগ জুড়ে আছে।দুটি লেখার মধ্যে এটিই মূল পার্থক্য।তা ছাড়া কাদম্বিনী “ কেনই বা নারী-স্বাধীনতার রোল মডেল হয়ে ওঠেননি তিনি?” এই প্রশ্নে্র উত্তর খুঁজেছেন স্বাতী,আমার লেখায় এই বিষয়টি নেই।

২।আমার লেখটির শব্দসংখ্যা ৪৫৪০ ।দ র কথা অনুযায়ী এর মধ্যে ৪২০ টি শব্দের "বাক্যগঠন,ব্রাকেটের ব্যবহার,দুইএকটি শব্দ এদিক ওদিক " দেখে মনে হয় স্বাতী যেন সাতবছর পর লিখতে গিয়ে ২০১২ এর লেখাটি পরিবর্ধন ও কিছু পরিমার্জন করেছেন (এই অভিযোগের উত্তর পরে দিচ্ছি)।
সহজ অংক বলছে লেখাটির প্রায় ৯০% "পরিবর্ধিত "অংশ।

৩।দ র অভিযোগের উত্তর

৩।১ প্রথম প্যারা
এই কথাগুলো ইত্যাদি---
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের উক্তি দিয়ে যে কেউ লেখা শুরু করতে পারে।আশা করি তাতে দ্বিমত নেই।
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের মত কিংবদন্তীর লেখা কয়েকটি পংক্তি উদ্ধৃত করার পর যে কোন লেখকই এই কথাগুলো ই লিখবেন।(আলোড়ন,দেশেবিদ্শে এইদুটির বদলে অন্য শব্দ ব্যবহার করলেই কি অভিযোগ থাকত না?) আমার লেখায় এর পর অনেকবার প্রথম হওয়ার একটি তালিকা আছে,যেটি এই প্রবন্ধের অন্যতম হাইলাইট।স্বাতী এগিয়েছেন অন্যভাবে,প্রথমেই সংক্ষিপ্ত জীবনী বলে নিয়েছেন।

৩।২ মৃত্যু

কাদম্বিনীর মৃত্যু সম্বন্ধে ঠিক এই চারটি তথ্য আমিও পেয়েছি।(আনন্দবাজার ১৫/৭/১৭ একলা চলো রে,Marxist Indiana,,Rays before Satyajit,Chitra deb etc.).। শেষদিনে অপারেশন, উড়তে ইচ্ছে হওয়া,স্নান করতে গিয়ে সেরিব্রাল স্ট্রোক,হাতব্যাগে পঞ্চাশ টাকা-এই চারটি তথ্য ক্রমান্বয়ে সাজিয়ে লেখার গতি বজায় রেখে লিখলে এক ধরণেরই হবে।কেউ লিখেছেন ঐ পঞ্চাশ টাকা দিয়েই শেষকৃত্য হয়, বা ডাক্তার ডাকার প্রসঙ্গ-এগুলো আমার বাহুল্য মনে হয়েছে।তাও -
মৃত্যুর দিন সকালেও তিনি একটা অপারেশন করেছিলেন। বাড়ি ফিরে পুত্রবধূকে বলেছিলেন, সেদিন কাজ খুব ভাল হয়েছে, “আমার আজ উড়তে ইচ্ছে করছে ।” স্নান করতে গিয়ে সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়, মারা যান ডাক্তার আসার আগেই। হাতব্যাগে পাওয়া গিয়েছিল সে দিনের ফি ৫০ টাকা।
এই অংশতে কোটেশন মার্ক দিয়ে ব্রাকেটে স্বাতী ভট্টাচার্যের নাম দিতে অ্যাডমিনকে অনুরোধ করি।
৩।৩ দুটি লেখার মধ্যে পার্থক্য আছে ।তিনি স্নেহময়ী মাতৃমূর্তি নন, বিদ্রোহিনী নন, সন্ন্যাসিনীও নন -আবার এই সবই- এটি স্বাতী বলেন নি।আবারও বলি ,দুটি প্রবন্ধ একই মানুষকে নিয়ে লেখা ,তথ্য সীমিত।সুতরাং ব্যাক্তিগত জীবন সাম আপের সময় একই তথ্য আসবে,যেমন,কুরুশ বোনা,বিধবা বড় ননদের জন্য হিন্দু মতে রান্না , পূত্রবধূকে , ‘কাল বিকালেও রাঁধুনি আইসে নাই " বিহার, ওড়িশায় খনিমজুর মেয়েদের প্রসঙ্গ ইত্যাদি।।
৩।৪।নেপালের রাজপরিবারের উপহার -দুটো মস্ত হাতির দাঁত, দু’কুইন্টাল ওজনের রুপোর বাসন ,ঘোড়া,রাজবেশ ।এই তালিকা Rays before Satyajit,Malavika Karlkar- Ganguly,Kadambini এবং স্বাতীর লেখায় এক রকম পেয়েছি ও সেটিই রেখেছি।

৩।৫এই প্যারাটি র জন্য স্বাতীর লেখা ও "নারী প্রগতির পথিকৃৎ-দ্বারকানাথ ও কাদম্বিনী,জাগরণী”র সাহায্য নেওয়া হয়েছে।ঘটনা,পাত্রপাত্রী,সময় সব এক,এবং তথ্যের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে হবে,সুতরাং দুটি লেখায় মিল থাকবে।উপেন্দ্রকিশোরের হাতে গিটার দেওয়া সম্ভব না।তাও-
শোনা যায়, দ্বারকানাথ-কাদম্বিনীর ছয় নম্বর গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেনের বাড়িটির ছাদে রবীন্দ্রনাথ মাঘোৎসবের গান শেখাতে আসতেন, গান গলায় তুলে নিতে আসতেন যে যুবকরা তাঁদের মধ্যে ছিলেন নরেন্দ্র দত্ত, বেহালা হাতে বসতেন উপেন্দ্রকিশোর।
এই অংশতে কোটেশন মারক দিয়ে ব্রাকেটে স্বাতী ভট্টাচার্যের নাম দিতে অ্যাডমিনকে অনুরোধ করি।

৩।৬ তিনিই প্রথম মহিলা যিনি ভারতীয় কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধীজির আন্দোলনের জন্য টাকা তুলেছেন, কলকাতায় মহিলাদের জাতীয় সভা করেছেন, নীলরতন সরকার-প্রাণকৃষ্ণ আচার্যের মতো প্রতিষ্ঠিত ডাক্তারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্র্যাকটিস জমিয়েছেন কলকাতায়, নেপালে, বাংলার মেয়েদের শিল্পকৃতি নিজের উদ্যোগে সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন বিদেশের প্রদর্শনীতে।
এই অংশতে কোটেশন মার্ক দিয়ে ব্রাকেটে স্বাতী ভট্টাচার্যের নাম দিতে অ্যাডমিনকে অনুরোধ করি।
৩।৭ তিনি এক সরকারি কর্তাকে লিখছেন যে তিনি তাঁর নাতনিকে ডাক্তারি পড়াতে চান, কিন্তু “মেয়েটিকে চিক বা পর্দার আড়াল থেকে নোট নিতে দেওয়া হবে কি? আর মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদের সময়ে পুরুষ সহপাঠীদের থেকে অন্য ঘরে, তার স্বামী বা আমার উপস্থিতিতে, তা করতে দেওয়া হবে কি? বর্তমানে হিন্দু সমাজ মানবদেহের কিছু কিছু অঙ্গ নিয়ে অপরিচিতদের সামনে মেয়েদের কাজ করতে দেবে না।”
কোটেশন মার্ক আছে।
৩।৮ তাঁর সময়ে কাদম্বিনীকে নিয়ে অজস্র লেখালেখি হয়েছিল- পড়াশোনা, চাকরি খোঁজা, বিলেতযাত্রা, সব কিছুর খুঁটিনাটি বেরিয়েছিল কাগজে কাগজে,ডাফরিন হাসপাতালের জন্য ২৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করে,
এই অংশতে কোটেশন মার্ক দিয়ে ব্রাকেটে স্বাতী ভট্টাচার্যের নাম দিতে অ্যাডমিনকে অনুরোধ করি।
৪।প্রবন্ধটির তিনটি উদ্দেশ্য ছিল

৪।১ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাদম্বিনী সম্বন্ধে যতটা সম্ভব তথ্য দেওয়া।আমি যে কুড়িটি রেফারেন্স দিয়েছি (আসলে তিরিশটি,মালবিকা ও লীলার সব লেখা ধরলে) তা একটু মন দিয়ে পড়লে বোঝা যাবে, এগুলি জোগাড় করতে কী বিশাল পরিশ্রম করতে হয়েছে।এ ছাড়া ও কিছু রেফারেন্স আছে,যাতে নতুন কিছু না থাকায় বাদ দেয়া হয়েছে।এবং বেশ কিছু রেফারেন্স ফুল ফর্ম জোগাড় করতে পারিনি,অনেক চেষ্টা করেও।
স্বাতীর লেখা থেকে কাট পেস্ট করা আমার উদ্দেশ্য হলে এত পরিশ্রম নিশ্চয়ই করতাম না।আর এই বয়েসে , একটি প্রবন্ধ ছাপানর জন্য প্লগিঅরিস্ম আশ্রয় নেয়ারও বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নাই।

৪।২ কাদম্বিনীর সংগ্রাম সম্বন্ধে পাঠককে অভিহিত করা-এই বিষয়টি পাঠকের উপর ছেড়ে দিলাম।

৪।৩ লেখিকার নিজস্ব বক্তব্য রাখা -যা প্রবন্ধের শেষে বলা হয়েছে।
-
৫।অনিকে্ত পাঠককে ধন্যবাদ,একমাত্র তিনিই দুটি লেখা মন দিয়ে পড়ে সমস্যাটি বুঝেছন।”একটু সচেতন ভাবে ভাষা ও উপস্থাপনায় কিছুটা পরিবর্তন বজায় রাখা কুমুদির মত লেখকের কাছে প্রত্যাশিত ছিল। ” ঠিকই,কিন্তু উদ্ধৃত অংশগুলি পড়লেই তিনি বুঝবেন,পরিবর্তনের বিষয়টি কেন গুরুত্ব পায় নি।

যাইহোক,এখন আমি কোটেশন মার্ক দিতে অ্যাডমিনকে অনুরোধ করেছি।


Avatar: i

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

কুমুদিদি,
তুমি যদিও আমাকে লেখোনি, আমার মনে হ'ল, আমার কিছু লেখা দরকার।
স্বাতী ভট্টাচার্যের প্রবন্ধের প্রসঙ্গ আমিই প্রথম তুলি । তাই এই মুহূর্তে ঘাপটি মোডে না থেকে আমার দুটি কথা বলে যাওয়া উচিত।
তোমার মূল লেখায় স্বাতী ভট্টাচার্যর লেখার রেফারেন্স এবং উদ্ধৃতিচিহ্নগুলি থাকলে আমার ২৩ শে মার্চ , ১৪ঃ ৪১ এর মন্তব্য আসতই না।
আমি কোনো অভিযোগ করিনি। প্রশ্নই ওঠে না। কোনো কোনো জায়্গায় পরিবেশনের সাদৃশ্য মনে হয়েছিল- তা কী কারণে সেটাই জানতে চেয়েছিলাম। আমার মন্তব্যে তা স্পষ্ট।
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের চিঠি দিয়ে শুরুর কথাও আমি তুলেছিলাম-এও কোনো অভিযোগ নয়। মনে আসা। এই মাত্র। অ্যাটেনবরোর গান্ধী দেখতে গিয়ে সত্যজিত রায়ের রবীন্দ্রনাথ তথ্যচিত্র যেমন মনে আসে-তেমন।

এই ধরণের লেখায়, যখন বিবিধ সূত্র থেকে তথ্য সংগৃহীত, একটি খসড়া তৈরী করে আস্তে আস্তে মূল পরিবেশিত লেখার দিকে যাওয়া হয় সম্ভবতঃ। খসড়াতে অনেক সময়ই মূল সূত্রের লাইন থেকে যায়- পরিমার্জন করতে করতে লেখা যখন প্রকাশের জন্য তৈরি , তখন হুবহু লাইনগুলি বদলে লেখকের নিজস্ব উপস্থাপনা এসে যাওয়া উচিত। সময়ের চাপে বা অনবধানে সেটা সম্ভব না-ও হতে পারে কখনও কখনও। সে ক্ষেত্রে কোনো পাঠক প্রশ্ন তুলতেই পারেন। প্রশ্ন মানে খুঁজতে চাওয়া-অভিযোগ নয়। এ ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছে, মনে করি।

আমার তরফে এইটুকুই।

নববর্ষের শুভেচ্ছা সহ-
ছোটাই

Avatar: খ

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

এরকম করে বললে ওরা চেঞজ করতে পারবে না, ভুল থাইকা যাইব। আপনি ছাপা টেক্সট টার একটা প্রিন্ট ন‍্যান, সংযোজিত বিবলিও গ্রাফি টার প্রিন্ট ন‍্যান, তারপর ক্লোজলি প্রুফ দেখা র মত ক ইরা দ‍্যাখেন, মার্কিং করেন। ইনলাইন ইনডেক্স করেন বা কোট করেন বা ভাষা বদলে দ‍্যান। তারপর পুরোটা স্ক‍্যান ক ইরা অগো পাঠান। বিবলিও গ্রাফি সহ, দরকার বুঝলে সেটা তেও আ্যনোটেট করেন, টিম ক ইরা দেবে নে।। যে টাইম পাবে ক ইরা দেবে । আপনি ধ রেন যে যত্ন নিয়া পেপার ল‍্যাখেন, এইটা ও সেরকম করেন, দাড়ায় যাবে। আমি নিজে পোস্ট প্রোডাকশন চেঞ্জ করছি, আমারে এরা হেল্প করছে। ইশান, এইটা অভিজ্ঞ কাউরে দিস বা নিজে অ্যসিস্ট করিস। ১০ শতাংশ কেন ১ শতাংশ ও সমস্যা থাকবে না।আমরা কেউ পন্ডিত ন ই, লিখতে শিখতে ছি, আপনি একটু দ‍্যাখেন কনফিউসন এড়ায় চলে ন। ফাইনাল ছাপা র সময়ে গোটা থ্রেড ডিলিট ক ইরা নবকলেবরে প্রবন্ধ ছাপলে আমার কোন আপত্তি নাই, কারো র না থাকার সম্ভাবনা। তারপর ইশানের ডিসিশন।
Avatar: PM

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

কোটেসন মার্ক দেওয়াটা উচিত ছিলো, সন্দেহ নেই। একটা ভালো প্রচেষ্টা এরকম বিতর্কের মাঝে পড়া কাম্য নয়। আরেকটু সতর্কতার প্রয়োজন ছিলো

কিন্তু কুমুদির বাকি পরিশ্রম তার জন্য জলে যায় না।

আমি স্বাতী র লেখা পড়ি নি--- এই লেখাটা আমার কাছে খুব ই মুল্যবান মনে হয়েছে


সম্পাদকদের অনুরোধ দ্রুত বিতর্কের অবসান করার জন্য
Avatar: Ishan

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

কুমুদি লেখায় কোটেশন মার্ক, রেফারেন্স ইত্যাদি বসিয়ে পাঠালেই বদলে দেব।
Avatar: de

Re: একজন প্রবল ব্যতিক্রমী নারী-ডক্টর কাদম্বিনী গাঙ্গুলী

প্লেগিয়ারিজম ওয়ার্ডটা যেহেতু আমিই উচ্চারণ করেছি - সুতরাং খানিকটা ক্লারিফিকেশনের দায় আমার থাকে -

তার আগে বলি, এই প্রবন্ধটা পড়ার পর আমি বহুজনকে ফরওয়ার্ড করেছি, যাদের অধিকাংশই আমার স্টুডেন্ট বা কন্যাসম। কন্যাকে পাঠানোর পর সে ও পড়ে তার বন্ধুদের পড়িয়েছে। এমন একটা লেখায় এমন কপি-পেস্ট অংশ থেকে গেলে তার দায় লেখিকা এড়াতে পারেন না। দময়ন্তীর লেখা না এলে এটা অজানা রয়ে যেতো - কোনভাবে চেইন ফরোয়ার্ডিংয়ে এটা স্বাতী ভট্টাচার্য্যের কাছে পৌঁছলে, তখন এই অভিযোগ উঠতই! সেটা আরো খারাপ হোতো।

আমার একটি লাইন লেখায় আমি লিখেছি যে "মিলগুলো অস্বস্তিকর, প্লেগিয়ারিজম নিয়ে বহুকথা বলার জায়গায় ও দিনে আরো’ই খারাপ লাগে এগুলো দেখলে।" তাতে লেখিকা আহত হয়েছেন, সেটা আমি বুঝেছি। প্লেগিয়ারিজম চেকিং সফটওয়ারে দময়ন্তীর দেওয়া অংশগুলো ফেলে দেখালে কিন্তু এটা হান্ড্রেন্ড পার্সেন্ট প্লেগিয়ারিজম দেখাবে। যেহেতু ফুল কপি-পেস্ট আছে কিছু কিছু লাইন। পেশাগত পরিচয় মাথায় রাখলে এটা জানা লেখিকার পক্ষে খুবই স্বাভাবিক।

লেখিকাকে অপমান করার কোন উদ্দেশ্য নিয়ে তো এই মন্তব্যটা করিইনি - তিনি দুঃখ পেয়ে থাকলে, খারাপ লাগাটা আমার থাকলো।



মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 31 -- 50


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন