বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

দেবাশিস্‌ ভট্টাচার্য

প্রেক্ষাপট



একটি অসাধারণ ইংরিজি বাক্য আন্তর্জাল-পরিসরে প্রায়শই ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়, যার বাংলা তর্জমা মোটামুটি এই রকম হতে পারে - ‘ধর্ম হল অজ্ঞ জনসাধারণের কাছে পরমসত্য, জ্ঞানী পণ্ডিতের কাছে মিথ্যা কুসংস্কার, আর শাসকের কাছে শাসনের জবরদস্ত হাতিয়ার’। আজকের দিনের ভারতের রাষ্ট্র ও রাজনীতির রকমসকম যিনি লক্ষ করেছেন, তাঁকে নিশ্চয়ই কথাটার অর্থ আর বলে বোঝাতে হবে না। গুজব আছে, কথাটা নাকি বলেছিলেন প্রাচীন রোমান আইনজ্ঞ সেনেকা, কিম্বা হয়ত কবি-দার্শনিক লুক্রেশিয়াস, যদিও তাঁরা যে ওটা কোথায় বলেছিলেন সে আর কেউ বলতে পারে না। কেউ কেউ খোঁজখবর করে দেখেছেন, ও রকম একটা বাক্য আসলে আছে অষ্টাদশ শতকের ব্রিটিশ ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গিবন-এর ‘দ্য হিস্ট্রি অফ দ্য ডিক্লাইন অ্যান্ড ফল অফ দ্য রোমান এম্পায়ার’ নামক পৃথুল গ্রন্থে, যদিও সেটা রোমান সমাজের ধর্ম প্রসঙ্গেই বলা। তো, কথাটা যেখান থেকেই আসুক না কেন, ধর্ম বিষয়ে ওর চেয়ে সত্যি কথা বোধহয় খুব কমই আছে। মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসিদ্ধির ব্যাপারে ধর্মের কার্যকারিতার কথা প্রাক-খ্রিস্টীয় ভারতের ‘কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র’ থেকে শুরু করে পঞ্চদশ শতকীয় ইউরোপের রাজনীতিতাত্ত্বিক মাখিয়াভেল্লির ‘দ্য প্রিন্স’ পর্যন্ত অনেক গ্রন্থেই উচ্চারিত হয়েছে। প্রতারণা, হিংস্রতা, ঘৃণা আর গুরুগম্ভীর মিথ্যাকে সম্বল করে মানুষকে বশ্যতা স্বীকার করানোর জন্য ধর্মের চেয়ে ভাল হাতিয়ার পাওয়া মুশকিল। যদিও উন্নত দেশগুলোতে ধর্ম আজ নিশ্চিতভাবেই পিছু হঠছে, কিন্তু গরিব দেশগুলোতে ধর্ম আজও জড়িয়ে রয়েছে সমাজ-রাজনীতি-প্রশাসন-সংস্কৃতির অলিতে গলিতে। আমাদের দেশের রাষ্ট্র ও সমাজের জাতীয় স্তরে যখন চলছে আশারাম-রামদেব-রামরহিমের মত ধর্মীয় রাঘব-বোয়ালদের খেলা, তখন শহরে ও গ্রামে বাবাজি-মাতাজি-তান্ত্রিক-ওঝা-গুণিন-জ্যোতিষীদের হাতে প্রতিদিনই লুণ্ঠিত হচ্ছে অসহায় বিশ্বাসী মানুষের সম্পদ, সম্মান ও নিরাপত্তা। খুব বড়সড় অপরাধ না হলে বিশ্বাসী ভক্তরা এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে চান না, জানালেও পুলিশ-প্রশাসন এদের প্রশ্রয় দেয়, বা যে সমস্ত বিরল ক্ষেত্রে তারা ব্যবস্থা নিতে চায় সে সব ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রচলিত আইন-ব্যবস্থার অপ্রতুলতা। ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে নতুন আইন তৈরির দাবি ওঠে সেই প্রেক্ষিতেই। এ ধরনের আইন প্রণয়নের জন্য ১৯৯৫ সাল থেকে চেষ্টা করতে করতে ধর্মীয় বুজরুকদের হাতে শেষ পর্যন্ত নিহত হয়ে গেলেন মহারাষ্ট্রের যুক্তিবাদী আন্দোলনের অগ্রণী সংগঠক নরে৩ন্দ্র দাভোলকর। তবে, ২০১৩ সালে নিহত হবার কয়েক মাসের মধ্যেই জনমতের চাপে আইনটিকে অর্ডিন্যান্স হিসেবে পাশ করতে বাধ্য হয় মহারাষ্ট্রের সরকার, পরে ওই রাজ্যের বিধানসভাও তা অনুমোদন করে।

নিষ্ক্রিয়তার কয়েকটি অজুহাত



এই ব্যাপারে নতুন আইন তৈরির দাবিকে প্রায়শই নিরুৎসাহিত করা হয় কয়েকটি প্রশ্ন তুলে। এবং, আশ্চর্যের বিষয়, প্রায়শই এই প্রশ্নগুলো তোলেন এমন মানুষেরা, যাঁরা এ দাবির পেছনের বাস্তব সমস্যাটিকে স্বীকার করেন, বা অন্তত স্বীকার করার ভান করেন। এখানে এ রকম প্রশ্নের সবচেয়ে পরিচিত তিনটি নমুনা তুলে ধরে সেগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা যাক। প্রথম প্রশ্ন - ‘নতুন আর একটা আইন করে কীই বা ছাই হবে? বে-আইনি কাজকর্ম তো কতই হচ্ছে, দোষীরা ধরা পড়ছে কোথায়? ধর্মীয় রাঘব-বোয়ালরা সব প্রভাবশালী লোক, আইন হলেও কি আদৌ তাদের শাস্তি হবে?’ হ্যাঁ, সন্দেহ নেই, আইন হলেই যে দোষীরা সব আপনা থেকে জেলে ঢুকে গিয়ে ধর্মীয় প্রতারণা ও নিপীড়ন সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে, এমন কোনও সম্ভাবনাই নেই। কিন্তু, সেভাবে ভাবলে তো খুন-ধর্ষণ-ডাকাতি-জালিয়াতি কোনও কিছুর বিরুদ্ধেই আইনের দরকার নেই, যেহেতু এই প্রত্যেকটা অপরাধই অহরহ ঘটে চলেছে, এবং অপরাধীরা মোটেই সব সময় ধরা পড়ছে না। আসলে, আইনের প্রয়োগ হোক বা না-ই হোক, আইনটি চালু হওয়ার অর্থ হল, রাষ্ট্র অন্তত নীতিগতভাবে স্বীকার করছে যে এ ধরনের কাজগুলো অন্যায়। সেটাই তো সাফল্যের প্রথম ধাপ! দ্বিতীয় প্রশ্ন - ‘একটা আইন তৈরির চেয়ে মাঠে নেমে জোরদার আন্দোলন কি অনেক বেশি কাজের নয়? আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হলে, এবং সাধারণ মানুষ সচেতন হলে, তবেই তো এ সব কুকর্ম বন্ধ হওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি হবে!’ হ্যাঁ, আন্দোলন না হলে নিছক একটা আইন সৃষ্টি করে বিশেষ লাভ হবে না, এটা অতি সত্যি কথা। কিন্তু, এই সত্যি কথাটাকে এ ভাবে হাজির করার মধ্যে রয়েছে একটি লুকোনো কুযুক্তি। সেটা হচ্ছে, আইন ও আন্দোলনকে মনে মনে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী বিকল্প ধরে নিয়ে তাদের কার্যকারিতার তুলনা করতে যাওয়া, যেন দুটো একসাথে হতে কোনও ভয়ঙ্কর নিষেধ আছে। আসলে, এরা মোটেই বিকল্প নয়, বরঞ্চ পরিপূরক। ঠিকঠাক আইন হলে আন্দোলনের দাবিগুলো সুনির্দিষ্ট অর্থ ও আকার পাবে, সরকারের ওপর বাড়বে চাপ। আর, উল্টোদিকে, জোরাল আন্দোলন থাকলে আইনটা বইয়ের পাতায় বন্দী হয়ে থাকবে না, তার বাস্তব প্রয়োগ হবে। যুক্তিবাদী আন্দোলনের কর্মীরা কাজ করতে গিয়ে প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করেছেন এ সমস্যার দুটো দিকই। তাঁরা যেমন ইচ্ছুক ও সচেতন পুলিশ অফিসারকে দেখেছেন ধর্মীয় বুজরুকির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রশ্নে জোরাল আইনের অভাব নিয়ে খেদ প্রকাশ করতে, তেমনি দেখেছেন ‘ড্রাগ্‌স্‌ অ্যান্ড ম্যাজিক রিমেডিজ অ্যাক্ট ১৯৫৪’ জাতীয় আইনকে ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে বিস্মৃতির অতল থেকে আবার বাস্তব প্রয়োগের জগতে ভেসে উঠতে।

তবে, এর চেয়ে আরেকটু বিবেচনাসাপেক্ষ তৃতীয় ও শেষ প্রশ্নটি। সেটা অনেকটা এই রকম - ‘নতুন আইন আদৌ লাগবে কেন, যখন এই সমস্ত অপরাধীদের প্রচলিত আইনেই শাস্তি দেওয়া সম্ভব?’ বলা দরকার, এ প্রশ্নে কিঞ্চিত গোলমাল আছে। এখানে কুসংস্কার-বিরোধী আইনকে পশ্চিমবঙ্গে (বা কেন্দ্রীয়ভাবে) প্রচলিত কোন নির্দিষ্ট আইনটি বা আইনগুলোর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে? এরকম তুলনা করার মত আইন আদৌ ছিল নাকি, থাকলে আর নতুন আইনের কথা উঠবে কেন? আর, যদি কেউ এ কথা বলতে চেয়ে থাকেন যে, বর্তমান ভারতীয় দণ্ডবিধি ও অন্যান্য নানা চালু আইন দিয়েই (যেমন ম্যাজিক রেমেডিজ অ্যাক্ট) কাজ চলবে, তাহলে তাঁকে আগে প্রচলিত আইনগুলোর বিষয়ে একটু ভাল করে জেনে নিতে অনুরোধ করব । এ নিয়ে আমি পত্রপত্রিকায় লিখেছি, সভা-সমিতিতে বলেছি, তাছাড়া, ২০১৬ সালে একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-গবেষকদের সভাতেও এক সংক্ষিপ্ত লিখিত প্রস্তাব দিয়ে এসেছি। এই সব লেখা ও প্রস্তাব কেউ চাইলেই পেতে পারেন । এখানে আমার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করব। তবে, এই প্রশ্নটির জবাব অল্প দু-কথায় হবে না, একটু বিস্তারে যেতে হবে। আর তারও আগে জানতে হবে, ওই ধরনের কী কী আইনের অস্তিত্ব ইতিমধ্যেই আছে।

চালু আইনে সমস্যাটা কোথায়



প্রচলিত আইনে ধর্মীয় বা কুসংস্কারভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে হাতিয়ার একেবারেই নেই এমন নয়, যদিও তা হাতেগোনা, এবং যেটুকু আছে তার সীমাবদ্ধতাও খুবই প্রকট। মুশকিল হচ্ছে, এই আইনগুলো বানানো হয়েছে সাধারণ অপরাধের কথা মাথায় রেখেই, ফলে কোনও বিশেষ ধর্মীয় বা কুসংস্কারভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে সেগুলোকে প্রয়োগ করতে গেলে সেই বিশেষ অপরাধের ক্ষেত্রে এই সাধারণ আইনগুলো ভাঙা হয়েছে কিনা সেটা দেখতে হয়। যেমন, খুন, ধর্ষণ ও আর্থিক-প্রতারণা হল প্রচলিত আইনের (এ ক্ষেত্রে ভারতীয় দণ্ডবিধি বা ‘আই পি সি’) যথাক্রমে ৩০২, ৩৭৬ ও ৪২০ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এখন, কোনও একটি বিশেষ ঘটনার ক্ষেত্রে অপরাধী যদি এগুলো করে থাকে, তো তাকে এইসব ধারায় অভিযুক্ত করা যাবে। কিন্তু, সব সময় ব্যাপারটা অত সহজ হয় না। চালু আইনে ধর্ম বা কুসংস্কার সংক্রান্ত অত্যাচার বা প্রতারণা এসব নিয়ে কোনও কথাই নেই, সাধারণভাবে অত্যাচার বা প্রতারণা সংক্রান্ত ধারা আছে। একে তো এইসব ক্ষেত্রে পুলিশ কিছু করতেই চায় না, আর তার ওপর যদি বা কোনও সচেতন পুলিশ অফিসার ব্যবস্থা নিতে আগ্রহীও হন, তো তাঁকে ওইসব ধারায় কীভাবে কেসটাকে ফেলতে হবে সে নিয়ে অনেক ফিকির বার করতে হয়। যেমন, ওঝা যদি ভূত ঝাড়ায়, তো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে পুলিশকে দেখতে হবে যে সে টাকা নিয়েছিল কিনা (সে ক্ষেত্রে ৪২০ ধারা চলবে) বা মারধোর করেছে কিনা (সেক্ষেত্রে হয়ত ৩২৩ ধারা দেওয়া যাবে)। কারণ, 'ভূত ছাড়ানো' ব্যাপারটাতে তো আর এমনিতে কোনও আইনি বাধা নেই! ফলে, টাকা নেওয়া বা মারধোর সেভাবে প্রমাণ না করা গেলে সেই ওঝা আইনের হাতের বাইরেই থেকে যাবে। প্রচলিত আইনের এই সীমাবদ্ধতার কারণে, এমন আইন চাই যাতে কুসংস্কারমূলক কাজগুলোকেই বিশেষভাবে বে-আইনি হিসেবে সংজ্ঞা দেওয়া হবে, শুধুমাত্র কুসংস্কারের মধ্যে দিয়ে ঘটা সাধারণ অপরাধগুলোকে নয় । মহারাষ্ট্রের যুক্তিবাদী আন্দোলনের নেতা নরেন্দ্র দাভোলকর তাঁর নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে যে আইনটি তৈরি করতে সরকারকে বাধ্য করে গেলেন ২০১৩ সালে, সেই আইনটি ঠিক এই কাজটাই করেছে।

কিন্তু শুধু এটুকুই যথেষ্ট নয়। আসলে, মহারাষ্ট্রে যেমন একটিমাত্র কুসংস্কার-বিরোধী আইন পাশ হল (কর্ণাটকেও বোধহয় তোড়জোড় চলছে), সে রকম বিশেষ বিশেষ আইন চাই তো বটেই, সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য আইনেও যুগোপযোগী সংস্কার চাই, না হলে ভাল কাজ হবে না । প্রতারণা ও ধর্ষণের সংজ্ঞাকে ধর্ম ও কুসংস্কারের ক্ষেত্রে প্রসারিত করা প্রয়োজন, যা করতে গেলে মৌলিক সংস্কার সাধন করতে হবে ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ (সংক্ষেপে আই পি সি) বা ভারতীয় দণ্ডবিধিতে। তাছাড়া, সংশোধন করা দরকার ধর্মীয় ভাবাবেগ আঘাত সংক্রান্ত আইনগুলোও। আর সংস্কার প্রয়োজন মেডিক্যাল আইনে, অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবার জন্য। এ নিয়ে পরে আরেকটু বলা যাবে।

এ ধরনের কিছু নতুন আইন



ওপরে বলেছি, মহারাষ্ট্রে ২০১৩ সালে এ রকম একটি আইন হয়েছে, কাছাকাছি আইন বানাবার তোড়জোড় চলছে কর্নাটকেও। এই বাংলাতেও কুসংস্কারবিরোধী আন্দোলনের কিছু অগ্রণী কর্মী এ ধরনের একটি আইনের খসড়া পেশ করেছেন এ রাজ্যের আইন কমিশনের কাছে, যদিও তার পরিণতি এখনও আমরা জানি না। এই ধরনের আইনগুলোতে তন্ত্রমন্ত্র তুকতাক ইত্যাদির সাহায্যে কারুকে কিছু সুবিধে করে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা ক্ষতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন সংসর্গ, জড়িবুটি চিকিৎসা এইসব কীর্তিকলাপকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এবং এইসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেল ও জরিমানার ব্যবস্থা থাকছে। তা ছাড়া, এই আইনকে প্রয়োগ করার পরিকাঠামোটি ঠিক কেমন হবে, সে ব্যাপারেও সরকারকে নির্দিষ্ট রূপরেখা দেওয়া থাকে ওই আইনের ভেতরেই।

এ ছাড়া এ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আছে ডাইনি-শিকারের বিরোধী আইন, অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তিবিশেষকে এলাকার মাতব্বররা ‘ডাইনি’ বলে ঘোষণা করে তার ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন ও একঘরে করছেন - এ ধরনের ক্রিয়াকলাপের বিরুদ্ধে আইন। এ আইনকেও কুসংস্কারবিরোধী আইন বলা যেতে পারে। এ ধরনের আইন ওড়িশা, বিহার, ছত্তিশগড় ও আসামে আছে। আইন-গবেষকরা নাকি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছেও এ ধরনের একটি আইনের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন বলে শুনেছি।

চালু আইনের আরও কয়েকটি দিক



বর্তমানে যে আইন-ব্যবস্থা চালু আছে, তাতে আই পি সি বা ভারতীয় দণ্ডবিধি ছাড়াও কিছু আইন আছে যারা এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হতে পারে। ওপরে বলেছিলাম, সে সব আইন নিয়েও একটু বলব, এইবারে সে নিয়ে কথা বলা যাক। প্রথমে ধরা যাক ‘মেডিক্যাল’ বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত আইনের কথা। ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, আইনিভাবে নথিভুক্ত একজন চিকিৎসাবিজ্ঞান-স্নাতক ছাড়া আর কেউই কোনও রুগির চিকিৎসা করতে পারেন না। ‘ড্রাগ্‌স্‌ অ্যান্ড কসমেটিক্স অ্যাক্ট, ১৯৪৫’ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কতকগুলো গ্রন্থ বা নথিপত্রে উল্লিখিত কিছু ওষুধপত্র ছাড়া আর কোনও কিছুকেই ‘ওষুধ’ বলে বিক্রি বা প্রয়োগ করা যায় না, এবং হাঁপানি, টাক, যৌন-অক্ষমতা ইত্যাদি রোগ সারিয়ে দেবার দাবিও করা যায় না। আর, ‘ড্রাগ্‌স্‌ অ্যান্ড ম্যাজিক রেমেডিজ (অবজেকশনেব্‌ল্‌ অ্যাডভার্টাইজমেন্ট) অ্যাক্ট, ১৯৫৪’ অনুযায়ী, তন্ত্রমন্ত্র জড়িবুটি এইসব দিয়ে রোগ সারাবার দাবি করে প্রকাশ্য বিজ্ঞাপন করা যায় না। কাজেই, বোঝা যাচ্ছে যে, এই সব আইনগুলো দিয়ে তন্ত্রমন্ত্র তুকতাক সহযোগে ভুয়ো চিকিৎসা খানিকটা আটকানো সম্ভব। কিন্তু, কুসংস্কার-নির্ভর প্রতারণা রোধে এই সব আইনের সীমাবদ্ধতাও ততোধিক। প্রথমত, এ দিয়ে শুধু চিকিৎসা-সংক্রান্ত বুজরুকিই আটকানো যাবে, অন্য বুজরুকি নয়। কেউ তুকতাক করে মামলা জিতিয়ে দেবে এমন আশ্বাস দিলে এ সব আইন আর প্রাসঙ্গিক থাকবে না। তার ওপর, বুজরুকটি যদি আদালতে এসে বলে, সে মোটেই চিকিৎসা করছিল না, সে শুধু অলৌকিক কোনও শক্তির কাছে রোগির ভালর জন্য প্রার্থনা করছিল, তাতেও সে সহজেই আইনের হাত এড়িয়ে পালাতে পারবে। আর সর্বোপরি, আমাদের আইন আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা-ব্যবস্থাকেও অনুমোদন দেয় (আয়ুর্বেদ হোমিওপ্যাথি হেকিমি সিদ্ধা ইত্যাদি), কাজেই বিজ্ঞান-অবিজ্ঞানের সীমারেখা সেখানে যারপরনাই পাতলা।

যুক্তিবাদী মানসিকতা প্রসারের পথে আরেকটি বাধা হল ‘ধর্মীয় ভাবাবেগ’ রক্ষাকারী দুই আইন - ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৮ ও ২৯৫এ ধারা। প্রথমটি ব্যক্তি ও দ্বিতীয়টি গোষ্ঠীর ‘ধর্মীয় ভাবাবেগ’ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়। এ ধরনের আইনের একেবারেই দরকার নেই, এমন নয়। ধর্মীয় বিদ্বেষ-ঘৃণা-হিংস্রতার অবাধ প্রচার আটকানোর জন্য এ ধরনের আইনের অবশ্যই দরকার আছে। কিন্তু এই আইনগুলোকে প্রায়শই ব্যবহার করা হচ্ছে মৌলবাদী দেশগুলোতে চালু ‘ব্ল্যাসফেমি’ আইনের কায়দায়, ধর্মের সমালোচনাকে আটকাতে। এই ধরনের অপব্যবহার আটকাবার জন্য এই আইনের ভেতরেই ধর্মের শৈল্পিক, যুক্তিবাদী ও মানবতাবাদী সমালোচনার সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা প্রয়োজন, যে ধরনের সুরক্ষার বন্দোবস্ত রয়েছে অশ্লীলতা-বিরোধী ২৯২ ধারার মধ্যে।

এই আইনগুলোকে সমর্থন জোগানোর জন্য কিছু পরিবর্তন হয়ত প্রয়োজন ভারতীয় দণ্ডবিধিতেও। যেমন, ধর্মীয় ভয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে কোনও মহিলাকে যৌন-সংসর্গে লিপ্ত করানোকে ‘ক্রিমিন্যাল ফোর্স’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন, যাতে এই ধরনের যৌন-সংসর্গ আদালতের কাছে ধর্ষণ বলে সাব্যস্ত হতে পারে।

আর, সেই সঙ্গে আনা উচিত আরও দুয়েকটি বিশেষ আইন, যাতে সুরক্ষিত করা হবে সংবিধান-উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক মূল্যবোধকে, সুরক্ষা ও সমর্থন জোগানো হবে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকারদের, বিশেষত মহিলা শিশু ও নিম্নবর্গের মানুষদের।

পরিবর্তন প্রয়োজন শিক্ষাক্ষেত্রেও। আইন হওয়া উচিত, যাতে প্রথম থেকেই শিশুরা দীক্ষিত হতে পারে বিজ্ঞান ও মানবতার শিক্ষায়, তফাত করতে শেখে সত্য আর মিথ্যের, ইতিহাস ও পুরাণের।

উপসংহার



দাবি আমাদের অনেক, প্রত্যাশা আর স্বপ্নও তো অনেকই। আর, ঠিক ততটাই কঠোর হচ্ছে আমাদের দেশের বাস্তবতা। এ সব দাবি পূরণের থেকে আমরা এখনও বহু দূরে। তবু, দাবিটা তো উঠুক কম সে কম। মানুষ তো অন্তত জানুন, এগুলোও চাইবার ছিল। এটা তো ঠিকই যে, পরাক্রান্ত সব মিথ্যেই একদিন ইতিহাসের কাছে তামাদি হয়ে যায়, “শিশুপাঠ্য কাহিনিতে থাকে মুখ ঢাকি”। পড়ে থাকে, বেঁচে থাকে শুধু সত্যের একান্ত নির্যাসটুকু। এক্ষেত্রেও যে একদিন তাইই হবে তাতে সন্দেহ নেই। এ তো শুধু কিছু ধর্মীয় অপরাধীকে জেলে পোরার ব্যাপার নয়, কিছু নিপীড়িতকে নিছক স্বস্তি ও সুবিচার দেওয়ার প্রশ্নও নয়। এ লড়াই আসলে উৎসারিত হচ্ছে সত্য ও ন্যায়ের জন্য মানুষের চিরকালীন আকাঙ্ক্ষা থেকে, আমাদের অস্তিত্ব ও ইতিহাসের সেরা অর্জনগুলোর থেকে, আমাদের সংবিধানের সারবস্তুর সেরা অংশটি থেকে।

সঠিক দাবিগুলো কে করছে তাতে কিচ্ছুই যায় আসে না। তার কিছু নিজস্ব নৈর্ব্যক্তিক শক্তি থাকে, জানেন তো?



2076 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা  উৎসব ইস্পেশাল ২০১৮ 
শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 41 -- 60
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

Atoz, আমি যদ্দুর জানি, ইংরিজিতে যেমন 'a' অক্ষরটির নানা উচ্চারণ হতে পারে (অ, আ, অ্যা, এ এই রকম), লাতিন-জাত 'রোমান্স' ভাষাগুলোতে (স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, ইতালিয়ান ইত্যাদি) সে রকম নয়, সেখানে 'a' অক্ষরটির উচ্চারণ মূলত 'আ' । ফলে, ইতালির রাষ্ট্রচিন্তক Niccolò Machiavelli ইংরিজিতে ও বাংলায় 'মেকিয়াভিলি' নামে উচ্চারিত হলেও, সেটা সম্ভবত খুব বেশি মূলানুগ নয় । অধ্যাপক জ্যোতি ভট্টাচার্যের রচনায় 'মাখিয়াভেল্লি'-ই পেয়েছি, এবং আমার ধারণা, ওটাই ইতালীয় উচ্চারণের বেশি কাছাকাছি ।

হ্যাঁ, এখন রীতিমত সরকারি কলেজেই হোমিওপ্যাথির মত ভুয়ো বিদ্যা শেখান হয় । অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসাগুলোকে টিঁকিয়ে রাখার জন্য আলাদা আইন করা হয়েছে, 'আয়ুশ' নামে একটা গোটা দপ্তরও আছে । কাজেই, আইন না পাল্টালে এ অবস্থার উন্নতির আশা নেই । সেই আইনটিই পাল্টাবার প্রস্তাব আমার লেখায় আছে, ভাল করে পড়লে দেখতে পাবেন । ছোট লেখায় বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ ছিল না, সে জন্য হয়ত সব কথা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়নি ।
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

দ, সারা ভারতে কার্যকরী এমন কোনও এ ধরনের আইনের কথা আমার জানা নেই, যা যা জানা আছে তার সবই ছোট করে লিখেছি । যেহেতু এর অস্তিত্ব নেই, তাই প্রবীর ঘোষ বা অন্য কারুর তা 'ব্যবহার' করারও বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই । আর, এ রকম আইন থেকে থাকলেও তা প্রবীর ঘোষ 'ব্যবহার' করতে পারতেন না, বরং ওটা তাঁরই বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারত । শুধু বাবাজি-মাতাজি-তান্ত্রিক নয়, তাঁর মত ভুয়ো ডিগ্রিধারী চিকিৎসকেরাও ওই আইনগুলোর অন্যতম লক্ষ্য ।
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

ধর্মও লোক মারে, আর বোমা-বন্দুক-দূষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানও লোক মারে, অতএব দুটোরই 'ভাল' জিনিসটা থাকুক আর 'অপব্যবহারটা' থামুক, এ রকম একটা বোকা বোকা কথা পড়াশোনা জানা ভদ্রলোকেদের মধ্যে খুব চালু আছে ।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ধর্ম লোককে মারে ধর্মীয় কারণেই, আর বিজ্ঞান নিজে কারুকেই মারে না, যদিও তার জ্ঞানটা লোক মারার কাজে লাগে । 'ও ব্যাটা বিধর্মী এবং শুধু সেই কারণেই ওকে ধরে ছেঁচে দেওয়া উচিত', এ কথাটা ধার্মিকেরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে, ধর্মগ্রন্থে পরিষ্কার করে লেখাও থাকে । কিন্তু বিজ্ঞানের লেখাপত্রে শুধু কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে সেই কথাটা নিয়ে আলোচনা থাকে । অন্য মত যারা বিশ্বাস করে তাদের মুণ্ডু কাটতে হবে, না কি কানে সীসে ঢালতে হবে, সে নিয়ে বিজ্ঞানের মাথাব্যথা কম ।

"ও ব্যাটা যদি আমার দেবতাকে পুজো না করে, এবং সেটা যে মোটেই উচিত হচ্ছে না এ কথা বুঝিয়ে বলার পরেও আচরণ না পাল্টায়, তাহলে ব্যাটার কাঁধের ওপর মুণ্ডুটা আর না রাখাটা অত্যন্ত পুণ্যের কাজ হবে" --- এই কথাটা ধর্মের খুব পরিচিত ও স্বাভাবিক বাণী । কিন্তু, ধরুন, "ও ব্যাটা মাধাকর্ষণ বলের অস্তিত্বই স্বীকার করে না, বরং তাকে 'স্থান-কালের বক্রতা' বলে কী একটা উদ্ভট জিনিস দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে, তাই ও ব্যাটা মহাপাতককে খুঁটিতে বেঁধে পোড়ানো ছাড়া তো আর কোনও উপায় দেখিনা" --- এমন কথা বিজ্ঞানের কোনও বইতে পাবেন না, আর কোনও পেশাদার বিজ্ঞানীকেও তাঁর বিরোধী মতামলম্বী কোনও বিজ্ঞানী সম্পর্কে এমন কোনও প্রস্তাব দিলে তিনি খুবই অবাক ও আতঙ্কিত হবেন, খুব সম্ভবত প্রস্তাবকারীকে উন্মাদ বলে সন্দেহ করবেন ।

ধর্মের খুনখারাবি করার আর টাকাপয়সা হাতানোর ইচ্ছেটা ষোল আনাই, কিন্তু ক্ষমতা কানাকড়িও নয়, সর্বশক্তিমানের মহান ইচ্ছেয় একগাছা চুলও ছেঁড়ে না । আর, বিজ্ঞান করতে সবই পারে, কিন্তু কোনটা তাকে দিয়ে করান হবে সে সিদ্ধান্ত নেয় অবিজ্ঞানী অন্ধ ও লুব্ধ ক্ষমতাবানেরা । কি ট্র্যাজেডি, তাই না ?
Avatar: sm

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

দেবাশীষ, আপনার মতো সাবস্ট্যান্ডার্ড তার্কিক খুব কম দেখেছি।প্রথমত বলি, আপনি আমার পোস্টের মানেই বুঝতে পারেন নি।
চিকিৎসা সংক্রান্ত বিজ্ঞান স্ট্যাটিস্টিক্স এর ওপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে আছে।কোন ঔষধ কার্যকরী কিনা সেটা বিভিন্ন ফেজে ট্রায়াল করে,তার স্ট্যাটিস্টিকাল সিগনিফিকেন্স বার করেই পেশেন্ট এর ওপর প্রয়োগ করা যায়।এটি এই প্রফেশনের ডোর কিপার ও জানে।
দুই,কোন প্রসিডিওর বা অপারেশন করতে গেলেও ভরসা ওই স্ট্যাটিস্টিকস।
যাকগে বেনা বনে মুক্ত ছড়িয়ে কি হবে?


Avatar: sm

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

বিজ্ঞান ঠিক কি কি সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বন্দুক, নার্ভ গ্যাস বানাচ্ছিল জানতে পারি?😊
দুই, পিটি অবিশ্যি বলে দিয়েছে ওই নার্ভ গ্যাস বানানোর ভিত্তিথেকেই ক্লোরামবিউসিল আবিষ্কার হয়েছে।😊😊
Avatar: বাঙাল

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

বোকা বোকা প্রশ্ন তবু করেই ফেলি, সব হাতুড়ে হাওয়া করে দিলে দেশশুদ্ধু লোকের চিকিচ্ছে করার মত অ্যালোপ্যাথের যোগান আছেতো?
Avatar: বাঙাল

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

বোকা বোকা প্রশ্ন তবু করেই ফেলি, সব হাতুড়ে হাওয়া করে দিলে দেশশুদ্ধু লোকের চিকিচ্ছে করার মত অ্যালোপ্যাথের যোগান আছেতো?
Avatar: bomabaj

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

পরমাণু বোমা আবিষ্কার বন্ধ না করে "ওগো তোমরা ব্যবহার কোরো না গো" বলা বাড়ির চারপাশে জমা জল রেখে ,ম্যালেরিয়া দূরীকরণের বক্তৃতা দেওয়ার মত ।
Avatar: sm

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

ক, বড় হাতের।👍
Avatar: সিকি

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

দেবাশিসবাবুকে একটু জর্জ বার্নার্ড শ-এর একটি উক্তি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। বুঝতেই পারছেন - সব কথা কি আর লিখে বোঝাতে হয়?

আপনার আলোচন অত্যন্ত মনোজ্ঞ হচ্ছে, পড়ছি।
Avatar: sm

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

বোঝ!রতনে রতন চিনেছে।😊আমার পোস্ট পড়লেই,লেজ নেড়ে চলে আসবে।ইহা বিজ্ঞান।😊
Avatar: PT

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

"পরমাণু বোমা আবিষ্কার বন্ধ না করে "ওগো তোমরা ব্যবহার কোরো না গো" বলা বাড়ির চারপাশে জমা জল রেখে ,ম্যালেরিয়া দূরীকরণের বক্তৃতা দেওয়ার মত ।"

প্যারাসিটামল খেয়ে যেহেতু ছাগলেরা আত্মহত্যা করে, তাই প্যারাসিটামলের প্রোডাকশন এখনই বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা হোক। তাতে অবিশ্যি রাম পাঁঠারা জ্বরে ভুগে ভুগেই নিকেশ হয়ে যাবে।

"পিটি অবিশ্যি বলে দিয়েছে ওই নার্ভ গ্যাস বানানোর ভিত্তিথেকেই ক্লোরামবিউসিল আবিষ্কার হয়েছে"
যদি organic chemistry-র mechanism লেখার অভ্যেস থাকে তাহলে দেখবেন যে neighboring group participation দিয়েই সালফার মাস্টার্ড ও ক্লোরাম্বুসিলের DNA-এর সঙ্গে প্রথম ধাপের বিক্রিয়ার ব্যাখ্যা করা হয়।

আর যদি চান তাহলে টেক্স্ট বইয়ের নামও জানাতে পারি।
Avatar: sm

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

যা বাবা!ধর্ম মানুষের সৃষ্টি, বিজ্ঞান ও মানুষের সৃষ্টি। ধর্মও মানুষ মারে, বিজ্ঞানও মানুষ মারে।পার্থক্য হলো একটাই, ধর্ম অন্য ধর্মের মানুষ মারে আর বিজ্ঞান যাকে পায় তাকে। অর্থাৎ বন্দুকের স্রষ্টাই বন্দুকের গুলি খেয়ে মরে। এই তো!
তা, এতো পাঁচালী পড়ছেন কেন বলুন তো?
দুই, নার্ভ গ্যাস আবিষ্কারের সঙ্গে আপনি ক্লোরামবিউসিল আবিষ্কারের প্রসঙ্গ টানলেন কেন বলুনতো?নিজের জ্ঞান দেখাতে?জ্ঞান দেখানো উদ্দেশ্য হলে কুনো কথা নাই।
কিন্তু যদি বলেন, নার্ভ গ্যাস আবিষ্কারের সময় আবিষ্কর্তা র মনে ক্লোরামবিউসিল এর কথা ঝিলিক মারছিলো, তবে বলবো আপনাকে পেঁচয় পেয়েছে।
Avatar: I

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

হোমিওপ্যাথি একটি স্বীকৃত চিকিৎসা পড়ে আবার সেই বুড়োদাদুর কথা মনে পড়ে গেল যদিও উনি বায়োকেমিক থেকে প্ল্যানচেট অবধি সবই মানতেন!

যাগ্গে, কথাটা হল
-বাঙালী অতি মহান, তাই
আপনি মহান বনিয়া যাই
কিন্তু কোনো কষ্ট নাই
চেষ্টা নাই তায়।

আমি আজ একটি ইন্দোপ্যাথি বের করে কাল নিজে ও আমার সাত ভাই মিলে তাকে স্বীকার করে নিলেই পশ্শু থেকে ইন্দোপ্যাথিও স্বীকৃত হয়ে যাবে।


Avatar: sm

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

তাহলে এতো সরকারি হোমিওপ্যাথি কলেজ, ডাক্তার এগুলো অবৈধ?
Avatar: PT

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

বুঝলাম যে ক্লোরামবুসিল আর সাল্ফার মাস্টার্ডের মধ্যের যোগাযোগটা বুঝতে পারেননি এখনো। কিন্তু তার জন্য অন্যের কষ্টার্জিত জ্ঞানকে হিংসে না করে নিজেকে একটু বই-পত্তর পড়তে হবে যে!!

হোমিওপ্যাথিঃ
1. ‘The principles of homeopathy contradict known chemical, physical and biological laws and persuasive scientific trials proving its effectiveness are not available.’
Russian Academy of Sciences

2. ‘Homeopathy should not be used to treat health conditions that are chronic, serious, or could become serious. People who choose homeopathy may put their health at risk if they reject or delay treatments for which there is good evidence for safety and effectiveness.’
National Health and Medical Research Council, Australia

3. ‘These products are not supported by scientific evidence.’
Health Canada

4 “Homeopathic remedies don’t meet the criteria of evidence based medicine.”
Hungarian Academy of Sciences

5. ‘The incorporation of anthroposophical and homeopathic products in the Swedish directive on medicinal products would run counter to several of the fundamental principles regarding medicinal products and evidence-based medicine.’
Swedish Academy of Sciences

6. ‘We recommend parents and caregivers not give homeopathic teething tablets and gels to children and seek advice from their healthcare professional for safe alternatives.’
US Food and Drug Administration

7. ‘There is little evidence to support homeopathy as an effective treatment for any specific condition.’
National Centre for Complementary and Integrative Health, US

8. ‘There is no good-quality evidence that homeopathy is effective as a treatment for any health condition.’
National Health Service, UK

9. ‘Homeopathic remedies perform no better than placebos, and the principles on which homeopathy is based are scientifically implausible.’
House of Commons Science and Technology Committee, UK

10. ‘Homeopathy has not definitively proven its efficacy in any specific indication or clinical situation.’
Ministry of Health, Spain

11. ‘There is a constant increase in the quantity of evidence and the conviction of the scientific community in medicine, that homeopathy should be treated as one of the unscientific methods of so-called “alternative medicine”, which proposes worthless products without scientifically proven efficacy.’
National Medical Council, Poland

12. ‘From a purely clinical perspective, the fact remains that there is no valid empirical proof
 of the efficacy of homeopathy (evidence-based medicine) beyond the placebo effect.’
Federaal Kenniscentrum voor de Gezondheidszorg, Belgium

https://health.spectator.co.uk/the-debate-about-homeopathy-is-over-the
se-verdicts-prove-it/

Avatar: বাঙাল

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

সবই বুঝলাম খালি বুঝলামনা ভারত ঐসব দেশের সাথে ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে একাসনে বসার যোগ্য! সঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র অজ্ঞানতাবশত ঠিক কত শতাংশ লোক হোমিওপ্যাথি দেখান সেটাও জানার ইচ্ছে রইল।
Avatar: sm

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

পিটি কে জিগাই,ভারতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সরকারের অনুমোদন পেয়েছে কিনা?
দুই, বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানি,ইউ এস এ তে নিষিদ্ধ কি না?
তিন, আবার বলছি কেমোথেরাপি নিয়ে পড়াশোনা করুন।😁
Avatar: PT

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

আমি তো কেমোথেরাপির চর্চা করছি না। করার কোন উদ্দেশ্যও নেই। একটি ওষুধ আবিষ্কারের পেছনে বিজ্ঞানের অবদানের কথা উল্লেখ করেছি মাত্র। সেটি আপনার জানা ছিল না সেটা বুঝেছি। কিন্তু তাতে রাগারাগির কিছু নেই। আমার কাছ থেকে নাহয় কিছু একটা শিখলেন!

আমি হোমিওপ্যাথির পক্ষে বিপক্ষে কিছুই বলিনি। শুধু সারা বিশ্ব জুড়ে হোমিওপ্যাথি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে সেটা এখানে রেখেছি মাত্র।

নিষিদ্ধ না হলেই কোন কিছুর গুনাগুণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না এমন তো নয়। এই আপনি যেমন কেমোথেরাপির ক্ষতির কথা তুললেন। তো ভারতে কি কেমোথেরাপি নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে?
Avatar: এলেবেলে

Re: ধর্মীয় কুসংস্কার, নিপীড়ন ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইন কেন না হলেই নয়

অনেকদিন পর গুরুর টইতে।

@দেবাশিস্‌বাবু, আমার একটা কপিরাইট না নেওয়া বাক্যি আছে সেটা এখানে কার ওপর প্রয়োগ করবেন তা আপনাকে নিয্যস বলে দিতে হবিনিকো!

বাক্যিটা হল গে - কলম্বিয়ায় কাঁঠাল চাষের সম্ভাবনা থেকে কাঁচরাপাড়ার কালোদার দোকানে কফির উর্ধ্বমূল্য পর্যন্ত প্রায় সব বিষয়েই অতীব মনোজ্ঞ বিশ্লেষণের অধিকারীরা এর'মই হন!!!

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 41 -- 60


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন