বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - মহামিছিল ও ডেপুটেশন

আলমগীর খান

মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ছাত্রদের ভবিষ্যত নিয়ে কর্তৃপক্ষের অপরিসীম উদাসীনতা তাদের ঠেলে দিয়েছে দীর্ঘ আন্দোলনের পথে। বৃহত্তর নাগরিক সমাজ এবং মূল স্রোতের সংবাদমাধ্যমের বিস্ময়কর নীরবতার কারনে সাধারন মানুষের কাছে তাদের সমস্যা এবং এবং কার্যকলাপ অনেকটাই অজ্ঞাত। আন্দোলনকারী ছাত্র আলমগীর খান তাদের সাম্প্রতিক অবস্থা এবং পরিকল্পনা জানিয়েছেন এই লেখায়।


উচ্চশিক্ষায় সরকারি প্রতারণার শিকার আমরা মালদার ছাত্রছাত্রীরা চার থেকে ছ'বছর পড়াশুনার পরে বৈধ সার্টিফিকেট পাইনি। এটি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী, মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত এসেছেন, অথচ যাদের জন্যে এই প্রতিষ্ঠানটি তৈরি হয়েছে সেই ছাত্রছাত্রীদেরই ভবিষ্যৎ এখানে অন্ধকারময়। ২০১৬ সালে এই কলেজটির ছাত্রছাত্রীরা প্রথম জানতে পারে কলেজটি পড়াশুনার পরে সার্টিফিকেট দিতে পারবেনা অর্থাৎ কলেজটির অ্যাফিলিয়েটিং অথরিটি নেই। ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করলে সেই সময় আন্দোলন থেকে মুখ ঘোরাতে রাজ্য সরকার ডিপ্লোমা পর্যন্ত সার্টিফিকেট দেবে বলে জানায় এবং বিটেক কোর্সে পাস করা ছাত্রছাত্রীদের কেন্দ্রীয় সরকারের অপর একটি প্রতিষ্ঠান NIT দুর্গাপুর সার্টিফিকেট দেবে বলে কেন্দ্রীয় সরকার একটি চিঠিতে জানায়। পরবর্তীকালে রাজ্য সরকার যে সার্টিফিকেট দিয়েছে সেটা কিসের সমতুল্য কোনো উল্লেখ না থাকায় কার্যত অবৈধ প্রমাণিত হয়েছে এবং বিটেক ব্যাচ এর ছাত্রছাত্রীদের কোনো সার্টিফিকেটই NIT দুর্গাপুর প্রদান করেনি। কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক সকলেই আমাদের দায় ঝেড়ে ফেলেছে। প্রায় তিন বছর ধরে আমরা নিজেদের ন্যায্য পাওনা বৈধ সার্টিফিকেট এর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিবারই আশ্বাস পেয়েছি এবং পরে প্রতারিত হয়েছি। একাধিক উচ্চ্তর কর্তৃপক্ষেরএই অনীহায় বাধ্য হয়ে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ এবং রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে আমরা কলকাতায় এসেছি এবং আজ প্রায় চব্বিশ দিন ধরে কলকাতার নন্দন চত্বরে রানু ছায়া মঞ্চের ফুটপাথে খোলা আকাশের নিচে কখনো রোদ কখনো বৃষ্টিতে ভিজে, রাতে গতিশীল গাড়ির নীচে চাপা পড়ার আতঙ্ক নিয়ে অতিকষ্টে কাটাচ্ছি। কারো কোনো খেয়াল নেই। আমরা জানতাম কলকাতা কখনো কাউকে খালি হাতে ফেরত পাঠায় নি।
জানি সবাই ব্যস্ত; কলকাতার বড়ো বড়ো কলেজের আন্দোলন নয়, আমরা মালদা, মানে গ্রাম থেকে ৩৪০ কিমি দূরে এই শহরে এসেছি তাই কলকাতার কবি, বুদ্ধিজিবী, নাট্যকার, অভিনেতা এদের কাছে আমরা, আমাদের ভবিষ্যৎ ও আমাদের আন্দোলন অতটা দামি না। আবার এই আন্দোলনে অনেক মানুষকে পাশেও পেয়েছি, তারা আমাদের আপন করেছে। দাদা দিদিদের পেয়েছি। দিদিরা আমাদের সকলকে রাখি পরিয়েছে। আমাদের রান্না করে খাইয়েছে - এর থেকে আর আপন কি হতে পারে। কিন্তু প্রশাসনেরও কোন হস্তক্ষেপ নেই - উল্টে নেমে আসছে বিভিন্ন রকম প্রশাসনিক সন্ত্রাস, বারবার আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ মিথ্যে মামলা দিয়ে কেস দিচ্ছে আমাদের নামে। দাবি না পূরণ করেই জোর করে আন্দোলন তোলার চাপ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ, কিন্তু আমাদের ন্যয্য ও বৈধ দাবি না মানা প্রর্যন্ত আমরা থামছিনা।

এমতবস্থাতেও আমরা নিজেদের বৈধ সার্টিফিকেট ও উচ্চশিক্ষার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি এবং প্রতিদিন সরকারি দপ্তরে চিঠি দিয়ে আমাদের ব্যাপারে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করছি। গত ২৯ আগস্ট আমাদের এক ইমেলের উত্তরে রাজ্যপাল দপ্তর জানিয়েছে যে ৬ সেপ্টেম্বর আমাদের সঙ্গে রাজ্যপাল আমাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন। সেই মতো আমরা GKCIET-র সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আমাদের অবস্থান মঞ্চ নন্দন চত্বরের রানু ছায়া মঞ্চ থেকে রাজভবন পর্যন্ত এক মহামিছিলের মাধ্যমে ডেপুটেশনের আয়োজন করেছি। উক্ত মহামিছিলে কলকাতা সহ রাজ্যের সকল প্রান্তের মানুষকে যোগদান করে এই খুন হওয়া ভবিষ্যতের ছাত্রছাত্রীগুলোকে ন্যায় পাইয়ে দেয়ার জোরালো আওয়াজ তোলার দাবি জানাচ্ছি।
আসুন আমাদের পাশে দাড়ান। আমরা কলকাতার সমস্ত মানুষকে পাশে চাই।



125 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ খবর্নয় 
শেয়ার করুন


Avatar: pi

Re: গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - মহামিছিল ও ডেপুটেশন

ছাত্রদের আপডেট

"GKCIET-র আন্দোলন আপডেট:
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর GKCIET-র পড়ুয়াদের কখনোই MHRD-র তরফ থেকে সরকারি ভাবে জানানোই হয়নি তাদের 2+2+2 মডিউলার প্যাটার্ন ঠিক কীসের কীসের ইকুইভ্যালেন্ট। তাদের বরাবর মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, "সব হয়ে যাবে"। এমনকি ২০১৬ সালে যখন দেখা যায় কলেজটির এত সমস্যা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন শুরু হওয়ার পরও MHRD লিখিত ভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তাই বোধ করেনি। ২০১৬ সাল থেকে দীর্ঘ আড়াই বছরের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ৮০০ পড়ুয়ার ইমেল, চিঠি যাওয়ার পরেও MHRD কোনো কর্ণপাত করেনি। কিন্তু কলকাতার রানু ছায়া মঞ্চে অবস্থান শুরু হওয়া এবং তাতে পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র ও নাগরিক সমাজের পাশাপাশি সারা দেশের ছাত্র ও নাগরিকদের সমর্থন এবং নিজের দমে লড়ে যাওয়া নাছোড়বান্দা আন্দোলনের চাপে বাধ্য হয়ে MHRD এই গেজেট নোটিফিকেশন দিতে বাধ্য হয়েছে যে GKCIET-র এই মডিউলার প্যাটার্নের প্রথম দু'বছর 10+2/ভোকেশনাল ইকুইভ্যালেন্ট, পরের দু'বছর ডিপ্লোমা (৩ বছরের) ইকুইভ্যালেন্ট এবং তার পরের দু'বছর বি. টেক (৪ বছরের) ডিগ্রির ইকুইভ্যালেন্ট।

এই আন্দোলনে আমাদের শক্তি জুগিয়েছে কলকাতার বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা এবং সাধারণ মানুষ। অবস্থানের প্রথম দিন থেকেই তাঁরা আমাদের পাশে থেকেছেন সর্বতোভাবে। কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই আমরা যেভাবে কলকাতায় এসেছিলাম, সেখানে আমাদেরকে আর্থিক সহযোগিতা করা, নৈতিক সমর্থন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে আজকের মিছিলে অংশগ্রহণ করা - প্রতিটি পদক্ষেপেই আমরা কলকাতার ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের যে সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য আমরা তাঁদেরকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা এই ভরসা রাখি যে আগামীতেও আমাদের এই আন্দোলনে তাঁরা আমাদের পাশে থাকবেন এবং আমরা সবাই একসাথে মিলে মানুষের সমস্যায় পাশে দাঁড়াবো।

আজ যখন আমরা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যাই, তিনিও MHRD প্রদত্ত গেজেট নোটিফিকেশনের বৈধতা স্বীকার করেন এবং এর ভিত্তিতেই MHRD এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।

কিন্তু বিগত আড়াই বছরের আন্দোলনের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি আমাদের বারবার এখান থেকে সেখান, সেখান থেকে ওখানে এধরণের নানা কিছু বলে ঘোরানো হয়েছে। যেহেতু গেজেট নোটিফিকেশনে এই সার্টিফিকেট কে দেবে এবং উচ্চশিক্ষায় এই পড়ুয়াদের ভর্তির সমস্যাটি কীভাবে নিরশিত হবে সে বিষয়ে কোনো নিৰ্দিষ্ট সমাধানের কথা উল্লেখ করা নেই এবং রাজ্যপালও এই সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা আমাদের দিতে পারেননি, তাই আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। তারই কর্মসূচি হিসেবে আমরা এই নোটিফিকেশনের ভিত্তিতে MAKAUT-এর অধিনস্ত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে বি. টেক কোর্সে ভর্তির ব্যাপারে তাদের সুনির্দিষ্ট সমাধান আদায় করতে আগামীকাল MAKAUT অভিযান করছি।"

GKCIET-র আন্দোলনরত পড়ুয়াদের তরফ থেকে


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন