বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - চতুর্থ কিস্তি

অনমিত্র রায়

লেখাটি যাঁরা পড়ছেন তাঁদের অনেকেই অবগত থেকে থাকবেন যে গত ৮ই আগস্ট, ২০১৮, বুধবার, থেকে জিকেসিআইইটি-র ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন আছড়ে পড়েছে কলকাতায়। কিন্তু আমাদের লেখার আগের কিস্তিটি শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের পয়লা অগাস্টের ঘটনার কথা উল্লেখ করে। অর্থাৎ কালপঞ্জীর হিসেবে এই লেখা প্রায় দু'বছর পিছিয়ে রয়েছে। এই কিস্তিতে চেষ্টা করা হবে সেই ফাঁকটিকে কমিয়ে আনার। তবে সে প্রয়াস খুব একটা ফলপ্রসূ হবে বলে মনে হয় না।

এর কারণ মূলত দুটি।

প্রথমত, তথ্য এবং তথ্যসূত্রের অভাব। আজ অবধি কোথাও কোনো চেষ্টাই হয়নি মালদা জিকেসিআইইটি-র ঘটনাপরম্পরা লিপিবদ্ধ করে রাখার। এদিকে আন্দোলন শুরু হয়ে ২ বছরের ওপর ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত। এর মধ্যে নানান ঘটনা ঘটে গেছে। এইসব ঘটনার সংখ্যা এতই বেশি যে বর্তমানে আন্দোলনরত ছাত্ররাও সঠিকভাবে দিনক্ষণ, তারিখ বা নাম উল্লেখ করতে পারছে না। সমস্তটাই "ওই ঘটনাটা ঘটার ৬ দিন পর মোটামুটিভাবে ধরা যায়" জাতীয় বাক্য হিসেবে আসছে। সেখান থেকে সঠিক তথ্য ছেঁকে তোলার জন্য দরকার নির্ভরযোগ্য প্রমান। অর্থাৎ কিনা, সেই সময়কার ফেসবুক পোস্ট, কলেজ কর্তৃপক্ষের তারিখ নির্দেশ করা চিঠি (যার কিনা সূত্র পুনরায় ফেসবুক পোস্টই) অথবা সংবাদপত্রের প্রতিবেদন। এই দু'বছরে বেশ কিছু প্রতিবেদন আবার হারিয়েও গিয়ে থাকতে পারে অ্যালগোরিদম-এর দৌলতে। যদি তা নাও হয়ে থাকে কিছু আঞ্চলিক সংবাদ পরিবেশকের তো নিশ্চিতভাবেই বলা যেতে পারে যে এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই। উদাহরণ স্বরূপ, ডুয়ার্স খবর নামে একটি ওয়েবসাইট সেই সময় এই আন্দোলন নিয়ে প্রতিনিয়ত সংবাদ প্রকাশ করতো (হিন্দিতে, যদ্দুর সম্ভব)। ওয়েবসাইটটির বর্তমানে ডোমেন চেঞ্জ হয়ে গেছে। নাহলে অনেক তথ্যই যাচাই করে নিতে সুবিধা হতো।

দ্বিতীয়ত, পদ্ধতিগত খামতি। যে কাজ কোনো একজন পেশাদার সাংবাদিক করলে হয়তো ৬-৭টি অ্যাঙ্কর স্টোরিতেই নামিয়ে দিতেন সেই একই কাজ যখন সাংবাদিকতার এক প্রাক্তন ছাত্রকে করতে হয় তখন উপায়ের সংখ্যা স্বাভাবিক ভাবেই সীমিত হয়ে পরে। যথা --- কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সময় লেগে যায়, প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রের সূত্রে স্বাধীন নাগরিকদের সই সম্বলিত চিঠি পাঠিয়েও জবাব আসে না, ইত্যাদি। তার উপর আবার ছাত্রছাত্রীরাও একের পর এক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত। ফলত, সবসময় প্রয়োজন পড়লেই যে তাদের সাথে যোগাযোগ করে ওঠা যাবে এমনটাও নয়। ফলে সময় লাগে, এবং লাগবে ভবিষ্যতেও, যদিও বা শেষ পর্যন্ত এই দলিল সম্পূর্ণ করে ওঠা যায়।

পুরোনো ঘটনায় ফিরে যাওয়ার আগে একটি কথা জানিয়ে রাখার বিশেষ প্রয়োজন বোধ করছি। আজ, অর্থাৎ ১১ই আগস্ট, ২০১৮, দুপুর নাগাদ কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রেস কনফারেন্স করে তাদের বক্তব্য জানিয়েছে। সেখানে তারা ছাত্রদের দাবীগুলিকে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষের নেওয়া সমস্ত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছে। এবং পরিশেষে একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে দিয়েছে যে অনেক প্রচেষ্টার পর এই মুহূর্তে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আর কোনো কিছুই করতে অপারঙ্গম। অর্থাৎ কিনা, ছাত্রদের দাবী মেটানোর বিষয়টি তাদের এক্তিয়ারের বাইরে।

আসলে ভেবে দেখলে কর্তৃপক্ষ শুধু ওইটুকু জানালেই পারতো। কারণ যে প্রচেষ্টার ফল মেলেনি সেই প্রচেষ্টা এই মুহূর্তে নিজেদের প্রতারিত মনে করতে থাকা ছাত্রদের কোনোভাবেই সাহায্য করবে না। বরং অনেক সদর্থক পদক্ষেপ হতো বিষয়টি তাদের এক্তিয়ারের বাইরে বলে জানিয়ে কর্তৃপক্ষ যদি রাজ্যপালকে অনুরোধ করতেন ১৩ তারিখ ছাত্রদের দাবি অনুযায়ী তাদের সাথে দেখা করে তাদের সমস্যা মেটানোর জন্য সত্ত্বর পদক্ষেপ নিতে। এতে ছাত্ররা আশ্বস্ত হতো যে নতুন ডাইরেক্টর আসলে বিষয়টির সমাধানই চান একান্তভাবে এবং ছাত্রছাত্রীদের রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে উঠতে পারার ব্যাপারটাও হয়তো একটু সহজ হয়ে যেত।

যাই হোক।
ফিরে আসি ২০১৬-র অগাস্ট মাসে। এ পর্যন্ত যেভাবে আমরা বিস্তারিত বিবরণে গিয়েছি একেকটি ঘটনার এই পর্যায়ে আমরা সেই ধরনটি ব্যবহার করা থেকে অল্পবিস্তর বিরত থাকবো। এতে আমাদের ফাঁক কমিয়ে আনার কাজটি করতে সুবিধা হবে। সত্যি বলতে ততটা তথ্য জোগাড় করাও হয়তো আর সম্ভব নয়। কারণ ২০১৬তে আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে গণমাধ্যমগুলি যেভাবে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিল, এই দ্বিতীয় পর্যায়ে তাদের সেই ভূমিকা আর দেখা যায় না। উৎসাহে খামতি ঘটেছিলো হয়তো। এক জিনিস নিয়ে লিখে লিখে আর কদিনই বা পাঠকের কৌতূহল ধরে রাখা যায়। নিতান্তই জেলা শহরের ছাত্র আন্দোলন। সে আর এমন কি রসের বিষয়!

দোসরা অগাস্ট, ২০১৬, জিকেসিআইইটি মালদা-র ছাত্রছাত্রীরা ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে। তাদের মূল বক্তব্যের সংখ্যা ছিল আট।
১) এনাইটি দুর্গাপুর এবং জিকেসিআইইটি-র প্রফেসর ইন চার্জ ভর্তির বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করছেন না কেন?
২) পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করা হচ্ছে না কেন?
৩) ছাত্রছাত্রীরা ভুখ হরতালের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে অথচ আধিকারিকরা প্রতিষ্ঠানে আসছেন না কেন?
৪) প্রতিষ্ঠানে না এসেও আধিকারিকরা বেতন পাচ্ছেন কেন?
৫) প্রফেসর ইন চার্জ শুভাশীষ দত্ত এবং সুপারিন্টেন্ডেন্ট দেব হালদার কিছু বহিরাগত এবং সিনিয়র ছাত্রদের আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর লেলিয়ে দিয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছেন কেন?
৬) নিয়াজুম হেগিনস নামক ছাত্র এবং অরুণাচল প্রদেশ থেকে আগত তফসিলি জাতিভুক্ত এক ছাত্রীকে হেনস্থা করার ঘটনায় পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন?
৭) জিকেসিআইইটি-র আধিকারিক ও ফ্যাকাল্টিদের মধ্যে বয়ে চলা "ক্ষয়িষ্ণু চোরাস্রোত" (!) প্রতিষ্ঠানটির ক্ষতি করছে। এসব বন্ধ করা প্রয়োজন।
৮) ওয়ার্কশপের সংখ্যা বাড়াতে হবে। লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। শিক্ষক এবং হোস্টেলের সংখ্যাও অপর্যাপ্ত এবং অবিলম্বে বাড়ানো প্রয়োজন।

ছাত্রদের বিক্ষোভ যাতে জেলা প্রশাসনিক চত্বরে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে ছড়িয়ে না পরে তার জন্য আগে থেকেই ব্যাপক পুলিশি ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। শতাধিক পড়ুয়া মিছিল করে এসডিও-র কাছে ডেপুটেশন জমা দিতে আসার পথে ফোয়ারা মোড়ে তাদের আটকে ডিভাইডার দিয়ে প্রবেশ পথ ঘিরে ফেলা হয়। ফলস্বরূপ সেখানেই ছাত্রছাত্রীরা অবস্থান বিক্ষোভ দেখতে শুরু করে। কিছু সময় পরে ছ্যাত্রদের কয়েকজন প্রতিনিধিকে এসডিও-র সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তৎকালীন অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) দেবতোষ মন্ডলের বক্তব্য অনুযায়ী ছাত্রদের দাবী শোনা হয় এবং জিকেসিআইইটি-র টিচার ইনচার্জকে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য আস্তে বলা হয়। পরবর্তীতে গোটা বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রিপোর্ট পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

তেসরা অগাস্ট, ২০১৬ ছাত্রছাত্রীদের দ্বিতীয় দফার অনশন পঞ্চম দিন ছিল। এইদিন লাগাতার অনশনের জেরে দুই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। একজন কম্পিউটার সায়েন্সের সার্টিফিকেট কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নীতা যাদব এবং অপরজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্রী সুপ্রীতি অধিকারী। ছাত্রী দু'জনকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ডাক্তাররা তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানান।

চৌঠা অগাস্ট, ২০১৬ নোটিস জারী করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয়। এনআইটি দুর্গাপুরের রেজিস্ট্রার এই নির্দেশিকা জারী করেন। হোস্টেল খালি করে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। আন্দোলনরত ছাত্রদের বক্তব্য অনুযায়ী মাত্র দু'জন আধিকারিকের ভুল বোঝানোর ফলে এনআইটি এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, ত্রিপুরা এবং মেঘালয় ইত্যাদির মতো ভিনরাজ্যে থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা অসুবিধার মধ্যে পড়ে। জিকেসিআইইটি এবং এনআইটি-র তৎকালীন ডিরেক্টর শ্রী অশোককুমার দে জানান, একশ্রেনীর পড়ুয়ারা ক্লাস হতে দিচ্ছে না। ফলে নিরাপত্তার চরম সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই অনাস্থার পরিবেশেরই ফসল এই নির্দেশিকা। ভর্তি এবং পরীক্ষার বিষয়ে ইতিমসয়েই চিঠি দিয়ে স্টেট্ কাউন্সিলের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে কিন্তু এখনো উত্তর আসেনি। উত্তর এলেই সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। এই ব্যবস্থা নিতান্তই সাময়িক। এরপর প্রকাশ মিশ্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী অশোকবাবু পাটনায় কত টাকায় হোস্টেল ভাড়া করে কজন ছাত্রকে রাখা হয় এবং মালদায় কিভাবে ২০ জন কম ছাত্রকে রাখতে গিয়ে মাসে আড়াই লক্ষ টাকা বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে এবং এসবের জন্য যে আসলে প্রাক্তন চেয়ারম্যানই দায়ী এই জাতীয় অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলেন যার সাথে ছাত্রদের আন্দোলন বা প্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। কাজেই এইসব কথাবার্তা উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করছি না। এসব জিকেসিআইইটি-র তৎকালীন অ্যাকাউন্ট্যান্ট ছাড়া আর কারুরই বোধহয় জানার বিশেষ প্রয়োজন নেই। আমাদের তো নেই-ই।

৫ই অগাস্ট, ২০১৬ প্রসেনজিৎ মন্ডল নামক আরও এক ছাত্র অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এইদিনই ফ্যাক্স পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী শ্রী প্রকাশ জাভড়েকর মহাশয়কে। এই ফ্যাক্স বার্তায় উল্লেখ ছিল যে ২৬ দিনের আন্দোলনের পর অ্যাফিলিয়েশনের সমস্যা মিটলেও নতুন করে পরীক্ষা ও ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেই সমস্যার সমাধানে ছাত্ররা অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ ক্লাস বন্ধ করে হোস্টেল খালি করাচ্ছে। এবং এই অবস্থার জন্য কর্তৃপক্ষ উল্টে ছাত্রদেরই দায়ী করছে। এর ফলে ভিনরাজ্যে ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ভিনরাজ্য থেকে আসা ছাত্রীদের সংখ্যা এই ফ্যাক্সবার্তা অনুযায়ী দেড়শো। সর্বমোট আটশো পড়ুয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে। এছাড়াও এই বার্তায় জানানো হয় যে, ২০১৬-র জুন মাসে এনআইটি-র সেনেট মিটিং-এ নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে জিকেসিআইইটি কোনো ছাত্র ভর্তি নিতে পারবে না। অন্যদিকে ওই মিটিং-এই আবার বিটেক-এর অ্যাফিলিয়েশনের বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকলেও সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনামা জারী করা হয়নি। ফলে চলতি শিক্ষাবর্ষে বিটেক পাশ করে বেরোতে চলা ১৮০ জন ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতও অনিশ্চিত। ছাত্রদের পড়াশোনা এবং বিচারের অধিকারের বিষয়টি যাতে মন্ত্রীমশাই সুনিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন সেই মর্মে এই ফ্যাক্সবার্তাটিতে অনুরোধ রাখা হয়েছিল।

এর পরের ঘটনা ঘটে ১৫ই অগাস্ট, ২০১৬। ক্লাস বন্ধ ছিল, হোস্টেল খালি ছিল, অধিকারিকরাও আসছিলেন না, ফলে গন্ডগোলের সম্ভাবনা প্রায় ছিল না বললেই চলে। কিন্তু, বেধে গেলো। তাও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে। ছাত্রছাত্রীদের ইচ্ছে ছিল যে ক্লাস বন্ধ থাকলেও ক্যাম্পাসে ১৫ই অগাস্ট জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হোক। সেই জন্য তারা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টাও করে। কিন্তু সাড়া মেলেনি। ফলে ছাত্ররা প্রবীণ এক গ্রামবাসীকে দিয়ে ওইদিন পতাকা উত্তোলন করায়। এর ঠিক পরপরই জাতীয় পতাকা তোলার জন্য নারায়ণপুর ক্যাম্পাসে এসে উপস্থিত হন টিচার ইনচার্জ শ্রী শুভাশীষ দত্ত মহাশয়। এসে তিনি দেখেন পতাকা তোলা হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। এই ঘটনায় তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করে জানান যে দোষী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেইমতো ১৬ই অগাস্ট কর্তৃপক্ষ একটি মিটিং ডাকেন। ছাত্রদের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী সেই মিটিং-এ নাকি জানতে চাওয়া হয় কোন সাহসে ছাত্ররা কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতিতে বিনা অনুমতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করায় ক্যাম্পাসের মধ্যে, তাও একজন "দলিত"-এর হাত দিয়ে ! এই ঘটনার রেশে ১৯শে অগাস্ট ৩জন অজ্ঞাতপরিচয় গুন্ডা ক্যাম্পাসে এসে আন্দোলনরত ছাত্রদের হুমকি দিয়ে যায় এবং, ডুয়ার্সখবর ডট কম-এর ২০শে অগাস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক ছাত্রকে বহিস্কার করা হয়। বর্তমানে ওয়েবসাইটটির ডোমেন চেঞ্জ হয়ে যাওয়ার ফলে উক্ত ছাত্রের নাম জানা যায়নি। ফেসবুকে শেয়ার হওয়া লিঙ্কটির থাম্বনেল-এ ডেটা স্ক্রেপিং উত্তর প্রদর্শিত হেডলাইনের মাধ্যমে এই বহিষ্কারের কথা জানা যাচ্ছে।

এর পরের পর্যায়ের ঘটনাসমূহের সত্যাসত্য বিচার করা অসম্ভব। কারণ এ পর্যন্ত যে ক'টি প্রতিবেদন পাওয়া যাচ্ছিলো এর পর আর তাও পাওয়া যায় না। ৫ই ডিসেম্বর, ২০১৬-র আগে আর কোথাও কোনো খবরের কাগজে বা ওয়েবসাইটে জিকেসিআইইটি বিষয়ক কোনো প্রতিবেদন সম্ভবত প্রকাশিত হয়নি। ফলে ফেসবুক থেকে যেটুকু যা জানা যাচ্ছে ---

১) ২১শে সেপ্টেম্বর নাগাদ একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। সাকেত কুমার সোনু নামে সম্ভবত এক বহিরাগত আন্দোলনরত এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। পুলিশে অভিযোগ জানিয়ে লাভ হয়নি, এবং কোনো এক কারণে ছাত্রদের ধারণা হয় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি তৎকালীন টিচার ইনচার্জের পরিচিত এবং টিচার ইনচার্জ তাকে অভিযোগের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। ২) ৬ই অক্টোবর, ২০১৬ এবং ২৮শে অক্টোবর, ২০১৬ যথাক্রমে সার্টিফিকেট কোর্স এবং ডিপ্লোমা কোর্সের সার্টিফিকেট দেওয়া হবে বলে নোটিশ দিয়ে জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। সেই প্রতিশ্রুতি, যথারীতি, রাখা হয়নি।

৩) পয়লা নভেম্বর, ২০১৬ স্টুডেন্ট ইউনিটি-র উদ্যোগে গনি খান চৌধুরী সাহেবের জন্মদিন উদযাপন করা হয়। ওইদিনের অনুষ্ঠানে যাঁরা যাঁরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে তাঁরা হলেন ডালু বাবু, আলবেরুনী দা, মোস্তাক আলম কাকু, এবং মাসুদ দা। এঁদের মধ্যে একজন এমপি এবং অন্তত দুজন এমএলএ। ফেসবুক পোস্টে ছাত্র সংগঠনটি ঠিক এই নামগুলি উল্লেখ করেই এঁদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে।

এরপর ৫ই ডিসেম্বর, ২০১৬ নারায়ণপুরের মূল ক্যাম্পাসে গন্ডগোল লাগে। সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা কোর্সের ছাত্ররা ক্যাম্পাসে ভাংচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৭ই নভেম্বর থেকে টিচার ইনচার্জ শুভাশীষ দত্ত প্রতিষ্ঠানে গরহাজির। তাই সার্টিফিকেট পাশ ছাত্রদের ডিপ্লোমায় ভর্তি ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রদের রেজিস্ট্রেশন আটকে গেছে। তাদের বক্তব্য থেকে আরো জানা যায় যে, জুলাই মাসে যে পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল তা শেষ অবধি শেষ হয়েছিল নভেম্বর মাসে এসে। এছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক নাকি এই ইনচার্জের নিয়োগে পদ্ধতিগত ত্রুটি খুঁজে পেয়ে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সাংবাদিকরা শুভাশীষ বাবুর মতামতের জন্য তাঁকে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেননি এবং চেয়ারম্যান অর্ধেন্দু ভট্টাচার্য্য বলেন যে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না, খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন বড়জোর।

এরপর ৮ই ডিসেম্বর উত্তরবঙ্গ সংবাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ তারিখ পুনরায় প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ জারী করা হয়। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। একই সাথে পুনরায় হোস্টেল খালি করার নির্দেশও ছিল। ভরা শীতের মধ্যে হোস্টেল খালি করার নির্দেশ দিলেও ছাত্রছাত্রীরা কোথায় যাবেন সে নিয়ে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করেনি কর্তৃপক্ষ। যথারীতি ভিনরাজ্যের থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা পুনরায় সমস্যায় পড়ে। এদিকে ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের সমস্যার সমাধান করার সদিচ্ছা নেই বলেই বারবার এরকম নির্দেশ জারী করা হচ্ছে। তাদের বক্তব্য থেকেই জানা যাচ্ছে যে ওই একই সময়ে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়েও ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিলো। তাতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি মোটেই। ছাত্রছাত্রীরা এদিন জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ দেখায় এবং তারপর তাদের তরফে জেলাশাসককে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের কাছে ছাত্রদের পেশ করা বক্তব্য অনুযায়ী তখনও ডিপ্লোমা কোর্স ভর্তি আটকেই রয়েছে, দ্বিতীয় বর্ষের রেজিস্ট্রেশনও চালু হয়নি এবং সেই জাভড়েকর মহাশয়কে পাঠানো ফ্যাক্সবার্তায় বিটেকের অ্যাফিলিয়েশন সংক্রান্ত যে নির্দেশনামার উল্লেখ ছিল সেটি তখনও জারী করা হয়নি। অর্থাৎ এককথায়, অবস্থা বদলায়নি একটুও। যার ফলেই ছাত্ররা অধৈর্য হয়ে চূড়ান্ত পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। তাদের আরো দাবী যে, যেহেতু শুভাশীষ বাবুর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে তাই তিনিই আড়াল থেকে প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে ছাত্রদের ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিন আবার অর্ধেন্দুবাবু ফোন ধরেননি বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে অশোকবাবু (তৎকালীন তত্বাবধায়ক ডিরেক্টর) জানিয়েছেন যে ছাত্ররা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটানোর ফলে আধিকারিক, শিক্ষক এবং কর্মীরা সকলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাই প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হচ্ছে আপাতত। ভর্তির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যে রেসাল্টই বেরোয়নি এখনো। রেসাল্ট না বেরোলে ভর্তি সম্ভব নয়। তাছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন ছাত্রছাত্রীরা নাকি বই সামনে খুলে রেখে লিখছিলো। ফলে পুলিশি প্রহরায় পরীক্ষা চালাতে হয় পরদিন থেকে। এরপর ছাত্রদের দাবী ছিল স্থানীয় পর্যায়ে খাতার মূল্যায়নের দায়িত্ত্ববন্টন করতে হবে, কিন্তু সেই দাবী মানা সম্ভব নয়। স্টেট্ কাউন্সিলের নির্দেশ অনুযায়ী পরীক্ষা ব্যবস্থা চালানো হচ্ছে, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই। রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি নিয়েও কাউন্সিলকে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং উত্তর আসেনি এখনো। উত্তর না এলে কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই। মানবসম্পদমন্ত্রক থেকে কি সত্যিই শুভাশীষবাবুকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে? -- এই প্রশ্নের উত্তরে অশোকবাবু জানান এসব ভিত্তিহীন কথাবার্তা। ওনার কাছে এরকম কোনো খবর নেই। এর আগে একবার ইনচার্জকে দিয়ে জোর করে পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আর এর মধ্যেই নতুন রেজিস্ট্রার ও ডিরেক্টর যোগদান করার কথা আছে। তিনি এটুকুই জানেন।

৯ই ডিসেম্বর, ২০১৬ ছাত্রছাত্রীরা অতিরিক্ত জেলাশাসক আয় বিমলা-র সাথে দেখা করে বিষয়টিতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবী জানায়। ওইদিনই দুপুরে তারা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ডাঃ মোয়াজ্জেম হোসেন-এর সাথেও দেখা করে। ডাঃ হোসেন ডিরেক্টর অশোকবাবুকে ফোন করে ছাত্রছাত্রীদের দাবিগুলি নিয়ে আলোচনা করে প্রেস বিবৃতিতে জানান, " এটি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান। রাজ্য সরকারের স্টেট্ কারিগরী কাউন্সিল সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা কোর্সের অ্যাফিলিয়েশন দিয়েছে। তারপরও কেন প্রতিষ্ঠানে বন্ধের নোটিস ঝোলানো হলো? এটা কি প্রতিষ্ঠানটিকে মালদহ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত করছে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক? সমস্যাটি নিয়ে আমি রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করবো"।

ডাঃ হোসেন আলোচনা করেছিলেন কিনা বা সেই আলোচনায় কি কথা হয়েছিল জানা নেই। ছাত্র্রছাত্রীরা সত্যিই বই খুলে বসে পরীক্ষা দিয়েছিলো কিনা, শুভাশীষবাবুকে দিয়ে জোর করে পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নিয়েছিল কিনা তাও জানা নেই। আবার মন্ত্রক থেকে সত্যিই শুভাশীষবাবুকে বরখাস্ত করার সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল কিনা এবং সমস্ত চক্রান্তের আড়ালে ওই ব্যক্তিই ছিলেন কিনা তাও জানা যায় না। জানা যে যায় না, তার কারণ মাঝেমাঝেই গণমাধ্যম ঘুমিয়ে পড়েছে। একটা স্টোরি যে সম্ভাব্য ফলো-আপ স্টোরিগুলোর জন্ম দিতে পারে সেগুলো উঠে আসেনি যখন প্রয়োজন ছিল। ফলে আজ দেড় বছরেরও বেশি সময় পড়ে আন্দাজ এবং অনুমান ছাড়া আর বিশেষ কিছুই করার থাকে না।

৯ই ডিসেম্বর,২০১৬-র পর পুনরায় গণমাধ্যমে নৈঃশব্দের শৈত্য। সোশ্যাল মিডিয়াতে এরপর ২৯শে ডিসেম্বর ছাত্রদের পোস্ট দেখা যাচ্ছে যেখানে তেসরা জানুয়ারী মালদা বৃন্দাবনীর মাঠে সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের জড়ো হওয়ার আহ্বান রাখা হচ্ছে। এই পোস্ট অনুযায়ী তখনও অবস্থার বদল ঘটেনি একফোঁটাও। ইনস্টিটিউট খোলার জন্য কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনাই এই জমায়েতের উদ্দেশ্য বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু সেদিন জমায়েত হয়েছিল কিনা, বা হয়ে থাকলেও কি আলোচনা হয়েছিল জানবার কোনো উপায় নেই।

এরপর ১০ই জানুয়ারী, ২০১৭ জিকেসিআইইটি-র ছাত্রছাত্রীরা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠায়। চিঠিটি হুবহু নিচে তুলে দেওয়া হলো।

January 10, 2017

To
The Hon’ble Prime Minister (Govt. of India)
Shri. Narendra Modi
New Delhi ,India

Sub: Urgent. Call for Mass movement. from Students of GKCIET, Malda, West Bengal

Respected Sir/Madam,
This for your kind attention that we students of GKCIET which is Centrally funded institute of Ministry of HRD, Govt. of India in Malda, West Bengal have been looking forward to call a mass movement by sending request to other Universities' and Institutes' students to join us to support our voice of protest against injustice being carried out by GKCIET authority and its mentor institute NIT, Durgapur. Out of frustration of 5 years in GKCIET we have come to this condition of fear that how long our academic career would be abused by GKCIET authority and NIT, Durgapur. We have come to this institute from all over the India with hope and dreams but everything seems to be painful due to mismanagement, false commitment, poor infrastructure of GKCIET. Simply we students and our parents are betrayed here and we are in middle of no where.

Take necessary action and save our future by saving and reopening GKCIET which is completely closed since more than one month by official order of NIT,Durgapur. And take rigorous action against the culprits and conspirators who are still playing with the future of thousand innocent students. If no action has been taken to solve our problems by this week we will call mass movement through social net work in the country.

Thanking you
Sincerely
All GKCIET students
Malda, West Bengal
India

এরপর জানুরীর ১১ তারিখ কর্তৃপক্ষ জিকেসিআইইটি-র সমস্ত কর্মীদের উদ্দেশ্যে অর্ডার জারী করে। অর্ডারটিতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময়ে স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে হাত মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া ছিল। বলা ছিল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীনও এই দায়িত্ত্ব পালন করে যেতে হবে। এই আদেশনামার ফলে কতটা কি হয়েছিল জানা যায়না। তবে কোনো বড় গন্ডগোল যে হয়নি সেকথা ধরে নেওয়াই যায়। কারণ এরপর আবারও ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহের আগে জিকেসিআইইটি-র নাম কোনো সংবাদপত্রে প্রকাশিত হবে না।

(ক্রমশ)


<<আগের পর্ব



56 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা  খবর্নয় 
শেয়ার করুন


Avatar: ছাগলছানা

Re: নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - চতুর্থ কিস্তি

তথ্যসূত্র গুলোর লিংক গুলো দিয়ে দিলে ভালো হত. এমনকি যে সাইট টা এখন আর নেই সেটার ও.
কেউ না কেউ কপি দিয়ে দিতে পারত .

সুত্র গুলোর লিংক না থাকায় কিছুই করা যাচ্ছেনা.
Avatar: Anamitra Roy

Re: নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - চতুর্থ কিস্তি

বেশির ভাগই পেপার কাটিং। এর বাদে সমস্ত লিংক জিকেসিআইইটি-র ফেসবুক পেজেই পাওয়া যাবে। স্ক্রল করে নামতে হবে শুধু টাইমলাইন ধরে। https://www.facebook.com/gkciet.gsu/
Avatar: ছাগলছানা

Re: নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - চতুর্থ কিস্তি

উহু সেটা না.
যেই ওয়েবসাইট এর কথা বলেছিলেন যে এখন আর exist করেনা, ডোমেইন নেই. যেটা অ্যাকচুয়াল খবরের কাগজ এবং প্রতিবেদন ছেপেছিল. তার আগেরকার ডোমেইন টা কি ছিল.

Ba URL
Avatar: ছাগলছানা

Re: নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - চতুর্থ কিস্তি

btw " উদাহরণ স্বরূপ, ডুয়ার্স খবর নামে একটি ওয়েবসাইট সেই সময় এই আন্দোলন নিয়ে প্রতিনিয়ত সংবাদ প্রকাশ করতো (হিন্দিতে, যদ্দুর সম্ভব)। ওয়েবসাইটটির বর্তমানে ডোমেন চেঞ্জ হয়ে গেছে। নাহলে অনেক তথ্যই যাচাই করে নিতে সুবিধা হতো।"

এটা বোধয় প্রতিনিয়ত না. কারণ ওদের ওয়েবসাইট এ মাত্র দুটো খবর প্রকাশিত হয়েছিল. এবং টাও সরাসরি এই আন্দোলন নিয়ে না

http://dooarskhabar.in/news/hrd-appointed-new-director-in-ghanikhan-co
llage/

http://dooarskhabar.in/news/blood-donation-camp-in-gkceit-collage-mald
a/

Avatar: Anamitra Roy

Re: নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - চতুর্থ কিস্তি

http://dooarskhabar.in -ই ছিল যদ্দুর মনে পড়ছে। ওখানে এইদুটো ছাড়াও আরো বেশ কিছু খবর বেরিয়েছিল। কিন্তু লিংক যেগুলো পাচ্ছি ফেসবুকে পেজ-এ সেগুলো ফলো করে কোথাও পৌঁছনো যাচ্ছে না। ফলে আমার মনে হলো মাইগ্রেট করেছে নিশ্চয়ই এর মধ্যে। ডোমেন নয়, কথাটা মনে হয় হোস্টিং হবে, শিওর নই। অথবা এও হতে পারে যে ওরা জাস্ট খবরগুলো উড়িয়ে দিয়েছে। আগেরদিন কথা বলে জানতে পারলাম নাম না জানতে পারা সেই বিতাড়িত ছাত্র আসলে সাইন জাহেদী। পরে ওকে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয় ওই কাগজটি ছিঁড়ে ফেলে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন