বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ডি-ভোটার

পার্থপ্রতিম মৈত্র

যারা মানুষকে দেশহীন, কালহীন, নামগোত্রহীন ক'রে নোম্যানসল্যাণ্ডে ছুঁড়ে ফেলে, নন-এন্টিটি করে দেয়; সেইসব হিংস্র রাজাকার বাহিনীর উদ্দেশে

তবে কি আমাকে দেখলে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠো তুমি, আজও এই নির্বাচনকালে
তুমিতো জেনেছো আমি 'ডি-ভোটার', ভোটকেন্দ্রে যাত্রা নাস্তি উৎসব সকালে
নাগরিকসত্বা ক্রমে ক্ষয়ে যাচ্ছে বিনাব্যবহারে, রেজিস্টার মুছে দিচ্ছে নাম
এই গণতন্ত্রে আমি ইয়ে করি, অপরাধ নিওনা প্রভু, ভোটেশ্বর তোমাকে প্রণাম
অবশ্য প্রবল রাগে দাঁত কিড়মিড় ছাড়া আর কী বা করতে পারে দেশ ?
ধর্ষণে, বর্ষণে, কিংবা ভূমিকম্পে টলমল, ত্রাণ হাতে প্রার্থীর প্রবেশ

অনেক উদ্বাস্তুজন, সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ তারা, প্রতি বুথে নিশ্চিন্ত ভোটার
সংবিধানে আস্থা তার, নির্বাচনে আস্থা তার, তার সামনে সুকৃতির দ্বার
পরিচয়পত্রখানি অযত্নে হারিয়ে ফেলে, বেঁচে আছি তার কী প্রমাণ ?
ভেসে এসে, ভেসে যাচ্ছি, রিফিউজি ক্যাম্প জুড়ে দশমী ভাসান
ভোটাধিকার না থাকলেও দিব্যি দিন চলে যায়, গণতন্ত্রে ক্যাম্পই ঘরবাড়ি
সংবিধান ছুঁয়ে বলছি, দু-পাঁচশো টাকা পেলে ভোটারলিস্টও বেচে দিতে পারি

কাল নির্বাচন, পরশু নির্বাসন দণ্ড, লিস্ট থেকে ডি-ভোটার বাদ
এই গণতন্ত্রে আমি ইয়ে করি, অপরাধ নিও না প্রভু, ভোটযন্ত্রে ক্ষমতার স্বাদ


[অনেকদিন আগে প্রকাশিত "বদরপুর জংশন" কবিতাগ্রন্থের শেষ কবিতা]



53 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ বুলবুলভাজা  কাব্যি 
শেয়ার করুন


Avatar: aranya

Re: ডি-ভোটার

ভাল লাগল


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন