বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দিদা-মা-নাতনি-পুতনি – এক মাতৃতান্ত্রিক ইতিকথা

যশোধরা রায়চৌধুরী

দুটো, কি তিনটে মেয়েবেলা মুখোমুখি, পিঠোপিঠি।

একটা মেয়েবেলা আমার পূর্ব নারীদের। আমার মায়ের, আমার দিদিমার। অন্য মেয়েবেলা আমার। তৃতীয় মেয়েবেলা আমার মেয়ের।

স্পষ্ট করে দেখতে পাই সবকটিকেই। কেননা কোথাও কোন বিভ্রান্তি নেই, কোন ঝাপসা সেন্টিমেন্টের পর্দা ঝোলানো নেই। কোথাও নেই কোন বাধা, এই সব মেয়ে জীবনের দিকে তাকানোর। সবটাই যেন খুব দ্রুত ঘটে গেল। কিন্তু যুগ পাল্টানোর এই দিনকালে, একের পর এক প্রজন্মে কী বিশাল সব পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে যে, সেটা দেখে আশ্চর্য হওয়ার সুযোগ ও আমরা পেলাম না।

মায়ের মেয়েবেলা ও দিদার মেয়েবেলার এক দিক থেকে তফাত ছিল না হয়ত। কারণ তখনো মূলত ভাবা হত মেয়েদের জন্ম সংসার করার জন্য। সুগৃহিণী, সু মাতা হতে গেলে অল্প বিস্তর শিক্ষাও চাই বইকি। তাই পড়াশুনো। গান শেখা, ছবি আঁকা শেখা। কবিতা লিখলে তাও গোপন খাতায়। কোনকিছুই পেশাগতভাবে করার কোন চাপ ছিল না সমাজের। বরং উল্টো চাপ। এখন গান শিখছ কিন্তু বিয়ের পর গান রাখতে পারবে না।

মা ও দিদার মেয়েবেলার মূল তফাত ছিল এই যে, আমার দিদার মেয়েবেলা বাবা মায়ের স্নেহক্রোড়ে, বাংলাদেশের ঢাকা শহরে এক নি শ্চিন্ত ভাবে কেটেছিল, আর মায়ের শৈশবে দেশভাগের প্রবল অনিশ্চিতি , ও বাংলা থেকে সপরিবারে চলে আসার বেদনা ছিল। মায়ের যখন বারো তেরো বছর বয়স তখন দেশভাগ ও স্বাধীনতা এল। সেই সময়ে মায়েদের কলকাতায় বাসাবাড়ি বা ভাড়াবাড়ির জীবন শুরু। অসংখ্য ভাইবোন নিয়ে মায়েদের এক বিপুল আনন্দ ধাম ছিল শৈশবে। মা ছিল গাছকোমর করে ডুরেপার ধনেখালি পরা, ডাকাবুকো এক দিদি, সবার লিডার। উত্তর কলকাতার রাজাবাজার অঞ্চলে, মায়েদের শৈশবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আঁচ ছিল, আবার একইসঙ্গে ছিল গান, ছাতে ম্যারাপ বেঁধে নাটক, দোলের দিনে হারমোনিয়াম বের করে গান বাজনা, জন্মদিনে ব্রাহ্ম ঢঙে তোমারি গেহে গাওয়া, ভোর বেলা বাবার সঙ্গে ছাতে উঠে জবাকুসুমসঙ্কাশম বলা, ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়ের বান্ধবীদের সঙ্গে আম কুড়নো আর বাড়ি থেকে তেল নুন নিয়ে গিয়ে টিফিন বেলায় তা মেখে খাওয়া। রাজাবাজারের বাড়িতে ছেচল্লিশের দাঙ্গার রাতে মায়ের স্মৃতিতে স্পষ্ট ছিল সব পরিবার এক সঙ্গে হয়ে ছাতে বসে ভয়ে কাঁপার কথা। ইঁট পাথর কেরোসিন জমিয়ে রাখার কথা। গলির মুখের ঘরে মুসলমান দারোয়ানজির দরদ আর সাহসের সঙ্গে মুসলিম দাঙ্গাকারীদের হটিয়ে দিয়ে , সারা পাড়ার হিন্দু বাসিন্দাদেরকে বাঁচাবার কথা।

দিদা ছিলেন মেম ইশকুল ইডেন স্কুলে পড়া, অর্গ্যান বাজিয়ে গান গাইতে শেখা, গা ঢাকা ফ্রিল দেওয়া পুরু কাপড়ের ঘরে তৈরি ফ্রক পরা মেয়ে, ইংরেজি আর ফরাসি শিখেছিলেন ইশকুলে। বাংলা আর সংস্কৃতও। আর এই চারটি ভাষা তাকে কখনো ছেড়ে যায়নি। ১৯০৩ সালের ভারতবর্ষে আলো আরো আলো চেয়েছে যে শিক্ষিত বাঙালিকুল, তাদেরই প্রতিভূ ইনি। নিজের শৈশবের অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছলতার আরাম ছেড়ে, অনায়াসে তাঁর যৌবনে ভাঙ্গা ভারতের কলকাতা শহরে এসে বাসাবাড়িতে আট সন্তানকে মানুষ করার পাশাপাশি অগণিত আত্মীয় কুটুম্ব বান্ধবকে নিয়ে চলেছেন, শাড়ি কেটে পর্দা বানিয়েছেন, বড় হাঁড়িতে রান্না চাপিয়েছেন, তবু শেষ বেলায় খাবার সময়ে হয়ত অন্য কোন জ্ঞাতিভাই-দেওর এসে ধুলোপায়ে হাজির হয়েছে । ও বাংলা থেকে উৎখাত মানুষের ভিড় দাদুর কাছে লেগেই থাকত।




মায়ের জন্ম ১৯৩৫। আমার মায়েরা কলেজ যেতেন, প্রেসিডেন্সিতে অঙ্ক ক্লাসে, মেয়েরা দল বেঁধে ঢুকতেন। সংখ্যালঘু মেয়েরা স্যারের সঙ্গে ঢুকতেন, স্যারের সঙ্গে বেরোতেন। ছেলেরা তাঁদের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলত। কেউ কেউ দুষ্টুমি করে মৌরি লজেন্স রেখে আসত কাঠের টেবিলে, আঁচল দিয়ে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে রাগি রাগি কঠোর মুখে মায়েরা সে টেবিলে বসতেন। ছেলেদের উচিত শিক্ষা দিতেন।

আমার এক মামা, যাঁর জন্ম ১৯৪২ এ, তিনি কিন্তু পরিবারের প্রথম প্রেম করে বিয়ে করা ছেলে। তার ওপর আবার বেজাতে। মানে, মামা কায়স্থ কিন্তু মামি ব্রাহ্মণ ছিলেন। সে প্রেমের কাহিনি গল্পের বইয়ের মত। বন্ধুর বোনের সংগে প্রেম করেছিলেন মামা। আমাদের ছোট্টবেলায় কিন্তু, স্পষ্ট মনে আছে, সে খবর আমরা প্রায় গুড়গুড়ে বয়স থেকেই জানতাম। মায়েদের আলোচনা থেকেই জেনেছিলাম নিশ্চিত। অর্থাৎ, প্রেমের গল্প শোনার অভ্যাস সে সময়েও শিশুদের ছিল, এখনকার শিশুদেরই শুধু দোষ দেওয়া হয় যে তারা সব জেনে ফেলেছে!

তো সেই মামু মামির অভ্যাস ছিল গঙ্গার ধারে যাওয়া, দোতলা বাসের সামনের সিটে বসা, ট্রামে চেপে ঘুরতে থাকা। ট্রামই এক মাত্র যান যা ডিপো থেকে ডিপো গিয়ে আবার রওনা হয়ে যায়। এ এক অনন্ত গোলাকৃতি পথ। ট্রামের সামান্য কয়েক পয়সা ভাড়া দিয়েই এভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা কলকাতার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত যাওয়া যায়, ট্রামের সিটে বসে বসে। কেউ নামিয়ে দেয়না।

তাছাড়া ছিল চায়ের দোকান। হামেশাই যা বাংলা সিনেমার উপাদান। কত না ছবিতে দেখা গেল সেই কাটলেট চপ সাজানো, কাঁটাচামচ দেওয়া সাদা চিনেমাটির প্লেট, নুন মরিচের ডিবে আর লাল পর্দা ঢাকা চায়ের কেবিনের ছোট্ট ঘর। সেযুগে, নস্টালজিয়ার নিয়ম মেনে, ছেলে ও মেয়ে মুখোমুখি বসিবার আয়োজন সেটাই। সেটাই আসল উন্মেষস্থল রোম্যান্স এর।

এই সব চা দোকানে বাঙালি ছেলেমেয়েরা বসবে। রমাপদ চৌধুরীর গল্পের ছেলেমেয়েরা বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের দিকে যেতে যেতে নিজেদের, আজকের ভাষায় এক্সপ্লোর করবে। সুধীর মৈত্রর আঁকা ছবির মত সেই সব লম্বা বিনুনি শাড়ি পরিহিতা মেয়েরা আসবে, আর ছেলেদের গায়ে একটা আঙুল ছোঁয়ালেই অগ্ন্যুৎপাত হবে ছেলেটির ভেতরে।

এইসব সময়ে কাকা মেসো পিশেমশাইরা থাকতেন ঝোপেঝাড়ে বাসে ট্রামে। কোন পারিবারিক পরিচয় থাকলেই, ছেলেটি বা মেয়েটির সম্বন্ধে বাড়ি বয়ে দিয়ে আসতেন খবর। ছেলেটিকে কোন মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। “তোমার মাইয়াডারে দ্যাখলাম য্যান! ট্রামে বইস্যা কার না কার বাড়ির পোলার সঙ্গে কথা কয়!”

অর্থাৎ এই সময়ের ছেলেমেয়েদের ভেতরে চাপা সন্ত্রাসের মত এই বুঝি কেউ দেখে ফেলল ব্যাপারটা কাজ করত। আনুষঙ্গিক হল সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তুমুল চোপা, যার নাম আমাদের প্রজন্মে এসে হবে ঝাড়।




এর পর এল আমার প্রজন্ম।

আমার মেয়েবেলায় ছিল সরকারি ইশকুলের ঘেরাটোপ, রেডিওর আশা ভোঁসলে, রাহুল দেব বর্মণ বা সলিল চৌধুরীর সুরে মশগুল দিনগুলি বিকেলগুলি। সন্ধের লোডশেডিং এ মুছে রাখা কাচের ডুম পরিয়ে হারিকেনের শিখা উঁচু করে বিবর্ণ নীরস ইতিহাস ভূগোল পড়ার দিনকাল। আমাদের প্রজন্মের মেয়েরা অনেকেই জানতাম, নিজেকে তৈরি করতে হবে, চাকরির জন্য, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য, কেউ বাধ্য করবে না আমায় কিন্তু আমাকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পেতেই হবে। এমন অনেক মেয়ে, সংখ্যাটা বেশি। কিন্তু অনেকেই শেষ পর্যন্ত চাকরি জলাঞ্জলি দিয়ে গৃহবধূ হয়েছে বা স্বেচ্ছায়। বড় সংসারের হালও ধরেছে। সে অন্য প্রসংগ।

আমার মেয়েবেলায় ছিল রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়ে পাড়ার ছেলেদের ছোট ছোট মন্তব্যের তুবড়ি উড়ে এসে ফেটে পড়া কানের ওপরে। আমি নকশাল আন্দোলনের পাশাপাশি বেড়ে উঠছি। তরুণের স্বপ্ন তখন বিপ্লব, নয়ত গাঁজাচরস। তরুণের স্বপ্ন তখন প্রেম করা, ভিক্টোরিয়ায় বা গঙ্গার পাড়ে। কিন্তু দ্রুত পালটাচ্ছেও দিনকাল। কলেজ বেলায় ক্যান্টিনে বাম, অতিবাম রাজনীতি চোখে ঘোর লাগাচ্ছে যেমন, প্রচুর ইংরেজি বই পড়া, ইংরেজি গান শোনা আমাদের মনন হেঁটে দেখতে শিখছে পৃথিবীকে, শঙ্খ ঘোষের কবিতায় অথবা মহীনের ঘোড়াগুলির গানে।

আমার মেয়েবেলায় খুব বেশি স্বাধীনতা ছিল না, “মেয়েসন্তান” বলে বাড়ির বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে মায়ের প্রজন্ম নানা প্রশ্ন তুলত কিন্তু সেই আমিই কলেজ গেছি ভিড় বাসে প্রায় ঝুলতে ঝুলতে।

আমরা কলেজে পড়ছি যখন, রোজ রাত আট টায় কি সাতটায় বাড়ি ফিরে গল্প দিতাম জ্যামের। একটাও মা বিশ্বাস করতেন না। একবার কলেজ স্ট্রিটে বৃষ্টি হয়ে জল জমল। ভবানীপুরে সত্যি জ্যামে আটকে নটায় ফিরে মাকে বিশ্বাসই করাতে পারিনি, ভবানীপুরে একটুও বৃষ্টি হয়নি সেদিন।

আমাদের প্রজন্মে আমরা প্রেসিডেন্সির ক্যান্টিনে ছেলেদের পাশে ঘেঁষাঘেঁষি করে বসতাম, এ ওর কাঁধে হাত রাখতাম, যেন তাতেই নিজেদের বিদ্রোহ ঘোষিত হত। রাত করে আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফেরার কারণে বাড়িতে বকা জুটত ঠিকই। তবু সেসময়েও শরীরী দূরত্ব থেকেই গেছিল, ভাংচুর করতে চেয়েও ভাঙতে কি সত্যি পেরেছিলাম শরীরী পবিত্রতার ধারণাকে?

এসব তথাকথিত দুষ্টূমির সঙ্গে মাখা সন্দেশের মত ছিল আমাদের প্রেম। প্রেমে পড়া, প্রেম করা। এক তরফা প্রেম তখনো প্রচুর। কয়েকটা ঠিকঠাক লেগে গেলে দু তরফা হত। তার আবার নিয়ম ছিল। অলিখিত। তিন মাস ঘুরলে একটা চুমু।

তখনো জীবনের প্রথম চুমু খাওয়ার জায়গা ছাতের ধার, ট্যাঙ্কের পেছনদিক। কিন্তু তার চেয়েও বেশি আসছে মেয়েবন্ধু ছেলেবন্ধুদের মেলামেশা। অ্যাসেক্সুয়ালের ভেতর যৌনতার চোরাটান, তবু যেন লুপ্ত নাশপাতির মত নির্বীজ ও নিষ্পাপ। ক্যান্টিনের বেঞ্চি ভাগাভাগি করে গায়ে গা ঠেকিয়ে বসার পর্ব। কিন্তু শরীরী নয় তবু। এক আধখানা কেচ্ছাকাহিনি ঘোরে বাতাসে। অমুককে অমুকের সংগে সন্ধে অব্দি কলেজের পেছনে জলের ট্যাংকের ওপরে দেখা যায় (যাকে ডিরোজিওর কবর বলে ডাকতাম আমরা)। তমুক অমুকের হোস্টেলে ঢুকে বিছানায় সেঁধিয়েছে। ‘শোয়া’ শব্দ কীভাবে জানি তখন থেকে আমাদের জবানিতে একটি সংকীর্ণতর অর্থে ব্যবহৃত হতে থাকবে।

আমরা জানব নানারকমের বন্ধুত্ব, রঙ পালটানো হবে তারও। কিছু কিছু সম্পর্ককে প্রান্তিক সম্পর্ক নাম দিয়ে দাগিয়ে দেব। কিছু সম্পর্ক ফ্লপ, কিছু ঢপ। সরস্বতী পুজোর শ্যাম্পু চুল, হলদে শাড়ির সঙ্গে হলদে পাঞ্জাবির চোখে চোখে কথা। পুজো প্যান্ডেলে অঞ্জলি দিতে গিয়ে তাকাতাকি।

বারান্দা বা ছাত থেকে ফেলা চিরকুট। অথবা কালো হোঁতকা টেলিফোনে ফোঁশ ফোঁশ নিঃশ্বাস ফেলা… এই হল পূর্ব রাগ। তারপর কোচিং ক্লাস থেকে সঙ্গ ধরা প্রেম, রবীন্দ্রসদন নন্দন থেকে পাশাপাশি বসা প্রেম, থার্টি সিক্স চৌরঙ্গি লেনের সেই প্রাইভেসি খোঁজা প্রেমে পালটে গেছে। বন্ধুর ফাঁকা বাড়ি বা নিজেদের ফাঁকা বাড়িতে ‘প্রেম করা’ ইন থিং হয়েছে।

তবে ততদিনে বোধ হয় ওই না ছোঁয়া, না ধরা, রোমান্স আর কলকাতায় নেই। জায়গাবদল করে চলে গেছে শ্রীরামপুরে, চন্দননগরে। ফুচকাওয়ালারা সেসব রোমান্স জানবে। জানবে সাইকেল স্ট্যান্ডরা।

ততদিনে আমাদের সব ভালবাসার গল্প বইতে ঢুকে গিয়েছে। সিনেমায় ঢুকে গিয়েছে। আর




কাট টু ২০০০ । আমার মেয়ের জন্ম। আমার মেয়ের মেয়েবেলা, সত্যিই অনেকটা পরিবর্তিত পটভূমি। ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে এখন এক সন্তানের, বড় জোর দুই সন্তানের বেড়ে ওঠা, ঠেলাঠেলি নেই কিন্তু চাপ? চাপ কমল কই। এখন কেরিয়ার তৈরির চাপ। যেমন মেয়ের তেমন ছেলের। ভাল পড়াশুনো করবে, তবে ত ভাল চাকরি পাবে। এখন শিশুরা একসঙ্গে বসে গল্প করে, কার ঘরে এসি আছে। কার গাড়ি, কার বাড়িতে কী কী গ্যাজেট। দু আড়াই বছর থেকে হাতে আসে ফোন, আইপড, কম্পিউটার। বাবা মা গর্বিত মুখে বলেন, আমার মেয়ে কত্তো স্মার্ট, ট্যাব হাতে নিয়েই দেখ কেমন অ্যাপ খুলে খেলতে বসে গেছে।

ঘরে ঘরে বিলাস বাহুল্য, গাড়িতে চাপার অভিজ্ঞতা তার বাসে ট্রামে চাপার অভিজ্ঞতার চেয়ে বেশি। সব সময় আড়াল ও সুরক্ষায় সে ঘোরে ফেরে, অন্তত স্কুল জীবনে। কেন, কারণ খবর কাগজে ত ক্রমশই বেড়ে চলেছে অসংখ্য লাঞ্ছনা আর ধর্ষণের ইতিবৃত্ত। অথচ আমার মেয়ে কলেজে যেতে শুরু করেই বাসে ট্রামে অটোতে চাপছে, এখন তার সাবলীলতা বেড়েছে। যদিও খবর কাগজ এখনো ধর্ষণ সংবাদে ভরপুর।

আমার মেয়ের জন্ম ১৯৯১ এর পর। তাই ভারতের অর্থনীতিতে ইতিমধ্যে বিদেশি পুঁজি, খোলাবাজারের আলো হাওয়া, সব এসে গিয়েছে দশ বছর আগেই। প্রত্যাশার চাপ বাড়ছে। মেয়েরা চাইছে যা যা মানুষে চায়। সাফল্য, ধনদৌলত, আরাম। আর এই চাওয়ার মধ্যে মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে বাজার অর্থনীতির অন্য চাপ। সুন্দর হতে হবে, দেখনধারী হতে হবে। সব কাজে এগিয়ে থাকতে হবে। পুরুষের ভোগ্য হবার অসংখ্য হাতছানি, পাশাপাশি নিজের জীবনের রাশ নিজের হাতে নেওয়া। এই স্ববিরোধের মধ্যে মেয়েবেলা গড়ে উঠছে।

সে বড় হচ্ছে কার্টুন নেটওয়ার্ক দেখে। আর কদিন পরেই শুরু করছে ডিজনি চ্যানেলে কিশোর কিশোরীর প্রেম দৃশ্য দেখতে। হিন্দি আর ইংরিজি ছবিতে যৌনতা দেখে দেখে সেসব বছর দশেকের মধ্যে নিজেদের শিরায় শিরায় ঢুকিয়ে নিচ্ছে সে। এই জীবনযাপনে ডিজিটাল ছবির একমাত্র মূল্য। ফেসবুক আসবে এর পর, ওয়াটস্যাপ আসবে। নিজেদের সেলফি তুলে বন্ধুদের পাঠানোর এক মাত্র ধর্মীয় বোধ হবে। বাধ্যতামূলক ভাবে শরীর এবং শরীর এদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাই, বারো, তেরো, চোদ্দর মধ্যে বি এফ, জি এফ, ( বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ডের ছোট আকার) এদের লব্জতে এসে পড়বে।

আমার মেয়ের মেয়েবেলায় আছে, ছোট টপ, ছোট হাফপ্যান্ট বা শর্টস পরিধানের, বা সাঁতার, ইয়োগা, ক্যারাটে শেখার স্বচ্ছলতা, ডিজিটালের কল্যাণে গুগলের চাবি টিপে জীবনের সব রহস্য জেনে ফেলবার স্বাধীনতা।

এসে গিয়েছে অন্য এক প্রজন্ম । যে প্রজন্মে ছেলেরা আর মেয়েরা একসঙ্গে বসে ব্লু ফিল্ম দেখে।

ডিজিটাল ডিভাইডের আগের সব প্রেমকে মনে হবে আজ সিপিয়া রঙএ আঁকা। আমার বারো বছরের মেয়ে যখন ডি ডি এল জে (দিলওয়ালে দুলহনিয়া ইত্যাদি ইত্যাদি)তে, শাহরুখের সঙ্গে রাত কাটানো নিয়ে কাজলের জড়তার গপ্পো দেখে হেসে ফেলে বলবে, মা, নব্বই সালের পরেও এরকম গাধার মত বোকা বোকা প্রেমের গল্প বানান হত? তখন বুঝি ডিজিটাল ডিভাইডের পরবর্তী প্রজন্মরা কেবল টিভির তেয়াত্তর চ্যানেল, বে ওয়াচ, কার্টুনের যৌনতা, সব প্যাকেজ করা অবস্থায় অডিও ভিসুয়ালি পেয়ে গিয়েছে, তাই অদের কাছে প্রেম=যৌনতার সমীকরণে কোন আধো আধো কথা নেই। বাধো বাধো ভাব নেই।

এখন আমাদের ১৮তে যা যা হত, সেগুলো ১৩ তে হয়। ১৫ বরাবর এসে ছেলেমেয়েরা এক্সপ্লোর করে ফেলে চুম্বন-আলিঙ্গন আদি আমাদের ডিকশনারির অসভ্য শব্দ। আমাদের অশ্লীলের সংজ্ঞাগুলো সব পাল্টে গিয়ে এখন জলভাত হয়ে গেছে ছবির যুগে। যাবতীয় চিত্রায়ণে বিস্ময়বোধ হাওয়া। কেউ আর অবাক হয় না কোনকিছুতে।

কী কী নেই, তা ওরা বলবে।



কোন বিভাগের লেখাঃ গপ্পো 
শেয়ার করুন


Avatar: পৃথা

Re: দিদা-মা-নাতনি-পুতনি – এক মাতৃতান্ত্রিক ইতিকথা

ভালো লাগল।
Avatar: দ

Re: দিদা-মা-নাতনি-পুতনি – এক মাতৃতান্ত্রিক ইতিকথা

এই নতুন প্রজন্ম প্রায় অচেনা। বেশ একটা অচেনা জগতের কথা পড়লাম যেন এই অংশটায়।
Avatar: Rabaahuta

Re: দিদা-মা-নাতনি-পুতনি – এক মাতৃতান্ত্রিক ইতিকথা

হাহা, এই ঝোপঝাড়ের কাকাপিসেদের সন্ত্রাস আমাদেরও সইতে হয়েছে, তবে সে বেশ ছোটবেলায়।

আর এখন মেয়েকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে কে কার ক্রাশ কে কাকে আপত্তিকর নোট দিল সেসব জেনে কাষ্ঠহাসি হাসতে হয়।

তা হোক। ভালো লাগলো।
Avatar: Prativa Sarker

Re: দিদা-মা-নাতনি-পুতনি – এক মাতৃতান্ত্রিক ইতিকথা

সত্যি, এই প্রজন্মকে একেবারেই অচেনা ঠেকে, আবার একটু হিংসে যে হয় না তাও নয়।
Avatar: অর্জুন অভিষেক রায়

Re: দিদা-মা-নাতনি-পুতনি – এক মাতৃতান্ত্রিক ইতিকথা


একটা ভাল বইয়ের গুণ স্কুল জীবন থেকে জেনে আসছি, হতে হবে 'আনপুটডাউনেবল'। স্ক্রোল ডাউন করতে করতে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম লেখাটা।

চার প্রজন্মের ইতিবৃত্ত। ছোটবেলা থেকে শুধু ঠাকুমা, দিদিমা নয়, বাবার জেঠিমা, কাকীমা, পিসিমা, মাসিমা, মামীমা, এক পাল প্রমীলাকূলের সাহচর্য পেয়ে তাদের জীবনের কথা, তাদের শাশুড়ি, মায়েদের জীবনের কথা শুনে শুনে আমার বড় হওয়া। আমার 'ছেলেবেলা' র মধ্যে অদৃশ্য ভাবে ছিল এঁদের সকলের মেয়েবেলা।

এই লেখার শুরুটা পড়তে পড়তে মনে পড়ল, আমার প্রপিতামহীর কামিনী রায়ের কথা। ১২ বছর বয়েসে, ৩৪ বছর বয়েসের আমার প্রপিতামহের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। ছাব্বিশের বছরের বিবাহিত জীবনে ৯টি সন্তান হয় তাঁদের, দশমটি জন্মানোর সময়ে কামিনী মারা যান, সন্তানটিও বাঁচেনি। শুনেছি দুজনে দুই মেরুর বাসিন্দা ছিলেন। চাকরি ছাড়া তারা কুমারের সময় কাটত তাঁর আধ্যাত্বিক জগৎ আর সমাজসেবা নিয়ে। কামিনী ছিলেন খুব সংসারী, ভালবাসতেন রান্না করতে, বাজার করতে, সকলকে খাওয়াতে এবপ্নগ বেড়াতে। অসমসাহসী ছিলেন। থাকতেন নোয়াখালী, বেঁচেছিলেন ৩৮ বছর, তার মধ্যে তিনবার উত্তর ভারত ঘুএ এসেছিলেন। শুনেছি স্বামী তারাকুমারের কাছে বেড়াতে যাবার টাকা না পেলে নিজের গয়না বিক্রি করে বা বন্দক দিয়ে শ্বশুরকূলের আত্মীয়াদের নিয়ে সঙ্গে এক ভাসুরপো বা ভাগ্নেকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়তেন। কাজটা খুব সহজ ছিলনা।

আবার ঠাকুমার মা সুহাসিনী শূর ছিলেন বিশাল বড় লোকের মেমের কাছে পড়া মহিলা। সেই যুগেই পার‍্য ১৭ বছর বয়েসে বিয়ে দেন বাবা। বিয়ের হয়েছিল অপেক্ষাকৃত গরীব ঘরে। সুহাসিনী অনেক আর্থিক সংকটেও ছাড়েননি তাঁর শিল্পচর্চা। অসাধারণ সূচি শিল্প করতেন, নিজের হাতে বানাতেন মাটির জিনিস, নিজের তাঁত ছিল এমনকি বানাতে পারতেন ওয়েল ক্লথ। জেলা থেকে বেশ কয়েকবার প্রাইজ পেয়েছেন। নিয়মিত পড়তেন 'প্রবাসী' , ভারতবর্ষ' 'অন্তঃপুর'। 'অন্তঃপুর' এ তার একটা চিঠি বেরিয়েছিল। মেমের কাছে পড়া মানুষ তাই ইংরেজি নভেল পড়তেন যা নিয়ে নিন্দে হয়েছিল। সামী যশোদাকুমার এসবে না ছিল আপত্তি না কোনো উৎসাহ। ঠাকুমা আর তার দিদিদের আপসোস ছিল 'মা যদি সেই সময়ে শান্তিনিকেতনে চলে যেতেন, পেতেন উপযুক্ত কদর'।


Avatar: অর্জুন অভিষেক

Re: দিদা-মা-নাতনি-পুতনি – এক মাতৃতান্ত্রিক ইতিকথা


কামিনীকে দেশভাগের প্রায় বিশ বছর আগেই চলে গেছিলেন কিন্তু সুহাসিনী দেশভাগের পরেও বছর ১৩ বেঁচেছিলেন। দেশভাগের যন্ত্রণা তার মধ্যে নাকি ছিলনা। বরং মানসিকতায় শহুরে বলে কলকাতায় চলে আসতে পেরে খুসীই হয়েছিলেন। তার থেকে তার চার মেয়ে বরং দেশভাগের নস্টালজিয়া কমবেশী বহন করেছেন।

আমাদের বাড়িতে প্রথম অসবর্ণ বিয়ে আমার বাবার রাঙাপিসুর। ১৯ বছর বয়েসে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন গানের শিক্ষককে। সালটা ১৯৪০ আমরা কায়স্থ, বাবার পিসেমশাই ব্রাহ্মণ। বাবার উদার পিতামহের কোনো আপত্তি ছিলনা, আপত্তি করেছিলেন বড়দা, বাবার জ্যাঠামশাই। তবে সে ওই বছর খানেকের মনমালিন্য।

যশোধরা রায়চৌধুরীর এই লেখাটায় ভারতী রায়ের 'একাল সেকাল' বইটার কথা। প্রজন্ম গোনা হয় প্রপিতামহ, পিতামহ, পিতা, মায়েদের নিয়ে নয়। উনি ওই বইতে দিদিমার মা থেকে তার কন্যাদের নিয়ে লিখেছেন। তবে ওই বইটা পরিপূর্ণ অর্থেই গদ্য, এই লেখাটায় আছে সময়ের ইতিবৃত্তের কাব্য।
Avatar: pi

Re: দিদা-মা-নাতনি-পুতনি – এক মাতৃতান্ত্রিক ইতিকথা

বাঃ, এটা ইন্টারেস্টিং। এই অত বছর আগে এরকম বেড়ানোর নেশা ও সেটা সত্যি করা। সেখানে এখন আদৌ কতটা এগিয়েছে ? একা মেয়েরা , বা বাড়ির্বৌ মেয়েরা কতজন বেরোন ?

সেদিন ইসমত চুঘতাই এর 'একজন স্বামীর জন্য' ( মূল গল্প 'এক শৌহর কে খাতির', সঞ্চারী সেনের অনুবাদে) পড়তে পড়তেই মনে হচ্ছিল, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কতটা এগিয়েছে বা বদলেছে, নাকি কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়েছেও ? গল্পটা একটি মেয়ের একা দূরপাল্লার ট্রেনজার্নি নিয়ে। একটি আইবুড়ো মেয়ের। মুসলিম মেয়ের। যোধপুর থেকে মুম্বই যাওয়া, চাকরির ইন্টারভ্যু দিতে, তার গল্প। না, ইন্টারেস্টিং হল, সে একা কেন জার্নি করছে, এই প্রশ্ন কিন্তু কেউ করেনি। আমার নিজের প্রথম একা যাত্রা, কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে, মনে পড়ল, এই প্রশ্ন এসেছিল। একা যাওয়া নিয়ে প্রচুর অশান্তি, আপত্তি, চেঁচামেচিও। বা বাসে নাইট জান্র্নি, এইতো ক'দিন আগেও। বা বাড়িতে, আশেপাশে পরের প্রজন্মের অল্পবয়সী মেয়েদের বেলাতেও।
এই এতদিন আগে, একটি মুসলিম মেয়ের একা যাওয়া, আর বেশ স্বাভাবিকভাবেই সেই নেওয়া, পড়ে মনে হয়েছে খুব আনকমন ঘটনা নয়, পড়ে একটু অবাকই হয়েছি। সেই সময়ের থেকে খুব কি কিছু এগিয়েছি , নাকি পিছিয়েছিই।
অবশ্য গল্পে এটা স্পষ্ট নয়, বা মিসও করে থাকতে পারি, লেডিস কম্পার্টমেন্ট ছিল কিনা। কারণ এরপর গল্পে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা সকলেই সহযাত্রিণী। যদিও একা কেউই না, দলের মধ্যে।
তিনি একা বলে অবশ্য বিস্তর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে, গল্পটাই সেই নিয়ে ছেড়ে দে আল্লা কেঁদে বাঁচি নিয়ে, কিন্তু সেটা একা কেন বলে না, শৌহর আছে তো, তার কাছ থেকেই আসা বা তার কাছেই যাওয়া হচ্ছে তো , এই নিয়েই সকলের প্রশ্ন। বা উত্তর না পেলেও সেটাই ধরে নিয়ে, না, শুধু স্বামী না , বাচ্চা কাচ্চা কজন আছে, তাদের ফেলে কীভাবে যাচ্ছে সেই নিয়ে কটাক্ষ বা আহারে বাচ্চাদের ফেলে যেতে হচ্ছে রে বলে সহানুভূতির স্পেকুলেশনের বন্যা। এই জায়গাটা পড়েও দিব্বি আজকের দিনের সাথে অনেকটাই রিলেট করতে পেরেছি কিন্তু।
আমাদের বা নতুন প্রজন্মকে দেখলে ইসমত চুঘতাই এর সবক্ষেত্রে বোধহয় খুব অজানা লাগত না। ঃ)





Avatar: অর্জুন অভিষেক

Re: দিদা-মা-নাতনি-পুতনি – এক মাতৃতান্ত্রিক ইতিকথা


আমার প্রপিতামহী কামিনী একটা আবছা আবেশের মত পারিবারিক স্মৃতিতে মিশে আছে। ১৯২৬ সালে চলে গেছেন যখন তখন তার পঞ্চম সন্তান ও দ্বিতীয় পুত্র, আমার পিতামহের বয়েস ১০। তার পরের সন্তানদের তাঁকে খুব ভাল মনেও ছিলনা। দাদুর ছোড়দি মায়ের মৃত্যুর সময় বয়েস ছিল ১৩, তাঁর কাছে কামিনীর কথা সবচেয়ে বেশী শুনেছি।

কামিনীর এই ভ্রমণের নেশা আমাকেও অবাক করে। কি ভাবে গেছিলেন নোয়াখালী থেকে ? শুধু বেনারসই তো নয়, এলাহাবাদ, দিল্লী, আগ্রা, হরিদ্বার, বৃন্দাবন। নোয়াখালী থেকে গোরুর গাড়িতে পদ্মাপাড়, সেখান থেকে গোয়ালন্দ, তারপর কলকাতা। কলকাতায় তারাকুমারের কোন এক জ্ঞাতি আত্মীয় থাকতেন, সেখানে দু- তিন রাত, তারপর হাওড়া থেকে দিল্লী মেল! ওই যে বললাম একদমই সহজ ছিলনা কাজটা। উত্তর ভারত তাঁর কেমন লেগেছিল? ওখান থেকে কি পোষ্টকার্ড পাঠিয়েছেন তাঁর কোন আত্মীয়া বা সন্তানকে? জানার উপায় নেই আজ!


Avatar: অর্জুন অভিষেক

Re: দিদা-মা-নাতনি-পুতনি – এক মাতৃতান্ত্রিক ইতিকথা

মেয়েদের এই একা পথ চলার কথায় মনে পড়ল, তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো এক উপন্যাসে, নাম মনে পড়ছেনা! গল্পের যে চরিত্রটি ন্যারেটর সে গল্পে তার ছোটবেলার স্মৃতি রোমন্থন করছে। তারা সপরিবারে দার্জিলিং যাচ্ছে দার্জিলিং মেল এ। বর্ধমান থেকে এক বছর ২৩-২৪ এর যুবতী তাদের কম্পার্টমেন্টে উঠল। তার মার সঙ্গে গল্প জুড়ল। যুবতী দিনাজপুরে যাচ্ছেন, নতুন চাকরিতে যোগ দিতে। ন্যারেটরের মা অবাক হয়েছেন যুবতীর একা চাকরি করতে যাওয়া নিয়ে।

কথপোকথনের কয়েকটা ডায়লগ মনে আছে।

'আপনার বাড়ি থেকে ছেড়ে দিল?'

যুবতী সহাস্যে 'দিল তো দেখছি'।

ওই উপন্যাসে মেয়েদের একা একা পথ চলার ব্যাপারটা সামান্য আলোকপাত করেছিল হয়ত। মনে থেকে গেছে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন