গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

আসামে যা চলছে

নয়নজ্যোতি

গত ২৭ শে নভেম্বর সকাল থেকে আসামের গুয়াহাটি নিকটবর্তী আমসাং অঞ্চলে, দরিদ্র- বিদ্বেষী বিজেপি সরকার এক'শরও ওপর বাড়ি-ঘর নির্মমভাবে ধূলিসাৎ করে। এদের মধ্যে গরীব চাষী, খেটে খাওয়া মিসিং, কারভি, রাবা, দিমাসা, বোড়ো, কচ, কালিতা, অহম ও অন্যান্য বহুদিনের স্থানীয় বাসিন্দাদের শহরের প্রান্তে উৎখাত করা হয় এবং গোটাটাই রাজ্য সরকারের সুপারিশে : শ'পনেরো পুলিশ কর্তাব্যক্তি বন্দুক-কাঁদানে গ্যাস সমেত, গোটা পনেরো হাতি, জনা কুড়ি খননকার্যক, কুড়ি জন কার্যনির্বাহী প্রশাসক এবং সমস্ত বনদপ্তর, আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কর্পোরেশন লিমিটেড, রাজ্য আপৎকালীন সমন্বয় বিভাগ, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি বিভাগের উজ্জ্বল উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।

সবকিছুর শুরুয়াৎ একটা হাইকোর্ট অর্ডার থেকে ( যেটায় অবশ্য এই উৎখাত অভিযানের তারিখটুকুও উল্লেখিত নয়) এবং বলাই বাহুল্য, বিজেপি সরকার নিজের সুবিধার্থে তার সুনিপুণ যুক্তি খাড়া করেছে। এটা একেবারেই পরিষ্কার যে পুনর্বাসন এবং অন্যান্য বুনিয়াদী নিয়মাবলীর লঙ্ঘন হয়েছে এক্ষেত্রে অথচ সত্যিটা হল, এজি সিমেন্ট - রক্ষা সিমেন্টের মতো কিছু সিমেন্ট কোম্পানি, চা বাগান, কোক ভস্মীকরণ, ইঁটভাটা : এইসব, এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রকৃত অনুপ্রবেশকারী, যাদের দৌলতে এলাকায় ধ্বংসনামা মহরৎ খুলেছে। যখন এই সহজ প্রশ্নটা তোলা হয়, তখন 'জাতি-মাটি-ভেটি' সরকার এবং বনমন্ত্রী প্রমীলা রানী ব্রহ্মা আমজনতাপ্রকাশ্যে সিমেন্ট ও চা কোম্পানির মালিকদের হয়ে সাফাই গেয়ে উল্টে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে 'অনুপ্রবেশকারী' নামে দাগিয়ে দেন।

এরপরই সরকার বন্দুক ও কাঁদানে গ্যাস বের করে। ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, এদের মধ্যে মালতী দাস নামে এক সমাজকর্মী, গুলির ক্ষত নিয়ে আইসিইউ তে ভর্তি। বাকি আহতরা হলেন অনিমা খাতুন, রাশিতা খাতুন, গৌতম বৈশ্য এবং উৎপল পত্গিরি। এখানেই শেষ নয়, পুলিশ, শহরের বহু প্রতিবাদী কর্মীকে হুমকি ও ধরপাকড় শুরু করেছে, এদের মধ্যে বিশেষত কেএমএসএস ( কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি) এর ওপর তাদের নেকদৃষ্টি পড়েছে।

কেএমএসএস দলনেতা ও উপদেষ্টা বেদান্ত লস্কর, যুগ্ম সাধারণ সচিব ধৈয্য কানোয়ার এবং কেএমএসএস কর্মী গোপী সাইকিয়াকে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেন? কারণ তাঁরা প্রতিবাদীদের সমর্থনে দাঁড়িয়েছিলেন। বেদান্ত এবং গোপী তো ঘটনাস্থলে উপিস্থিতই ছিলেন না, বাইকে চেপে ফেরার সময় শহরের মধ্যে ওঁদের ধরা হয়। আজ তাঁদের আইপিসির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ এনে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে তোলা হয়েছে।

বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকারের অবস্থা ইতিমধ্যেই তথৈবচ। ২৮শে নভেম্বর সকালে, বেদান্ত পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন কেএমএসএস কর্মী সিজেএম কোর্ট এর সামনে হাজির হন। সেখানে ৩ জনকে আদালত চত্বরে পেশ করার সময় পুলিশ হঠাৎই উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে থেকে ৩ জনকে ধরে নিয়ে যায়! কোর্টের বাইরে থেকে! এঁদের মধ্যে বেদান্তর বাবা, দুই প্রবীণ কেএমএসএস কর্মী এবং আরও একজন আছেন। বাকি কেএমএসএস কর্মীদের মাথার উপর কেসের খাঁড়া না ঝুললেও, পুলিশের, তাঁদের খোঁজার চিরুনিতল্লাশি অব্যাহত আছে। ফলস্বরূপ, কেএমএসএস দলনেতা ও বিখ্যাত জনপ্রতিনিধি অখিল গগৈকে ন্যাশনাল সিকিওরিটির আওতায় ১ বছর রাখার নির্দেশ দিয়েছে, নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা, গরীব-বিদ্বেষী, কর্পোরেটআঁতাতময়, ক্যাপিটালিস্ট, হিন্দুত্ববাদী সরকার।

আপডেট: যখন আসাম আগুনে পুড়ছে এবং রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ মারাত্মক আকার নিচ্ছে, তখন কোর্টের বাইরে থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ৩ জনকে কয়েকঘন্টা আগে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল জানিয়েছেন, আমসাং থেকে উৎখাত ও বহিস্কার আপাতত মুলতুবি রাখা হবে, যদিও এ বক্তব্যের লিখিত কোন নির্দেশ তিনি দেননি।

উৎখাতের ভিডিও ঃ https://www.facebook.com/nayandrome/videos/2188661377826775/

কোন বিভাগের লেখাঃ টাটকা খবর 
শেয়ার করুন


Avatar: Rabaahuta

Re: আসামে যা চলছে

৪০০+পরিবারের বাড়িঘর হাতি দিয়ে বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ মিলিটারী লাঠি পেলোডার তো আছেই।
তা তো বটেই, জঙ্গল/ বন্যপ্রানী সংরক্ষণ এইসব তো করতেই হবে।
কিন্তু উচ্ছেদের ভিডিও দেখাটা খুব স্ট্রেসফুল।

ছোটখাটো অপরাধ করলেই চাপ। রেললাইনে ডাকাতি, বর্ডারে চুরি, জঙ্গলে কাঠ কাটা, সরকারী জমিতে বস্তি তোলা এইসব হলেই পুলিশ ক্যালাবে, লোকে ধরে ল্যাম্পোস্টে বেঁধে জ্বালিয়ে দেবে, মিলিটারী এসে বাড়ির লোকের সামনে লাথাবে।

লোকে কি আর সাধে রাগ করে। ভাটে এইসব লিখেছিলাম, এখানেও লিখে দিই।

অনেকদিন আগে সুন্দরবনে বাঘ না মানুষ কার নিরপত্তা প্রাথমিক হওয়া উচিত তা নিয়ে মিনিময় হচ্ছিল মনে পড়লো।

অরণ্যদা’র দ্্ঋষ্টি আকর্ষন করি।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন