ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

হরনিধ কৌর - অনুবাদ রৌহিন ব্যানার্জি

ডেরা সাচা সৌদার (ডি এস এস) এই হিংসাকে বুঝতে হলে আমাদের সবার আগে বুঝতে হবে পঞ্জাবে ডেরার সৃষ্টি কিভাবে হল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ভূমিকার কী পরিবর্তন হয়েছে সেই ইতিহাসকে। নির্ভয়ে।
উত্তর ভারতের একটা বিরাট সংখ্যক দরিদ্র মানুষ, যাদের একটা বড় অংশই দলিত এবং পিছড়ে বর্গ এর মানুষ এবং ঐতিহাসিক কাল থেকে অত্যাচারিত এবং অবদমিত (উত্তর ভারতে এই জাতিগত অত্যাচারের তীব্রতা আশা করি পাঠককে মনে করিয়ে দিতে হবে না) তাদের নতুন আত্মপরিচয় দিয়েছে ডিএসএস – দীর্ঘকাল ধরে। এবং দিয়েছে নিরাপত্তা। এই নিম্নবর্গের মানুষগুলি প্রথম দিকে শিখ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু সেখানেও উচ্চবর্ণের অত্যাচার তাদের পিছু ছাড়েনি। তত্ত্বগতভাবে শিখধর্মে কোন জাতিভেদ নেই কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ প্রকৃত ছবিটা অত সুন্দর নয়। ধর্মীয় রাজনীতিতে জাঠ-ক্ষত্রী গোষ্ঠীই মূল নিয়ন্ত্রক, বিশেষত গুরদোয়ারার বিভিন্ন কমিটিগুলিতে এদের উপস্থিতিই প্রধান এবং নির্ণায়ক। এই নব্য শিখদের তাঁরা অত্যন্ত সুকৌশলে এই ক্ষমতাকেন্দ্রগুলির বাইরে রাখেন এবং দমন করেন কারণ স্বভাবতঃই এদের অন্তর্ভুক্তি তাঁদের ক্ষমতার স্থিতাবস্থায় আলোড়ন আনার সম্ভাবনা রাখে।
এই ধরণের নানান বঞ্চনা আর অত্যাচার এই মানুষগুলোর মোহভঙ্গ ঘটাচ্ছিল, সেই সঙ্গে জন্ম নিচ্ছিল ক্রোধ এবং হতাশা। অথচ এর থেকে বেরোনোর কোন রাস্তা তাদের সামনে খোলা ছিল না। ফলস্বরূপ সমাজের একটা বড় অংশ ড্রাগ এবং অন্যান্য নেশার ঝোঁকে পড়ে যাচ্ছিল। এক সময় প্নজাব আর নেশা প্রায় সমার্থক হয়ে গেছিল – অশিক্ষা আর দারিদ্র পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তুলছিল ক্রমশঃ। মানুষগুলো উদভ্রান্ত, দিশাহারা হয়ে পড়ছিলেন। স্বভাবতঃই এই প্রেক্ষিতে যখন ডেরা সাচা সৌদার মত আশ্রম এগিয়ে এল তাদের ত্রাতা হিসাবে, এরাও সাড়া দিলেন। না দেবার কোন কারণ ছিল না, কারণ ডেরা তাদের সম্মানজনক জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ডেরায় এই মানুষগুলির শিক্ষালাভের ব্যবস্থা আছে, তাদের ড্রাগ ও অন্য নেশা থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা আছে এবং সর্বোপরি, খাদ্যসংস্থান আছে। ডেরা তাদের কর্মসংস্থান দেয়, জীবনের উদ্দেশ্য দেয়। দিশাহারা অসহায় মানুষের কাছে খড়কুটোর মতন যে বাবাজী দিশা দেখাচ্ছে, সে রেপিস্ট কি না জানতে বা মানতে তাদের বয়ে গেছে। ভুললে চলবে না – পেটে সর্বগ্রাসী খিদে থাকলে কে আমাকে খাবার দিচ্ছে, সে খুনী না ধর্ষক, তাতে আমার কিছুই এসে যায় না।
আমরা গত ক’দিনে যা দেখলাম তাকে শুধুমাত্র মিসোজিনি এবং ধর্মীয় উন্মাদনা বলে ভাবলে মস্ত ভুল হবে। এগুলি তো অবশ্যই ছিল – কিন্তু তার থেকেও বেশি যেটা ছিল, তা হল নিরাপত্তাহীনতার বোধ। আমি আপনি, অবশিষ্ট ভারত যেটাকে “বিচার” এবং “রায়” বলে ভাবছি, এই মানুষগুলোর কাছে তা কিন্তু একটা বিপজ্জনক খাদের ধসে পড়া – যে খাদ থেকে তারা উঠে এসেছে একটু একটু করে। আজ আমরা যা প্রত্যক্ষ করলাম, তা আসলে দেড়খানা প্রজন্ম ধরে একটু একটু করে আঁচে তপ্ত হয়ে তিলে তিলে তৈরি হয়েছে। আমরা যখন জাতি হিসাবে “উন্নত” হয়ে উঠছি একটু একটু করে, আমরা ক্রমশঃ ভুলতে বসেছি যে উন্নয়ন প্রকৃত অর্থে অর্থনীতির একদম প্রাথমিক সুত্র ধরেই মূলতঃ অসম, অযৌক্তিক, অন্যায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে এবং তার বহু সমস্যা রয়েছে। এই দাঙ্গা আর প্রাণহানি থেকে আমরা কি এটুকু শিখব যে আমরা যদি দিনের পর দিন অন্য কারো নুয়ে পড়া পিঠের ওপর দাঁড়িয়ে ওপরে ওঠাটাকে উন্নয়নের নামে চালাতে চাই, সেই মানুষগুলোও একদিন উঠে দাঁড়াতে চাইতেই পারে?
মজার ব্যপার হল একজন ঝানু রাজনীতিবিদ কিন্তু এই অন্যায় অযৌক্তিক খেলাটা বোঝেন। কখন কোন কৌম একটা ভোটব্যাঙ্ক হয়ে ওঠে সেটা তারা বোঝেন এবং সেই ভোটব্যাঙ্ককে লালন পালন করায় প্রয়োজনীয় মদত দেন। সেই কারণেই তাঁরা রাজনীতিবিদ। এক্ষেত্রে স্বভাবতঃঅই ডেরার উত্থান ও বিকাশের পথে মদত দিয়ে এসেছেন রাজনীতিবিদেরা দলমত নির্বিশেষে। ডেরার যাবতীয় অপকর্ম, কু-সংস্কারকে এরা সমর্থন করেছেন, প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে, এই বিপুল ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে – এবং এভাবেই ডেরা প্রায় একটি মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে একটু একটু করে। ডেরা ভক্তদের নিজেদের মধ্যে লড়াই বাঁধলেও হিংসা উন্মত্ত আকার নেয় কিন্তু প্রায় কখনোই প্রশাসন বিশেষ নাক গলায় না – কারণ রাজনীতিবিদেরা এতে মদত দেন। এভাবে সহজেই ডেরা তাদের প্রভাবাধীন থাকতে পারে। বহু রাজতন্ত্রে যেমন রাজাকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি ঘোষণা করে তাঁর শাসনকেই চূড়ান্ত বলে মেনে নেওয়া হয়, ডেরার ক্ষেত্রেও তার গুরুজীর জন্য একই ব্যবস্থা। বাবাজীই ঈশ্বর।
তাহলে শেষমেষ আমরা কী পেলাম? পেলাম মানুষের অসহায়তা, অনিশ্চয়তাকে ব্যবহার অর্জন করে দায়হীন দেবত্বের এক কাহিনী। ড্রাগের নেশার বদলে বিশ্বাস আর নিরাপত্তার নেশায় আম্নুষকে ভোলানোর মরণফাঁদ। ধর্মকে বলি আফিম – কিন্তু অন্ধবিশ্বাস? সে আরো অনেরক বেশি ভয়ঙ্কর। একবার যদি বিশ্বাস গেঁড়ে বসে, তার মত মরণফাঁদ আর একটাও নেই। এখন ডেরার নিজস্ব দল আছে যারা স্বেচ্ছায় ডেরার জন্য মরতে এবং মারতে প্রস্তুত – ফিদায়েন জঙ্গীদের মতই। এবং এদের তৈরি করেছি আমরাই – আমাদের অবজ্ঞা দিয়ে, আমাদের ঘৃণা দিয়ে, আমাদের উচ্চ বর্ণের, উচ্চ বর্গের অহঙ্কার দিয়ে। এই উন্মত্ত প্রতিবাদকারীদের দিকে যখন তাকাবেন, একথাটা স্মরণে রাখবেন। আমরা দায়ী, ভীষণ, ভীষণভাবে দায়ী।
হরনিধ কৌরের অনুমতিক্রমে অনূদিত।


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 18 -- 37
Avatar: পাই

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

হানুদার পোস্টগুলো ভাল লাগল। এই কেসাটা নিয়ে আমিও এখনো খুব ধন্দে।
আর শিখ ধর্মের মধ্যে এক্স্ক্লুশন নিয়েও প্রশ্ন আছে। এই এক্স্ক্লুশন শুধুই বা মূলতঃ খালসা কামিটি নিয়ে? মানে সামাজিক ক্ষেত্রে হলেও ( জানিনা শিখদের মধ্যে সামাজিকভাবেও এঁরা পিছিয়ে কিনা) ধর্মীয় ক্ষেত্রে এমপসোয়ারমেন্ট না থকাটা ( এই খালসা কমিটিতে সেভাবে প্প্রতিনিধিত্ব না থাকা) এত বড় ক্ষোভের কারণ হতে পারে?
Avatar: Rabaahuta

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

হনুদার পোস্টে অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম। আমি কিন্তু মোটেই ট্রোল করছিলাম না, সিকি নতুন ধর্মের কথা বললো তাই ভাবলাম একটু মর্মপীড়ের প্রচারের স্কোপ আছে কাজে লাগাই।
Avatar: h

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

আর্বান স্পেস শেয়ারিং, বিয়ে আর সম্পত্তি শেয়ারিং এর প্রভাব না থেকে যায় না। প্লাস হয়তো, কোনো ছোটো ব্যবসা বিক্রি হবে, সেটা হয়তো পুরো ঘেটো পলিটিক্স এর উপরে নির্ভর করে, কাস্ট লাইন্স এ সেগ্রিগেটেড, এটা খুব কমন আমাদের দেশে। এস এন মুখার্জির কলকাতা শহরের ইতিহাসে দেখবি, বলা আছে, পাড়া ফর্মেশন টা এন্টায়ারলি অন কাস্ট লাইন্স, এবং ট্রেড এর কাস্ট ভিত্তি আছে এটা ধরে নেওয়া সোজা, কিন্তু পয়েন্ট ইজ, নানা ট্রেড ও কাস্ট লাইন্স ক্রস করতে পারছে কতটা সেটা পরিষ্কার না। আবার ধর সত্যেন ঠাকুরের লেখা বম্বের মেমোয়ার্স এ দেখা যাচ্ছে, ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন টা শিবাজি উৎসব এর আগে এবং পরে কিন্তু সম্পূর্ণ আলাঅদা। ১৮৬০স এ কিন্তু বম্বে তে সবচেয়ে বড় মিছিল বেরোচ্ছে মহরম এ, যেটা রাজনৈতিক ভাবে ইনভেন্টেড ট্র্যাডিশন গণেশ উৎসবের পরে আকার গৌরব হারাচ্ছে। লন্ডনে আমি পাড়ায় থাকতাম, সেখানে বুঝলি, এরকম সব নাম, পেটিকোট লেন, থ্রেড্নিডল স্ট্রীট, বেলমেকার্স লেন ( সিন্ধু র ইমিগ্রেশনের উপরে বই আর রয় পোর্টার এর বইতে পাবি) ক্লিয়ারলি ট্রেড ভিত্তিক অর্গানাইজেশন অফ এরিয়াস। কিন্তু পরে আবার সেটা মাইগ্রেশনের ওয়েভ এর সঙ্গে বদলাচ্ছে, পেটিকোট লেন হয়ে যাচ্ছে ব্ল্যাক আর ককনি ইংলিশ দের এলাকা, যারা দামী বাড়ি করে এসেক্স এ উঠে যেতে পারছে না। আর ব্রিক লেন প্রথমে আইরিশ ইমিগ্রান্ট দের , পরে জিউইশ দের (যাদের মধ্যে একটা অংহ সোশালিস্ট এমনকি বলশেভিক, এটা জিওনিস্টা আন্দোলন কে পাত্তা না দেওয়ার জেদে তৈরী হচ্ছে, আবার পরে সে পাড়াই বাংলাদেশী পাড়া হয়ে যাচ্ছে। ওয়েভ অফ ইমিগ্রেশনের সঙ্গে জড়িত। নিউ ইয়র্ক বা সান ফ্রান্সিস্কো তে তো জানিশ সম্পূর্ণ ইমিগ্রেশন অনুযায়ী বসতি। আমি একবার কলকাতায় কোন বই মেলায় বহুদিন আগে (তখনো সেফোলোজি র সঙ্গে পরিচিত হই নি) নিউ ইয়র্ক এর মিউনিসিপাল ইল্কেশনের একটা ভোট ব্যাংক পলিটিক্স এর ইতিহাস এর বই কিনে পড়েছিলাম, তখন ঘোর সোশালিস্ট খুব বিরক্ত হয়েছিলা, ইটালিয়ান ভোট, জিউইশ অর্থডক্স ভোট, জিউহিশ লিবেরাল ভোট, সিভিল রাইট্স হার্লেম ভোট, ডোমিনিকান ভোট এসব পড়ে শুনে, তো পরে দেখেছি এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এই জন্যেই দিল্লী তে পার্টিশনের পরেকার দলিত পাড়ার , চিহ্নিত রিহ্যাবিলিটেশনের গল্প আনলাম। আবার ধর মনোরঞ্জন ব্যাপারী তো সরাসরি বলছেন যে বিজয়্গড়, নেতাজী নগরে আপার কাস্ট রিফিউজি রাই জায়গা পেয়েছে, লোয়ার কাস্ট দের কলকাতা থেকে দূরে জায়্গা খুজতে হয়েছে। ইত্যাদি। আমাদের দেসে ইন্টারন্যাল মাইগ্রেশন প্লাস এত পার্টিশন এসব হয়েও, কাস্ট থাকার কারণে সত্যি কারের গা অবিশুদ্ধ ঘেঁষা ঘেঁষি আর্বানিটি তৈরী হওয়াতে বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।
Avatar: h

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

আর নানা, বয়স্ক মানুষ দু একটা কথা বলে ফেলি, মানুষ ইয়ার্কি মারবে না ঃ-))) ঠিকাছে। রাগ কোরো না। এসেনশিয়ালি এস এম এর পজিশন কিন্তু ভ্যালিড। আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করিনি, ডাইমেন্সন গুলো আনার চেষ্টা করেছি। যেটা প্রবন্ধটা ও করেছে।
Avatar:  রুখসানা কাজল

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

লেখাটা পড়ব বলে সময় খুঁজছিলাম। আজ পড়লাম। আমার প্রথম মন বল্ল, কিছু না বলাই বেটার । কারণ ঘটনা তো তোমার দেশের নয়। দ্বিতীয় মন জানালো, বলা যায়। কিছু ত অবশ্যই বলা যায়। কারণ রক বাবার মত বাংলাদেশে কি ধ্বক হুজুররা নেই ?
চিত্র কিন্তু প্রায় একই। এদেশে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ । সংঘাত তাই ধন বিপনন নিয়ে। রাজনীতি ধন আশ্রয়ী । তা থেকে জনসেবা শব্দটা উবে গেছে বহুদিন ধরে। ঘোর দরিদ্র ঘরের যে ছেলেটা রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে ক্ষমতায় আসতে পেরেছে, সেও ভুলে যায় তার গরীব শিকড়কে। আর এই সব গরীবদের জন্যে এই বাবারা/ হুজুররা ফুঃ ফাঃ তেল পড়া , পানি পড়া, সন্তান লাভ, স্বামী বশ , ইস্তিরি বশের মন্ত্র/দোয়ার রমরম ব্যবসা শুরু করে দেয়। এরা সাকসেসও হয় । কেন হয়? কারন এদের পেছনে রাজনৈতিক প্রশ্রয় থাকে। নির্বাচন এলে বহু রাজনীতিবিদ কুঁজো পিঠে প্রণাম/সালামের সাথে প্রণামী/ সালামীতে ভরে দেয় এদের। শর্ত থাকে। কি শর্ত সবাই জানে। ভাসা কথা , শফি হুজুর নির্দেশ দিলে বাংলাদেশ দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে হরিয়ানার আগুনকে ম্লান করে দিয়ে।
আপনি একজন ক্ষুধার্তের কাছে খাবার নিয়ে আসুন, দেখবেন সে আপনার বুকে মাথায় হাত দিয়ে চোখে জল নিয়ে বলবে, তুই বা আপনিই ভগবান বা ফেরশতা। ধর্ম কিন্তু কাজ, খাবার, শিক্ষা, থাকার জন্যে কতক বান্ডিল টিনও দেয়। আমাদের দেশের গরীব হিন্দু , কিছু মুস্লিম, আদিবাসীরা যিশুর পদপ্রান্তে আশ্রয় নিয়ে নিচ্ছে।
একই রকমের লেখা --হবেই ত। সমস্যা তো একই। ধন্যবাদ লেখক, অনুবাদককে।
Avatar: সিকি

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

কাস্টিজম এই উপমহাদেশের জ্বলন্ত সমস্যা। আজও। এবং শুধু হিন্দুদের মধ্যেই উঁচু জাত নিচু জাত আছে, অন্য ধর্মে নেই, এটা ভাবলে ভুল হবে। কাজের ডিভিশন অনুযায়ী উঁচুনিচুভেদ সমাজে প্রচলিত ব্যাপার। সে যেমন শিখ কমিউনিটিতে আছে, ঠিক তেমনি মুসলমান কমিউনিটিতেও আছে। বৌদ্ধ এবং জৈন কমিউনিটিতেও আছে। আলাদা আলাদা রূপে, আলাদা আলাদা নামে।
Avatar: রৌহিন

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

হানুদা বিরাট টেনশনে ফেলে দিয়েছেন। যে জায়গা থেকে শুরু করার কথা বলছেন তাতে আমিও একমত - কিন্তু সে জন্য সমস্ত লেখাপত্তর ইত্যাদি খুঁজে বার করা বেশ সময়সাপেক্ষ কাজ - তবে এটা করা দরকার, আমিও মনে করি।
মূল তর্কটা অনেক ভাস্ট এক্সপ্যান্সে হচ্ছে এখন - আমি আপাতত: যেটা বলব, সেটা রিপীটেশন। আমরা আমাদের প্রিভিলেজড পোজিশন থেকে এই ভক্তদের সঙ্কটটা ধরতে পারছি না। বাবা ধর্ষক কি না, সেটা এদের কাছে প্রধান বিষয়ই নয় - সেটার সমর্থন বা বিরোধিতায় ভ্যান্ডালিজম হচ্ছেও না (মানে যারা ওই ভ্যান্ডালিজমে অংশ নিচ্ছে তাদের তাই ধারণা) - তারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাদের খড়কুটোটুকু কেড়ে নেবার "চক্রান্ত" হচ্ছে বলে। এ বিষয়ে আমি নিজে যে লেখাটা লিখেছি সেখানে এই ইতিহাসের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া নিয়েও আলোচনা করেছি
Avatar: পাই

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

হানুদা, হ্যাঁ, কিন্তু আমাদের শহর কোল্কতায় এখন এই কাস্ট বেসড আর্বানিটি কতটা?
Avatar: sm

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

তা সিকি ,কি সাধ্বী পোস্টের জন্য এপ্লাই করলো?
Avatar: একক

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

অনেক কম । তবে শুরুটা ওভাবেই । যেমন ধরে মুচিপাড়া , মেথরপট্টি । গোটা কলকাতায় বহু মেথরপট্টি নামের পৰ আছে আলাদা আলাদা অঞ্চলে । কলকাতার কাস্ট টা এইরকম । ঠিক ব্রাহ্মণ -বৈশ্য টাইপ না । বা আমাদের গ্রামের মতো হাড়িপাড়া ,ডোমপাড়া ,বেনেপাড়া আলাদা করে নেই । কাস্ট এর দাগ কথা থেকে কাটা হবে সেটাও ওই ওই অঞ্চলের সমাজ অর্থনীতি অনেক কিছু জড়িয়ে নির্ধারিত হয় ।
Avatar: h

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

একক ঠিক ই বলেছে। আর একটা কথা মাথায় রাখা দরকার, কলকাতা শহরে নতুন বসতি ও , যেমন ধরা যাক, বিশেষত নানা জায়গা থেকে লোক যেখানে আছে, পিক্নিক গার্ডেন আর বাইপাসের ধারের বস্তি সম্পুর্ন কাস্ট লাইন্স এ ভাগ করা। প্রোমোটারি করে বা জেনেরালি হাই এন্ড আরবানাইজেশন করে যেটা হয়, একটা নতুন গোছের জেন্ট্রিফিকেশন হয়, সেটাও খুব স্বাভাবিক ভাবেই আপার কাস্ট এবং মুসলমান রা একদম ই পাত্তা পায় না, বড়লোক মুসলমান রাও, একেবারে ইমিগ্রান্ট মুসলমান না হলে, ঘেটোর কাছে র পাড়া গুলোতেই থাকেন। হলিউড যেমন হোয়াইট ওয়াশ্ড, আমাদের দেশ অনেক বেশি দিন ধরে তাই।

আগে কান্তি বিশ্বাস রা, এখন মতুয়া রা বা আম্বেদকর পল্লীর লোকেরা একটু আধটু ভিসিবল হয়েছে, সর্ভারতীয় রাজনীতিতে স্পেস ওপেন আপ করেছে বলে, কিন্তু জেনেরালি এটা এগ্রিড আমাদের এখানে লোয়ার কাস্ট দের রাজনৈতিক ক্ষমতা অনেক কম। আগ্রহী রা যোগেন মন্ডল সম্পর্কে দেবেশ রায় এর ১২০০ পাতার গোদা কাজ টি পড়ে দেখতে পারেন। তবে দলিত গল্প গুছ্হ টা পড়লেও , ভূমিকাটি পড়বেন না, দেবেশ বাবু র নামেই আছে, কিন্তু আমার ধারণা ওটা বাজেঃ-)))

এই খান থেকে এস এম এর মূল প্রশন টা য় (পসিবলি ইম্প্লায়েড ) আবার ফিরে যাওয়া যেতে পারে। যে বাংলায় কাস্ট অ্যাসারশন এই বাজারেও কম কেন। আকাদেমিক হিস্টরিয়ান সোশিওলোজিস্ট রা নানা কথা বলেছেন, বড় করে থিয়োরাইজেশন ও হয়েছে কিছু, মোটামুটি সংক্ষিপ্ত সার হল, অন্ত্যজ শ্রেণীর মানুষের হিস্টরিকালি কিছু সোশাল মোবিলিটি নিজের মত করে হয়েছে। যদিও তাই দিয়ে পুরোটা স্বাধীনতা উত্তর আপার কাস্ট হেজেমনি র পুরোটা ব্যাখ্যা করা যায় না। হিস্টরিকাল মোবিলিটি বলতে, ধরুন ইসলাম বা চইতন্যের মুভমেন্ট ইত্যাদি তো একেবারে নীচু শ্রেণীর মাউষ কে একটা মুক্তির আলো, এবং এমপাওয়ারমেন্ট এর রাস্তা দেখাচ্ছে, সামাজিক ভাবে। এর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কলোনিয়াল পিরিয়ডে বরঞ্চ এটা ন্যাশনালিস্ট কজ এ চাপা পড়ছে। বিদ্যাসাগর কে অন্ত্যজ গ্রামে ফিরে যেতে হচ্ছে বলে শোনা যায়, কলকাতার যুদ্ধে ক্লান্তো হয়ে কিনা জানা নেই। দীপেশ চক্রবর্তী রা বলছেন, শ্রমিক আন্দোলন জুট মিল অঞ্চলে যা হচ্ছে, সেটা লোয়ার কাস্ট অ্যাসপিরেশন কে ব্যহত করছে। প্যারাফ্রেজ্ড। বইটা দেখে ভালো করে বলতে হবে, মোদ্দা যেটা বলছেন, বাম পন্থী আন্দোলনে অন্ত্যজ দের সামাজিক ক্ষমতায়ন এর কোন উপকার হচ্ছে না, আমি সবটা একমত নই, কিন্তু এভিডেন্স ইজ হেবি , পার্টিকুলারলি ইন লাস্ট ৪০ ইয়ার্স। অরেকটা দিক আছে, মতুয়া দের মধ্যে কলোনিয়াল চাকরির জন্য কিনা জানা নেই, লেখা পড়ার , হোয়াট এভার আধুনিকতা কে গ্রহণ করার একটা বড় মুভমেন্ট হচ্ছে, সেটা যোগেন মন্ডল দের লিডারশিপ আরো শক্তি বাড়াচ্ছে। আমি বলছি না, এই হিস্টরিকাল টেন্ডেন্সি গুলোর জন্য, সমসাময়িক ভুল ভাল মোবিলাইজেশন কম হয়েছে নিম্ন বর্ণের মানুষের মধ্যে, আমি বলছি এগুলো বড় ডিফারেন্শিয়েটর। পুরো টা জানি না আসলে, আন্দাজ করতে গেলেও যা লেখা পড়া লাগে নেই। এই মডেলে ধরুন এটা ব্যখ্যা করা যাবে না, মহারাষ্ট্রে জ্যোতিবা ফুলে থাকা সত্ত্বেও দলিত প্যান্ঠার পার্টি হছে কেন, সেটা অবশ্য ভুল ভাল না, খুব ই র‌্যাডিকাল, এবং তার পপুলারিটি কে গিলে ফেলতে শিব সেনা মার্কা দের অনেক হজম করতে হয়েছে।

যাই হোক দলিত বিষয় চর্চা বাংলা ভাষায় বাড়া দরকার, তাতে গুরুচন্ডালি অংশগ্রহন করছে এটা যথেষ্ট আনন্দের কথা। মরাল পজিশন হার্ডেন্ড হয়ে গেলে জানা টা বাড়বে না।
Avatar: h

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

*আপার কাস্ট ডমিনেটেড।
Avatar: pi

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

বামপন্থী আন্দোলনে অন্ত্যজদের সামাজিক ক্ষমতায়নে কোন উপকার হচ্ছে না,জুটমিল অন্চলে শ্রমিক আন্দোলনে দলিত আসপিরেশন কীভাবে ব্যাহত হচ্ছে, এগুলো নিয়ে আরেকটু শুনতে চাই।
Avatar: dd

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

"বড়লোক মুসলমান রাও, একেবারে ইমিগ্রান্ট মুসলমান না হলে, ঘেটোর কাছে র পাড়া গুলোতেই থাকেন। হলিউড যেমন হোয়াইট ওয়াশ্ড, আমাদের দেশ অনেক বেশি দিন ধরে তাই।" - হানু উবাচ।

নাঃ। সারা দেশে নয়। লুরুতে নয়।

বিশাল বিশাল ফ্ল্যাট বাড়ী। গেটেড কমুনিটি। তাতে সর্ব ধর্ম সমন্বয় থাকে। কেউ জানেও না, টেরও পায় না, নেক্ষ্ট ডোর নেবারের জাত ধর্ম কী। আমি ই একদা একটা ফ্ল্যাট বাড়ীতে ছিলেম যেখানে বারোটা ফ্ল্যাটের মধ্যে চারজন মুসলিম, চারজন খ্রীষ্টান আর চারজন হিঁদু। এ যেন সরকারী বিজ্ঞাপনের মতন।

আমার তিন মে যখন হেথায় স্কুল কালেজে পড়তো তখন তাদের প্রচুর সংখ্যায় মুসলিম ও খ্রীষ্টান সহপাঠী ছিলো। যেটা কলকেতায় নেই।

সায়ণ ও একবার হিসেব দিয়েছিলো ওর গেটেড কম্যুনিটির - সেখানেও এইরকম হিসেব। শুনেছি মুম্বাইএর ও অনেক অঞ্চলে তাই।
Avatar: h

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

শহরের মধ্যে অভিজ্ঞতার প্রতিযোগিতা করে লাভ নেই, সারা দেশে বড়লোক হলেই, ফ্ল্যাট কেনার পয়সা থাকলেই, মুসলমান রা ভীষণ গেটেড কমিউনিটির মধ্যে জায়গা পাচ্ছেন , বা ফ্ল্যাট কিনে উঠতে পারলে, ভীষণ সকলের একজন হয়ে বাঁচছেন, এবং ভীষণ পশ্চিমী কসমোপোল্লিটান কায়দায় কেউ কারো খবর রাখছেন না, এরকম খবর আমার কাছে নেই। অভ্জ্ঞতাও তা বলে না। আমি ৯২ থেকে ২০০০ এবোঙ্গ পরে ২০০০ এর দশকের একেবারে শেষ দিকটা ভারতের নানা শহরে থেকে, বিভিন্ন ধরণের সংখ্যালঘু দের জন্য ভীষণ খোলামাঠ দেখেছি , এটা বলতে পারি না। বিভিন্ন জেঠু দের বিভিন্ন খবর দিতে দিতে ক্লান্ত লেগেছে জীবনে অনেকটা, যতদিন না পর্যন্ত, আমার ভুঁড়ি ওয়ালা সেফ মিডল ক্লাস অ্যাকসেপ্টেবিলিটি তৈরী হয়েছে, সহজে হয়েছে হিন্দু উচ্চ বর্ণ হওয়ার কারণেই। দেশটা ভারতবর্ষ, এখানে আধুনিক কসমোপৈল্টানিজম তৈরী হয় নি তা না খুব ই সীমিতা ভাবে হয়েছে। আশা করি ইমরান হাশমির কন্ট্রোভার্সি র কথা সবার মনে আছে। আরেকটা কথাও যুড়ে দি, আমেরিকায় বড়লোকতম শহরের বড়লোক তম পাড়া গুলোর মধ্যে অফ অল প্লেসেস, যেখানে কোন বাড়ি ই হয়তো মিলিয়ন ডলারের কম দাম না, সেখানেও আমার বিশাল বড়লোক বন্ধুদের ও রেশিয়াল প্রোফাইলিং হজম করতে হয়েছে। তারা যদি অবিশ্বাসী হিন্দু না হয়ে বিশ্বাসী মুসলমান হত, তাহলে ব্যাগড়া বাড়ত, নানা অজুহাতে বাড়িটাই হয়তো বিক্রি হত না।

এই জিনিস আছে, বলেই সারা পৃথিবীর সব বড় শহরে ঘেটো আছে। আমরা মজা করে বলতাম, আরে সাদ্দাম কে পাওয়া যাচ্ছে না ইরাকে, এজওয়ার রোডে একটু রাত করে খোঁজো দেখবে কোন দোকানে বসে হুঁকো খাচ্ছে। সি এল আর জেম্স এতো সাহেব এতো সাহেব, লর্ড্স এ ক্লাব হাউজে গেলে, লোকে উঠে দাঁড়াতো, কালো হওয়ার কারণেই থাকতেন সেই সালা ল্যাম্বেথ এ, মে ফেয়ার বা ব্লুমসবেরি তে না। বিদেশে ঐতিহাসিক কসমোপোলিটানিজম একবার ই কনভিন্সিং লি চোখে পড়েছিল। মাই ফেয়ার লেডির সেই , ডাক্তার আর বড়লোক ইন্টেলেকচুয়াল পাড়া, উইম্পোল স্ট্রীট এর কাছেই ব্রুক স্ট্রীটে সম্ভবত, তার কাচাকাছি জয়গায়, অক্সফোর্ড স্ট্রীটের পেছনে, একটাই ফ্ল্যাট, তাতে ১৬৬৮ তে থাকতেন, সুরকার হ্যান্ডেল, তখন তিনি হাপসবার্গ রাজবাড়ির বরাতে , ওয়াটারমুজিক করতে লন্ডনে এসেছেন, তার ঠিক পাশের ফ্ল্যাট তাতেই ১৯৬৮ তে থাকতেন জিমি হেন্ড্রিক্স, অফ অল পিপল, আই বলছি কিছু পাড়া যাছে যাতে এই তিনশো বছরের মোবিলিটি ও রেয়ার, সারা পৃথিবীর বড় শহরে।

স্পেসিফিক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ট্রেডিং এ যাচ্ছি না। কলকাতা , বম্বে, পুনা এই তিঅন্টে শহরে আমি নব্বই এর দশক থেকে থেকেছি, নাগরিক সহাবস্থান দেখি নি তা না, কিন্তু এমন কি বড়লোক মুসলমান দের সোশাল মোবিলিটি তে বিশেষত ফিজিকাল স্পেস শেয়ার করার ব্যাপারে, ডিসক্রিমিনেশন নেই, এ দাবী করা মিথ্যাচার হবে।

কথাটা কলকাতা র পাড়া অর্গানাইজেশনে কাস্ট লাইন্স এর কথা হচ্ছিল, খুব সঙ্ক্ষেপে যেটা বলা যায়, কলকাতার মুসলমান পাড়া গুলো তেই আশে পাশে বড়লোক মুসলমান রাও থেকে গেছেন। বাঙ্লাভাষী হিন্দু উচ্চবর্ণ রা , যেমন ভাবে পছন্দ মত, বা পকেট অনুযায়ী, আর্বান এক্সপ্যানসন এর সঙ্গে সঙ্গে সরে গেছেন, এটা মুসলমান মিডল ক্লাসের বেলায় হয় নি। যদিও এটা মেনে নিতে অসুবিধে নেই, হলেও বোঝা যেত না, কারণ কলকাতায় মুসলমান দের মিডল ক্লাস এর সাইজ খুব ছোটো। হ্যাঁ বাঙ্লাভাশী মুসলমান প্রফেসনাল যাঁরা তাঁরা হয়তো জেলা থেকে এসে কলকাতায় বাড়ি কিনছেন কেউ কেউ, তাকে আগেই বলেছি , ইমিগ্রান্ট বলেই ধরছি। কিন্তু কলকাতার হিন্দী উর্দু ভাষী বড়লোক বা মিডলক্লাস মুসলমান, মূলত পুরোনো পাড়াগুলোতেই রয়ে গেছেন। ইনভেস্ট করে থাকলে আলাদা কথ। সে হয়তো চিৎপুরের রোডের বা লিন্ডসে স্ট্রীটের বড়লোক মুসলমান, পার্ক সার্কাসে নতুন বড় ফ্ল্যাট কিনে পরিবার কে শিফ্ট করেছেন, কিন্তু তাইবলে সন্তোষ্পুরে ফ্ল্যাট কিনে আপিস করছেন না। এটাই কলকাতার বাস্তব। হতেই পারে, প্রফেসনাল ক্লাসটাই এতো ছোটো, নগন্য সংখ্যায় তাঁরা ফ্ল্যাট কেনার জায়গায় আশছেন, নতুন গেটেড কমিউনিটি গুলো তে, সেটাও মূলতঃ সোশাল মোবিলিটির অভাবের কারণ।

পাই, এটা দীপেশ চক্রবর্তীর অনেক দিনের থিম, পড়ে নিস। ওনার লেখাও পড়তে পারিশ, ওনার লেখাকে রেফার করে কোটি কোটি লোক লিখে হেজে গেছে, তাও পড়তে পারিস ঃ-)) এ ব্যাপারে অপেশাদার হিসেবে আমি আর নতুন কি বলবো।
Avatar: h

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

অমি এই বক্তব্যের সঙ্গে কেন কখন একমত নই, সেটা সহজে অনুমেয়, তবে হি হ্যাজ হিজ শেয়ার অফ কম্পেলিং আর্গুমেন্ট্স। তবে আমি এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত লোক নই, এর চেয়ে বেশি হেজিয়ে লাভ নেই।
Avatar: aranya

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

রিভার্স ডিসক্রিমিনেশন বা প্রেশার-ও থাকে, কোন কোন ক্ষেত্রে। আমার এক হিন্দু বন্ধুর কয়েক পুরুষের বাড়ি ছিল খিদিরপুরে, মুসলমান পাড়ায়। হুমকি এবং চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র যান। প্রতিবেশী এক মুসলিম ডাক্তার বাড়িটা কেনেন এবং ওদের বলেন - ঠিকই করছেন, এখানে আপনারা থাকতে পারবেন না।
খুবই কম ঘটে হয়ত এমন ঘটনা, কিন্তু একেবারে বিরল নয়
Avatar: h

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

হ্যাঁ, আবার চারিদিকে মুসলমান, একটু ভালো পাড়ায় যাই বাবা, এটাও রয়েছে।

হ্যা ইহাই মেজরিটারিয়ান ডিসকোর্স। এবং স্কেলে র তারতম্যটা বোঝার জন্য সাচার কমিটির রিপোর্ট ছাড়া আমাদের হাতে বিশেষ কিছু নেই। তবে নতুন টাউনশিপ আর বড় হাউজিং গুলোয় ভোটার'স লিস্ট দেখা যেতে পারে। বিধান সভা ক্ষেত্র বা পার্ট ধরে।

টিপুর অনুগামীদের টলিগঞ্জে এব`, ওয়াজিদ আলি শাহ র এন্টুরেজ কে খিদিরপুরে বসানো হয়েছিল এবং কনফাইন করে রাখা হয়েছিল। আদি ঘেট্টো ওখানে। আর নাখোদা মসজিদ অঞ্চলে আরেকটা এলাক তৈরী হয়, তবে সেটা ট্রেডার দের নিজেদের স্থাপিত বসতি। আমি চান`দনি নিয়ে বিশেষ পড়াশুনো এখনো করে উঠতে পারিনি। কিছু ডেটা পেলে শেয়ার করা যাবে। তো মেজর এলাকাই ঘেটো হিসেবেই তৈরী।

কলকাতায় দুটো ঘটনা একটু মাথায় রাখা দরকার। বিজয়গড়ে এবং আনোয়ারশাহ রোডের পেছনে বা এখন যেটা গল্ফগ্রীন, ইত্যাদি তে যখন রিফিউজি আন্দোলন চলছে, খুব কষ্ট করে রিফিউজি রা সেটল করছেন, তখন সেখানকার মুসলমান রা ডিসপ্লেস্ড হয়ে পার্ক সার্কাসে আসছেন। আর তার ও আগে, সি আই টি রোড তৈরীর আগে এন্টালি ওয়াজ দ্য এরিআ অফ দোজ অন বর্ডার লাইন্স। সি আইটি রোড তৈরী হওয়ার পরে, এবং ঝাউতলা রোড , কঁগ্রেস এগজিইবিশন রোড এই জায়গা গুলো সংজুক্ত হওয়ার পরে বড়লোক মুসলমান দের এখানেই বেশি দেখা যাচ্ছে। খিদির পুর এবং চিৎপুর রোডের নাখোদা মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাইরে। কিন্তু পার্ক সার্কাস ঠিক কত সাল থেকে প্রিডমিনান্টলি মুসলমান বস্তি হয়ে উঠছে, সেটা সি আই ট রেকর্ড্স এ পরিষাকার না, মিউনিসিপাল রেকর্ড্স এ কিছু আছে, সেটার ডিটেল এখন মনে নেই।
Avatar: Rabaahuta

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

আমাদের অ্যাপার্টমেন্টেও এক ভদ্রলোক/ পরিবারকে ফ্ল্যাট বেচা হয়নি ধর্মপরিচয়ের কারনে। পরে জেনেছি।

অবশ্য আগে জানলেও কিছু হতো না, দামে পোষাচ্ছে, লোন পাচ্ছি, সর্বসুবিধা। প্রোমোটারের চাড্ডীপনার প্রতিবাদে আত্মত্যাগ কি আর করতাম। 'পরে জেনেছি'টা নিছকই সান্ত্বনা বা অজুহাত।
ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা আরকি।

এইবার যদি ধরি ব্যান্ক ম্যানেজারও সমমনস্ক, তাহলে ঐ ভদ্রলোকের লোন পাওয়াও শক্ত।
যাগ্গে।
Avatar: h

Re: ডেরা সাচা সৌদা - সত্যি কাহিনি

ঠিক ই বলেছো, আমাদের অনেকের ই গ্লানি এবং গ্লানিসুখের আত্মরতি এ ছাড়া কিসুই করা হয়ে ওঠে না। আমার পরিবার একটা বড় অংশ ফুল বিজেপি হয়ে গেল, তারা জে এন ইউ যাদবপুরে নিউক্লিয়ার অ্যাটাক হলে বোধ হয় খুশি হবে, ইচ্ছে করে না কথা বলতে, তাও বলি, জমি তো ফুল ছাড়া যাবে না, যে কোন ফোরামে।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 18 -- 37


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন