সন্তানহীনতার অধিকার

শুচিস্মিতা

প্রতিবার আটই মার্চ আসে, ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ইমেল নানা শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে, আর আমি ভাবতে বসি এই শুভেচ্ছাগুলোর কতটুকু আমার প্রয়োজন আছে। ছাত্রাবস্থায় মেয়ে হিসেবে কখনও অপদস্থ হতে হয় নি, কর্মজীবনে মেয়ে হওয়ার জন্য অকর্মণ্য তকমা লাগেনি, যাকে বিয়ে করেছি সে তুমুল কনজার্ভেটিভ পরিবেশে বড় হয়েও কোনদিন আমায় হতাশ করেনি, বিবাহসূত্রে যে পরিবারের সাথে জড়িয়েছি তাঁরাও নিজেদের সমস্ত সংস্কারের সাথে যুদ্ধ করে উদারতার পরীক্ষায় সসম্মানে পাশ করেছেন। নারীদিবসে যেসব বঞ্চনার গল্প সামনে আসে তার সিংহভাগই জীবনের এই অধ্যায়গুলোর সাথে জড়িত। আমি জানি এই বঞ্চনাগুলো এখনও প্রতিনিয়ত হয়, যাদের সাথে হয় তাদের আমি চিনি, কিন্তু এই গল্পগুলো আমার গল্প নয়। তা বলে এমনও নয় যে মেয়ে হওয়ার জন্য কোন স্যোসাল প্রেশার আমার ওপর নেই। অনেকসময় ভেবেছি এই কথা লিখব না, ভয় হয়েছে অন্য কারোর সংবেদনশীলতায় হয়ত আঘাত করে ফেলব। তবু আজ লিখেই ফেলি।

একটা বয়েসের পরে কর্মক্ষেত্রই হোক বা অন্য কোন সামাজিক ক্ষেত্র, দুজন মহিলার আলাপ শুরু হয় তাদের বাচ্চাদের নিয়ে। ছেলেদের ক্ষেত্রে এটা একেবারেই হয়না এমন নয়, তবে সন্তানপালন এখনও দেশ-জাতি নির্বিশেষে যেহেতু মূলত মেয়েদের দায়িত্ব এবং মা না হওয়াকে অনেকে নারীত্বের অপচয় মনে করেন, তাই মেয়েদের আলোচনায় এই প্রসঙ্গ আসে অনেক বেশি। সেজন্যই বোধহয় আমাদের সন্তানহীনতার জন্য আমার জীবনসঙ্গীটিকে তেমন কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় না, অথচ আমার জন্য থাকে অনেক প্রশ্ন। সন্তানহীনতার সিদ্ধান্ত আমাদের যৌথ সিদ্ধান্ত। আমাদের দুজনের সামনে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে (যেটা আমাদের বাড়ি থেকে করা হয়েছে) আমরা দুজনেই তার উত্তর দিয়ে থাকি। কিন্তু যেখানে প্রশ্নের মুখোমুখি একা আমি সেখানে তো অন্য মানুষটির কিছু করার থাকে না। আর এই জায়গাটায় এসে আমাদের সচেতন প্রতিরোধ সত্ত্বেও লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হতেই হয়।

অনেকেই প্রশ্ন করেন, কেন সন্তান চাই না। আমরা বর্তমান পৃথিবীকে একটা শিশুর জন্য যথেষ্ট সুস্থ ও নিরাপদ মনে করি না। তাই আমরা সন্তান চাই না। আমরা যখন জন্মেছিলাম তখনও পৃথিবী সুস্থ ছিল না, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে আমাদের কোন হাত ছিল না। যেটা আমাদের হাতে আছে আমরা বড়জোর সেটুকু করতে পারি। আমরা না জন্মালেও পৃথিবীর কোন ক্ষতি ছিল না। পৃথিবী তার মত চলত, অথবা চলত না। আরো অজস্র পৃথিবীর মত গ্রহ আছে ব্রহ্মাণ্ডে যাতে প্রাণ নেই। তারাও সুন্দর। অবশ্য চেতনা না থাকলে আর সুন্দরই বা কি! এসব দার্শনিক কথা থাক। নিতান্ত বস্তুতান্ত্রিক ভাবনাতেও দেখতে পাই মানুষজন্ম কেমন একটা অনর্থক ব্যাপার। এত বেশি মানুষ হয়ে গেছে পৃথিবীতে, না আছে পর্যাপ্ত খাবার, না আছে পর্যাপ্ত জমানো সম্পদ। সোজা কথা সোজা ভাবেই বলি। ছোট থেকেই শিখেছি খুব ভালো রেজাল্ট করতে হবে, ভালো চাকরি করতে হবে, তারপর একটা ভালো বিয়ে, সন্তান এবং তাদের প্রতিপালন। এই জিনিসগুলোর একটাও এমন লোভনীয় নয় যে তার জন্য জীবনভোর প্রাণপাত পরিশ্রম করা যায়। যারা পারেন তারা করেন। আমরা আরো একটা মানুষকে তার মতামত ছাড়াই নিয়ে এসে এই বোঝা চাপিয়ে দিতে চাই না। আর মতামত নেওয়ার তো কোন উপায়ই নেই। একটি শিশুকে জন্ম দিয়ে তাকে তো আর সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করা সম্ভব নয়, তুমি কিভাবে বড় হতে চাও জানাও। নিজেদের মত তার ওপর চাপাতেই হবে, এমনকি তার মধ্যে এমন কিছু মতও থাকবে যা নিজেদেরই নীতিবিরুদ্ধ। যেমন ধরা যাক, বন্ধুস্থানীয় ভারতীয় বাবা-মায়েরা যেভাবে গেটেড কমিউনিটিতে বাসা বেঁধে গেটেড স্কুলে পড়শোনা করিয়ে যতখানি সম্ভব নোংরা পৃথিবীর ছোঁয়া বাঁচিয়ে বাচ্চা মানুষ করেন, সেটা আমাদের একান্তই অপছন্দ। একটু সমালোচনাই করলাম। তবে এটাও জানি, নিজেদের বাচ্চা থাকলে আমরাও এই পথই নিতাম। আরেকটি মানুষের জীবন নিয়ে বাজি লড়ার সাহস আমাদেরও হত না। আমরা জানি, আপনারা নিরুপায়। 

আমাদের প্রশ্ন হল, এমন হাত-পা বাঁধা অবস্থাতেও কিসের প্রেরণায় মানুষ সন্তানের জন্ম দেয়? হ্যাঁ, এতদিন পর আমাদেরও উল্টে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হচ্ছে। মেয়েদের মা হওয়া, বা না হতে পারলে আক্ষেপ করা এমনই স্বাভাবিক বিষয় যে সন্তানহীনতার জন্য আমিই সব সময় সবার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে এসেছি। এই সামাজিক নির্মাণ এতটাই গভীর যে আমি কখনও কাউকে প্রশ্ন করার কথা ভাবি নি, কেন সন্তান জন্ম দিতেই হবে? আপনি কেন দিয়েছেন? আমরা যখন বলি সন্তান চাই না, তখন অনেকে জিনের কথা বলে। এও এক ধাঁধা। পৃথিবীতে কত শিশুই তো আছে। সকলের বড় হয়ে ওঠার সুস্থ পরিবেশ তো দূরের কথা, পর্যাপ্ত খাবারও নেই, তবু মানুষের নিজেরটিকেই চাই। আমরা জীবনে যা কিছু বিদ্যাবুদ্ধি অর্জন করেছি তা নাকি আমাদের জিনের মাধ্যমে বাহিত হবে, পৃথিবীর কাছে আমাদের ঋণ শোধ হবে এই উপায়ে। মেয়েদের এখন অপেক্ষাকৃত বেশি বয়েসে বিয়ে হয়। সে কারনেই কিনা জানি না, অনেকেরই মা হতে সমস্যা হয় শুনেছি। কাজের জায়গায় স্ট্রেসের জন্য প্রেগন্যান্সি আসতে দেরি হচ্ছে এটাও খুবই শুনি। ভারতেএখন ফার্টিলিটি ক্লিনিকের খুবই রমরমা। অনেক অনেক টাকা খরচ করে সেখানে চিকিৎসা হয় যাতে নিজেদের জিনের ধারাকে বইয়ে দেওয়া যায়। এখানে এসে আমরা হোঁচট খাই। আমরা তো এখনও নিজেদের কাছে এতখানি প্রিয় হয়ে উঠতে পারিনি যে নিজের জিনের অংশ যে কোন মূল্যে পৃথিবীতে না ছড়াতে পারলে চলবেই না। জানি, এ লক্ষ বছরের ইনস্টিঙ্কট। এই প্রবৃত্তি যদি না থাকত তাহলে বিবর্তন হত না, প্রাণ বিলুপ্ত হয়ে যেত। হয়ত মানুষও একদিন বিলুপ্ত হবে এই পথেই। সেজন্যই কি সন্তানহীনতার ওপর এই স্যোসাল প্রেশার? কিছুতেই যাতে আমরা হারিয়ে না যাই? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পোলান্ডে, আজ সিরিয়ায় এইজন্যই কি অগণিত শিশুর জন্ম দিতে বুক কাঁপে না, যে একটা-দুটোও যদি বেঁচে থাকে তারা ছড়িয়ে দেবে তাদের পিতৃপুরুষের জিন? কিন্তু সন্তানের জীবনের মূল্যে নিজের জিনের বিস্তার সুরক্ষিত করা কি একরকম স্বার্থপর ভাবনা নয়? আমরা তো দেখতে পাই, পৃথিবীতে কিভাবে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। যুদ্ধ বাধার সম্ভবনা খুব বেশি। যুদ্ধ না বাধলেও সময় বিক্ষুব্ধ, জীবন নিরাপদ নয়। এই পরিস্থিতিতে আরো নতুন নতুন শিশুরা যখন পৃথিবীতে আসে, তারা তো আসে আমাদের আনন্দের ভান্ডার হয়ে, তাদের ঝলমলে তারুণ্যে আমাদের বার্ধক্য বিলম্বিত হয়, কিন্তু তার বদলে আমরা তাদের কী দিতে পারি? নাকি, সন্তানজন্মের জৈবিক তাড়না এমনই যে এ চিন্তা মানুষের মনেই আসে না? যাঁরা জন্ম দেন তাঁদের আনন্দ হয় বুঝতে পারি, কিন্তু যে জন্মাল তার এতে কী উপকার হয়? সন্তানের দিক থেকে ভাবলে তার জন্মের সিদ্ধান্তটা কি আদৌ কোন র‌্যাশনাল সিদ্ধান্ত? নাকি জন্ম দেওয়ার পরে নিজের কাছেও একথা স্বীকার করা কঠিন হয়ে পড়ে যে এ সিদ্ধান্ত আসলে র‌্যাশনাল ছিল না? 

একথা স্বীকার করি, আজ যে এত কথা খোলা পাতায় লিখতে পারলাম তা গত কয়েকশো বছরের মেয়েদের অক্লান্ত লড়াইয়ের ফল। এই লড়াইটা জারী রাখার জন্য বংশবিস্তারের প্রয়োজন আছে। আবার মহাকালের নিরিখে দেখলে এই পৃথিবী গ্রহের জীবৎকালও বিন্দুবৎ ঠেকবে। ব্যক্তি মানুষ তো দূরের কথা, পুরো প্রজাতির অবদানও এখানে তুচ্ছাতিতুচ্ছ। আমরা খুব বেশি হলে পরবর্তী দুই প্রজন্ম দেখতে পাই, তার বেশি তো নয়। ক্ষুদ্র মানুষ আমরা। কী করে নিজেদের সন্ততির বিনাশ দেখব! তার চেয়ে ভালো মনে হয় যতটুকু সম্পদ এখনও অবশিষ্ট আছে তাই দিয়ে যারা এসে গেছে তাদের ভরণপোষণ করা। এ পৃথিবী এখন নতুন শিশুর জন্য প্রস্তুত নয়।

 




মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 17 -- 36
Avatar: Hermione Granger

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

Looks like u hve refused to be a farmer...still everybody is surviving...so anybody can refuse to do anything....as long as it is within the limits of civilised society...still society will survive grandly...
and dont bother about European countries...look closer home...we are "plugged" by too many chidren...so its perfectly alright to decide not to add upto that...and the most dangerous disease of all times is the the overconfidence of the unintelligent...that is what gives rise to all sorts of radicalism...so please "plug" that plague first...here is a cue for you.

Avatar: চহার মগজ শিকন

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

😂😂😂
Avatar: S

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

হঠাত এই একই টপিকের উপরে অনেকগুলো টই একসাথে।
Avatar: S

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

তুল্লাম।
Avatar: pi

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

আরে এস। টই না তো। এবারে তো এই টপিকে চারটে বুলবুলভাজা বেরিয়েছে। এটা তারই একটা।
Avatar: Anindya

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

Eto jobabdihi korar kono proyojon chilona, santan nei bole ekta akkhep apnar subconscious mind e ache
Avatar: শুভ্র সান্যাল

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

সন্তান উৎপাদন করা যে কোন জীবের সহজাত প্রবৃত্তি । মানুষ এই পৃথিবীতে অন্যান্য সমস্ত জীবের মতনই একটা জীব মাত্র । এই রকম চিন্তাধারা আজকের দিনে অনেক মানুষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে । এর ফলে মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে । এই পৃথিবী যদি আগত শিশুর জন্য নিরাপদ না হয় তাহলে তার জন্য দায়ী কিন্তু এই মানব নামক জীব নিজে । আর অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার ভয়ে এই চাপ, হ্যাঁ তাই, কিন্তু তার জন্যেও মানুষ নিজে দায়ী নয় । প্রকৃতি সবসময় জীবের অনুকূলে থাকার চেষ্টা করেছে । মানুষ নামক প্রজাতি নিজের স্বার্থে যতবার প্রকৃতিকে পাল্টানোর চেষ্টা করেছে প্রকৃতি ততবার জীবকে টিকে থাকবার জন্য তার মধ্যে পরিবর্তন করেছে । সেখানে দাঁড়িয়ে মানুষ যদি নিজেই নিজের অস্তিত্ব কে শেষ করে দিতে চায় তাহলে সেটাকে মুৰ্খামী ছাড়া আর কিছু বলা যাবে না । মানুষের জীবন ধরনের পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন আনতে হবে । আধুনিক সভ্যতা যেমন অনেক কিছু আমাদের দিচ্ছে তেমনই অনেক কিছু কেড়ে নিচ্ছে । দেওয়াটা যতটা তারাতারি আমরা অনুভব করছি, কেড়ে নেওয়ার সামগ্রিক ছবিটা ততটা তারাতারি দেখা যাচ্ছে না । মানুষ নামক জীব যদি নিজের জীবনধারণের পদ্ধতি না বদলায় তাহলে সে শুধু নিজের নয় সমগ্র জীব কুলের বিলুপ্তির কারন হবে একদিন । এবং আপনি নিজেও একজন মানুষ হয়ে এই ধ্বংসের দায় কোন ভাবেই এড়াতে পারেন না ।

মেয়েদের ওপরে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক চাপ, এর জন্যেও মানুষ নিজে দায়ী । পরিবর্তন তাকেই আনতে হবে । প্রকৃতিকে এর জন্য কোন ভাবেই দায়ী করা যাবে না । এবার কিভাবে সেই পরিবর্তন আনা সম্ভব সেটা ভিন্ন ইস্যু ।

এই ধরনের আলোচনাতে নিজেকে একটা ইনডিভিজুয়াল সত্বা না ভেবে একটা প্রজাতির (এখানে মানুষ) প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে হবে ।
Avatar: একক

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

সমষ্টির পুটকি জ্যাম করা প্রতিটি একক মানুষের কর্তব্য ।
Avatar: একক

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

অন আ সিরিয়াস নোট্ , এত সত্বা ফত্তা ভাবার দরকার নেই । মানুষ যা করবে নিজের জায়গা থেকে । হিউম্যান ক্যাপিটাল এর নেচার আর পাঁচটা ক্যাপিটালের মতই । দেশসুদ্ধু হিউম্যান ক্যাপিটাল যথেষ্ট বেড়ে গ্যাছে , অতএব এখন ডিভিডেন্ড হিসেবে কোনো ব্যক্তি মানুষ যদি বাচ্চা না চান সেটা একশো ভাগ জায়েজ এবং তাতে টোটাল হিউম্যান ক্যাপিটালের কোনো ক্ষতি নেই বরং লাভ আছে । যাঁরা এত ডারউইন -ক্যাপিটাল -প্রোডাক্ট সাত -সতেরো এত কিছু বোঝেন তাঁরা এইটুকু বোঝেন না যে , মার্কেটে প্রয়োজনের অতিরিক্ত রিসোর্স পুশ করে পার ইউনিট ভ্যালু কমে যাচ্ছে !


সমস্যা টা অন্যজায়গায় । সেটা কজন বাচ্চা জন্ম নিল তা দিয়ে ঠিক হয়না । প্রব্লেমটাকে ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট না । বাচ্চা খুব ফ্যাসিনেটিং ব্যাপার এনিয়ে কোনো সন্দেহ নেই । একটা ছোট বাচ্চা যেভাবে ল্যাঙ্গুয়েজ পিকআপ করে , যেভাবে বডি ব্যালান্স গ্রো করে বা যেভাবে নিজের ডিসিশন মেক করে এগুলো পাশ থেকে লক্ষ্য করা হাইলি ফ্যাসিনেটিং। একটা রক্ত মাংসের কমপ্লেক্স লার্নিং ইউনিট যেন :):) নিজের ভাগ্নে ভাগ্নিদের ক্ষেত্রে ব্যাপক এনজয় করেছি । আমার মনে হয় মানুষের মধ্যে একটা খিদে আছে বাচ্চাদের সঙ্গে মেশবার , বড় হতে দেখার ইত্যাদি । তো সেটা ফুলফিল করা জরুরি ।

ধরুন এমনকি পাশের বাড়ির উঠোনেও যদি একটা টগর চারা হয় , আপনি কি আসা-যাওয়ার পথে খেয়াল করেন না গাছটা কতটা বাড়লো -কবে ফুল ফুটলো । এগুলো খুব স্বাভাবিক ইন্সটিঙ্কট ।

ভার্চুয়াল এপ্স দিয়ে বাচ্চা ও ন্যানীদের কানেক্ট করানো যায় । বেবি সিটার হিসেবে স্কুল কলেজের মেয়েরা কাজ করুক । বেবি আপব্রিঙগিং এর হ্যাপা ও আনন্দ দুটোই কমিউনিটিতে ভাগ হোক । আমার ধারণা ভার্চুয়াল এপ্স -ফিজিক্যাল কমিউনিটি কন্ট্যাক্ট এগুলো বাড়িয়ে দিলে পার্সোনাল লাইফে তার পসিটিভ প্রভাব পর্বে , ইমোশনাল ব্যাকাপ এর জায়গা তৈরী হবে আবার নিজের ক্ষেত্রে বেবি নেওয়ার বা না নেওয়ার ডিসিশান আরও স্ট্রং হবে ।

যাঁরা বাচ্চা ভালোবাসেন বা অন্যদের বাচ্চা নিতে বলেন তাঁদের ডিমোনাইজ করাটা ঠিক রাস্তা না । আল-বাল যুক্তি দিতে এলে ঝড় খাবে সে আলাদা কথা । বাট দ্য ডিসায়ার ম্যাটার্স । ওটা সল্ভ করতে হবে ।
Avatar: একক

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

* স্কুলের ছেলেরাও বেবি সিটার হতে পারে "একটিভিটিজ" এর পার্ট হিসেবে । নরম্যালি প্রাইভেট বেবি সিটার হিসেবে ছেলেদের জায়গা করে নেওয়া কঠিন । তাই স্কুল একটিভিটিজ এ রাখা ভালো ।
Avatar: অভিষিক্তা রায়চৌধুরী

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

বাচ্চা মানুষ করায় কষ্ট আছে ঠিকই বিশেষতঃ দুজনেই কর্মরত হলে কিন্তু পাহাড়ে চড়াও তো কষ্টের তবু তো আমরা উঠি কারণ সে পথের বাঁকে বাঁকে আনন্দ। শিশুদের মত সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ আনন্দ আর কে দিতে পা?
Avatar: অভিষিক্তা রায়চৌধুরী

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

বাচ্চা মানুষ করায় কষ্ট আছে ঠিকই বিশেষতঃ দুজনেই কর্মরত হলে কিন্তু পাহাড়ে চড়াও তো কষ্টের তবু তো আমরা উঠি কারণ সে পথের বাঁকে বাঁকে আনন্দ। শিশুদের মত সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ আনন্দ আর কে দিতে পা?
Avatar: সায়নী ঘটক

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

মাতৃত্ব নারীকে পূর্ণতা দেয় ,এ কথা একেবারেই ঠিক নয়। কে কিসে পূর্ণ হবে ,সে একমাত্র নিজেই বলতে পারে। তার মানে যারা স্বেচ্ছায় সন্তান নেয়নি বা যাদের সন্তান ধারণের সমস্যা রয়েছে , তারা পূর্ণ নয় ? বহু মাকেই দেখেছি শুধু নিজের সন্তানের টাই বোঝেন , পৃথিবীর সব টুকু ,সব ভালো টুকু বাকিদের বঞ্চিত করে যাতে নিজের সন্তানের থাকে সেই ব্যাপারতা সুনিশ্চিত করেন।
সন্তানের জন্ম গরু ছাগল ভেঁড়া সাপ কুমীর সবাই দেয় ,তারাও সন্তানকে আগলে রাখে ,তারাও সন্তানের খাবার নিজেরাও অনেক সময় না খেয়ে খাওয়ায় ,যে বিড়ালটি নিজে না খেয়ে তার ছানাগুলোকে খাওয়ার সুযোগ দেয়, সেই মুরুগীটি যে নিজে ঠক ঠক শব্দ করে নিজে না খেয়ে তার ছোট্ট ছোট্ট ছানাগুলোকে খাওয়ানো শেখায় কিংবা যে পশুটি তার সন্তানটি সিংহের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর নিজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিংহের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সন্তানকে উদ্ধার করে- আমাদের অভিধানে এরা কি সবাই পূর্ণতা পেয়েছে ?
৪ বছর আগে নিজে মা হয়েছিলাম , যবে থেকে সন্তানের উপস্থিতি জানতে পেরেছিলাম , ৯ টা মাস নিজেকে আগলে রেখেছি। লোভনীয় খাবার থেকে নিজেকে বঞ্চিত রেখেছি -আমার শারীরিক কষ্ট হলে আমার তো হবেই ,ওর ও হবে। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তানের জন্ম দিয়েছি - জানি কি পরিমান কষ্ট হয়। সন্তান জন্মানোর আগেই চাকরি ছেড়েছিলাম , ঠিক করেছিলাম শুধু আয়ার হাতে ছাড়বোনা। রাতের পর রাত জেগে হয়েছি , শীর্ণকায়া। কার জন্য ? নিজের সন্তানের জন্য -কে আমাকে পূর্ণ বা অপূর্ণ বলবে তার জন্য নয়। কেউ আমাকে পূর্ণ ,অপূর্ণ , খারাপ মা বলুক ,আমি জানি আমি নিজে কি। নিজে মা হওয়ার পর ,মনে হয়েছে কোনো এক সময় সন্তান আমার শরীরের অংশ ছিল ,ঠিক এটা ভেবেই বোধ হয় সারাজীবন ধরেই ভাববো ওর খাওয়া মানে আমার খাওয়া , ওর কষ্ট মানে আমার কষ্ট।
কিন্তু যদি এই আশা করে বাঁচি , আমি কি পরিমান কষ্ট করেছি , সে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নিজের জীবনটা ওর আমার পায়ে সপেঁ দেবে , এটা ভাবলে আমি ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্ত হবো , ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমার সন্তান , ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের সম্পর্ক। মায়ের সঙ্গে কারোর তুলনা হয়না , জীবনসঙ্গীর সঙ্গেও মার তুলনা হয়না। মা জীবনসঙ্গী নয় -এটা যত শিগগিরই মেনে নিতে পারবো -আমার ভালো।
সন্তানের জন্ম প্রাকৃতিক নিয়মে সবাই দিতে পারে , কিন্তু সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করাই সবথেকে কঠিন কাজ। আজকে আমাদের সময় এতো প্রলোভন , চারিদিকে এতো পয়সার ঝনঝনানি উপেক্ষা করে ,যারা সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে পারবেন তারাই পূর্ণ।
যাদের সন্তান নেই , যারা সন্তান চান না তাদের ব্যাপারটা ব্যক্তিগত।

Avatar: dibyendu dutta

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

ami biyer por child chai na. sudhu ami r amar life partner mile ektu onno rokom bhabe life ta ke chai. but amar biswas biyer por child chaina ekotha sonar por kono meyei amar life partner hote chaibe na.
Avatar: dc

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

আপনি এক কাজ করুন। আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়্স্বজন যারা ৩৫-৫০ বয়্সী আর যাদের বাড়িতে এক দুটো করে ছানা আছে সেরকম কয়েকটা বাড়িতে গিয়ে খানিকক্ষন করে ভিডিও রেকর্ডিং তুলে নিন। তারপর আপনার বান্ধবীকে গিয়ে সেই ভিডিও দেখান। ব্যস, সে আর আপনি নিশ্চিন্ত মনে দুজন মিলে জীবন কাটিয়ে দিতে পারবেন, দুই থেকে তিন হওয়ার কথা আর আপনাদের মনেও আসবেনা।
Avatar: dc

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

এছাড়া কোন রেস্টুরেন্ট বা পার্কে গিয়ে যদি দেখেন কোন পরিবার বাচ্চা নিয়ে এসেছে তো তাদেরও রেকর্ডিং করতে পারেন, তাদের অনুমতি সাপেক্ষে (নইলে প্রাইভেসি ভায়োলেশানের কেস খেয়ে যেতে পারেন)। রেস্টুরেন্টে একটি বাচ্চা সহ ফ্যামিলির আশেপাশে পাঁচ মিনিট কাটালে আপনি আর আপনার বান্ধবী জীবনেও বংশবিস্তারের কথা মনে আনবেন না।
Avatar: Atoz

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

উল্টোটাও হতে পারে। এইসব দেখার পর হয়তো বান্ধবীই সন্তান চাইলেন না, আর ভদ্রলোকই প্রবলভাবে সন্তান চেয়ে চেয়ে চেয়ে চেয়ে হাতে পায়ে ধরে মহিলার মাথা গন্ডগোল করে দিলেন । ঃ-)
Avatar: avi

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

এইটা কিন্তু এক্কেবারে দারুণ ব্যাপার। একবার এক ছোট পাহাড়ী শহরে অভিজ্ঞতা হয়েছিল। বিকেল চারটে মতো বাজে। ছোট্ট একটা রেস্তোরাঁয় ঢুকেছি। আর কোনো লোক নেই। বাইরে ঝিরঝির করে বৃষ্টি হচ্ছে। একজনই অর্ডার নেওয়ার ছিলেন। শান্তভাবে আমাদের খাবার দিতে দিতেই একটি দল এল, যার মধ্যে গোটা দুই তিন স্বামী-স্ত্রী-বাচ্চা সেট। তারপর শুরু হল কে-ও-স। ওরেবাবা! তাঁদের কথায় বুঝলাম তাঁরা খেয়েদেয়ে ওই বৃষ্টির মধ্যেই সমতলে নেমে রাত আটটায় ট্রেন ধরবেন, যাতে অন্তত তিন ঘন্টা লাগার কথা। তার মধ্যে সবাই একসাথে চিৎকার করে চলেছেন, খাওয়ার অন্তত ত্রিশখানেক স্পেকুলেশন তৈরী হল, আর সর্বোপরি বাচ্চাদের গলা খুলে চিৎকার। এক ব্যক্তি তাঁর বাচ্চাকে একটু শান্ত হতে বলতেই গিন্নী ধমকে দিলেন, সারাটা রাস্তা গাড়িতে তো চুপ করেই ছিল। ঠিক কথা। কি দুঃখে যে আরো মিনিট পনেরো বসে থাকতে হয়েছিল। আমরা বেরোনো অব্দি তাঁরা অর্ডার করে উঠতে পারেন নি।
Avatar: Atoz

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

তাইলে ভেবে দেখুন আগেকার দিনের কথা। এক এক বাপমায়ের গোটা সাত কি আট করে বাচ্চা!!!! এইরকম গোটা তিন পরিবার রেস্তরাঁতে গেলে কী হতো ভাবুন। ঃ-)
Avatar: Du

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

সাউথ ইন্ডিয়ান বাচ্চাদের আবার একটা অদ্ভুত জেদের কান্না আছে।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 17 -- 36


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন