সন্তানহীনতার অধিকার

শুচিস্মিতা

প্রতিবার আটই মার্চ আসে, ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ইমেল নানা শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে, আর আমি ভাবতে বসি এই শুভেচ্ছাগুলোর কতটুকু আমার প্রয়োজন আছে। ছাত্রাবস্থায় মেয়ে হিসেবে কখনও অপদস্থ হতে হয় নি, কর্মজীবনে মেয়ে হওয়ার জন্য অকর্মণ্য তকমা লাগেনি, যাকে বিয়ে করেছি সে তুমুল কনজার্ভেটিভ পরিবেশে বড় হয়েও কোনদিন আমায় হতাশ করেনি, বিবাহসূত্রে যে পরিবারের সাথে জড়িয়েছি তাঁরাও নিজেদের সমস্ত সংস্কারের সাথে যুদ্ধ করে উদারতার পরীক্ষায় সসম্মানে পাশ করেছেন। নারীদিবসে যেসব বঞ্চনার গল্প সামনে আসে তার সিংহভাগই জীবনের এই অধ্যায়গুলোর সাথে জড়িত। আমি জানি এই বঞ্চনাগুলো এখনও প্রতিনিয়ত হয়, যাদের সাথে হয় তাদের আমি চিনি, কিন্তু এই গল্পগুলো আমার গল্প নয়। তা বলে এমনও নয় যে মেয়ে হওয়ার জন্য কোন স্যোসাল প্রেশার আমার ওপর নেই। অনেকসময় ভেবেছি এই কথা লিখব না, ভয় হয়েছে অন্য কারোর সংবেদনশীলতায় হয়ত আঘাত করে ফেলব। তবু আজ লিখেই ফেলি।

একটা বয়েসের পরে কর্মক্ষেত্রই হোক বা অন্য কোন সামাজিক ক্ষেত্র, দুজন মহিলার আলাপ শুরু হয় তাদের বাচ্চাদের নিয়ে। ছেলেদের ক্ষেত্রে এটা একেবারেই হয়না এমন নয়, তবে সন্তানপালন এখনও দেশ-জাতি নির্বিশেষে যেহেতু মূলত মেয়েদের দায়িত্ব এবং মা না হওয়াকে অনেকে নারীত্বের অপচয় মনে করেন, তাই মেয়েদের আলোচনায় এই প্রসঙ্গ আসে অনেক বেশি। সেজন্যই বোধহয় আমাদের সন্তানহীনতার জন্য আমার জীবনসঙ্গীটিকে তেমন কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় না, অথচ আমার জন্য থাকে অনেক প্রশ্ন। সন্তানহীনতার সিদ্ধান্ত আমাদের যৌথ সিদ্ধান্ত। আমাদের দুজনের সামনে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে (যেটা আমাদের বাড়ি থেকে করা হয়েছে) আমরা দুজনেই তার উত্তর দিয়ে থাকি। কিন্তু যেখানে প্রশ্নের মুখোমুখি একা আমি সেখানে তো অন্য মানুষটির কিছু করার থাকে না। আর এই জায়গাটায় এসে আমাদের সচেতন প্রতিরোধ সত্ত্বেও লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হতেই হয়।

অনেকেই প্রশ্ন করেন, কেন সন্তান চাই না। আমরা বর্তমান পৃথিবীকে একটা শিশুর জন্য যথেষ্ট সুস্থ ও নিরাপদ মনে করি না। তাই আমরা সন্তান চাই না। আমরা যখন জন্মেছিলাম তখনও পৃথিবী সুস্থ ছিল না, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে আমাদের কোন হাত ছিল না। যেটা আমাদের হাতে আছে আমরা বড়জোর সেটুকু করতে পারি। আমরা না জন্মালেও পৃথিবীর কোন ক্ষতি ছিল না। পৃথিবী তার মত চলত, অথবা চলত না। আরো অজস্র পৃথিবীর মত গ্রহ আছে ব্রহ্মাণ্ডে যাতে প্রাণ নেই। তারাও সুন্দর। অবশ্য চেতনা না থাকলে আর সুন্দরই বা কি! এসব দার্শনিক কথা থাক। নিতান্ত বস্তুতান্ত্রিক ভাবনাতেও দেখতে পাই মানুষজন্ম কেমন একটা অনর্থক ব্যাপার। এত বেশি মানুষ হয়ে গেছে পৃথিবীতে, না আছে পর্যাপ্ত খাবার, না আছে পর্যাপ্ত জমানো সম্পদ। সোজা কথা সোজা ভাবেই বলি। ছোট থেকেই শিখেছি খুব ভালো রেজাল্ট করতে হবে, ভালো চাকরি করতে হবে, তারপর একটা ভালো বিয়ে, সন্তান এবং তাদের প্রতিপালন। এই জিনিসগুলোর একটাও এমন লোভনীয় নয় যে তার জন্য জীবনভোর প্রাণপাত পরিশ্রম করা যায়। যারা পারেন তারা করেন। আমরা আরো একটা মানুষকে তার মতামত ছাড়াই নিয়ে এসে এই বোঝা চাপিয়ে দিতে চাই না। আর মতামত নেওয়ার তো কোন উপায়ই নেই। একটি শিশুকে জন্ম দিয়ে তাকে তো আর সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করা সম্ভব নয়, তুমি কিভাবে বড় হতে চাও জানাও। নিজেদের মত তার ওপর চাপাতেই হবে, এমনকি তার মধ্যে এমন কিছু মতও থাকবে যা নিজেদেরই নীতিবিরুদ্ধ। যেমন ধরা যাক, বন্ধুস্থানীয় ভারতীয় বাবা-মায়েরা যেভাবে গেটেড কমিউনিটিতে বাসা বেঁধে গেটেড স্কুলে পড়শোনা করিয়ে যতখানি সম্ভব নোংরা পৃথিবীর ছোঁয়া বাঁচিয়ে বাচ্চা মানুষ করেন, সেটা আমাদের একান্তই অপছন্দ। একটু সমালোচনাই করলাম। তবে এটাও জানি, নিজেদের বাচ্চা থাকলে আমরাও এই পথই নিতাম। আরেকটি মানুষের জীবন নিয়ে বাজি লড়ার সাহস আমাদেরও হত না। আমরা জানি, আপনারা নিরুপায়। 

আমাদের প্রশ্ন হল, এমন হাত-পা বাঁধা অবস্থাতেও কিসের প্রেরণায় মানুষ সন্তানের জন্ম দেয়? হ্যাঁ, এতদিন পর আমাদেরও উল্টে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হচ্ছে। মেয়েদের মা হওয়া, বা না হতে পারলে আক্ষেপ করা এমনই স্বাভাবিক বিষয় যে সন্তানহীনতার জন্য আমিই সব সময় সবার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে এসেছি। এই সামাজিক নির্মাণ এতটাই গভীর যে আমি কখনও কাউকে প্রশ্ন করার কথা ভাবি নি, কেন সন্তান জন্ম দিতেই হবে? আপনি কেন দিয়েছেন? আমরা যখন বলি সন্তান চাই না, তখন অনেকে জিনের কথা বলে। এও এক ধাঁধা। পৃথিবীতে কত শিশুই তো আছে। সকলের বড় হয়ে ওঠার সুস্থ পরিবেশ তো দূরের কথা, পর্যাপ্ত খাবারও নেই, তবু মানুষের নিজেরটিকেই চাই। আমরা জীবনে যা কিছু বিদ্যাবুদ্ধি অর্জন করেছি তা নাকি আমাদের জিনের মাধ্যমে বাহিত হবে, পৃথিবীর কাছে আমাদের ঋণ শোধ হবে এই উপায়ে। মেয়েদের এখন অপেক্ষাকৃত বেশি বয়েসে বিয়ে হয়। সে কারনেই কিনা জানি না, অনেকেরই মা হতে সমস্যা হয় শুনেছি। কাজের জায়গায় স্ট্রেসের জন্য প্রেগন্যান্সি আসতে দেরি হচ্ছে এটাও খুবই শুনি। ভারতেএখন ফার্টিলিটি ক্লিনিকের খুবই রমরমা। অনেক অনেক টাকা খরচ করে সেখানে চিকিৎসা হয় যাতে নিজেদের জিনের ধারাকে বইয়ে দেওয়া যায়। এখানে এসে আমরা হোঁচট খাই। আমরা তো এখনও নিজেদের কাছে এতখানি প্রিয় হয়ে উঠতে পারিনি যে নিজের জিনের অংশ যে কোন মূল্যে পৃথিবীতে না ছড়াতে পারলে চলবেই না। জানি, এ লক্ষ বছরের ইনস্টিঙ্কট। এই প্রবৃত্তি যদি না থাকত তাহলে বিবর্তন হত না, প্রাণ বিলুপ্ত হয়ে যেত। হয়ত মানুষও একদিন বিলুপ্ত হবে এই পথেই। সেজন্যই কি সন্তানহীনতার ওপর এই স্যোসাল প্রেশার? কিছুতেই যাতে আমরা হারিয়ে না যাই? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পোলান্ডে, আজ সিরিয়ায় এইজন্যই কি অগণিত শিশুর জন্ম দিতে বুক কাঁপে না, যে একটা-দুটোও যদি বেঁচে থাকে তারা ছড়িয়ে দেবে তাদের পিতৃপুরুষের জিন? কিন্তু সন্তানের জীবনের মূল্যে নিজের জিনের বিস্তার সুরক্ষিত করা কি একরকম স্বার্থপর ভাবনা নয়? আমরা তো দেখতে পাই, পৃথিবীতে কিভাবে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। যুদ্ধ বাধার সম্ভবনা খুব বেশি। যুদ্ধ না বাধলেও সময় বিক্ষুব্ধ, জীবন নিরাপদ নয়। এই পরিস্থিতিতে আরো নতুন নতুন শিশুরা যখন পৃথিবীতে আসে, তারা তো আসে আমাদের আনন্দের ভান্ডার হয়ে, তাদের ঝলমলে তারুণ্যে আমাদের বার্ধক্য বিলম্বিত হয়, কিন্তু তার বদলে আমরা তাদের কী দিতে পারি? নাকি, সন্তানজন্মের জৈবিক তাড়না এমনই যে এ চিন্তা মানুষের মনেই আসে না? যাঁরা জন্ম দেন তাঁদের আনন্দ হয় বুঝতে পারি, কিন্তু যে জন্মাল তার এতে কী উপকার হয়? সন্তানের দিক থেকে ভাবলে তার জন্মের সিদ্ধান্তটা কি আদৌ কোন র‌্যাশনাল সিদ্ধান্ত? নাকি জন্ম দেওয়ার পরে নিজের কাছেও একথা স্বীকার করা কঠিন হয়ে পড়ে যে এ সিদ্ধান্ত আসলে র‌্যাশনাল ছিল না? 

একথা স্বীকার করি, আজ যে এত কথা খোলা পাতায় লিখতে পারলাম তা গত কয়েকশো বছরের মেয়েদের অক্লান্ত লড়াইয়ের ফল। এই লড়াইটা জারী রাখার জন্য বংশবিস্তারের প্রয়োজন আছে। আবার মহাকালের নিরিখে দেখলে এই পৃথিবী গ্রহের জীবৎকালও বিন্দুবৎ ঠেকবে। ব্যক্তি মানুষ তো দূরের কথা, পুরো প্রজাতির অবদানও এখানে তুচ্ছাতিতুচ্ছ। আমরা খুব বেশি হলে পরবর্তী দুই প্রজন্ম দেখতে পাই, তার বেশি তো নয়। ক্ষুদ্র মানুষ আমরা। কী করে নিজেদের সন্ততির বিনাশ দেখব! তার চেয়ে ভালো মনে হয় যতটুকু সম্পদ এখনও অবশিষ্ট আছে তাই দিয়ে যারা এসে গেছে তাদের ভরণপোষণ করা। এ পৃথিবী এখন নতুন শিশুর জন্য প্রস্তুত নয়।

 




মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 9 -- 28
Avatar: sm

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

পেনশন সমস্যা সমাধানের অন্য উপায় আছে।পেনশনেবল এজ বাড়িয়ে দাও।চাপ কমবে। ভ্যাট বাড়িয়ে দাও।
মুদ্রার অবমূল্যায়ন করো।ইত্যাদি প্রভৃতি।
সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বিপুল সংখ্যক মাইগ্রেন্ট জনতা কে বিফোর ৫০ দেশে ফেরত পাঠানো।


Avatar: de

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

ভালো এবং সময়োপযোগী লেখা!

কিছু প্রশ্ন -

১) সোশ্যাল প্রেসারের কথা বাদ্দিলে বাকিটা "সন্তানহীনতার সিদ্ধান্ত" । "অধিকার" টার্মটা কি ঠিক? দুটো মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত কোন চাপের কারণেই বদলানোর কারণ দেখিনা। কারো যদি মনে হয় সে সন্তানহীন থাকবে, তা নিয়ে কোন জাস্টিফিকেশন দিতে সে কেন বাধ্য থাকবে? কেন সম্ভাব্য যুদ্ধ, খাদ্যাভাব ইঃ প্রসঙ্গের আমদানি করতে হয়?
২) আরেকটা প্রশ্ন, নিজের জিন ইঃ না ভেবে একটি শিশুকে দত্তক নিয়েও তো সন্তানরূপে মানুষ করা যায়। সেটাতে বরং খারাপ পরিস্থিতি থেকে একটি শিশুকে সুস্থ পরিবেশ দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই নিজের জিনগত সন্তানের পরিবর্তে দত্তক নিয়ে থাকেন। তাঁদের সম্বন্ধে কি বক্তব্য?
৩) কিছু মানুষ এমনও আছেন, যাঁরা সন্তান ভালোবেসেই পৃথিবীতে আনেন আর বড়ো করেন। জিন-টিন ইঃ না ভেবেই করেন। তাঁদের সেই অধিকারটুকুও থাকুক। মোদ্দা কথা, যাঁর যা ভালো লাগবে, ঠিক মনে হবে, সে তাই করুক। তা নিয়ে জাস্টিফিকেশনের যেমন দরকার নেই, তেমনি অন্যের ডিসিশন নিয়ে প্রশ্ন তোলারও কিছু নেই।
৪) এই অব্দি সব আমাদের মতো আলোকিত অংশের কথা হোলো। এই বাইরে যে অসংখ্য মেয়েদের ট্রিমেন্ডাস সোশ্যাল প্রেসারের সম্মুখীন হতে হয়, আলোচনাটা খানিকটা সেদিকে ঘোরানো উচিত। এই যে মেয়েটির কথা আবাপয় পড়লাম, মিসক্যারেজ হবার জন্য পেটে বালিশ বেঁধে ঘুরতেন, ছেলের জন্ম দেবার প্রবল ইচ্ছেয় যাঁকে অন্যের বাচ্চা চুরি করতে হয়, তাঁকে শাস্তি দেবার আগে সমাজের দিকে আঙুল তোলা উচিত। ওনার সাথে ওনার স্বামী আর শ্বাশুড়ীকেও জেলে ঢোকানো উচিত। মেয়ের জন্ম দিয়ে ট্রেনের কামরায় ফেলে যেতে বাধ্য হন যে মা, সদ্যোজাতা কন্যাকে নিজের হাতে হত্যা করেন যে মা, তাঁদের সন্তানহীনতার অধিকার নিয়ে কথা বলা উচিত। আলোকিত অংশের কাছে এটা "সিদ্ধান্ত", ছুটকো-ছাটকা চারিপাশের মন্তব্যগুলোকে ঝেড়ে ফেলতে পারলে তাঁদের অধিকার অলরেডি স্বীকৃত!
Avatar: Du

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

জিনের জন্য বল্ল লোকে? হ্যা হ্যা --- বলে দিও জিনের বাচ্চা হয় না আর। এখন সবার বাবা গুগল টুইটার আর টিভি ঃ) ঃ)

Avatar: Ekak

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

জীন ফ্যালনা কেনো ? ইন্টেলিজেন্স গুলি মারুন , স্বাস্থ্য -ডিফর্মিটি -জেনেটিক ডিসিস এগুলোর জন্যেই তো জিনের গুরুত্ব ।


Avatar: bip

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

1. Life doesn't have aNY absolute purpose but it does have definition and that is reproduction.

2. Reason to think we have freedom not to have kids is rooted on idea that model of human being is individual and not collective. That's wrong. You can't survive if someone refuses to be farmer. Likewise if women refuse to bear kids, which is the most important function of a state that state and society will be dying.

3. Childless of choice is no new idea. First evidence of it can be found in Bronze age in city of Carthage. So their solution was to allow more events that allow sexual intercourse with women. It was known even then child bearing is risky and women don't want it. Society responded two way. Allowed them to have sex with their choice and some.societies simply forced them via religion. This may sound inhuman but it was a time when child mortality rate was 5. A woman needed to bear at least 7 plus kids on average to keep a healthy demography.

4. Modern childless by choice movement is result of improbed medical care which reduced mortality rate to nothing.

5. When there will be artificial womb, Childless by choice will automatically be accepted. I think that is another 50 years.

6. Before that such thinking is more dangerous than Islamic radicalism.

7. Nations which forwarded such liberal ideas like Italy France, they are all drying. Their country is taken over by immigrants who have higher birth rate. Russia reverted that by massively bribing women to be mom. In Russia if you give birth to 3 kids, you get SUV aND your tax is zero. Russia improved it's fertility rate from 0.9 to 1.4

8. All European countries plugged by childless by choice disease is taking actions ..basically offering bounty to women to be mom.
Avatar: সিকি

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

দার্শনিক মানস নন্দী এলেন।
Avatar: চহার মগজ শিকন

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

plugged? সিওর?
Avatar: Socket

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

শুওর!
Avatar: Hermione Granger

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

Looks like u hve refused to be a farmer...still everybody is surviving...so anybody can refuse to do anything....as long as it is within the limits of civilised society...still society will survive grandly...
and dont bother about European countries...look closer home...we are "plugged" by too many chidren...so its perfectly alright to decide not to add upto that...and the most dangerous disease of all times is the the overconfidence of the unintelligent...that is what gives rise to all sorts of radicalism...so please "plug" that plague first...here is a cue for you.

Avatar: চহার মগজ শিকন

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

😂😂😂
Avatar: S

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

হঠাত এই একই টপিকের উপরে অনেকগুলো টই একসাথে।
Avatar: S

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

তুল্লাম।
Avatar: pi

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

আরে এস। টই না তো। এবারে তো এই টপিকে চারটে বুলবুলভাজা বেরিয়েছে। এটা তারই একটা।
Avatar: Anindya

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

Eto jobabdihi korar kono proyojon chilona, santan nei bole ekta akkhep apnar subconscious mind e ache
Avatar: শুভ্র সান্যাল

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

সন্তান উৎপাদন করা যে কোন জীবের সহজাত প্রবৃত্তি । মানুষ এই পৃথিবীতে অন্যান্য সমস্ত জীবের মতনই একটা জীব মাত্র । এই রকম চিন্তাধারা আজকের দিনে অনেক মানুষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে । এর ফলে মানুষের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে । এই পৃথিবী যদি আগত শিশুর জন্য নিরাপদ না হয় তাহলে তার জন্য দায়ী কিন্তু এই মানব নামক জীব নিজে । আর অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার ভয়ে এই চাপ, হ্যাঁ তাই, কিন্তু তার জন্যেও মানুষ নিজে দায়ী নয় । প্রকৃতি সবসময় জীবের অনুকূলে থাকার চেষ্টা করেছে । মানুষ নামক প্রজাতি নিজের স্বার্থে যতবার প্রকৃতিকে পাল্টানোর চেষ্টা করেছে প্রকৃতি ততবার জীবকে টিকে থাকবার জন্য তার মধ্যে পরিবর্তন করেছে । সেখানে দাঁড়িয়ে মানুষ যদি নিজেই নিজের অস্তিত্ব কে শেষ করে দিতে চায় তাহলে সেটাকে মুৰ্খামী ছাড়া আর কিছু বলা যাবে না । মানুষের জীবন ধরনের পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন আনতে হবে । আধুনিক সভ্যতা যেমন অনেক কিছু আমাদের দিচ্ছে তেমনই অনেক কিছু কেড়ে নিচ্ছে । দেওয়াটা যতটা তারাতারি আমরা অনুভব করছি, কেড়ে নেওয়ার সামগ্রিক ছবিটা ততটা তারাতারি দেখা যাচ্ছে না । মানুষ নামক জীব যদি নিজের জীবনধারণের পদ্ধতি না বদলায় তাহলে সে শুধু নিজের নয় সমগ্র জীব কুলের বিলুপ্তির কারন হবে একদিন । এবং আপনি নিজেও একজন মানুষ হয়ে এই ধ্বংসের দায় কোন ভাবেই এড়াতে পারেন না ।

মেয়েদের ওপরে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক চাপ, এর জন্যেও মানুষ নিজে দায়ী । পরিবর্তন তাকেই আনতে হবে । প্রকৃতিকে এর জন্য কোন ভাবেই দায়ী করা যাবে না । এবার কিভাবে সেই পরিবর্তন আনা সম্ভব সেটা ভিন্ন ইস্যু ।

এই ধরনের আলোচনাতে নিজেকে একটা ইনডিভিজুয়াল সত্বা না ভেবে একটা প্রজাতির (এখানে মানুষ) প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে হবে ।
Avatar: একক

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

সমষ্টির পুটকি জ্যাম করা প্রতিটি একক মানুষের কর্তব্য ।
Avatar: একক

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

অন আ সিরিয়াস নোট্ , এত সত্বা ফত্তা ভাবার দরকার নেই । মানুষ যা করবে নিজের জায়গা থেকে । হিউম্যান ক্যাপিটাল এর নেচার আর পাঁচটা ক্যাপিটালের মতই । দেশসুদ্ধু হিউম্যান ক্যাপিটাল যথেষ্ট বেড়ে গ্যাছে , অতএব এখন ডিভিডেন্ড হিসেবে কোনো ব্যক্তি মানুষ যদি বাচ্চা না চান সেটা একশো ভাগ জায়েজ এবং তাতে টোটাল হিউম্যান ক্যাপিটালের কোনো ক্ষতি নেই বরং লাভ আছে । যাঁরা এত ডারউইন -ক্যাপিটাল -প্রোডাক্ট সাত -সতেরো এত কিছু বোঝেন তাঁরা এইটুকু বোঝেন না যে , মার্কেটে প্রয়োজনের অতিরিক্ত রিসোর্স পুশ করে পার ইউনিট ভ্যালু কমে যাচ্ছে !


সমস্যা টা অন্যজায়গায় । সেটা কজন বাচ্চা জন্ম নিল তা দিয়ে ঠিক হয়না । প্রব্লেমটাকে ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট না । বাচ্চা খুব ফ্যাসিনেটিং ব্যাপার এনিয়ে কোনো সন্দেহ নেই । একটা ছোট বাচ্চা যেভাবে ল্যাঙ্গুয়েজ পিকআপ করে , যেভাবে বডি ব্যালান্স গ্রো করে বা যেভাবে নিজের ডিসিশন মেক করে এগুলো পাশ থেকে লক্ষ্য করা হাইলি ফ্যাসিনেটিং। একটা রক্ত মাংসের কমপ্লেক্স লার্নিং ইউনিট যেন :):) নিজের ভাগ্নে ভাগ্নিদের ক্ষেত্রে ব্যাপক এনজয় করেছি । আমার মনে হয় মানুষের মধ্যে একটা খিদে আছে বাচ্চাদের সঙ্গে মেশবার , বড় হতে দেখার ইত্যাদি । তো সেটা ফুলফিল করা জরুরি ।

ধরুন এমনকি পাশের বাড়ির উঠোনেও যদি একটা টগর চারা হয় , আপনি কি আসা-যাওয়ার পথে খেয়াল করেন না গাছটা কতটা বাড়লো -কবে ফুল ফুটলো । এগুলো খুব স্বাভাবিক ইন্সটিঙ্কট ।

ভার্চুয়াল এপ্স দিয়ে বাচ্চা ও ন্যানীদের কানেক্ট করানো যায় । বেবি সিটার হিসেবে স্কুল কলেজের মেয়েরা কাজ করুক । বেবি আপব্রিঙগিং এর হ্যাপা ও আনন্দ দুটোই কমিউনিটিতে ভাগ হোক । আমার ধারণা ভার্চুয়াল এপ্স -ফিজিক্যাল কমিউনিটি কন্ট্যাক্ট এগুলো বাড়িয়ে দিলে পার্সোনাল লাইফে তার পসিটিভ প্রভাব পর্বে , ইমোশনাল ব্যাকাপ এর জায়গা তৈরী হবে আবার নিজের ক্ষেত্রে বেবি নেওয়ার বা না নেওয়ার ডিসিশান আরও স্ট্রং হবে ।

যাঁরা বাচ্চা ভালোবাসেন বা অন্যদের বাচ্চা নিতে বলেন তাঁদের ডিমোনাইজ করাটা ঠিক রাস্তা না । আল-বাল যুক্তি দিতে এলে ঝড় খাবে সে আলাদা কথা । বাট দ্য ডিসায়ার ম্যাটার্স । ওটা সল্ভ করতে হবে ।
Avatar: একক

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

* স্কুলের ছেলেরাও বেবি সিটার হতে পারে "একটিভিটিজ" এর পার্ট হিসেবে । নরম্যালি প্রাইভেট বেবি সিটার হিসেবে ছেলেদের জায়গা করে নেওয়া কঠিন । তাই স্কুল একটিভিটিজ এ রাখা ভালো ।
Avatar: অভিষিক্তা রায়চৌধুরী

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

বাচ্চা মানুষ করায় কষ্ট আছে ঠিকই বিশেষতঃ দুজনেই কর্মরত হলে কিন্তু পাহাড়ে চড়াও তো কষ্টের তবু তো আমরা উঠি কারণ সে পথের বাঁকে বাঁকে আনন্দ। শিশুদের মত সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ আনন্দ আর কে দিতে পা?
Avatar: অভিষিক্তা রায়চৌধুরী

Re: সন্তানহীনতার অধিকার

বাচ্চা মানুষ করায় কষ্ট আছে ঠিকই বিশেষতঃ দুজনেই কর্মরত হলে কিন্তু পাহাড়ে চড়াও তো কষ্টের তবু তো আমরা উঠি কারণ সে পথের বাঁকে বাঁকে আনন্দ। শিশুদের মত সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ আনন্দ আর কে দিতে পা?

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 9 -- 28


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন