বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

আনোয়ার শাহাদাত

শরৎ সাহিত্যের কী সব ‘দোষ’ সে আমার জানা নেই। কিন্তু বুঝতে পারি অনেক ‘দোষ’ আছে। এই যে আমার ‘দোষ-বোধ’ সে অন্যদের অভিমত থেকে পাওয়া বা শেখা যা আমাকে শেখানো হয়েছে। নিজে  তা বুঝে উঠতে পারিনা কীভাবে কী কী কারণে শরৎ সাহিত্য দোষের হয়েছে! ধারণা করি হুমায়ূন সাহিত্যেও সেই রকম ‘কথ্য-কলঙ্ক’ লেপ্টেছে যেটাও কম বেশী দোষেরই। এই দোষটাও যে আমি খুব বুঝি তা নয়। এই সব অভিমতের বিচারকদের সম্পর্কে বরং আমার সব সময় ভিন্নমত থাকে।  তা এ রকমঃ তাঁরা কারা? যাঁরা বলেন অমুকে আছে, অথবা নাই, থাকবে অথবা থাকবে না ইত্যাদি ধরনের জ্যোতিষ বিদ্যা চর্চা। জরিপের বাইরে এ ধরনের অভিমতের মূল্য নেই। অর্থাৎ থাকা উচিৎ নয়, থাকলেও তা ‘তর্ক সাপেক্ষিক’। শরৎ নেই বলে যে চিৎকার সেভাবেও শরৎ দশকের পর দশক বেশ দাপটেই থেকেছে এবং থাকছে। এখানে পরিসংখ্যান হতে পারে প্রকৃত কী পরিমাণ শরৎ-বই লোকজন/পাঠক কিনছে। সেই সংখ্যায় হয়তো ওই অভিমতটি উল্টে যাবে। তখন তর্কটা অন্য খাতে দিতে হবে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক’ শিরোনামে, ভারবাহী একটা কিছু। সেখানেও ঝুঁকি থাকে জাজমেন্টাল হওয়ার যে, কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কী কী শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠির ‘মাতব্বরি-সনদ’ এদের থাকে এসব রায় দেওয়ার। আয়রনিটা এখানেঃ শরৎ থাকলো না চিৎকারটির বয়স কী পঞ্চাশ বছর হয়নি?  এতো দীর্ঘ সময় পরেও যখন একই চিৎকার পাড়তে হচ্ছে তখন নেই বা থাকবে না জ্যোতিষী চর্চার অস্তিত্বই তো প্রশ্ন বোধক। এক্ষেত্রে হতে পারে তাঁরা হয়তো ইংগিত দেন যে, তাদের কাছে ঐক্যমতও মনে হয়, অমুক ও অমুক থাকবেন না বা খুব করে থাকবেন। হতেই পারে, কিন্তু এরও একটা নাম আছে- এটা এক ধরনের ডিনায়াল ও অন্যকিছুর প্রতি এক প্রকারের তাৎক্ষণিক অশ্রদ্ধা সহ অস্বীকার মনোভাব। তারা হয়তো উপলব্ধিই করেন না যে এদের প্রায় সকলকেই ওই ‘জিনিষ’ (যে জিনিষের জ্যোতির্বিদ্যায় তাদের নামতে হয়) ভাল করে পড়ে নিতে হয় এমনটি চর্চা করবার আগে। কৌতূহল থাকাই স্বাভাবিক তাহলে তাঁরা কেন পড়েছেন? অন্যেরা তা পড়তে বলেছেন বলে? না কী অন্যেরা অমুককে অনেক বেশী পড়ে ফেলেছেন বলে? তাতেই তিনি বা তাঁরা পড়বেন কেন? পড়ছেন কী এ কারণে যে ওর মধ্যে এমন কিছু থাকে যা অবদমন করা কঠিন। অথবা ওই জিনিষ এমন একটা হৈচৈ তুলেছে যে তিনি ওই আলোচনার বাইরে থাকবার লোভ সামলাতে পারেন না। অতএব তিনি ও তাঁরা পড়লেন, কিন্তু ওই পাঠোত্তর একটা বিচারকের মুখোশে একখানা ধারালো বল্লম নিয়ে গুঁতা কর্মে নামেন। এটা কী লক্ষণ জানা নেই। সেটা যে সৃষ্টিশীল লেখক-স্বভাব নয়- তা স্পষ্ট, সেটা যেচে শালিসি করতে যাওয়া’র মত ঘটনা। তার দরকার পড়ে না। এর সবই একটা নিজ নিয়মে চলে। যেমন শরৎকে নেই-নেই বলেও আজতক ‘নেই’ করা যায়নি। বরং একদল পাঠকদের কাছে জেনে কী না জেনে তিনিই মডেল হয়ে থাকেন; একদল লেখকদের কাছেও তাই, এই যে নিন্দা বা হারিয়ে যাবে বলে ভবি-বাণী করা হয়, তারও নিজস্ব নিয়ম আছে। নিয়মের নিয়ম। একদল ওইভাবে ‘লিখতে না পারা’ ব্যর্থ লেখক সমালোচকের পরিচিতি খানা গলায় ঝুলিয়ে স্বেচ্ছা শালিসিতে নেমে রায় দিয়ে যেতে থাকেন বিষয়ের প্রকৃত মূল্যায়ন’কে অস্বীকার করে।

 

তাঁর ক্ষেত্রে যে ঢালাও সমালোচনা যে তিনি ‘সিরিয়াস’ সাহিত্য করেননি, ধারণা করি  সেটাই একটি ভুল অভিযোগ তার সম্পর্কে। সন্দেহ নেই সেটাকে ঘিরেই তাঁকে শরৎ অপবাদ দেয়া হয়, যদিও ওই শরৎ অপবাদও একটি যুক্তিহীন অভিযোগ! সেই যুক্তিতে কিন্তু ‘সিরিয়াস সমালোচকও’ নেই।  সিরিয়াস সাহিত্য না করবার অভিযোগের প্রভাব জ্যোতিষ বাণী যদি হয় যে ‘টিঁকবে না” আখেরে তবে যে বাণীতে ওই কথা বলা হয় তা যদি আবার সিরিয়াস সমালোচকদের কাছ থেকে না আসে তবে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে ওই কথাটারই কোনও ভিত্তি তৈরি হয় কিনা।  সাহিত্য জগতের সবাই-ই সিরিয়াস সাহিত্যই করেন। সাহিত্যের সিরিয়াসনেস প্রমাণে কোনও সূত্র-উপসর্গ নেই যা মেনে চলে প্রমাণ করা যেতে পারে এইটা এইভাবে সিরিয়াস অথবা ওইভাবে সিরিয়াস নয় বলে চিহ্নিত হলো। আসলে এই অর্থে এইখানে সাহিত্য সিরিয়াসনেস একধরনের লেখক বা ‘লেখা-সৃষ্টিকর্তার’  ক্ষমতা যা তার সাধারণ সৃষ্টিশীল কাজের মধ্যেই প্রতিফলিত হওয়ার কথা। যা কিনা কোনও কোনও সমালোচকের কাছে সিরিয়াস বলে গণ্য হতে পারে।  যে সব উপসর্গকে উদাহরণ ধরে শরৎ বা হুমায়ূন সাহিত্যের অবজ্ঞার রাস্তাটি খোলা হয় সেই উপসর্গ রবীন্দ্রনাথের অজস্র লেখায়ও রয়েছে। তাকে আমরা শরতীয় বলছি না কেন? রবীন্দ্রনাথ তাহলে কোন আভিজাত্যে সে অপবাদ থেকে মুক্ত থাকেন? তা কি এমন যে তার অন্যান্য লেখা আবার সেইগুলোকে ওইসব সমালোচকদের আক্রমণাত্মকতাকে কভার দিতে পারে; সে জন্য? যদি এটা মেনে নেই তবে কী আমরা আরও সৎ হতে পারিনা এইভাবে বলে যে রবীন্দ্রনাথের ‘শরতীয়-হুমায়ুনীয়’  ঘরানা’র রচনা সমগ্র ও তার অন্যান্য সিরিয়াস রচনা সমগ্র! আসলে একে আমরা ‘ঘরানা-কেন্দ্রিকতা’ বলতে পারি। তাঁর কোনও ঘরানা বা স্টাইল পছন্দ করি বা করিনা এই হতে পারে আলোচনার একমাত্র নির্বাচন পদ্ধতি। আমি ব্যক্তিগতভাবে স্টিফেন কিং বা জন গ্রিশাম পড়ি না।  আসলে পড়তে আমার ভাল লাগে না তার অর্থ কী এই দাঁড়াল যে ওরা এমন কোন বড় লেখক না? তার চেয়ে ঝুম্পা সাহিত্য পড়ি, এতে কী ঝুম্পা ওদের চেয়ে বড় হয়ে গেল? একই ভাবে ছোট হবারও কারণ থাকে না কারো। পদ্ধতিটি আসলে আমাদের জানরা তল্লাশি। কারো কোনও জানরা (ঘরানা) ভাল লাগলে অন্য জানরা’র প্রতি অ-শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কারণ দেখি না।  হরোর সাহিত্য, ইয়াং এ্যাডাল্ট সাহিত্য, ওয়েস্টার্ন সাহিত্যও আমি পড়িনা, তবে কী কোনোও-না-কোনভাবে ওইসব লেখকরা সিরিয়াস লেখক নয়? কেবল মাত্র আমার রুচিতে তা গ্রহণ করেনি বলে? আমার বাইরে যে মিলিয়ন পাঠকরা যা তাদের পড়ছে তার কোনও মূল্যই নেই? যেহেতু আমার (বা নির্ধারিত কোনও সমালোচকের কাছে) তিনি পছন্দ হননি? আমার ঘরানা বিচারের বাইরে আর কোনও কিছুর কথাই হয়তো বলছি না, কেবল আমাদের প্রকাশে গুলিয়ে ফেলে শরৎ, হুমায়ূন, মহাশ্বেতা, শীর্ষেন্দু , নিমাই, সুনীল, সেলিনা, সমরেশ , কমলকুমার , জ্যোতিপ্রকাশ, বিভূতি, মানিকদের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলছি? এখানে অনেকেরই নাম নেয়া হলোও ওই গর-হর দোষারোপের ভয়াবহতা ও পরিণতি সম্পর্কে একটা ইংগিত করতে। অতএব, সব ও সবার সাহিত্যই সিরিয়াস, সেটা বটতলার কী খেজুর তলার বা চটি কী ঘটি সাহিত্য, যাই বলা হোক না কেন।

 

বাংলা সাহিত্যের মুসলমান অংশ (এইভাবে চিহ্নিতকরণ হয়তো  ‘পলিটিক্যালি কারেক্ট’ নয়, কিন্তু এটাই সত্য) অর্থাৎ পূর্বাংশ বা পূর্বাংশের মুসলমান অংশ, বর্তমান বাংলাদেশ জেনে কী না জেনে স্বতন্ত্র হতে চায়, সেটাই বাস্তবতা। তার সঠিক বেঠিক হিসাব অপ্রয়োজনীয়। পরিকল্পিত কী অপরিকল্পিত ভাবে এই আলাদা-করন যে চায় তার যৌক্তিকতা বা উত্তর থাকুক না থাকুক এটুকু আমরা এখন জানি- সেই-ই সত্য। নজরুল, গোলাম মোস্তাফা, ফররুখ আহমদ বা আবুল মনসুর আহমদরা যা করতে পারেননি, তা অনেক বেশী করেছেন হুমায়ূন আহমেদ। কোন নির্ধারিত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছাড়াই তিনি ‘পুব’এর কোলকাতা কেন্দ্রিক কাহিনী (গল্প বা উপন্যাস)পড়বার যে নির্ভরতা তা সম্পূর্ণই বিলুপ্ত করতে পেরেছেন। এই বিলুপ্তি পঁচাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশে দ্রুত বর্ধনশীল,  খুবই ‘বাংলাদেশী’ ঘরানার মানুষদের জন্য কাংখিত ঘটনা। কিন্তু  উচ্চবিত্ত  মধ্যবিত্তদের মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতার কারণে তিনি অবশ্য বিলোপ কর্মিটি সম্পূর্ণভাবে সফল করতে পারেননি। কোনো না কোনো ভাবে পশ্চিম বঙ্গ প্রবল ভাবেই তাদের মধ্যে টিঁকে আছে। এর কারণ উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা এই সাহিত্য রুচি চর্চার মধ্য দিয়েই নিম্নবিত্তদের থেকে নিজেদেরকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে ফেলে। নিজেদের আভিজাত্য বজায় রাখে। তাতে হুমায়ুনের কোনও ক্ষতি হয়নি। তিনি সব তরফেই পঠিত হচ্ছেন।  অর্থাৎ তিনি যা চেয়েছেন তাই তিনি অর্জন করেছেন, সবার কাছেই গৃহীত হয়েছেন। এর কারণ তিনি দুই দেশেরই শক্তিশালী লেখকদের মধ্যে অগ্রগণ্য হিসাবে নিজেকে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তাকে এড়ানো যায়না। তিনি কোনো না কোনো ভাবে পঠিত হবেনই। তার লেখা নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে কিন্তু তার ক্ষমতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা সত্যকে এড়ানোর মনোভাব হবে। যদিও পূর্ববর্তীদের সঙ্গে তার তফাৎ, তিনি এই কাজটি করেছেন নিভৃতে, কোনও প্রতিশ্রুতি ছাড়া তার স্বভাব ক্ষমতা দিয়ে। অন্যেরা সেটা করতে চেয়েছেন বা করেছেন বাংলায় ‘মুসলমানিত্বকে’ অগ্রাধিকার দিয়ে।

 

আমার মতে তার জনপ্রিয়তার প্রধানতম কারণগুলো হলো প্রচলিত সাহিত্য ধারার ভিন্নতায় অবস্থান নেওয়া। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশেও উপন্যাস বা গল্প বলবার যে প্রচলিত ‘এথিকস’গুলো আছে- তিনি তার বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন। ধরা যাক বাংলা ও বাংলাদেশ জীবনে  প্রেম-ভালবাসা ছাড়া অন্য কিছুই নেই, ছিল না। হুমায়ূন সে প্রথার বাইরে মৃদু (সফট) মেজাজের সংসার জীবনের মনোজাগতিক বিষয়গুলোর উপর জোরারোপ করতে থাকলেন। ভালবাসা ও ্পিরিতি ক্লান্ত পাঠক দল এর মধ্যে জীবনের সংস্পর্শ পেতে থাকলেন। এটা খুবই জরুরী আলোচনা যে সমগ্র বাংলা সাহিত্যে বিশেষ করে বাংলার পুবে সাহিত্য মানে একটি নীতির অন্তর্নিহিত ‘মেসেজ/বার্তা’ সর্বস্ব নির্ভরতায় নিপতিত, সেখানে তিনি এর বাইরে দাঁড়ালেন। লেখক হিসাবে এই সাহসী উদ্যোগই আমার মতে তার আস্থা’র পরিমাপের একক হতে পারে। তিনি ওই সময় থেকে সাক্ষাতকারগুলোতে বললেনও যে, তিনি বার্তা-অনুপস্থিত গল্প করছেন। তিনি তাঁর (তাঁর করা টেলিভিশন নাটকগুলোওকেও আমি লেখা হিসাবে দেখছি এই আলোচনায়) লেখায় একটি বিশেষ মধ্যবিত্তকে বেছে নিলেন। যাদের টেলিভিশন কেনবার বা দেখবার সামর্থ্য আছে বা যাদের তাঁর বই কিনবার সামর্থ্য আছে। তিনি তাঁর গল্প ও গল্পের চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে আরও বেশী কৌশল ও চতুরতার আশ্রয়ী হলেন। অর্থাৎ ওই তাঁর প্রধান টার্গেট এরিয়া’র জনগোষ্ঠীর জীবনে আবার নিম্ন ও উচ্চবিত্তের যে মানুষ গুলোর সঙ্গে ‘ইন্টার এ্যাকশন’, তাদেরকেও রাখলেন। ফলে আমরা হয়তো দেখলাম তাঁর গল্পের প্লট-প্রধান উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবার’এ একাধিক কাজের লোক থাকলো এবং তাদের মাধ্যমে নিম্নবিত্ত বা সর্বস্বান্তদের  (সর্বহারা বলা হলো না রাজনৈতিক ফ্লেভার এড়ানোর জন্য) প্রাত্যাহিক জীবনের সত্য গল্প তিনি নির্মাণ করলেন। লেখক হিসাবে এই সাধারণ সমন্বয়ও তাঁর মত আর কেউ করতে যেমন ব্যর্থ হলেন একই ভাবে মেধায়’ও হয়তো সেরকম হয়ে উঠলো না। খেয়াল রাখতে হবে তিনি অফিসিয়ালি একজন মেধাবী লোক তা সৃষ্টিশীল লেখার বাইরে ‘এ্যাকাডেমিক’ পর্যায়ে। ফলে তাঁর গল্পে যাবতীয় সামাজিক ইন্টার-একশনে কোনও রকম ‘স্টুপিড’ মুভ থাকল না। অন্যেরা আর কেউ তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও টিঁকলেন না। এই হচ্ছে তার প্রথমদিকের অবস্থা। কিন্তু এর পর ক্রমান্বয়ে তিনি ওই বলয়ের অংশ হলেন। ওই বলয় তার অংশ হলেন। এরপর স্বেচ্ছায় কি অনিচ্ছায় হোক তিনি যে চক্র নির্মাণ করলেন তিনি তারই ভিকটিম (এটা জাজমেন্টাল হয়ে গেল তবুও একটি মূল্যায়ন অর্থে বলা হলো) হলেন আর, চক্রের টার্গেট গোষ্ঠীও ওই চক্রের ভিক্টিম হলেন। তারা একে অপরের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। এর বাইরে আর তিনি কোনদিন’ই বের হননি। বৃত্ত-বন্দী পাঠকরা তার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকলেন। তিনিও তাদের প্রকৃত পৃষ্ঠপোষক হলেন।

 

অন্যদিকটি হলো তার রসবোধ মিশ্রণ। তাও আবার নির্মল রসবোধের সঙ্গে উপহাস সংযোগে। আমার ধারণা এই শক্তিই প্রাধানত তার জনপ্রিয় হবার সবচেয়ে শক্তিশালী ‘সিক্রেট’। না শুধু  রসবোধের উপহাস নয় তার সঙ্গে আছে অপূর্ব সাইকো-এনালিটিক্যাল চরিত্র নির্মাণ। ফলে তাঁর নাটকে মামার সঙ্গী, সৈয়দ বংশের আভিজাত্যে ও মান মর্যাদার প্রশ্নে চশমা লাগিয়ে ঘোষণা দেয় যে রিক্সা চালনার মত মানহানিকর কাজ সে করতে পারবে না ইজ্জত রক্ষার্থে। একথা বলে সে চোখে চশমা আরও একটু কষিয়ে বসায়।  কিন্তু এরপরই সে ঘোষণা দেয় যে ইজ্জত হরণকারী রিক্সা না চালাতে চাইলেও সে চুরি করতে পারবে। অথবা খেয়ালী বড়লোক শখ করে একদিন তার কাজের লোকদের টেবিল চেয়ারে খাবার অধিকার দিয়ে নিজে ভৃত্যের ভূমিকায় নামলে দর্শকরা দেখতে পায় কাজের লোকদের আদেশে তিনি পাগল প্রায়; এবং তারা হাত না লাগিয়ে কাটা চামচ দিয়ে খাবে দাবী করে। এইভাবে তার মনোজাগোতিক বিশ্লেষণ গুলোও সহজভাবে মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে। তিনি মানুষের আনন্দ ও বেদনা অনুভূতি গুলোকে যত সার্থক ভাবে ধরতে পেরেছেন বাংলা সাহিত্যেই সে রকম উদাহরণ হবে বিরল।ধরা যাক সঙ্গীতের ব্যবহার প্রসঙ্গে। এমন সব গান এমনভাবে ব্যবহার করলেন, তা পেল জনপ্রিয়তার শীর্ষ স্বীকৃতি। এটা তার ক্ষমতার অংশ। অর্থাৎ এই সব অর্জন গুলো তাঁর মেধাবী দিকেরই ফসল।  

 

তাঁর ক্ষমতার ধরন সম্পর্কে দুয়েকটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। ঢাকায় আজকাল যে পরিমাণ ‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ...’র চলন তা আশে পাশের দুই-চার-দশটি দেশ মিলিয়েও সমান করা সম্ভব নয়। এটা দেখলে এখন মনে হবে বাঙ্গালী সংস্কৃতির (ঢাকা অংশে) এ যেন অবধারিত একটি বিষয়। এই অবদান সম্পুর্ণ হুমায়ূন আহমেদের। তিনিই একক ও ব্যাক্তিগত ভাবে আমদানি করেছেন যা এখন বাঙ্গালী (ঢাকা) সংস্কৃতিরই অংশ হয়ে উঠেছে। বছর খানেক আগে আমি গুলশানে গিয়েছি আমার বিমানের টিকেটের ব্যাপারে। ক্ষুধা ও তৃষ্ণা  পেয়েছে খুব, সঙ্গী বলল নিকটস্থ বেকারীতে যেতে পারি। বেকারীতে ঢুকতে বাইরে দু’জন, ভেতরে একজন, তারপর দাঁড়িয়ে থাকা একজন, তারপর এগিয়ে আসা একজন; এরা সবাই আমাকে শুভেচ্ছা (গ্রিটিংস) জানাল এই বলে ‘আসালামুয়ালাইকুম’। আমি প্রথমজনকে সাড়া দিয়ে আর কাউকে সাড়া না দিয়ে কাউন্টারে দাঁড়িয়ে (সেখানে সব শেষ সালামটা পেলাম) বলালাম আমি আপনাদের মালিক বা ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলতে পারি কিনা। তিনি বললেন, আমাকেই বলুন। বললাম আপনার কর্মীদের বলেন সালাম নিয়মে একব্যক্তিকে এক জায়গায় একজন দিলেই হয়। আমাকে যে পরিমাণ যন্ত্রণা দেওয়া হলো তাতে এখন আর আমার তৃষ্ণা বা ক্ষুধা নেই। তিনি বললেন আমি বলবো ওদের এবং ভাই বোঝেন তো এরা সব হুমায়ূন আহমেদের নাটক দেখে এ সব শিখেছে! আমি তখন হুমায়ূন সংস্কৃতির ক্ষমতা উপলব্ধি করি। এটাও তিনি খুব সার্থক ভাবে করেছেন। নিজে করতে না চাইলেও রাজনৈতিক রাষ্ট্র যেভাবে চেয়েছে, পাশাপাশি জনগণও যেভাবে চেয়েছে, তিনি তাদের কাউকেই আশাহত করেননি। ওই সূত্র, তিনি তাদের, তারা তাঁর। তাঁকেই বা কত দায়ী করা যায়। গত মার্চে আমি ঢাকায় পাকিস্তান-বাংলাদেশ খেলা দেখছি। রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ (সেকুলার বলে মেনিফেস্টো আছে তাদের), সন্ধ্যায় খেলা বন্ধ রেখে জাতীয় টেলিভিশনে আজান প্রচার করা হলো। তবে হুমায়ূন আর কী করেছেন? জনগণের সঙ্গে থেকেছেন। তার লাভ-ক্ষতি হিসাব আর করতে হয়না তেমন।    

 

সবাই (এইখানে সবাই বলতে ঢাকার ‘উচ্চমান’ বলে খ্যাত ও দাবীদার লেখক-ক্রিটিকদের বলা হলো)  যখন এই অভিযোগের জেকের’এর হল্লা অব্যাহত রাখলেন তখন তিনি (হুমায়ূন) ঘোষণা  দিয়েই ওই অর্থে ‘সিরিয়াস’ রচনা অর্থাৎ উপন্যাস লিখলেন। কিন্তু তাও সিরিয়াস হলো কিনা প্রশ্ন থেকে গেল। অর্থাৎ তার ‘সিরিয়াস’কেও হয়তো সিরিয়াস গণ্য করা হোলও না। কিন্তু আসলে ধরে নিতে হবে তার সিরিয়াস সাহিত্যের ধরনই ওইরকম। যা কিছু বের করতে হবে তা এর মধ্য থেকেই নিতে হবে। অতএব সিরিয়াস সাহিত্যের যে ‘ক্রাইটেরিয়া সমূহ’ পূর্ব নির্ধারিত রয়েছে তার সঙ্গে হুমায়ুনের ধরণগুলোকে যোগ করে নিতে হবে।

 

হুমায়ুনের জনপ্রিয়তা বাংলাদেশের বাইরে যায়নি। এ কথার অর্থ এই নয় যে তার লেখা পাঠ পৃথিবী ব্যাপী ছড়িয়ে পড়বার কথা বলা হচ্ছে। কোলকাতা কেন্দ্রিক পাঠকের কথাই বলা হচ্ছে। আমার হিসাবে সেটা একটি বাস্তব কারণেই ঘটেনি। কোলকাতার পাঠকদের পুরনো একটি ধারাবাহিকতার পাঠাভ্যাস রয়েছে। যে পদ্ধতিতে তিনি ঢাকা কেন্দ্রিক পাঠকদের জয় করেছেন, অনুরূপ কোলকাতার ক্ষেত্রে ঘটানো সম্ভব হয়নি। দেশ তাকে ছেপেছে, কিন্তু পাঠক প্রিয়তা ঘটেনি। তার কারণ ওই ধরনের পাঠাভ্যাস সেখানে নেই। তার অর্থ আবার এইও ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই যে সেটা উন্নত, হুমায়ুনেরটা নয়। ওই রকম হিসাব করলে এর উল্টা দিকটাও বিবেচনায় আনতে হবে। আমার ধারণা হুমায়ূন নিজেও তা চাননি। চাইলে পারতেন। আর্থ-সামাজিক যে  অনুভূতিতে নাড়া দিয়ে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে অভ্যস্ত সেই গোষ্ঠী কোলকাতা কেন্দ্রিকও আছে। সহসা সেই পাঠক পাওয়া তার জন্য কঠিন হওয়ার কথা নয়। আর একটা কারণ, তিনি ছিলেন ‘প্রফেশনাল’ লেখক। যার অর্থ ‘অর্থ’ বা টাকা প্রধান, কোলকাতার স্পন্সর’রা যদি ঢাকা’র মত তাকে সেই জায়গাটা পূরণ করতে পারত নিশ্চয়ই তিনি সেখানের জন্য লিখতে পারতেন। সেক্ষেত্রে অবশ্য সেখানকার পাবলিশার/পত্রিকা/বা টিভিগুলো বলবে- তারা যদি আবার তাকে বিক্রি করে সে টাকা না তুলতে পারে  তাহলে হুমায়ূনকে তারা দেবেন কোত্থেকে বা কেন। তাহলে সেই কথাটাই থাকে যে, মূল জনপ্রিয়তার ঘাটতিই তার ক্ষেত্রে কোলকাতায় সত্য। তারপরও আমার ধারণা কোনও চতুর পাবলিশার উপলব্ধি করতে পারলে নিশ্চয়ই তাকে ‘বাজার’ করবার ব্যবস্থা করতেন। এবং সে উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার কথা ছিল না। সেখানে কোনও ‘পলিটিক্স’ থাকতে পারে। তা আমার জানবার বা বুঝবার কথা নয়। এখনো যদি তার বই কোলকাতায় ‘বাজারজাতকরণ’ উদ্যোগ নেয়া হয় আমার ধারণা একটা বাজার-ফল পাওয়া যাবে।  

 

অতএব তাঁর মৃত্যু নিয়ে কোলকাতায় যে হৈচৈ হলোনা তাও ওই ‘নিউজ-ভ্যালু’ টার্মে পরবে। এতে মান অভিমান, দুঃখ-কষ্টের জায়গাটা অর্থহীন। নিউজ কেন ও কী কারণে থাকবে তা সব সময় প্রত্যাশা থেকে হতে পারেন। হুমায়ুনের জীবন-মৃত্যু কোলকাতায় কোন ‘সংবাদ-মূল্য’ নেই। বাংলার লেখকরা কেন কোলকাতা মুখাপেক্ষী তার কারণ ঐতিহাসিক। সেটা খুব দোষের নয় বলেই আমার মনে হয়। কোলকাতাও একইভাবে থাকবে সেটা ‘আত্মীয়তার’ দাবীর মতন। সত্য আত্মীয়তা মানে না। আমরা তোমাদের মুখাপেক্ষী বলে আমাদের (পূর্বাংশের) এই দাবী ও প্রত্যাশা আসলে আবেগ থেকে আসা একটি অভিব্যাক্তি। কেউ কাউকে সাংস্কৃতিক ভাবে কারো দিকে কেবলামুখি হতে জোর করেনা। কিছুদিন আগে আমেরিকান সাইন্স ফিকশন লেখক (ফ্যারেনহাইট ৪৫১ খ্যাত) রে ব্র্যাডবেরি’র মৃত্যু সংবাদ আমি ঢাকায়ও দেখেছি। এখন হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু সংবাদ আমেরিকায় নেই কেন প্রশ্নটা যে কারণে উঠবে না সেই কারণ কোলকাতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

 

এইভাবে- হুমায়ূন ‘থাকবেন না’ বলে জেকের ও জাকেরান যতদিন থাকবে  অন্তত ততদিন সূত্র অনুযায়ীই ওই ‘না-বলি’য়েদের জ্যোতিষ বাণী উপেক্ষা করে সেটাও ‘ব্যালেন্সড’ হতে গিয়ে দশকের পর দশক পার হয়ে যাবে শরৎ’এর মতন।

 

 




115 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ অপর বাংলা  আলোচনা 
শেয়ার করুন


Avatar: আবুল খায়ের

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

"অন্যদিকটি হলো তার রসবোধ মিশ্রণ। তাও আবার নির্মল রসবোধের সঙ্গে উপহাস সংযোগে। আমার ধারণা এই শক্তিই প্রাধানত তার জনপ্রিয় হবার সবচেয়ে শক্তিশালী সিক্রেট। না শুধু রসবোধের উপহাস নয় তার সঙ্গে আছে অপূর্ব সাইকো-এনালিটিক্যাল চরিত্র নির্মাণ। ফলে তাঁর নাটকে মামার সঙ্গী, সৈয়দ বংশের আভিজাত্যে ও মান মর্যাদার প্রশ্নে চশমা লাগিয়ে ঘোষণা দেয় যে রিক্সা চালনার মত মানহানিকর কাজ সে করতে পারবে না ইজ্জত রক্ষার্থে। একথা বলে সে চোখে চশমা আরও একটু কষিয়ে বসায়। কিন্তু এরপরই সে ঘোষণা দেয় যে ইজ্জত হরণকারী রিক্সা না চালাতে চাইলেও সে চুরি করতে পারবে। অথবা খেয়ালী বড়লোক শখ করে একদিন তার কাজের লোকদের টেবিল চেয়ারে খাবার অধিকার দিয়ে নিজে ভৃত্যের ভূমিকায় নামলে দর্শকরা দেখতে পায় কাজের লোকদের আদেশে তিনি পাগল প্রায়; এবং তারা হাত না লাগিয়ে কাটা চামচ দিয়ে খাবে দাবী করে। এইভাবে তার মনোজাগোতিক বিশ্লেষণ গুলোও সহজভাবে মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে। তিনি মানুষের আনন্দ ও বেদনা অনুভূতি গুলোকে যত সার্থক ভাবে ধরতে পেরেছেন বাংলা সাহিত্যেই সে রকম উদাহরণ হবে বিরল।ধরা যাক সঙ্গীতের ব্যবহার প্রসঙ্গে। এমন সব গান এমনভাবে ব্যবহার করলেন, তা পেল জনপ্রিয়তার শীর্ষ স্বীকৃতি। এটা তার ক্ষমতার অংশ। অর্থাৎ এই সব অর্জন গুলো তাঁর মেধাবী দিকেরই ফসল।"-
লেখার এ অংশের বিশ্লেষণটি গুরুত্বপূর্ণ। হুমায়ূন আহমেদের উদ্ভট পরিহাসবোধ পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে ঠিকই সেইসাথে এবংবিধ পাঠকদের মনোজগতটিও উন্মোচিত করেছে! লেখক হুমায়ূন আহমেদ অধিকাংশ রচনায় জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে শ্রেণীসমন্বয় করেছেন। তার রচনায় উচ্চবংশীয় খামখেয়ালী ভাবালুতায় পরিপূর্ণ কোনো চরিত্রকে সুকৌশলে নিম্নশ্রেণীর চাকর-বাকরদের সমতুল্য করে উপস্থাপনের ধাবাবাহিক প্রবণতা বাস্তবতার এতোটাই উদ্ভট এবং বিপরীত উপস্থাপন যে উপরোক্ত কৌশলের কাছে পাঠক সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে প্রাত্যহিকতা থেকে বেদনা প্রশমনে এক ধরনের প্রশান্তি লাভ করে। এবংবিধ বাস্তবতা বিবর্জিত উদ্ভট পরিহাস সকল কিছুকে শুধু লঘু হাস্যাস্পদই করে না, বরং তা পাঠকের মনোজগতকে সংক্রমিত করে তাকে নিক্ষেপ করে পরিহাসের চোরাবালিতে। সংক্ষেপে বলি, আধুনিক কালের শুধু নয়, কোনো কালের লেখকের জন্যই এমনতরো কুকর্মটি কাঙ্ক্ষিত নয়। বস্তুত পাঠক বিশেষত অল্পবয়সী পাঠকদের জন্য লেখকের এই উদ্ভট, সস্তা এবং নিকৃষ্ট ও চটুল দৃষ্টিভঙ্গী থেকে উৎসারিত অপকর্ম ঘৃণ্য এবং সেইহেতু নিন্দনীয় ও পরিত্যাজ্য শুধু নয় বর্জনীয়ও বটে!
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

আনোয়ার শাহাদাতের লেখায় হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তার চুলচেরা বিশ্লেষণ ভালো লাগলো।

মনে পড়ছে, অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদকে, যিনি বিভিন্ন লেখায় এবং সাক্ষাৎকারে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসগুলোকে "অপন্যাস" বলে প্রবলভাবে আক্রমন করেছিলেন। তার ভাষায়, "অপন্যাস হচ্ছে সে ধরণের সাহিত্য, যা বছরে লাখ টন উৎপাদিত হলেও সাহিত্যের কোনো উপকার হয় না; আর আধ কেজি উৎপাদিত হলেও কোনো ক্ষতি হয় না।" [প্রবচনগুচ্ছ, ১৪৫]।
Avatar: কুলদা রায়

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

আনোয়ার শাহাদাত যে মানের গল্পকার-ঔপন্যাসিক-চলচ্চিত্রকার, তাঁর যে উন্নত বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেচনাবোধ--তাঁর পক্ষেই সম্ভব এরকম নির্মোহ আলোচনা করা। ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।

হুমায়ুন কোলকাতায় জনপ্রিয় নন, ঠিকই, কিন্তু কোলকাতার যারা তাকে পড়েছেন কোনো না কোনো ভাবে, তারা কিন্তু হুমায়ুনকে পছন্দ করেছেন। মুগ্ধ হয়েছেন।
ধরা যাক, Shamik Ghosh, তাঁর পাঠন-পাঠন-লেখন যে ঘরাণার বলে আমার মনে হয়েছে, তাতে, অনুমান করতে পারি শমীক যদি বাংলাদেশের লোক হতেন, তাহলে তিনি হুমায়ুনের অনেক মার্ক্স-হেগেল-দেরীদা ঘটিত কারণ দেখিয়ে বাতিল করে দি্তেন। কিন্তু শমীক হুমায়ুনে মুগ্ধ।
আবার গুরুচণ্ডালীর ইপ্সিতা--হুমায়ুনের হিমু-মিশির আলীতে লা-জবাব। বলছেন--এই ধরনের কল্পগল্প বাংলা ভাষায় আগে ছিল। এটা একটা গ্রেট জব।
এ গুলো থেকে একটা বিষয় পরিস্কার--হুমায়ুনের ক্ষমতাকে হেলা করা যাবে না। কিন্তু তাঁকে কোলকাতার পুস্তক ব্যবসায়ীগণ বাজারে অবাধ প্রবেশের সুযোগটি দেননি। আনোয়ার শাহাদাত এদিকটাতে কায়দা করে বলেছেন--সে হয়ত রাজনৈতিক--সেটা হয়ত তিনি জানেন না।
আমরা জানি। সেটা হল--কোলকাতা ব্যবসা করতে চায় ঠিকই, কিন্তু তারা তাদের দেশে বাংলাদেশকে ঢুকতে দেবে না। তারা বাংলাদেশে ঢুকবে। শুদ্র জাতে উঠে গেলে বিপদ। এ কারণেই হুমায়ুন কেন, আমাদের সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ, আব্দুল মান্নান সৈয়দ, মাহমুদুল হক, হাসান আজিজুল হক, শওকত আলী, রিজিয়া রহমান, সেলিনা হোসেন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, Moinul Ahsan Saber, শহীদুল জহীর, আনোয়ার শাহাদাত, Imtiar Shamim, Zakir Talukder, Kajal Shaahnewaz প্রমুখ কোলকাতায় নেই কেন? বাংলাদেশে যদি দিব্যেন্দু পালিত বিক্রি হতে পারেন, মতি নন্দী আসতে পারেন--বাংলাদেশের কাজী আনোয়ার হোসেন সেখানে কোলকাতায় একেবারে অন্ধকারে, তাকে কেউ চেনেই না। অথচ কাজী সাহেবের তো কোলকাতা জয় করবার সব ধরনের ক্ষমতা ছিল বা আছে! অন্যদের কথা না হয় বাদ-ই দিলাম। এটা সেই রাজনীতি--সেই কোলকাতার গভীরতর অসুখ।
Avatar: সুশান্ত কর

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

লেখাটাতে এক টান টান উত্তেজনা আছে। আমি হুমায়ুন পড়িনি, তাই খুব বলতে পারব না। তবে তাঁর জনপ্রিয়তার রহস্য সন্ধানের ধরণটি ভালো লাগল। হুমায়ুন পড়বার আগ্রহ বেড়ে গেল। আমি ছেলেবেলা বাংলাদেশের নাটক, সিরিয়েল টিভিতে দেখে বড় হয়েছি। হয়তো তখন হুমায়ুন দেখেছি। মনে করতে পারছি না। এই মাত্র।
Avatar: কুলদা রায়

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

আমরা জানি কোলকাতা হুমায়ুনকে পড়ে। এক্ষেত্রে পাঠককে কিন্তু আমি কোনো দোষ দিচ্ছি না। বলছি--পাঠকের কাছে ঢাকার বই পৌঁছানোর দরোজাটা কোলকাতার ব্যবসায়ীরা ছোট করে রেখেছেন। এখানে আমি পরিস্কারভাবে ব্যাবসায়ীদেরকে দায়ী করছি--পাঠকদের নয়।
কিন্তু তারা তসলিমাকে নিয়েছেন। তসলিমা কী বাংলাদেশের প্রধান লেখক? যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তারা নিয়েছেন--রাজনীতির কারণে। একই সঙ্গে রাজনীতি এবং ব্যবসা তারা করছেন। তারা কিন্তু সেলিনা হোসেনকে নেননি।
সায়ান কিনছে হুমায়ুনকে, কল্লোল যাদবপুরে ইলিয়াসকে নিয়ে তুলনামূলক সাহিত্যের আলোচনায় পেয়েছেন--এটাইতো হওয়া উচিত, বাংলাদেশের বইয়ের দরজা কোলকাতায় অবাধ করলে আম-পাঠকের ক্ষেত্রে এটাই ঘটবে। আম-পাঠক আমাদের দেশের লেখা সহজভাবে পেলে ঠিকই পঠন-তালিকায় তাদেরকে নিয়মিত করতে পারতেন। ধরা যাক--শীর্ষেন্দু বাংলাদেশে যে পরিমানে বিক্রি হন--যে সংখ্যায় বাজারে আসেন, সেটাতো ইতিহাস, বৈধ পথে আসেন, অবৈধ আসেন, এখানের প্রকাশক তাদের ছাপে, পাইরেটেড ছাপা হয়, সে তুলনায় কোলকাতায় হুমায়ুন, ইলিয়াসরা কোনো শতকরা হিসেবের আওতায় আসবে না।
Avatar: কুলদা রায়

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের লেখক প্রকাশকদের মধ্যে ভুল মেসেজ যাচ্ছে। এক. কোলকাতার সমকক্ষ হতে পারছে না বাংলাদেশের লেখা। ২. কোলকাতা সাম্প্রদায়িক।
দ্বিতীয় পয়েন্টটি লুফে নিচ্ছেন ফরহাদ মজহারদের মত জঙ্গী মৌলবাদি গ্রুপ। তারা বলছেন--কোলকাতার দিকে আমাদের রুকু করা যাবে না। কোলকাতা আমাদেরকে কিছুই দিতে পারে না। এখন লাতিন আমেরেকাইয় আমাদের বইপত্র প্রকাশ করা না--তারা বিক্রিও করে না, তাই বলে কি আমরা লাতিন সাহিত্যকে নাকচ করে দেব বা দিয়েছি? দেইনি। দেব না। কলকাতাও অনুরূপ। কোল্কাতার বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ ঘোষনা করব কেন? কলকাতা যদি কিছু ভাল করে থাকে--সেটাকে পড়ব। তাকে আত্মস্থ করব। যেমন আমরা কুন্ডেরা নিচ্ছি, মার্কেজকে নিচ্ছি। সেখানে তো মৌলবাদি হওয়ার দরকার নেই।
Avatar: কুলদা রায়

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

প্রথম পয়েন্ট ধরা যাক--কলকাতা ঐতিহাসিক কারেণেই এগিয়ে ছিল। সেই ধারাবাহিকতা তারা বজায় রেখেছে। কিন্তু আমরা সেই ধারাবাহিক ইতিহাস-সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে যেতে পারিনি। আমাদেরকে ২৪ বছর পাকিস্তানকে ঘাড়ে রাখতে হয়েছে। এখন মাঝে মাঝে সেই ভুত আছর করার চেষ্টা করে। ফলে আমাদের ধারাবাকতায় ছেদ পড়ে। সে কারণে আমাদেরকে নতুন করে শুরু করতে হয়। এবং কোলকাতার রাজনীতির শিকার হয়ে আমারা আমাদের সামর্থ্যটা চিনতে ভুল করি।
আমরা সব সময়ই কলকাতাকে বড় ভাই বলে ধন্য হচ্ছি। এটাও সেই গভীরতর অসুখেরই ফলাফল। ধরা যাক- যে ফরহাদ মজহার কলকাতাকে মুরতাদ নাজায়েজ ঘোষণা করছেন--সেই তিনি এবং তার তালবেলেমরা কলকাতা থেকে সার্টিফিকেট যোগাড় করতে হন্যে হয়ে ছুটে যান। কিন্তু ইলিয়াসকে তো ছুটতে হয়নি। হুমায়ুনকে ছুটতে হয়নি। আনোয়ার শাহাদাতকে ছুটতে হচ্ছে না। তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই সাহিত্য করেছেন--করছেন। তাদের সাহিত্যের ক্ষমতাই তাদেরকে কলকাতার লেখকদের সম কাতারে দাঁড় করাচ্ছে। কলকাতার বাজারের দরজাটা খুলে দিলেই এদের শক্তির প্রকাশটা ঘটত ওখানে।
Avatar: রূপঙ্কর সরকার

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

আমি কোলকাতার সব লোককে চিনিনা। তার ওপর কোলকাতায় এখন বাঙালি 'অফিশিয়ালি' ৪৭% আসলে আরও কম। কিন্তু যে কজনকে চিনি, তাদের মধ্যে হুমায়ুন আহ্‌মেদ পড়েনি এমন লোক তো চোখে পড়েনা। আমার পুত্র, জীবনে পড়ার বই ছাড়া অন্য কিছু পড়েনি, রবীন্দ্রনাথও না। সে কিন্তু হুমায়ুন পেলে গোগ্রাসে গেলে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যাঁরা পড়েন, তাঁরা কি কেবল বইমেলায় বাংলা দেশের স্টল থেকেই কেনেন ? আমার তো মনে হয়না। সারা বছরইতো দেখছি হুমায়ুনের বই ঢুকছে বাড়িতে। ব্যবসায়ীরা না বেচলে এরা পাচ্ছে কোথায়? ঢাকা থেকে কিনে আনছে ?
Avatar: কল্লোল

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

এই আলোচনায় প্রাসঙ্গিক কি না জানি না, তবে, ঢাকা নিয়ে কলকাতার একটা অদ্ভুত চরমপন্থী অবস্থান আছে। একদল মনে করেন, কলকাতায় কিসুই হয় না, সাহিত্য-সংষ্কৃঅতি নিয়ে ভালো যা কাজ ওপারেই হয়। আরেকদল তার ঠিক বিপরীত - দুদ্দুর ঐ তো একটা ইলিয়াস আর শামসুর কি বড়জোর আল মাহমুদ।
দুদলই বড় বেশী চরমপন্থী।
তবে ব্যবসায়ীরা, কিভাবে আটকাচ্ছে বুঝলাম না। ঢাকায় কলকাতা পাইরেটেড পাওয়া যায় অজস্র, তবে উল্টোটা হয় না কেন?
Avatar: কথা

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

ভালো লাগলো। পড়ে দেখতে পারেন, আমাদের ব্লগে, হুমায়ূন স্মরণে - http://kothatobolarjonyei.blogspot.in/2012/08/investment.html
Avatar: চৈতালি

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

হুমায়নের লেখা নিয়ে এই বিশ্লেষণটা খুব ভাল হয়েছে। কলকাতার যে সব মানুষরা সাহিত্য ভালবাসেন বা বই পড়েন সাধারণত তারা প্রত্যেকেই হুমায়নের নাম শুনেছে। আর শুধু সাহিত্যে হুমায়ন না, গানের ক্ষেত্রেও ফরিদা পারভিনের ক্যাসেট খুঁজে আমি হন্যে হয়ে গিয়েছিলাম, কোলকাতায় কোথাও মেলেনি।
Avatar: শঙ্খ

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

চৈতালি, ইসে, কি বলে, 'হুমায়ূন' হবে।


যেটা বলতে চাই, কলকাতায় হু-আ র বই আমি অন্ততঃ বইমেলা ছাড়া বড় একটা দেখিনি। তবে বইমেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ানে দেদার হু আ বিক্রি হতে দেখেছি। আমি নিজেও এক সঙ্গে দশ বারোটা করে বই কিনে আনতাম। বাকি সময়টা বন্ধুদের নেটওয়ার্কে দেখতে হত, কার কাছে কি বই আছে।

এখন তো নেটে খুঁজলে প্রায় সব বই-ই পাওয়া যায়। দেশিবই, বইআরবই, পরে পাঠাগার, মূর্চ্ছনা সবাই হু আর প্রচুর প্রচুর বই এর পিডিএফ রাখে।

বাংলাদেশের সাহিত্য 'বাজার' ধরতে পেরেছে কিনা জানি না, এবং সেটাই যদি আলটিমেট লক্ষ্য হয়ে থাকে, তাহলে আলাদা কথা, তবে বাংলাদেশি লেখকদের সুনাম কলকাতার বাজারে ভালোই আছে।

আমার যেটা মনে হয়, এখন প্রিন্ট মিডিয়ার তোয়াক্কা খুব বেশি কেউ করে কি? সফট কপি পড়াও সুবিধে, আর্কাইভ করে রাখাও সুবিধে। আস্তে আস্তে বাজার ঐ দিকেই এগোচ্ছে। কলকাতার প্রকাশকরা কবে কৃপাদৃষ্টি দেবে সেই আশায় বসে না থেকে বরং অনলাইনে বাংলাদেশের এই সব লেখকদের বই পাবলিশ করে, বিভিন্ন ফোরামে বইগুলো সহজলভ্য করে দিলে আপনা থেকেই পাবলিসিটি হয়ে যাবে। যদি সত্যি ভালো লেখা হয়, লোকে পড়বে না কেন।










Avatar: maximin

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

আনোয়ার শাহাদাত সাহেবের লেখাটা চমৎকার লাগল।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

শঙ্খ’র আন্তর্জালের বই বেচাকেনার ধারণাটির সঙ্গে একমত। আগামী বিশ্বে ই-বুকই বোধহয় প্রধানতম মাধ্যম হবে। আর ভালো পাঠকেরা ভালো লেখা পড়বেনই। সীমান্তের বাধা এক্ষেত্রে অবান্তর।
Avatar: শুদ্ধ

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

কুলদা রায়,
কলকাতার বাজার ব্যাপারটা তো কলকাতার লেখকদের কাছেই খোলা না। এ বাজার কিছু গোষ্ঠীর হাত ধরে চলে। কেন না ডিস্ট্রিবিউশনে তারাই সবচেয়ে বেশী টাকা লাগাতে পারে। ওই সিগারেট কোম্পানির মত মনোপলি করা। অন্য কারো সিগারেট এলে যেমন সে পানওলাকে বাড়িতি দেয় মাসের হিসেবে যাতে ওই কোম্পানির সিগারেট না রাখে, তেমন করেই এখানে বই বা কাগজও আটকানো যায়। আটকানো হয়। সকলেই জানে, কিন্তু ওই আর কি! কথা কয় না। দিনের শেষে বিশেষ বাড়িতে সাহিত্য না করলে জাতে ওঠা যায় না কি না!

সুতরাং কলকাতা বলে সামগ্রিক নাম না দেওয়াই ভাল মনে হয়। কলকাতার লেখক, তার বাইরের লেখকের ভেদাভেদ, কলকাতার ভেতরের নানা গোষ্ঠী অনেক অনেক কিছুই আছে এ খেলায়। সাহিত্য চর্চা যখন ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন সিস্টেম হয়ে যায় তখন এমনই হয় বোধহয়।
Avatar: চৈতালি

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

ইসস খুব বাজে রকমের ভুল বানান লিখে ফেলছিলাম... মাপ করবেন। :(
Avatar: ফৈরা দার্শনিক

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

ইচ্ছে মতো লেখা দেওয়ার ব্যবস্থা করলে ভালো লাগত।

Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

["কলকাতা বলে সামগ্রিক নাম না দেওয়াই ভাল মনে হয়। কলকাতার লেখক, তার বাইরের লেখকের ভেদাভেদ, কলকাতার ভেতরের নানা গোষ্ঠী অনেক অনেক কিছুই আছে এ খেলায়। সাহিত্য চর্চা যখন ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন সিস্টেম হয়ে যায় তখন এমনই হয় বোধহয়।"]

শুদ্ধ'র বাণিজ্যিক মতটির সঙ্গে একমত। এরাই আখাতারুজ্জামান ইলিয়াস বা হাসান আজিজুল হকের বদলে তসলিমা নাসরিনের নিম্নমানের রচনা "লজ্জা"কে মহিমান্বিত করে, লেখিকার বাজার তৈরি করে, এমন কি "লজ্জা" দিয়ে বাংলাদেশ চেনাতে চায়। ১৯৯৩-৯৪ সালে কলকাতা সফরের সময় লজ্জা-মচ্ছবে বিষয়টি খুবই হাতেনাতে ধরা পড়ে। ...পুরো ব্যাপারটাই বাজারের খেল এবং বিষয়টিকে তলিয়ে দেখাই বোধহয় ভালো। -:)


Avatar: শুদ্ধ

Re: হুমায়ূনের থাকা হবেনা বলেও যে ধরণের থাকা

সত্যি বিপ্লব। আন্তর্জাল থাকাতে বাংলাদেশের সাহিত্য সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানা যাচ্ছে। আমার তো মনে হয় একে অনেক অনেক বেশী ব্যবহার করে সাহিত্যের সীমানাটা অন্তত প্রসারিত করার দরকার। আমার বাংলাভাষায় যাঁরা লেখেন সকলেই আমার কাছে আপনজন। এপার জানবো ওপার জানবো না ভাবতেই কেমন লাগে! এই দুই বাংলা ছাড়াও অসম, ত্রিপুরা ও আরো নানা অঞ্চল থেকে বাঙালিরা যখন লেখেন, তাঁদের কথা পড়ি তখন মনে হয় আমার ভাষার এত বিস্তার, এত জায়গা, এত বৈচিত্র্য। কলকাতার বাজারে আটকে থাকলে কোনোদিন এসব জানা হোতো না, হবে না। পরিচিত নামের সারি ছেড়ে দিন, এখানে এসে আমি আপনার, কুলদা রায়, সুশান্ত কর, মজনু শাহ, প্রবুদ্ধসুন্দর, দেবেশ দাস, সুব্রত অগাস্টিন, কচি রেজা, মেঘ অদিতি- এমন কত কত মানুষের লেখা পড়ছি। বহু বিষয়ে, বৈচিত্র্যে বাংলাদেশের ব্লগগুলো পড়ছি। আমার বাংলার সীমানা বেড়ে চলেছে। কত কত শব্দ, কত কত ডায়ালেক্ট জানছি আরো স্পষ্ট করে। বাংলা, বাঙালির সমস্যাকে-সম্ভাবনাকে জানছি। আমার মতন আরো অনেকেই এ কথা জানতে চান। উপায় পেলেই আনন্দে জানবেন।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন