বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ডিমকথা

দীপ্তেন

দেখুন, ডিম নিয়ে আমাদের বেশ (মানে অনেকটা) হতচ্ছেদ্দার ভাব রয়েছে। পাঁটা, মুর্গী আর নানান মাছেরা অভিজাত রাজবংশীয়। ডিম যেনো ওদের কেউ নয়। বড়োজোর ব্রেকফাস্টে ক্ষমাঘেন্না করে খাওয়া যায়।

নেমন্তন্ন করে ? নেভার ? জামাইষষ্ঠীতে কেউ দেয় না, বিয়ে বাড়ীতেও নয়। অথচ ব্রহ্মা ডিম পারলেন - সেই থেকেই তো এইসব ইউনিভার্স টিউনিভার্স,আর আশ পাশের এলাকা। কিন্তু সেই ডিমের কথা কেহ তো কহে না।

তো এবার ডিম খান। একটা অন্যরকম ডিমের কারিকথা

দুটো পেস্ট করতে হবে ।

এক নং : প্যাঁজ+ রসুন+ লবংগ+মৌরী + টমেটো + লাল লংকা+ কারি পাতা

দুই নং : নার্কেল + পোস্তো

তেলে ভাজুন ১ নম্বর পেস্ট,তার সাথে দ্যান মটরশুঁটি। ভালো করে ভেজে দ্যান জল আর হলুদ আর নুন । মটরশুঁটি রান্না হোলো? এবার দ্যান ডিম। রান্না যখন প্রায় হয়ে আসবে তখন পেস্ট নম্বর দুই দ্যান। ভালো করে ঘেঁটে খেয়ে নিন।


কেরালিত ডিমেক্কারি।

(১) ধরুন গে ছটা ডিম। সিদ্দো করেন। অল্প করে ভেজেই নিন।
(২) গরম তেলে দ্যান এক চামচ সর্ষে
(৩) সর্ষে চিরবিরাইলে প্যাঁজ বাটা দিন। এক চিমটে নুন দিন। তাতে না কি প্যাঁজের প্যাঁজত্ব বেড়ে যায়।
(৩) আদা+রসুন - এক মিনিট ভাজেন
(৪) লংকা গুঁড়া+জিরা ১ চামোচ+ ধনে চার চামচ +কাঁচা লংকা+কারী পাতা গোটা¡ দশেক দিন।
(৫) ওহ। টমেটো কুচিয়ে রাখার কথা বলতে এক্কেবারে ভুলে গেছি। যাহোক, ঝটপট কুচানো টমেটো দিয়ে দিন। মিনিট তিনেক রাঁধুন । নুন দিন ।
(৬) জল দিন, ডিম ঢালুন। দু মিনিট, দু মিনিট পরেই নামান। ব্যাস।

(*) kulambu চিলি পাউডার যদি দিতে পারেন তো টেস্ট আরো কেরালিত হবে।

একটি পিকিউলিয়ার আন্ডাকারীর বৃত্তান্ত

এটি আজ রাঁদলাম।

(১) ছটা ডিম সেদ্দো করুন
(২) আলাদা করে ভাজুন একটা প্যাঁজ+ গোটা দশেক লাল লংকা+ তাওয়ায় সেঁকে নিন দেড় চামচ ছোলাড্ডাল। এদের সাথে অ্যাড করেন এক চামচ করে পোস্তো আর ধনে,আর আদ কাপ নার্কেল বাটা। সবটা মিক্সিতে ভালো করে বেটে নিন। অল্প সল্প জল দিন ।
৩) ঠিকাছে? এইবার প্যানে তেল গরম করে প্যাঁজ ভাজুন (দুটো কি তিনটে )

(৪) তাতে দ্যান চাট্টে টমেটো
(৫) এট্টু নেড়ে চেড়ে ঐ পেস্টটা দিন ।
(৬) জল দিন , নুন দিন ।
(৭) ডিম গুলান দিন , একটু রান্ন করে নামিয়ে দিন।

এইসব খেয়ে টেয়ে বাড়ীর সবাই হতবাক। এম্নি দুর্বোধ্য টেস্ট। ভালো লাগলো না খারাপ লাগলো সেটা পর্যন্ত্য কেউ বলতে পারলো না।

শ্বশুরবাড়ী লোক,বাড়ীওলা বা যে কোনো মালয়েশিয়ানকে স্বচ্ছন্দে এটা খাওয়াতে পারেন।






১৫ই এপ্রিল, ২০১০

10 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

কোন বিভাগের লেখাঃ টুকরো খাবার 
শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন