রোহিঙ্গা সংকট ও সমাধান বিষয়ক প্রস্তাবনা―প্রথম পর্ব

স্বকৃত নোমান

...রোহিঙ্গারা কিন্তু আরাকানের আদিম জনগোষ্ঠী নয়। খ্রিষ্টপূর্ব ২৬৬৬ অব্দ থেকে মারু ও কামরাজগজি বংশ স্বাধীনভাবে আরাকান শাসন করে। ১৪৬ বা ১৫১ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মগধ থেকে আগত চন্দ্র-সূর্য নামক এক সামন্ত সৈন্যবাহিনী চট্টগ্রাম ও আরাকানে বসবাসকারী আদিম জাতির সঙ্গে যুদ্ধে জয়লাভ করে সেখানে নতুন রাজ্যের গোড়া পত্তন করে। মগধ থেকে আগত হিন্দু ও বৌদ্ধ সেনারা নতুন রাজ্যের আদিম অধিবাসীদের আর্য ধর্ম-দর্শন-সংস্কৃতি ও ভাষালিপিতে শিক্ষিত করে তোলে। কালক্রমে চট্টগ্রামে হিন্দু ধর্ম-সংস্কৃতি এবং আরাকানে বৌদ্ধধর্ম সংস্কৃতির উৎপত্তি হয়।

আরও পড়ুন...

হুমায়ুনপুর

স্বাতী মৈত্র

হুমায়ুনপুরের ইতিহাস নিয়ে অনেক গল্প আছে। শোনা যায় ১৬৭৫ সালে রূপা রাম আর রতিয়া সিং টোকাস এই গ্রাম স্থাপন করেন। আরও একটি কাহিনী বলে ১৬৭৫ নয়, ১৬৮৩ সালে চৌধুরী দেবী সিং ফোগাট এই গ্রামের পত্তন করেন। আরেকটা গল্প আছে, সে তো আরও রোমাঞ্চকর — বাদশা ঔরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে জাট বিদ্রোহের নায়ক গোকুলা জাট স্বয়ং নাকি এই গ্রামের পত্তন করেন! তবে এ নেহাতই কিম্বদন্তী, লড়াকু জাট নেতা গোকুলা দিল্লীতে তাঁর জীবদ্দশায় কোনোদিন পা রাখেননি। ইতিহাস বলছে যে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ার পরে আগ্রাতেই বাদশা ঔরঙ্গজেবের আদেশে তাঁকে হত্যা করা হয়। মূল ধারার ইতিহাসের বইয়ের পাতায় দিল্লী শহরের অলিগলির এ হেন লোকশ্রুতি-মিশ্রিত ইতিহাস কমই উঠে আসে।

হুমায়ুনপুরের জমির মালিক আজও কিছু জাট পরিবার। নগরায়নের কবলে পড়ে এক এক করে তাঁদের জমি চলে গেছে সফদরজং এনক্লেভের দখলে — বড় বড় অট্টালিকা উঠেছে, দক্ষিণ দিল্লীর অভিজাত মানুষজনের ঠাঁই হয়েছে সেখানে। পাশে গড়ে উঠেছে আরকে খান্না টেনিস স্টেডিয়াম, হৌজ খাস ডিসট্রিক্ট পার্ক, হৌজ খাস ডিয়ার পার্ক, অভিজাত দিল্লীবাসী সেখানে হাওয়া খেতে আর শরীরচর্চা করতে আসেন। কখনো কখনো ইতিহাসপ্রেমী কেউ হয়তো চলে আসেন হুমায়ুনপুরের পুরাতন ঐতিহ্যের টানেও, হৌজ খাসে ঘুরতে ঘুরতে ডিয়ার পার্কের ভিতরে কালি গুমটি বা বাগ-এ-আলম গুম্বদটাও দেখে যান। এইসবের মাঝে হুমায়ুনপুর গ্রামের এঁদো গলি বড় বেমানান, যেন অন্য একটা জগৎ। সন্ধ্যাবেলা গেলে এখনো দেখতে পাবেন খাটিয়ায় বসে হুঁকো টানছেন বিশাল পাগড়ি পরা একেকজন প্রৌঢ় চৌধুরী।

আরও পড়ুন...

সিজনস অব বিট্রেয়াল – তৃতীয় পর্ব

দময়ন্তী

রাইটার্সের সামান্য কেরাণী প্রমদাকান্ত, বড় দুই মেয়ের বিয়ের ভাবনাতেই কাহিল হয়ে থাকেন, আবার একটা মেয়ে৷ একটাও কি পাশে দাঁড়াবার মত কেউ জন্মাতে নেই! আর এই তো দেশের অবস্থা! যখন তখন স্বদেশী আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়ছে! আরে তোরা পারবি ঐ শক্তিশালী ইংরেজদের সাথে? আর সত্যি তো ইংরেজরা না দেখলে এই দেশটার কি হাল ছিল সে তো জানাই আছে৷ এইসব ভাবনার মধ্যে মানদার চাঁছাছোলা গলা ভেসে আসে ‘অ রুনু মায়ের কাছে একটু বোস দিকি, আমি খুকীটারে একটু পোস্কার করে নিই’৷ জলের স্পর্শে নবজাতিকা তীক্ষ্ণকন্ঠে কেঁদে ওঠে আর মানদার গজগজ চলতে থাকে ‘থাক থাক আর কাঁদে না – ঐ তো মেয়ের ঢিপি – তার আবার অত আদিখ্যেতা কিসের’? সাড়ে ছ বছরের রুনু ঠিক বুঝে যায় এই বোনটা একেবারেই অবাঞ্ছিত৷ ৩ বছরের ঝুনু অতশত বোঝে না, বোনকে দেখতে চায়, হাত বাড়াতে যায় – মানদার ঝঙ্কারে ভয় পেয়ে সেও বোধহয় নিজের মত করে বুঝেই যায় যে বোনটা এমনকি তার চেয়েও বেশিঅনাকাঙ্খিত৷ সরলাবালার জ্ঞান আছে কিনা বোঝা যায় না, চুপচাপ পড়ে থাকেন৷শুধু অনিলাবালা বলতে থাকেন ভগবান যা দেন তাই হাত পেতে নিতে হয়৷ অশ্রদ্ধা করতে নেই৷ তবে বাড়িতে জামাই আছে, তাই গলা তেমন চড়ে না৷

আরও পড়ুন...

রহিম চাচার লাল সেলাম

প্রিয়াঙ্কা বরপূজারী - অনুবাদ অরিজিত গুহ

'পেশোয়ারে যখন থেকে ছিলাম, তখন থেকেই আমি কমিউনিস্ট'।উনি উপলব্ধি করলেন আইপিটিএ র অধ্যায় উনি অনেক আগে ছেড়ে চলে এসেছেন।একবার ঘরে জ্বলতে থাকা টিউব লাইটটার দিকে তাকালেন।এই সময়ে আমি ওনার কাছে আরেকটু এগিয়ে এলাম যাতে ওনার কথা আরো পরিষ্কার ভাবে শুনতে পারি আর আমার রেকর্ডিং করার যন্ত্রটাতেও যাতে ভালোভাবে রেকর্ডিং করা যায়।ঘরের এয়ার কন্ডিশনের ঘড়ঘড় আওয়াজটা বিরক্তি উদ্রেক করছিল আমার।এই আওয়াজটার জন্যও ওনার কথা শুনতে অসুবিধা হচ্ছিল।কিন্তু সঙ্কোচের কারনে বলতে পারছিলাম না।কিছুটা আমার মনের কথা আন্দাজ করেই হয়ত উনি বলে উঠলেন 'এসিটা বন্ধ করে দেব'? হেসে না বললাম।উনি আবার শুরু করলেন।

আরও পড়ুন...

ডাক্তার-রোগী সংবাদ

অভিজিত মজুমদার

তার দু’হপ্তা পরের কথা। এই দু’হপ্তায় আমার শরীর আদ্দেক হয়ে গেছে। মাথায় আর চুল বিশেষ অবশিষ্ট নেই। তার মধ্যে মুখে কী সব গুড়িগুড়ি বেরোনো শুরু হয়েছে। আমার সুহৃদরা ডাক্তার পাল্টাতে বলছে। কেউ কেউ বলছে একটা সেকেন্ড ওপিনিয়ন নিতে। কথাটা ডাক্তারকে বলতেই ওনার চোখদুটো ছলোছলো হয়ে গেল। কান্নাভেজা গলায় বললেন, "অন্তত আর দুটো হপ্তা দাও আমায়?" ওই কাঁদোকাঁদো মুখ দেখে আমার মনে ভদ্রলোকের জন্য মায়া হল। ভাবলাম, যাক গে দুটো সপ্তাহর তো ব্যপার। ডাক্তার বলল, "রেডিও শুনবে?"

আরও পড়ুন...

নোটবাতিলের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল ?

সৌভিক ঘোষাল

কালো টাকার সমস্যা সমাধানের জন্য অন্যান্য অনেক রাস্তা নেওয়ার ছিল। এই কালো টাকা সত্তর বছর ধরে তৈরি হয়ে আসছে এবং এক মুহূর্তে কোনও এক জাদুদণ্ড বুলিয়ে তা নির্মূল করা সম্ভব নয়। গোটা ব্যবস্থাকে দায়বদ্ধ করে তোলার জন্য লোকপাল নিয়োগ করা সম্ভব। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, আমলা, পুলিশ, বিচার ব্যবস্থা – এরা দায়বদ্ধ নয়। এদের দায়বদ্ধ করে তোলার মধ্যে দিয়েই কালো টাকাকে ধ্বংস করা সম্ভব। ... বড় বড় ঋণ খেলাপী শিল্পপতিদের পাশাপাশি লাভ হয়েছে, হতে চলেছে কাদের ? পেটিএম কোম্পানির। শপিং মলগুলোর। বিগ বাজার, মোর, রিলায়েন্স ফ্রেস, স্পেনসার্স এর মতো একচেটিয়া খুচরো ব্যবসার কারবারিদের,যারা খুচরো ব্যবসায়ে ক্রমশ জাঁকিয়ে বসেছে গত কয়েক দশকে আর অধিকার করে নিতে চাইছে দেশের খুচরো ব্যবসার বিশাল বাজারটা,যার সিংহভাগ এখনো ছোট মাঝারি ব্যবসায়ীদের দখলে আছে। লেসক্যাশ ও ক্যাশলেস ট্রানজাকশান এর প্রায় বিকল্পহীন বন্দোবস্তের মধ্যে দিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের হটিয়ে খুচরো ব্যবসার বৃহৎ বাজারে একচেটিয়া ব্যবসায়ীদের জাঁকিয়ে বসার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। ...

আরও পড়ুন...

নোটবন্দীর ন’মাস

দেবর্ষি দাস

ডিজিটাল ব্যবসার বহর বেড়েছে, জেটলিজি বলেছেন। প্রথমত, আদৌ বেড়েছে কিনা সন্দেহের ঊর্দ্ধে নয়। নভেম্বর ডিসেম্বরে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, চেক, ইত্যাদি অ-নগদী লেনদেন এক ঝটকায় বেড়ে গেছিল। তারপর কিন্তু ডিজিটাল বা অন্যান্য অ-নগদী কেনাবেচার পরিমাণ ক্রমাগত কমে আসছে। দীর্ঘকালীন প্রবণতায় যতখানি বাড়ার কথা ডিজিটাল কেনাবেচারপরিমাণ তার বেশি বাড়ে নি। কারণ সহজবোধ্য। লোকে ঠেকায় পড়ে ডিজিটালে গিয়েছিল, শখ করে যায় নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগের অভ্যাসে ফিরে এসেছে, কারণ ডিজিটাল পেমেন্ট অনেক সময় খরচা বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, ইতিমধ্যে সরকার এটিএম থেকে নগদ টাকা তোলার মাশুল বাড়িয়েছে। লোকজন নগদ খরচায় আরো হিসেবি হয়ে পড়েছে। ফলে ডিজিটাল ব্যবসা বেড়েছে। তৃতীয়ত, প্রাক-নোটবন্দীর তুলনায় আজকের বাজারে নগদের পরিমাণ কমেছে। এই কমাটা সরকারের সচেতন সিদ্ধান্ত। সরকার কম নগদ ছাড়ছে যাতে লোকে বাধ্য হয় কম নগদ ব্যবহার করতে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ডিজিটাল ব্যবসা শুরুতে যত বেড়েছিল তার থেকে নেমে এসেছে। শেষ হিসেবে যত বেড়েছে তার পেছনে নোটবন্দীর কতখানি অবদান তা তর্কসাপেক্ষ।

আরও পড়ুন...

ইসকুল-টিসকুল...

রানা আলম

সেই মাস্টার মশাইরা কোথায় গেলেন?যাদের স্কুল ছাড়ার সতেরো বছর পরেও রাস্তায় দেখলে ছুটে গিয়ে প্রণাম করতে ইচ্ছে করে।আমাদের প্রতিষ্ঠার গর্বে যারা গর্বিত হোন। তাঁরা কি সত্যিই হারিয়ে গেলেন? ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে প্রাণ ব্যাপারটা কি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা?

হারিয়ে বোধহয় যান নি। তবে সংখ্যাটা তো কমেছে ভালোই। শিক্ষকতা নিছক চাকরিতে পর্যবসিত হচ্ছে। তবে এরমধ্যেই কোথাও না কোথাও রূপোলি তো দেখাই যায়। SCERT এর প্রোজেক্টে গিয়ে দেখেছিলাম প্রত্যন্ত জেলা স্কুলগুলোতে কিছু মাস্টার মশাই সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে স্কুলের ছেলে মেয়েদের জন্য কত কী করে যাচ্ছেন।অপর্যাপ্ত পরিকাঠামোতেই ছাত্র-দরদী শিক্ষকেরা মানুষ তৈরির আলোকবর্তিকাকে জ্বালিয়ে রাখছেন ভব্যিষতের জন্য। তারা দেখাচ্ছেন কীভাবে ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতে অনেক পরিকাঠামোজনিত অভাব সহজেই ঢেকে দেওয়া যায় কী সহজে।

আরও পড়ুন...

শিক্ষকদিবস – কিছু অ-সুখস্মৃতি

দময়ন্তী

ক্লাস সিক্সের ঘরটা মস্ত বড় হল্, প্রায় ৭০ জন ছাত্রী অনায়াসে ধরে যায়, কিন্তু অত ছাত্রী তো হয় না এই স্কুলের সিক্সে| ফাইভে উঠে যারা পরীক্ষা দিয়ে অন্য কোনও স্কুলে চান্স পায়, তারা সবাই চলে যায়| যারা ফেল করে থেকে যায়, তাদের সাথে সাধনাদির প্রাথমিক বিভাগ থেকে আসা মেয়েরা আর কোনও স্কুলে ক্লাস সিক্সে কেউ তিনবার ফেল করলে যখন সেখান থেকে টিসি দিয়ে দেয়, তারা তখন এখানে এসে সিক্সে ভর্তি হয়| অন্য সব স্কুলেই নিয়ম হল একই ক্লাসে তিনব্ছরের বেশী থাকতে দেওয়া হয় না, তৃতীয়বারেও ফেল করলে টিসি দেওয়া হয়| ভাগাড়পাড়া স্কুলে অবশ্য এমন নিয়ম নেই, যতবার খুশী ফেল করে থাকা যায় এখানে| শুধু তিনবারের বেশী হয়ে গেলে সারা বছরের মাইনে ২৪ টাকার জায়গায় ৩৬ টাকা হয়ে যায়| এই হলঘরে বড়সড় পাঁচটা জানলা, মোটা মোটা লোহার শিক লম্বালম্বি বসানো| দুটো শিকের মধ্যের ফাঁক দিয়ে একটা রোগা মেয়ে দিব্বি গলে বেরিয়ে যেতে পারে| ক্লাসের পাশেই একটা কচুব্ন| আসলে ওটাও একটা মস্ত মাঠ, তবে শুধু মাঝ্খানে অনেকটা অংশ পরিস্কার আর পশ্চিম, উত্তর আর দক্ষিণে কচুবনে ভর্তি, পূবদিকে আমাদের স্কুলের মাঠ| দুপুরে ছেলেদের স্কুলের ছেলেরা নাকি দুটো মাঠজুড়েই খেলে| পশ্চিমের কচুবন ঘেঁষে একটা মস্তবড় শিমূলগাছ, এপ্রিল মাসভর লাল টকটকে ফুলে ভরে থাকে| কিন্তু নীচে পড়ে থাকা শিমূলফুলগুলো খেয়াল করলে দেখা যায় কেমন বিশ্রীমত দেখতে, উঁচুতে যখন ফুটে থাকে শুধু লাল টকটকে পাপড়ি দেখা যায়, তাই সুন্দর দেখায়, মাটিতে খসে পড়লে আসল রূপটা দেখা যায়| ক্লাসের পেছনে পাকা রাস্তা, রিকশা, সাইকেল চলে অনবরত| লোকজন বাজার করে ফেরে, ডোরাকাটা নাইলনের ব্যাগের মুখ দিয়ে উঁকি মারে কচুর লতি কি মুলোশাকের ডগা, ডেইলি প্যাসেঞ্জাররা উর্ধশ্বাসে দৌড়ায় ট্রেন ধরতে| রাস্তাটার পাশেই সেই যে সেই পুকুরটা, ক্লাস থ্রীয়ের জানলা দিয়ে যাকে দেখতাম| সোমবার সকালে এই পেছনের জানলা দিয়েই আমরা নজর রাখতাম রেখাদি আসছেন কিনা| রেখাদি আমাদের ক্লাসটিচার, সোমবারে কলকাতা থেকে আসেন তাই ট্রেন থেকে নেমে এদিক দিয়ে আসতে দেখা যায়, অন্যদিন বাড়ী থেকে আসেন, সে এদিক দিয়ে দেখা যায় না| ওঁকে আসতে দেখলেই আমরা লক্ষ্মী শান্ত হয়ে বই নিয়ে বসে যাই| উনি এসে ক্লাসে গন্ডগোল হতে দেখলে এলোপাথাড়ি বেত চালান, অনেকটা পুলিশের লাঠিচার্জ করার কায়দায়, কারুর চোখে লাগল কি নাকে ঢুকে গেল সেসব খেয়ালও করেন না|

আরও পড়ুন...

ফলসাকিসিম

জারিফা জাহান

ছেলেবেলার সে ফলসা গাছের মত এখনও মায়া আঁকড়ে জেগে থাকে কিছু বনেদীবাড়ি। মাথা উচুঁ করা নাজনীন, মোহময়ী ইতিহাসের পরতে পরতে তার মুহব্বত। যবনিকা পড়ে গিয়েও কোন এক ফাঁকে ধরা দেওয়া ক্ষীণ আয়ু। গাছ নেই, ফুল-পাতা শূন্য তবু শেকড়ের কোনো এক ভাঙা মূলটপের মত লেজুড় সে 'বড়বাড়ি'র ইতিহাস। যে জমিদার জমানায় কেউ বিলেত ফেরত কেউবা ডাক্তার-প্রফেসর, সে জমানা ক্রমে বেগানা হতে হতে ধুলো বালি, বালি ধুলো। জমিটুকু সম্বল করে বংশপরম্পরায় বনেদিয়ানা দেখাতে দেখাতে বিস্মৃত হয়েছে শিক্ষা-সাবেকিয়ানা। মেয়েরা হাঁড়ির তলানিটুকু খেতে খেতে বড় হয়েছে অভ্যেসে, গড়পাঠ শেষে তারপর ঢুকে গেছে বিয়ে প্রতিষ্ঠানে।

আরও পড়ুন...

ধর্ম থাক ধর্মে, পাতে আমিষ...

সেখ সাহেবুল হক

কথায় কথায় আমরা সাদা চামড়ার মানুষদের অনুকরণ করি, কদর করি। সেক্ষেত্রে শিকাগো, লন্ডন, নিউইয়র্কের উন্নত মানুষজন পশুহত্যায় সেন্টিমেন্ট দেখান না। ‘ঘোড়া ঘাসের সাথে বন্ধুত্ব করবে তো খাবে কী।” এই সত্যটা সহজে বুঝে নিলেই এতো তর্কের অবকাশ আসে না। ধর্মের প্রসঙ্গ না টেনেও দিব্যি মাংসের উৎসব হওয়া প্রয়োজন। যে মুসলিম ভাইটি কুরবানিতে গরু বা মোষ খাচ্ছেন বলে আপনার এতো অভিযোগ, ঠিক সেই দিনেই আপনি প্রাণভরে মাটন বা চিকেন সাঁটাচ্ছেন। স্থান পৃথক হলেও, কার্যকারিতায় উনিশবিশ। আপনার খাবারের প্লেটও একটি প্রাণের বিনিময়ে সেজেছে।

আরও পড়ুন...

সময় হয়েছে মধ্যবিত্তদের খালিপায়ে হাঁটার

রবিশ কুমার - অনুবাদ শমীক মুখার্জি

গত বছরেও প্রাইম টাইমে আমরা নিয়মিতভাবে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছিলাম। শুধু আমরাই নয়, চ্যানেলের পর চ্যানেলে, মধ্যবিত্তের সান্ধ্যকালীন অবসরযাপনে, আমাদের এই প্রিয় দেশের অ্যাঙ্করেরা এই বিষয়ে তাদের পারদর্শিতা দেখিয়ে চলেছিলেন, সর্ব সময়ে এই মধ্যবিত্ত দর্শক শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায় তাঁদের নিজেদের ধরে রাখার একটা দায় ছিল। এবং তার কিছুদিন পরেই তাঁরা ফিরে গেছিলেন তাঁদের সেই চিরাচরিত হিন্দু-মুসলমান টপিকে। অন্যদিকে, মাসের পর মাস ফ্ল্যাটের ক্রেতারা প্রতি রবিবার নয়ডা আর গ্রেটার নয়ডা এলাকায় বিল্ডারদের অফিসের বাইরে বসে ধর্ণা সমাবেশ করতেন। কিন্তু কিছুই বদলায় নি।

মধ্যবিত্ত নাগরিকরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেন না যে তাঁরা তাঁদের জনতার আইডেন্টিটিকে ধীরে ধীরে সন্ধ্যেবেলার টেলিভিশনের উপচারের অনুষঙ্গে বদলে ফেলছেন, দিনের পর দিন ধরে। অ্যাঙ্কররা এই জাতীয়তাবাদী উপচারের নতুন পুরোহিত। জাতীয়তাবাদের দোহাই দিয়ে তাঁরা উপস্থিত সবাইকে নিজের আইডেন্টিটি বিসর্জন দেবার আহ্বান জানান।

জনতার হাতে যত বেশি ক্ষমতা থাকে, গণতন্ত্র তত বেশি শক্তিশালী হয়। জনতার আইডেন্টিটি হারিয়ে ফেললেই আপনি মহাশক্তিধর সেই সিস্টেমের ক্ষমতার সামনে সংখ্যালঘু হয়ে পড়বেন – হ্যাঁ, সেই সংখ্যালঘু, যার মৃত্যুতে আপনি আনন্দে হাততালি দিয়ে ওঠেন। এই হাততালি দিতে দিতে আপনি ভুলে যান যে, আপনিও সেই সংখ্যাগুরুর শক্তির সামনে ধীরে ধীরে সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছেন।

আরও পড়ুন...