গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

নৈঃশব্দের পত্রগুচ্ছ

মানুষের যৌন পরিচিতির বর্ণালীতে রঙের শেষ নেই। গুরুচন্ডা৯ দীর্ঘদিন ধরে এই ক্যালাইডোস্কোপিক বৈচিত্রের নানা দিক নিয়ে নানা লেখা প্রকাশ করে চলেছে। সেই বহমান ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই প্রকাশিত হল এই ই-বই টি।
বইয়ের নামঃ নৈঃশব্দের পত্রগুচ্ছ।
কথা ও শব্দঃ অভিজিৎ।
ছবি, ভাবনা ও নির্দেশনাঃ অর্চন।

আরও পড়ুন...

আপনার প্রতিদিনের খাবার-দাবার কী বিপদ ডেকে আনছে দেখুন

শীতের বাজারে পার্টি করবেন? আলুর চিপস আর নরম পানীয়? সাবধান। ওসব কিন্তু মোটা হবার মহৌষধ। বিষও বটে। নরম পানীয় এমন বস্তু, তা দিয়ে ঘষলে নোংরা টয়লেটও নাকি ঝকঝক করে। তবে কি কেবল ফাস্টফুড আর গরম পানীয়?নাঃ একদম না। অতিরিক্ত মদ্যপানে লিভারে সিরোসিস হবে। আর ফাস্টফুড যেমন অখাদ্য তেমনই অস্বাস্থ্যকর। দুমাসেই ফুলে ঢোল হবেন, শরীরে বাসা বাঁধবে হরেক রকম অসুখ-বিসুখ...

আরও পড়ুন...

আসামে এন আর সি নবীকরণঃ কী হচ্ছে, ভবিষ্যতে কী হতে পারে

দেবর্ষি দাস

বিদেশিদের শনাক্তকরণের অভিযান আসামে অনেকদিন ধরে চলছে। ইলিগাল মাইগ্র্যান্টস (ডিটেকশন বাই ট্রাইব্যুনাল) ও ফরেনারস ট্রাইব্যুনাল – এই দুই আইনি হাতিয়ার দিয়ে বিদেশিদের পাকড়াও করে বহিষ্কার করা হচ্ছিল। এন আর সি নবীকরণ একই উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে, তবে এটা আগেরগুলোর তুলনায় আরও ব্যাপক আর উচ্চাকাঙ্খী প্রকল্প। এন আর সি’র অর্থ ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস, ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জী। ১৯৫১ সালে স্বাধীন ভারতে প্রথম জনগণনা করা হয়। তখন সমস্ত ভারতীয় নাগরিকের হিসেব নেওয়া হয়েছিল, এন আর সি’তে সে তথ্য ঢোকানো হয়েছিল। আসামে এন আর সি নবীকরণ করা হচ্ছে প্রকৃত নাগরিকদের থেকে বিদেশিদের ছাঁকনি দিয়ে বের করার উদ্দেশ্যে। বিদেশি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আসামে একাধিক আন্দোলন দানা বেধেঁছে। আশির দশকের শুরুতে চলা আসাম আন্দোলনে তার সবথেকে বড় রূপ দেখা যায়। আন্দোলন শেষ হয় আসাম চুক্তিতে। ধার্য হয় ২৪ মার্চ ১৯৭১-এর পর আসামে আসা বিদেশিদের সনাক্ত করে বহিষ্কার করা হবে। বাস্তবে বহিষ্কারের কাজ বড় একটা এগোয়নি। একটা হিসেব অনুযায়ী ২০১২ পর্যন্ত ২৪৪২ জনকে বহিষ্কার করা হয়, আর প্রায় ৫৪ হাজার লোককে আদালত বিদেশি সাব্যস্ত করে। অন্য দিকে কেন্দ্র সরকারের গৃহ মন্ত্রকের বিবৃতি বলছে ২০০১ সালে আসামে নাকি ৫০ লক্ষ অবৈধ বাংলাদেশি বসবাস করতেন (সারা দেশে ১ কোটি ২০ লক্ষ)। গৃহ মন্ত্রক কোত্থেকে এই তথ্য জোগাড় করেছে জানা যায় নি।

আরও পড়ুন...

মেয়েদের লেখালেখি

তির্যক

তবে মেয়েদের লেখাও পাঠকের মনোযোগ পায় যখন তা অন্য একটা জগতের কথা বলে। লেখিকা যদি আদিবাসীদের কথা বা অনাবাসীদের কথা লিখতে পারেন, যে কথায় আমাদের চেনা জীবনটা নেই, সেই লেখার একটা আলাদা মাত্রা আছে। কারণ মানুষ অজানা জগতের কথা জানতে চায়, কিন্তু তার নিজের ঘরেই যে একটা আস্ত অজানা জগত লুকিয়ে আছে তার খবর তো সে জানেই না ! তাই ডাকসাইটে অধ্যাপিকা নবনীতা দেবসেন কি করে নিজের দুই মেয়ে-মা আর সংসার নিয়েই নিত্যনতুন রসে টইটম্বুর লেখা লিখে যেতে পারেন, তাই ভেবে অনেকেই কূলকনারা পান না। তাই যে পাঠক মন দিয়ে ঝুম্পা লাহিড়ি পড়েন, গোয়েন্দা গল্পের জন্য আগাথা ক্রিস্টি বা শিশুসাহিত্যের জন্য লীলা মজুমদার পড়েন, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পাওয়া দুই বাঙালী লেখিকার মধ্যে একজন (মহাশ্বেতা দেবী) তাঁর কাছে বহুলপঠিত ও চর্চিত হলেও আর একজন (আশাপূর্ণা দেবী) তাঁর কাছে মূলতঃ ‘মেয়েদের লেখক’ হয়েই থেকে যান। সে লেখিকারা যতই পুরস্কার পান না কেন !

আরও পড়ুন...

নমামি বরাক উৎসব ও বন্ধ কাগজকলের গপ্পো -২

পার্থপ্রতিম মৈত্র

জানোনা হঠাৎ এই নদী উৎসব শুরু হলো কেন? আজ ব্রহ্মপুত্র, কাল বরাক, করিমগঞ্জের কুশিয়ারা, পরশু পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা, কেন? মনে হয়না? কেন ? কেন নদী উৎসব হচ্ছে এবং হবে? তার কারণ নর্থ-ইষ্ট থেকে বরাক ব্রহ্মপুত্র বেয়ে, বাংলাদেশের নদনদী সমুদ্র বন্দর ছুঁয়ে হলদিয়া, কোলকাতা হয়ে পণ্য পৌঁছাবে বারাণসী ঘাট অবধি, যেটা মোদীর কেন্দ্র। বরাক কুশিয়ারা দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলবে। তার জন্য কী প্রয়োজন? নদীখনন। নদীখননের জন্য কী প্রয়োজন? টাকা। কে দেবে? গৌরী সেন। মানে নরেন্দ্রভাই দামোদরভাই। তাও না? তাহলে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক? আজ্ঞে হ্যাঁ? তাই।
আপাততঃ এটুকু জেনে রাখুন ভারতবর্ষে টাকার বন্যা বইয়ে দেবার এক নতুন পরিকল্পনা ছকা হয়েছে। আন্তর্দেশ জলপথ পরিবহন। প্রাথমিক প্ল্যানটা হলো বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে বারাণসী থেকে হলদিয়া হয়ে সদিয়া ৪০০০ কিমি জলপথ সংযোগ, ড্রেজিং, ভেসেল কেনা ইত্যাদি। সবটাই প্রায় ঋণের টাকায়, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের ঔদার্যে সফ্ট লোন। কিছুদিন আগে নমামি ব্রহ্মপুত্র উৎসবের মাঝখানে এই বিষয়ে অনেকগুলি চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। নমামি বরাক উৎসবের মাঝখানে ড্রেজিং শুরু হচ্ছে।

আরও পড়ুন...

ঠাঁই নাই ঠাই নাই

শুধু নিজের বই নিজে ছাপেনা, শুধুই নিজেদের গান নিজে গায়না, শুধু নিজের বই নিজে বেচেনা, নিজেরাই সমালোচনা করে, আহ্লাদে আটখানা হয়, গাল দিয়ে ধুইয়ে দেয়। নিজেরাই ফসল ফলায় নিজেরাই খায়, নিজেদের বর্জ্য নিজেরাই সার হিসেবে ব্যবহার করে আবার। এক কথায় সম্পূর্ণ স্বনির্ভর, ইমপোর্ট এক্সপোর্টের বালাই নেই। জুতো সেলাই থেকে ফেসবুক পাঠ পর্যন্ত এভাবে একঘাটে টেনে আনার মতো ক্ষমতাবান, এত উদ্ভট বাস্তুতন্ত্র বাংলায় আর কখনও হয়নি।

আরও পড়ুন...

বইমেলায় কোন বই আপনার উপযুক্ত? দেখুন পরীক্ষা করে

না, গুরুর বইয়ের কথা হচ্ছে না, সে তো না কিনলে আপনার ভদ্রসমাজে মুখ দেখানোর উপায় থাকবেনা। কিন্তু আর কী কিনবেন ঠিক করতে পারছেন না? বন্ধুবান্ধব নেট ঘেঁটে বইয়ের লিস্টি বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে, আর আপনি ভ্যাবলার মতো হাঁ করে বসে আছেন? ঘাবড়াবেননা। কেবলমাত ডজনখানেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে জেনে নিন, আপনার উপযুক্ত বই কোনটি।

আরও পড়ুন...

যা দেখলে চোখ কপালে উঠে যাবে

আয়োজনের শেষ নেই। হাইপের চোটে অস্থির। লাখে লাখে লোক। কার্নিভ্যালের থেকেও বেশি ভিড়, বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালকেও বলে কয়ে টেক্কা দেবে। পায়ের চাপে যা ধুলো ওড়ে, তা শারজার মরুঝড়ের কাছাকাছি...এ বস্তু দেখলে চোখ কপালে না ওঠাই অস্বাভাবিক

আরও পড়ুন...

নমামি বরাক উৎসব ও বন্ধ কাগজকলের গপ্পো -১

পার্থপ্রতিম মৈত্র

আজ চোদ্দমাস হতে চললো পেপার মিলের কর্মীরা মাইনে পায়না। অন্নচিন্তা চমৎকারা। চোদ্দমাসের কপর্দক শূণ্যতা সহস্রাধিক সংসারকে ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। জনপদ ধ্বস্ত। রাঙা অধর নয়ন কালো, ভরা পেটেই লাগে ভালো। এত দিনের স্বপ্ন ভেঙ্গে চূরচূর। এক্সোডাস শুরু হয়ে গেছে। এই অশণি সংকেত সূদূর কল্পনাতেও ছিল না কাগজকল ঘিরে গড়ে ওঠা জনপদের। উজার করে তারা ভোট দিয়েছে, ক্ষমতায় এনেছে বিজেপিকে। তারপরই বন্ধ হয়ে গেল পাঁচগ্রামের মিল কর্মীদের মাসমাইনে। প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি, তারপর আশার ছলনে ভুলি....। শুধু কর্মহীন স্টাফদের হিসেব নিলে চলবে? ক্যাজুয়াল কর্মী রয়েছে আরও সহস্রাধিক। তাদের উপার্জন বন্ধ ষোল মাস। তাদের ঘিরে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য দোকানী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এক্সোডাস, এক্সোডাস। রোজ শোনা যাচ্ছে মিল বিক্রী হয়ে যাচ্ছে প্রাইভেট চত্বরে। তারা যে পুরোনো কর্মীদের বহাল রাখবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। আর সরকারের হাতে মাসমাইনের টাকাটুকুও নাকি অবশিষ্ট নেই।

কিন্তু নমামি বরাক নদী উৎসব? সেটি কীভাবে সম্পন্ন হবে?

আরও পড়ুন...

ন্যায়বিচারের রাজনীতি

শমীক সরকার

জাস্টিস বা ন্যায়বিচারের রাজনীতির বিষয়ী কে? একজন জাজ। জাস্টিস রাজনীতি মানবাধিকার রাজনীতিকে তার নিজের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেওয়া। মানবাধিকার রাজনীতির ভূমিকা আমরা আগে একটু আলোচনা করেছি। মানবাধিকার রাজনীতি কোনো স্বাধীন রাজনীতি নয়। সর্বমঙ্গলের রাজনীতির যে মাতব্বরী, যে গায়ে পড়া ভাব, তার কমপ্লিমেন্টারিটি বা পরিপূরক। জাস্টিস রাজনীতির একটা অবশ্যম্ভাবী পূর্বশর্ত আক্রমণ। অভিজিত নন্দী ফেসবুকে লিখেছিলেন, “কখনো একটি মেয়ে, কোন পুরুষ দ্বারা আক্রান্ত হলে, তার পরিচয় হয়ে ওঠে সেটাই। সেই পরিচয়টা তখন তাকে ধারণ করে। মেয়েটি তার সবকিছুকেই সেই ছাঁচে ফেলতে বাধ্য হয় – অনেক সময় বাধ্য হচ্ছে না জেনেই। তার চারিপাশের পৃথিবীটা সম্বন্ধে তার ধারণা গড়ে উঠতে থাকে একটি আক্রান্ত মেয়ের প্রাসঙ্গিকতা থেকেই। যাবতীয় ব্যক্তিক ও সামাজিক প্রতিকূলতা এবং সহানুভূতিও তাকে সেদিকেই ঠেলে দেয়। একই ঘটনা ঘটে যখন একটি দলিত মানুষ বা একজন মুসলমান যদি আক্রান্ত হয় কোন বর্ণহিন্দু দ্বারা। 'আক্রান্তের দর্শন' একটি অবশ্যম্ভাবী এবং বিপজ্জনক সম্ভাবনা আধুনিক পৃথিবীতে।" এইখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোনো একজন ব্যক্তি (বা দশজন ব্যক্তি) র 'আক্রান্ত' নামে একটা পরিচয় গড়ে ওঠা বা গড়ে তোলা এবং তার মধ্যে দিয়েযেন বা পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি হিসেবে জাস্টিস রাজনীতির অনুপ্রবেশ। কিন্তু এইবার আসল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা। আক্রান্ত কি রাজনীতির বিষয়ী? সে নিজেকে বিষয়ী মনে করলেও সে কি আদৌ বিষয়ী? নাকি এখানেও কোনো ছুপা বিষয়ী আছে?

আরও পড়ুন...

কী করে সন্দেশটা খেতে হবে, শিখিয়েছিলেন লিয়াকতদা

মুকুল দাস

বাউল-ফকিরদের তিন দিনের এক উত্সবে প্রাণের বাগান তখন জমজমাট। মনসার থানের পাশে এক গাছতলায় এক দল কিশোরকিশোরী হইহই করছে। দুপুরে খাওয়ার পর গানবাজনা তখন বন্ধ। বড়রা বিশ্রাম নিচ্ছে। এক শহুরে মা বলে উঠলেন, ‘ইস্, কী যে করছিস তোরা সব এই ধুলোময়লায়!’ বাচ্চারা খুব একটা পাত্তা দেয়নি। কিন্তু এক জিনস, ফুল শার্ট পরা ‘বুড়ো’ লোক মিটিমিটি হাসতে হাসতে সেই মা-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ধুলোকে ময়লা বলছেন কেন?’ আমার শহুরে শিক্ষা সেই মায়ের শাসনে চমকায়নি। চমকালাম লিয়াকত আলির ওই প্রশ্ন শুনে। এ ভাবেই লিয়াকত আলির সঙ্গে পরিচয়। শহুরে মানুষের অভিজ্ঞতায় ধুলো আর ময়লা এপিঠ-ওপিঠ। কিন্তু প্রকৃতি যেখানে এখনও ‘আধুনিকতা’র ছোবলে ক্ষতবিক্ষত নয়, সেখানকার ধুলো যে ময়লা নয়, সেটা লিয়াকতই প্রথম শিখিয়েছিল আমাদের অনেককে।

আরও পড়ুন...

সামগ্রী ও পরিষেবা কর (জিএসটি): কী এবং কেন - দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব

অমিতায়ু সেনগুপ্ত

এই রাজনৈতিক আপোষের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে ব্যবসা। কল্পনা করুন যে আপনি একজন ছোট ব্যবসায়ী যিনি অন্য কোনও রাজ্যের বিক্রেতা / ব্যাপারী / গ্রাহকদের সাথে কিছু লেনদেন করেন। আপনাকে এখন তিনটি বিভিন্ন করের হিসাব (অ্যাকাউন্ট) রাখতে হবেঃ SGST, CGST এবং IGST। আপনার চ্যালেঞ্জ এখন দুইগুণ। প্রথমতঃ আপনাকে এখন প্রতিটি লেনদেনকে রাজ্যের অন্তর্বর্তী ও আন্তঃরাজ্য হিসাবে নির্ধারণ করতে হবে এবং করের দাবীওয়ালা রাজ্যগুলিকে শনাক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ, তিনটি অ্যাকাউন্ট বজায় রাখার সমস্যাটি হল যে আপনি এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে কোনও হিসাব ট্রান্সফার করতে পারবেন না।

আরও পড়ুন...