গুরুচণ্ডা৯র খবরাখবর নিয়মিত ই-মেলে চান? লগিন করুন গুগল অথবা ফেসবুক আইডি দিয়ে।

ধুকুপুকু বুক কাঁপে শুধু যে রাতে

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

হিন্দি সিনেমার গান শুনে বাঙালি কেন উলুতপুলুত হয়, আপাতদৃষ্টিতে বোঝা মুশকিল। যে ঘরানার গানের শ্রেষ্ঠ লিরিক নাকি 'মেরা কুছ সামান তুমহারে পাস পড়া হ্যায়', অর্থাৎ কিনা 'আমার কিছু মালপত্তর তোমার কাছে পড়ে আছে' আর দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ লিরিক তর্কযোগ্যভাবে 'বিড়ি জ্বালাইলে', অর্থাৎ কিনা 'সিঁড়ির নিচে বিড়ির দোকান', সে গান শুনলে এমনিই ভদ্রজনের মাথা হেঁট হয়ে যাবার কথা। হিন্দি বলয়ের কথা আলাদা, ওদের এরকমই কপাল। ইউপি-বিহারে আধুনিক কালে কোনো জীবনানন্দ জন্মাননি। আর অতীতের গৌরব যা ছিল, সেসব স্টিমরোলার চালিয়ে কবেই ফ্ল্যাট করে দেওয়া হয়েছে। ব্রজবুলি বা মৈথিলির যে মাধুর্য তাকে র‌্যাঁদা মেরে বাতিল করেই আধুনিক হিন্দুস্তানির বাড়বাড়ন্ত। আর লক্ষ্ণৌ এর যে ডায়লেক্ট গায়ে -কাঁটা দেওয়া ঠুংরি গজল উৎপাদন করেছে একটানা, বাহাদুর শার সঙ্গে তাকে প্রাথমিকভাবে বার্মায় নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। দূরদর্শনের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম এসে তৎসম হিন্দুস্তানি দিয়ে কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতে দিয়েছে। অভাগা হিন্দিবলয়ের অধিবাসীদের দুর্ভাগ্যে তাই খোঁটা দিয়ে লাভ নেই। সবই কপাল। কিন্তু বাঙালিরা কেন "আমার কিছু মালপত্তর (ওহো আহা), তোমার কাছে পড়ে আছে (ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ)" বলে আহা উহু করে বোঝা মুশকিল।

আরও পড়ুন...

অধরাই রয়ে গেছে ‘মেক ইন ইণ্ডিয়া’র স্বপ্ন

অভিজিত মুখোপাধ্যায়

২০০৮-এর সারা বিশ্বের প্রবল অর্থসংকটের পরে দুনিয়া জুড়েই অর্থনীতি থমকে রয়েছে, এবং এখনো পর্যন্ত সেই আগের বৃদ্ধির ধারেকাছেও ফেরত আসতে পারে নি, তার মানে দাঁড়ায় বিদেশে রপ্তানি করে নিজের দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং-এ বৃদ্ধি ঘটানো খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় ২০১৪ সালে এসে চীনের ম্যানুফ্যাকচারিং সাফল্য ভারতে “কপি-পেস্ট” করাটা অনেকটাই অসম্ভব উচ্চাকাংখা বলেই বোধ হয়েছিল কিছু অর্থনীতিবিদের, কিন্তু নতুন সরকারের সাথে সাথে নতুন আশাবাদী ভাবনাচিন্তারও জন্ম হয়েছিল বলে সেই সব মতামত খুব একটা হালে পানি পায় নি। প্রায় তিন বছর হয়ে গেছে ‘মেক ইন ইণ্ডিয়া’ ঘোষণার পরে। এখন সময় এসেছে এই বহুল প্রচারিত প্রকল্পের একটা নিরপেক্ষ মূল্যায়নের

আরও পড়ুন...

রোহিঙ্গা সংকট ও সমাধান বিষয়ক প্রস্তাবনা-পঞ্চম ও শেষ পর্ব

স্বকৃত নোমান

শত শত বছরের নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে তাদের মধ্যে এসব স্বভাব প্রবিষ্ট হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের কর্তব্য ছিল তাদেরকে পূর্ণ নাগরিক অধিকার দিয়ে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় পারদশী করে গড়ে তোলা। কিন্তু ঐতিহাসিক বিদ্বেষবশত তারা তা করেনি। ফলে একটা পর্যায়ে এসে এই ‘একটা অংশ’ রোহিঙ্গা তাদের জন্য বোঝা বা জঞ্জাল হয়ে দাঁড়ায়। এই অংশের দায়ভার পড়ে যায় গোটা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর। এই ‘জঞ্জাল’ সাফ করতে তারা শুরু করে গণহত্যা। এটা তাদের ঐতিহাসিক ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার কালিমা কোনোদিন তারা মুছতে পারবে না।

আরও পড়ুন...

আপনি কি দেশপ্রেমী? পরীক্ষা দিন

পঁচিশ বছরে দিনকাল অনেক বদলেছে। সেবার বাবরির দিন যা করেছেন করেছেন, সেসব ধুইয়ে আর চলবেনা। অবিলম্বে নতুন করে পরীক্ষা দিন, দেশপ্রেম রিনিউ করান।

আরও পড়ুন...

পহেলি ঝাঁকি ও তারপর : ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সিকি শতাব্দী

সৌভিক ঘোষাল

কমিশন উত্তর প্রদেশের তৎকালীন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংকে কড়া ভাষায় অভিযুক্ত করে। সঙ্ঘ পরিবার যা যা চেয়েছিল কল্যাণ সিং এর সরকার তাই তাই করেছে বলে কমিশন মন্তব্য করে। পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয় সেই সমস্ত আধিকারিকদের যারা সঙ্ঘের কার্যকলাপে বাধাস্বরূপ ছিলেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঢিলেঢালা করে তোলা হয়। তারা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট এর কাছেও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়। কলরাজ মিশ্র, উমা ভারতী, গোবিন্দাচার্য, শঙ্কর সিং বাঘেলা, বিনয় কাটিয়ার, সাক্ষী মহারাজ প্রমুখ বিজেপি নেতাদেরও কমিশন এই ঘটনার জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করে। কমিশন অবশ্য নরসীমা রাও এর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারকে এই ঘটনার জন্য দায়ী বলে মনে করে নি, যা খানিকটা অবাক করার মতো ব্যাপার।

আরও পড়ুন...

লজ্জার ২৫ বছর

মহম্মদ সাদেকুজ্জামান শরীফ

সেই কালো সময়ের উপরে লজ্জা লিখে লজ্জা পেয়ে দেশ ছাড়তে হয়ে ছিল তসলিমা নাসরিনকে। সেখানেও এমন এক পরিবারের কথা বলা হয়েছিল যারা শত বাধা পেরিয়েও দেশ ত্যাগ করে না। বাড়ির প্রধান একজন ভাষা সৈনিক এবং মুক্তিযোদ্ধাও। নিজের মেয়েকে যখন ধর্ষণ হতে দেখে তখন তাদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। দেশ কাকে বলে তা নিয়ে জীবনের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড়ায় তারা। আমরা ভদ্রলোক মানুষ, আমরা এই সব নষ্ট কথা আমরা আমাদের সাহিত্যে মেনে নিতে পারি না। লজ্জা আসলে কার এই রকম একটা কঠিন প্রশ্ন সহ্য করা আমাদের দেশের মানুষের পক্ষে সম্ভব না। লজ্জা যখন বলে - “ধার্মিকেরা কি কখনও পারে বিধর্মীর সম্পদ লুট করে নিজের ধর্ম রক্ষা করতে? এতো আসলে ধার্মিকের কাজ নয়। এ হচ্ছে গুণ্ডা বদমাশের কাজ।” তখন সম্ভবত কোন উত্তর থাকে না জিহাদি জুলুসে জ্বলতে থাকা আমার ভাইয়েদের কাছে। আর তাই দেশ থেকে বাহিরে তসলিমা।

আরও পড়ুন...

আসামের উচ্ছেদ অভিযান

দেবর্ষি দাস

হাতি পাঠিয়ে জমিদারি কেতায় যাঁদের বাড়ি ভাঙা হল সেই লোকগুলো কে? গৌহাটী হাইকোর্ট বলছে এরা বে-আইনি জবরদখলকারী। অভয়ারণ্যের জমি দখল করে বসে পড়েছে, এদের উচ্ছেদ করা আশু কর্তব্য। জমির প্রশ্নে পরে আসছি, আগে দেখা যাক লোকগুলো কারা। বিতর্কের অবকাশ নেই যে এঁদের সিংহভাগ পূর্ব আসামের জনজাতি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বন্যা ও ব্রহ্মপুত্রের অবিরত পাড় ভাঙার ফলে ভিটেমাটিকাজকম্মোহারা হয়ে এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে জীবিকার সন্ধানে গুয়াহাটিতে এসে পড়েছেন; কম দামের বাসস্থান খুঁজে শহরের উপকণ্ঠে আমসাং-এর হদিশ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন...

আসামে যা চলছে

নয়নজ্যোতি

অনুবাদ ঃ জারিফা জাহান

এরপরই সরকার বন্দুক ও কাঁদানে গ্যাস বের করে। ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, এদের মধ্যে মালতী দাস নামে এক সমাজকর্মী, গুলির ক্ষত নিয়ে আইসিইউ তে ভর্তি। বাকি আহতরা হলেন অনিমা খাতুন, রাশিতা খাতুন, গৌতম বৈশ্য এবং উৎপল পত্গিরি। এখানেই শেষ নয়, পুলিশ, শহরের বহু প্রতিবাদী কর্মীকে হুমকি ও ধরপাকড় শুরু করেছে, এদের মধ্যে বিশেষত কেএমএসএস ( কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি) এর ওপর তাদের নেকদৃষ্টি পড়েছে।

কেএমএসএস দলনেতা ও উপদেষ্টা বেদান্ত লস্কর, যুগ্ম সাধারণ সচিব ধৈয্য কানোয়ার এবং কেএমএসএস কর্মী গোপী সাইকিয়াকে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেন? কারণ তাঁরা প্রতিবাদীদের সমর্থনে দাঁড়িয়েছিলেন। বেদান্ত এবং গোপী তো ঘটনাস্থলে উপিস্থিতই ছিলেন না, বাইকে চেপে ফেরার সময় শহরের মধ্যে ওঁদের ধরা হয়। আজ তাঁদের আইপিসির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ এনে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে তোলা হয়েছে।

আরও পড়ুন...

সিজনস অব বিট্রেয়াল – পঞ্চম পর্ব

দময়ন্তী

তিনভাইবোনে মা’কে নিয়ে বাজিতপুরের দিকে রওনা হয়ে গেল। মা বিশেষ হাঁটতে পারছেন না, গরুর গাড়িতে যুঁই রইল সঙ্গে যদি হঠাৎ খারাপ লাগে শরীর। যোগেশ এককথায় আকরম আলির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন, দেশ ছাড়ার কথা তিনি ভাবতেও পারেন না। তাঁর অনাগত সন্তানকেও তিনি তাঁর পিতৃপুরুষের দেশেই বড় করে তুলতে চান। তবে মনীশের সিদ্ধান্তে তিনি বাধা হবেন না, আলিসাহেব ও তাঁর ভাইকে লোক দিয়ে জঙ্গলবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সেইদিনই মীর্জাপুর স্ট্রীটের মেসবাড়ির বাসিন্দারা কিছু বেশী উত্তেজিত ছিলেন; কাগজে বেরিয়েছে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় মসজিদের ভিতরে রামলালার মূর্তি পাওয়া গেছে -- গোবিন্দগোপাল জোরে জোরে বলেন দেখেছ ‘নাথুরাম গডসের লোকেরা বহুদিন ধরেই বলে আসছিল ওইটা আসলে অযোধ্যায় দশরথের প্রাসাদ ছিল, দেখলে তো তোমরা। ব্যাটা বাবর ধ্বংস করেছিল’ ননী ফুট কাটে ‘হ্যাঁ কৌশল্যার আঁতুড় ছিল ওখানে’। মহা ঝামেলা বেধে যায়। কেউ বলে বাবর নয় ঔরঙ্গজেব মন্দির ধ্বংস করে মসজিদ বানিয়েছিল, কেউ বলে না বাবর। এর মধ্যেই ম্যানেজারবাবু এসে বলে যান আজকে আর রাজাবাজারের দিকে না যাওয়াই ভাল বলা তো যায় না ---। সুহাস মনে মনে ভাবে এই খবরগুলো নিশ্চয়ই পূর্ব পাকিস্তানে পৌঁছায় নি, হে মা ঠনঠনে কালী এসব খবর যেন ওদিকে না পৌঁছায় ......

আরও পড়ুন...

সোনি সোরিঃ যে লড়াই এখনও চলছে

প্রতিভা সরকার

বস্তারের যেখানে অত্যাচার, সেখানেই অদম্য সোনি সোরি। স্কুল কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত অসহযোগিতা করলেও নির্যাতিতা মেয়েদের হয়ে মামলা রুজু করেছেন সোনি। পরিষ্কার বললেন, তার গুপ্তাঙ্গে পাথর ঢোকানো পুলিশ অফিসারটি এবার রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার পেয়েছে, ওর সদম্ভ চলাফেরা দেখলে বুকের ভেতরটা জ্বলেপুড়ে যায়, মগর ক্যা করু, দেশ কা সংবিধানমে বহোত বিশোয়াস রখতি হুঁ।

না, বন্দুক হাতে তুলে নেবার কথা একবারও ভাবেননি সোনি। বরং একবারই গলা ধরে এলো বাবাসাহেবের এই সত্যিকারের সন্তানের, যখন বললেন তার ভেঙে দেওয়া স্কুলহোস্টেলে পঞ্চাশটি অনাথ বাচ্চা থাকতো যাদের বাবা মায়েরা খুন হয়েছে রাষ্ট্রের পোষা আতঙ্কবাদী সালোয়া জুড়ুমের সদস্যদের হাতে। তাদের কি হল তিনি জেলে যাবার পর জানা নেই, শুধু এই সেদিন গহন বনের ছায়ায় এক গ্রামে ধর্ষণের ঘটনা শুনে সোনি যখন ছুটে যাচ্ছিলেন দুটি মাওবাদী তার পথ আটকায়। যাবার হুকুম নেই। কথা কাটাকাটি শুরু হতেই বন্দুক হাতে ছুটে আসে আর এক তরুণ, প্রাক্তন শিক্ষিকার পা ছুঁয়ে মাফি মাঙে। এ সেই অনাথদের একজন।

আরও পড়ুন...

বিচারের বাণী নীরবে, নিভৃতে- বাস্তারে

অরিজিৎ গুহ

স্টেট ভার্সেস জোগা, জুগল অ্যান্ড সুদারের কেসে, পাঁচ মাসে তেরো খানা এফ আই আর দায়ের করা হয়েছিল নানা ব্যক্তির নামে। যদিও, সেই এফ আই আরে কোথাও জোগা, জুগল আর সুদারের নাম ছিল না। এর কিছুদিন পরেই, পুলিশের স্টেটমেন্টে ওই তিনজনের নাম যোগ করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অবশ্য তিনজনেই বেকসুর খালাস হয়েছিল। আরেকটা কেসে ৫০ জনের নামে এফাইআর দায়ের হওয়ার পাঁচ মাস পরে পুলিশের হটাৎ করে আরো তিনজনের নাম মনে পড়ে যায় এবং তাদেরকে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করা হয়। মানে ব্যাপারটা দাঁড়ালো এই যে, যত দিন যায়, পুলিশের মেমোরি তত শক্তিশালী হয়।

অন্যদিকে,অপর আর একটি কেসের দুই অভিযুক্ত, মিদিয়াম লাচু ও পুনেম ভিমার নাম পুলিশের চার্জশিটে কোথাও ছিল না , শুধুমাত্র ইনভেস্টিগেটিং অফিসারের একটা রিপোর্টে তাদের নাম উল্লেখ করা ছিল।পুলিশ সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে এবং বিনা বিচারে তারা জেল খাটছে আজ ছ'বছর ধরে।

আরও পড়ুন...

ফেমিনাজি থেকে সাবর্ণ রেপ এপলজিস্ট, ২৪ ঘণ্টায়

নিবেদিতা মেনন

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার যেটা, সেটা হল রায়া সরকার এবং আরও কয়েকজন, যারা মেহমুদ ফারুকি আর খুরশিদ আলম ধর্ষণ মামলায় সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁদের ভোল বদলানো বা পালটি খাওয়া। কিছু স্বাক্ষরকারীর মতে উভয় ক্ষেত্রেই যেহেতু বিশেষভাবে ধর্ষণের অভিযোগই করা হয়েছে, তাই তার বিচারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতিতেই এগোন দরকার। মেহমুদ ফারুকির মত খুরশিদ আলমও আমাদের অনেকের কাছেই পরিচিত ছিলেন। উভয়ক্ষেত্রেই যে নারীবাদীরা অভিযোগ সমর্থন করেছিলেন, উদার বামপন্থী নারীবাদী বৃত্তের ভেতর থেকেই তাঁদের ‘ফেমিনাজি’ বলে আক্রমণ করা হয়েছিল। ‘ফেমিনাজি’ অর্থাৎ কোনও প্রমাণ ছাড়াই যারা পুরুষের বিরুদ্ধে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু আমাদের অবস্থানটা হল এইরকম যে যেকোন অভিযোগকে বিচার পাওয়ার দিকে এগিয়ে দেবার আগে আমরা তার ‘প্রমাণ’ চাইব না কিন্তু আশা করব যে কি ধরণের অভিযোগ জানানো হছে সে বিষয়ে অভিযোগকারীর যেন পরিষ্কার ধারণা থাকে। আমরা জানি খুরশিদের ক্ষেত্রে অভিযোগকারিণী মধু কিশওয়র অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁর একটা ভিডিও রেকর্ডিং বানিয়েছিলেন আর প্রথামাফিক অভিযোগ জানানোর আগেই সেটা গণমাধ্যমে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু এঁরা যখন অন্য নারীবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তখন তাঁরা এইভাবে এগোনোর বদলে সঠিক পদ্ধতিতে অভিযোগ দায়ের করতে উৎসাহিত করেছিলেন। দুঃখজনকভাবে খুরশিদ আত্মহত্যা করায় এই মামলা বন্ধ হয়ে যায়। যে নারীবাদীরা এই দুই ক্ষেত্রে অভিযোগকারিণীদেরসমর্থন করেছিলেন, তাদেরই ফেমিনাজি বলা হয় কারণ তাঁরা গণমাধ্যমের বিচারে (মিডিয়া ট্রায়ালে) আগ্রহী, যার সবটা তাঁদের আয়ত্তে থাকে না। আশ্চর্যজনকভাবে রায়া সরকার, যিনি একদিন কবিতা কৃষ্ণণকে সাম্প্রদায়িক আর ফেমিনাজি হওয়ার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণ পর্যন্ত করেছিলেন (সেই সব পোস্ট অবশ্য পরে ডিলিট করে দিয়েছেন), তিনিই আজ কোনও প্রেক্ষিত বিচার না করেই যেকোনও পুরুষের ওপর যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। অন্য নারীবাদীরা যারা সেই সময় আমাদের আক্রমণ করেছিলেন আশ্চর্যজনকভাবে তাঁরাও দিক বদলে অন্য দিকে চলে যাচ্ছেন অতি দ্রুত। তাহলে কে এই দুই বিপরীত পক্ষ তৈরী করে তাদের লড়িয়ে দিল আর কোন দিকটাই বা বেশি ক্ষমতাবান!

আরও পড়ুন...