জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য RSS feed

Lilaboti Lbএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্প
    ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্পবিষাণ বসুচলতি শতকের প্রথম দশকের মাঝামাঝি। তখন মেডিকেল কলেজে। ছাত্র, অর্থাৎ পিজিটি, মানে পোস্ট-গ্র‍্যাজুয়েট ট্রেনি। ক্যানসারের চিকিৎসা বিষয়ে কিছুটা জানাচেনার চেষ্টা করছি। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, এইসব। সেই সময়ে যাঁদের ...
  • ঈদ শপিং
    টিভিটা অন করতেই দেখি অফিসের বসকে টিভিতে দেখাচ্ছে। সাংবাদিক তার মুখের সামনে মাইক ধরে বলছে, কতদূর হলো ঈদের শপিং? বস হাসিহাসি মুখ করে বলছেন,এইতো! মাত্র ছেলের পাঞ্জাবী আমার স্যুট আর স্ত্রীর শাড়ি কেনা হয়েছে। এখনো সব‌ই বাকি।সাংবাদিক:কত টাকার শপিং হলো এ ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্যস্বাধীনতা-...
  • ফেসবুক সেলিব্রিটি
    দুইবার এস‌এসসি ফেইল আর ইন্টারে ইংরেজি আর আইসিটিতে পরপর তিনবার ফেইল করার পর আব্বু হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, "এই মেয়ে আমার চোখে মরে গেছে।" আত্নীয় স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী,বন্ধুবান্ধ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্য স্বাধীনতা-পূর্ব সরকারি লোকগণনা অনুযায়ী অসমের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাভাষী মানুষ ছিলেন বাঙালি। দেশভাগের পরেও অসমে ...
  • বিজেপি নির্বাচনে হারলেও অ-ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির মূলোচ্ছেদ হবে কি ?
    সে ছিল এক দিন আমাদের যৌবনে কলকাতা, যখন, শিক্ষিত ভদ্রজনের এক বড় অংশের মনের ভেতরে লুকোনো সাম্প্রদায়িকতা পোষা থাকত বটে, কিন্তু তাঁরা জানতেন যে সেটা খুব একটা গর্বের বস্তু নয় । সর্বসমক্ষে সে মনোভাব প্রকাশ করতে তাঁরা কিঞ্চিৎ অস্বস্তি বোধ করতেন । ভাল জামাকাপড় ...
  • হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান
    হিন্দি-হিন্দু-হিন্দু...
  • সিঙ্গেল মাদার
    "লাবণ্য! লাবণ্য!! লাবণ্য!!! আমি মা হতে চলেছি!"নীরা আপুর কথায় আঁতকে উঠলাম। নীরা আপু আমার ফুপাতো বোন।‌ এখনো বিয়ে হয়নি তার। সেই মেয়ে মা হতে চলেছে আর সেটা এত আনন্দের সাথে বলছে!আমি ভীতু গলায় বললাম, কি বলো এইসব তুমি! তোমার এখনো বিয়ে হয়নি আর তুমি এই আকাম ...
  • প্রেম নিয়ে দু’চারটি কথা
    কয়েকদিন আগে বন্ধুদের মধ্যে প্রেম নিয়ে এক আলোচনায় জন্ম নেয় এ লেখার বীজ। সেই আলোচনায় একটি কথা আমাকে ভাবায়, প্রেম্ মানে সমর্পণ। মনে পড়ে যায় বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের এক প্রেমপত্রের কথা – “...আমি বেশ কিছু ভালো জিনিস নিয়ে আসার চেষ্টা করব, যা কিছু সম্ভব আমার ...
  • রিয়েক্টর
    মাঝরাতে চিপস খেয়ে জানালা দিয়ে খালি প্যাকেট ফেলতে গিয়ে দেখি গাছতলায় এক ছায়ামূর্তি বসে বসে মাথার চুল ছিঁড়ছে।স্বাভাবিকভাব...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ব্যবসায়ীর ব‌উ

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

ভার্সিটি পড়ুয়া কাজিন শেলু আপার হঠাৎ করে বিয়ে হয়ে গেছে‌ এক বড়লোক ব্যবসায়ীর সাথে। শেলু আপা ব্যাপক পরিমাণে স্মার্ট একটা মেয়ে। স্টাইলিশ, সুন্দরী,চুল প্রায় কোমর ছুঁইছুঁই। ইন্টার পাশ করতেই না করতেই শখানেক লাভ লেটার ডাস্টবিনে ফেলা হয়ে গেছে। বাড়ির সামনে ছেলেদের লাইন। রোজ‌ই একটা না একটা বিয়ের প্রস্তাব আসে যেগুলো তিনি নিজেই রিজেক্ট করে দেন। তাহলে এতকিছু ছেড়ে পড়ালেখার মাঝখানেই এই ব্যবসায়ীকে বিয়ে করার মানে কি? কারণ জানতে ছুটে গেলাম।

যা জানলাম তা এখনকার জামানায় খুব স্বাভাবিক। ধনকুব ব্যবসায়ী আসগর আলী দুলাভাইয়ের প্রচুর টাকা। এত টাকা যা দিয়ে শেলু আপার মতো দশজনের বাপকে কিনে নিতে পারেন।

আসগর দুলাভাইকে দেখে টাসকি খেলাম। আমার খালু অর্থাৎ শেলু আপার বাবার থেকেও বেশী বয়সী দেখাচ্ছে। শেলু আপাকে এ কথা বলতেই কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, ওর ওতো বয়স না রে! ব্যবসার টেনশনে চুলগুলো জাস্ট‌ ঝরে যাচ্ছে।

আমি মনে মনে বললাম, ভুঁড়ি তো বানাইছে মাশাআল্লাহ! এইটা তো ব্যবসার টেনশনে কমে নাই!

মাসখানেক পর সেমিস্টার ব্রেকে শেলু আপার বাড়িতে গেলাম বেড়াতে। আমাকে দেখে আপা হা-হুতাশ করতে করতে ছুটে এসে কাঁদতে লাগলেন।

ঘন্টাখানেকের মধ্যে এতদিনের পুরো ফ্ল্যাশব্যাক আমার জানা হয়ে গেল। দুলাভাই অত্যন্ত রসকসহীন একজন ব্যক্তি। আপুর কোন স্বপ্ন,কোনো সাধ আহ্লাদ‌ই পূর্ণ হয়নি।

আপু কাঁদতে কাঁদতে বললেন, টাকাই সুখ নাইরে,টাকায় সুখ নাই।

আমি নিচু গলায় বললাম,সেটা আমি আগেই জানি যে টাকায় সুখ নাই।

ঘটনাটা এরকম, দুলাভাই প্রচন্ড রকম আনরোমান্টিক। যে সময়ে তার ব‌উকে নিয়ে হানিমুনে যাওয়ার কথা তার বদলে ব‌উকে নিয়ে গেছে জমি দেখাইতে। গ্রামের দিকে কোথায় কোথায় জমি কিনেছে,কি কি গাছ লাগিয়েছে,কোথা থেকে কেমন ফলন, কেমন ইনকাম সেসব দেখিয়ে ফেরত নিয়ে এসেছে।

আপা ফোঁপাতে ফোঁপাতে বললেন, জানিস বাসররাতে আমারে কি গিফট দিছে?

আমি অনুমান করার চেষ্টা করতে করতে বললাম, গোলাপ ফুল? কেক? আংটি?

আপা বারুদে আগুন লাগার মতো ফেটে পড়ে বললেন, না না না! কাতলা মাছ!

-এ্যাঁ! কাতলা মাছ! আমি কি ঠিক শুনছি?

:বাসর রাতে আমারে ইয়া বড় এক কাতলা মাছ এনে দিয়ে বলছে, এইটা আমার পুকুরের মাছ! ঝালঝাল করে রান্না করো।

ইভেন এখনো, এখনো আমি যখন রাগ করে থাকি তোর দুলাভাই আমার রাগ ভাঙ্গাতে বাজার থেকে বড় চিংড়ি,রুই,কাতলা,ইলিশ এসব নিয়ে আসে আমার রাগ ভাঙ্গাতে।‌ ঈদের পরে বললাম,চলো কোথাও ঘুরতে যাই। সে বললো,খামাখা ঘোরাঘুরির পেছনে টাকা নষ্ট করার কোনো ফায়দা নাই! নতুন ব্যবসায় ইনভেস্ট করা লাগবে।

এত দুঃখের মধ্যেও হাসি পেল আমার। কোনোমতে হাসি চেপে মুখে দুঃখি দুঃখি একটা ভাব ফুটিয়ে তুলে বললাম, তুমিতো দারুন লাকি আপা! একদম অন্যরকম!

আপা লাল চোখে তাকিয়ে র‌ইলেন। খানিকক্ষণ চুপচাপ থাকার পর আবার বলছেন, অন্তরের কথা মনে আছে তোর?

হ্যাঁ! অন্তর ভাইয়ের কথা আমার মনে আছে।‌ শেলু আপার জন্য পাগল ছিল বেচারা। একবার সুইসাইড করতে গিয়ে হসপিটালেও লটকায়ে পড়ে ছিল। শেলু আপার বাড়ির সামনে থেকে কখনো নড়তো না। একটার পর একটা লাভ লেটার লিখে ইট পেঁচিয়ে জানালা দিয়ে ছুড়ে মারত। এভাবে একবার খালার মাথায় ঢিল লেগে গেল। তারপর পুলিশ দিয়ে পিটানি খাওয়ানোর পর তার উপদ্রব একটু কমেছিলো বটে। কিন্তু শেলু আপার বিয়ের পর আমি তাকে কয়েকদিন রাস্তায় দেখেছি। গান্জা খেয়ে পড়ে থাকে আর বলে, মেয়েমানুষ বেইমান! মেয়েমানুষের জাত শালা!!

শেলু আপা নিজের মনে কথা বলছেন, কত ছেলে আমার জন্য পাগল ছিলো রে! অন্তর ছেলেটা কি না করেছে আমার জন্য! রায়হানকে রিজেক্ট করে দিয়েছিলাম সেই রাগে রাগে আজ সে বিসিএস ক্যাডার হয়ে গেছে! আর আমি কি না বিয়ে করলাম এমন এক লোককে যার কাছে সুখ মানেই বড়মাছ,মাংস,জমিজমা!

আমি বললাম,তুমিতো টাকা দেখেই বিয়ে করেছিলে!

আপা রাগী গলায় বললেন, তুই চুপ কর! কাঁটা ঘায়ে আর নুন ছিটাস না।‌

আমি নুন ছিটালাম না। নিজের মনে বাড়িঘর ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম।‌ এত বড়লোকের বাড়ি অথচ কোন বিলাসী আসবাবপত্র নাই,বাড়িটাও সেকেলে। এত টাকা দিয়ে দুলাভাই বেচারা করবেটা কি? শুনেছি সারাগায়ে সরিষার তেল মেখে ছাদে বসে থাকে, ঘুমের মধ্যে এমন নাক ডাকে যে আপা বেচারা ঘুমাতে না পেরে সারারাত গুঁতিয়ে গুঁতিয়ে ঘুম ভাঙ্গায়। আহারে বেচারী।

খাবার টেবিলে দুলাভাইয়ের সাথে দেখা হলো। কোন সামাজিক আলাপের ধার দিয়েও না গিয়ে তিনি সোজাসুজি প্রথম যে কথাটা বললেন তা হচ্ছে, তোমার ভাগ্যটা খুব ভালো।

আমি অবাক হয়ে বললাম,কেন?

-নদীর ফ্রেশ রুই মাছ পেয়েছি। একদম ফ্রেশ। টমেটো দিয়ে রান্না করছে, যা টেস্ট!

অনাগত খাদ্যদ্রব্যের কথা চিন্তা করতে করতেই দুলাভাই স্বপ্নসাগরে হাবুডুবু খেতে লাগলেন।

আমি গলা খাঁকারি দিয়ে বললাম, দুলাভাই! ব‌উ সামলে রাখেন, ব‌উ কিন্তু থাকবে না!

রুই মাছের স্বপ্নলোক থেকে দুলাভাই যেন ঠাস করে বাস্তবতায় ফিরে এলেন। চোখ মাথায় তুলে প্রশ্ন করলেন, কি বললে?

-সুন্দরী ব‌উ দুলাভাই! তারপর একটু কোথাও ঘুরতে নিয়ে যান না,সময় দেন না, দেন খালি রুইমাছ! এযুগের মেয়ে কি শুধু মাছে ভোলে?

দুলাভাই বোঝনদার স্টাইলে মাথা নাড়লেন।

আমি আবার কন্টিনিউ করলাম, আপনিতো জানেন না,এককালে কতো ছেলে আপার জন্য পাগল ছিল! আপনার অবস্থা দেখেন! চুল পড়ে গেছে, ভুঁড়ি বেরিয়ে গেছে।‌ টিপিকাল ব্যবসায়ীদের মতো আচার আচরণ! এরকমভাবে চলে এই যুগে অত সুন্দর ব‌উ মেইনটেইন করা সম্ভব? লোকে কি বলে!? বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা এমন কথা বলবে!


আমার লেকচারে কাজ হলো। দুলাভাই পরদিনই সেজেগুজে আপাকে নিয়ে ঘুরতে বের হলেন। শুনলাম খুব শিগগিরই দেশের বাইরেও যাবেন। আমি নিশ্চিত মনে বাড়ি চলে এলাম।

মাসখানেক আপার আইডিতে খুব আহ্লাদী আহ্লাদী সব কাপল পিক, বিভিন্ন জায়গায় চেক-ইনসহ লুতুপুতু স্টাটাস দেখলাম। আপার পিকে দুলাভাইয়ের কমেন্ট‌ও দেখলাম, ''মেরি জান!'' আমি ভাবলাম এতদিনে সব ঠিকঠাক।

তার কিছুদিন পর আবার আপার কোন খোঁজখবর নাই, অনলাইনে পাওয়া যায় না। একদিন খালা ফোন দিয়ে বললেন আপার শরীর ভালো না, সম্ভব হলে যেন দেখে আসি।

দেখতে গেলাম। আপার চেহারা নষ্ট হয়ে গেছে। শরীর দূর্বল, স্যালাইন চলছে।

আমি অবাক হয়ে বললাম,কি হয়েছে?

আপা হা-হুতাশ করে বললেন,তোর দুলাভাই বাজার করা বন্ধ করে দিছে।

-কেন?

:কি এক মেইনটেইনের ভুত চাপছে। আজ একমাস বাড়িতে কোন মাছ,মাংস কেনে না। সবজি খেয়ে খেয়ে থাকি। না খেয়ে মরে যাচ্ছি তাও সে মাছ কেনে না। মাছে নাকি প্রেম নষ্ট হয়। আবার সাজসজ্জা‌ও বেড়েছে তার! কলপ দিয়ে চুল করছে কালো, ভুঁড়ি কমানোর জন্য দুইবেলা জিমে যাচ্ছে! আমার মনে হয় তোর দুলাভাই নতুন প্রেম করছে রে!

আপার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নিজের মনে বলে উঠলাম, লে হালুয়া!

লেখা- জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

236 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: adam

Re: ব্যবসায়ীর ব‌উ

Everything is very open with a very clear explanation of the challenges
https://bestbuycapm.com/how-to-become-a-commercial-photographer/
Avatar: জাহাংগির আলম

Re: ব্যবসায়ীর ব‌উ

আপু খুব সুন্দর লেখা , তবে শেষের অংশ নাটকীয় হয়নি, মাছ মাংস না খেলে কেউ হাসপাতালগত হয় না,


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন