জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য RSS feed

Lilaboti Lbএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বাম-Boo অথবা জয়শ্রীরাম
    পর্ব ১: আমরাভণিতা করার বিশেষ সময় নেই আজ্ঞে। যা হওয়ার ছিল, হয়ে গেছে আর তারপর যা হওয়ার ছিল সেটাও শুরু হয়ে গেছে। কাজেই সোজা আসল কথায় ঢুকে যাওয়াই ভালো। ভোটের রেজাল্টের দিন সকালে একজন আমাকে বললো "আজ একটু সাবধানে থেকো"। আমি বললাম, "কেন? কেউ আমায় ক্যালাবে বলেছে ...
  • ঔদ্ধত্যের খতিয়ান
    সবাই বলছেন বাম ভোট রামে গেছে বলেই নাকি বিজেপির এত বাড়বাড়ন্ত। হবেও বা - আমি পলিটিক্স বুঝিনা একথাটা অন্ততঃ ২৩শে মের পরে বুঝেছি - যদিও এটা বুঝিনি যে যে বাম ভোট বামেদেরই ২ টোর বেশী আসন দিতে পারেনি, তারা "শিফট" করে রামেদের ১৮টা কিভাবে দিল। সে আর বুঝবও না হয়তো ...
  • ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনঃ আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর নেওয়া...
    ভারতের নির্বাচনে কে জিতল তা নিয়ে আমরা বাংলাদেশিরা খুব একটা মাথা না ঘামালেও পারি। আমাদের তেমন কিসছু আসে যায় না আসলে। মোদি সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক বেশ উষ্ণ, অন্য দিকে কংগ্রেস বহু পুরানা বন্ধু আমাদের। কাজেই আমাদের অত চিন্তা না করলেও সমস্যা নেই ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৪
    আম তেলবিয়ের পরে সবুজ রঙের একটা ট্রেনে করে ইন্দুবালা যখন শিয়ালদহ স্টেশনে নেমেছিলেন তখন তাঁর কাছে ইন্ডিয়া দেশটা নতুন। খুলনার কলাপোতা গ্রামের বাড়ির উঠোনে নিভু নিভু আঁচের সামনে ঠাম্মা, বাবার কাছে শোনা গল্পের সাথে তার ঢের অমিল। এতো বড় স্টেশন আগে কোনদিন দেখেননি ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-৯
    আমি যে গান গেয়েছিলেম, মনে রেখো…। '.... আমাদের সময়কার কথা আলাদা। তখন কে ছিলো? ঐ তো গুণে গুণে চারজন। জর্জ, কণিকা, হেমন্ত, আমি। কম্পিটিশনের কোনও প্রশ্নই নেই। ' (একটি সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা মিত্র) https://www.youtube....
  • ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্প
    ডক্টর্স ডাইলেমা : হোসেন আলির গল্পবিষাণ বসুচলতি শতকের প্রথম দশকের মাঝামাঝি। তখন মেডিকেল কলেজে। ছাত্র, অর্থাৎ পিজিটি, মানে পোস্ট-গ্র‍্যাজুয়েট ট্রেনি। ক্যানসারের চিকিৎসা বিষয়ে কিছুটা জানাচেনার চেষ্টা করছি। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, এইসব। সেই সময়ে যাঁদের ...
  • ঈদ শপিং
    টিভিটা অন করতেই দেখি অফিসের বসকে টিভিতে দেখাচ্ছে। সাংবাদিক তার মুখের সামনে মাইক ধরে বলছে, কতদূর হলো ঈদের শপিং? বস হাসিহাসি মুখ করে বলছেন,এইতো! মাত্র ছেলের পাঞ্জাবী আমার স্যুট আর স্ত্রীর শাড়ি কেনা হয়েছে। এখনো সব‌ই বাকি।সাংবাদিক:কত টাকার শপিং হলো এ ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্যস্বাধীনতা-...
  • ফেসবুক সেলিব্রিটি
    দুইবার এস‌এসসি ফেইল আর ইন্টারে ইংরেজি আর আইসিটিতে পরপর তিনবার ফেইল করার পর আব্বু হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন, "এই মেয়ে আমার চোখে মরে গেছে।" আত্নীয় স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী,বন্ধুবান্ধ...
  • বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
    ‘কেন? আমরা ভাষাটা, হেসে ছেড়ে দেবো?যে ভাষা চাপাবে, চাপে শিখে নেবো?আমি কি ময়না?যে ভাষা শেখাবে শিখে শোভা হবো পিঞ্জরের?’ — করুণারঞ্জন ভট্টাচার্য স্বাধীনতা-পূর্ব সরকারি লোকগণনা অনুযায়ী অসমের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাভাষী মানুষ ছিলেন বাঙালি। দেশভাগের পরেও অসমে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সাইকো

জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

কয়েকদিন ধরে আমি প্রচন্ড আতঙ্কে আছি। ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারি না।‌ সারাটা দিন অদ্ভুত এক অনুভূতি কাজ করে নিজের মধ্যে। কেন‌ জানিনা আমার মন বলছে আমার বর আমাকে খুন করবে। এটা মনে হ‌ওয়ার পেছনে কোনো যুক্তি নাই। আমার বর খুব ভালো একজন মানুষ।‌ নরম-সরম,কখনো‌ কোনো কিছুই আগেপরে নাই। কিন্তু এরকম নরম সরম মানুষগুলোই ভেতরে ভেতরে মিনমিনে শয়তান হয়। এটা আমার কথা না,ব‌ইয়ে পড়েছি।

সমস্যা হচ্ছে আমার। সেমিস্টার ব্রেক চলছে,এখন পড়াশোনা নাই। এজন্য কয়দিন ধরেই পরপর কয়েকটা ক্রাইম পেট্রোল, সাবধান ইন্ডিয়ার এপিসোড দেখেছি। তারপর কয়েকটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ও পড়লাম। সব কয়টার কাহিনীতেই সাইকো স্বামী কিভাবে ভালোবাসার অভিনয় করতে করতে স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার বিশদ বর্ণনা। হত্যার পেছনে তেমন কোনো মোটিভ নেই। হয়তো স্ত্রী বেশী সুন্দরী,এত বেশী সুন্দর তার স্বামীর সহ্য হয় না,ভয় হয় যদি তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়,ভয়ের কারণেই খুন।‌ সাইকোদের কাজকর্ম এমন‌ই হয়।
এছাড়াও নিত্যদিন পত্রিকা খুললে, সোসিয়াল ওয়েবসাইটে আসলে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের খবর দেখতে দেখতে আমার মনের ভেতর ভয়াবহ এক আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে।

একবার মনে করেছিলাম বাপের বাড়ি চলে যাই। কিন্তু সেখানে গেলেও তো তারা কারণ জিজ্ঞাসা করবে,কি হয়েছে আমি বলতে পারবো না।

এই অবস্থায় যখন শুনলাম অফিসের কাজে আমার বর সাতদিনের জন্য সুইজারল্যান্ড যাচ্ছে, মনের ভেতরে অদ্ভুত একটা স্বস্তি কাজ করতে শুরু করলো।

সে আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, আমার স্বস্তিবোধ তার চোখ এড়ায়নি। অথচ অন্যসময় সে কোথাও যাওয়ার কথা তুললে আমি অস্থির হয়ে যেতাম তাকে ছাড়া কিভাবে থাকব সেটা ভেবে।

সে আমাকে আর কিছুই বললো না। চুপচাপ ব্যাগপত্র গুছিয়ে পরদিন ভোরবেলা র‌ওনা হয়ে গেল।

এই সাতদিন আমি অনেক শান্তিতে কাটালাম। যত‌ই সে আসার দিন এগিয়ে আসতে লাগল,আমার অস্থিরতা তত বাড়তে লাগল। না আসলে কি হয়? এমন যদি কিছু হতো যে সে আর না আসতে পারতো তাহলে কতো ভালোই না হতো!

এই সাতদিনে আমি আরো অনেক কাজ করেছি। ছুরি,ব্লেড,দড়ি,তার,পেট্রোল ইত্যাদি জিনিসগুলো লুকিয়ে ফেলেছি।‌বিছানার বালিশ‌ও লুকিয়ে ফেলেছি।গ্যাস বদলে ইলেকট্রনিক চুলা নিয়ে এসেছি। মোটকথা যা যা দিয়ে মানুষ খুন করা যায় তার সব‌ই আমি লুকিয়ে রেখেছি। সে যদি আমাকে খুন‌ও করতে চায় তবুও কমন উপায়গুলো কিছুই তার হাতের কাছে রাখিনি। বালিশ দিয়ে মুখে চাপা দিয়ে ধরতে পারবে না,তার বা দড়ি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরতে পারবে না,গ্যাস ছেড়ে রেখে বা পেট্রোল গায়ে ধরিয়ে আগুন‌ দিয়ে দিতে পারবে না। ইলেকট্রিক জিনিসগুলোর কাছে আমি যাবো না। শর্টসার্কিট করিয়েও আমাকে সে মারতে পারবে না। ছাদ থেকে ফেলতে পারবে না, আমাদের একতালা বাড়ি।

দুপুরের খাওয়া শেষে ব‌ই পড়তে পড়তে অবেলায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙ্গলো দরজার শব্দে। সে এসে অনেকক্ষন ধরেই বোধহয় দরজা ধাক্কাচ্ছে। ফোনে পনেরোটা মিসডকল, সাইলেন্ট মুডে ছিলো বলে টের পাইনি।

আমার ইচ্ছা করছে দরজা না খুলি। কিন্তু সে উপায় নেই। অনিচ্ছার সাথে গিয়ে দরজা খুলে দিলাম। সে বিরক্ত হয়ে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললো,থাকো ক‌ই? কখন থেকে দরজা ধাক্কাধাক্কি করছি, সারাদিন এত জার্নির পরে এতক্ষন ধরে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগে?

আমি জবাব দিলাম না। সে ব্যাগ রেখে চেন্জ করে বাথরুমে ঢুকলো। আমি তারজন্য খাবার গরম করছি। একপর্যায়ে মনে হলো,এই যন্ত্রনা যদি আমি শেষ করে দিই কেমন হয়? সে আমাকে মারার আগেই আমি তাকে মেরে দিতে পারি। এই যে খাবার গরম করছি, ঘরে ইঁদুর মারা বিষ আছে, সামান্য একটু ঢেলে দিলেই.....

চিন্তায় ছেদ পড়লো। সে খাবার টেবিলে এসে বসেছে। আমি খাবার বেড়ে দিয়ে সামনে বসলাম।

সে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো, কি হয়েছে তোমার?

আমি সহজ হ‌ওয়ার চেষ্টা করতে করতে বললাম,ক‌ই! কিছুই হয়নাই!

-কোনো সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছো?

:নাতো! ভালো আছি আমি।

সে আর কোনো কথা না বলে খাওয়া শেষ করে রেস্ট নেয়ার জন্য বিছানার দিকে গিয়ে অবাক হয়ে বললো,বালিশ ক‌ই?

আমি ইতস্তত ভঙ্গিতে জবাব দিলাম,বালিশ ফেলে দিয়েছি।

সে অবাক হয়ে বললো,কেন?

আমি বললাম, একটা ম্যাগাজিনে পড়েছি,বালিশে শোয়া ভালো না, সরাসরি বিছানায় মাথা দিয়ে ঘুমানো ভালো।

-পাগল হলে নাকি তুমি? বালিশ নিয়ে আসো যাও!

আমি অনিচ্ছার সাথে আলমারিতে তুলে রাখা বালিশ বের করলাম। তার হাতে দিয়েই ছুটে বের হয়ে এলাম।

রাতে আমি অন্যরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়েছি। সে দরজায় ধাক্কা দিয়ে বললো, কি হয়েছে?

আমি এপাশ থেকে বললাম,ঐ ঘরে আমার গরম লাগছে, এই ঘরের জানালা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ভালো আসে। তুমি শুয়ে পড়ো।

নাহ এভাবে চলা যায় না। আমাকে একটা কিছু করতেই হবে।

মধ্যরাতে সে যখন গভীর ঘুমে আমি আলমারি থেকে আরেকটা বালিশ বের করে পা টিপে টিপে তার ঘরে ঢুকে তার মুখে চেপে ধরতে যাবো তার আগেই সে আমার হাত ধরে ফেললো।

গত একমাস ধরে আমার ট্রিটমেন্ট চলছে আমেরিকার এক নামকরা সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে। প্রথম প্রথম আমার মনে হচ্ছিলো এটাও হয়তো আমার স্বামীর‌ই কোনো পরিকল্পনা। সে আমাকে দুনিয়ার চোখে পাগল প্রমাণ করতে চায়। কিন্তু ধীরে ধীরে এখন আমি কিছুটা বুঝতে পারছি, আমার পড়া সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারগুলোর মতোই সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম আমার নিজের‌ মধ্যেই একটু একটু করে বেড়ে উঠছিলো। কিন্তু আমি সন্দেহ করছিলাম আমার সুস্থ স্বাভাবিক স্বামীকে।

লেখা- জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য

147 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন