ফরিদা RSS feed

পাঁচকথা সাতকান করতে করতে উনিশ-বিশ যা হয় তারই সাত-সতের কথা। এর একচুল বেশিও না, কমও না।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শিরোনামহীন
    তত্কালে লোকে বিজ্ঞাপন বলিতে বুঝাইতো সংবাদপত্রের ভেতরের পাতায় শ্রেণীবদ্ধ সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞাপন, এক কলাম এক ইঞ্চি, সাদা-কালো খোপে ৫০ শব্দে লিখিত-- পাত্র-পাত্রী, বাড়িভাড়া, ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, চলিতেছে (ঢাকাই ছবি), আসিতেছে (ঢাকাই ছবি), থিয়েটার (মঞ্চ ...
  • Take love
    জন্মদিনে সবার আগে যেটা হয় সেটা হচ্ছে টাইমলাইন আর ইনবক্স জুড়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছাগুলোর জবাব দিতে দিতে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। রিপ্লাই দিতে দিতে একপর্যায়ে নিজেকে মানসিক রোগী মনে হতে থাকে।যাইহোক,সবাই ভালোবেসে শুভেচ্ছা জানায় জবাব না দেয়াটাও বেয়াদবি ভেবে ...
  • রাতের ঢাকা শহর
    ঢাকা শহরের নানা সমস্যা। দুই একদিন আগে দেখলাম সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিয়ায় ওপরের দিকে নাম ঢাকা শহরের। যারা ঢাকা শহরে থাকে বা থেকেছে তারা জানে নাগরিক জীবনের নানা সমস্যা আষ্টেপিষ্টে জরিয়ে আছে। বাতাস শুধু দূষিত না এ শহরের, আরও কত কী যে দূষিত তার কোন হিসেব নেই। ...
  • মাইনাস তিন ডিগ্রি
    মাইনাস তিন ডিগ্রি ▶️প্রতি সন্ধ্যায় শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় থেকে মাত্র কয়েক ফার্লং দূরে যশোর রোডের ডানদিকে দেড়তলা বাড়িটা অন্ধকারেই থাকে। রাত ন'টা নাগাদ পুট করে গেটের আলোটা জ্বলে ওঠে। কোলাপসিবল গেটে চাবি তালার খুট খুট ধাতব শব্দ। সিঁড়ির আলো জ্বলে। ডাইনিং ...
  • যে হাতে জ্বলেছিল আলোর শিখা - ডঃ বিভা চৌধুরী
    বিভা চৌধুরীকে নিয়ে আমার আগ্রহ অনেক দিনের। আগ্রহের সুচনা কেন্দ্র অবশ্যই তাঁর বিজ্ঞানচর্চা । বৈজ্ঞানিককে তার বিজ্ঞান ছাড়া ধরা যায় না। তবে তিনি যখন বিজ্ঞান সাধনায় নামেন , তখন সে জগত এক অবিচ্ছিন্ন জ্ঞানের জগত, আমার বিজ্ঞানের যে সীমিত জ্ঞান তাই দিয়ে তাঁকে আবছা ...
  • পৌরাণিক ঘরওয়াপ্‌সি ও হরে দরে কশ্যপ গোত্র
    পৌরাণিক ঘরওয়াপ্‌সি ও হরে দরে কশ্যপ গোত্র সৌরভ মিত্র ধরা যাক, অতি খাজা একখানা প্রবন্ধ পড়তে পড়তে মুখ থেকে অজান্তেই একটি শব্দ বেরিয়ে এল, -‘জঘন্য’। বেজায় সমস্যা এই তৎসম শব্দটিকে নিয়ে। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কিনা ‘জঘনভব’ বা ‘জঘনতুল্য’ [জঘন + য (যৎ)]। কিন্তু, সেই ...
  • শুভায়ু শুক্রবার
    প্রতিভা সরকারদিল্লীর রাজপথে শিরদাঁড়া সোজা করে বসে আছে একদল বাচ্চা ছেলেমেয়ে। স্কুলে না গিয়ে তারা এইখানে। হাতে প্ল্যাকার্ড "স্কুলে যাইনি, বড়দের শেখাব বলে"। ব্যাঙালুরুতে কিশোররা গম্ভীর মুখ। হাতে লেখা "পিতৃতন্ত্র নয়, প্ল্যানেট বাঁচাও"। বার্লিনে বাচ্চারা ...
  • নারীদের শ্রম-জীবন
    লোপামুদ্রা সরকারভদ্রলোক ব্যস্ত মানুষ। উচ্চপদস্থ। তাঁকে প্ল্যান্টে নিয়ে যেতে কোয়ার্টারের সামনে গাড়ি আসে। তিনি সকালে উঠে, চা খেয়ে, কিঞ্চিৎ স্বাস্থ্যচর্চা করে, ব্রেকফাস্ট সেরে, পোশাক পরিচ্ছদ পরে তৈরি হয়ে প্ল্যান্টের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন। এই সময় তাঁর হাতে ...
  • মেয়েবেলা
    ইন্দ-রানীএকটি অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে কঠোর পুরুষতান্ত্রিক পরিকাঠামোয়, হাজার নিয়ম ও বাধা নিষেধের বেড়ার ভেতর যেমন মেয়েবেলা কাটতে পারে, তেমনি ছিল মেয়েটির ছোটবেলা। মেয়েবেলার কথা ভাবতে বসলে সত্যি বলতে তেমন আনন্দের কোন উপাখ্যান অথবা সুখস্মৃতি তার মনে ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৯)
    কাং ইয়াৎজে বেসক্যাম্প (০৯.০৯.২০১৮) ____________________...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অসভ্যতার লাইসেন্স

ফরিদা

কোনটা ভাল কোনটা খারাপ - এই বোধ ব্যাক্তিবিশেষে আলাদা। মানুষ শুরুতে বাড়ির বড়দের থেকে শিখেছে, পরে ইস্কুল কলেজ পাড়ায় খেলতে গিয়ে বা পড়াশোনা করার সময়ে তার ধারণা কিছুটা বদলে গেল, অনেক নতুন পরিস্থিতি এল তারও ভাল-মন্দ সম্পর্কে ধারণা হল। আবার, ছাত্রাবস্থার শেষ ও পরবর্তী কাজের জায়গার শুরুর দিকে তারও বদল হয় বটে, কলেজ - বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখার ব্যাপ্তি ইস্কুলের চেয়ে স্বাভাবিক ভাবেও বড়, কিন্তু আদত মূল ব্যাপারটার খুব একটা পরিবর্তন হয় না।

এই মূল ভাল-মন্দের ধারণা, যা খানিকটা মূল্যবোধ বলব বা ইংরাজিতে “ভ্যালু সিস্টেম” — তার একটা আমূল পরিবর্তন খেয়াল করেছি গত দশ-বারো বছরে।

এই বদলের অঙ্কুরোদগম অনেক আগে থেকেই হয়েছিল। তার কারণ, প্রেক্ষিত অনেকটাই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক। কিন্তু তার থেকে বেড়ে ওঠা গাছটির বাড়বাড়ন্তের প্রভাব এই দশ-বারো বছরে সর্বাধিক।

আমরা জানি, এই বিভিন্নতার মধ্যেও কয়েকটি প্রাথমিক ভাল-মন্দ বোধ সমস্ত মানব জাতির মধ্যে মোটামুটি এক। মিথ্যে কথা বলা ঠিক নয়। মানুষকে ঘৃণা করা উচিৎ নয়। মানুষের লিঙ্গ, জাতি, ধর্ম, বিশ্বাস, প্রতিবন্ধকতা বা চেহারার বৈশিষ্ট্য নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়। এইগুলো একই।

আমরা জানতাম “ওই ব্যাটারা বড় বাড় বেড়েছে” বলে এক বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মত পোষণ করা বাড়ির এক বয়স্ক সদস্যকে বাড়ির অন্যরাই একটু চেপেচুপে থাকতে বলতেন বাড়িতে অনুষ্ঠান হেতু আত্মীয় -কুটুমের সমাগম হলে। “ওবেলা বাড়িতে লোকজন আসবে, দেখ, তুমি যেন হুটহাট লুঙ্গি পরে খালি গায়ে বেরিও না ওদের সামনে” - সুরটা এইরকমই থাকত।

অর্থাৎ, আমরা জানতাম বাইরের লোকের সামনে লুঙ্গি পরে খালি গায়ে বেরিয়ে পড়াটা শোভন নয়। শোভন নয় কোনও বিশেষ ধর্ম, সম্প্রদায়, লিঙ্গ, বিশ্বাস, গায়ের রঙ, প্রতিবন্ধকতা, চরিত্র বা চেহারার বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করে মন্তব্য। এই কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের নিরিখে মানুষের যোগ্যতা নির্ধারণ করা ঠিক নয়। উচিৎ নয়।

আর এই গত দশ- বারো বছর ধরে দেখছি ঠিক এই ধরণের কথাবার্তা খবরের কাগজে, টিভিতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেয়ে রয়েছে। সাম্প্রদায়িক অসূয়া ও বিপক্ষের প্রতি ঘৃণাবর্ষণ একটা সীমার নিচে না গেলে যেন তা গণমাধ্যমে প্রকাশের যোগ্যতা পায় না - এ ধারণা কেউ পোষণ করলে তার খুব একটা দোষ দেখি না। নিজের দল বা দেশ কে সমর্থন করতে গেলে যে প্রতিপক্ষের প্রতি ঘৃণা দেখান যে আবশ্যকীয় — তাও জানা ছিল না। জানা ছিল না নির্লজ্জ মিথ্যাচার ধরা পড়ে গেলে অন্য মিথ্যার আশ্রয়ে অনায়াসে পার পাওয়া যায়। এই দেশের বর্তমান প্রধাণমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই ব্যাপারে নিজস্ব স্বকীয়তা দেখিয়েছেন।

কিন্তু মুশকিল হল যে এই প্রবণতা মানব-সমাজের ভিত নাড়িয়ে দেয়। প্রধাণমন্ত্রী বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আলপটকা অসংস্কৃত মন্তব্যের জের এবং জোর দুইই প্রবল। প্রথমত, যেহেতু তাঁরা জনসমর্থনে জিতে এসে দেশ ও রাজ্য চালানর কাজ পেয়েছেন, কাজেই তাদের করা মন্তব্যগুলি এক ধরণের সাফল্য-রসায়ন বলে সাধারণ জনমানসে অনুদিত হয়। দ্বিতীয়ত, এই মন্তব্যগুলি একটা লাইসেন্স পেয়ে যায় জনসমক্ষে সোচ্চারে বলার।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধাণমন্ত্রী বললেও - কথাগুলো তো আর ঠিক নয়। এতদিনকার সমাজবদ্ধ জীব বলে স্বীকৃত মানুষের প্রাথমিক ভাল-মন্দের জ্ঞান এত চটজলদি আমূল বদলে যায় না। এটা কেউ বা কয়েকজন ব্যবহার করতে শুরু করে সাধারণ লোকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছেন। হয়ত এই কারণে বা অন্য কারণেই ভোটে জিতে দেশ বা রাজ্য চালানর ক্ষমতা পেয়েছেন বলেই তো সে সব কিছু রাতারাতি মিথ্যে হয়ে যেতে পারে না। যারা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এই মুল্যবোধ - হত্যার খেলায় নামলেন তারা এই চালাকি দিয়ে পাঁচ, দশ বা পনের বছরের বেশি টিকবেন না। টিকে গেলেও এদের কার্যকলাপ “অসভ্যতা”ই থাকবে। কিন্তু এর ফলে সমাজের একটা বড় অংশ শিখছে বা শিখে গেল যে এই ধরণের মন্তব্য লোকসমক্ষে এমনকী গণমাধ্যমে সহজেই বলা যায়।

আগের উদাহরণের বাড়ির সেই বয়স্ক সদস্যটি আজকের দিনে যদি অন্তর্বাস পরেই বাইরের আত্মীয়-কুটুমের সামনে আসতে চান, তাকে ঠেকান বেশ কঠিন হবে। আজকের শাসক যাঁরা আগামী দশ বছরের মধ্যে তাদের ধারণা সহ আস্তাকুঁড়ে যাবেন, তা নিয়ে সন্দেহ করি না, কিন্তু যে ক্ষতিটা তাঁরা করে দিয়ে গেলেন তাতে একজন নাগরিক হিসেবে সামনে অনেক লজ্জার দিন আসছে তাতে খারাপই লাগে। সময় লাগবে এই দেশের মানুষকে আবার সেই প্রাথমিক পাঠ থেকে শেখাতে।


958 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 26 -- 45
Avatar: মানিক

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

গুন্ডা কন্ট্রোল, আরাবুলের শিক্ষিকাকে জগ ছুঁড়ে মারা হল ছোট্ট ঘটনা।

আরো কত সদাচরণের মনিমুক্তো মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে আছে।
Avatar: sm

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

এই তো লিংক এসে গেছে। এবার প্রতিতুলনা করে বলে ফেলুন, কার কমেন্ট বেশি খারাপ।ওই পার্টির মধ্যে ফালতু ক্রিটিসিজম কে ধর্তব্যের মধ্যে আনি না।
Avatar: PT

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

বিধানসভা লন্ডভন্ড করা ধর্তব্যের মধ্যে আসে? নক্শালরাও কোনদিন একটা ঢিল ছোঁড়েনি "শুওরের খোঁয়ারের" দিকে!!
Avatar: dc

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

পিটিদা ঠিকই বলেছেন। সিপিএম বিধায়করা যেভাবে কেরল বিধানসভা লন্ডভন্ড করেছিল ২০১৫ তে, সেটা খুব খারাপ। চেয়ার ছোঁড়া থেকে মাইক ভাঙা, কিছু বাদ যায়নি।

https://www.hindustantimes.com/india/kerala-assembly-ugly-clashes-mar-
budget-speech-9-mlas-injured/story-AnfjFh0ctJmHrsJggPuOvN.html

Avatar: sm

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

কেরল বিধান সভা হলো নিপাতনে সিদ্ধ।ওসব হিসাবে আসে না। কিন্তু বিরোধী নেত্রীকে চুলের মুঠি ধরে টানা ও মাথায় লাঠির বাড়ি মারা,এগুলো কি রকম আচরণ হিসাবে দেখা যাবে?
Avatar: sm

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

বানতলা রেপ প্রসঙ্গে জ্যোতি বাবুর উক্তি--
https://m.timesofindia.com/city/kolkata/Social-conditioning-to-blame-f
or-insensitive-comments/articleshow/7524804.cms

Avatar: মানিক

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

চুলের মুঠি ধরে কে টেনেছিল?
Avatar: মানিক

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

Avatar: PT

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

পিটিদা সব সময়েই ঠিক বলে। কিন্তু একটা খারাপ ঘটনার নিন্দে না করে আগের সমতুল্য খারাপ ঘটনার উল্লেখ করার ট্র্যাডিশন্তা বন্ধ হোক। কেরলের ঘটনার নিন্দে তো আলাদা ভাবে করাই যায়!!
Avatar: মানিক

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

Avatar: sm

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

এটাই লিখেছিলাম। এই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে। আপনার কথার সূত্র ধরে বলি,এই কালচার বন্ধ হোক।ঠিক যেমন পব থেকে স্ট্রাইক, হরতাল বন্ধ হয়েছে। কিন্তু প্রবন্ধে তো খালি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আর পি এম এর কথাই বেশি জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই, এতো ভনিতার আয়োজন।হোলিয়ার দ্যান দাউ--অনেকে চেষ্টা চালাচ্ছে বটে।
Avatar: মানিক

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

Avatar: মানিক

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

Avatar: PT

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

"কিন্তু প্রবন্ধে তো খালি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আর পি এম এর কথাই বেশি জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।"
কারণ একমাত্র তারাই তো বর্তমানের রাজনৈতিক আবহাওয়াকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারে। তারাই তো দাবি করেছিল যে তারা ক্ষমতায় এলে কংগ্রেস বা বামেদের চাইতে পরিচ্ছন্নতর শাসন ব্যব্স্থা চালু করবে। সেটা তারা করতে পারেনি বলে অনিল বসু বা কেরালার ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিতে হবে কেন?


Avatar: ফরিদা

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

কার "অসভ্যতা" কার থেকে বেশি তা কিন্তু আলোচ্য ছিল না। বাহুল্য বোধ হলেও এটা বলতে হ'ল। আমরা ছোটবেলায় বাইরে বা বাড়িতে কোনও খারাপ কাজ করে ফেললে বকুনি খেয়েছি, মাত্রা ছাড়ালে মারও। সেটা ভাল না খারাপ সে তর্কে না গিয়ে মাঝবয়সে এসে বুঝি এখন চেষ্টা করলেও মাত্রা ছাড়াতে পারব না। ওই বকুনিগুলো বাধা দিয়েছিল ওই ধরণের কাজ না করতে।

ঠিক এই জায়গাটা নিয়েই বলতে চেয়েছিলাম এখন এই "অসভ্যতা" কে আড়াল করার চেষ্টা তো দেখছিই না বরং তার প্রকাশ অনেক সোচ্চার। ভয় ঠিক এই জায়গায়।

'sm' এর 10.05 এর পোস্ট, যেখানে লিখলেন "পার্টির মধ্যে ফালতু ক্রিটিসিজম কে ধর্তব্যের মধ্যে আনি না।" — ঠিক ওইটারই খুব অভাববোধ করি।

আরও মনে হয়, আমরা যখন যেখানে থাকি না কেন, আমাদের সঙ্গে একটা অদৃশ্য বিরাট লাগেজ থাকে - সেই লাগেজ আমাদের ১) বাবা-মা সহ পরিবার, ২) আমাদের ভাষাগোষ্ঠী, ৩) আমাদের কাজ ও স্কুল কলেজ, ৪) আমাদের শহর, ৪) ভিন রাজ্য বা ভিন দেশে বসবাস করলে আমাদের যথাক্রমে আমাদের নিজের রাজ্য ও দেশ।

আমাদের ব্যবহার, আচরণ যদি প্রাথমিক ভাল-মন্দ বোধের থেকে খারাপ হয়, তাহলে নিন্দার্হ হয় ওপরের সব কয়টি অংশীদার। এখন কারোর খারাপ আচরণ যদি অভ্যন্তরীণ বকুনি বা "ক্রিটিসিজম" দিয়ে রোধ করা যায় তাহলে তাকে আর অন্তত বাইরের লোকের গালাগাল খেতে হয় না। "দেশ ও দশের" মঙ্গল হয়।


সেটা হচ্ছে না। বর্তমান দেশ ও রাজ্যের শাসক তা চাইছেন না। আর যাঁরা এর অন্য মানে বা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি করুণা ছাড়া আর কিছু হয় না। পছন্দ অপছন্দ যার যার নিজের, কিন্তু বিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে সমর্থনের প্রশ্নে চোখ খোলা রাখতে পারি বলে।

ভাল থাকুন সবাই।
Avatar: sm

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

এই প্রবন্ধ যদি নীতি শিক্ষা মূলক হয় ,তাহলে বলবো, এই নীতি শিক্ষা এখানে প্রত্যেকে প্রচুর পরিমানে পেয়েছে। বিশেষ দরকার নেই।
যদি রাজনৈতিক সমালোচনা উদ্দেশ্য হয়, তবে বলবো,বেশ একপেশে।খালি বর্তমান সি এম আর পি এম এর নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেন আর কোন পার্টি বা নেতা বা মন্ত্রীরা এসব অশালীন আচার আচরণ করে বেড়াচ্ছে না।
আমার বক্তব্য ছিল একটাই এই ট্র্যাডিশন আবহমান কাল ধরে চলে আসছে। নতুন কিছু নয়। এটা কিন্তু কোন জাস্টিফিকেশন নয়।
যদি হ্যান্ড ফুল নেতা, নেত্রী বিশেষ ভাবে সমালোচিত হয় খালি,তাহলে রাজনৈতিক সমাজ যে গরলে পরিপূর্ণ,সেটা দেখিয়ে দেওয়া দায়িত্ব বলে মনে করি।
ঠিক যেমন অভিনন্দন কে ফেরানোর পর ইমরান তথা পাকিস্তান কত ভালো বলে বন্দনা হচ্ছিল,তখন ও উল্টোদিকের খারাপ কাজের নমুনা তুলে ধরার প্রয়াস করেছি।
সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করি।ভালো থাকবেন।
Avatar: Ekak

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

এটা তো ঘটনা । অনেকদিন ধরেই ইতরামোর লেজিটিমেসি তৈরী হচ্চে । পাওয়ার চেঞ্জ হলেও মূল ব্যাপারটায় কোনো পরিবর্তন আসবে না । দামড়া শিক্ষিত লোকজন গলার শির ফুলিয়ে চেঁচাচ্ছে : ওরা করতে পারলে আমরা করবোনা কেন ?

কোনো পাওয়ার স্ট্রাকচারের পরিবর্তনে এ জিনিস শুধরোবে না কারণ কেও কোনো অন্যায় কাজের শাস্তি চাইছে বলে উদ্বিগ্ন এমন তো নয় । যে, ন্যায়বিচার এলো আর চিত্র বদলে গ্যালো । ন্যায় -অন্যায় এর বাইরে গিয়ে , ইতরামি করার লেজিটিমেসি চাইছে জনতা । হরমোন চেগেছে । বড় কোনো ক্যাটাস্ট্রফ ছাড়া এই গ্রাফ আপাতত উর্দ্ধগামী থাকবে ।
Avatar: sm

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

লাও,এ যুগের নব কুমার!তুমি অধম হইলেও আমি উত্তম না হইবো---😊😊
Avatar: lcm

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

একক মোটামুটি ধরেছে - রোগটা গভীরে।
একটা আর্টিকল পড়ছিলাম, এই সপ্তাহে বেরিয়েছে,

What Is the True Cost of Polarization in America?

আমেরিকা-র জায়গায় ইন্ডিয়া দিয়ে রিপ্লেস করে দিলে মিলে যায় অনেক কিছুই, তো, এতে ১৪ টা পয়েন্ট আউটলাইন করেছে, যে কি হচ্ছে ---

(1) We’re segregated in our own communities.

Americans are increasingly segregating themselves by political party and ideology even in their residential communities. This segregation makes us more likely to demonize each other, as more and more people live alongside people who hold similar political beliefs to them...

(2) Our political culture is more and more antagonistic.

Our political campaigns have become increasingly negative, focused more on tearing down our opponents than building up support for our own ideas...

(3) We judge and loathe members of other political parties

While political disagreement is normal in a democracy, personally demonizing our opponents is not...

(4) Our families are being undermined.

A recent study found that Thanksgiving dinners were significantly shorter in areas where Americans share meals across party lines.

(5) We’re less likely to help each other out.

... it’s bad for everyone’s well-being when the rich don’t have contact with the poor, or the poor with the middle class...

(6) Our physical health is probably suffering.

...studies find that individuals who harbor racial prejudices and fears experience elevated levels of stress and other physiological responses that, over time, can wear down their muscles and damage their immune systems. When racial antagonism goes up, everyone suffers...

(7) We’re more and more stressed out.

... an increasing number of Americans now say it’s “stressful and frustrating” to talk about politics with people they disagree with...

(8) We feel pressure to conform in our groups.

Polarization doesn’t just manifest as intergroup conflict. It also changes the dynamics within groups, as members feel more pressure to conform in their beliefs and actions, which makes internal dissent and diversity less likely....

(9) Deception is more likely.

Lying is often condemned when committed inside a group—but people tend to see deception as valid when in conflict with another group. These kinds of lies are called “blue lies” by researchers.

(10) Gridlock is damaging our government institutions.

... routine judicial appointments are subjects of controversy ...

(11) Our pocketbooks are hurting.

... government shutdowns are costly...

(12) We’re losing trust in key institutions.

...Some people are losing faith in institutions that were once trusted by a broad swath of the American public....

(13) It’s hard for us to solve problems even when we do agree.

... On issue after issue, Americans are closer than they appear, but our polarization prevents us from seeing that...

(14) Violence is more likely.

In polarized situations, we stop seeing people in competing groups as human beings—and that is very dangerous.


https://greatergood.berkeley.edu/article/item/what_is_the_true_cost_of
_polarization_in_america


Avatar: দ

Re: অসভ্যতার লাইসেন্স

এইটাই উপযুক্ত জায়গা এই লোফারগিরি টুকে রাখার জন্য। সর্বোচ্চস্তরের অসভ্যতার এক অন্যতম নিদর্শন এটা

নন্দিনী মুখার্জীকে উদ্দেশ্য করে ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য টিপিক্যাল লোফার লাফাঙ্গাজনোচিত। নন্দিনি বলেছেন দেখলাম রাস্তায় ঘাটে ঈভ টিজাররা এই গান ব্যবহার করত একসময়। শুধু রাস্তাঘাটে কেন সিনেমাতেও তনুজাকে উদ্দেশ্য করে টিজিঙের উদ্দেশ্যেই সৌমিত্রর লিপে এই গানটা ছিল অঙ্গভঙ্গীসহকারে নাচসহ। সিনেমার টিজিঙ দেখানো কীভাবে রাজ্যের সর্বস্তরে ছড়িয়ে থাকে এটা তার একটা উদাহরণ। আরো একটা জিনিষ খেয়াল করলাম 'মাল' শব্দটা তৃণমুলের লোকদের খুবই পছন্দের একটি শব্দ।

সব মিলিয়ে ছিঃ থুঃ ঘেন্না ছাড়া আর কিছু বলার নেই।

http://bangla.eenaduindia.com/State/Kolkata/2019/03/17222815/firhad-ha
kims-controversial-comment-on-nandini-mukhopadhy.vpf


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 26 -- 45


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন