সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শিশু নির্যাতনের ফলে হয় মস্তিষ্কে পরিবর্তন, আর তার ফলে হয় তীব্র বিষণ্ণতার সমস্যা
    বিজ্ঞানের অবদানের কারণে আমরা আজ জানি যে চাইল্ড এবিউজ বা শিশু নির্যাতন ব্যক্তির প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও বিভিন্ন খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণা এসম্পর্কে জানাচ্ছে আরও নতুন একটি তথ্য। এই গবেষণাটি আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে শিশু নির্যাতনের ফলে ...
  • চিন্তাসূত্র-১
    চিন্তাসূত্র-১ ( জ্বরের আদর কোলে)---------------...
  • চিন্তাসূত্র-১
    চিন্তাসূত্র-১ ( জ্বরের আদর কোলে)---------------...
  • সরল ছেলে
    তিনবছর ধরে চোখেচোখে দেখা, ভালোলাগা, ভালোবাসার পর নতুন রিলেশন শুরু করেছি। ছেলেটা একটু কেমন জানি। আমার এটা প্রথম প্রেম। আমি সঠিক জানিনা কিভাবে প্রেম করতে হয়। জ্ঞানার্জনের জন্য প্রেম করে বিয়ে করা বান্ধবীটাকে ফোন দিলাম। বললাম, তোদের প্রেম কিভাবে হয়েছিলো,কি ...
  • টালমাটাল টিনএজ
    টালমাটাল টিনএজশুভেন্দু দেবনাথদশটি মেয়ে এবং ছ-টি ছেলে। ষোলো জন কিশোর কিশোরী জড়ো হয়েছিল ২৩ শে জুলাই এক বান্ধবীর জন্মদিনের পার্টিতে। সকলেই যে ঘনিষ্ঠ তা নয়। বেশির ভাগেরই পরিচয় স্বল্প দিনের। কেউ কেউ তো আবার অচেনাও। এদের মধ্যেই একজন আবেশ দাশগুপ্ত, যে ...
  • সম্রাট অশোকের স্তম্ভ
    সম্রাট অশোকের স্তম্ভ রাষ্ট্র-কাঠামোর প্রতীক সম্রাট অশোকের ‘স্তম্ভে’ মোট চার প্রকার সত্তার মূর্তকল্প উপস্থিতি দেখা যায়। সিংহ, বৃষ, অশ্ব ও হস্তী। এর মধ্যে সিংহ শব্দটি (মূর্তকল্পটি) ক্ষত্রিয় রাজকীয়তার প্রতীক (স্মর্তব্য: সিংহাসন, সিংহদুয়ার, বীরসিংহ, সিংহভাগ, ...
  • ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট
    ভোরবেলা চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল। কে যেন ষাঁড়ের মতো গলায় চিল্লাচ্ছে, জান্নাতুল ফেরদৌস, অই জান্নাতুল ফেরদৌসের বাচ্চা,বাইর হ‌ও। এক্ষুনি বাইর হ‌ও। সদ্য ঘুম থেকে ওঠার পর আমার মাথা খানিকক্ষণ এলোমেলো হয়ে থাকে। আমি ও শুনতেছি, জামা নিবেন? অই জামা ...
  • শিরোনামহীন
    তত্কালে লোকে বিজ্ঞাপন বলিতে বুঝাইতো সংবাদপত্রের ভেতরের পাতায় শ্রেণীবদ্ধ সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞাপন, এক কলাম এক ইঞ্চি, সাদা-কালো খোপে ৫০ শব্দে লিখিত-- পাত্র-পাত্রী, বাড়িভাড়া, ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, চলিতেছে (ঢাকাই ছবি), আসিতেছে (ঢাকাই ছবি), থিয়েটার (মঞ্চ ...
  • Take love
    জন্মদিনে সবার আগে যেটা হয় সেটা হচ্ছে টাইমলাইন আর ইনবক্স জুড়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছাগুলোর জবাব দিতে দিতে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। রিপ্লাই দিতে দিতে একপর্যায়ে নিজেকে মানসিক রোগী মনে হতে থাকে।যাইহোক,সবাই ভালোবেসে শুভেচ্ছা জানায় জবাব না দেয়াটাও বেয়াদবি ভেবে ...
  • রাতের ঢাকা শহর
    ঢাকা শহরের নানা সমস্যা। দুই একদিন আগে দেখলাম সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিয়ায় ওপরের দিকে নাম ঢাকা শহরের। যারা ঢাকা শহরে থাকে বা থেকেছে তারা জানে নাগরিক জীবনের নানা সমস্যা আষ্টেপিষ্টে জরিয়ে আছে। বাতাস শুধু দূষিত না এ শহরের, আরও কত কী যে দূষিত তার কোন হিসেব নেই। ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

২০৩৭: একটি রূপ(?)কথা

অভিষেক ভট্টাচার্য্য

এটা ২০৩৭ সাল। এবং অামেরিকার গ্লোবাল ডমিনেশন সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।

তবে সকলেই যে নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে গিয়েছে তা নয়। এ সম্পর্কে যথাসময়ে বলা যাবে। আপাতত শুধু এটুকু জানিয়ে রাখা যাচ্ছে যে আট দশক আগে গুয়াতেমালা-ফুয়াতেমালা, চিলি-ফিলি ও আরও যে কয়েকটি পোকামাকড়কে, যেমন কিউবা ও অ্যাঙ্গোলা, দু'আঙুলে ধরে টিপে ফাটিয়ে দেবার যে কর্মসূচী গ্রহণের মধ্যে দিয়ে ব্যাপারটা শুরু করা গেছিল তা এখন পরিপূর্ণ। এবং এই দীর্ঘ গুয়াতেমালা-পর্ব ও চিলি-পর্বের পরে অষ্টাদশ পর্ব সমাপ্ত করতে যথানিয়মেই আসে ইরাক ও আফগানিস্তান। এবং মাঝখানে ঠিক স্যাট করে জিগস' পাজলের টুকরোর মতো একদম মাপে মাপে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের জায়গাটাতে বসে গেছে ভিয়েতনাম। পাণ্ডবপক্ষের বিজয় সম্পূর্ণ হইয়াছে। রাজা যুধিষ্ঠির সিংহাসনে আসীন হইলেন। এবং এখন যুদ্ধসমাপ্তির পরবর্তী নৈঃশব্দ্য। কবরের নিস্তব্ধতা। কেউ কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছে না। কেউ কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছে না। কারণ, যাদের দেখবার ও শোনবার তারা প্রায় সকলেই গুলি খেয়ে মরে গেছে। আর যারা বেঁচে রয়েছে তাদের চোখের সামনে অতিকায় পর্দা ঝোলানো ও সেই পর্দায় হাই রিজোলিউশনে রঙিন এইচডি ফিল্ম হয়ে চলেছে। কিন্তু তাই বলে মহাভারত লেখা শেষ হয়ে গিয়েছে এমন যেন কেউ না মনে করে। সেটা বোঝাতেই এই গল্পটা লেখা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, কুরুক্ষেত্রের পরেও কিন্তু অশ্বত্থামা পান্ডবপক্ষ প্রায় মেরে সাবাড় করেছিল। এবং সেটা রাতের অন্ধকারে।

আসল ব্যাপারটা হল জল। এর আগে তেল ছিল, এখন জল। তেলের ব্যাপারটা সবাই জানে। সাদ্দাম হুসেনের নাম বাচ্চাকাচ্চাগুলোও সেই সময় কাগজে পড়েছিল। এবং সকলেই বিশ্বাস করেছিল যে সাদ্দাম হল একটা ভয়ঙ্কর শয়তান যে ইরাকের মরুভূমিতে সারি সারি ট্যাঙ্ক সাজিয়ে বসে আছে। গালফ ওয়ার যখন টিভিতে দেখানো হয়েছিল তখন টিআরপি রেটিং নাকি আকাশ ছুঁয়ে গেছিল। এর থেকেই বোঝা যায় মগজধোলাই কোন লেভেলে যেতে পারে। এবং এখন এই ২০৩৭-এ যেটা হয়েছে সেটা হল পৃথিবীর লোক জল খেতে পাচ্ছে না। কারণ পৃথিবীতে পানীয় জল বলে কিছু আর অবশিষ্ট নেই। মানুষ সব জল শেষ করে দিয়েছে। ২০১৫ নাগাদই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম জানিয়েছিল পানোপযোগী জলের অভাব আগামী কয়েক দশকের মধ্যে গোটা পৃথিবী জুড়ে একটি বিরাট সমস্যা হয়ে দেখা দেবে। সাপ্লাইয়ের থেকে ডিমান্ড বেশি হলে যা হয়। ইয়েমেন, লিবিয়া, জর্ডন ও পশ্চিম সাহারা তখনই ধুঁকছিল। এবং এখন তার সাথে যোগ হয়েছে কাজাকিস্তান, উজবেকিস্তান, মোঙ্গোলিয়া, চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, কানাডা ও নাইজেরিয়া। কোথাও কোনও জল নেই। পৃথিবীর যাবতীয় প্রাকৃতিক পানীয় জলের সঞ্চয় মানুষ শেষ করে ফেলেছে। এই জলসঙ্কটের আবার দু'রকম কারণ আছে। প্রথমটা হল প্রাকৃতিক, যেখানে জলের লেভেল এমনিতেই মাটির অনেক অনেক নিচে। আর পরেরটা হল হেভি ইন্ড্রাস্টিয়ালাইজেশন ও মাইনিং। গত চল্লিশ বছর ধরে ইন্ড্রাস্টিয়ালাইজেশন কী ভয়ঙ্কর রেটে বেড়েছে তার একটা আঁচ যে কোনও এসব রিলেটেড ম্যাগাজিনের পাতা ওল্টালেই জানা যাবে। এশিয়া ও আফ্রিকা মিলিয়ে জলের অভাবে গত দু'বছরে মোট ২,৫০,০০,০০,০০০ জন মারা গেছে। তবে মধ্যবিত্ত এসব নিয়ে মাথা ঘামায় না, কারণ তারা সেল্ফি তুলতে ব্যস্ত। এই শতকের গোড়ার দিক থেকেই আমেরিকা মঙ্গলগ্রহে একের পর এক মহাকাশযান পাঠাচ্ছিল। ২০২০ সালের পর থেকে সেটা হঠাৎই খুব বেড়ে গিয়েছিল। তখন থেকে বছরে অন্ততঃ একটি নাসার রোভার মঙ্গলে গিয়ে আছড়ে পড়ছিল। তখন সকলে হাততালি দিয়েছিল। এরকমই হাততালি শোনা গেছিল আমেরিকা চাঁদে নামার সময়ে। ১৯৬৯ সালের ২০শে জুলাই আমেরিকা চাঁদে নেমেছিল। এর মাত্র একবছর আগে ১৯৬৮ সালের ১৬ই মার্চ আমেরিকান সেনাবাহিনী সাউথ ভিয়েতনামের মে লাই গ্রামে ঢুকে ছেলেবুড়ো, মেয়েপুরুষ মিলিয়ে প্রায় পাঁচশো গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করেছিল। তখনও কেউ কেউ হাততালি দিয়েছিল। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বিশ্বব্যাপী জল সমস্যার সমাধান করবে বলে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেছে। মঙ্গলে মাটির তলায় জল পাওয়া গেছে। এই জল আছে বরফের আকারে। একটি প্রতিবেদনে নাসা জানিয়েছে লালগ্রহের জায়গায় জায়গায় তিন থেকে চার ফিট পাথরের তলায় জমা হয়ে রয়েছে প্রায় একশো মিটার পুরু বরফের স্তর। এবং মাত্র ৮৭২ কিলোগ্রাম ওজনের একটি সামনে আঙটাযুক্ত রোভারের সাহায্যে কীভাবে খুব সহজেই ড্রিল করে ঐ বরফের টুকরো কেটে কেটে তুলে আনা যাবে তাও ঐ প্রতিবেদনটিতে খুব সুন্দর করে স্টেপ বাই স্টেপ ছবি দিয়ে বোঝানো হয়েছিল। এই পরিকল্পনাটি আমেরিকান গভর্নমেন্ট অ্যাপ্রুভ করেছে। এবং এই খাতে লগ্নি করা হয়েছে প্রায় তেইশ বিলিয়ন ইউএস ডলার। ঐ বরফকে হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রায় রাখা বিশেষ প্রকোষ্ঠে করে মহাশূন্য দিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে পৃথিবীতে। বা চাইলে এমনকি বরফ গলিয়ে জল তৈরি করার কাজটাও পৃথিবীতে আসার পথেই মহাকাশযানের ভিতরে একটি প্ল্যান্ট স্থাপন করে করা যেতে পারে। এতে করে সমগ্র প্রক্রিয়াটি আরও তাড়াতাড়ি সম্পন্ন হবে। এরপরে সেই জল সারা পৃথিবী জুড়ে বিক্রি করা হবে। এ ব্যাপারে অলরেডি তেরোজন মার্কিন বিলিওনিয়ারের একটি টিম স্টেট ডিপার্টমেন্ট অফিশিয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছে ঐ জল পৃথিবীতে আনা সম্ভব হলে তারা একটি কোম্পানি গঠন করতে আগ্রহী। যে কোম্পানি বোতলে কি স্বচ্ছ এডিবল প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে সারা পৃথিবীতে ঐ জল বিক্রি করবে। আজকাল এডিবল ছাড়া এমনি প্লাস্টিক ইউজ করা যায় না, কারণ দূষণের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। জল নিয়ে আসার এবং প্রসেসিং-এর খরচা ইত্যাদি মিলিয়ে দেখা গেছে পাঁচশো এমএল জলের দাম পড়বে প্রায় চোদ্দ ইউএস ডলার। এক ডলারের দাম এখন ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় দেড়শো টাকা। তার মানে এক বোতল জল প্রায় দু'হাজার টাকা। এই খবরটা অবশ্যই কোথাও বের হয়নি। মার্কিন সরকার এই বিলিওনিয়ারদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনা সেরে ফেলেছে। প্রকাশ থাক যে এই কোম্পানির শেয়ারও ছাড়া শুরু হয়ে গিয়েছে বলে খবর। পপ ক্যুইজ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে আমেরিকানদের তৈরি ইউনাইটেড ফ্রুট কোম্পানি এবং কোস্টা রিকা, হন্ডুরাস ও গুয়েতামালা জুড়ে গড়ে ওঠা ব্যানানা রিপাবলিকের কথা কে কে জানে? এ ব্যাপারে ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেনও মার্কিন গভর্নমেন্টের সঙ্গে হাত মেলাবে বলেছে। এই মঙ্গলগ্রহ থেকে নাসার জল নিয়ে আসবার নানারকম টেকনিকাল দিকগুলি এখন সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন সায়েন্স ম্যাগাজিনে ও খবরের কাগজে আলোচিত হচ্ছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে গত শতাব্দীতে মানুষের শ্রেষ্ঠ কীর্তি যেমন চন্দ্রবিজয়, তেমনি এই শতাব্দীতে তা অবশ্যই হতে চলেছে সারা পৃথিবীব্যাপী এই জলের সমস্যার সমাধানে নাসার মঙ্গল অভিযান। এবং পড়ে সবাই হাততালি দিয়েছে। কারণ সবাই বুঝতে পারছে যে পুরো হলিউড সাই-ফাই ব্লকবাস্টার ছবির মতো কিছু একটা ঘটতে চলেছে। সবাই যা বুঝতে পারছে না এবং কোনওদিন বুঝবেও না সেগুলো নিয়েই এই গল্পটা লেখা হচ্ছে। ঐ ম্যাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিটি কোন কোন দেশে ঐ জল বিক্রি করবে তার লিস্ট ঐ তেরোজন বিলিওনিয়ার তৈরি করে ফেলেছে। এবং এটি হাইলি কনফিডেনশিয়াল, তবু এটুকু জানালেই যথেষ্ট হবে যে কোনও গরীব দেশের নাম ঐ তালিকায় নেই। ফলে বিশ্বব্যাপী যে জলসঙ্কট-মোচনের কথা এখন কাগজে কাগজে বলা হচ্ছে সেটা আদৌ ঘটবে না। তার বদলে যা ঘটবে সেটা আজ থেকে দশ বছর বাদেই সবাই দেখতে পাবে। সবাই দেখতে পাবে বলাটা ভুল বলা হল। কারণ কোনওকালেই সবাই এসব দেখতে পায় না। তবে যা ঘটবে সেটা যাতে না ঘটে এবং তার জন্যে কী কী স্টেপ ও অ্যাকশন নেওয়া দরকার সেসবের কথা বলার জন্যেই এই গল্পটা লেখা হচ্ছে। নাসার রকেটের সম্ভাব্য ডিজাইনের গ্রাফিকাল ছবি এখন কাগজে কাগজে বের হচ্ছে এবং বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে রোজ আলোচনা করছেন। নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাব একটি বিখ্যাত ক্যানাডিয়ান অ্যারোস্পেস সংস্থাকে ঐ রকেট তৈরির কন্ট্রাক্ট দিয়েছে বলে খবর। এর পাশাপাশি আরও একটি রকেট তৈরি হচ্ছে বলে খবর আছে। তবে এটার কথা বিশেষ কেউ জানে না। কারণ এটা খবরের কাগজে বের হয়নি। তবে আশা করা যাচ্ছে যে আর কয়েকদিনের মধ্যেই হবে। এটার কথা বলার জন্যেই এই গল্পটা লেখা হচ্ছে। এই রকেটটা চম্পাহাটিতে তৈরি হচ্ছে। এই চম্পাহাটির নাম সকলে কালীপুজোর আগে 'গোপন শব্দবাজি তৈরির কারখানা মিলল বারুইপুরের চম্পাহাটিতে' বা 'নিষিদ্ধ শব্দবাজি তৈরির আঁতুড়ঘর দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার চম্পাহাটি গ্রাম' ইত্যাদি লেখায় পড়ে থাকে। সেই দরমার ঘর, বেড়া, টালির ছাদ, আর বাড়ির পেছনদিকে উঠোন। চম্পাহাটি। কালীপুজোর আগে চম্পাহাটিতে নেমে স্টেশনের বাইরে বেরোলেই ওখানকার লোকজন বাজি বেচবে বলে দৌড়ে আসে। আশা করা যাচ্ছে চম্পাহাটির নাম এবারে সকলেরই মনে পড়েছে। তবে বলা যায় না। আমি এই কয়েকদিন আগেই নিউটাউনের দিকে একটা কমপ্লেক্সে থাকা বাইশ-তেইশ বছরের একটা বাঙালি ছেলেকে দেখেছি যে জীবনে কোনওদিন উড়নতুবড়ি দেখেনি। ফলে বলা যায় না। এবং এরকম লোকের সংখ্যা দিনদিনই বাড়ছে। এক্ষেত্রে যেটা করা যায় সেটা হল এদের দুই কানে ঐ চম্পাহাটিরই ১৮০ ডেসিবলের দু'পিস মাল গুঁজে দিয়ে ধূপ দিয়ে সলতেগুলো ধরিয়ে দেওয়া। চম্পাহাটিতে রকেট কেন তৈরি হচ্ছে তাই নিয়ে গল্পের এই জায়গায় নানারকম জল্পনা করা যেতে পারে। রকেটটা গোপনে তৈরি হচ্ছে। তবে দৈবাৎ বাইরের লোক কেউ দেখে ফেললে এবং খুব চাপাচাপি করলে ওখানকার লোক জানিয়ে দেবে যে ওটা তৈরি করা হচ্ছে আমেরিকানদের আগেই মঙ্গলে গিয়ে পৌঁছনোর জন্যে। যাতে করে মঙ্গলের জলের ওপরে মার্কিন মনোপলি না হয়। একটা বড় মাঠে একের পর এক বাঁশ জুড়ে জুড়ে মালটা তৈরি করা হচ্ছে। বেরিয়াম ক্লোরাইড, স্ট্রনশিয়াম নাইট্রেট আর কাঠের ভূষি। হিসেব করে দেখা গেছে কালীপুজোর একটা এমনি পাতি প্যাঁকাটির হাউই প্রায় বিশ মিটার পর্যন্ত ওঠে। পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্ব ৫,৪৬,০০,০০০ কিলোমিটার। এই হিসেবে ২,৭৩,০০,০০,০০০-গুলো হাউইয়ের বারুদ একসঙ্গে মেশালেই মঙ্গলে যাওয়া যাবে। এই হিসেবেই রকেটটা তৈরি হচ্ছে। এসব খবর ওখানকার লোকাল লোক দিয়ে দেবে। তবে তারা যে খবরটা দেবে না সেটা হল যে রকেটটা আদৌ মঙ্গল গ্রহে যাচ্ছে না। বায়ুশূন্য মহাকাশ দিয়ে কোনও বারুদে তৈরি যান যেতে পারে না। তাছাড়া গিয়ে ফিরবেই বা কী করে? এসব বিটকেল কথা যারা বিশ্বাস করছে তাদের বুদ্ধিকে বলিহারি! অবশ্য দিনরাত সেল্ফি তুলে বেড়ালে বুদ্ধিশুদ্ধি বিশেষ না থাকারই কথা। তাহলে রকেটটা যাচ্ছে কোথায়? সেটা ওখানকার লোকাল লোকজন কাউকে বলবে না। পৃথিবী থেকে তেরোজন জাতঢ্যামনা কমে গেলে পৃথিবীর ভালো বই মন্দ হবে না। তবে ঐ তেরোজন যে বিল্ডিংটায় বসে মিটিং করে সেটাতে অনেক গভর্নমেন্ট অফিশিয়ালও যাতায়াত করে। তাই সংখ্যাটা আরও বেশিও হতে পারে। পুরোটাই নির্ভর করছে টাইমিঙের ওপরে। রকেটটার মাথায় একটা বোমা ফিট করা আছে। যার বেশিরভাগটাই পাতি সোরা, গন্ধক আর কাঠকয়লা হলেও বিস্ফোরণের জোর বাড়াতে পটাশিয়াম ক্লোরেটও ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়ে রাখা গেল। এ ব্যাপারে অন্ধ্রের শিবকাশির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। অর্থাৎ শিবকাশিও ব্যাপারটা জানে। শুধু যে নাসারই নেটওয়ার্ক ভালো এরকম মনে করবার কোনও কারণ নেই। একটু আগে যে এই রকেটের ব্যাপারে বিশেষ কেউ জানে না বলে লেখা হয়েছিল সেটা মিথ্যে কথা। দেশ ও জাতির স্বার্থে এরকম একটুআধটু মিথ্যে কথা মাঝে মাঝে বলাই যেতে পারে। এই খবর আসলে ছড়িয়ে রয়েছে নুঙ্গি, ডানকুনি, মগরাহাট, ডেবরা, বেলডাঙ্গা, বাসন্তী, আলিপুরদুয়ার, মহেশতলা, বাঁশবেড়িয়া ও এরকম আরও অসংখ্য জায়গায়। সেই দরমার ঘর, বেড়া, টালির ছাদ, আর বাড়ির পেছনদিকে উঠোন। এখানে প্রশ্ন উঠতেই পারে যে রকেটটা এতটা পথ চিনে তার লক্ষ্যস্থল পর্যন্ত যাবে কী করে? চম্পাহাটির বাঁশের রকেট কি গাইডেড মিসাইল? এবং এর উত্তরে বেশি না ঘাঁটিয়ে শুধু এটাই বলা যায় যে গত চল্লিশ বছর ধরে সাকারে ও নিরাকারে বায়ুমণ্ডলের নানা স্তরে যারা অবস্থান করছে তাদের ক্ষমতা কি এতই কম যে তারা এটুকুও পারবে না? সংখ্যাতেও তো তারা কম নয়। এই তো একটু আগেই ২,৫০,০০,০০,০০০ জনের কথা বলা হল। অতএব রকেট পোঁছবেই এই আশা বুকে নিয়েই এই গল্পটা শেষ করা হচ্ছে। এটা ২০৩৭ সাল। সেই বাষট্টিতে কিউবান মিসাইল ক্রাইসিসের পর এরকম সিচুয়েশন আর আসেনি। বিশ্বজোড়া বিশ্বায়ন এসে আট দশক ধরে অনেক গাঁড় মেরে আসছিল, এবারে বারুইপুরের চম্পাহাটি টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, ফ্লোরিডা, নিউ জার্সির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এবারে কী হয় সেটাই এখন দেখার।

273 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Amit

Re: ২০৩৭: একটি রূপ(?)কথা

শুরুটা ভালো হয়েছিল । শেষটা কেমন ঘেটে গেলো ।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: ২০৩৭: একটি রূপ(?)কথা

জটিল! 😒

ছোট ছোট প্যারায় লাইন স্পেস দিয়ে লিখলে চোখের আরাম হতো।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন