Supratik Pal RSS feed

Supratik Palএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শিশু নির্যাতনের ফলে হয় মস্তিষ্কে পরিবর্তন, আর তার ফলে হয় তীব্র বিষণ্ণতার সমস্যা
    বিজ্ঞানের অবদানের কারণে আমরা আজ জানি যে চাইল্ড এবিউজ বা শিশু নির্যাতন ব্যক্তির প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও বিভিন্ন খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণা এসম্পর্কে জানাচ্ছে আরও নতুন একটি তথ্য। এই গবেষণাটি আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে শিশু নির্যাতনের ফলে ...
  • চিন্তাসূত্র-১
    চিন্তাসূত্র-১ ( জ্বরের আদর কোলে)---------------...
  • চিন্তাসূত্র-১
    চিন্তাসূত্র-১ ( জ্বরের আদর কোলে)---------------...
  • সরল ছেলে
    তিনবছর ধরে চোখেচোখে দেখা, ভালোলাগা, ভালোবাসার পর নতুন রিলেশন শুরু করেছি। ছেলেটা একটু কেমন জানি। আমার এটা প্রথম প্রেম। আমি সঠিক জানিনা কিভাবে প্রেম করতে হয়। জ্ঞানার্জনের জন্য প্রেম করে বিয়ে করা বান্ধবীটাকে ফোন দিলাম। বললাম, তোদের প্রেম কিভাবে হয়েছিলো,কি ...
  • টালমাটাল টিনএজ
    টালমাটাল টিনএজশুভেন্দু দেবনাথদশটি মেয়ে এবং ছ-টি ছেলে। ষোলো জন কিশোর কিশোরী জড়ো হয়েছিল ২৩ শে জুলাই এক বান্ধবীর জন্মদিনের পার্টিতে। সকলেই যে ঘনিষ্ঠ তা নয়। বেশির ভাগেরই পরিচয় স্বল্প দিনের। কেউ কেউ তো আবার অচেনাও। এদের মধ্যেই একজন আবেশ দাশগুপ্ত, যে ...
  • সম্রাট অশোকের স্তম্ভ
    সম্রাট অশোকের স্তম্ভ রাষ্ট্র-কাঠামোর প্রতীক সম্রাট অশোকের ‘স্তম্ভে’ মোট চার প্রকার সত্তার মূর্তকল্প উপস্থিতি দেখা যায়। সিংহ, বৃষ, অশ্ব ও হস্তী। এর মধ্যে সিংহ শব্দটি (মূর্তকল্পটি) ক্ষত্রিয় রাজকীয়তার প্রতীক (স্মর্তব্য: সিংহাসন, সিংহদুয়ার, বীরসিংহ, সিংহভাগ, ...
  • ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট
    ভোরবেলা চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙ্গে গেল। কে যেন ষাঁড়ের মতো গলায় চিল্লাচ্ছে, জান্নাতুল ফেরদৌস, অই জান্নাতুল ফেরদৌসের বাচ্চা,বাইর হ‌ও। এক্ষুনি বাইর হ‌ও। সদ্য ঘুম থেকে ওঠার পর আমার মাথা খানিকক্ষণ এলোমেলো হয়ে থাকে। আমি ও শুনতেছি, জামা নিবেন? অই জামা ...
  • শিরোনামহীন
    তত্কালে লোকে বিজ্ঞাপন বলিতে বুঝাইতো সংবাদপত্রের ভেতরের পাতায় শ্রেণীবদ্ধ সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞাপন, এক কলাম এক ইঞ্চি, সাদা-কালো খোপে ৫০ শব্দে লিখিত-- পাত্র-পাত্রী, বাড়িভাড়া, ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, চলিতেছে (ঢাকাই ছবি), আসিতেছে (ঢাকাই ছবি), থিয়েটার (মঞ্চ ...
  • Take love
    জন্মদিনে সবার আগে যেটা হয় সেটা হচ্ছে টাইমলাইন আর ইনবক্স জুড়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছাগুলোর জবাব দিতে দিতে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। রিপ্লাই দিতে দিতে একপর্যায়ে নিজেকে মানসিক রোগী মনে হতে থাকে।যাইহোক,সবাই ভালোবেসে শুভেচ্ছা জানায় জবাব না দেয়াটাও বেয়াদবি ভেবে ...
  • রাতের ঢাকা শহর
    ঢাকা শহরের নানা সমস্যা। দুই একদিন আগে দেখলাম সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিয়ায় ওপরের দিকে নাম ঢাকা শহরের। যারা ঢাকা শহরে থাকে বা থেকেছে তারা জানে নাগরিক জীবনের নানা সমস্যা আষ্টেপিষ্টে জরিয়ে আছে। বাতাস শুধু দূষিত না এ শহরের, আরও কত কী যে দূষিত তার কোন হিসেব নেই। ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বিজ্ঞান কংগ্রেস

Supratik Pal

বেশ করেছে। হ্যাঁ মশাই, বেশ করেছে। ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসে কিছু তথাকথিত বিজ্ঞানী এসে বলেছেন, প্রাচীন যুগে শ্রীলঙ্কায় এয়ারপোর্ট ছিল। কৌরবদের শতভাই আদি যুগেই স্টেম সেল থেরাপির প্রকৃষ্ট প্রমাণ। আর নিউটন আইনস্টাইন এঁরা সব ভুল -- ফক্কা । অতি শীঘ্রই গ্রাভিটেশনাল ওয়েভ আর লেন্সিং ইফেক্ট-এর নাম সংশোধন করে নাকি বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্ক বহির্ভূত কোনো কোনো ব্যক্তির নামে হয়ে যাবে। তা মশাই, বেশ করেছে বলেছে । এরকম আকছারই তো শোনা যায় আজকাল। আগের সায়েন্স কংগ্রেসেও তো শোনা গেছিল আদি যুগে বিমান ব্যবহারের কাহিনী, যাতে চড়ে নাকি গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে যাতায়াত হতো। আর গণেশের ধড়ে হাতির মুন্ড তো প্লাষ্টিক সার্জারির কট্টর প্রমাণ। কিছুদিন আগে ভারতীয় প্রযুক্তি শিক্ষা সংস্থা অনুমোদিত নতুন কোর্স চালু হওয়ার কথা তো নির্ঘাত শুনেছেন, যাতে থাকছে বৈদিক যুগে ব্যাটারী ও এরোপ্লেন ব্যবহারের মতো চমকপ্রদ তথ্য। বাস্তুশাস্ত্র, গোমূত্র গবেষণা আর পাড়ার মোড়ে মোড়ে গজিয়ে ওঠা বা টিভির পর্দায় চ্যানেলের পর চ্যানেল জুড়ে জ্যোতিষচর্চা আর হনুমান যন্ত্রের তুড়ুক ফললাভের পরাকাষ্ঠা তো দেখছেনই। চারপাশে ছাইপাঁশ কত কিছুই তো হচ্ছে। এর মাঝে যদি দু-চারজন ‘বিজ্ঞানী’ সায়েন্স কংগ্রেসে এসে এই সব কথা বলে থাকেন, আমার-আপনার তাকিয়ায় হেলান দেওয়া এসি-লালিত সুখী জীবনে কি আর এসে গেল মশাই?

তাছাড়া যাঁরা বলেছেন, তাঁরা বিজ্ঞানী। আমার-আপনার মতো ছাপোষা তো আর নন। যদিও আমার-আপনার ট্যাক্সের টাকায় ফি বছর হয় ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসের মোচ্ছব। আর আয়োজকরা বেছে বেছে তাঁদের সেরা বিজ্ঞানী ভেবেছেন বলেই-না ডেকেছেন। মিটে গেল। (জনান্তিকে : প্রায় কোনো প্রথম সারির বিজ্ঞানীই সায়েন্স কংগ্রেসে যান না। তাতে কী?)

আর দেখুন, বলেছে তো বলেছে কিছু কিশোর-কিশোরীর সামনে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞানে উদ্বুদ্ধ করে তোলার জন্যই-না! তা শুনেছেন তো “ছোকরারা খাঁটি দুধ। একটু জ্বাল দিয়ে নিলেই হয়।” কৈশোরের মানসপটে যা ছাপ ফেলে, সুদৃঢ়ভাবে গেঁথে যায়। এদেরও তাই হবে। এই কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেই হয়তো আছে আপনার বুকের ধনটিও, যাকে নিয়ে আপনারা কপোত-কপোতী নিত্যদিন স্বপ্নের বীজ বুনছেন। না থাকলেও চিন্তা নেই। এইসব ‘বৈজ্ঞানিক’ তথ্য অতি শীঘ্রই স্তরে স্তরে এসে পড়বে আপনার সন্তানের স্কুল-কলেজপাঠ্য জ্ঞানের ভাণ্ডারে। এসে পড়ছে। একে বলে অসমোসিস। সুছিদ্র ছাঁকনির মধ্য দিয়ে বেনোজল ঢোকা। আপনার সন্তান বেড়ে উঠবে এইসব দুর্মূল্য জ্ঞান সাথে নিয়ে।

অমনি আপনি তেড়ে উঠলেন, তাতে কী? এসব বইপড়া জ্ঞান জীবনের কোন কাজে লাগে মশাই? নাহয় দুচারটে ভুলভাল শিখলোই। দিনের শেষে একটা ঝক্কাস চাকরি হাঁকিয়ে ফেললেই ব্যাস। কেল্লা ফতে। হক কথা। ধরা যাক আপনার বাড়িতে যে ফ্যানটা লাইটটা জ্বলছে, গ্যাস-আভেন বা মাইক্রোআভেনে রান্নাটা হচ্ছে, ওয়াশিং মেশিন-ফ্রিজ-ডিশওয়াসারটা চলছে, অফিস-বাজার যেতে বের করে আনছেন লেটেস্ট মডেলের গাড়িখানা, মায় যে হাইরাইজে সতেরো তলায় বসে আপনি টেনে নিচ্ছেন বিশুদ্ধ হাওয়া, এগুলো তৈরিতে যে ইঞ্জিনিয়াররা সামিল হবেন আগামী কিছু বছরে, তাঁরা -- আপনার মতোই কারো-না-কারো বুকের ধন আজকের সেই কিশোর-কিশোরীরা -- এই অভূতপূর্ব জ্ঞান সাথে নিয়ে বেড়ে উঠছেন আজ থেকে। বেড়ে উঠবেন আগামী দিনে। ভাববেন না, সেটাই স্বাভাবিক। এবার আপনি ভরসা পাচ্ছেন তো? আর ধরুন শরীরের নাম মহাশয়, কখন বিগড়োবে বলা কি যায়? গেলেন ঝকঝকে আধুনিক হাসপাতালে। তা সেই হাসপাতালের পরবর্তী প্রজন্মের ডাক্তারদের ওপর ভরসা রাখতে পারবেন তো, যাঁরা স্টেম সেল আর প্লাস্টিক সার্জারির অভূতপূর্ব নবলব্ধ জ্ঞান নিয়ে সমৃদ্ধ হয়েছেন? কিংবা আপনার প্রাণের সন্তান কোনোদিন ইমার্জেন্সিতে বাড়ির খারাপ হয়ে যাওয়া সুইচটা মেরামত করতে গেল, বলা কি যায়? ভরসা রাখবেন তো ৪৪০ ভোল্টের লাইনে?

ছাড়ুন মশাই। মিথ্যে ভয় দেখাচ্ছি। আপনার সন্তান নেক্সট জেনারেশন। আলো ঝলমলে ভবিষ্যৎ। বিশ্বনাগরিক সে। তা পারবে তো সে বিশ্বের দরবারে নিজেকে প্রমাণ করতে? গালভরা কথা ভাবছেন? আরে ধুর ! সিধে কথায়, একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরী করবে আর মাঝে মাঝে টুক করে সাগরপারের শীতল হাওয়া খেয়ে আসবে, এটুকু স্বপ্ন তো আপনি দেখেনই। তা এই অপূর্ব জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে স্কুল-কলেজ পেরিয়ে সে পারবে তো সেই বাজারে টিকে থাকতে? বিশ্ব তো আর বৈদিক বিজ্ঞান দিয়ে চলে না !

তা মশাই বিজ্ঞান কাকে বলে? সিধে বলি। পরীক্ষালব্ধ ফলকে বলে বিজ্ঞান। পরীক্ষালব্ধ ফলের থেকে উদ্ভুত যুক্তিগ্রাহ্য সিদ্ধান্ত বা তত্বও বিজ্ঞানের অংশ, তবে অবশ্যই তা কোনো না কোনো স্তরে পরীক্ষা উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা রাখে। বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় গুণ হল নৈর্ব্যক্তিকতা। অর্থাৎ আমি গঙ্গার পাড়ে বসে পরীক্ষা করলে যা ফল পাবো, আপনি হনলুলু দ্বীপে বসে একই মাপকাঠির (প্যারামিটার) নিরিখে যদি পরীক্ষা করেন, একই ফল পাবেন। পেতে বাধ্য। তা না হলে গলদ আছে এই বিজ্ঞানের বক্তব্যে। যুগে যুগে এভাবেই এগিয়ে চলেছে বিজ্ঞান। সত্যের পথে। আলোর পথে। কিছু কাল্পনিক বক্তব্য বা গালগল্প থেকে রেফারেন্স টেনে তাকে বিজ্ঞান বলে চালিয়ে দেওয়া আসলে ডাহা মিথ্যে। অতি সুকৌশলে যদি এ মিথ্যাচারিতা হয়, তাহলে তো কথাই নেই। তাতে অবশ্য বিজ্ঞানের কিছু এসে যায় না। এসে যায় পরবর্তী প্রজন্মের, যারা এই মিথ্যের বেসাতিকে সত্যভ্রমে বেড়ে উঠছে।

আহা ! সেই গল্পটা, সেই গল্পটা না বলে কি করে শেষ করি বলুন? এক নামকরা ওষুধের কোম্পানীর কর্তা অসুস্থ। চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন করলেন এক জীবনদায়ী ওষুধের। ওষুধ এলো। সে-ওষুধ খেয়ে নিশ্চিন্তে পাশ ফিরে শুলেন কর্তা। হঠাৎ আঁটুবাঁটু করে উঠলো শরীর। কোনোমতে জানতে চাইলেন, কোন কোম্পানীর ওষুধ? ও হরি ! এ তো তাঁর নিজের কোম্পানীরই। মূহুর্তে ঢলে পড়লেন কর্তা। জাল ওষুধের ব্যাপার করেই যে জমিয়েছিলেন পসার। কে জানতো একদিন সেই জাল ওষুধের ফল এসে পড়বে তাঁরই ওপরে! যাকগে !

741 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য্য

Re: বিজ্ঞান কংগ্রেস

খুবই প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী লেখা। আরও আরও ছড়িয়ে পড়া দরকার এগুলো।
Avatar: PM

Re: বিজ্ঞান কংগ্রেস

ঐ বিজ্ঞানী ভদ্রলোকটিকে ভাটনগর দিয়ে দিলেই ১৬ কোল পুর্ন হয় এখন
Avatar: amit

Re: বিজ্ঞান কংগ্রেস

সাইন্স কংগ্রেস আর কুম্ভমেলার মধ্যে কোনো তফাৎ থাকবে না আর কয়েক বছরে।

এনিওয়ে, সবকিছু তো বেদে আছেই। অত গবেষণা করে কার কি হবে। বোকা ওয়েস্টার্ণের গুলো লড়ে যাক কোয়ান্টাম থিয়েরি নিয়ে।
Avatar: দেবাশিস্‌ ভট্টাচার্য

Re: বিজ্ঞান কংগ্রেস

আমার এক অনুজপ্রতিম বিজ্ঞানী বন্ধু খুবই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন । মাধ্যাকর্ষণ বা 'গ্র্যাভিটেশন'-এর বাহক বলে যে কণাকে তাত্ত্বিকভাবে কল্পনা করা হয়, তার নাম 'গ্র্যাভিটন' । এখন, 'গ্র্যাভিটেশন ওয়েভ'-এর নাম যদি পালটে 'মোদি ওয়েভ' হয়ে যায়, তো ওই কণাটির নাম কী দাঁড়াবে --- 'মদন' ?
Avatar: Atoz

Re: বিজ্ঞান কংগ্রেস

মর্দন। ঃ-) মহিষাসুরমর্দনও বলা যেতে পারে একটু সাধু করে। ঃ-)


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন