ন্যাড়া RSS feed
বাচালের স্বগতোক্তি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সাধু কালাচাঁদ, ট‍্যাঁপা-মদনা, পটলা ও রুনু
    'ভালো লাগছে না রে তোপসে' বা 'ডিলাগ্রান্ডি' বললে বাঙালি মননে এক ধরনের রিফ্লেক্স অ্যাকশন কাজ করে যেন। ফেলুদা/তোপসে, টেনিদা, ঘনাদা ইত্যাকার নামগুলি বাঙালির আড্ডার স্বাভাবিক উপাদান। এই অনুষঙ্গগুলি দিয়ে বাঙালি তার হিউমারের অভ্যাস ঝালিয়ে নেয়, কিছুটা আক্রান্ত হয় ...
  • যম-দুয়ারে পড়ল কাঁটা
    অন্য লোকের স্বপ্নে আসে ভগবান, সিনেমা স্টার, ছেলেবেলার বন্ধু নিদেন ইশকুল-কলেজের কড়া মাস্টারমশাই। কবি হলে প্রেমিকা-টেমিকা, একেবারে কবিতাশুদ্ধু। " বাসস্টপে দেখা হলো তিন মিনিট, অথচ তোমায় কাল স্বপ্নে বহুক্ষণ ..." ইত্যাদি। আর আমার স্বপ্নে আসেন যমরাজ। যমরাজ মানে ...
  • আমার বাড়ির বিজয় দিবস...
    মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি প্রভাব আমার পরিবারের ওপরে পড়েনি। বলা যেতে পারে আশপাশ দিয়ে চলে গেছে বিপদ আপদ। কিন্তু আশপাশ দিয়ে যেতে যেতেও একদিন যমদূতের মত বাড়িতে হাজির হয়েছিল পাকিস্তানী সৈন্যরা। আমার বাবা ছিল তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বিমান সেনা। যুদ্ধের সময় ...
  • রান্নাঘর ও রাজ্যপাট
    কিছুদিন যাবৎ চেষ্টা করছিলাম লিঙ্গভিত্তিক শ্রমবন্টনের চিত্রটা বুঝতে।যত পুরোনো হচ্ছি কাজের বাজারে তত দেখছি ওপরের দিকে মহিলাদের সংখ্যা কমতে থাকছে। কর্পোরেট সেক্টরে প্রায়শই সংখ্যা দিয়ে দেখানো হয় অনেক মেয়ে কেরিয়ার শুরু করলেও মাঝপথে ছেড়ে যাচ্ছেন বা কোনো রকমে ...
  • শকওয়েভ
    “এই কি তবে মানুষ? দ্যাখো, পরমাণু বোমা কেমন বদলে দিয়েছে ওকে সব পুরুষ ও মহিলা একই আকারে এখন গায়ের মাংস ফেঁপে উঠেছে ভয়াল ক্ষত-বিক্ষত, পুড়ে যাওয়া কালো মুখের ফুলে ওঠা ঠোঁট দিয়ে ঝরে পরা স্বর ফিসফাস করে ওঠে যেন -আমাকে দয়া করে সাহায্য কর! এই, এই তো এক মানুষ এই ...
  • ফেকু পাঁড়ের দুঃখনামা
    নমন মিত্রোঁ – অনেকদিন পর আবার আপনাদের কাছে ফিরে এলাম। আসলে আপনারা তো জানেন যে আমাকে দেশের কাজে বেশীরভাগ সময়েই দেশের বাইরে থাকতে হয় – তাছাড়া আসামের বাঙালি এই ইয়ে মানে থুড়ি – বিদেশী অবৈধ ডি-ভোটার খেদানো, সাত মাসের কাশ্মিরী বাচ্চাগুলোর চোখে পেলেট ঠোসা – কত ...
  • একটি পুরুষের পুরুষ হয়ে ওঠার গল্প
    পুরুষ আর পুরুষতন্ত্র আমরা হামেশাই গুলিয়ে ফেলি । নারীবাদী আন্দোলন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে, ব্যক্তি পুরুষের বিরুদ্ধে নয় । অনেক পুরুষ আছে যারা নারীবাদ বলতে বোঝেন পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ । অনেক নারী আছেন যারা নারীবাদের দোহাই পেড়ে ব্যক্তিপুরুষকে আক্রমন করে বসেন । ...
  • বসন্তকাল
    (ছোটদের জন্য, বড়রাও পড়তে পারেন) 'Nay!' answered the child; 'but these are the wounds of Love' একটা দানো, হিংসুটে খুব, স্বার্থপরও:তার বাগানের তিন সীমানায় ক'রলো জড়ো,ইঁট, বালি, আর, গাঁথলো পাঁচিল,ঢাকলো আকাশ,সেই থেকে তার বাগান থেকে উধাও সবুজ, সবটুকু নীল।রঙ ...
  • ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৫)
    (সতর্কীকরণঃ এই পর্বে দুর্ভিক্ষের বীভৎসতার গ্রাফিক বিবরণ রয়েছে।)----------১৯৪...
  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
    ১৩ ডিসেম্বর শহিদুল্লাহ কায়সার সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করে বাড়ি থেকে সরে পড়া উচিত। সোভিয়েত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান নবিকভ শহিদুল্লাহ কায়সারের খুব ভাল বন্ধু ছিলেন।তিনি সোভিয়েত দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। আল বদর রাজাকাররা যে গুপ্তহত্যা শুরু করে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

একটি ঠেকের মৃত্যুরহস্য

ন্যাড়া

এখন যেখানে সল্ট লেক সিটি সেন্টারের আইল্যান্ড - মানে যাকে গোলচক্করও বলা হয়, সাহেবরা বলে ট্র্যাফিক টার্ন-আউট, এবং এখন যার এক কোণে 'বল্লে বল্লে ধাবা', অন্য কোণে পি-এন্ড-টি কোয়ার্টার, তৃতীয় কোণে কল্যাণ জুয়েলার্স আর চতুর্থ কোণে গোল্ড'স জিম - সেই গোলচক্কর আশির দশকে ছিল আমাদের ঠেক। ৮৭-সালের ওয়ার্ল্ড কাপে পাকিস্তান হারবার পর এই অকুস্থলেই বাস থামিয়ে উদ্দাম নৃত্য প্রদর্শন করা হয়েছিল। 'সান্থাল টুইস্ট' না হলেও তার কাছাকাছি। তবে কেউই নেশা করেনি। এবং বাসে শর্মিলা ঠাকুরও ছিলনা, কাবেরী বোসও নয়।

আজ থেকে তিরিশ বছর আগে এ অঞ্চল একেবারে নির্জন। পি-এন্ড-টি কোয়ার্টার ছিল। অন্যদিকে সিটি সেন্টারের ব্লক কমপ্লিট ধুধু, প্রচুর স্টোন চিপস স্তুপ করে রাখা ছিল। গোল্ড'স জিমের পেছনে সল্ট লেকের প্রথম সিনেমা হল 'শিবম'-এর কাজ চলছিল। সে কাজ আর শেষ হয়নি কোন এক ইনজাংকশনের ধাক্কায়। তার আধাখ্যাঁচড়া ধ্বংসাবশেষ এই কদিন আগেও দেখেছি। আর সেই শিবমের সামনে ছিল শংকরের চায়ের দোকান। এই গোলচক্করের আশপাশ দিয়ে গাড়ি চলত অল্পই। রাত আটটার পরে তো একেবারে নিঃঝুম। মাঝে মাঝে এস-১৪, শাটল-৯, যাদবপুর মিনি, ২২১, এস-২৩ আর ৩৯ক রুটের বাস যেত রাত এগারোটা অব্দি। গড়িয়া থেকে রাত দশটার শেষ এস-১৪ পি-এন্ড-টি পেরোত এগারোটা দশে। ব্যস।

সল্ট লেকে কংগ্রেসের অধিবেশনের সময়ে ১৯৭২ না ৭৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর জন্যে একটি প্রাসাদোপম কুটির বানানো হয়েছিল। কীভাবে যেন ছোটবেলায় একবার সেই কুটিরে গাইডেড টুর নেবার সৌভাগ্য হয়েছিল। সেই দেখেই প্রাসাদোপম শব্দের মানে শিখেছি। সে কুটির ফাঁকাই পড়ে থাকত। এদিকে তখন রাজ্যের মসনদে আমাদের সেই জনগণতান্ত্রিক বামফ্রন্ট সরকার আর জ্যোতি বসু তার মুখ্যমন্ত্রী। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আশির দশকে একসময়ে স্থির করলেন যে, রাজ্যশাসনের সুবিধের জন্যে তিনি সেই জনগণের কুটিরে আশ্রয় নেবেন। জ্যোতিবাবু ডোভার লেনের পৈতৃক বাড়িতেই থাকুন আর সল্ট লেকের প্রাসাদেই থাকুন, তাতে আমাদের মতন প্রলেতারিয়েতদের কী আর আসে যায়! কিন্তু এসে যায়, কর্তা, খুব এসে যায়। কারণ মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আমাদের সাধের ঠেকের পাশ দিয়ে প্রতিদিন সকালে যাবে আর সন্ধ্যেবেলা ফিরবে। সামনে লাল আলো জ্বালিয়ে পুলিশের গাড়ি। পেছনে পুলিশের ভ্যান। তাছাড়া অন্য সময়েও পুলিশ এই রাস্তায় টহল দিতে থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রীর কুটিরবাসের কোল্যাটারাল ড্যামেজে প্রথমেই গেল শংকরের ঝুপড়ি। জনগণেশের সরকার তো, তাই মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের পথে বেআইনি চায়ের দোকান থাকা খুবই গর্হিত ব্যাপার। জ্যোতিবাবু বা পার্টির এই ব্যাপারে কোন হাত ছিলনা বলেই মনে। পুলিশের কিছু মাঝারি-সাইজের কর্তার কাজ দেখানর বাড়াবাড়িতে শংকর তার ঝুপড়ি খোয়াল।

এখানে ঝপ করে একটা অন্য গল্প বলে নিই। কলেজ স্ট্রিটে একবার খুব স্মার্ট অর্থাৎ ওপরচালাক এক ছোকরা বান্ধবীদের সামনে কী এক ক্যারদানি দেখাতে গিয়ে পুলিশ সার্জেন্টের হাতে ধরা পড়ে। যৌবনের যা ধর্ম, ছোকরা সার্জেন্টের মুখে মুখে কিছুক্ষণ চোপা করে শেষ পর্যন্ত এই বলে খাপ খোলে যে "আমার সঙ্গে বাঁ* লাগতে এসনা, এমন দেখাব না!" এমতাবস্থায় সার্জেন্টে যা বলার, তিনিও তাই বলেন, "কী দেখাবি, দেখা।"
ছেলেটি - "দেখবে?"
সার্জেন্ট - "বলছি তো দেখা।"
ছেলেটি তখন নিজের বাঁ পা থেকে চপ্পল খুলে এক হাতে তুলে বলে, "এই চপ্পল তুললাম।" সার্জেন্ট বলল, "তারপর?" ছোকরা ডান পা থেকে চপ্পল খুলে অন্য হাতে নিয়ে বলল, "আরেকটা তুললাম, এখনও দেখতে চাও বাঁ*?" অকুতোভয় সার্জেন্ট তখনও মজা দেখার জন্যে উদগ্রীব। ছেলেটি তখন "এই দ্যাখ" বলে চপ্পল হাতে, বান্ধবীদের পেছনে ফেলে পাঁইপাঁই করে দৌড়ে শেয়ালদার দিকে ভীড়ে মিলিয়ে যায়।

এই গল্পটা না জানলে আমাদের গোলচক্করের ঠেকটি ভেঙে যেত না। হল কি, পুলিশের গাড়ির টহল বেড়ে গেছিল খুবই। আর আমরা পুলিশের গাড়ি আসতে দেখলেই মাথা নাবিয়ে পিঁপড়ে পর্যবেক্ষণ করতাম বা আকাশের দিকে মুখ করে চিল দেখতাম যাতে পুলিশে আমাদের মুখ দেখতে না পায়। কেন করতাম, আজও জানি না। কেউই তো ফেরারি আসামী ছিলাম না। কেস-টেসও ছিলনা কারুর নামে। এরকম বেশ কিছুদিন চলার পরে আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। একদিন পুলিশের ভ্যান পাশ দিয়ে যাবার সময়ে ঠেকের একজন চেঁচিয়ে ভ্যান উদ্দেশ্য করে মোলায়েম কিছু গালাগাল দেয়। দেখা গেল ভ্যান কিছুদূর গিয়ে থেমে পড়েছে। এই অবস্থায় ঠেকের সবাইকারই কলেজ স্ট্রিটের গল্প মনে পড়ে যায় ও পত্রপাঠ হাতে চটি তুলে সব চোঁচাঁ দৌড় লাগায় বিভিন্ন দিকে। ভ্যানের একমাত্র যাত্রী, তার চালক ভ্যান থেকে হন্তদন্ত হয়ে নেবে একটা গাছের তলায় দাঁড়িয়ে হিসি করে, পাশে পিচিক করে থুতু ফেলে ধীরেসুস্থে একটা বিড়ি ধরিয়ে ভ্যান স্টার্ট করে চলে গেছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীর খবর। অপসৃয়মান আমাদের পলায়নপথের দিকে একটিবারের জন্যে চোখ তুলে বা অপাঙ্গেও চেয়ে দেখেনি। কিন্তু সেই যে আমাদের গোলচক্করের ঠেক উঠে গেল, আজ অব্দি আর সে ফিরে এলনা।

পুলিশের হিসিতে ঠেকের মৃত্যুর ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে সেই প্রথম। আশা করি, সেই শেষও।


722 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: saikat

Re: একটি ঠেকের মৃত্যুরহস্য

আমি তো শুনেছিলাম, পুলিশের সাথে ঝামেলায়, ঐ গোলচক্করের ঠেকের কোন ছেলে বা ছেলেদের পেছনে পুলিশ রুল ঢুকিয়ে মোচর দিয়েছিল। তারপরই ঠেকটি ভেঙে যায় 😀
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: একটি ঠেকের মৃত্যুরহস্য

জনগণতন্ত্রের সরকারের পুলিশ বলে কথা! 😥
Avatar: mila

Re: একটি ঠেকের মৃত্যুরহস্য

আহা সেই পি এন্ড টি কোয়ার্টার্স
Avatar: শেখর

Re: একটি ঠেকের মৃত্যুরহস্য

স্মৃতি উস্কে দেওয়া মনোরম লেখা। ছোট্ট একটা তথ্যগত ভ্রান্তি চোখে পরল। জ্যোতিবাবুর পৈতৃক বাড়ি তো ডোভার লেনে নয়, হিন্দুস্তান পার্কে বলেই জানতাম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন