বিপ্লব রহমান RSS feed

biplobr@gmail.com
বিপ্লব রহমানের ভাবনার জগৎ

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মানবিক
    এনআরএস-এর ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এরকম ঘটনা বারেবারেই ঘটে চলেছে এবং ভবিষ্যতে ঘটতে চলেছে আরও। ঘটনাটি সমর্থনযোগ্য নয় অথবা ঘৃণ্য অথবা পাশবিক (আয়রনি); এই জাতীয় কোনো মন্তব্য করার জন্য এই লেখাটা লিখছি না। বরং অন্য কতগুলো কথা বলতে চাই। আমার মনে হয় এই ঘটনার ...
  • ডিগ্রি সংস্কৃতি
    মমতার সবৈতনিক শিক্ষানবিস শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের ঘোষণায় চারপাশে প্রবল হইচই দেখছি। বিশেষ গাদা গাদা স্কুলে হাজার হাজার শিক্ষক পদ শূন্য, সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে কিছুই না করে এই ঘোষণাকে সস্তায় কাজ করিয়ে নেওয়ার তাল মনে হইয়া খুবই ...
  • বাংলাদেশের শিক্ষিত নারী
    দেশে কিছু মানুষ রয়েছে যারা নারী কে সব সময় বিবেচনা করে নারীর বিয়ে দিয়ে। মানে তাদের কাছে বিয়ে হচ্ছে একটা বাটখারা যা দিয়ে নারী কে সহজে পরিমাপ করে তারা। নারীর গায়ের রং কালো, বিয়ে দিতে সমস্যা হবে। নারী ক্লাস নাইন টেনে পড়ে? বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। উচ্চ মাধ্যমিকে ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৫)
    স্কিউ – মারখা (০৫.০৯.২০১৮)--------...
  • গন্ডোলার গান
    সে অনেককাল আগের কথা। আমার তখন ছাত্রাবস্থা। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের টাকার ভরসায় ইটালি বেড়াতে গেছি। যেতে চেয়েছিলাম অস্ট্রিয়া, সুইৎজারল্যান্ড, স্ট্রাসবুর্গ। কারণ তখন সবে ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল শুনতে শুরু করেছি। মোৎজার্টে বুঁদ হয়ে আছি। কিন্তু রিসার্চ ...
  • শেকড় সংবাদ : চিম্বুকের পাহাড়ে কঠিন ম্রো জীবন
    বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমি অধিগ্রহণের ফলে উচ্ছেদ হওয়া প্রায় ৭৫০টি ম্রো আদিবাসী পাহাড়ি পরিবার হারিয়েছে অরণ্যঘেরা স্বাধীন জনপদ। ছবির মতো অনিন্দ্যসুন্দর পাহাড়ি গ্রাম, জুম চাষের (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ চাষাবাদ) জমি, ...
  • নরেন হাঁসদার স্কুল।
    ছাটের বেড়ার ওপারে প্রশস্ত প্রাঙ্গণ। সেমুখো হতেই এক শ্যামাঙ্গী বুকের ওপর দু হাতের আঙুল ছোঁয়ায় --জোহার। মানে সাঁওতালিতে নমস্কার বা অভ্যর্থনা। তার পিছনে বারো থেকে চার বছরের ল্যান্ডাবাচ্চা। বসতে না বসতেই চাপাকলের শব্দ। কাচের গ্লাসে জল নিয়ে এক শিশু, --দিদি... ...
  • কীটদষ্ট
    কীটদষ্টএকটু একটু করে বিয়ারের মাথা ভাঙা বোতল টা আমি সুনয়নার যোনীর ভিতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছিলাম আর ওর চোখ বিস্ফারিত হয়ে ফেটে পড়তে চাইছিলো। মুখে ওরই ছেঁড়া প্যাডেড ডিজাইনার ব্রা'টা ঢোকানো তাই চিৎকার করতে পারছে না। কাটা মুরগীর মত ছটফট করছে, কিন্তু হাত পা কষে বাঁধা। ...
  • Ahmed Shafi Strikes Again!
    কয়দিন আগে শেখ হাসিনা কে কাওমি জননী উপাধি দিলেন শফি হুজুর। দাওরায় হাদিস কে মাস্টার্সের সমমর্যাদা দেওয়ায় এই উপাধি দেন হুজুর। আজকে হুজুর উল্টা সুরে গান ধরেছেন। মেয়েদের ক্লাস ফোর ফাইভের ওপরে পড়তে দেওয়া যাবে না বলে আবদার করেছেন তিনি। তাহলে যে কাওমি মাদ্রাসা ...
  • আলতামিরা
    ঝরনার ধারে ঘর আবছা স্বয়ম্বর ফেলেই এখানে আসা। বিষাদের যতো পাখিচোর কুঠুরিতে রাখিছিঁড়ে ফেলে দিই ভাষা৷ অরণ্যে আছে সাপ গিলে খায় সংলাপ হাওয়াতে ছড়ায় ধুলো। কুটিরে রেখেছি বই এবার তো পড়বোই আলোর কবিতাগুলো।শুঁড়িপথ ধরে হাঁটিফার্নে ঢেকেছে মাটিকুহকী লতার জাল ফিরে আসে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে এখনো শ্রমদাস!

বিপ্লব রহমান

"সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমরা অন্যের জমিতে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে মজুরি (শ্রম) দিয়ে আসছি। কেউ মজুরি দিতে না পারলে তার বদলে গ্রামের অন্য কোনো নারী-পুরুষকে মজুরি দিতে হয়। নইলে জরিমানা বা শাস্তির ভয় আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় যেকোনো সময় জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার।"

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ঢালে প্রায় ১০ হাজার ত্রিপুরা জনজাতির শ্রম দাসত্বের চিত্রটি এভাবেই ফুটিয়ে তুললেন ছোট কুমিরা নামক আদিবাসী পল্লীর নিকুঞ্জ ত্রিপুরা (৭০)।

কিছুদিন আগে পেশাগত কারণে সেখানের ছোট কুমিরা, বড় কুমিরা, সুলতানী মন্দির, মহাদেবপুরসহ বিভিন্ন ত্রিপুরা আদিবাসী পল্লী ঘুরে দেখা যায় ভাষাগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবেতর জীবন। ভূমিহীন, হত-দরিদ্র ত্রিপুরারা সেখানে অন্যের জমিতে বসবাস করেন। জীবিকার জন্য বংশপরম্পরায় তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে ব্যক্তিমালিকানার জমি ও ফলবাগানে শ্রম দিতে হয়। বিনিময়ে তাঁরা পান মাথাপিছু দৈনিক ১৪০ টাকা। কোনো কারণে এই শ্রম দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের দিতে হয় বদলি শ্রম অথবা জরিমানা।

এতো কিছুর পরও ফসলের জমি ও ফলবাগানের সম্পদ ভোগ করার কোনো অধিকার তাদের নেই। সেখানে নেই শিক্ষা, চিকিৎসা, স্যানিটেশন, সুপেয় জল বা বিদ্যুৎ সুবিধা। উপরন্তু ঝুপড়ি কুঁড়ে ঘরগুলোতে বসবাসের জন্য একেকটি গ্রাম থেকে তাদের জমির মালিককে বছরে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়।

বন বিভাগের সংরক্ষিত পাহাড়-বনাঞ্চল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন টিলায় অনুমতি না থাকায় তারা হারিয়ে ফেলেছেন জুম চাষ ও শিকারের ঐতিহ্য। এতোকিছুর পরেও বাড়তি দুর্ভোগ হিসেবে রয়েছে প্রতি মুহূর্তে উচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা আলাপকালে জানালেন, ত্রিপুরাদের এই দুরবস্থা সম্পর্কে তারাও ওয়াকিবহাল। কিন্তু সীতাকুণ্ডের জায়গা-জমি 'অকৃষিভুক্ত' বলে চিহ্নিত হওয়ায় সেখানের খাসজমিতে তাদের পুনর্বাসনে আইনগত সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, তবে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল সিদ্ধান্ত নিলে বিশেষ বিবেচনায় নীতিমালা শিথিল করে ত্রিপুরাদের খাসজমিতে পুনর্বাসন করা সম্ভব। এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় বলে মনে করেন তারা।

ছোট কুমিরা ত্রিপুরা পল্লীর কর্ণরাম ত্রিপুরা (৪০) এই লেখককে জানান, ব্রিটিশ তারা পাহাড় ও জঙ্গল পরিষ্কার করে গ্রামটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখন সেখানে ৯০টি পরিবারের বসবাস। আশপাশের টিলাসহ গ্রামটি অনেক বছর ধরে জহুর আহমেদ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির ইজারাধীন। খুব ভোরে গ্রামের নারী-পুরুষরা 'মালিকের' রাবার বাগানে শ্রম দিতে যান। সেখানে বাগান পরিষ্কার করার পাশাপাশি জঙ্গল থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করার কাজও করেন তারা। এই করে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে তাদের দিন কাটছে।

কয়েক বছর আগে 'ইপসা' নামের একটি বেসরকারি সংস্থা সেখানে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। বেশকিছু আদিবাসী ছেলেমেয়ে সেখানে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে, এমন একজনকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি পুরো গ্রামে।

ইপসা ছাড়া অন্য কোনো সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এখনো কোনো রকম নাগরিক সুবিধাই গ্রামটিতে পৌঁছে দেয়নি। পানীয়জলের জন্য এখনো গ্রামবাসী পাতকুয়া ও ছড়ার ওপর নির্ভরশীল। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নেই। সন্ধ্যা ঘনালে কেরোসিনের কুপি বাতির টিমটিমে আলোই ভরসা।

অন্যদিকে, মহাদেবপুর ত্রিপুরা পল্লীতে কোনো স্কুলও নেই। সেখানে বসবাসকারী ৪৫টি আদিবাসী পরিবার ভিন্ন ধরনের শোষণের শিকার। ওই পল্লীর পঞ্চকুমার ত্রিপুরা (৬৫) এই লেখককে জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে জঙ্গল পরিষ্কার করে তারা গ্রামটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানকার ইজারাদার ইস্কান্দর চৌধুরীর সঙ্গে মৌখিক চুক্তিতে গ্রামবাসী আশপাশের টিলায় বিশাল কাঁঠাল বাগান ও পেয়ারা বাগান তৈরি করেন।

তখন কথা ছিলো, আদিবাসীরা প্রতিবছর এসব ফলের আধাআধি ভাগ পাবেন। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই চুক্তির কথা অস্বীকার করেন ইজারাদার। তখন থেকেই ফলদ সম্পদের ওপর অধিকার হারিয়ে গ্রামবাসী নিজেদের তৈরি ফলবাগানে বাধ্যতামূলক শ্রম দিয়ে আসছেন। ইজারাদারের মৃত্যুর পর তার ছেলেরা বাগান ও গ্রামের ইজারাদার হয়েছেন। কিন্তু আদিবাসীদের ভাগ্য ফেরেনি।

ওই গ্রামের বাসিন্দা মনিবালা ত্রিপুরা (৫০) বললেন:

মালিক আমাদের জমি থেকে উঠে যেতে বললে যে কোনো সময় উচ্ছেদ হতে হবে। তখন আমরা যাব কোথায়? ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে খাব কী? এখানে তবু কোনো রকমে বেঁচে তো আছি!..

ত্রিপুরা গ্রামগুলো ঘুরে দেখার পুরো সময় সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীর ছোট্ট দলটিকে ঘিরে রাখে এক ঝাঁক হতদরিদ্র আদিবাসী শিশু। অধিকাংশই বাংলা ভাষা বোঝে না, শহুরে 'বাঙাল'দের কাজকর্ম দেখাতেই তাদের যতো আগ্রহ।কাজের ফাঁকে মোবাইল ফোনের ক্যামেরাতে তোলা হয় বেশকিছু আলোকচিত্র। সব দুঃখগাঁথা ছাপিয়ে ছবি তুলতে শিশুরাই দেখায় ব্যপক উৎসাহ।

চন্দ্র বিজয় বা নয়া গ্যালাক্সি আবিস্কার বা ক্লোনের পর ল্যাবরেটরীতে প্রাণ সৃষ্টির মহা মহা কীর্তি গাঁথার যুগেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে অল্প কয়েক কিলোমিটার দূরে ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথের পাহাড়ের কোলের ত্রিপুরাদের এই দূরাবস্থার কথা জেনে পথপ্রদর্শক সহযাত্রী ত্রিপুরা ছাত্রছাত্রীদের মুখে বাক্য সরে না।

খাগড়াছড়ির বাসিন্দা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী পিপিকা ত্রিপুরা ফেরার পথে বললেন:

এখানের আদিবাসীরা এখনো যেনো সেই সামন্তযুগেই আটকে আছে! দু-মুঠো আহার যোগাড় করতেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম জীবনপাত করছে। কেউ তাদের পাশে নেই!
"পাহাড়ে বিপন্ন জনপদ" (একুশে বইমেলা, ২০১৫, সংহতি প্রকাশন, কাঁটাবন ঢাকা) বই থেকে।...

149 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: রৌহিন

Re: সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে এখনো শ্রমদাস!

এই ইজারাদারদের কী বক্তব্য? এভাবে ভূমিদাস নিয়োগ কি বে-আইনী নয়?
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে এখনো শ্রমদাস!

অবশ্যই বেআইনী। ইজারাদারদের কেউ মিডিয়ার সাথে কথা বলতে রাজি নন। তাই তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলেছিলাম। তিনি জানালেন, সীতাকুণ্ডে খাস জমি নেই দেখে ভূমিহীনদের জমি বন্দোবস্ত দেওয়া যাচ্ছে না।

আমরা তাকে "একটি বাড়ি একটি খামার" ইত্যাদি সরকারি প্রকল্পে অসহায় মানুষগুলোকে পুনর্বাসনের কথা বলেছি। কিন্তু কবে যে নথি উর্ধ্বদিকে ধাবিত হবে? ততদিন এই জনপদ টিকে থাকবে তো? দেশান্তরী হতে বাধ্য হবে না?


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন