Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর
    পর্ব ১-------( লালগড় সম্প্রতি ফের খবরের শিরোনামে। শবর সম্প্রদায়ের সাতজন মানুষ সেখানে মারা গেছেন। মৃত্যু অনাহারে না রোগে, অপুষ্টিতে না মদের নেশায়, সেসব নিয়ে চাপান-উতোর অব্যাহত। কিন্তু একটি বিষয় নিয়ে বোধ হয় বিতর্কের অবকাশ নেই, প্রান্তিকেরও প্রান্তিক এইসব ...
  • 'কিছু মানুষ কিছু বই'
    পূর্ণেন্দু পত্রীর বিপুল-বিচিত্র সৃষ্টির ভেতর থেকে গুটিকয়েক কবিতার বই পর্যন্তই আমার দৌড়। তাঁর একটা প্রবন্ধের বই পড়ে দারুণ লাগলো। নিজের ভালোলাগাটুকু জানান দিতেই এ লেখা। বইয়ের নাম 'কিছু মানুষ কিছু বই'।বেশ বই। সুখপাঠ্য গদ্যের টানে পড়া কেমন তরতরিয়ে এগিয়ে যায়। ...
  • গানের মাস্টার
    আমাকে অংক করাতেন মনীশবাবু। গল্পটা ওনার কাছে শোনা। সত্যিমিথ্যে জানিনা, তবে মনীশবাবু মনে হয়না মিছে কথা বলার মানুষ। ওনার বয়ানেই বলি।তখনও আমরা কলেজ স্ট্রীটে থাকি। নকশাল মুভমেন্ট শেষ। বাংলাদেশ যুদ্ধও শেষ হয়ে গেছে। শহর আবার আস্তে আস্তে স্বভাবিক হচ্ছে। লোকজন ...
  • বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যাস
    এই লেখাটি চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম ওয়েবম্যাগে প্রকাশিত। এইখানে আবারও দিলাম। যাঁরা পড়েন নি, পড়ে দেখতে পারেন। বিজ্ঞানে বিশ্বাস, চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশ্বাস বনাম প্রশ্নের অভ্যেসবিষাণ বসু“সোমপ্রকাশ। - স্বয়ং হার্বাট স্পেন্সার একথা বলেছেন। আপনি হার্বাট স্পেন্সারকে ...
  • অতীশ দীপংকরের পৃথিবী : সন্মাত্রনন্দের নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা
    একাদশ শতকের প্রথমদিকে অতীশ দীপঙ্কর বৌদ্ধধর্ম ও সংশ্লিষ্ট জ্ঞানভাণ্ডার নিয়ে বাংলা থেকে তিব্বতে গিয়েছিলেন সেখানকার রাজার বিশেষ অনুরোধে। অতীশ তিব্বত এবং সুমাত্রা (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) সহ পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃর্ণ ভূভাগে বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনের ...
  • the accidental prime minister রিভিউ
    ২০০৫ সালের মে মাসে ইউপিএ সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে হঠাৎ একটা খবর উঠতে শুরু করল যে প্রধাণমন্ত্রী সব ক্যাবিনেট মিনিস্টারের একটা রিপোর্ট কার্ড তৈরি করবেন।মনমোহন সিং যখন মস্কোতে, এনডিটিভি একটা স্টোরি করল যে নটবর সিং এর পারফর্মেন্স খুব বাজে এবং রিপোর্ট কার্ডে ...
  • উল্টোরথ, প্রসাদ ও কলিন পাল
    ছোটবেলা থেকেই মামাবাড়ির 'পুরোনো ঘর' ব'লে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে ঝিমধরা দুপুরগুলি অতিবাহিত হতো। ঘরটি চুন সুরকির, একটি অতিকায় খাটের নীচে ডাই হয়ে জমে থাকত জমির থেকে তুলে আনা আলু, পচা গন্ধ বেরুত।দেওয়ালের এক কোণে ছিল বিচিত্র এক ক্ষুদ্র নিরীহ প্রজাতির মৌমাছির ...
  • নির্বাচন তামসা...
    বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। এবার হচ্ছে একাদশ তম জাতীয় নির্বাচন। আমি ভোট দিচ্ছি নবম জাতীয় নির্বাচন থেকে। জাতীয় নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেখার সুযোগ পেয়েছি বেশ কয়েকবার। আমার দেখা নির্বাচন গুলোর মাঝে সবচেয়ে মজার নির্বাচন ...
  • মসলা মুড়ি
    #বাইক_উৎসব_এক্সরে_নো...
  • কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর
    ক্লাস ফোরে যখন পড়ছি তখনও ফেলুদার সঙ্গে পরিচয় হয়নি, পড়িনি হেমেন্দ্রকুমার। কিন্তু, যথাক্রমে, দুটি প্ররোচনামূলক বই পড়ে ফেলেছি। একটির নাম 'শয়তানের ঘাঁটি' ও অপরটি 'চম্বলের দস্যুসর্দার'। উক্ত দুটি বইয়ের লেখকের নাম আজ প্রতারক স্মৃতির অতলে। যতদূর মনে পড়ে, এই ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ

Muhammad Sadequzzaman Sharif

আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে তার মার কথা বলতে হয় অবধারিত ভাবেই। মার কথা বলব তার আগে আজাদের কথা বলি।

শহীদ আজাদের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১১ জুলাই। নিউ ইস্কাটনে থাকতেন। বাবা তৎকালীন সময়ের বড় ব্যবসায়ী ইউনুস আহমেদ চৌধুরী। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পর আজাদ কে নিয়ে আলাদা থাকা শুরু করেন মা সাফিয়া বেগম। আজাদ করাচী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন। তারপর ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে।এরপরেই মুক্তিযুদ্ধ। ক্র্যাক প্লাটুনের বেশ কিছু অপারেশনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ৩০ আগস্ট নিজ বাসাতেই পাকিস্তান আর্মির কাছে ধরা পরেন তিনি। ক্র্যাক প্লাটুনের আরও অনেকেই সেদিন ধরা পরেন। ধরা পরেন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান রুমি। ক্র্যাক প্লাটুনের সব এক সাথে ধরা পরা নিয়ে নানা মতভেদ আছে।বিশ্বাসঘাতকতার গল্প আছে, ভীরুতার কথা আছে, সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। আজাদ ধরা পরে যাওয়ার পরেই আজাদের মা সাফিয়া বেগমের গল্প শুরু। একজন মা কি করতে পারেন তার সন্তানের জন্য তা অনন্য নজির তৈরি করেছেন তিনি।

যারা ধরা পড়েছে তারা কোথায় আছে, কেমন আছে এসব জানার জন্য নানা লোকজন কে ধরাধরি করে খবর পেলেন তারা রমনা থানায় আছে। মা গেলেন রমনা থানায়। আজাদের দেখা পেলেন। আজাদের সাথে তাকে দেখা করতে দেওয়ার আগে তাকে বলা হয়েছিল যদি আজাদ অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঠিকানা বলে দেয় তাহলে আজাদ কে মুক্তি দেওয়া হবে। পাকিস্তান আর্মি মা কে ব্যবহার করে তথ্য আদায় করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা তখনো এই মা কে চিনেনি। মা আজাদের সাথে দেখা করলেন এবং করলেন পুরো উল্টো কাজ। আজাদ কে নাম ঠিকানা বলে দেওয়ার জায়গায় বললেন একজন মায়ের জন্য সবচেয়ে কষ্টের এই সাথে সাহসের কথা। তিনি আজাদ কে বললেন, বাবা, শক্ত হয়ে থেকো, কোন কিছু স্বীকার কর না।মা দেখা করার আগেই আজাদদের উপরে অমানুষিক নির্যাতন শুরু হয়ে গিয়েছিল। আজাদের অবস্থা দেখেও মা তাকে বললেন, কোন কিছু স্বীকার করো না, সহ্য করে থেকো!! একজন মা কিভাবে পারে? কোন ধাতুতে তৈরি আমাদের মারা? একজন মা ছেলেকে নির্দ্বিধায় বলে দেন, যা তোকে দেশের নামে কুরবানি করে দিলাম। আরেকজন মা বলছেন শত কষ্টেও কোন কিছু যেন ছেলে স্বীকার না করে। যুগে যুগে এমন মায়ের আশায়ই থাকে জাতি, যে কোন জাতি।
শেষ মুহূর্তে আজাদ মা কে বলে, এরপর আসলে ভাত নিয়ে এসো, দুই দিন ভাত খাইনি। মা পরেরদিন ভাত নিয়ে থানায় গেলেন কিন্তু আজাদের দেখা আর পানি। আজাদ কে আর ভাত খাওয়াতে পারেননি মা।

১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিল মা। মারা যান ঠিক ৩০ আগস্ট। যেদিন ধরা পড়েছিল আজাদেরা। যে ১৪ বছর বেঁচে ছিল মা সেই ১৪ বছরে আর কোনদিন ভাত খাননি তিনি। এক বেলা রুটি খেয়ে থেকেছেন। বিছানায় ঘুমাননি তিনি আর। মেঝেতে শুয়ে কাটিয়েছেন বাকি জীবন। শীত বর্ষা কোন কিছুতেই তিনি আর বিছানায় শুতে যান নি। কিভাবে যাবে? তার ছেলে তো টর্চার সেলে বিছানা পায়নি। বাকি জীবন ভাত না খেয়ে আর বিছানায় না শুয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন। এমন মায়ের সন্তান বলেই শহীদ আজাদও তেমনই ছিলেন। জীবন দিয়ে দিয়েছেন তবু মুখ খুলেননি। বাঁচার রাস্তা তো খুব সহজ ও সোজাই ছিল।

এমন মা আর এমন সন্তান আমাদের দিকে কি তাকিয়ে করুণার হাসি দেয়? আমরা যারা স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ কে খুব সহজ হিসেব বলে মনে করি। আমরা যাদের বোধের বাহিরে থেকে যায় পতাকার রঙের মর্মার্থ, যারা খুব করে প্রমাণ করতে চাই দেশ ব্যাপারটা আসলে পুরোই বায়বীয় জিনিস, যেনতেন ভাবে দেশ ছাড়াটাই যাদের কাছে মোক্ষ লাভ। আমাদের কারো পক্ষে কি সম্ভব শহীদ আজাদের বা মায়ের মুখোমুখি হওয়া?

শুভ জন্মদিন ভাই। আমরা খুব দুর্বল ভাই তোমার। আমরা এখন ব্যস্ত আমাদের ব্যস্ততা নিয়ে। দেশ ও দেশপ্রেম খুব প্রাচীন একটা ব্যাপার ব্যস্ত হওয়ার জন্য।ক্ষমা করো ভাই।




101 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: aranya

Re: শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ

বীর মায়ের বীর সন্তান। দেশের এই সুসন্তানেরা বেশি দিন বাঁচে না, এটাই দুঃখ

এই মাতা-পুত্রের কথা জানতাম না আগে, ধন্যবাদ শরিফ


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ

জনপ্রিয় উপন্যাসিক আনিসুল হক শহীদ আজাদের জীবন কথা আর তার মার আত্মত্যাগ নিয়ে বিখ্যাত উপন্যাস লিখেছেন "মা"। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ন সংযোজন।

ভাবতে অবাক লাগে, পাকিস্তানের জন্মের সময় শিশুটির জন্ম বলে তার নাম রাখা হলো " আজাদ"। আর সেই ছেলেই কি না বড় হয়ে পেয়ারে পাকিস্তান ভাংগার জন্য অস্ত্র তুলে নিল! এই সব বীর মুক্তিযোদ্ধারাই আমাদের আগামীর পথ চলার প্রেরণা।

শহীদ আজাদকে নিয়ে "অবসকিউর" গান করেছে, সেটাও প্রশংসাযোগ্য :

https://youtu.be/ldjky20flYE
Avatar: অদিতি কবির

Re: শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ

শহীদ আজাদের বাবার বাড়িতে একটা বাংলা সিনেমার গান চিত্রায়িত হয়েছিল, সে গানে ছিলেন পশ্চিম বঙ্গের অভিনেত্রী আলপনা গোস্বামী। গানটি -
https://www.youtube.com/watch?v=xslkpcbcbXA


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন