Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...
  • পুরীযাত্রা
    কাল রথের মেলা। তাই নিয়ে আনন্দ করার বয়স পেরিয়ে গেছে এটা মনে করাবার দরকার নেই। তবু লিখছি কারণ আজকের সংবাদপত্রের একটি খবর।আমি তাজ্জব কাগজে উকিলবাবুদের কান্ডকারখানা পড়ে। আলিপুর জাজেস কোর্ট ও পুলিশ কোর্টে প্রায় কোন উকিলবাবু নেই, দু চারজন জুনিয়র ছাড়া। কি ...
  • আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা
    প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন, সে-ও অনেকদিন আগের কথা। এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের ...
  • শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ
    আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে ...
  • রামায়ণ, ইন্টারনেট ও টেনিদা (পর্ব ২)
    ঘুগনীটা শেষ করে শালপাতাটা আমার দিকে এগিয়ে টেনিদা বললে, "বলতো, রামায়ণ কাকে নিয়ে লেখা?"আমি অনেকক্ষণ ধরে দেখছিলাম শালপাতায় কোণায় এককুচি মাংস লেগে আছে। টেনিদা পাতাটা এগোতেই তাড়াতাড়ি করে কোণে লেগে থাকা মাংসের কুচিটা মুখে চালান করে দিয়ে বললুম, "কেন, রামচন্দ্রকে ...
  • এক উন্মাদ সময়ের স্মৃতিকথন
    দেশভাগ, বাটওয়ারা, পার্টিশান – উপমহাদেশের চুপচুপে রক্তভেজা এক অধ্যায় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা, নির্মম কাটাছেঁড়া এই সবই ভারতে শুরু হয় মোটামুটি ১৯৪৭ এর পঞ্চাশ বছর পূর্তির সময়, অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে। তার আগে স্থাবর অস্থাবর সবকিছু ছেড়ে কোনওমতে প্রাণ নিয়ে পালানো মানুষজনও ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ

Muhammad Sadequzzaman Sharif

আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে তার মার কথা বলতে হয় অবধারিত ভাবেই। মার কথা বলব তার আগে আজাদের কথা বলি।

শহীদ আজাদের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১১ জুলাই। নিউ ইস্কাটনে থাকতেন। বাবা তৎকালীন সময়ের বড় ব্যবসায়ী ইউনুস আহমেদ চৌধুরী। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পর আজাদ কে নিয়ে আলাদা থাকা শুরু করেন মা সাফিয়া বেগম। আজাদ করাচী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন। তারপর ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে।এরপরেই মুক্তিযুদ্ধ। ক্র্যাক প্লাটুনের বেশ কিছু অপারেশনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ৩০ আগস্ট নিজ বাসাতেই পাকিস্তান আর্মির কাছে ধরা পরেন তিনি। ক্র্যাক প্লাটুনের আরও অনেকেই সেদিন ধরা পরেন। ধরা পরেন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান রুমি। ক্র্যাক প্লাটুনের সব এক সাথে ধরা পরা নিয়ে নানা মতভেদ আছে।বিশ্বাসঘাতকতার গল্প আছে, ভীরুতার কথা আছে, সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। আজাদ ধরা পরে যাওয়ার পরেই আজাদের মা সাফিয়া বেগমের গল্প শুরু। একজন মা কি করতে পারেন তার সন্তানের জন্য তা অনন্য নজির তৈরি করেছেন তিনি।

যারা ধরা পড়েছে তারা কোথায় আছে, কেমন আছে এসব জানার জন্য নানা লোকজন কে ধরাধরি করে খবর পেলেন তারা রমনা থানায় আছে। মা গেলেন রমনা থানায়। আজাদের দেখা পেলেন। আজাদের সাথে তাকে দেখা করতে দেওয়ার আগে তাকে বলা হয়েছিল যদি আজাদ অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঠিকানা বলে দেয় তাহলে আজাদ কে মুক্তি দেওয়া হবে। পাকিস্তান আর্মি মা কে ব্যবহার করে তথ্য আদায় করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা তখনো এই মা কে চিনেনি। মা আজাদের সাথে দেখা করলেন এবং করলেন পুরো উল্টো কাজ। আজাদ কে নাম ঠিকানা বলে দেওয়ার জায়গায় বললেন একজন মায়ের জন্য সবচেয়ে কষ্টের এই সাথে সাহসের কথা। তিনি আজাদ কে বললেন, বাবা, শক্ত হয়ে থেকো, কোন কিছু স্বীকার কর না।মা দেখা করার আগেই আজাদদের উপরে অমানুষিক নির্যাতন শুরু হয়ে গিয়েছিল। আজাদের অবস্থা দেখেও মা তাকে বললেন, কোন কিছু স্বীকার করো না, সহ্য করে থেকো!! একজন মা কিভাবে পারে? কোন ধাতুতে তৈরি আমাদের মারা? একজন মা ছেলেকে নির্দ্বিধায় বলে দেন, যা তোকে দেশের নামে কুরবানি করে দিলাম। আরেকজন মা বলছেন শত কষ্টেও কোন কিছু যেন ছেলে স্বীকার না করে। যুগে যুগে এমন মায়ের আশায়ই থাকে জাতি, যে কোন জাতি।
শেষ মুহূর্তে আজাদ মা কে বলে, এরপর আসলে ভাত নিয়ে এসো, দুই দিন ভাত খাইনি। মা পরেরদিন ভাত নিয়ে থানায় গেলেন কিন্তু আজাদের দেখা আর পানি। আজাদ কে আর ভাত খাওয়াতে পারেননি মা।

১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিল মা। মারা যান ঠিক ৩০ আগস্ট। যেদিন ধরা পড়েছিল আজাদেরা। যে ১৪ বছর বেঁচে ছিল মা সেই ১৪ বছরে আর কোনদিন ভাত খাননি তিনি। এক বেলা রুটি খেয়ে থেকেছেন। বিছানায় ঘুমাননি তিনি আর। মেঝেতে শুয়ে কাটিয়েছেন বাকি জীবন। শীত বর্ষা কোন কিছুতেই তিনি আর বিছানায় শুতে যান নি। কিভাবে যাবে? তার ছেলে তো টর্চার সেলে বিছানা পায়নি। বাকি জীবন ভাত না খেয়ে আর বিছানায় না শুয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন। এমন মায়ের সন্তান বলেই শহীদ আজাদও তেমনই ছিলেন। জীবন দিয়ে দিয়েছেন তবু মুখ খুলেননি। বাঁচার রাস্তা তো খুব সহজ ও সোজাই ছিল।

এমন মা আর এমন সন্তান আমাদের দিকে কি তাকিয়ে করুণার হাসি দেয়? আমরা যারা স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ কে খুব সহজ হিসেব বলে মনে করি। আমরা যাদের বোধের বাহিরে থেকে যায় পতাকার রঙের মর্মার্থ, যারা খুব করে প্রমাণ করতে চাই দেশ ব্যাপারটা আসলে পুরোই বায়বীয় জিনিস, যেনতেন ভাবে দেশ ছাড়াটাই যাদের কাছে মোক্ষ লাভ। আমাদের কারো পক্ষে কি সম্ভব শহীদ আজাদের বা মায়ের মুখোমুখি হওয়া?

শুভ জন্মদিন ভাই। আমরা খুব দুর্বল ভাই তোমার। আমরা এখন ব্যস্ত আমাদের ব্যস্ততা নিয়ে। দেশ ও দেশপ্রেম খুব প্রাচীন একটা ব্যাপার ব্যস্ত হওয়ার জন্য।ক্ষমা করো ভাই।




শেয়ার করুন


Avatar: aranya

Re: শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ

বীর মায়ের বীর সন্তান। দেশের এই সুসন্তানেরা বেশি দিন বাঁচে না, এটাই দুঃখ

এই মাতা-পুত্রের কথা জানতাম না আগে, ধন্যবাদ শরিফ


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ

জনপ্রিয় উপন্যাসিক আনিসুল হক শহীদ আজাদের জীবন কথা আর তার মার আত্মত্যাগ নিয়ে বিখ্যাত উপন্যাস লিখেছেন "মা"। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ন সংযোজন।

ভাবতে অবাক লাগে, পাকিস্তানের জন্মের সময় শিশুটির জন্ম বলে তার নাম রাখা হলো " আজাদ"। আর সেই ছেলেই কি না বড় হয়ে পেয়ারে পাকিস্তান ভাংগার জন্য অস্ত্র তুলে নিল! এই সব বীর মুক্তিযোদ্ধারাই আমাদের আগামীর পথ চলার প্রেরণা।

শহীদ আজাদকে নিয়ে "অবসকিউর" গান করেছে, সেটাও প্রশংসাযোগ্য :

https://youtu.be/ldjky20flYE


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন