Ranajay Banerjee RSS feed

Ranajay Banerjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মাতৃভাষা দিবস
    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শুধু মাত্র বাংলার জন্য না। যেহেতু এখন আন্তর্জাতিক সম্মান পেয়েছে তাই বিশ্বের সকল নাগরিকের যার যার নিজের মাতৃভাষা দিবস আজকে। আমরা রক্তের বিনিময়ে এই দিন পেয়েছে কারন আমাদের কপাল খারাপ ছিল। অদ্ভুত মাথা মোটা এ জাতির সাথে ইতিহাসের ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৭)
    থাচুংসে – কাং ইয়াৎজে বেসক্যাম্প (০৭.০৯.২০১৮) --------------------...
  • রাষ্ট্রের ম্যাজিকথলি
    রাষ্ট্র একটি কল্পিত ব্যবস্থা। রাষ্ট্র বলে আসলে কিছু হয় না। আমরা ভেবে নিয়েছি এবং বিশ্বাস করছি তাই রাষ্ট্র আছে। আমার সামনে এই মুহূর্তে যে কম্পিউটারটা রয়েছে রাষ্ট্রের থেকে তা অনেক বেশি সত্যি। এই স্ক্রীনটাকে আমি ছুঁয়ে দেখতে পারি, রাষ্ট্রকে ছুঁয়ে দেখতে পারি ...
  • অ্যান্টনির বেহালা
    তখন আমি এফডি ব্লকে মুস্তাফির নেটে খেলতে যাই। আমার নিজের কোন ব্যাট ছিল না। ইংলিশ উইলো আর কোত্থেকে পাব! বাবা কাশ্মীরে কাজে গেছিল। একটা কাশ্মীর উইলোর ব্যাট এনে দিয়েছিল। সে ব্যাটে খেলা হয়নি। আসলে ব্যাটটা একেবারে কাঁচা, কারখানা থেকে কেনা। দেশের সব ভাল ব্যাট ...
  • সেন্সরের হাত থেকে বাঁচার সহজ উপায়
    অনেকেই বুঝতে পারছেননা, ভবিষ্যতের ভূত বাতিল হয়েছে স্রেফ শিল্পগত কারণে। বাংলায় এখন শিল্পী একজনই, ভুল করলে তিনি কান মলে দেবেনই। কেউ সেটা না বুঝলে তার একমাত্র কারণ, তিনি মাননীয়ার কবিতা খুঁটিয়ে পড়েনি। পুরোটাই শিক্ষার অভাব। মাননীয়া তাঁর 'নামতা' শীর্ষক কবিতায় ...
  • জঙ্গিবাদ প্রবণতা তৈরির ক্ষেত্রে অনেকাংশেই দায়ী সামাজিক বিচ্ছিন্নতাবোধ
    জঙ্গিবাদ বর্তমান বিশ্বের একটি অন্যতম সমস্যা ও সব থেকে উত্তপ্ত টপিকগুলোর মধ্যে একটি। জঙ্গিবাদকে ঠেকানোর জন্য সব সময়ই নতুন নতুন পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, নেয়াও হচ্ছে। কিন্তু কোন সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে সেই সমস্যার কারণ জানাটা আবশ্যক। আর সেই ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৬)
    মারখা – থাচুংসে (০৬.০৯.২০১৮)--------...
  • শেষ অস্ত্র
    ইঁদুরের উপদ্রব এতোই বেড়েছে যে, তাদের যন্ত্রণায় বেঁচে থাকাটা দায় হয়ে পড়েছে। আব্দুর রহমান সাহেব তার এই পঞ্চাশ বছরের জীবনে এমন ইঁদুরের বিস্তার দেখেন নি। সারা বাড়িতে ইঁদুর আর ইঁদুর। দিনে দুপুরে দেখা যায় ইঁদুরেরা দলবল নিয়ে ঘোরাঘোরি করছে। এতোসব ইঁদুরকে ...
  • জার্ণাল ২০১৯ - ২
    জার্ণাল ২০১৯ লেখা শুরু হয়েছিল বছরের গোড়ায়। যেমন হয়, বাকি পড়ে, কিছু লেখাও হয়। আগের লেখার নিচে পর পর জুড়ব ভেবেছিলাম, তা আর হচ্ছে না, তার বদলে আগের লেখার লিঙ্ক রইল। http://www.guruchand...
  • শ্রীপঞ্চমী: পুণ্য মাঘ মাস
    "যায় অন্তরীক্ষেতে অঙ্গদ ডাকাবুকা।বায়ুভরে উড়ে যেন জ্বলন্ত উল্কা।।লঙ্কাপুরী গেল বীর ত্বরিত গমন।পাত্রমিত্র লয়ে যথা বসেছে রাবণ।।"গল্পটি শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক সৌমেন্দ্রনাথ পালের কাছে শোনা। সৌমেনবাবু আমার বাবারই বয়েসী ছিলেন। স্যারের জন্মদিন বোধহয় 11ই মার্চ, বাবার 5ই ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ২)

Ranajay Banerjee


বছর তিন বাদে সুকিয়া স্ট্রিটের পাড়ায়, বাড়ির ঠিক সামনের মাঠে চুপচাপ বসে দেখতে হত বড়দের খেলা, নিজে খেলার উপায় ছিল কম। বিকল্প হিসেবে ফুটবলের জায়গা হিসেবে নেওয়া হল পাড়ার বন্ধু বাজুর বাড়ির সরু গলি, সাড়ে চার থেকে পাঁচ ফুট চওড়া, যেখানে আমি আর বাজুই শুধু দুটো দল, বল ছিল পয়সা থাকলে রাবার ডিউস ক্রিকেট বল আর না থাকলে সুতো বাঁধা প্লাস্টিকের ড্যালা।

একে অন্যকে ঐ সরু জায়গার মধ্যে টপকে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে শরীরের ভার পরিবর্তন, ভারসাম্য আর সব মিলিয়ে সামান্য জায়গায় ড্রিবলিং স্কিল তৈরির রান্নাঘর ছিল সেই গলি। বাজুর তৈরি হল পায়ের তেলো দিয়ে সূক্ষ্মভাবে চকিতে বল টেনে নেওয়ার ক্ষমতা, আমার এল নিমেষে এক পা থেকে অন্য পায়ে শরীরের ওজন নিয়ে যাওয়া আর দিক পরিবর্তনের নৈপুণ্য।

সবদিক দিয়েই নিরীহ, গোবেচারা, মুখচোরা, কল্পনাবিলাসী, বই পড়ার উন্মাদ নেশা নিয়েও ছাত্র হিসেবে অতি সাধারণ ছেলেটির একমাত্র জেতার জায়গা হয়ে দাঁড়াল ফুটবল মাঠ।

ক্লাস ফোরে স্কুল টুর্নামেন্টে প্রথমবার ক্লাস টিমে সুযোগ পেয়ে বাবার পায়ে ঝাঁপিয়ে, খেলার সরঞ্জামের দোকানে গিয়ে জীবনের প্রথম জার্সি কেনা হল, আদতে যেটা ছিল গোলকিপারের জার্সি। জানতাম না। কিন্তু ফুলহাতা ছিল তো। সে জার্সি নিয়ে মাঠে যাওয়া আর আবিষ্কার করা, আমি বাদ। আমার চশমা আছে বলে। বাড়ি ফেরা সারা রাস্তা কাঁদতে কাঁদতে আর বাবাকে বলতে বলতে, “ওদের সবার থেকে আমি বেশি ভালো খেলি তো, তাহলে নেবে না কেন?” বাবা বিষণ্ণ মুখ, নিরুত্তর। বাবাও তো সেবার আমার চশমার পরোয়া করেনি। স্কুল করেছিল।

স্কুল করেছিল বারবার। স্কুল পালটে যাওয়ার পরেও। ক্লাস সিক্স কি সেভেন হবে। ইন্টার-স্কুল চার দশের (উচ্চতা চার ফুট দশ ইঞ্চির মধ্যে হতে হবে) টুর্নামেন্টে হিন্দু স্কুলের টিমে আমি রিজার্ভে। পাড়ার পাশেই হৃষীকেশ পার্কে খেলা। টিমের ক্যাপ্টেন ও সেরা মিডফিল্ডার বাজু আর টিমের সেরা ফরওয়ার্ড, ওপরের ক্লাসের বাবুয়া, যার পায়ে বল কথা বলত, দুজনেই ছিল আমার পাড়ার ছেলে। তাই বোধহয় আমাদের বোঝাপড়াও ছিল টেলিপ্যাথিক। আমাদের স্কুল তখন দু’ গোলে হারছে। আজো মনে আছে, দুজনেই বারবার আমাদের খেলার শিক্ষক নির্মলবাবুকে বলছে,” রণজয়কে নামান স্যার, এখনো জিতে যাব।“ নির্মলবাবু গোঁ ধরে আছেন, চশমা পরা ছেলেকে তিনি নামাবেন না। মাঠে বাজু পায়ে বল নিয়ে অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছে দুজন মিলে গার্ড করা বাবুয়ার দিকে, প্রতিপক্ষ অনেক আগেই বুঝে নিয়েছিল এই একটিমাত্র ছেলে বল না পেলে বাকিরা কোন বিপদই তৈরি করতে পারবে না। সারাটা ম্যাচ, আমি মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে, অপেক্ষা ছেড়ে দেওয়া অপেক্ষায়। শুধু দেখতে থাকা, বাবুয়া কখনো বল পেলে অভ্যেসবশত কোথায় পাস দিয়ে যাচ্ছে, আর কেউ সেখানে নেই, যেখানে আমার অবধারিত থাকার কথা ছিল আর ধীরে ধীরে বাজু আর বাবুয়ার মেনে নেওয়া, সমস্ত প্রচেষ্টার অর্থহীনতার কথা। আমার মনে বুদবুদ কেটে যাওয়া চিন্তা, তাহলে কিসের জন্য দিনের পর দিন স্কুল টিমের সঙ্গে প্র্যাকটিস? কি অর্থ এই মাঠ থেকে দূরবর্তী অস্তিত্বের, যেখানে বাবুয়া ছাড়া আমার থেকে কেউ ভালো খেলে না? সে বছর আমাদের স্কুল শুধু হারেনি, দু’ বছরের জন্য ডিসকোয়ালিফায়েড হয়েছিল। কারণটা তৎকালীন খেলার শিক্ষকরা জানতেন।

সেই রাগই বোধহয় বেরিয়ে এসেছিল পরের সপ্তাহে পাড়ার ম্যাচে। ঐ হৃষীকেশ পার্কেই। একদিকে মিলন সমিতি, যারা নার্সারি লিগ খেলে, নিয়মিত প্র্যাকটিস করে। অন্যদিকে আমাদের পাড়ার টিম - বাবুয়া, বরুন আর আমি। ততদিনে বাবুয়া আর আমার ড্রিবলিং আর বরুনের ফলস মুভ দেখার জন্য লোক দাঁড়িয়ে যায়, খেপ খেলতে যাওয়ার জন্য ভালো টাকার প্রস্তাব আসে আর ইস্টবেঙ্গল সাবজুনিয়র টিমের জন্য আমি স্পটেড হয়েছি (অসম্ভব তো ছিলই কারণ চশমা এবং হুমমম...ক্লাবটা মোহনবাগান নয় বলে)।

সে খেলায় আমরা গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম মিলন সমিতিকে। প্রচণ্ড বৃষ্টির পর পা ডুবে যাওয়া কাদা মাঠ আমাদের কারোরই পছন্দ ছিল না। তবুও বাবুয়া বোধহয় খান চারেক গোল করে, আমি তিনটে। মনে আছে, আমি তিনজনকে কাটিয়ে গোলের কাছাকাছি, সামনে শুধু গোলকিপার। নিশ্চিত গোল। শেষ টাচ নিলাম, বল পুরো নিয়ন্ত্রণে, হঠাৎ পা ঢুকে গেল কাদায়, যতক্ষণে পা তুলতে পারলাম, ততক্ষণে গোলকিপার হেলতে দুলতে এসে বল হাতে তুলে নিয়েছে।

হাফটাইম। প্রচুর প্রশংসা। মাঠের বাইরে দেখি এক দাদা দাঁড়িয়ে, বয়েসে বেশ খানিক বড়, পেশাদার ফুটবলার, পাড়ায় কদাচিৎ খেলে, তা দেখেই আমি তার বিশাল ভক্ত। আমি একগাল হেসে বললাম,” মাঠটা শুকনো থাকলে না...”। দাদার প্রথম কথা, “চশমা মুছে নিয়ে মাঠ দেখতে শেখ আগে।“ আমার সব হাসি মুছে গেল। “তোর পায়ে শট নেই, হেড করতে পারিস না চশমার জন্য, পাস দিতে শিখিসনি স্বার্থপর খেলোয়াড় বলে। না বুঝিস খেলার ছক, না আছে খেলার বেসিক চারটে স্কিলের মধ্যে দুটো।“ আমি তুতলে তুতলে বললাম,” না শট নেই কিন্তু আমি তো পাস দিতে পারি...আর রিসিভ ভালই পারি...আর ড্রিবলিং...” দাদা ঠাণ্ডা গলায় বলল, “যে আউটসাইড ডজ পারে না, সে পারে ড্রিবলিং! আর পাস দিতে গেলে আগে তো দেখতে হবে প্লেয়ার কোথায় আছে, কোথায় যাবে আর তার জন্য তো আগে বল থেকে মাথা তুলতে হবে। তুলিস তুই?” তখন কি আর মাথা তোলার অবস্থায় আছি?

বলা বাহুল্য, সেদিন আর মাঠে নামিনি। ফুটবল শেখার সেই শুরু, খেলতে শুরু করার অন্তত সাত-আট বছর পর।

(ক্রমশ)

227 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ২)

পরের পর্বের অপেক্ষায় ...
Avatar: শঙ্খ

Re: ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ২)

দারুণ দারুণ! এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললুম
Avatar: Ranajay Banerjee

Re: ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ২)

দ্বিতীয় পর্ব দেখে খুঁজে প্রথমটা বের করে পরপর দুটোই পড়ে ফেললাম...দারুন হচ্ছে লেখাটা !!
Avatar: Ranajay Banerjee

Re: ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ২)

Avatar: pi

Re: ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ২)

আপনি প্রথম পর্বের নিচে পরের পর্বগুলো আপেন্ডও করতে পারেন।

আর বেশ ভাল লাগছে সিরিজটা, শেয়ারও করে ফেললাম ঃ)
Avatar: ।

Re: ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ২)




আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন