Ranajay Banerjee RSS feed

Ranajay Banerjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...
  • পুরীযাত্রা
    কাল রথের মেলা। তাই নিয়ে আনন্দ করার বয়স পেরিয়ে গেছে এটা মনে করাবার দরকার নেই। তবু লিখছি কারণ আজকের সংবাদপত্রের একটি খবর।আমি তাজ্জব কাগজে উকিলবাবুদের কান্ডকারখানা পড়ে। আলিপুর জাজেস কোর্ট ও পুলিশ কোর্টে প্রায় কোন উকিলবাবু নেই, দু চারজন জুনিয়র ছাড়া। কি ...
  • আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা
    প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন, সে-ও অনেকদিন আগের কথা। এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের ...
  • শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ
    আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে ...
  • রামায়ণ, ইন্টারনেট ও টেনিদা (পর্ব ২)
    ঘুগনীটা শেষ করে শালপাতাটা আমার দিকে এগিয়ে টেনিদা বললে, "বলতো, রামায়ণ কাকে নিয়ে লেখা?"আমি অনেকক্ষণ ধরে দেখছিলাম শালপাতায় কোণায় এককুচি মাংস লেগে আছে। টেনিদা পাতাটা এগোতেই তাড়াতাড়ি করে কোণে লেগে থাকা মাংসের কুচিটা মুখে চালান করে দিয়ে বললুম, "কেন, রামচন্দ্রকে ...
  • এক উন্মাদ সময়ের স্মৃতিকথন
    দেশভাগ, বাটওয়ারা, পার্টিশান – উপমহাদেশের চুপচুপে রক্তভেজা এক অধ্যায় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা, নির্মম কাটাছেঁড়া এই সবই ভারতে শুরু হয় মোটামুটি ১৯৪৭ এর পঞ্চাশ বছর পূর্তির সময়, অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে। তার আগে স্থাবর অস্থাবর সবকিছু ছেড়ে কোনওমতে প্রাণ নিয়ে পালানো মানুষজনও ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ২)

Ranajay Banerjee


বছর তিন বাদে সুকিয়া স্ট্রিটের পাড়ায়, বাড়ির ঠিক সামনের মাঠে চুপচাপ বসে দেখতে হত বড়দের খেলা, নিজে খেলার উপায় ছিল কম। বিকল্প হিসেবে ফুটবলের জায়গা হিসেবে নেওয়া হল পাড়ার বন্ধু বাজুর বাড়ির সরু গলি, সাড়ে চার থেকে পাঁচ ফুট চওড়া, যেখানে আমি আর বাজুই শুধু দুটো দল, বল ছিল পয়সা থাকলে রাবার ডিউস ক্রিকেট বল আর না থাকলে সুতো বাঁধা প্লাস্টিকের ড্যালা।

একে অন্যকে ঐ সরু জায়গার মধ্যে টপকে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে শরীরের ভার পরিবর্তন, ভারসাম্য আর সব মিলিয়ে সামান্য জায়গায় ড্রিবলিং স্কিল তৈরির রান্নাঘর ছিল সেই গলি। বাজুর তৈরি হল পায়ের তেলো দিয়ে সূক্ষ্মভাবে চকিতে বল টেনে নেওয়ার ক্ষমতা, আমার এল নিমেষে এক পা থেকে অন্য পায়ে শরীরের ওজন নিয়ে যাওয়া আর দিক পরিবর্তনের নৈপুণ্য।

সবদিক দিয়েই নিরীহ, গোবেচারা, মুখচোরা, কল্পনাবিলাসী, বই পড়ার উন্মাদ নেশা নিয়েও ছাত্র হিসেবে অতি সাধারণ ছেলেটির একমাত্র জেতার জায়গা হয়ে দাঁড়াল ফুটবল মাঠ।

ক্লাস ফোরে স্কুল টুর্নামেন্টে প্রথমবার ক্লাস টিমে সুযোগ পেয়ে বাবার পায়ে ঝাঁপিয়ে, খেলার সরঞ্জামের দোকানে গিয়ে জীবনের প্রথম জার্সি কেনা হল, আদতে যেটা ছিল গোলকিপারের জার্সি। জানতাম না। কিন্তু ফুলহাতা ছিল তো। সে জার্সি নিয়ে মাঠে যাওয়া আর আবিষ্কার করা, আমি বাদ। আমার চশমা আছে বলে। বাড়ি ফেরা সারা রাস্তা কাঁদতে কাঁদতে আর বাবাকে বলতে বলতে, “ওদের সবার থেকে আমি বেশি ভালো খেলি তো, তাহলে নেবে না কেন?” বাবা বিষণ্ণ মুখ, নিরুত্তর। বাবাও তো সেবার আমার চশমার পরোয়া করেনি। স্কুল করেছিল।

স্কুল করেছিল বারবার। স্কুল পালটে যাওয়ার পরেও। ক্লাস সিক্স কি সেভেন হবে। ইন্টার-স্কুল চার দশের (উচ্চতা চার ফুট দশ ইঞ্চির মধ্যে হতে হবে) টুর্নামেন্টে হিন্দু স্কুলের টিমে আমি রিজার্ভে। পাড়ার পাশেই হৃষীকেশ পার্কে খেলা। টিমের ক্যাপ্টেন ও সেরা মিডফিল্ডার বাজু আর টিমের সেরা ফরওয়ার্ড, ওপরের ক্লাসের বাবুয়া, যার পায়ে বল কথা বলত, দুজনেই ছিল আমার পাড়ার ছেলে। তাই বোধহয় আমাদের বোঝাপড়াও ছিল টেলিপ্যাথিক। আমাদের স্কুল তখন দু’ গোলে হারছে। আজো মনে আছে, দুজনেই বারবার আমাদের খেলার শিক্ষক নির্মলবাবুকে বলছে,” রণজয়কে নামান স্যার, এখনো জিতে যাব।“ নির্মলবাবু গোঁ ধরে আছেন, চশমা পরা ছেলেকে তিনি নামাবেন না। মাঠে বাজু পায়ে বল নিয়ে অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছে দুজন মিলে গার্ড করা বাবুয়ার দিকে, প্রতিপক্ষ অনেক আগেই বুঝে নিয়েছিল এই একটিমাত্র ছেলে বল না পেলে বাকিরা কোন বিপদই তৈরি করতে পারবে না। সারাটা ম্যাচ, আমি মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে, অপেক্ষা ছেড়ে দেওয়া অপেক্ষায়। শুধু দেখতে থাকা, বাবুয়া কখনো বল পেলে অভ্যেসবশত কোথায় পাস দিয়ে যাচ্ছে, আর কেউ সেখানে নেই, যেখানে আমার অবধারিত থাকার কথা ছিল আর ধীরে ধীরে বাজু আর বাবুয়ার মেনে নেওয়া, সমস্ত প্রচেষ্টার অর্থহীনতার কথা। আমার মনে বুদবুদ কেটে যাওয়া চিন্তা, তাহলে কিসের জন্য দিনের পর দিন স্কুল টিমের সঙ্গে প্র্যাকটিস? কি অর্থ এই মাঠ থেকে দূরবর্তী অস্তিত্বের, যেখানে বাবুয়া ছাড়া আমার থেকে কেউ ভালো খেলে না? সে বছর আমাদের স্কুল শুধু হারেনি, দু’ বছরের জন্য ডিসকোয়ালিফায়েড হয়েছিল। কারণটা তৎকালীন খেলার শিক্ষকরা জানতেন।

সেই রাগই বোধহয় বেরিয়ে এসেছিল পরের সপ্তাহে পাড়ার ম্যাচে। ঐ হৃষীকেশ পার্কেই। একদিকে মিলন সমিতি, যারা নার্সারি লিগ খেলে, নিয়মিত প্র্যাকটিস করে। অন্যদিকে আমাদের পাড়ার টিম - বাবুয়া, বরুন আর আমি। ততদিনে বাবুয়া আর আমার ড্রিবলিং আর বরুনের ফলস মুভ দেখার জন্য লোক দাঁড়িয়ে যায়, খেপ খেলতে যাওয়ার জন্য ভালো টাকার প্রস্তাব আসে আর ইস্টবেঙ্গল সাবজুনিয়র টিমের জন্য আমি স্পটেড হয়েছি (অসম্ভব তো ছিলই কারণ চশমা এবং হুমমম...ক্লাবটা মোহনবাগান নয় বলে)।

সে খেলায় আমরা গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম মিলন সমিতিকে। প্রচণ্ড বৃষ্টির পর পা ডুবে যাওয়া কাদা মাঠ আমাদের কারোরই পছন্দ ছিল না। তবুও বাবুয়া বোধহয় খান চারেক গোল করে, আমি তিনটে। মনে আছে, আমি তিনজনকে কাটিয়ে গোলের কাছাকাছি, সামনে শুধু গোলকিপার। নিশ্চিত গোল। শেষ টাচ নিলাম, বল পুরো নিয়ন্ত্রণে, হঠাৎ পা ঢুকে গেল কাদায়, যতক্ষণে পা তুলতে পারলাম, ততক্ষণে গোলকিপার হেলতে দুলতে এসে বল হাতে তুলে নিয়েছে।

হাফটাইম। প্রচুর প্রশংসা। মাঠের বাইরে দেখি এক দাদা দাঁড়িয়ে, বয়েসে বেশ খানিক বড়, পেশাদার ফুটবলার, পাড়ায় কদাচিৎ খেলে, তা দেখেই আমি তার বিশাল ভক্ত। আমি একগাল হেসে বললাম,” মাঠটা শুকনো থাকলে না...”। দাদার প্রথম কথা, “চশমা মুছে নিয়ে মাঠ দেখতে শেখ আগে।“ আমার সব হাসি মুছে গেল। “তোর পায়ে শট নেই, হেড করতে পারিস না চশমার জন্য, পাস দিতে শিখিসনি স্বার্থপর খেলোয়াড় বলে। না বুঝিস খেলার ছক, না আছে খেলার বেসিক চারটে স্কিলের মধ্যে দুটো।“ আমি তুতলে তুতলে বললাম,” না শট নেই কিন্তু আমি তো পাস দিতে পারি...আর রিসিভ ভালই পারি...আর ড্রিবলিং...” দাদা ঠাণ্ডা গলায় বলল, “যে আউটসাইড ডজ পারে না, সে পারে ড্রিবলিং! আর পাস দিতে গেলে আগে তো দেখতে হবে প্লেয়ার কোথায় আছে, কোথায় যাবে আর তার জন্য তো আগে বল থেকে মাথা তুলতে হবে। তুলিস তুই?” তখন কি আর মাথা তোলার অবস্থায় আছি?

বলা বাহুল্য, সেদিন আর মাঠে নামিনি। ফুটবল শেখার সেই শুরু, খেলতে শুরু করার অন্তত সাত-আট বছর পর।

(ক্রমশ)

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ২)

পরের পর্বের অপেক্ষায় ...
Avatar: শঙ্খ

Re: ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ২)

দারুণ দারুণ! এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললুম
Avatar: Ranajay Banerjee

Re: ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ২)

দ্বিতীয় পর্ব দেখে খুঁজে প্রথমটা বের করে পরপর দুটোই পড়ে ফেললাম...দারুন হচ্ছে লেখাটা !!
Avatar: Ranajay Banerjee

Re: ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ২)

Avatar: pi

Re: ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ২)

আপনি প্রথম পর্বের নিচে পরের পর্বগুলো আপেন্ডও করতে পারেন।

আর বেশ ভাল লাগছে সিরিজটা, শেয়ারও করে ফেললাম ঃ)


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন