Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস
    গত ১৭ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ‘শিক্ষা দিবস’ ছিল। না, অফিশিয়ালি এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি বটে, কিন্তু দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেদিনই এটা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ১৭ আর ১৯ তারিখ পরপর দুটো পরীক্ষার জন্য কিছু লেখা ...
  • বহু যুগের ওপার হতে
    কেলেভূতকে (আমার কন্যা) ঘুড়ির কর (কল ও বলেন কেউ কেউ) কি করে বাঁধতে হয় দেখাচ্ছিলাম। প্রথম শেখার জন্য বেশ জটিল প্রক্রিয়া, কাঁপকাঠি আর পেটকাঠির ফুটোর সুতোটা থেকে কি ভাবে কতোটা মাপ হিসেবে করে ঘুড়ির ন্যাজের কাছের ফুটোটায় গিঁট বাঁধতে হবে - যাতে করে কর এর দুদিকের ...
  • ভাষা
    এত্তো ভুলভাল শব্দ ব্যবহার করি আমরা যে তা আর বলার নয়। সর্বস্ব হারিয়ে বা যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে যে প্রাণপণ চিৎকার করছে, তাকে সপাটে বলে বসি - নাটক করবেন না তো মশাই। বর্ধমান স্টেশনের ঘটনায় হাহাকার করি - উফ একেবারে পাশবিক। ভুলে যাই পশুদের মধ্যে মা বোনের ...
  • মুজতবা
    আমার জীবনে, যে কোন কারণেই হোক, সেলিব্রিটি ক্যাংলাপনা অতি সীমিত। তিনজন তথাকথিত সেলিব্রিটি সংস্পর্শ করার বাসনা হয়েছিল। তখন অবশ্য আমরা সেলিব্রিটি শব্দটাই শুনিনি। বিখ্যাত লোক বলেই জানতাম। সে তিনজন হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী, দেবব্রত বিশ্বাস আর সলিল চৌধুরী। মুজতবা ...
  • সতী
    সতী : শেষ পর্বপ্ৰসেনজিৎ বসু[ ঠিক এই সময়েই, বাংলার ঘোরেই কিনা কে জানে, বিরু বলেই ফেলল কথাটা। "একবার চান্স নিয়ে দেখবি ?" ]-- "যাঃ ! পাগল নাকি শালা ! পাড়ার ব্যাপার। জানাজানি হলে কেলো হয়ে যাবে।"--"কেলো করতে আছেটা কে বে ? তিনকুলে কেউ আসে ? একা মাল। তিনজনের ঠাপ ...
  • মকবুল ফিদা হুসেন - জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    বিনোদবিহারী সখেদে বলেছিলেন, “শিল্পশিক্ষার প্রয়োজন সম্বন্ধে শিক্ষাব্রতীরা আজও উদাসীন। তাঁরা বোধহয় এই শিক্ষাকে সৌখিন শিক্ষারই অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছেন। শিল্পবোধ-বর্জিত শিক্ষা দ্বারা কি সমাজের পূর্ণ বিকাশ হতে পারে?” (জনশিক্ষা ও শিল্প)কয়েক দশক পরেও, পরিস্থিতি ...
  • আমি সংখ্যা লঘুর দলে...
    মানব ইতিহাসের যত উত্থান পতন হয়েছে, যত বিপদের সম্মুখীন হয়েছে তার মধ্যে বর্তমানেও যা প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে এমন কিছু সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শরণার্থী সমস্যা। হুট করে একদিন ভূমিহীন হয়ে যাওয়ার মত আতঙ্ক খুব কমই থাকার কথা। স্বাভাবিক একজন পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে ...
  • প্রহরী
    [মূল গল্প – Sentry, লেখক – Fredric Brown, প্রথম প্রকাশকাল - ১৯৫৪] .......................
  • ইতিহাসের সঙ্কলন, সঙ্কলনের ইতিহাস - একটি বইয়ের প্রেক্ষাপট, উপক্রমণিকা
    ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের তরফ থেকে, বেশ কিছু লেখালিখি একসাথে সাজিয়ে, একটা সঙ্কলন প্রকাশিত হলো।নাম, ইতিহাসের সঙ্কলন, সঙ্কলনের ইতিহাস।একটা উদবেগজনক আর দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে আমরা এই বই প্রকাশ করেছি। সত্যি বলতে কি, এই বইয়ের জন্মের কারণই আমাদের উদবেগ, ...
  • সতী
    সতী : প্রথম পর্বপ্রসেনজিৎ বসুমেয়েটা মাসতিনেক হল এসেছে এই পাড়ায়।মেয়ে ? এই হয়েছে শালা এক মুশকিল ! বিয়ের পর মেয়েরা বউ হয়, কিন্তু ডিভোর্সের পর তারা কি বউই থাকে ? নাকি ফের মেয়ে বনে যায় ? জল জমে বরফ হয়। বরফ গললে আবার জল। কিন্তু এক্ষেত্রে ? ডিভোর্সি মহিলারা ঠিক ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

"একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই"

Muhammad Sadequzzaman Sharif

একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই। সহজ ও সোজা একটা কথা। কিন্তু এই সহজ ও সোজা কথাটার মাঝে অনেক কিছুই লুকিয়ে আছে। লুকিয়ে আছে জাতি হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় গৌরব কে অবহেলায় ফেলে রাখার লজ্জা, আছে জাতি হিসেবে আমরা কতখানি নির্বোধ তার পরিচয়, এর মধ্যেই আছে রক্তের দামে কেনা স্বাধীনতার বর্তমান অবস্থা।

বিশ্বের বড় বড় গণহত্যার থেকে কোন অংশে কম হয়নি একাত্তর সালে এই বাংলায়। নয় মাসে ত্রিশ লক্ষ মানুষ কে মেরে ফেলা।এত অল্প সময়ে এত সংখ্যক মানুষ কে মেরে ফেলা, এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে নেই আর। সংখ্যাটাও এতই অবিশ্বাস্য যে আজকের যুগের অনেক মানুষকেই বিশ্বাস করানো যায় আসলে অত মানুষ মরে নাই। মানুষ বিশ্বাস করে কারন সংখ্যাটা আসলেই অবিশ্বাস। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও দিনের আলোর মত সত্য এই সংখ্যা। জাতি হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় লজ্জা হল শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন যত না পাকিস্তানীরা তুলেছে সম্ভবত তার চেয়ে বেশি তুলেছে এই দেশের জল বাতাস খেয়ে বেড়ে উঠা মানুষের মত দেখতে কিছু প্রাণী। এদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চেষ্টায় আজকে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ মনে করে মুক্তিযুদ্ধ একটা ভারতের চক্রান্ত, মুজিব আসলে দেশ স্বাধীন করতে চায় নাই, বুদ্ধিজীবীরা আসলে বড় মাপের বেকুব ছিল আর ত্রিশ লক্ষ আসলে অনেক অনেক বড় সংখ্যা, খুব বেশি হলে তিন লক্ষ লোক মারা গেছে!! ত্রিশ থেকে কমিয়ে তিন করতে পারলে কার কি লাভ জানা নেই। তিন লক্ষ কে মারা জায়েজ কিনা তাও জানি না। মুনতাসীর মামুন নিয়াজির সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় নিয়াজির ত্রিশ লক্ষ শহীদ অনেক বেশি উত্তর শুনে জিজ্ঞাস করেছিলেন উনার কত মনে হয়? কত মানুষ মারা গেছিল মুক্তিযুদ্ধে? তিনি কয়েক লাখ থেকে নেমে নেমে যখন পঞ্চাশ হাজার বললেন তখন নিয়াজি বললেন, হতে পারে, ৫০ হাজার হতে পারে। মুনতাসীর মামুন এর অপেক্ষাই ছিলেন। তিনি বলেন, আপনার কাছে ৫০ হাজার মানুষ হত্যাকে গণহত্যা বলে মনে হয় না? আমারও জিজ্ঞাসা, দেশের ভিতরে যারা গণহত্যার বিরোধী কথা বলেন তারা কোন সংখ্যাটাকে গণহত্যা বলতে চান? সংখ্যা কমিয়ে আসলে লাভ কার?

গণহত্যার সংজ্ঞা কী? ১৯৪৮ সালে গৃহীত জাতিসংঘের কনভেনশন অন দ্য প্রিভেনশন অ্যান্ড পানিশমেন্ট অব দ্য ক্রাইম অব জেনোসাইডে গণহত্যার পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ আছে। কোনো গোষ্ঠীর মানুষকে হত্যা, তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতিসাধন, জীবনমানের প্রতি আঘাত ও শারীরিক ক্ষতিসাধন, জন্মদান বাধাগ্রস্ত করা এবং শিশুদের অন্য গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া—এই পাঁচটি উপাদানের কোনো একটি থাকলেই কোনো ঘটনা গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত হবে। ইতিহাসবিদদের মধ্যে এই পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে প্রথম চারটি বৈশিষ্ট্য ২৫ মার্চের হত্যাযজ্ঞের রয়েছে। তাই এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়ার কোন কারণ নেই।
অথচ জাতি হিসেবে উদাসীন আমরা আজ পর্যন্ত এত বড় গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে পারিনি। আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস আমাদের হাত ছাড়া হয়ে গেছে শুধু মাত্র আমাদের গাফলতির কারনে। কিন্তু গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সুযোগ এখনো আছে। সময়ে চলে গেছে অনেক, তাই এখন আর নষ্ট করার মত সময় নাই আমাদের। এই স্বীকৃতি আদায়ের অন্য কোন বিকল্প নাই আমাদের।

কিন্তু এই স্বীকৃতি আসলে কি দরকার? মানুষ তো জানেই গণহত্যা হয়েছে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না হলেই কি হয়? বহু মানুষের কাছে শুনেছি এই অবান্তর প্রশ্ন। মেজাজ হারিয়েছি বহুবার। পরে মনে হয়েছে আসলেই মানুষ জানে না কি দরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির। এই স্বীকৃতি দরকার আমাদের জন্য, আমাদের মত ভোলা মনে জাতির জন্য। যারা অল্পেই প্যাচ গুজ খেয়ে গণহত্যা হইছে না হয় নাই এই ধন্দে পরে যাই, যারা ত্রিশ লক্ষ না তিন লক্ষ, দুই লক্ষ না কয়েক হাজার মা বোনের সম্ভ্রম ইত্যাদি নানা কুতর্কে মূল পথ হারাই তাদের জন্য এই স্বীকৃতি দরকার। দেশের ভিতরেই যদি এমন প্রশ্ন থেকে থাকে আমাদের বুঝতে হবে দেশের বাহিরে পাকিস্তান কি পরিমাণ গুজব ছড়িয়েছে এই গণহত্যা নিয়ে? পাকিস্তান একা না, তাদের মিত্র যে দেশ গুলা আছে তারাও আজো এই গণহত্যা নিয়ে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। আজকে স্বীকৃতি না থাকার কারনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এই কথা বলতে সাহস পায় যে মুক্তিযুদ্ধ কে ভুলে বাংলাদেশ কে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এত বড় একটা গণহত্যা কিন্তু বহির্বিশ্বে তা নিয়ে তেমন কোন আলোচনা নেই। কারন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নাই। আর এই সুযোগে পাকিস্তান আর তার বন্ধুরা যেমন ইচ্ছা তেমন ইতিহাস পাঠ করিয়েছে। এই ভুল ইতিহাস থেকে বাঁচার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য স্বীকৃতি প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় দরকার পাকিস্তান কে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য। পাকিস্তান কে করজোড়ে ক্ষমা চাইতে দেখার জন্য এই স্বীকৃতি আদায় ভিন্ন অন্য কোন পথ নাই।

2 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: "একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই"

১৯৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি খুব দরকার, সবচেয়ে ভাল হয়, যদি জাতি সংঘ ২৫ মার্চকে "আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস" হিসেবে ঘোষণা করে।

কারণ, কোনো যুদ্ধে এখনো এত স্বল্প সময়ে (নয় মাস) এত বেশী সংখ্যক মানুষ গণহত্যা র (প্রায় ৩০ লাখ) শিকার হননি।

মাঝে কিছুদিন সরকারি মহলে এই নিয়ে কথাবার্তা শুনেছিলাম, এখন আবার সব চুপচাপ ।

কিন্তু সরকারি লোকজন কে এই দিবস অর্জনের জন্য যে পরিমান দৌড় ঝাঁপ করতে হবে, তার কিছুই তো দেখি না!
Avatar: কল্লোল

Re: "একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই"

হয়তো হওয়া উচিত। হয়তো হয়েও যাবে। তারপর?
চাপাতির কোপে খুন চলবে, পাহাড়ে অত্যাচার চলবে।
দিবসগুলি পালিত হয় / শপথগুলি নয়
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: "একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই"

কল্লোল দা,

দেখুন, একুশে ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস ইত্যাদি পালনেই স্কুলে থাকতেই আমাদের প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়েছে, প্রতিবাদের সাহস এসেছে।

পরের প্রজন্মের জন্যও এসব দিবসের একটি গুরুত্ব থেকেই যায়। আর জংগিবাদ, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা রুখতেও তা ভূমিকা রাখবে নিশ্চয়ই ।

অফটপিকঃ
আমার মনে হয়, বিশেষ করে একুশে ফেব্রুয়ারির বাংলাদেশকে না দেখলে এ দেশকে পুরো দেখা হয়না। জংগিবাদ বা সাম্প্রদায়িকতাই শেষ কথা নয়। আসবেন সময় করে। আন্তরিক নিমন্ত্রণ রইল। 💔


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন