Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৭)
    থাচুংসে – কাং ইয়াৎজে বেসক্যাম্প (০৭.০৯.২০১৮) --------------------...
  • রাষ্ট্রের ম্যাজিকথলি
    রাষ্ট্র একটি কল্পিত ব্যবস্থা। রাষ্ট্র বলে আসলে কিছু হয় না। আমরা ভেবে নিয়েছি এবং বিশ্বাস করছি তাই রাষ্ট্র আছে। আমার সামনে এই মুহূর্তে যে কম্পিউটারটা রয়েছে রাষ্ট্রের থেকে তা অনেক বেশি সত্যি। এই স্ক্রীনটাকে আমি ছুঁয়ে দেখতে পারি, রাষ্ট্রকে ছুঁয়ে দেখতে পারি ...
  • অ্যান্টনির বেহালা
    তখন আমি এফডি ব্লকে মুস্তাফির নেটে খেলতে যাই। আমার নিজের কোন ব্যাট ছিল না। ইংলিশ উইলো আর কোত্থেকে পাব! বাবা কাশ্মীরে কাজে গেছিল। একটা কাশ্মীর উইলোর ব্যাট এনে দিয়েছিল। সে ব্যাটে খেলা হয়নি। আসলে ব্যাটটা একেবারে কাঁচা, কারখানা থেকে কেনা। দেশের সব ভাল ব্যাট ...
  • সেন্সরের হাত থেকে বাঁচার সহজ উপায়
    অনেকেই বুঝতে পারছেননা, ভবিষ্যতের ভূত বাতিল হয়েছে স্রেফ শিল্পগত কারণে। বাংলায় এখন শিল্পী একজনই, ভুল করলে তিনি কান মলে দেবেনই। কেউ সেটা না বুঝলে তার একমাত্র কারণ, তিনি মাননীয়ার কবিতা খুঁটিয়ে পড়েনি। পুরোটাই শিক্ষার অভাব। মাননীয়া তাঁর 'নামতা' শীর্ষক কবিতায় ...
  • জঙ্গিবাদ প্রবণতা তৈরির ক্ষেত্রে অনেকাংশেই দায়ী সামাজিক বিচ্ছিন্নতাবোধ
    জঙ্গিবাদ বর্তমান বিশ্বের একটি অন্যতম সমস্যা ও সব থেকে উত্তপ্ত টপিকগুলোর মধ্যে একটি। জঙ্গিবাদকে ঠেকানোর জন্য সব সময়ই নতুন নতুন পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, নেয়াও হচ্ছে। কিন্তু কোন সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে সেই সমস্যার কারণ জানাটা আবশ্যক। আর সেই ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৬)
    মারখা – থাচুংসে (০৬.০৯.২০১৮)--------...
  • শেষ অস্ত্র
    ইঁদুরের উপদ্রব এতোই বেড়েছে যে, তাদের যন্ত্রণায় বেঁচে থাকাটা দায় হয়ে পড়েছে। আব্দুর রহমান সাহেব তার এই পঞ্চাশ বছরের জীবনে এমন ইঁদুরের বিস্তার দেখেন নি। সারা বাড়িতে ইঁদুর আর ইঁদুর। দিনে দুপুরে দেখা যায় ইঁদুরেরা দলবল নিয়ে ঘোরাঘোরি করছে। এতোসব ইঁদুরকে ...
  • জার্ণাল ২০১৯ - ২
    জার্ণাল ২০১৯ লেখা শুরু হয়েছিল বছরের গোড়ায়। যেমন হয়, বাকি পড়ে, কিছু লেখাও হয়। আগের লেখার নিচে পর পর জুড়ব ভেবেছিলাম, তা আর হচ্ছে না, তার বদলে আগের লেখার লিঙ্ক রইল। http://www.guruchand...
  • শ্রীপঞ্চমী: পুণ্য মাঘ মাস
    "যায় অন্তরীক্ষেতে অঙ্গদ ডাকাবুকা।বায়ুভরে উড়ে যেন জ্বলন্ত উল্কা।।লঙ্কাপুরী গেল বীর ত্বরিত গমন।পাত্রমিত্র লয়ে যথা বসেছে রাবণ।।"গল্পটি শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক সৌমেন্দ্রনাথ পালের কাছে শোনা। সৌমেনবাবু আমার বাবারই বয়েসী ছিলেন। স্যারের জন্মদিন বোধহয় 11ই মার্চ, বাবার 5ই ...
  • অভাজনের ভারত ভ্রমণ
    ছোটবেলায় একবার আমার প্রায় ভারত ভ্রমণ হয়েই গিয়েছিল। আমার ছোটবেলা বলতে ১৯৯৭ সালের কথা। ক্লাস সিক্সে পড়ি। স্কুল থেকে পিকনিকের আয়োজন করা হল। আমাদের শেরপুরের গজনীতে যাওয়া হবে। গজনীর পাস দিয়ে দুই দেশের সীমান্তরেখা। একটু বেখেয়ালে একটু বেশি হাঁটলে নিজের অজান্তেই ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

"একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই"

Muhammad Sadequzzaman Sharif

একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই। সহজ ও সোজা একটা কথা। কিন্তু এই সহজ ও সোজা কথাটার মাঝে অনেক কিছুই লুকিয়ে আছে। লুকিয়ে আছে জাতি হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় গৌরব কে অবহেলায় ফেলে রাখার লজ্জা, আছে জাতি হিসেবে আমরা কতখানি নির্বোধ তার পরিচয়, এর মধ্যেই আছে রক্তের দামে কেনা স্বাধীনতার বর্তমান অবস্থা।

বিশ্বের বড় বড় গণহত্যার থেকে কোন অংশে কম হয়নি একাত্তর সালে এই বাংলায়। নয় মাসে ত্রিশ লক্ষ মানুষ কে মেরে ফেলা।এত অল্প সময়ে এত সংখ্যক মানুষ কে মেরে ফেলা, এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে নেই আর। সংখ্যাটাও এতই অবিশ্বাস্য যে আজকের যুগের অনেক মানুষকেই বিশ্বাস করানো যায় আসলে অত মানুষ মরে নাই। মানুষ বিশ্বাস করে কারন সংখ্যাটা আসলেই অবিশ্বাস। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও দিনের আলোর মত সত্য এই সংখ্যা। জাতি হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় লজ্জা হল শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন যত না পাকিস্তানীরা তুলেছে সম্ভবত তার চেয়ে বেশি তুলেছে এই দেশের জল বাতাস খেয়ে বেড়ে উঠা মানুষের মত দেখতে কিছু প্রাণী। এদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চেষ্টায় আজকে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ মনে করে মুক্তিযুদ্ধ একটা ভারতের চক্রান্ত, মুজিব আসলে দেশ স্বাধীন করতে চায় নাই, বুদ্ধিজীবীরা আসলে বড় মাপের বেকুব ছিল আর ত্রিশ লক্ষ আসলে অনেক অনেক বড় সংখ্যা, খুব বেশি হলে তিন লক্ষ লোক মারা গেছে!! ত্রিশ থেকে কমিয়ে তিন করতে পারলে কার কি লাভ জানা নেই। তিন লক্ষ কে মারা জায়েজ কিনা তাও জানি না। মুনতাসীর মামুন নিয়াজির সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় নিয়াজির ত্রিশ লক্ষ শহীদ অনেক বেশি উত্তর শুনে জিজ্ঞাস করেছিলেন উনার কত মনে হয়? কত মানুষ মারা গেছিল মুক্তিযুদ্ধে? তিনি কয়েক লাখ থেকে নেমে নেমে যখন পঞ্চাশ হাজার বললেন তখন নিয়াজি বললেন, হতে পারে, ৫০ হাজার হতে পারে। মুনতাসীর মামুন এর অপেক্ষাই ছিলেন। তিনি বলেন, আপনার কাছে ৫০ হাজার মানুষ হত্যাকে গণহত্যা বলে মনে হয় না? আমারও জিজ্ঞাসা, দেশের ভিতরে যারা গণহত্যার বিরোধী কথা বলেন তারা কোন সংখ্যাটাকে গণহত্যা বলতে চান? সংখ্যা কমিয়ে আসলে লাভ কার?

গণহত্যার সংজ্ঞা কী? ১৯৪৮ সালে গৃহীত জাতিসংঘের কনভেনশন অন দ্য প্রিভেনশন অ্যান্ড পানিশমেন্ট অব দ্য ক্রাইম অব জেনোসাইডে গণহত্যার পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ আছে। কোনো গোষ্ঠীর মানুষকে হত্যা, তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতিসাধন, জীবনমানের প্রতি আঘাত ও শারীরিক ক্ষতিসাধন, জন্মদান বাধাগ্রস্ত করা এবং শিশুদের অন্য গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া—এই পাঁচটি উপাদানের কোনো একটি থাকলেই কোনো ঘটনা গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত হবে। ইতিহাসবিদদের মধ্যে এই পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে প্রথম চারটি বৈশিষ্ট্য ২৫ মার্চের হত্যাযজ্ঞের রয়েছে। তাই এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়ার কোন কারণ নেই।
অথচ জাতি হিসেবে উদাসীন আমরা আজ পর্যন্ত এত বড় গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে পারিনি। আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস আমাদের হাত ছাড়া হয়ে গেছে শুধু মাত্র আমাদের গাফলতির কারনে। কিন্তু গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সুযোগ এখনো আছে। সময়ে চলে গেছে অনেক, তাই এখন আর নষ্ট করার মত সময় নাই আমাদের। এই স্বীকৃতি আদায়ের অন্য কোন বিকল্প নাই আমাদের।

কিন্তু এই স্বীকৃতি আসলে কি দরকার? মানুষ তো জানেই গণহত্যা হয়েছে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না হলেই কি হয়? বহু মানুষের কাছে শুনেছি এই অবান্তর প্রশ্ন। মেজাজ হারিয়েছি বহুবার। পরে মনে হয়েছে আসলেই মানুষ জানে না কি দরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির। এই স্বীকৃতি দরকার আমাদের জন্য, আমাদের মত ভোলা মনে জাতির জন্য। যারা অল্পেই প্যাচ গুজ খেয়ে গণহত্যা হইছে না হয় নাই এই ধন্দে পরে যাই, যারা ত্রিশ লক্ষ না তিন লক্ষ, দুই লক্ষ না কয়েক হাজার মা বোনের সম্ভ্রম ইত্যাদি নানা কুতর্কে মূল পথ হারাই তাদের জন্য এই স্বীকৃতি দরকার। দেশের ভিতরেই যদি এমন প্রশ্ন থেকে থাকে আমাদের বুঝতে হবে দেশের বাহিরে পাকিস্তান কি পরিমাণ গুজব ছড়িয়েছে এই গণহত্যা নিয়ে? পাকিস্তান একা না, তাদের মিত্র যে দেশ গুলা আছে তারাও আজো এই গণহত্যা নিয়ে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। আজকে স্বীকৃতি না থাকার কারনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এই কথা বলতে সাহস পায় যে মুক্তিযুদ্ধ কে ভুলে বাংলাদেশ কে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এত বড় একটা গণহত্যা কিন্তু বহির্বিশ্বে তা নিয়ে তেমন কোন আলোচনা নেই। কারন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নাই। আর এই সুযোগে পাকিস্তান আর তার বন্ধুরা যেমন ইচ্ছা তেমন ইতিহাস পাঠ করিয়েছে। এই ভুল ইতিহাস থেকে বাঁচার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য স্বীকৃতি প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় দরকার পাকিস্তান কে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য। পাকিস্তান কে করজোড়ে ক্ষমা চাইতে দেখার জন্য এই স্বীকৃতি আদায় ভিন্ন অন্য কোন পথ নাই।

179 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: "একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই"

১৯৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি খুব দরকার, সবচেয়ে ভাল হয়, যদি জাতি সংঘ ২৫ মার্চকে "আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস" হিসেবে ঘোষণা করে।

কারণ, কোনো যুদ্ধে এখনো এত স্বল্প সময়ে (নয় মাস) এত বেশী সংখ্যক মানুষ গণহত্যা র (প্রায় ৩০ লাখ) শিকার হননি।

মাঝে কিছুদিন সরকারি মহলে এই নিয়ে কথাবার্তা শুনেছিলাম, এখন আবার সব চুপচাপ ।

কিন্তু সরকারি লোকজন কে এই দিবস অর্জনের জন্য যে পরিমান দৌড় ঝাঁপ করতে হবে, তার কিছুই তো দেখি না!
Avatar: কল্লোল

Re: "একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই"

হয়তো হওয়া উচিত। হয়তো হয়েও যাবে। তারপর?
চাপাতির কোপে খুন চলবে, পাহাড়ে অত্যাচার চলবে।
দিবসগুলি পালিত হয় / শপথগুলি নয়
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: "একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই"

কল্লোল দা,

দেখুন, একুশে ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস ইত্যাদি পালনেই স্কুলে থাকতেই আমাদের প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়েছে, প্রতিবাদের সাহস এসেছে।

পরের প্রজন্মের জন্যও এসব দিবসের একটি গুরুত্ব থেকেই যায়। আর জংগিবাদ, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা রুখতেও তা ভূমিকা রাখবে নিশ্চয়ই ।

অফটপিকঃ
আমার মনে হয়, বিশেষ করে একুশে ফেব্রুয়ারির বাংলাদেশকে না দেখলে এ দেশকে পুরো দেখা হয়না। জংগিবাদ বা সাম্প্রদায়িকতাই শেষ কথা নয়। আসবেন সময় করে। আন্তরিক নিমন্ত্রণ রইল। 💔


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন