Abhijit Majumder RSS feed
Abhijit Majumder খেরোর খাতা

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...
  • পুরীযাত্রা
    কাল রথের মেলা। তাই নিয়ে আনন্দ করার বয়স পেরিয়ে গেছে এটা মনে করাবার দরকার নেই। তবু লিখছি কারণ আজকের সংবাদপত্রের একটি খবর।আমি তাজ্জব কাগজে উকিলবাবুদের কান্ডকারখানা পড়ে। আলিপুর জাজেস কোর্ট ও পুলিশ কোর্টে প্রায় কোন উকিলবাবু নেই, দু চারজন জুনিয়র ছাড়া। কি ...
  • আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা
    প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন, সে-ও অনেকদিন আগের কথা। এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের ...
  • শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ
    আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে ...
  • রামায়ণ, ইন্টারনেট ও টেনিদা (পর্ব ২)
    ঘুগনীটা শেষ করে শালপাতাটা আমার দিকে এগিয়ে টেনিদা বললে, "বলতো, রামায়ণ কাকে নিয়ে লেখা?"আমি অনেকক্ষণ ধরে দেখছিলাম শালপাতায় কোণায় এককুচি মাংস লেগে আছে। টেনিদা পাতাটা এগোতেই তাড়াতাড়ি করে কোণে লেগে থাকা মাংসের কুচিটা মুখে চালান করে দিয়ে বললুম, "কেন, রামচন্দ্রকে ...
  • এক উন্মাদ সময়ের স্মৃতিকথন
    দেশভাগ, বাটওয়ারা, পার্টিশান – উপমহাদেশের চুপচুপে রক্তভেজা এক অধ্যায় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা, নির্মম কাটাছেঁড়া এই সবই ভারতে শুরু হয় মোটামুটি ১৯৪৭ এর পঞ্চাশ বছর পূর্তির সময়, অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে। তার আগে স্থাবর অস্থাবর সবকিছু ছেড়ে কোনওমতে প্রাণ নিয়ে পালানো মানুষজনও ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কাজের লোক ও আমরা

Abhijit Majumder

বাণী বসু অলকানন্দা রায়রা খুব চিন্তিত। তার সাথে আনন্দবাজার। এবং আমরা।

গৃহশ্রমিক (মানে কাজের লোকেরা) ইউনিয়ন বানিয়েছে। এইবার শুরু হবে গৃহস্থদের হয়রানি।

এই কাজের লোকগুলো মাসে চার দিন ছুটি দাবী করেছে। অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে একদিন। যেমন আমার আপনার থাকে আর কি।

বাণী বসু তাতে খুব চিন্তিত। কেন না এই কাজের লোকগুলো না বলে কামাই করে খুব ফ্যাসাদে ফেলে।

হক কথা।

না বলে কামাই করবে কেন? বলেই তো ছুটি নিতে পারে। সি এল, ই এল, মেডিক্যাল লীভ তো আছেই। শরীর খারাপের অজুহাত দেওয়ার দরকার কি? মেডিক্যাল লীভ চাইলেই তো আমরা দিয়ে দেই। এতটুকু গজগজ না করে। তাই না? বাড়ির লোকেদের অসুখে-বিসুখে সি এল নিলেই পারে। আর ছেলেমেয়ের পরীক্ষা এলে ই এল। যেমন আমরা নেই।

অফিসে চাকরি তো আমরাও করি। আজ অব্দি কেউ কখনো মিথ্যে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দিয়ে ছুটি নিয়েছি কখনো? কক্ষনো না। আজ অব্দি কক্ষনো বসকে ফোন করে ছোটদিদা মারা গেছে বলে ছুটি নিয়ে সিনেমা দেখতে যাই নি। ওই সব ফ্যাসাদে ফেলার গন্ডগোল খালি কাজের লোকগুলোই করে। আমরা তো করি না।

এখন এইসব ইউনিয়ন হয়ে যাওয়ায় আনন্দবাজারের দু:খ যে আর রেনুর মা, গীতা মাসির মত সম্পর্ক গড়ে উঠবে না।

সত্যি, এই সব গভীর সম্পর্কগুলো এবার শেষ হয়ে যাবে। সম্পর্কগুলো এতকাল এতটাই গভীর ছিল যে তাদের শরীর খারাপ হলে আমরা তাদের সেই সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে নিয়ে যেতাম, যেখানে আমরা নিজেরা দেখাতে যাই। তাদের জন্য আলাদা থালা-বাটি করার কথা চিন্তাই করতে পারি নি কখনো। মাছের টুকরোর সাইজটা সবসময় সমান হয়েছে, বাসি ডালটা বেছে বেছে ওদের পাতে কক্ষনো পড়ে নি। গভীর সম্পর্কের কারণে কক্ষণো নজর রাখি নি, রান্নাঘরের তেলটা নুনটা কম হয়ে যাচ্ছে কি না। এমনকি রেস্টুরান্টে গেলেও একই টেবিলে বসে খেয়েছি সবসময়। তাই না? কক্ষনো তাদের বাইরে বসিয়ে রাখি যনি। এমন কি যখন রেনুর মা, গীতামাসিরা বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অক্ষম হয়ে পড়েছেন এবং আমাদের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে গেছে, তখনো তাদের পরিবারের একজন করে রেখে দিয়েছি। তাই না?

যদি এসব করে থাকি, তাহলে আমাদের মুখে সম্পর্কের কথা মানায়।

আর যদি না করে থাকি, তবে ওই সম্পর্কের ভ্যানতাড়াগুলো বাদ দিলেই ভাল হয়।

সোজা হিসেবে আমি কাজ দিচ্ছি, সে কাজ করছে। দেনা-পাওনা, অধিকার-দায়িত্বের হিসেবগুলো সোজা থাকাই ভালো।

তার বাইরের যাবতীয় কান্নাকাটি আসলে কায়েমী স্বার্থ বজায় রাখার ছল।

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 103 -- 122
Avatar: বউদি

Re: কাজের লোক ও আমরা

অ্যাই তো ! বেশ ঝাল ঝাল পোস্ট এসেছে। লিখছি গুছিয়ে, কিঞ্চিৎ কাজ রয়েছে, সেরে নিই। আপনেরা চালিয়ে গেলে একটু ভালো হয়।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: কাজের লোক ও আমরা

আলপনা মণ্ডলের ফেসবুক নোট থেকে:
~~~~~~~~~~~~
আমরা বাচ্চাদের জন্ম দিইনা।

আমরা যারা ইটভাটায়,আলুগুদামে,ব্যাগ ফ্যাক্টরিতে,লোকের বাড়ি বাড়ি কাজ করি তাদের বাচ্চা হয়না। মাঠে ঘাটে কাজ করা মহিলা এমনকি হাউস ওয়াইফদেরও বাচ্চা হয়না। বাচ্চা কেবল তাহাদের হয় যারা এই দেশের মহিলাদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ। যেনারা সরকারি এবং নামি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। কেননা তাঁহাদের বাচ্চা হওয়ার আগে এবং পরে সবেতন ছুটি দেওয়া হয়-আসলে বাচ্চা হওয়া এক গুরুতর অসুখ কিনা ,আর অসুখ হলে কে না জানে বিশ্রামের প্রয়োজন।

আমাদের মা,দিদিমা, আমি এবং বিগত মনুষ্য প্রজন্ম এই অসুখ হতে মুক্ত ছিলেন,তাহাদের বাচ্চাও হয়নাই ছুটির প্রয়োজনও হয়নাই।

এখন একটা গোল বেধেছে। মোদি সরকার এই অসুস্থতা'র গুরুত্ব উপলব্ধি করে সবেতন ছুটির সময় বাড়িয়ে দিতে চলেছেন,আর তাতেই গেল গেল রব। দু চারদিন অসুস্থ হলে কাজের বাড়ি গজগজ করে মেনে নেয় কিন্তু কেউ যদি মাস তিনেক বাচ্চা হওয়ার আগে এবং পরে অসুস্থ থাকে তার ওপর এই সময়ের জন্য যদি বেতন দিতে হয় কার ভালো লাগে বলুন তো? আশংকা এইখানে যে যদি বেশি ছুটি দিতে হয়, গোটা চাকরি জীবনে দু থেকে তিনবার তাও বেতন সমেত তাহলে তো কোম্পানি ডকে উঠবে। তার থেকে এই সম্ভাব্য অসুস্থ জনতা কে চাকুরী তে না নেওয়াই ভালো।

সত্যই তো অসুস্থ লোকেদের চাকুরীতে না নিযুক্ত করাই ভালো।।আপনেরা মানে নাম করা বেসরকারি প্রতিষ্টান আগামিতে আমাদের নিযুক্ত করে দেখতে পারেন।

আমাদের মাতৃত্বই নেই তা মাতৃত্বকালীন ছুটি।
আমরা বাচ্চাদের জন্ম দিইনা বাচ্চা বিয়োই।

Avatar: শক্তি

Re: কাজের লোক ও আমরা

বাড়ির কাজের লোকের সঙ্গে এম্প্লায়ার এম্প্লয়ি সম্পর্ক মাইনে এবং কাজ এবং ছুটির ব্যাপারে সামঞ্জস্য আনা খুব জটিল ।অন্ততপক্ষে এখন অবধি যে পরিস্থিতি ।ইউনিয়ন একটা থাকলে হয়তো ভালো হতো কিন্তু পাল্টা ইউনিয়ন ও হবে ।আর ইউনিয়নের মাথায় যাঁরা থাকেন তাঁদের মাতব্বরি এবং সততা নিয়ে সন্দেহ যায় না ।মাইনের এবং কাজের একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ রূপরেখা তৈরি না হলে উভয়পক্ষই অশান্তির শিকার হবেন ।
Avatar: sm

Re: কাজের লোক ও আমরা

Avatar: sm

Re: কাজের লোক ও আমরা

ওপরের আর্টিকেল টি মোটামুটি গুছিয়ে লেখা হয়েছে। বেশ চমৎকার দাবি দাওয়া। ঘন্টা প্রতি, বেতন দিতে হবে।
আট ঘন্টা রোজ কাজ করলে, বারো থেকে আঠার হাজার মাইনে। মাতৃত্ব কালীন ছুটি।
অর্থাৎ ঘণ্টায় পে করলেই হবে না,চুক্তি পত্র থাকাও বাঞ্ছনীয় করতে হবে।
দুই, বেশ প্রফেশনাল এটিচ্যুড। এতে করে অনর্থক এক ঘন্টা কাজের জায়গায় পাঁচ ঘন্টা বসিয়ে রাখা কমবে।
আমি না ;সোফায় বসে, কাজের লোকের সঙ্গে টিভি দেখি, বগি থালায় খেতে দিয়ে থাকি, একদম বাড়ির লোকের মতো দেখি --এই সব নজর ঘোরানো কথা বার্তা কমবে।
Avatar: PT

Re: কাজের লোক ও আমরা

এই খপরটা থেকে কিছু প্রাসঙ্গিক সত্যি কথাও খোঁচা মারলঃ
"মমতা ব্যানার্জি রেলমন্ত্রী থাকতে সুজাতার মতো কাজের মাসি–পিসিদের জন্য ২৫ টাকায় রেলের মান্থলিতে যতবার খুশি যাওয়া–আসার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এখন সেই মান্থলি ১৮০ টাকা। দুই বিবাহিত মেয়ে এবং এক পড়ুয়া ছেলের মা লজ্জায় মুখ লাল করে চোখ মাটিতে নামিয়ে বলল, মাঝে মাঝে টিকিটই কাটি না!‌ দলবেঁধে চলে আসি। আজ যেখানে থাকে, বামফ্রন্ট আমলে সেখানে ৫ কাঠা জমি পেয়েছিল। সেখানেই ওর মাটির কুঁড়ে। মমতা ব্যানার্জির ২ টাকা কিলোর চাল ও গম এখনও পায়। তবে পরিমাণে ঢের কম। ২‌‌‌½‌ কিলো চাল ও ২½‌ কিলো গম। ওতে হয় না। তাই বাজার থেকে সবচেয়ে নিরেস চাল ২৫ টাকা কিলো দরে কেনে। মুসুরির ডাল দেড় কিলো ১০০ টাকায় আর ১২০ টাকায় ১ কিলো সরষের তেল।"
Avatar: বৌদি

Re: কাজের লোক ও আমরা

অমিত এত খাপ্পা হয়ে আছেন কেন কে জানে ! উনি বোধহয় বহুদিন দেশে থাকেন না তাই চাকরী বলতেই 'সরকারী', বাঁধা মোটা মাইনে অন্যন্য সুবিধে, আর কাজে লোক মানেই মুখবুজে অত্যাচার সয়ে যাওয়া মানুষ, যাদের সঙ্গে মানুষের মত আচরণটাও কেউ করে না ! ইতি মধ্যেই অনেকে বাস্তব চিত্র নানাদিক থেকে তুলে ধরেছেন কিন্তু তাতে কি !

'সঠিক মাইনে' কাকে বলে ? আপনি জানেন, প্রাইভেট ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজে কত টাকায় চাকরী করে এম এস সি, পিএইচডি অবধি করে আসা ছেলেমেয়েরা ? ২৫০০০ থেকে ৩০০০০। উর্ধ্বসীমা অবশ্যই কিছু বেশি। তাদের 'ডিউটি' আওয়ার' ন'ঘন্টা। সপ্তাহে দুদিন ছুটি, কিন্তু যেকোন সময়ে ছুটি বাতীল হতে পারে। হয়ও। এদের কথা ভেবেছেন কোনদিন ? প্রাইমারী শিক্ষকের মাইনে শুরুতে মেরেকেটে ২০০০০। ডিউটি ছ'দিন। এঁদের কি বলবেন, সংসারের সব কাজ নিজে করতে না কি মাইনের আদ্ধেকটা কাজের লোককে দিয়ে দিতে ? এটা জাস্ট একটা-দুটো উদাহরণ দিলাম, যাঁদের জীবনে কাজের লোকের মাইনে নিয়ে ভাবতে হয় আর যে কারণে ভাবতে হয়। এর থেকে আরও খারাপ অবস্থাও আছে।

এইবার বলবেন, এরা এত কম মাইনেয় কাজ করে কেন, এরা কি সমাজসেবা করতে এসেছে ? না, নানারকম সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে যা পেয়েছে, তাই করছে। কারণ দরকারটা নিজের। কাজের লোকেরদের ব্যাপারটাও ঠিক একই রকম। এটা 'স্কিল্‌ড্‌ জব' নয়, নিজের ক্ষমতায় যেটুকু রোজগার করতে পারছে, সেটুকুকেই আর একটু বাড়াতে চাইবে, এই অবধি। কিন্তু একেবারে বাঁধা মাইনে উইথ আদার ফেসিলিটিজ না পেলে করব না, বলে বসে থাকলে এঁরা অনেকেই কাজ পাবেন না, তাতে তাঁদের কিছু লাভ নেই। এটা আমাকে কেউ ভাবতে বলে নি, যাঁদের ভাবার কথা তাঁরাই ভাবেন, তাই যে যার মত দরকষাকষি করেন কিন্তু তার বেশি নয়। মানুষের সামর্থ্য জীবনযাত্রা সর্বত্র এক নয়, ঠিক এই কারণেই কাজের লোক থেকে গৃহশিক্ষক কারুর মাইনেই সর্বত্র সমান নয়, এই সত্যটা এঁরা বোঝেন। কাজের লোকের মাইনে ঘন্টা পিছু যে রেট ঠিক হয়েছে, তা চালু হলে তাতে যেমন কিছু লোকের মাইনে বাড়বে তেমনি সাউথ সিটি বা সল্টলেক বা বালিগঞ্জের অনেকেরই মাইনে কমে যাবে আর গ্রামের দিকে অনেকেরই কাজ চলে যাবে। সেটা ভালো হবে না খারাপ হবে তা ঠিক করার আমি কেউ নই, আমার আপত্তি বা সমর্থনের প্রশ্নই নয়, শুধু সত্যটা যেমন বুঝি, তাই লিখছি।

"এই প্রসঙ্গে - অন্য চাকরির সাথে বাড়ির কাজের কোয়ালিটেটিভে তফাৎ তা ঠিক কি ভাবে বোঝানো হবে আর কারা করবে ?" একটু ভাবলে উত্তর নিজেই পাবেন। বাড়ির কাজ জমিয়ে রাখা যায় না, এঁটো বাসন মেজে নিতেই হবে, নোংরা ঘর পরিস্কার করে নিতেই হবে, রান্নাও। তাই কাজের লোক কামাই করা মানে হয় তার কাজ আপনাকে করে নিতে হচ্ছে, কিম্বা তার জন্য আলাদা খরচ করতে হচ্ছে। কিন্তু অফিসের কেরাণী থেকে ইস্কুলের মাস্টারমশাই না এলে কাজ জমেই থাকে। এটাই সবচেয়ে বড় একটা তফাৎ। কাজটা যে করবে আর যে করাবে এটা সে / তারাই ঠিক করবে।

আলপনা মন্ডল যাই লিখুন, প্রত্যেক পরিচারিকাই দরকার মত ছুটি নেন, শরীর খারাপ হলে বা এমনিই। জামাইষষ্ঠি বা অরন্ধন। বলে বা না বলে। ছুটি 'না দেওয়ার' কোন অপশনই নেই। বেশ করেন, এটা ওঁদের অধিকার। তার মধ্যেও অনেকেই বৌদি-র সুবিধে দেখেন কেউ দেখেন না। এর কোনও নিয়ম নেই। সপ্তাহে একদিন হিসেবে না নিয়ে টানা দু-তিন দিন ছুটি নিলে সুবিধে বেশি হয়, সেটা ওঁরাও জানেন।

শেষ একটা কথা। 'কাজের লোক' এর প্রতি সহানুভূতি থাকতে গেলে কি যারা কাজের লোক রাখেন তাঁদের প্রতি অসম্মান সূচক কথা বলা বাধ্যতামূলক ? না হলে তাঁরা অফিসে কাজ করেন না খালি মাইনে নেন, অলস তাই বাড়ির কাজও করেন না, কাজের লোকের সঙ্গে মানুষের মত আচরণ করেন না, শুধু নিজের পকেট থেকে একটু খসার ভয়ে কাঁপেন, ধারাবাহিক ভাবে এমন মন্তব্য করার মধ্যে কিসের আনন্দ ?
Avatar: বাঙাল

Re: কাজের লোক ও আমরা

" এঁদের কি বলবেন, সংসারের সব কাজ নিজে করতে না কি মাইনের আদ্ধেকটা কাজের লোককে দিয়ে দিতে ? "

সংসারের সব কাজ নিজে করলে ক্ষতি কি? আমার এঁটো বাসন আরেকজন ধোবেন কেন?
Avatar: বৌদি

Re: কাজের লোক ও আমরা

বনগাঁ-বারাসাত-ক্যানিং-ডায়মন্ড হারবার থেকে দলে দলে মহিলা ভোরবেলা বেরিয়ে কেন আসেন কলকাতায় কাজ করতে ? কেননা যে কাজ করতে আসেন তা আলাদা করে শিখতে হয়না, অন্য কাজ জানেন না আর যে টাকাটা উপার্জন করেন সেটা দিয়ে ওঁদের কাজে রাখার মত কেউ ওখানে নেই। তাঁরা নিজের বাড়ির কাজ নিজেরাই করেন। এটা জীবনের একটা প্রান্ত যেখানে কাজের লোক লাগে না। আর একটা প্রান্ত উন্নততর বিদেশের জীবন, যেখানে জীবনযাত্রাটা আলাদা। অনেক বেশি যন্ত্রনির্ভর, আরামের, স্বচ্ছন্দ, সেখানেও কেউ কাজের লোক রাখেন না। এই দুই জীবনের মধ্যে আমাদের কাজের লোকেরদের, যাদের সংসার চলে তাদের রোজগারে, তাদের ফিট করানোটা অসম্ভব। আম আর কলার তুলনা না করাই ভালো।
Avatar: বৌদি

Re: কাজের লোক ও আমরা

@বাঙাল, কাজের লোককেও জিজ্ঞেস করুন, কেন তিনি অন্যের এঁটো বাসন ধুচ্ছেন ? বাকিটা ওপরের পোস্টেই আছে।
Avatar: sm

Re: কাজের লোক ও আমরা

ওপরের পোস্ট টি খুব ভালো লাগলো। নিজের ভিউ লিখেছেন। বায়াস কম।
অমিতের পোস্টে গুরুত্ব দিয়ে লাভ নেই। কারণ একবার লিখলেন আমরা বিদেশে, নিজেদের কাজ নিজে করে নি। দেশে লোকে,কেন পারবে না।
আবার পরের পোস্টে কাজের লোকের ইউনিয়ন হলে কার কি সর্বনাশ হবে ,এই নিয়ে ব্লা ব্লা ব্লা...
কাজের লোকের বেতন বাড়া দরকার। এবং আওয়ারলি বেতন যুক্তি যুক্ত।
এটাও একটা প্রফেশন, এই সম্মান টুকু এঁদের প্রাপ্য।
এখন এফোর্ডিবিলিটি অনুযায়ী লোকজন বাড়িতে কাজের লোক রাখবেন বা রাখবেন না।
আওয়ারলি পে হওয়ার মজা হলো, অবাঞ্ছিত স্টে করানোর ছুতো কমে যাবে।
ধরা যাক, আওয়ারলি পে একশো টাকা হল, এবার যার খালি বাসন মাজা ও কাপড় কাচা দরকার ,তিনি সেই সার্ভিস টুকু নিয়ে ছেড়ে দেবেন।অনর্থক দুবার বাজারে চিনি বা তেল কিনতে পাঠানো বা টিংকুকে ইশকুল থেকে নিয়ে এসো তো;এগুলো বন্ধ হবে।
এমন বাড়ি জানি, যেখানে দুপুর বারোটায় কাজ শেষ করার পর কাজের লোক তিনটে অবধি অপেক্ষা করে, কারণ ,বাড়ির খোকা স্কুল বাস থেকে নামবে।
মালকিন, ওই সময় টুকু ঘুমান, কারণ তাঁর দুপুরে না ঘুমুলে- মাইগ্রেন হয়।
আবার কেউ ,বাড়ির বয়স্কর দেখভালের জন্য লোক রাখেন, কিন্তু আস্তে আস্তে সবজি কাটা, রান্না করা এড হয়ে যায়।
আসে, বিভিন্ন রকম তোয়াজ। পুরোনো জামা, শাড়ি দেওয়া, একই টেবল এ বসে চা খাওয়া ইত্যাদি।
এবার আসি বাথরুম প্রসঙ্গে। অবশ্যই কাজের সময় দরকার পড়লে বাথরুম বা টয়লেট ইউজ করবেন। কিন্তু অধিকাংশ সময় এঁরাই কুণ্ঠিত থাকেন। আবাসনে বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে নিজেকে,অনেক ফ্রি অনুভব করতে পারবেন।
মূল কথা হল, কাজের লোক যেন ভাবেন, অফিসে কাজ করার মতো এটি ও একটি জব।
এগুলি তাঁর অধিকার।
ফালতু সিম্প্যাথি যেন ,এট দ্যা কষ্ট অফ মানি বা টাইম না হয়।
Avatar: sm

Re: কাজের লোক ও আমরা

কাজের লোক তাঁর জব করছেন। কারণ এটিই তাঁর জানা একমাত্র জীবিকা অর্জনের উপায়। এই কাজের উপার্জনেই তাঁর সংসার চলে, কয়েকটি শিশুর খাবার হয়।
বলতে গেলে, এয়ার হোস্টেস রাও একই কাজ করে থাকে। এঁটো বাসন বা প্লেট তুলতে হয়।
ওয়েল, ভালো বেতন, আদব কায়দা দারুন; তাই লোকজনের মেনে নিতে অসুবিধে হয় না।
একজন নার্সকে শৌচ কর্মী দের চেয়ে কম পুরিষ বা ইউরিন নিয়ে ঘাঁটঘাঁটি করতে হয় না।
কেউই তা,অসম্মানের জব ভাবে না।
এক কথায় দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ জব হলো, কেয়ারার এর জব।
যেটা দরকার, সেটা হলো মাইন্ড সেট চেঞ্জ করা ও প্রফেশনাল এটিচ্যুড মেনটেইন করা।
অনেকদিন আগে তির্যক বা কেউ লিখেছিলেন, ডিগনিটি বাড়ানো যায় টেকনোলজি ইউজ করে।
যেমন হাঁটু গেড়ে মেঝে পরিষ্কার করার বদলে বাজারে হাজার টাকার মধ্যেই দুর্দান্ত মপ বেরিয়েছে। কোমর ভাঁজ অবধি করতে হবে না
ডিশ ওয়াশার বা, ওয়াশিং মেশিন এর কথা ছেড়েই দিলাম।

Avatar: বৌদি

Re: কাজের লোক ও আমরা

কোনও কিছুই একমাত্রিক নয়। আওয়ারলি পে-র মজাটা কাজের লোকের দিক থেকে দেখছেন। কিন্তু এর জ্বালাও কম নয়। ঘরের কাজের ক্ষেত্রে একঘন্টা অনেক সময়। সেক্ষেত্রে কাজের লোক নিজেই একঘন্টার কাজ বেশি সময় ধরে করতে চাইতে পারেন। আর এমপ্লয়ার চাইবেন কম সময়ে কাজ করিয়ে নিতে। যেহেতু তাতে মাইনের হেরফের অনেকটা, সেক্ষেত্রে ফ্রাক্‌শনাল আওয়ারের হিসেবও এসে যাওয়াটা অন্যায় নয়। আবার দেখুন ঘরের কাজ রোজ একই রকম হয় না, রান্না কোনওদিন কম, কোনদিন বেশি হতে পারে, তার হিসেব কিভাবে থাকবে ? সেক্ষেত্রে পেমেন্ট কি ডেইলি হবে ? মতামত দিচ্ছি না, শুধু চাইছি ভাবা হোক ভাবা হোক, সব সম্ভাবনাই ভাবা হোক।

কাজের লোকেরা যে আর্থ সামাজিক অবস্থা ও অবস্থানে থাকেন, তারও অনেক হেরফের আছে। বনগাঁ থেকে যিনি আসেন, আর সল্টলেকের খুপরি ঘরে যিনি থাকেন, তাঁদের অনেক কিছুই আলাদা। চাহিদাও। সে সব বিশদে না গিয়েও বলতে পারি কাজের লোকের সঙ্গে বৌদি-দের যে দেওয়া-থোওয়া-র সম্পর্ক তৈরী হয়, তা আপনার আমার কাছে যাই মনে হোক ওঁদের কাছে ততটা বর্জনীয় হয় না। এটা স্বাতী কিছুটা লিখেছেন (একেবারে সিস্টেমের ভেতরের কথা),ওই শীতের সকালে এক কাপ গরম চা কিম্বা বৌদির গায়ের চাদরটা (দেখলে পুরোন বোঝাই যায় না), এইটুকু ওই সামাজিক শ্রেণির মানুষের কাছে কিছুটা গুরুত্ব পায়। এর হাত ধরে এক্সপ্লয়েটেশন হয় না তা নয় কিন্তু এই দিকটাকে 'ফালতু' বলাটা বোধহয় একটু বেশিই জাজমেন্টাল।

Avatar: PT

Re: কাজের লোক ও আমরা

"একজন নার্সকে শৌচ কর্মী দের চেয়ে কম পুরিষ বা ইউরিন নিয়ে ঘাঁটঘাঁটি করতে হয় না।"
হে কাজের লোকের ঈশ্বর, তুমি এক্ষপাটদের ক্ষমা করে দিও!!
Avatar: ghoti

Re: কাজের লোক ও আমরা

Rেঃ কাজের লোক ও আমরা
ওম্মেন্ত ফ্রোম বাঙাল ওন ০২ যুল্য ২০১৮ ১৪ঃ২০ঃ৫৪ ঈট ৬৭০১১২।২০৩।১২১২১২।৮৬ (*) #
" এঁদের কি বলবেন, সংসারের সব কাজ নিজে করতে না কি মাইনের আদ্ধেকটা কাজের লোককে দিয়ে দিতে ? "

সংসারের সব কাজ নিজে করলে ক্ষতি কি? আমার এঁটো বাসন আরেকজন ধোবেন কেন?

ঠিক ক্থা , কাল থেকেই বিপ্লব শুরু হোক। আপনি রেস্টুর‌্যান্টে ঢুকে খেয়ে দেয়ে নিজের এঁটো বাসনটি না মেজে বেরুবেন না যেন। আপনি এগিয়ে চলুন কমরেড, আমরা পেছ্নে আছি ।

Avatar: sm

Re: কাজের লোক ও আমরা

সত্যি কথা! লোকে যখন কোন কমেন্ট করে, তখন বোধ হয় কিছু না ভেবেই বলে। বিদেশে রেসটুরেন্টগুলোতে কি হয়?
কিছু জনতা আছে, বোধ হয় চেটে সাফ করে দেয় বা ডিসকাউন্টে পে করে, বাসন মেজে দেয়।
তবে, বৌদির পোস্টের প্রেক্ষিতে, একটা কথা। আওয়ারলি পে করলে কিন্তু এম্প্লয়ার এর ও সুবিধা।কাজের লোক,
ইচ্ছে মত কামাই করলে বা ছুটি নিলে পেমেন্ট ও করতে হবে না। দর কষাকষি করা যাবে।
Avatar: PT

Re: কাজের লোক ও আমরা

বাবু ও বিবি দুজনেই কাজে যাবে ৯ টার মধ্যে আর প্রতিদিন তারা কাজের লোকের ঘন্টা মাপার জন্যে বসে থাকবে?
Avatar: সোম

Re: কাজের লোক ও আমরা

সিসিটিভি আর বায়ামট্রিক ব্যবস্থা থাকলেই হলো। সামান্য টেকনোলজি! --))
Avatar: sm

Re: কাজের লোক ও আমরা

সরি ,সোম নয় sm হবে।
Avatar: PT

Re: কাজের লোক ও আমরা

হাঃ! হাঃ!!......আলোচনাটা এবার শেষ হওয়াই ভাল।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 103 -- 122


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন