Sumit Roy RSS feed

Sumit Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...
  • পুরীযাত্রা
    কাল রথের মেলা। তাই নিয়ে আনন্দ করার বয়স পেরিয়ে গেছে এটা মনে করাবার দরকার নেই। তবু লিখছি কারণ আজকের সংবাদপত্রের একটি খবর।আমি তাজ্জব কাগজে উকিলবাবুদের কান্ডকারখানা পড়ে। আলিপুর জাজেস কোর্ট ও পুলিশ কোর্টে প্রায় কোন উকিলবাবু নেই, দু চারজন জুনিয়র ছাড়া। কি ...
  • আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা
    প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন, সে-ও অনেকদিন আগের কথা। এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের ...
  • শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ
    আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে ...
  • রামায়ণ, ইন্টারনেট ও টেনিদা (পর্ব ২)
    ঘুগনীটা শেষ করে শালপাতাটা আমার দিকে এগিয়ে টেনিদা বললে, "বলতো, রামায়ণ কাকে নিয়ে লেখা?"আমি অনেকক্ষণ ধরে দেখছিলাম শালপাতায় কোণায় এককুচি মাংস লেগে আছে। টেনিদা পাতাটা এগোতেই তাড়াতাড়ি করে কোণে লেগে থাকা মাংসের কুচিটা মুখে চালান করে দিয়ে বললুম, "কেন, রামচন্দ্রকে ...
  • এক উন্মাদ সময়ের স্মৃতিকথন
    দেশভাগ, বাটওয়ারা, পার্টিশান – উপমহাদেশের চুপচুপে রক্তভেজা এক অধ্যায় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা, নির্মম কাটাছেঁড়া এই সবই ভারতে শুরু হয় মোটামুটি ১৯৪৭ এর পঞ্চাশ বছর পূর্তির সময়, অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে। তার আগে স্থাবর অস্থাবর সবকিছু ছেড়ে কোনওমতে প্রাণ নিয়ে পালানো মানুষজনও ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

শিক্ষায় সমস্যা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন

Sumit Roy

(সম্প্রতি গুরুচণ্ডালির ফেইসবুক গ্রুপে Gour Adhikary বাবুর শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটি অসাধারণ লেখা পড়লাম। বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তিনি সেখানে। এরমধ্যে কয়েকটি প্রশ্নকে সাজিয়ে লিখলে এরকম হয়, "যারা ফেইল করে, তারা কেন সামান্য পাশ মার্ক জোগাড় করতে পারে না? এরা কি বইগুলো একটু ছুঁয়েই দেখে না? না কি বইই নেই? নাকি মাথায় সত্যিই গোবর পোরা? কারাই বা এরা? এরা কি স্কুলে যায় নিয়মিত ? না গেলে কেন যায় না?... মানব সম্পদ উন্নয়নের সাথে এই প্রশ্নগুলোর সম্পর্ক আছে, তাই এটা নিয়েই লিখছি...)

এই প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনায় মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্পর্ক আছে ভেবে মনে হল এটা নিয়ে কিছু লেখা দরকার। এই প্রপঞ্চের আরও অনেক কারণ আছে, কিন্তু অন্যগুলোর আগে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টি লেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তাই এখানে মানবসম্পদ উন্নয়ন বা হিউম্যান রিসোর্স ডেভলপমেন্ট নিয়ে কিছু লেখার এই চেষ্টা... বিভিন্ন কারণে, যেমন দক্ষ জন শক্তি সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, প্রচলিত সমাজ কাঠামোর পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বস্তুগত মূলধনের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জন সম্পদের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও জনসাধারণের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন এখন প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হচ্ছে শিক্ষা।

এখন এই মানবসম্পদের উন্নয়নের বিষয়টিকে শুধুই সাবজেক্টিভ বলে মনে হতে পারে, তবে একে পরিমাপযোগ্য বানানো যায়। এই হিউম্যান ডেভলপমেন্ট ইনডেক্স পরিমাপের জন্য ভারতের অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল হক একটি সূচক বা ইনডেক্স তৈরি করেছেন, যার নাম হিউম্যান ডেভলপমেন্ট ইনডেক্স বা সংক্ষেপে HDI. মোট তিনটি বিষয় এর অবস্থা পরিমাপ করে বিভিন্ন অঞ্চলের HDI বের করা হয়, আর সেই মানটি দেখেই বোঝা যায়, আসলে সেই অঞ্চলের মানব সম্পদ উন্নয়নের কী অবস্থা। এই তিনটি বিষয় হচ্ছে, আয়ুস্কাল, জ্ঞান ও জীবন যাত্রার মান। আয়ুষ্কাল মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন যাত্রার মান তার ক্রয়ক্ষমতা নির্দেশ করে (জিডিপি থেকে), আর নলেজ নির্দেশ করে শিক্ষা। এগুলো সবই পরিমাপযোগ্য, যার পরিমাপের বিভিন্ন নিয়ম থাকে। তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, যেমন আয়বৈষম্য বা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে থাকা বৈষম্যকে এখানে বিবেচনা করা হয় না, আরেকটি সমালোচনা হচ্ছে, জেন্ডার ইকুইটি বা নারী পুরুষের মধ্যকার লিঙ্গবৈষম্য এখানে বিবেচনায় নিয়ে আসা হয়না। যাই হোক, এই সব বিষয় বিবেচনায় এনে এডজাস্টেড HDI-ও নির্ণয় করা যায়, যা অনেক ক্ষেত্রেই HDI থেকে ভিন্ন হয়।

এখন আলোচনার বিষয় হল শিক্ষা, তাই শিক্ষাতেই চলে আসি। হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইন্ডেক্সে যে তিনটি বিষয় আছে সেই তিনটির জন্যই আলাদা আলাদা ইন্ডেক্স বের করে তারপর সেখান থেকে হিউম্যান ডেভলপমেন্ট ইনডেক্স বার করা হয়। শিক্ষার জন্য যে ইন্ডেক্সটি আছে তার নাম হল এডুকেশন ইনডেক্স। এডুকেশন ইন্ডেক্স বের করতে মানুষ কত গড়ে কত বছর পড়াশুনা করছে (Mean Years of Schooling), কত বছর পড়াশুনা করবে বলে আশা করছে (Expected Years of Schooling) এসব ডেটা লাগে। এখন মিন ইয়ার অফ স্কুলিং এর স্ট্যান্ডার্ড ধরা হয় ১৫ বছর, আর এক্সপেক্টেড ইয়ার অফ স্কুলিং ধরা হয় ১৮ বছর। তাই মিন ইয়ার অফ স্কুলিংকে ১৫ দিয়ে আর এক্সপেক্টেড ইয়ার অফ স্কুলিংকে ১৮ দিয়ে ভাগ করে পাওয়া যায় যথাক্রমে মিন ইয়ার অফ স্কুলিং ইনডেক্স ও এক্সপেক্টেড ইয়ার অফ স্কুলিং ইনডেক্স। এরপর এই দুটো গড় করে পাওয়া যায় এডুকেশন ইনডেক্স।

প্রশ্ন আসতে পারে, এখানে আলোচনা হচ্ছে কতজন ফেইল করল, কতজন বই ছুঁয়েই দেখল না, কতজন পড়াশুনা করছে না এসব নিয়ে, সেখানে মিন ইয়ারস অফ স্কুলিং, এক্সপেক্টেড ইয়ারস অফ স্কুলিং এর কথা আসছে কেন? আসছে কারণ এই পড়াশুনা না করতে পারা, ভাল মার্ক্স না পাওয়া এসবের কারণ যেগুলো স্কুলে না পড়তে পারার কারণ, শিক্ষাজীবন নিয়ে খুব একটা এক্সপেক্টেশন না থাকার কারণও মোটামুটি একই। এই এডুকেশন ইনডেক্সই একটি অঞ্চলের শিক্ষার সামগ্রিক অবস্থাকে নির্দেশ করে। আর তাই এগুলো থেকেই এর সামগ্রিক অবস্থার অবস্থা বোঝা যায়।

২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী ভারতের এডুকেশন ইনডেক্স হচ্ছে ০.৫৩৪, এক্সপেক্টেড ইয়ারস অফ স্কুলিং হল ১১.৭ বছর আর মিন ইয়ারস অফ স্কুলিং হচ্ছে ৬.৩ বছর। এডুকেশন ইন্ডেক্সে সবকটা দেশের মধ্যে ভারতের র‍্যাংকিং হচ্ছে ১৩১। আমার দেশ বাংলাদেশের অবস্থা আরও খারাপ, এর র‍্যাংকিং হচ্ছে ১৫৪, এডুকেশন ইনডেক্স হচ্ছে ০.৪৫৭, এক্সপেক্টেড ইয়ারস অফ স্কুলিং হল ১০.২ বছর আর মিন ইয়ারস অফ স্কুলিং হচ্ছে ৫.২ বছর। সমগ্র মানব সম্পদের উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে HDI র‍্যাংকিং-এ ভারত ১৩১ তম আর বাংলাদেশ ১৩৯ তম। এডুকেশন ইন্ডেক্সে প্রথম স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া (০.৯৩৯), দ্বিতীয় স্থানে ডেনমার্ক (০.৯২৩) ও তৃতীয় স্থানে আছে নিউজিল্যান্ড (০.৯১৭)। HDI র‍্যাংকিং-এ এই তিন দেশের অবস্থান যথাক্রমে ২য়, ৫ম ও ১৩শ। HDI র‍্যাংকিং-এ শীর্ষে থাকা দেশ নরওয়ে এডুকেশন ইনডেক্স এর র‍্যাংকিং-এ আছে ৪র্থ স্থানে (০.৯১৬)।

বেশ কিছু কারণে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে মানবসম্পদ উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত হয়, যেগুলোর প্রায় সবগুলোই শিক্ষার সাথে সম্পর্কিত। আমি বাংলাদেশের মানুষ, এই দেশে কী কী সমস্যা আছে তা নিয়ে একটু ধারণা আছে, কয়েকটি উল্লেখ করছি... (কথাগুলো অতিশয় পাঠ্যপুস্তকীয়, আমরা সবাই মোটামুটি জানি, তবুও এর গুরুত্বের জন্যই পুনরালোচনা করছি...)

*অবহেলিত শিক্ষা খাত: স্বাধীনতার পূর্বে এবং পরবর্তী কিছুকাল সময় দেশের শিক্ষাখাতে ব্যয় বরাদ্দ ছিল অত্যন্ত কম ৷ কিন্তু সাম্প্রতিক কালে শিক্ষাখাতে প্রচুর ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। তবে সে তুলনায় শিক্ষকদের দক্ষতা এবং স্কুল-কলেজের ভৌত সুবিধাদি বাড়েনি৷ তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ মেধাবী ও প্রতিক্রুতিশীল শিক্ষার্থীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করা যায়নি৷ ফলে দেশে ভাল শিক্ষকের অভাব রয়েছে৷ একজন ভাল শিক্ষক তৈরি করতে পারেন ভাল ছাত্র, আর ভাল ছাত্র একটি দেশের মানব সম্পদ।

*যুগোপযোগী শিক্ষার অভাব: দেশের বর্তমান চাহিদার তুলনায় মানব সম্পদ গড়ে উঠছে না। দেশে শিল্প, কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদিতে দক্ষ কর্মকর্তা বা বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে৷ অথচ সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত লক্ষ লক্ষ তরুণ আজ বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে দিন যাপন করছে৷ পড়াশুনা করেও যদি ভাল চাকুরির নিশ্চয়তা না পাওয়া যায় তাহলে পড়ার প্রতি আকর্ষণ অনেকটাই কমে, শিক্ষার্থীরা তখন ভিন্ন অলটারনেটিভ এর কথা ভাবে।

*কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব: মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট কারিগরি এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠান দেশে নেই৷ ফলে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলা যাচ্ছে না।

*তথ্যের ঘাটতি: মানব সম্পদের শ্রেণীভেদে চাহিদা পরিমাপ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে প্রয়োজনীয় যে কোন ধরনের মানব সম্পদ যোগান দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া সম্ভব হয় নি ৷ তথ্যের ঘাটতিতে মানব সম্পদ উরলয়ন ব্যাহত হচ্ছে ৷

*দীর্ঘসূত্রিতা: মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য (শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে) যে অর্থ ব্যয় করা হয় তার ফলাফল পাওয়া সময় সাপেক্ষ ব্যাপার ৷ বর্তমানে মানব সম্পদ উন্নয়নে প্রচুর ব্যয় করা হচ্ছে। এ ব্যয়সমূহ অনেক ক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত নয়। হয়ত বিকল্প কৌশলে ব্যয় করলে আরও শুভ ফল পাওয়া যেত ৷

*প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অভাব: কাজে নিয়োজিত অবস্থায় প্রশিক্ষন কর্মসূচি প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অনেক কম ৷ এছাড়া বয়স্ক শিক্ষা ব্যাপক পরিধিতে বিস্তার ঘটানো হয় নি ৷ এসব ক্ষেত্রে যে বিরাট সংখ্যক শিক্ষক ও প্রশিক্ষক দরকার তা আমাদের দেশে নেই।

*এনজিও (Non-government Organization)-দের উপর নির্ভরশীলতা: বাংলাদেশে চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এনজিও এর মাধ্যমে পল্লী উন্নয়নের কৌশল গ্রহণ করা হয় ৷ এজন্য দেশে ৯৫১টি এনজিও-কে রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়, এদের কার্যক্রম সমন্বিত করা হয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবারভিত্তিক উন্নয়নে শুধু ক্ষুদ্র প্রকল্প ব্যবহার করা হয়, যার দ্বারা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবস্থার তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনি বরং অনেকে বলে, সামাজিক সংহতি ও পারিবারিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে।

*রাজনীতিবিদদের অসহযোগিতা: সরকার মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন৷ কিন্তু স্থানীয় সরকারের অঙ্গীভূত কিছু ব্যক্তি নিজ স্বার্থে সে সব অর্থ ব্যয় করার চেষ্টা করেন৷ ফলে জনস্বার্থে তা কোন কাজে লাগে না, মানবসম্পদ উন্নয়ন ব্যাহত হয় !

*ক্রয় ক্ষমতার ঘাটতি: দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রসার নির্ভর করে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার উপর ৷ বাংলাদেশের জনসাধারণের মোট ১৩% মাত্র আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে থাকে ৷ আবার অধিকাংশ জন সাধারণের শিক্ষা উপকরণ ও বিদ্যালয়ের খরচ মেটানোর সামর্থ নেই ৷ ফলে মানব সম্পদ উন্নয়ন বিঘ্নিত হচ্ছে ৷

*জাতীয়ভিত্তিক পরিকল্পনার অভাব: বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য জাতীয়ভিত্তিক কোন মানব সম্পদ উন্নয়ন পরিকল্পনা নেই, বাংলাদেশে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় মানব সম্পদ উন্নয়নের কিছু কথাবার্তা অবশ্যই থাকে, কিন্তু প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের সংস্থান রাখা হয় না।

শিক্ষার অবস্থা সহ সামগ্রিক মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা খুব জরুরি। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সংশোধন ও পরিমার্জন, পেশাগত প্রশিক্ষণ, জনগণের সুস্বাস্থ্য, সম্পদের সুষম বণ্টন (যাতে দরিদ্র মানুষ উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারে), কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি (বর্ধিত বেকার সমস্যার জন্য), গ্রাম ও শহরের সুষম উন্নয়ন: (গ্রামাঞ্চলে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অধিকাংশের প্রচলিত শিক্ষা নেই), পরিবেশ উন্নয়ন, জনসংখ্যা সীমিত রাখা (জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়বে এবং জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে), প্রেষণা সৃষ্টি (যাতে কর্মক্ষম জনশক্তি শিক্ষিত হয়ে উৎপাদনশীল কর্মকান্ডে নিয়োজিত হয়) নিশ্চিত করতে হবে।

আরেকটা কথা, বেকারসমস্যার সাথে নারীশিক্ষার বিষয়টি সম্পর্কিত। এই সমাজে পুরুষকে প্রধান উপার্জনকারী বলে মনে করা হয়, আর নারী কোন চাকরি করলে তাকে বিলাসিতা ধরা হয়। আমাদের সমাজের নিয়মটাই এমন যে পুরুষই সংসার চালাবে বলে আশা করা হয়, অন্যদিকে চাকুরিজীবী নারী একটি সংসার চালাবে না, বরং আরেকজন চাকুরিজীবী পুরুষকে বিবাহ করবেন আশা করা হয়। এই এক্সপেক্টেশন অসমতা পড়ে সরাসরি নারীর বেকারসমস্যা ও শিক্ষাখাতে। অনেক সময়ই বেকারসমস্যার কথা ভেবে (তার জায়গায় পুরুষকে চাকরি দিলে একটা সংসার চলবে, অর্থাৎ পুরুষের চাকরি বেশি প্রয়োজন এটা ভাবা হয়), আর বিয়ের পর বা সন্তান নেবার পর চাকরি করা বন্ধ করে দেবে এসব ভাবার কারণে নারীদেরকে বেকার সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। এছাড়া দেখা যায়, নারীর বাবামা তার ভাল বিবাহ দেবার জন্যই পড়াচ্ছেন। হাই স্কুলে বা কলেজে ভাল কোন ছেলে পেলে বাবা মা সাথে সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়, আর এক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় নারীর আর পড়াশুনা করা হয় না। একারণে নারীদের মিন ইয়ারস অফ স্কুলিং ও এক্সপেক্টেড ইয়ারস অফ স্কুলিং কম হচ্ছে।

এদিকে নারীদের ক্ষেত্রে প্রেশণার অভাব একটি বড় সমস্যা। পুরুষের ক্ষেত্রে যেমন ছোট বেলা থেকেই সংসার চালাতে হবে একরকম পড়াশুনার জন্য চাপ দেয়া হয়, তেমনটা নারীর বেলায় সর্বস্তরে করা হচ্ছে না (বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এটা সত্য)। এর কারণ নারীর বেলায় অর্থ উপার্জনের বিষয়টি আশা করা হয়না। আর এই কারণে তারাও পড়াশুনা করতে নিরুৎসাহিত হয়ে যায়, কারণ ভাল রেজাল্ট হোক, আর খারাপ রেজাল্ট হোক, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব একটা তারতম্য হয় না। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা, ছাত্র পড়াশুনায় দুর্বল হলে স্কুলের টিচার তার বাসায় গিয়ে বাবা মাকে অভিযোগ দেয় যাতে ছেলেকে পড়তে চাপ দেয়া হয়, আর ছাত্রী পড়াশুনায় দুর্বল হলে স্কুল টিচার তাদের বাসায় গিয়ে তার বাবা মাকে পরামর্শ দেন, এই মেয়ে লেখাপড়ায় খারাপ, যত তাড়াতাড়ি পারেন বিয়ে দেবার চেষ্টা করুন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আরও বেশি কর্মসংস্থান, চাকরির সুযোগ তৈরির সাথে সাথে সমাজ সংস্কারও জরুরি।

যাই হোক, এগুলোকে উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে অতি দ্রুত হারে মানব সম্পদ উন্নয়ন হবে বলে আশা করি। মানবসম্পদ উন্নয়নের সাথে উন্নত হবে দেশে শিক্ষার অবস্থা। ফেইল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমবে, স্কুলগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন