Swarnendu Sil RSS feed

Swarnendu Silএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সাম্মানিক
    বেশ কিছুদিন এই :লেখালিখি'র কচকচানিতে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়া হয়নি। নেওয়া হয়নি বলতে ইচ্ছে ছিল ষোল'র জায়গায় আঠারো আনা, এমনকি, যখন আমাদের জুমলাবাবু 'কচি' হতে হতে তেল-পয়সা সবাইকেই ডুগডুগি বাজিয়ে বুলেট ট্রেনে ওঠাচ্ছেন তখনও আমি 'ঝালিয়ে নেওয়া'র সুযোগকে কাঁচকলা ...
  • তোত্তো-চান - তেৎসুকো কুররোয়ানাগি
    তোত্তো-চানের নামের অর্থ ছোট্ট খুকু। তোত্তো-চানের অত্যাচারে তাকে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে। যদিও সেই সম্পর্কে তোত্তো-চানের বিন্দু মাত্র ধারনা নেই। মায়ের সঙ্গে নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য সে চলছে। নানা বিষয়ে নানা প্রশ্ন, নানান আগ্রহ তার। স্টেশনের টিকেট ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্য প্রথম ভাগের উৎসব শেষ। এরপরে দীপাবলি। আলোর উৎসব।তার সাথে শব্দবাজি। আমরা যারা লিভিং উইথ অটিজমতাদের ক্ষেত্রে সব সময় এই উৎসব সুখের নাও হতে পারে। অটিস্টিক মানুষের ক্ষেত্রে অনেক সময় আওয়াজ,চিৎকার, কর্কশ শব্দশারীরিক ...
  • সিনেমা দেখার টাটকা অভিজ্ঞতা - মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি
    চট করে আজকাল সিনেমা দেখতে যাই না। বাংলা সিনেমা তো নয়ই। যদিও, টেলিভিশনের কল্যাণে আপটুডেট থাকা হয়ে যায়।এইভাবেই জানা যায়, এক ধাঁচের সমান্তরাল বাংলা ছবির হয়ে ওঠার গল্প। মধ্যমেধার এই রমরমার বাজারে, সিনেমার দুনিয়া আলাদা হবে, এমন দুরাশার কারণ দেখিনা। কিন্তু, এই ...
  • কিংবদন্তীর প্রস্থান স্মরণে...
    প্রথমে ফিতার ক্যাসেট দিয়ে শুরু তারপর সম্ভবত টিভিতে দুই একটা গান শোনা তারপর আস্তে আস্তে সিডিতে, মেমরি কার্ডে সমস্ত গান নিয়ে চলা। এলআরবি বা আইয়ুব বাচ্চু দিনের পর দিন মুগ্ধ করে গেছে আমাদের।তখনকার সময় মুরুব্বিদের খুব অপছন্দ ছিল বাচ্চুকে। কী গান গায় এগুলা বলে ...
  • অনন্ত দশমী
    "After the torchlight red on sweaty facesAfter the frosty silence in the gardens..After the agony in stony placesThe shouting and the crying...Prison and palace and reverberationOf thunder of spring over distant mountains...He who was living is now deadWe ...
  • ঘরে ফেরা
    [এ গল্পটি কয়েক বছর আগে ‘কলকাতা আকাশবাণী’-র ‘অন্বেষা’ অনুষ্ঠানে দুই পর্বে সম্প্রচারিত হয়েছিল, পরে ছাপাও হয় ‘নেহাই’ পত্রিকাতে । তবে, আমার অন্তর্জাল-বন্ধুরা সম্ভবত এটির কথা জানেন না ।] …………আঃ, বড্ড খাটুনি গেছে আজ । বাড়ি ফিরে বিছানায় ঝাঁপ দেবার আগে একমুঠো ...
  • নবদুর্গা
    গতকাল ফেসবুকে এই লেখাটা লিখেছিলাম বেশ বিরক্ত হয়েই। এখানে অবিকৃত ভাবেই দিলাম। শুধু ফেসবুকেই একজন একটা জিনিস শুধরে দিয়েছিলেন, দশ মহাবিদ্যার অষ্টম জনের নাম আমি বগলামুখী লিখেছিলাম, ওখানেই একজন লিখলেন সেইটা সম্ভবত বগলা হবে। ------------- ধর্মবিশ্বাসী মানুষে ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি #সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যমন ভালো রাখতে কবিতা পড়ুন,গান শুনুন,নিজে বাগান করুন আমরা সবাই শুনে থাকি তাই না।কিন্তু আমরা যারা স্পেশাল মা তাঁদেরবোধহয় না থাকে মনখারাপ ভাবার সময় না তার থেকে মুক্তি। আমরা, স্পেশাল বাচ্চার মা তাঁদের জীবন টা একটু ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা▶️অন্তরীক্ষে এই ঊষাকালে অতসী পুষ্পদলের রঙ ফুটি ফুটি করিতেছে। অংশুসকল ঘুমঘোরে স্থিত মেঘমালায় মাখামাখি হইয়া প্রভাতের জন্মমুহূর্তে বিহ্বল শিশুর ন্যায় আধোমুখর। নদীতীরবর্তী কাশপুষ্পগুচ্ছে লবণপৃক্ত বাতাস রহিয়া রহিয়া জড়াইতে চাহে যেন, বালবিধবার ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

Swarnendu Sil

গতকাল শুক্রবার ৮ই জুন, ২০১৮ তারিখে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বাংলা নিউজ পোর্টাল আই ই বাংলায় আমার একটা লেখা প্রকাশিত হয়।
https://bengali.indianexpress.com/education/science-in-bengali-situati
on-of-west-bengal/


সেই সংক্রান্ত ফেবুতে নিজের দেওয়ালে ও গুরুর ফেবু গ্রুপে কিছু আলোচনাও শুরু হয়েছে ও চলছে। খানিক সেইগুলো এক জাযগায় রাখার জন্যে আর খানিকটা এখানেও আলোচনা শুরু করার জন্য ও বিশেষত আলোচনার বাইরে কাজ করার ব্যাপারেও যদি সবাই মিলে কিছু একটা সলতে পাকানো যায় সেসবের জন্যে এখানে রাখলাম সেগুলো।


আলোচনাগুলো মূলত প্রশ্নোত্তর ফর্মে লিখব ভেবেছি। যেগুলোয় তর্কবিতর্ক নেই সেগুলো লিখছিনা, কেউ চাইলে আমার দেওয়ালের পোস্ট https://www.facebook.com/sswarnendu/posts/2138387686177599
বা গুরুর ফেবু গ্রুপে আমার পোস্টে https://www.facebook.com/groups/guruchandali/permalink/224939978507795
5/
দেখে আসতে পারেন।




=== Pratibhamoy Das জার্মান বা ফরাসীরা ঠিক নিজেদের ভাষায় আর গবেষণাপত্র লেখে না, তাতে রিভিউয়ার সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।
( মূল মন্তব্য বাংলায় কিন্তু ইংরেজি হরফে )


=== Swarnendu Sil তাতে কি হল? জার্মানী বা ফ্রান্সে একটাও ইউনিভার্সিটি আছে যেখানে বিজ্ঞানের যেকোন বিষয়ে সেই দেশের ভাষাটায় থিসিস লেখা যায় না? আর বাংলায় একটাও ইউনিভার্সিটি আছে যেখানে বিজ্ঞানের যেকোন বিষয়ে বাংলায় থিসিস লেখা যায়? আর তাছাড়া গবেষণাপত্র কিসে লেখে সেটা খানিকটা ইম্মেটেরিয়াল, গাদা গাদা কনফারেন্স, টক ফরাসী ও জার্মানে হয়। এমনকি গবেষণাপত্র লেখে না টাও রিলেটিভ অর্থে সত্যি, অ্যাবসলুট সংখ্যার বিচারে এখনো যথেষ্ট পরিমাণেই লেখা হয়।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

=== Pratyaydipta Rudra লেখাটি তো ভালই লাগল। বিশেষ করে শিক্ষার অংশটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিজ্ঞানচর্চায় জায়গায় দুটো প্রশ্নের উত্তর পেলাম না। এক, বিভন্ন ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা হওয়াটা বিশ্বের বিজ্ঞান কম্যুনিটির কাছে কতটা সুবিধাজনক? সেই অসুবিধাটা কি মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার সুবিধা ব্যালান্স করতে পারে? দুই, বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার পরিবেশ বা পরিকাঠামো কই? সেটাই না হলে, যেমনটা তুমি কিছুটা লিখেছ, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা হবে কি করে?

=== Swarnendu Sil "বিভন্ন ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা হওয়াটা বিশ্বের বিজ্ঞান কম্যুনিটির কাছে কতটা সুবিধাজনক?" --- অসুবিধেজনক আদৌ মনে হয় না, আজকের যুগে তো আরোই নয় যেখানে ট্রান্সলেশন, ল্যাঙ্গুয়েজ এডিটিং এসবের ব্যবস্থা বেশ সহজলভ্য। চীনের একগাদা ইউনিভার্সিটিতে বস্তুত প্রফেশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ এডিটর রাখে ফ্যাকাল্টিদের গবেষণাপত্র ইংরেজিতে লিখে দেয়ার জন্যে, জান নিশ্চয়ই। আর মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার সুবিধা শুধু ব্যালান্স করতে পারে না, ব্যালেন্সের আরও বহুগুণ বেশী করে। রিসার্চে উন্নত একটা দেশও নেই যেখানে এটা নেই।

"বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার পরিবেশ বা পরিকাঠামো কই?" --এইটা নিয়ে আগেই লিখেছি। এই দুটো জিনিস আদৌ সিক্যয়েনশিয়াল নয়, আগে একটা হয়ে বসে থাকবে, তবে আর একটা শুরু হবে এমন নয়। পরিকাঠামো দরকার এইটা যেমন ঠিক, তেমনি আরও আরও বেশী লোকে সেগুলো কাটিয়ে দিলে পরিকাঠামো গড়ে তোলার ইনসেন্টিভ আরও কমবে, ভিশাস সাইকল। উলটোদিকে বেশী বেশী করে লোকে এটাকে জরুরী মনে করতে শুরু করলে পরিকাঠামো বেটার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হবে বেশী এবং ক্রমশ হবেও।

=== Pratyaydipta Rudra "এই দুটো জিনিস আদৌ সিক্যয়েনশিয়াল নয়" - ঠিকই। একমত।

অন্যটা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নই। ট্রান্সলেশন ইত্যাদির যে সফটওয়্যার আছে সেগুলো বেশ খারাপ। প্রোফেশনাল এডিটর রাখলে কাজ হয় বটে, কিন্তু সেখানে সেই পরিকাঠামোর ব্যাপারটা কিন্তু সিকোয়েনশিয়াল হওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া সেমিনার ইত্যাদির কথা ভাবলেও অনুবাদে অসুবিধাই হওয়ার কথা। অসুবিধা ব্যালান্স হবে কিনা সেটা আমি নিজেও জানি না। প্রশ্নটা করলাম আলোচনার জন্যই। "মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার সুবিধা শুধু ব্যালান্স করতে পারে না, ব্যালেন্সের আরও বহুগুণ বেশী করে।" - এটা সত্যি হতেই পারে, কিন্তু অন্যগুলোর মত তথ্য দিয়ে দেখালে হয়তো মানতে আরো সুবিধা হবে।

=== Pratyaydipta Rudra আর ওই ইংরেজি বই থেকে টুকে দেবার সমস্যাটা শুধু ভাষার জন্য কিনা সন্দেহ আছে। টোকার সংস্কৃতিটাই বস্তুত আছে। বাংলা বিষয়ে গবেষণা করা লোকেদের পেপারেও টোকার ছড়াছড়ি।

=== Swarnendu Sil Pratyaydipta Rudra তথ্য তো খানিক লেখাটায় দিয়েইছি, mathoverflow তে একটা আলোচনা থেকে। এমনিতে ওইভাবে ল্যাঙ্গুয়েজ বেসড জার্নাল সার্চ করতে কোড লিখতে হবে, নইলে এখনি মেজর রিসার্চ আর্টিকল এর ডেটাবেসগুলো সার্চ করে দেখা যেত। একটা ভাষায় জার্নাল, কনফারেন্স প্রসীডিং এসবের সংখ্যার সাথে সে দেশের রিসার্চ আউটপুটের একটা পজিটিভ কোরিলেশন আছে , এইটা কিন্তু কোথাও ডিস্পুটেড হয়নি বলেই জানি। এক্সপ্লিসিট তথ্য খুঁজতে একটু সময় নিয়ে ঘাঁটতে হবে, দেখব। তুমিও পেলে জানিও।

=== Swarnendu Sil Pratyaydipta Rudra পুরোটা ভাষার জন্য নয় ঠিকই, আবার অনেকটা তাইই। ইনট্রোডাকশন নিজের ভাষায় ইংরেজিতে লেখার স্কিলটা রপ্ত নয়, এই রকম পিএইচডি ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দেশে বিশাল।

=== Pratyaydipta Rudra নিশ্চয়ই জানাবো পেলে। আমি এসব নিয়ে ঘাঁটিনি একেবারেই, আর অন্য ভাষায় লেখা পেপার পড়ার চলও আমাদের বিষয়ে অতটা নেই।

"ইনট্রোডাকশন নিজের ভাষায় ইংরেজিতে লেখার স্কিলটা রপ্ত নয়, এই রকম পিএইচডি ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দেশে বিশাল।" - শুধু দেশে কেন, বিদেশে এসেও অনেকের সমস্যা হয়। আমার অসুবিধা হয়েছে বহুদিন। এখনও একেবারেই হয়না বললে মিথ্যা বলা হবে। এসব শিখতে সময় এবং এফর্ট লাগে, আর সেটা গবেষণার সময় খেয়ে নেয় তো বটেই। আবার এটাও ঠিক যে সেই শেখাটা আমার অন্যভাবেও কাজে এসেছে নিজের কাজ নিয়ে কম্যুনিকেট করতে, যেহেতু ইংরেজিভাষী দেশে আছি। পদে পদে অনুবাদ ব্যাপারটা নিয়ে আমি এখনও সন্দিহান। তবে যদি অনুবাদ করে দেবার আলাদা ব্যবস্থা থাকে, আর লোকে মন দিয়ে কেবল গবেষণা করতে পারে, সেটা খুব একটা খারাপ হবেনা বলেই মনে হয়।

=== Pratyaydipta Rudra এই অনুবাদের ব্যবস্থা এবং ভিন্ন ভাষার গবেষকের প্রতি সম্মান বিশ্বজুড়ে থাকাটাও জরুরী। ফ্রান্সে গবেষণা করতে যাওয়া বন্ধুর কাছে শুনেছি খুব একটা সহযোগিতা না পাওয়ার গল্প। এ দেশেও দেখি চীনা গবেষকরা অনুবাদক ব্যবহার করলে সেই নিয়ে হাসাহাসি করতে বা অন্যরকম অ্যাকসেন্ট নিয়ে হ্যাটা করতে। গবেষকদের অনেককে শিক্ষকও হতে হয়, সেখানেও অনুবাদের ব্যাপার চলেনা। প্রশ্ন উঠতে পারে নিজের দেশে বসে ভালো কাজ করতে পারলে অন্য দেশে কেউ কেন যাবেন। কিন্তু বাস্তবে একটা হায়ারার্কি থেকেই যায়। আইডিয়ালি আমি মনে করি নিজের জায়গায় থেকে গবেষণা করার চেয়ে ভাল আর কিছু হয়না। বাস্তবে সেটা পুরোপুরি সম্ভব কিনা নিশ্চিত নই। মানুষ এক অঞ্চল থেকে অন্যত্র যাবেন গবেষণার কাজে, এটা বেশ স্বাভাবিক মনে হয়। ভারতের মত বহু ভাষার দেশে সেই যাওয়া আসা আরো সমস্যার হতে পারে হয়তো।

=== Swarnendu Sil আমি সব বিষয়ে তো জানিনা, কিন্তু অঙ্কে ভিন্ন ভাষার প্রতি অসম্মান দেখিনি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে, কিন্তু এমনি ইউনিভার্সিটি চত্বরে অন্যদের অসুবিধের থেকে নেটিভ স্পিকারদের কথা আগে ভাবা হয়, তাই ফ্রান্স, ইতালী এমনকি জার্মানীতেও ঐরকম গল্পের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু উলটোদিকে কনফারেন্সে জাপানই বা চীনাদের কিম্বা ফরাসী, ইতালীয় কিম্বা স্প্যানিশদের ভয়াবহ ইংরেজি উচ্চারণ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না লোকে, যদিও বাস্তবিক অসুবিধে হয়, তাও সে লোকে মেনে নেওয়াটাই দস্তুর আর কি।


=== গৌরব গুপ্ত == লেখাটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, তোমার বৈজ্ঞানিক লিখন পদ্ধতি মেনে এই রচনাকে সম্মান করি। বর্ত্তমানে আমি কিছু স্কুল আর কলেজের ছাত্রছাত্রীর গৃ্হশিক্ষক। তো অভিজ্ঞতা ভীষণ হতাশার। প্রথমত শিক্ষার প্রাথমিক পরিবেশ নিয়ে দু'চার কথা না বললেই নয়। আর্থসামাজিক দ্বিধাবিভক্ত বঙ্গসমাজে, শহর বা মফস্বল এলাকায় স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানরা সকলেই ইংরাজি মাধ্যমে পড়াশুনা করে। কারণ ভারতের সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা প্রায় বাধ্যতামূলক ইংরাজিতে হয়। তাছাড়া ও সাধারণ্যে ধারণা 'অভদ্র' সন্তানরা সরকারি আনুকূল্য এ পাঠ নেয়। ব্যতিরেক অতীব সত্যি কথা বাংলার পাঠ্যপুস্তক অত্যন্ত নিম্নমানের। দ্বিতীয়ত যে বা যারা প্রতিযোগিতায় থেকে উন্নত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছে তাদের জীবনের অর্থ শুধুই মুখস্থকরা, ভাল ফল সুনিশ্চিত করতে সবই মুখস্থকরার দাওয়াই দিচ্ছেন 'আকাশ' বা অন্য কোচিং। সব মিলিয়ে শহুরে মধ্যবিত্ত বাঙালী পড়ছে কিন্তু শিখছে না। এবং শিখবেও না এব্যাপারে আমার নাতিদীর্ঘ অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবে সম্ভাবনাময় যে শ্রেণী শিক্ষালাভ করতে চায় তা প্রায় সবটাই গ্রামে, প্রত্যন্ত গ্রামে, কিন্তু সেখানে প্রাথমিক সমস্যা অন্নসংস্থান, দ্বিতীয় সমস্যা ইংরাজিতে ধাতস্থ না হতে পারা কারণ সর্বভারতীয় স্তরে বাধ্যতামূলক ইংরাজির গুরুত্ব। এই পরিস্থিতিতে প্রায় একমাত্র পরিত্রাতা 'মিড ডে মিল' যার জন্য বহু শিশু স্কুলে যায়। এখন এমতাবস্থায় তোমার অভিমত জানতে চাই কি বা হওয়া উচিৎ আশু কর্তব্য?

=== Swarnendu Sil == আমার আলাদা করে অভিমত তো কিছু নেই, কারণ আমি যোগ্য লোক নই। কিন্তু ঠিক এরকমই সমস্যা, বস্তুত আরও বেশী কারণ ওখানে অপুষ্টিও একটা বিরাট সমস্যা, আছে আফ্রিকার দেশগুলোয়। অথচ গত এক দশকে সেখানে দারুণ দারুণ কাজ হয়েছে ও হয়ে চলেছে। সেগুলো পড়া ও তারপর সবদিক খতিয়ে দেখে এ নিয়ে কার্যকরী প্ল্যান ছাড়া অবস্থা পালটাবে না। কিন্তু নিলে যে পালটায় তার উদাহরণ আফ্রিকা।

=== গৌরব গুপ্ত == দিশা দাও, দৃষ্টান্ত দরকার দিশাও খুব জরুরী।

=== Swarnendu Sil == আমি যতটুকু পড়েছি, জানি, সেইটুকু লিখব কখনো। কিন্তু সেইটা বিস্তারিত আলোচনা, এই লেখাটায় খুব একটা লেখা সম্ভব ছিলনা।

=== গৌরব গুপ্ত == দেখা হলে, কথা হবে এ প্রসঙ্গে।

=== Arijit Hazra == এই নিয়ে আলোচনা করেই বাঙালী দুশ বছর কাটিয়ে দিল। সেই জায়গায় কিছু কাজ করলে ভালো হত। এই নিয়ে একই কথা-আলোচনা হাজার-হাজার বার হতে দেখলাম। আর আমার মনে হয় আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে - আর প্রায় সব কিছুর মতই :) । নিতান্ত অবৈতনিকভাবে, অন্য পেশার সঙ্গে য়ুক্ত কিছু লোক নিজদের কাজ থেকে সময় বাঁচিয়ে কিছু করবে এই আশায় কিছু পাল্টাবে এটা হতে যে ব্যপক সংখ্যক সায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত লোককে দরদ দিয়ে এই কাজ করতে হবে তার এক অতি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশও চোখে পড়ছে না। একইসঙ্গে এটার গুরুত্ব অনুভব করে এবং অংশীদার হতে সক্ষম এমন লোকের সংখ্যাও দিনকে দিন অন্তত এই বাংলায় কমছে।

=== Rajibul Islam == Swarnendu - অত্যন্ত জরুরী আলোচনা। শুনে আনন্দ পাবি যে খুব তাড়াতাড়ি https://bigyan.org.in -এর পক্ষ থেকে ছাপা পত্রিকা বের করতে চলেছি একটি
বিজ্ঞান সংস্থার সাথে জোট বেঁধে।

=== Santanu Das == একটু অন্য প্রসঙ্গেঃ

Elasticity এর বাংলা স্থিতিস্থাপকতা, Function এর বাংলা অপেক্ষক, Variable এর বাংলা চলরাশি, Speed এর বাংলা দ্রুতি এগুলো কিন্তু চলিত ভাষার মধ্যে পড়ে না। তুমি একটা ছোট ছেলেকে Elasticity শব্দটা সহজে শেখাতে পারবে কারণ সে 'ইলাস্টিক' দেওয়া প্যান্ট পরেছে (মানে সে চোখে দেখেছে Elasticity এর ধারণা টা প্যান্টের 'ইলাস্টিক' এর মাধ্যমে)। বিজ্ঞানে ভাষার গাম্ভীর্যের থেকে কোন কনসেপ্টকে কত সহজে সাধারণ ভাষায় পৌঁছান যায় সেটাই লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। বিজ্ঞানের তো কবিতা লেখার দরকার নেই। Differentiation দেখ Difference কত কাছের একটা শব্দ বা Integration, Integrate এর। Difference বা Integrate খুব কমন ইংরেজি শব্দ; সেখানে অবকলন বা সমাকলন যেন কবিতা লেখার শব্দ মনে হয়। বিভিন্ন বিজ্ঞানের কনসেপ্ট এর বাংলা অনুবাদ করতে গিয়ে অনুবাদকরা ভাষার দিকটা খেয়াল রেখেছেন কিন্তু কনসেপ্ট এর দিকটা রাখেননি। তাই বাংলায় বিজ্ঞানটা সাধারণের থেকে আরও দূরে সরে গেছে বলে আমার মনে হয়। আর একটা ব্যাপার সেটা হোল নতুন কোন ধারণা যে ভাষায় আবিষ্কার হয়েছে সেই ভাষার কাছাকাছি (শুনতে) কোন শব্দ বাংলায় অন্তর্ভুক্ত হলে সেটা একদম নতুন কোন শব্দ তৈরি করার থেকে এফেক্টিভ।

=== Swarnendu Sil == ধুস বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার সমস্যা আদৌ পরিভাষা নয়। বাংলা হরফে ইংরেজি নাম লিখলেই হয়। এসব বাজে যুক্তি।

=== Swarnendu Sil == আর এ সংক্রান্ত যেকোন আলোচনায় এই অদ্ভুত ছেঁদো যুক্তিটা খালি ঘুরে ফিরে আসে, একটু আগেই গুরুর থ্রেডে Arijit Hazra সেটাই লিখল।

=== Santanu Das == তাহলে বেশীরভাগ বাংলা মিডিয়ামের ছাত্রই বাংলাতে বিজ্ঞানচর্চা করে, শুধু লেখে ইংরেজিতে কারণ বাংলায় লেখার কোন অপশন নেই। আমি নিজেই তো কনসেপ্ট গুলোকে নিয়ে বাংলাতেই ভাবি।

=== Swarnendu Sil == বাংলায় লেখার অপশন নেই তা নিয়েই তো লিখেছি, কি তোর পয়েন্ট তাইই বুঝলাম না।

=== Santanu Das == তুমি যদি 'বাংলা হরফে ইংরেজি নাম' লেখাতে অসুবিধা না থাকে বল, তাহলে শুধু 'বাংলায় লেখা যায়না' এই পয়েন্টটাই একমাত্র পয়েন্ট হয়। কিন্তু যদি বাংলাতে বিজ্ঞানচর্চার জন্যে তৎসম টাইপের বাংলা শিখতে হয় তাহলে বিজ্ঞানটা সেকেন্ডারি হয়ে যায়। এটা আমার মনে হয়।

=== Avik Layek == মজা হচ্ছে ইংরেজিতেও যখন পরিভাষা সৃষ্টি হয়েছিল, অনেক শব্দই আভাঙা ল্যাটিন তোলা হয়েছিল, সাধারণ ইংরেজি বাচনের ধারেকাছে সেগুলো ছিল না। শুনতে শুনতে এক প্রজন্মেই সেসব ধাতস্থ হয়ে যায়। সালোকসংশ্লেষ বাংলার শিশুমনে আতঙ্ক জাগায়, আর photosynthesis খুব স্বাভাবিক শব্দ ছিল, এমন ভাবার যুক্তি নেই। ক্রিকেটের পরিভাষা যখন হিন্দিতে বানানো হলো, এইসব বল্লেবাজ, দৌড়, গেন্দবাজ নিয়ে কী খিল্লি হয়েছিল সর্বত্র, সুনন্দর জার্নালে আছে। এখন মনে হয় না কারো আপত্তি হয়।

=== Ritwik Kumar Layek == সব অভ্যেস। শুধু ২০ বছর লাগে।

=== Kausik Maiti == বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষা হয় না। বাংলা ভাষায় গবেষণা হয় না। বাংলা ভাষা জানলে চাকরিতে সুবিধা হয় না।

এই জন্যই লোকে বলে বাংলা কাজের ভাষা না

বাম সরকার এটা নির্মাণ করার তো সময় পেয়েছিল। করেনি। এত বোঝা কে বইবে? বাংলায় ভালো বই নেই। সরকারি উদাসীনতা তো আছেই।

=== Kausik Maiti == ভারত অনেক ভাষার দেশ। অনেকটা কঠিন কাজ। কিন্তু বাংলাদেশ পারল না কেন? বাংলায় গবেষণা করতে?

=== Swarnendu Sil == নানান কারণ, খুব একটা নয়। কিন্তু আমাদের থেকে কিছু ক্ষেত্রে ভাল অবস্থায় আছেও বটে।

=== Kausik Maiti == আমাদের নানা ইন্সটিটিউট নানা রাজ্যে। ভারতে সমস্যা হবেই।

কিন্তু বাংলাদেশ চাইলেই পারে

=== Swarnendu Sil == অনেক দুর অবধি হবেও না। ইন্সটিউট আপাতত নাহয় বাদই থাকল, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে কি সমস্যা?

=== Kausik Maiti == ক্ষেত্রটা ছোটো হলেও উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

=== Swarnendu Sil == প্রসঙ্গত সুইটজারল্যান্ডে তিনটে ভাষা আছে, বেলজিয়ামেও দুটো। যে অঞ্চলের ইন্সটিউট বা বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানের ভাষায় দিব্য পড়াশোনা চলে। ইংরেজি তারা জানে না এমন আদৌ নয়।

=== Swarnendu Sil == আর শুধু পশ্চিমবাংলায় যত লোকে বাংলায় কথা বলে, সারা পৃথিবীতে ডাচ এ কথা বলা লোকের সংখ্যা বোধহয় তার কম।

=== Arghya Choudhury == বাংলাদেশ যে দিকে এগোচ্ছে গবেষণা তো দুরস্থান , বিজ্ঞান জিনিসটাকেই পাঠক্রম থেকে তুলে দেবে ।


=== Kausik Maiti == আলোচনা হল। স্বর্নেন্দু দা, এবার কাজে নামতে হবে। বই টই অন্তত লেখা যাক ভালো করে।

=== Tuhin Ghosh == মোটের উপর অর্থহীন লেখা। নিও মিডিল ক্লাস এর এসপিরেশান থেকে অনেক ভারতবাসী এখন রিসার্চ এ আসছে বা এর মধ্যে দিয়ে একটা একটা রুজিরুটির সন্ধান পেয়েছে। এর সাথে ভারত রিসার্চে অবদান রাখতে বা কি করলে আরো ভালো রিসার্চার পাওয়া যাবে এসবের তুলনা করার ভিত্তি পরিষ্কার নয় ।
ভারতের এই গ্লোবাল বিশ্বে পরিচিতি সার্ভিস ইকোনোমি প্রোভাইডার হিসেবে। সেখানে শুরু থেকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে কেউ যদি বেটার সার্ভিস প্রোভাইড করে সফল হয় তাহলে লোকে সেই উদাহরণ দেখে সেই দিকেই ঝুঁকবে কারণ বিষয়টা অর্থনৈতিক ও বটে । ভারত এ আইআইটি ইত্যাদি এরা তো কোনো কিছু আবিষ্কার করে সেটাকে বাজার জাত করে নাম করেছে বলে শুনিনি আর ভবিষ্যতেও সম্ভাবনা খুব কম, একমাত্র ওই থিরিওটিকাল সাইন্স এ টাইম পাস্ ছাড়া।
এই যেমন সুন্দর পিচাই গুগুল এর হেড, সে তো আইআইটি খড়্গপুরে মেটালার্জি পড়তো তারপর ম্যানেজমেন্ট করে সার্ভিস ইকোনোমির একজন বেস্ট ক্যান্ডিডেট হিসেবে গুগুল এর টপ পজিশন ছিনিয়ে নিয়েছে। তার সাফ্যলের পিছনে যদি তামিল মিডিয়াম ছেড়ে ইংলিশ মিডিয়াম হেল্প করে তো সেটাই লোকে বেছে নেবে, তাইনা। এখানে নিজের ভাষার প্রাইরোটি আসবে তখনই যদি লক্ষ্য সম্পর্কে একটা ধারণা হয়। আমি নিজে চীন এর ব্যবস্থা দেখেছি আকাশ পাতাল ডিফারেন্সএবং নতুন নতুন স্টার্টআপ তৈরির কালচার বলে দেয় সেটা। ভারতের স্টার্টআপ ফ্লিপকার্ট বিক্রি হয়ে যায় আর চীনের আলিবাবা ভারতের বাজার এ আসে। ভারত শতযোজন দূরে এইসব নিয়ে আলোচোনাও বৃথা।

=== Swarnendu Sil == হ্যাঁ জোগাড়ে হয়েই থেকে যেতে চাইলে তো অর্থহীন লেখাই। সে তো লেখাটাতেই আছে।
=== Satyabrata Roy Bardhan == কিছু অপ্রিয় কথা প্রকাশ‍্যে না বললেই ভালো, তাই সঙ্গোপনে বলছি। পশ্চিমবঙ্গে বাংলায় বিজ্ঞান বা গণিতে ডক্টরাল থিসিস লেখা যায়না বলে কেউ দুঃখ করেছেন এবং আপনি শেয়ার করে সমর্থন করেছেন। মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চা খুব জরুরী সন্দেহ নেই। কিন্তু স্কুল পেরিয়ে যাবার পরে স্নাতক, স্নাতোকত্তর এবং ডক্টরাল গবেষণার স্তরে বাংলায় পড়াশোনা করা সম্ভব কিনা সেই প্রশ্ন করা দরকার। ছাত্রছাত্রীদের সারা পৃথিবীতে কী কাজ হচ্ছে সেটা জানতে হবে। বাংলা ভাষায় সেই ধরণের কাজ অনুবাদ হচ্ছে। ফরাসী বা জার্মান ভাষায় পড়াশোনা করলে সাম্প্রতিক কাজের খবর পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলায়?
সেন্টিমেন্টাল হয়ে লাভ নেই। হিন্দি ভাষায় গবেষণা হচ্ছে, কিন্তু বিশ্ব-সাহিত্যের খবর না রেখে। ফলে তার মান হাস‍্যকর।

=== Satyabrata Roy Bardhan == স্বর্ণেন্দু শীল, লেখা ড. কাঞ্চন মুখোপাধ্যায়ের।

=== Satyabrata Roy Bardhan == আমি শেয়ার করে সমর্থন অসমর্থন, দুটোর কোনটাই করছি না। আমার কিছু বন্ধু আছেন যাঁদের কাছে এই লেখা বা মতবাদ পৌঁছায়নি। তাঁদের কাছে পৌঁছে দিই যাতে তাঁরা এ নিয়ে চর্চা চালিয়ে যেতে পারেন। লেখককে আপনি লিখবেন?


=== Swarnendu Sil == Satyabrata Roy Bardhan উনি যদি আপনাকে ফেসবুকে লিখে থাকেন তাহলে এখানে ওনাকে ট্যাগ করে দিতে পারেন, আমার এই পোস্ট পাবলিক। আপনি যে কাউকে ট্যাগ করতে পারবেন ও তাঁরা এসে এই লেখা, নিচের মন্তব্য, সবই পড়তে পারবেন। অফলাইনে আপনার সাথে কথা হয়ে থাকলে অবশ্য আমার কথা আপনাকেই ওনাকে জানাতে হবে।

ওনার কথার উত্তরে, সারা পৃথিবীর কাজের খবর না রেখে গবেষণা করা যায় না, তাতে যা হয় তা আদৌ গবেষণা নয় এ তো নিছক সত্যি কথা। এতে যে কেউই একমত হবেন, আমিও একমতই কাঞ্চনবাবুর সাথে। কিন্তু যেটায় একমত নই সেইটা হল ওনার শেষ বক্তব্যটায়। মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা শুধু মাতৃভাষার প্রতি সেন্টিমেন্টের বিষয় নয়। রিসার্চ আউটপুট-এর পরিমাণ ও মান বিশ্বমানের অথচ স্থানীয় ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার পরিকাঠামো তৈরি না করে, এ পৃথিবীতে আদৌ কখনো হয়নি এবং কখনো হওয়াও ভীষণ শক্ত ( লেখাটাতেই লিখেছি, একমাত্র ব্যতিক্রম সিঙ্গাপুর, কিন্তু সিঙ্গাপুর একটা খুব ছোট্ট দেশ)। উনি যে প্রশ্ন রেখেছেন বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা করা সম্ভব কিনা সেই একই কথা আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে চিনা বা কোরিয়ান ভাষায় গবেষণা সম্পর্কেও বলা যেত, আজকে তাঁদেরকে দেখুন। ফলত আজ সম্ভব না হলে সম্ভব করার উদ্যোগ নিতে হবে, সম্ভব নয় তাই করব না বললে কোনদিনই সম্ভব হবে না, এইটুকুই লিখতে চেয়েছি। আর আগে সম্ভব হোক, তারপর নাহয় বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা করতে বলব, এরকম হয় না। এইটা ডিম আগে না মুরগী আগের মত। কেউ বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ দেখাচ্ছে না, অথচ পরিকাঠামো এমনি এমনি তৈরি হয়ে কোনদিনই বসে থাকবে না। কিন্তু উদ্যোগ নিয়ে চাকা গড়াতে শুরু করলে সবকটাই একই সাথে উন্নত হতে হতে যাবে।
=== Somdeb Ghose == Swarnendu Sil বেশ ভেবেচিন্তে লেখা। কয়েকটা কমেন্ট :

(১) বিজ্ঞান গবেষণায় লোক বাড়াতে গেলে তাদেরকে ছোটবেলায় থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট করতে হয়। এর জন্য ছোটদের হাতের কাছে ভাল মানের পপুলার সায়েন্স বা সহজবিজ্ঞান লেখা থাকা অত্যন্ত জরুরি। দুঃখের বিষয়, বাংলাভাষায় সে'রকম লেখার মান ও সংখ্যা, দুই'ই এখন তলানিতে ঠেকেছে।

(২) গুণের দিক থেকে ভাল লেখা যদি থাকেও, তার ভাষা অযথা কেমন জানি ফর্মাল হয়ে যায়, যেন মাধ্যমিকে কুড়ি নম্বরের প্রবন্ধ লিখতে দেওয়া হয়েছে। আরে বাবা, সহজ করে লেখো না, যেন সামনের লোকটার সঙ্গে কথা কইছ। এই সমালোচনা অবিশ্যি এই লেখাটার ক্ষেত্রেও খাটে (থুড়ি)।

(৩) গত পনের বছরে পদার্থবিদ্যায়, বিশেষ করে যেটাকে হার্ড কন্ডেন্সড ম্যাটার ফিজিক্স বলা হয়, সেই ফীল্ডে চীনে বিজ্ঞানীরা যে হারে পেপার প্রকাশ করেন, তা দেখে কেমন ইনফিওরিটি কম্পলেক্স তৈরী হয়। এমন কিন্তু নয় যে আমাদের ভারতে ভাল HCM ফিজিসিস্ট নেই। তাদের মুশকিল হল, তারা কাজটা দারুণ করে, তারপরে পেপার লিখতে গিয়ে ইংরিজির বিরাট বড় পোটেনশিয়াল ওয়ালের সামনে এসে ব্রেক খায়। তাই তাদের ধরে বসিয়ে হয় পেপারলেখা (এবং সঙ্গে ভাষাটাও) শেখাতে হয়, বা তাদের সেই অখাদ্য অপাঠ্য পেপারগুলো রিজেক্টেড হয়ে ফিরে আসে। চীনে এরা এসবের তোয়াক্কাই করে না; পাতি ম্যান্ডারিন বা ক্যান্টোনিজে হাঞ্জিতে পেপার লিখে, তুমি যেমন বললে, সে পেপার অনুবাদ করিয়ে জমা করে।

(৪) ফ্রান্সে থিসিস জমা দিতে হলে সম্ভবত অন্তত অ্যাবস্ট্র‍্যাক্টটুকু ফরাসি ভাষায় লিখতেই হয়। ওটা বোধহয় অপশনাল নয়। আর এখানে? নিজের ভাষায় লেখাটাই অপশনাল নয়।

(৫) এর কারণ একটা হতে পারে যে বাংলায় হয়ত বিজ্ঞানে ব্যবহার করার মত যথেষ্ট সহজ পরিশব্দ নেই। যেমন ধর এ-আই, আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স। এই দুটি শব্দই মোটামুটি চলিত বা কথ্য ইংরিজি ভাষাতেও ব্যবহার হয়। উল্টে অফিশিয়াল বাংলাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শুনলেই মনে হয় মাষ্টারমশাই চলন্তিকাটা বাগিয়ে ছুটে আসছেন। এর চেয়ে পাতি নকলবুদ্ধি বললেই মিটে যায়। সহজ ভাষায় বাংলা বিজ্ঞান যদ্দিন না শুরু হবে, তদ্দিন কিন্তু জিনিসটা একটু বেশি একজটিক হয়ে থাকবে।

(৬) জার্মানিতে বা জাপানে বা চীনে জার্মান, নিহঙ্গো বা ম্যান্ডারিনটাই বেশি চলে, চাকরিবাকরি আপিসের কাজকারবার ওইসব ভাষাতেই বেশিটা হয়। কারণ এই দেশগুলো অনেক বেশি হোমোজিনিয়াস, এদের প্রধান ভাষা ওই একটি কি দুটি। জাপানে একটাই ভাষা, শুধু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ডায়ালেক্ট। টোকিয়োর মানুষ ওসাকার ডায়ালেক্ট দিব্যি বুঝে যান, যেমন হয়ত কলকাতার মানুষ রাণাঘাটের ডায়ালেক্ট বুঝবেন। চীনে দুটো প্রধান ভাষা, যদিও বিজ্ঞান সম্ভবত মূলত ম্যান্ডারিনেই হয়। আর ভারতে? ওরে বাবা। ইংরিজি (বা কিছু কিছু এলাকায় হিন্দী) না জানলে নৈব নৈব চ।


=== Swarnendu Sil == Somdeb Ghose ১) সম্পর্কে আমি সম্পুর্ণ সহমত, লেখাটায় সেইটা রয়েছে খানিকটা। ২) ও তাই, তবে সেইটা আমার ধারণা লেখার সংখ্যা বাড়তে থাকলে আস্তে আস্তে কেটে যাবে। বাংলাদেশেই বিজ্ঞান নিয়ে লেখালিখির ভাষা এদিককার লেখালিখির থেকে সহজ ( মানের কথা বলছি না কিন্তু, কিন্তু ভাষাটা কম আড়ষ্ট)। ৩) প্রসঙ্গে, একদম। শুধু কন্ডেন্সড ম্যাটার ফিজিক্সে না, বস্তুত সবেতেই। আর এই পুরোটা শেষ তিরিশ বছরে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে, নব্বই এও পরিস্থিতি এতটা এরকম ছিল না, অথচ আজকে দেখুন। ৪) প্রসঙ্গে বলার কিছু নেই, নিছক সত্যি কথা, শুধু ফ্রান্স নয়, বস্তুত ইতালি, জার্মানি একগাদা দেশের জন্যে সত্যি। ৫) কে আমার আদৌ কারণ মনে হয় না। নকলবুদ্ধি না বলে এমনকি বাংলায় এআই বললেও দিব্যি চলে। কালকেই এই লেখাটা গুরুচণ্ডালীর গ্রুপে শেয়ার করেছিলাম, সেখানে অনেকে লিখেছে, Abhishek Sarkar ও, সেখানে ওকে লিখছিলাম যে পরিভাষার সমস্যায় আটকে আছে ব্যাপারটা আদৌ এমন নয়। দরকারে পরিষ্কার ইংরেজি শব্দগুলো বাংলা হরফে লিখেই আপাতত কাজ চালানো যায়। পরিভাষা নেই-টা অজুহাত, কারণ নয়। ৬) প্রসঙ্গে, এইটা একটা কিছুটা ভ্যালিড পয়েন্ট। কিন্তু সুইতজারল্যান্ড বা বেলজিয়ামে একাধিক ভাষা আছে, যে অঞ্চলের ইন্সটিটিউট, সেখানের স্থানীয় ভাষায় পড়াশোনা, কাজ চলে। একটা দুর অব্ধি ভারতেও সেইটা না করতে পারার কারণ দেখিনা। আমি নিজে এমন অনেক টক দিয়েছি ও শুনেছি যেখানে যিনি টক দিচ্ছেন তিনি বাঙালি, যারা টক শুনছে তাঁরাও সবাই তাই, ইন্সটিউটটা বাংলায়, অথচ ইংরেজিতে টক, প্রশ্ন-উত্তর চলছে। টক দিয়ে বেরিয়েই চা খেতে খেতে যে আলোচনা চলছে বিষয়টা নিয়েই সেইটাই বাংলাতে শিফট করে যায়, অথচ সেমিনার হলে পুরোটা ইংরেজিতে চলল। এর চেয়ে আজব কিছু ভেবে বার করাও শক্ত, অথচ আমরা এই আজব জিনিসটায় কি প্রচণ্ড অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে এটাকে আর অস্বাভাবিকও লাগে না আর।

=== Abhishek Sarkar == স্বর্ণেন্দুদা- লিখিত পেপারের বদলে অডিও পেপার/জার্নালের কন্সেপ্ট আছে? সেইক্ষেত্রে বাংলায় কাজ শুরু করাটা কিছুটা সহজ হয়ে যায়। লেখা থিসিসে চট করে কেউ বোধহয় অপ্রচলিত কাজ করতে চাইছেন না। কারণ যাইই হোক। কিন্তু অডিও জার্নালের কন্সেপ্ট থাকলে তাড়া তাড়া কাজ নিজের...See more

=== Swarnendu Sil == এই শেষের অ্যানেকডোট আমরা সবাইই অনেক শুনেছি। they are simply wrong. এই wrong টা তাঁদের দোষও না, তাঁদেরকে সেইটাই ভাবতে শেখানো হয়েছে, প্রিভিলেজপ্রাপ্তরাই শিখিয়েছে, কারণ যতদিন তাঁরা মনে করবেন যে তাঁদের সমস্যা ইংরেজি মাধ্যমে না পড়ার জন্যে হয়েছে ততদিন আমাদের প্রিভিলেজ নিরাপদ, কারণ সেইটায় তাঁরা আদৌ রেসেই নেই।

=== Swarnendu Sil == আর উদাহরণ এখনই অনেক আছে, ওতে মুণ্ডু হয়। আমিই মাধ্যমিক অবধি বাংলা মাধ্যম সরকারী স্কুল, আরও অনেককে জানি যারাও তাইই। ইংরেজি মাধ্যমে না পড়লে ভবিষ্যৎ ঝরঝরে এইটা উজ্জ্বল চাকরবাকর তৈরির রেটোরিক, ফলত সামাজিকভাবে তার যা প্রেসেন্স, যা জোর, তাতে তার উলটোদিকে না দাঁড়িয়ে সেইটার সাথে একটু মানিয়ে-গুছিয়ে কিছু একটা করে ফেলা যাবে এ আশা বৃথা। সেইটাকে রিজেক্ট করে অন্যগুলো চাই এবং কেন নেই এই দাবী করতে হবে, আর সেগুলোর জন্যে যা যা আশু দরকার নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে করে ফেলতে হবে, সবাই মিলে। খানিক এদিক ওদিক ম্যানেজ দিয়ে উজ্জ্বল চাকরবাকর তৈরির সিস্টেমকে বিশ্বমানের গবেষক তৈরি করতে সক্ষম সিস্টেম বানানো যায় না।

=== Ritwik Kumar Layek == :)

=== Somdeb Ghose == Swarnendu হ, সহজ চলিত ইংরিজি পরিভাষা বাংলায় চলালেও হয় বৈকি। এটা নিয়ে এককালে RJ Roy, যিনি নিজে বাংলা ভাষাটা নিয়ে খুব সুন্দর কাজ করেছেন এবং করছেন, তাঁর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। যেমন ধর, ফেসবুক, বা মোবাইল ফোন, বা মেশিন লার্নিং। আজকালকার এই হট টার্মগুলোর বাংলা করা নিশ্চয় যায়; মুখবই, মুঠোফোন, বা যন্ত্রশিক্ষা। কিন্তু সেগুলো খুব একটা চলে না, কেননা (মুঠোফোন বাদে) শব্দগুলো দৈনিক আড্ডায় ব্যবহার করার মত শব্দ নয়। সুতরাং, হ্যাঁ, একমত এ ব্যাপারে।

=== Somdeb Ghose == Swarnendu ৬ নং পয়েন্ট নিয়ে বলি। হ্যাঁ, বক্তা বাঙালী শ্রোতা সব বাঙালী আর ইনস্টিট্যুটও বাংলায়, এই পরিস্থিতি হলে বাংলা বক্তিমে করা যায় বৈকি। কিন্তু যদি এমন হয় যে বাংলায় টক চলছে, মোটামুটি মাঝামাঝি জায়গায়, এমন সময়ে কেউ একজন টকে এলেন যিনি হয়ত বাংলা বোঝেন না।...See more

=== Swarnendu Sil == এরকম কোন টক আমিও জীবনে দেখিনি, আর সেইটাই পয়েন্ট আমার। ফ্রেঞ্চ এ টক হচ্ছে, ফ্রেঞ্চ স্লাইড বা ইংরেজি স্লাইড ( কারণ একই টক নানান জায়গায় ব্যবহার করবেন বলে অনেক সময়ই আলাদা করে ফ্রেঞ্চ স্লাইড বানান না) বহু দেখেছি। জার্মান বা ইতালিয়ানেও এমন ঘটনা আকছার ঘটে। অথচ বাংলায় এইটা ভাবতেই কেমন একটা অদ্ভুতুড়ে লাগছে, এই অদ্ভুতুড়ে যতদিন লাগবে ততদিন জোগাড়ের থেকে বেশী কিছু হবে দেশ গবেষণায় এ আশা বৃথা।

=== Swarnendu Sil == প্রসঙ্গত, লেটেক বাংলায় এখনই করা যায়, আমিই করেছি, xetex দিয়ে। এসবের জন্য অবশ্যই কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশকে। আর যাই সমস্যা থাকুক, ভাষাটায় এখনও যে এইসব এলিমেন্টারি জিনিসগুলো করা যায় সহজেই সেজন্যে পুরো কৃতিত্বই ওনাদের। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের ভরসায় থাকলে আরও আরও অন্ধকার দিনেই পড়ে থাকতাম মনে হয়।

=== Ritwik Kumar Layek == দুজন বাঙালি গবেষকও বাংলায় তাত্ত্বিক আলোচনা করেন না। এমনি গল্প আড্ডা বাংলা তে হলেও বিজ্ঞান হয় ইংরাজীতে।

=== Ritwik Kumar Layek == এগুলো কন্ডিশনিং এর গল্প। এই যে ফ্রেঞ্চ ওপেন চলছে। কোনও খেলোয়াড় ফ্রেঞ্চ না জানলে ইন্টারভিউ এর সময় দুটো ভাষায় প্রশ্ন করা হচ্ছে। ভারতে/বাংলায় এটা ভাবাই যায় না।

=== Swarnendu Sil == এই পিডিএফ-টাই লেটেক এ করা, কালপুরুষ ফন্টে, article class এ
https://drive.google.com/file/d/1r1VE1REAytRguSLnXSEZQ0TSU-l2VjhE/view

=== Ritwik Kumar Layek == স্বর্ণেন্দু, আমাকে ক্লাস ফাইল আর স্টাইল ফাইল গুলো দিবি?

=== Somdeb Ghose == Swarnendu ফরাসি ও ইংরিজি মিশিয়ে স্লাইড বানালে অতটা হতকুৎসিত লাগে না কেননা হরফদুটো এক, রোমান। এবার অর্ধেক কাঞ্জি অর্ধেক রোমান, বা খানিকটা বাংলা খানিকটা গুরমুখী হরফ দিয়ে স্লকিড বানালে কেমন একটা সুকুমারের সেই অদ্ভুতুরে জীব তৈরী হবে।

=== Ritwik Kumar Layek == চাইনিজ ইংলিশ মেশানো যায়। আরবী ইংলিশ ও।

=== Swarnendu Sil == Ritwik Kumar Layek class file আলাদা কিছু না, default article ক্লাস, xetex আর polyglossia লাগে টেক টা আর xetex instruction টা পাঠাচ্ছি।

=== Ritwik Kumar Layek == ধন্যবাদ। :)

=== Swarnendu Sil == Somdeb Ghose মেশানোর কথা তো বলিনি, স্লাইড ইংরেজিতেই, ফ্রেঞ্চ এ টক দিচ্ছে, এ আকছার হয়।

=== Somdeb Ghose == Swarnendu লেটেকটা দিব্যি হয়েছে। কালুপুরুষ খুব সুন্দর মানিয়ে গেছে। রোমান হরফ মাঝেমাঝে এলেও সেটা চোখে লাগছে না।

দুটো পয়েন্ট। এক, ইক্যুয়েশন কই? \begin{equation}...\end{equation} দিয়ে পরীক্ষা করেছ?
দুই, এত এলিপসিস কেন?

=== Swarnendu Sil == https://methopath.wordpress.com/2008/06/26/writing-unicode-bengali-in-
latex/


=== Somdeb Ghose == Swarnendu এই জিটেকটা বেশ। পিবিপি বাংলায় লেটেকে পাওনিয়ার জানতাম না।

=== Swarnendu Sil == Somdeb Ghose এটা বহু আগের, ফলত এলিপ্সিস ইত্যাদিগুলো আমারই দোষ। হ্যাঁ ইক্যুয়েশন অ্যালাইন সব করেছি। সেগুলো তো এমনিই করা যায়, তাতে কোন সমস্যা নেই। শুধু টেক্সট অংশটা বাংলায়।
https://drive.google.com/file/d/1YBNAVkWup8nsV_0K5YCieGRsX_xymt8V/view

=== Swarnendu Sil == Ritwik Kumar Layek টেকটা নামিয়ে নে লিঙ্কটা দিলাম। ও হ্যাঁ, টেকের সোর্স এ বাংলাটা অবশ্যই অভ্র দিয়ে লেখা।

=== Swarnendu Sil == Ritwik Kumar Layek এসব বহু আগে থেকে টেস্ট করে রেখেছি, বাংলায় টেক্সটবুক লিখব একদিন এই বাসনায় :)

=== Somdeb Ghose == Swarnendu লেখো। নেক্সট জেনারেশনের ভাল হবে। গল্পচ্ছলে বাংলায় বিজ্ঞানের লেখার একটা সুপ্ত ইচ্ছে আছে, দেখি হয় কিনা।
=== অন্তরীপ মণ্ডল ==
এটা লিখছিলাম Swarnendu বাবুর লেখাটার মন্তব্য হিসেবে। তবে লিখতে গিয়ে এত বড় হয়ে গেল যে মন্তব্য হিসেবে নিল না। তাই আলাদা করে পোস্ট করছি।

-------------------------------------------------------

বাংলা ভাষায় যে বিজ্ঞানচর্চা করা উচিত এটা বোধ হয় আজ পর্যন্ত হাজার জায়গায় হাজার রকম ভাবে পড়েছি। নীতিগতভাবে অবশ্যই এর সাথে সবাই একমত হয়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় যে বলার কাজ-টা অনেকেই করলেও, করার কাজটা করার মতো কাউকেই তেমন পাওয়া যাচ্ছেনা। এইসব "করতে হবে" তো আমরা অনেকদিন ধরেই করছি, আর এই "করতে হবে" তে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক-বৈজ্ঞানিক কেউ-ই আর খুব একটা ভরসা রাখতে নারাজ। তাই "করতে হবে" ছেড়ে, আসুন বরং "করি"। শুধু বাংলায় কিছু popular science-এর বই বা article দিয়ে হবে না। বিশ্বমানের "hardcore textbook" যাকে বলে, বাংলায় সেটার-ই প্রয়োজন। পথিক গুহর article তার জায়গায় থাক, কিন্তু আমাদের চাই বাংলা Rudin, বাংলা Bourbaki, বাংলা Landau-Lifschitz, বাংলা Feynman Lectures, বাংলা Art of Computer Programming ইত্যাদি। আপাতত স্রেফ ধরে ধরে বিভিন্ন ভাষায় লেখা বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ পাঠ্যবইগুলো বাংলায় অনুবাদ করা শুরু হোক। পরে এর থেকেই খাঁটি বাংলা নিজস্ব আরো ভালো কিছু হয়তো বেরিয়ে আসবে। আমি একবার খানিকটা চেষ্টা দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছিলাম, কারণ বোঝা গেল যে এটা ঠিক একটি মাথার কম্ম নয়। অনেক মানুষকে একসাথে জড় না করতে পারলে এ কাজ করা সম্ভব নয়। মেধাবী বাঙালি বৈজ্ঞানিক বা বিজ্ঞানের ছাত্র তো বটেই, তার সাথে আরো নানান ভাষায় পারদর্শী লোকজন চাই।

আমার মনে হয় বাংলা ভাষায় পরিভাষা ঠিক কোনোদিন-ই তেমন দাঁড়ায়নি কারণ আমরা সংস্কৃত ও ইংরেজির বাইরে আর কোনো ভাষায় পরিভাষার দিকে তেমন নজর দিইনি। কিন্তু আরো তো অনেক জাতি আছে যারা অনেকটাই নিজেদের ভাষায় বেশ সাফল্যের সাথে বিজ্ঞানচর্চা করছে। চীনারা আছে, জাপানিরা আছে, রাশিয়ান রা আছে, এমনকি সংস্কৃতর পর বাংলা ভাষা যাদের কাছে সবচেয়ে বেশি ঋণী সেই ফার্সি-তুর্কি ভাষীরাও আছে। এরা কিভাবে নিজেদের পরিভাষা তৈরি করেছে তা থেকে কিছুটা শিক্ষা নেওয়া যেতেই পারে। এছাড়াও ইউরোপীয় ভাষাগুলিতে যারা এই পরিভাষা গুলো তৈরি করেছিলেন, তারা অনেকটাই ল্যাটিন এবং গ্রীক থেকে ধার করেছেন। যারা সেগুলো করেছিলেন, তার এই ভাষাগুলো বিলক্ষণ জানতেন। আমরা একদিকে সেগুলোও জানি না, আবার অন্যদিকে সংস্কৃতটাও আর ঠিকমতো জানি না। এসব কারণেই ইংরিজি থেকে ভারতীয় ভাষায় পরিভাষা খুঁজতে গেলে সব ঘেঁটে ঘ হয়ে যায়।

অথচ এগুলো খোঁজা দরকার। কেউ কেউ বলেন যে বাংলা পরিভাষা করে কি হবে, বরং বহুল প্রচলিত ইংরিজি শব্দগুলো ওরকম-ই রেখে দেয়া হোক। আমার এতে বিশেষ আপত্তি নেই বটে, কিন্তু একবার এক জাপানি গণিতজ্ঞের সাথে এই নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জানতে পেরেছিলাম যে ওরা কিন্তু ওদের বৈজ্ঞানিক পরিভাষাগুলো এরকম সরাসরি ইংরিজি থেকে ঝেঁপে দেয়নি, বরং আক্ষরিক অর্থের বদলে ভাবান্তর করে নিজেদের ভাষাতেই পরিভাষাগুলোকে তৈরি করেছে। তার কারণ জিজ্ঞাসা করাতে বলেছিলেন যে পরিভাষা সবসময় কিছুটা অন্তত চেনা শব্দ দিয়ে তৈরি হওয়া উচিত, যাতে শব্দটা শুনলেই তার সম্বন্ধে অন্তত একটা আবছা ধারণা যাতে শুরুতেই তৈরি হয়। যেমন ধরুন "Gravitation"। যে বাঙালি এই শব্দটা পদার্থবিদ্যার ক্লাসে কখনো শোনেনি, তার পক্ষে এর সম্বন্ধে একবিন্দু ধারণা করাও সম্ভব নয়। কিন্তু এটাকে "মাধ্যাকর্ষণ" বললে সে খানিকটা আন্দাজ পেলেও পেতে পারে। সফল পরিভাষা সৃষ্টির জাদুকাঠিটা সেইখানেই। খটমট সংস্কৃত নয়, সবসময় ইংরিজি থেকে অপরিবর্তিত রেখে টুকে দেওয়া নয়, বরং যেখানে যে চেনা শব্দ ব্যবহার করলে একজন অবিশেষজ্ঞ সাধারণ মানুষ সহজে তার সম্বন্ধে সঠিক না হলেও, অন্তত সঠিকের দিকে একটা আবছা ধারণা করতে পারে, সেটাই সফল পরিভাষা এবং এই কলাটা শিখতে আমাদের তাদের কাছ থেকে শেখা প্রয়োজন যারা ইতিমধ্যেই সাফল্যের সাথে তাদের নিজেদের ভাষায় বিশ্বমানের বিজ্ঞানচর্চা করছে।

কাজেই হয়তো বুঝতে পারছেন, যে "বাংলাভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা উচিত" হেঁকে দেওয়াটা যত সহজ, আসলে কোন অর্থপূর্ণ ভাবে সেটা করাটা ঠিক ততটাই কঠিন। একেবারে অসম্ভব নয় বটে, কিন্তু তার পিছনে চাই বহু লোকের সংগঠিত উদ্যোগ ও অধ্যবসায়। নাহলে খানিক হুজুগ হবে, দু-চারটে বাংলায় popular science-এর বইপত্র-ও হয়তো হবে, "বাংলাভাষায় বিজ্ঞানচর্চা করা উচিত" এই মর্মে প্রচুর seminar হবে, প্রচুর লেখালিখি হবে, ধরেবেঁধে যাদের আর কোনো উপায় নেই তারা হয়তো স্কুলের গন্ডির সীমানার মধ্যে খানিকটা মাতৃভাষায় মাতৃদুগ্ধ পান করবে, কিন্তু "বাংলাভাষায় বিজ্ঞানচর্চা" হবে না।

এই বিশাল কর্মকান্ড যে এক-আধ জন মানুষের কম্ম নয়, সে আগেই বলেছি। কেন বলছি সেটা কেউ কাজ-টা শুরু করতে গেলে নিজেই বুঝতে পারবেন। এর জন্য সংগঠন লাগে, নামতে হলে বেশ গুছিয়েই নামতে হবে, নইলে খামোকা পন্ডশ্রম করে কোন লাভ নেই। একাজে আমার চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি প্রচুর নিশ্চয় আছেন। তারা যদি কেউ উদ্যোগ নেন, এবং সেই উদ্যোগে কিছুভাবে যদি আমি খানিকটা হলেও কাজে লাগতে পারি তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করব। কিন্তু যদি কারোর-ই সেই সময় সুযোগ না হয়, তাহলে অগত্যা আমাকেই সময় সুযোগ মতো যদ্দুর যা সম্ভব চেষ্টা করে দেখতে হয়। আপাতত এরকম একটা উদ্যোগ ভবিষ্যতে নেওয়া হলে কেউ যদি এর সাথে জুড়তে আগ্রহী থাকেন, তাহলে যোগাযোগ করলে খুব-ই ভালো হয়। কাজ এগোক না এগোক, নাহয় আলোচনা-ই চলুক, কিন্তু সেটা স্রেফ এই "করতে হবে" মার্কা হাওয়াবাজি ছেড়ে অন্তত মাটিতে নেমে এসে ধীরে ধীরে অন্তত একটা concrete কোনো রূপ নিক।
------------------------------------------

=== Swarnendu Sil == আর অন্তরীপ বাবুর লেখাটা গুরুর গ্রুপে শেয়ার করেন, তাতে আমার উত্তরটাও এখানে থাক

" অন্তরীপ মণ্ডল আমার লেখার প্রেক্ষিতে এইটা কেন লিখলেন খুব বুঝলাম না। মানে আমার লেখাটায় কেন আমি 'করতে হবে' মার্কা হাওয়াবাজি করছি মনে হল সেইটা বুঝলাম না। বাকি লেখা প্রসঙ্গে, প্রথমত বলি আপনি বেশ ভাগ্যবান, কারণ "বাংলা ভাষায় যে বিজ্ঞানচর্চা করা উচিত এটা বোধ হয় আজ পর্যন্ত হাজার জায়গায় হাজার রকম ভাবে পড়েছি। নীতিগতভাবে অবশ্যই এর সাথে সবাই একমত হয়।"--- এ অন্তত আমার অভিজ্ঞতা নয়। গুরুতে আমার পোস্টের তলায় আলোচনায় বা আমার দেয়ালে আলোচনাতেই দেখতে পাবেন যে এই ছোট্ট সেটেই মোটেই এমনকি নীতিগতভাবেও সবাই একমত এমন আদৌ নয়।

এরপর আসি পাঠ্যবই প্রসঙ্গে। পাঠ্যবই অনুবাদ করা কিছুটা পণ্ডশ্রমই মনে হয় বস্তুত পণ্ডশ্রমও নয়, কাউন্টার প্রোডাক্টিভ, কপিরাইটের ঝক্কি, মূল পাবলিশারের রয়্যালটি ইত্যাদি, এবং সবচেয়ে বড় কথা ইংরেজি থেকে অনুবাদ করতে গিয়েই ওইরকম বিদঘুটে ভাষা হয় সেগুলোর। তার চেয়ে পাঠ্যবই, কোর্স নোট জাতীয় জিনিস লেখা অনেক সহজ ও স্বাভাবিক, অনুবাদ করার চেয়ে কম বোরিং ও। আমাকে ডিফারেন্সিয়াল জিওমেট্রির একটা বাংলায় কোর্স নিতে হবে ভাবলে তার বাংলায় কোর্স নোট বানাচ্ছি ভেবে বসলেই দিব্যি একটা পাঠ্যবই তার থেকে আর একটু খেটে লিখে ফেলা যাবে ( বস্তুত বেশিরভাগ ভাল বই ই কোর্স নোট থেকেই তারপর শেষত বই হয়), কিন্তু যদি বলেন John M Lee টা বাংলায় অনুবাদ কর, করতে প্রবল ল্যাদ ও বিরক্তি লাগবে, এবং কাজটার শেষ ফলও খারাপ হবে বলেই মনে হয়।"

=== অন্তরীপ মণ্ডল == ওইভাবে মাঝখান থেকে adhoc differential geometry দিয়ে শুরু করলে সমস্যায় পড়বেন বোধহয়। যেমন ধরুন, homeomorphism, diffeomorphism-এর বাংলা কি করবেন? এই কারণেই বাংলায় Bourbaki-র মতো কিছু একটা দরকার, যেটা একদম Set Theory থেকে শুরু করে Algebraic Geometry ই...See more

=== Swarnendu Sil == হোমিয়োমর্ফিজম আর ডিফিয়োমর্ফিজম

=== Swarnendu Sil == আর ডিফারেন্সিয়াল জিওমেট্রি একটা উদাহরণ হিসেবে বললাম। যে যে বিষয়ে কাজ করেন সেসব বিষয়ের সংশ্লিষ্ট এলিমেন্টারি জিনিসগুলো বাংলায় পড়াবার মত করে ক্লাস নোট লিখলে এমনিই চলবে দিব্যি।

=== Swarnendu Sil == অন্তরীপ মণ্ডল আপনি তো অঙ্কেরই লোক দেখলাম, তাহলে ভালই হল। আপনি নিজেই দেখে বলুন কি রকম কি মনে হয়। নিচের লেখাদুটো আমার জ্যামিতি নিয়ে লেখা একটা সিরিজের অংশ, পপুলার সায়েন্স লেখাই, কিন্তু যথেষ্ট সিরিয়াস জিনিস নিয়েই লেখা। টেক্সটবুক হিসেবে লেখা নয় ঠিকই, কিন্তু কিরকম টেক্সটবুক লেখার আইডিয়া আমার মাথায় আছে সেইটা এর থেকে আঁচ করতে পারবেন মনে হয়।
https://bigyan.org.in/2017/06/03/elements-of-geometry-part-5/
https://bigyan.org.in/2017/06/21/elements-of-geometry-part-6/


30 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বাউণ্ডুলে বান্দা

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

ভালো লেখা।
আমি অনুবাদ এর ব্যপারে সাহায্য করতে উত্‍সুক। কিভাবে শুরু করা যেতে পারে , এ বিষয়ে আলোচনা করলে ভালো হয় ।
Avatar: sswarnendu

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

সেইরকম আলাপ আলোচনাতেই গিয়ে পৌঁছনো যাবে এটাই আমারও আশা।

Avatar: S

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

স্বর্ণেন্দু, ইংরাজী শব্দ বাংলায় লিখলে কিন্তু উদ্দেশ্য সফল হবেনা। homeomorphism = হোমিয়োমর্ফিজম লেখার থেকে homeomorphism রাখাই ভালো। homeomorphism কথাটা শুনেই একজন ইংরেজি জানা ছাত্র শব্দটার মানে বুঝতে পারে, ফলে সেই কন্সেপ্টটা বুঝতে অনেক সুবিধা হয় তার। এর বাংলা এমন প্রতিশব্দ চাই যেটি শুনে বাংলা জানা ছাত্ররও ঐরকম সুবিধা হবে। ব্র্যাকেটে ইংরাজি শব্দটাও থাকুক।
Avatar: বাঙাল

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

আপনারা অর্ণব চক্রবর্তীর লেখা বইগুলো দেখেছেন। তার বইয়ের কথা শুনে ছাত্রছাত্রীদের চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে। বইগুলোর নাম খুব সম্ভবত বাংলায় বোঝানো ইংরাজি অঙ্কের বই। বাংলাভাষী ছাত্রদের কাছে ইংরাজির বাঁধা টপকে অঙ্ক জিনিসটা পৌঁছে দেওয়াই সে বইয়ের উদ্দেশ্য মনে হয়। শুধু অঙ্ক নয় অন্যান্য বিষয়েও ঐ গোত্রের বই চাই।
Avatar: sswarnendu

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

@S

আমি নিজে পরিভাষা বানানোর সময় সেইটাই চেষ্টা করি যতদূর সম্ভব, ওইটা লিখেছিলাম নিছক এইটা বোঝাতে যে আপাতত পরিভাষার যাথার্থতা ইত্যাদি নিয়ে মাথা ঘামানোর থেকে যা হোক পরিভাষা দিয়ে, দরকারে ইংরেজি শব্দকে বাংলা হরফে লিখে হলেও কাজ শুরু করতে।

@বাঙ্গাল

না দেখিনি। কোন প্রকাশন? এবার কলকাতা গিয়ে দেখব তাহলে। প্রাথমিকভাবে 'বাংলায় বোঝানো ইংরাজি অঙ্কের বই' জাতীয় জিনিসই চাই একদম।
Avatar: বাঙাল

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

Sarat Book House থেকেই অর্ণবের সব বই বের হয়েছে বোধহয়।
Avatar: S

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

আর শুধু বিজ্ঞানচর্চা নয়, প্রায় সব বিষয়েই এইরকম প্রচেষ্টা দরকার। নইলে সেই বিষয়ে পড়াশুনার পরিধিও যেমন বাড়বে না, তেমনি তার প্রয়োগও থাকবে সীমিত।
Avatar: PT

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

"কেউ বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ দেখাচ্ছে না, অথচ পরিকাঠামো এমনি এমনি তৈরি হয়ে কোনদিনই বসে থাকবে না।"
এখন হয়্ত এমনটাই মনে হয়। কিন্তু ষাট-সত্তরের দশকে "বাঙলায় বিজ্ঞান শিক্ষা"-র সঙ্গে বিস্তর পন্ডিত ব্যক্তিরা জড়িয়ে ছিলেন। সত্যেন বোস মশাই "devoted a lot of time to promoting Bengali as a teaching language, translating scientific papers into it".
"Bose understood the importance of Indian languages. He was of opinion that if science is to be understood by the laymen, it is to be taught in the mother tongue. He founded the Science Association ‘Bangiya Bijnan Parishad’ in Bengal in the year 1948. "
আরো আগে আচার্য রায় " himself wrote a lot in Bangla and encouraged others to write in the mother tongue". আমাদের ছাত্রাবস্থায় অধ্যাপক অসীমা চট্টোপাধ্যায়কেও "বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার" আন্দোলনে জড়িত থাকতে দেখেছি। বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ এখন কি করে?

অবিশ্যি তখন, এমনকি সাধারণ স্কুলগুলোতেও, বাঙলা ভাষাশিক্ষাও বহুল প্রচলিত ছিল। কিন্তু তাহার পরে কোথা হইতে কি হইল, শ্যামলাল বাঙালীর মনে হইল যে বাঙলা শিখে কোন লাভ নেই আর বাঙলা ও বিজ্ঞান এক্কেবারেই মিশ খায়্না। তারপরে এমনকি আপাতঃ নিরপেক্ষ "শিক্ষায় মাতৃভাষাই মাতৃদুগ্ধ"-ও পরিত্যাজ্য হল আর কিছুদিন বাদে এইকথা বললেই বক্তাকে অমুক দলের সমর্থক বলে ধরে নেওয়া হত।

পাশের বাড়ির বাচ্চা মেয়েটিকে জবাগাছ দেখিয়ে জানতে চাইলাম ফুলের নাম, সে বলল,"হিবিস্কাস রোসা"!! আর দ্বিতীয় বর্ষের ঝক্ঝকে বুদ্ধিমান ছেলেটিকে বললাম, "তোমাকে এমন মুহ্যমান দেখাচ্ছে কেন?" সে বললে, "মুহ্যমান? হনুমানের মত?"। এরা ঠিক কিভাবে বাঙ্গলায় বিজ্ঞান শেখা বা শেখানোতে অংশ নেবে?

অবিশ্যি উল্টো একটা ব্যপারও আছে। একটি সর্বভারতীয় পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষায় এক কিশোর ছাত্র জানাল যে সে বাংলায় বিজ্ঞান পড়েছে তাই সব ইংরিজি প্রতিশব্দ জানেনা। তার কাছে শিখ্লাম যে "প্রতিস্থাপন অভিক্রিয়া দ্বিআণবিক" বলে জৈব রসায়নে একটি বিক্রিয়া আছে যার ইংরিজি মানেঃ "substitution nucleophilic bimolecular"। তখন মনে হয়েছিল যে এমন দানবিক প্রতিশব্দ জানার চাইতে সরাসরি ইংরিজিতেই রসায়ন শিক্ষা করা শ্রেয়।
Avatar: pi

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

প্রতিস্থাপন তাও ঠিক আছে। প্রতিস্থাপন ক্রিয়া পড়ে তাও অভ্যস্ত। দ্বিআণবিককে দুই অণুর বললেই হয়। নিউক্লিওফিলিক বদলানোর হয়ত দরকারই নেই।

এবার কথা হল, একটা স্তরের পর উচ্চশিক্ষায় সর্বভারতীয় বা বিদেশে যাওয়া বা তাদের সাথে ইন্টারাকশন থাকবেই। তো সেখানেও পরীক্ষার প্রশ্ন অটোট্রান্সলেট, কথা বললে সঙ্গে সঙ্গে একটা কমন ভাশায় রূপান্তর, এগুলো তো আসা দরকার, বাংলার জন্য। টেকনোলজিতে এত কাজ হচ্ছে, এ আই এসে এত লোকের চাকরি খাওয়ার ব্যবস্থা করছে, গুগল কে সিরিরা এত কিছু বুঝছে, যেকোন
Avatar: pi

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

যাঃ। পোস্ট শেষ না হতেই গেল!

যাহোক, যা লিখছিলাম। যে টেকনোলজি এত অভাবনীয় সব অসাধ্য সাধন করছী, তো যেকোন ভাষায় লেকচার বা লেখা, চটপট আর নিখুঁত ভাষান্তর কবে করবে? এনিয়ে কতটা কী কাজ কদ্দুর এগিয়েছে? বাংলা নিয়ে? আমি আউ এস আই, খড়গপুরের কিচু লোকজনকে জিগেশ ও করেছিলাম, তেমন কোন সদুত্তর পাইনি। কেউ কি্চু জানলে জানান।

আর এই নিয়ে চাপ আসা দরকার। এই নিয়ে বন্দোবস্ত না হলে মাত্ট্রিভাষায় যেকোন চর্চাই থমকাতে কি বন্ধ হওয়া আটকানো কঠিন।
Avatar: sswarnendu

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

টেকনোলজি দিয়েই ভাষান্তর করে ফেলা আসতে দেরী আছে এখনও মনে হয়। ক্রমশই উন্নত হচ্ছে টুলগুলো ঠিকই, কিন্তু সায়েন্স ট্রান্সলেশন তো শুধু টেক্সট ট্রান্সলেশন নয়। আর তাছাড়া শুধুই ট্রান্সলেট করে চালাতে গেলে চিনের মত করতে হবে, ইউনিভার্সিটিগুলোয় প্রফেশনাল ট্রান্সলেটর, ল্যাঙ্গুয়েজ এডিটর, কপি এডিটরের টিম আছে , ফুল টাইম চাকরি।

কাল ফেবু তে এই সংক্রান্ত আলোচনাতেই অন্য একটা জায়গায় একজনের কমেন্টের পরিপ্রেক্ষিতে লিখেছিলাম এইটা, আমি কিভাবে শুরু করা যায় ভাবি সেইটা খানিকটা এইরকম।

" "সেই কাজ করার জন্য যারা বাঙালি বৈজ্ঞানিক তারা যদি এখন তাদের research topic সম্বন্ধিত সকল কাজকর্মকে প্রথমে বাংলায় অনুবাদ করে তারপর সম্পূর্ণ বাংলায় নিজেদের সব কাজ করার কথা ভাবে তাহলে আদতে তাদের কাজটাই আর করা হয়ে উঠবে না, পিছিয়ে পড়বে বাঙালি বিজ্ঞানে।" ---- সাগ্নিক দত্তবাবু, এমন কোন আজগুবি অবাস্তব কাজ করতে হবে এমন কথা আদৌ কোথাও বলিনি কিন্তু।

এইবারে আপনি জিগ্যেস করতে পারেন, তাহলে ঠিক কি করার কথা বলছি। আসলে আমার আশা ছিল যে ঠিক কি কি করা যায় করতে লাগবে সেসবই এইরকম আলোচনাগুলো থেকে উঠে আসবে, সেজন্যেই বেদাংশুর প্রস্তাবে সানন্দে সম্মত হই। আমি একা একাই এর জন্যে কি কি করতে লাগবে তার প্রেসক্রিপশন বলে দেওয়ার যোগ্য, অধিকারী, কোনটাই মনে হয় না নিজেকে। কিন্তু কংক্রিট উদাহরণের স্বার্থে আমার এ সংক্রান্ত কিছু কিছু ভাবনা বলতে পারি। কিরকম বলুন তো, যেমন ধরুন আমাদের ইউনিভার্সিটি বা রিসার্চ ইন্সটিটুটে তো কোর্স পড়ান হয়, মানে মাস্টার্স লেভেল কোর্স, ( কোন কোন ইন্সটিটিউটে আন্ডারগ্রাজুয়েট কোর্সও ) , উচ্চস্তরের কোর্সও, গ্র্যাজুয়েট লেভেল কোর্স বিদেশের অর্থে, মানে পিএইচডি গবেষণা শুরুর আগে আগের কোর্স, অ্যাডভান্সড কোর্স। অনেক গবেষকই সেইসব কোর্স নেওয়ার সময় নোট ও বানান, টেকে লিখেও ফেলেন। এবার ধরা যাক সেইসব কোর্স পড়াবার সময় ইংরেজি নোটটার সাথে সাথেই সামান্য সময় দিয়ে একটা বাংলা নোটও বানিয়ে রাখলেন। সেই নোট থেকে পড়াতে হবে এমন আদৌ ভাবছি না, ইন্সটিটিউটে বা ইউনিভার্সিটিতে হয়ত পড়ানোর মাধ্যম ইংরেজি, বিশেষ রিসার্চ ইন্সটিটিউট হলে তাতে অবাঙ্গালী ছাত্রছাত্রীরাও আছেন। কিন্তু ওই নোটটা নেট এ তুলে দিলে ধরা যাক বর্ধমান ইউনিভার্সিটিতে ( মানে একান্তই উদাহরণ হিসেবে, বর্ধমান ইউনিভার্সিটিকে খাটো করা আমার উদ্দেশ্য নয় কোনভাবেই ) যে বাঙালি প্রফেসর আন্ডার গ্র্যাজুয়েট বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পড়াচ্ছেন, যার ক্লাসে একজনও অবাঙ্গালী ছাত্রছাত্রী নেই, তিনি সেইটা ব্যবহার করে বাংলায় পড়াতে পারেন, সেই নোটের পরিমার্জন, পরিবর্ধন করতে পারেন। প্রাথমিকভাবে এইটুকুগুলো চালু হওয়ার কথাই ভাবছি। এইটা খানিক গড়ালে আস্তে আস্তে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যখন এরকম নোট লিখে আর নেটে তুলে দিতে হবে না, বরং সেই নোটগুলো থেকেই বই ছাপিয়ে ফেলা যাবে। এভাবেই আস্তে আস্তে বাংলা ভাষায় উচ্চতর বিজ্ঞান চর্চার উপযোগী মেটেরিয়ালের একটা রিপোজিটরি গড়ে উঠতে পারবে দিব্যি, বিশেষ প্রবল পরিশ্রম না করেও। অন্য দেশগুলোও এভাবেই করেছে।"
Avatar: kumu

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

স্বর্ণেন্দু,আমি এইরকমই ভেবেছিলাম,কিন্তু কথা হল কোন উদ্যোগ শুরু করার সময় আমার নেই।কিন্তু একটি পরিকল্পিত উদ্যোগে আমি অংশ নিতে রাজি আছি,আমার সীমিত ক্ষমতা নিয়ে।
Avatar: sswarnendu

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

আমি ফেসবুকে একটু আগে একটা পোস্ট দিলাম, এ নিয়ে কিছু করা যায় কিনা সে নিয়ে।

"বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা নিয়ে আমার লেখাটায় পয়েন্টের অন্তত কিছুও যাঁদের যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে, আর মনে হয়েছে যে এ নিয়ে সংগঠিতভাবে সবাই মিলে দীর্ঘমেয়াদি কিছু একটা করা দরকার এবং তাতে তাঁরা ভূমিকা নিতে ইচ্ছুক নানাভাবে, তাঁরা একটু জানান দেবেন। সেক্ষেত্রে কি কি করা যেতে পারে, কিভাবে, সেসব নিয়ে আলাপ-আলোচনা প্ল্যানিং ইত্যাদির জন্যে একটা গ্রুপ খোলার ইচ্ছে রয়েছে। আপনি যদি নিজে ভূমিকা নিতে নাও পারেন, তাহলেও উৎসাহী কারোর কথা জানলে তাঁদের কাছে আমার পোস্টটা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ রইল।"


কিছু লোকজন উত্তর দিয়েছেন, আশা আছে আরও সাড়া পাব। এখানে আপনাকে আর বাউন্ডুলে বান্দা জানালেন।
দেখা যাক, এগোক। আপডেট দিতে থাকব ও কংক্রিট প্ল্যানিং নিয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু করা যাবে পর্যায়ে এলে আপনাদের যোগাযোগগুলো চেয়ে নেব।
Avatar: π

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

আমিও আছি, যেটুকু পারি।
Avatar: বাঙাল

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

অর্ণবের সাথে অবশ্যই যোগাযোগ করবেন, সে ভারি ভাল ছেলে। আইএসআই আর অর্ণব চক্রবর্তী দিয়ে গুগল করলেই হবে।
Avatar: sswarnendu

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

নিশ্চয়ই করব। বইগুলোর কভারগুলো দেখলাম আমাজনে।
Avatar: পিনাকী

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

আমি আগেও লিখেছিলাম কোথাও, আবারও লিখছি। এই ব্যাপারটা নিয়ে আমার খুবই আগ্রহ রয়েছে। সাধ্যমত অংশগ্রহণ করব। স্বর্ণেন্দু শুরি কর একটা কিছু। এবারে বইমেলায় অনীকের সাথে কিছু কথা হচ্ছিল। ও ও নিজের মত করে নানা কিছু ভাবছে। অনেকেই ভাবছে।

Avatar: sswarnendu

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

পিনাকীদা,
হ্যাঁ, এই অনেকেই ভাবছেগুলো একটু এক জায়গায় এনে শুরু করতে হবে। নইলে ভাবনাই চলতে থাকবে শুধু।

Avatar: sswarnendu

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

Avatar: Sumit Roy

Re: বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা:: আলাপ-আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক আর কাজের দিশা

অন্য এক জায়গায় এই লেখার শেয়ার করা পোস্টে একটি মন্তব্য করেছিলাম। এখানে আরও কিছু যোগ করে আবারও মন্তব্য করছি।

এখানে "আমরা কিভাবে ভাষা শিখি" নামে একটা লেখা দিয়েছিলাম। সেখানে ফার্স্ট ল্যাংগুয়েজ একুইজিশন আর সেকন্ড ল্যাংগুয়েজ একুইজিশনের মধ্যে নিউরোলজিকাল পার্থক্য দেখিয়েছিলাম, আর সেই সাথে বলেছিলাম সেকন্ড ল্যাংগুয়েজে কোন কিছু বুঝতে ও শেয়ার করতে যে নিউরোলজিকাল বারডেন তৈরি হয় তার কথা। সেটাও এখানে দিচ্ছি:
http://www.guruchandali.com/guruchandali.Controller?portletId=8&po
rletPage=2&contentType=content&uri=content1528013125629


স্টুডেন্টদের মধ্যে এর এফেক্ট কী হতে পারে, তা এলো এই লেখায়। মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার তাই আলাদা একটা গুরুত্ব আছে, আর তাই বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থগুলো বেশি বেশি বাংলায় অনুবাদ করা উচিৎ, বেশি বেশি এসব নিয়ে লেখা উচিৎ। তবে আরেকটা সমস্যা হচ্ছে এসব ইংরেজিতে চর্চারও প্রয়োজন আছে, কারণ এখনও বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা উন্নত হয়নি, একাডেমিক স্তরে এই ভাষায় মেন্টাল লেক্সিকন কম, অনেক পারিভাষিক শব্দ মূল ভাষায় প্রচলিত না, ভারতের মত দেশে অনেক ভাষায় মানুষ কথা বলে, কমন ল্যাংগুয়েজ দরকার, আন্তর্জাতিক লেভেলে কথা বলতে হয় ইংরেজিতে, চীন-জাপানের মত সব রিসার্চ এখানে মাতৃভাষায় অনুদিত হয় না - এগুলো পড়তে ইংরেজি জানতে হয়, আর এই অঞ্চলের অনেক মানুষ হায়ার এডুকেশন বা জবের জন্য বাইরে যায় নিজেদের অঞ্চলে যথেষ্ট ফান্ডিং আর জব ক্রাইটেরিয়ার অভাবে। আর চীন জাপানে যেমন বাইরের দেশের লোককে ফান্ডিং করে সেই দেশের ভাষা শিখে সেই দেশে গবেষণার জন্য ডাকা হয় সেগুলোও এই ভাষায় হয় না। এসব অনেক কারণে ইংরেজিও গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে আমার সাজেশন হচ্ছে শিশুর ছোটবেলায় যখন নিউরোপ্লাস্টিসিটি অনেক বেশি থাকে তখনই বাংলা ও ইংরেজি একসাথে শেখানোর ব্যবস্থা করা। এইসময় দুই ভাষা শেখা শিশুর জন্য তেমন চাপের হয় না, আর সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজ একুইজিশন এসময় ফার্স্ট ল্যাংগুয়েজ একুইজিশনের মতই হয়। এই সাজেশন সকলের জন্য না, যেসব পরিবারে সম্ভব তাদের জন্যই।

যখন মানুষের মুখের ভাষা বা ব্যবহৃত ভাষা ভিন্ন হয়ে যায় লেখার ভাষা ও শেখার ভাষার সাথে তখন একটা বিশেষ সমস্যা তৈরি হয় যার নাম ডাইগ্লসিয়া। মানুষের মনে আর সমাজে এই ডাইগ্লসিয়ার এফেক্ট পড়ে। ডাইগ্লসিয়া পরিস্থিতি প্রকটাকার ধারণ করলে ভাষার ভেতরকার প্রবাহমানতা স্তব্ধ হয়ে পড়ে, আর ভাষার অভ্যন্তরে ছদ্মভাষার সৃষ্টি হয়। ফলে ভাষা সম্প্রদায়ের চেতনা থাকে এক ভাষায়, আর তারা ব্যবহার করে আরেক ভাষা। মুখে বলে এক ভাষা, বইপত্রে অন্য ভাষা। ক্রমেই এই ভাষাগত বিভ্রান্তি নৈরাজ্য বা চরমাকার ধারণ করতে পারে। কোন ভাষা-সম্প্রদায়ের জন্যই এরকম পরিস্থিতি কাম্য নয়। এই ডাইগ্লসিয়া বা দ্বিরীতিত্বের সংকট নিয়ে কোন কোন ভাষাসম্প্রদায়ে খুনোখুনি পর্যন্ত হয়েছে। এছাড়া সমাজে হাই ডায়ালেক্ট আর লো ডায়ালেক্ট এর প্রচলনের ফলে সোশ্যাল ইনইকুয়ালিটি তো বাড়েই। বাংলা ভাষায় যদি বিজ্ঞান চর্চা ও সেই সাথে অন্যান্য জ্ঞান চর্চা না হয় তবে এখন এই ডাইগ্লসিয়া বা দ্বিরীতিত্বের প্রভাব দেখা যাচ্ছে, তা আরও বাড়বে।

বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে উপযুক্ত পারিভাষিক শব্দেও সমস্যা আছে। আমি বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলায় বিজ্ঞান বিষয় বিভিন্ন কাজ ও অনুবাদের সাথে জড়িত, এখানে বাংলায় পরিভাষার ব্যাপারটা বারবার সামনে আসে, কোন অপরিচিত ইংরেজি শব্দ এর বাংলা যে পরিভাষাটি ব্যবহৃত হচ্ছে সেটাও একরকম অপরিচিতই। ফ্রয়েডের দেয়া জার্মান টার্ম Über-ich। উবার আর ইখ দুটোই জার্মানিতে প্রচলিত শব্দ। এটা ইংরেজিতে হল Super ego। সুপার আর ইগো এই দুইটাও খুব প্রচলিত। কিন্তু বাংলায় হল অতিঅহম। অতি আর অহম এই দুটোর একটাও প্রচলিত না তেমন। অতি এর জায়গায় চলে "খুব", আর অহম এর জায়গায় চলে "ভাব" বা "অহংকার"...এসব দিয়ে পারিভাষিক হয়ই না... এটাই এই ভাষার সমস্যা। একাডেমিয়ায় সব পারিভাষিক শব্দ তৎসমতে, মানুষ এগুলোর সাথে রিলেটই করতে পারছেনা, আর এগুলো অপরিচিত থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এসবের ব্যবহারও হচ্ছে না। ফলে বাঙ্গালীর মেন্টাল লেক্সিকন সমৃদ্ধ হচ্ছে না। মেন্টাল লেক্সিকন সাইকোলিঙ্গুইস্টিক্স এর একটি টার্ম, যার দ্বারা কোন অঞ্চলের মানুষের ব্যবহার করা শব্দভাণ্ডারকে নির্দেশ করা হয়। বৈজ্ঞানিক আলোচনার সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম টার্মগুলো সাধারণের ব্যবহারের ও বোঝার বাইরেই থেকে যায়। সমাধান কী? প্রচলিত শব্দ নিয়ে পারিভাষিক শব্দ বানাব? শব্দই খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমাদের মেন্টাল লেক্সিকন কম, সব কিছু রিপ্রেজেন্ট করার মত শব্দ বের হয় না, এভাবে এমন কিছু বের করতে হয় যা প্রচলিত নয়। এসব কারণেও ডাইগ্লসিয়া, তাতে মানুষ বলছে এক পড়ছে আরেক, তাতে বাড়ছে শিক্ষনে সমস্যা, এদিকে বাঙ্গালির মেন্টাল লেক্সিকন বাড়ছে না, কারণ এসব টার্মের সাথে জড়িত হচ্ছে না, আলোচনা করছে না। আমি মনে করি ভাষায় শব্দভাণ্ডার যত বেশি হবে তত বেশি চিন্তার প্রসার বাড়বে, আর তত আধুনিক হবে মানুষের মন। এজন্য বেশি বেশি করে বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা, লেখালিখি করা উচিৎ, কথা বলা উচিৎ। আলোচনা সহজ করার জন্য টেকনিকাল টার্মগুলোকে এড়িয়ে গেলে চলবে না, বরং এগুলোকে বারবার ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মনের ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হবে, যাতে বিজ্ঞান সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। আর এজন্য এগিয়ে আসতে হবে সবাইকেই।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন