π RSS feed
লোকে নাকি বলে প্রমাণ করেছে আমি irrational আর transcendental! :)

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আটানা-যুগ       (বকুবাবুকে খোলা চিঠি)
    যবে থেকে আটানা বিলুপ্ত হলো, বকুবাবু,নদীমাতৃক সভ্যতার থেকে, যবে থেকে বুনিয়াদী গোশালার ঠিকা নিলো রক্ষকবাহিনী,যবে থেকে, বকুবাবু, গেরুয়ার মানে শুধু ভয়,সেই থেকে, বকুবাবু, আমিও ভুলেছি ফুটানি।সেই কবে বিশটাকায়  খেয়েপরে লাগাতার স্বাচ্ছন্দ্য কিনেছি,সে ছিল  ...
  • বেকারার দিল
    বেহাল পাছায় তার দৈনিক বরাদ্দ লাথ,তবু তার বেকারার দিল!দিনগত যত পাপ ধুয়ে দেবে সন্ধ্যের লাজবাব দারু,উপমাও এনে দেবে যথাযথ ইনসাফজমে গেলে তার মাহফিল।তাকে সব ছেড়ে গেছে, কেননা এ-মেহেঙ্গাবাজার কাউকেই দেয়নি সেই স্বঘোষিত পাঙ্গাসুযোগ।তবুও সে নির্বিকার, লড়ে যায়, ...
  • বছর ছেচল্লিশ
    এমনই গজদাঁতের মিনার,  রূপ তেরা মস্তানা।শুনেই ঈষৎ মুখ বেঁকালে : 'ধুস এত শস্তা না!'সকল দামী, সালতামামি, শহরে ভিড় আজো।যখন দুপুর, কিশোর-লতায় আঁধির সুরে বাজো।হায় গো আমার দোখনো-হৃদয়, দুব্বো গজায় হাড়ে।তোমার সঙ্গে বাজে বকায় কেবলই রাত বাড়ে।চাল চাপিয়ে ফুঁকছি চুলো, ...
  • নাম (একটি সরল প্রয়াস)
    চাপের নাম টরিসেলি, বাপের নাম খগেন।লাফের নাম হনু-লুলু, বিবেকের নাম লরেন।হাঁফের নাম কোলেস্টেরল, মাফের নাম যীশু।আমার নাম জানতে চাও? ডেকো পিপুফিশু।খাপের নাম পঞ্চায়েত, খাপের বাপ পঞ্চু।বিরল খোয়াবনামায় নিদ যাচ্ছে হাঁসচঞ্চু।সাপের নাম বালকিষণ,  পাপের নাম লোভ।রাঘব ...
  • জর্জদা
    ''.... সেই বাল্যকালে কবে থেকে গান গাইতে শুরু করলাম তা আমার মনেও নেই-- গান গাইছি-তো-গাইছি-তো-গা...
  • বিষয় জিকেসিআইইটি - এপর্যন্ত
    নিয়মের অতল ফাঁক - মালদহের গণি খান চৌধুরী ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি - প্রথম কিস্তি (প্রকাশঃ 26 July 2018 08:30:34 IST)আজব খবর -১ ২০১৬ সালে একটি সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র ভারতীয় সেনায় ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ ...
  • "নাহলে রেপ করে বডি বিছিয়ে দিতাম.."
    গত পরশু অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবসের দিন, মালদা জিকেসিআইইটি ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বাইকবাহিনী এসে শাসিয়ে যায়। তারপর আজকের খবর অনুযায়ী তাদেরকে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ছাত্রদের বক্তব্য অনুযায়ী মারধর করছে বিজেপির সমর্থক ...
  • উত্তর
    [ মূল গল্প --- Answer, লেখক --- Fredric Brown। ষাট-সত্তর দশকের মার্কিন কল্পবিজ্ঞান লেখক, কল্পবিজ্ঞান অণুগল্পের জাদুকর। ] ......সার্কিটের শেষ সংযোগটা ড্বর এভ সোনা দিয়ে ঝালাই করে জুড়ে দিলেন, এবং সেটা করলেন বেশ একটা উৎসবের মেজাজেই । ডজনখানেক দূরদর্শন ...
  • জাতীয় পতাকা, দেশপ্রেম এবং জুতো
    কাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট দেখছি, কিছু ছবি মূলত, যার মূল কথা হলো জুতো পায়ে ভারতের জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানো মোটেও ঠিক নয়। ওতে দেশের অসম্মান হয়। এর আগে এরকমটা শুনিনি। মানে ছোটবেলায়, অর্থাৎ কিনা যখন আমি প্রকৃতই দেশপ্রেমিক ছিলাম এবং যুদ্ধে-ফুদ্ধে ...
  • এতো ঘৃণা কোথা থেকে আসে?
    কাল উমর খালিদের ঘটনার পর টুইটারে ঢুকেছিলাম, বোধকরি অন্য কিছু কাজে ... টাইমলাইনে কারুর একটা টুইট চোখে পড়লো, সাদামাটা বক্তব্য, "ভয় পেয়ো না, আমরা তোমার পাশে আছি" - গোছের, সেটা খুললাম আর চোখে পড়লো তলায় শয়ে শয়ে কমেন্ট, না সমবেদনা নয়, আশ্বাস নয়, বরং উৎকট, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

π

এ লেখা পাঁচ বছর আগের। আরো বাহু লেখার মত আর ঠিকঠাক না করে, ঠিকমত শেষ না করে ফেলেই রেখেছিলাম। আসলে যাঁর কাজ নিয়ে লেখা, হায়ারমাথ, তিনি সেদিনই এসেছিলেন, আমাদের হপকিন্স এইড ইণ্ডিয়ার ডাকে। ইনফরমাল সেটিং এ বক্তৃতা, তারপর বেশ খানিক সময়ের আলাপ আলোচনার পর পুরো ব্যাপারস্যাপারে বেশ ইম্প্রেসড হয়ে লিখে ফেলেছিলাম। পরেও বেশ কিছুদিন যোগাযোগ ছিল। জৈব চাষ ইত্যাদি নিয়ে ওঁদের কাজ নিয়ে, এখনো ওঁর স্ত্রী নিয়মিত লেখেন ফেসবুকে, অনেক কাজ করছেন ওঁদের সংস্থা, পরিবেশ , গ্রামীণ কৃষি নিয়ে, পুরস্কারও পেয়েছেন আনেক।
কিন্তু যা নিয়ে লিখেছিলাম, সে ছিল, অন্য কাজ। বেশ চমকেই গেছিলাম, সামনাসামনি সেই লড়াইয়ের কথা শুনে। ইদানিং কর্ণাটক নির্বাচনে আবার রেড্ডিভাইদের রমরমা , মুখ্যমন্ত্রী হবার উপক্রমে খুব হতাশ লাগছিল। মনে হচ্ছিল, এতসবের পরেও এই ? আর দোষীদের তার মানে কিছুই হলনা, পাঁচ বছরের কংগ্রেস শাসনকালেও?
দু'দিন আগে এই খবরটা পড়লাম।
<https://timesofindia.indiatimes.com/city/hubballi/defeat-of-tainted-ministers-a-warning-to-others-hiremath/articleshow/64262734.cms>
ভাল লাগল। ইল্লিগাল মাইনিং নিয়ে তো পরের কংগ্রেস সরকারও কিছুই করেনি প্রায়। কিন্তু ভাল লাগছে, এর সাথে কোন না কোন ভাবে যুক্ত, বা এই নিয়ে কিছু না করা সবাই হেরেছেন। কংগ্রেসেরও। কংগ্রেসের খারাপ ফলের কারণ হিসেবে এটা সেভাবে কেউ বলেননি। ভেবেছিলাম, হায়ারমাথ ও কি এসবের থেকে সরেই গেছেন ? দেখলাম , না।

'On Monday SPS chief S R Hiremath said, “It is a victory of the people who have shown doors to 13 arrogant and tainted cabinet ministers by defeating them in the polls. This defeat should be a warning to other politicians who indulge in illegal practices and loot natural resources of the state.”
Lashing out at the previous Congress government led by Siddaramaiah, Hiremath said the then chief minister was asked several times to collect the pending mining royalty from some firms. However, Siddaramaiah who had come to power assuring that he would put an end to illegal mining and collect the royalty, never bothered to keep up his promises, Hiremath charged.

As a result of this, people have taught a bitter lesson to the Congress, he said.
The yet-to-be-formed coalition government headed by H D Kumarswamy should make serious attempts to collect Rs 1 lakh crore in mining royalty, Hiremath urged. This apart, the erring mining owners should be booked and stern legal action should be initiated against them, he said.>

আগের সেই আধখ্যাঁচড়া লেখাটাই খুঁজছিলাম, ইল্লিগাল মাইনিং এর সেই ক্রুসেডারের কথা, তাঁর কাছেই যা শুনেছিলাম, জানাতে ইচ্ছে করছিল বলে। মিডিয়াতে সেভাবে কখনোই পড়িনি ওনাকে নিয়ে, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে তো নাই। অবশেষে পেলাম, রইল। দেখা যাক, এই আমলে কিছু হয় কিনা।

----

রিপাব্লিক অব বেল্লারি । বেল্লারি জেলা। হ্যাঁ, কর্ণাটকের এই জেলাকেই ঐ রিপাব্লিক নামে ডাকা হত। হবে নাই বা কেন, রিপাব্লিকের মতই নিজস্ব আইনকানুন ছিল বেল্লারির। মানে, বেআইন। বা জঙ্গলের আইন। বেল্লারির জঙ্গলের কোলে পাওয়া খনি সুম্পদের কোল মাফিয়াদের আইন। কথা বলতে হত বুঝে শুনে।
- এখানে তো খুল্লমখুল্লা খনিসম্পদ লুট করা হচ্ছে !
কী বললেন, লুট ? আরে, আপনার প্রাণের ভয় বলে কিছু নেই নাকি ?
এরকমই বলা হয়েছিল, এস আর হায়ারমাথকে, যখন ২০০৭ সালে ওখানে কাজ করতে যান। কাজ বলতে এলাকায় খনি সংক্রান্ত নানা দুর্নীতি চলছে সন্দেহ করে, সেই নিয়ে কাজ। এলাকার মানুষকে সেই নিয়ে সচেতন করার কাজ। এবং কাজ করতে গিয়েই বোঝেন, বেল্লারি নামক ‘রিপ্লাব্লিক’টিতে এই কাজটি মোটেও সহজ নয়। অতি স্পষ্টতঃ খনিসম্পদ লুট চলছে, অনেকেই তা জানেন ও বোঝেন, কিন্তু বেল্লারি রিপ্লাবিকের আইন অনুযায়ী সে নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্যা করতে পারবেনা।মুখ খুললেই চিরতরে চুপ করিয়ে দেবার বন্দোবস্ত হতে পারে। তবে এসব শুনে হায়ারমাথ সাবধান হয়েছিলেন, কিন্তু ভয় পাননি। পাননি কারণ তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন গণতন্ত্রে ভয়ের জায়গা নেই। বিশ্বাস করেন, কারণ জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি সামিল ছিলেন। আর দেখেছেন, সেই অবস্থা থেকেও বেরোনো যায়।
ভয় পাননি যে, এবং ভয় না পাবার মন্ত্রটা যে অন্যদের মধ্যেও চারিয়ে দিতে পেরেছিলেন, তার প্রমাণ পাওয়া গেল তিন বছরের মধ্যেই। ২০১০ সালে যেদিন আশেপাশের দশটি জেলা থেকে পাঁচশ লোক যোগাড় করে , তাঁদের প্রশাসনিক কর্তাদের সামনে দাঁড় করিয়ে প্রতিবা্দের বন্দোবস্ত করতে পেরেছিলেন। প্রতিবাদ, বে আইনি মাইনিং নিয়ে। বেআইনি, কারণ, হিসেবমতন সরকারের যে রয়াল্টি পাবার কথা, তার প্রায় কিছুই সরকারের ঘরে ঢোকেনি, লাইসেন্সিং হয়নি বা হলেও হয়েছে চোরাপথে। যেভাবে খননকার্যের আবেদন পত্র মঞ্জুর করা হয়েছে, লিজ দেওয়া হয়েছে, সবই বে আইনি। বা, বেল্লারি রিপাব্লিকের আইনে। বেল্লারি জুড়ে এই বিশাল খননকার্যের রমরমার শুরু বেজিং অলিম্পিক আর তাতে লোহার প্রচুর চাহিদা থেকে। ইন্ডিয়ান ব্যুরো অব মাইনিং এর সব নিয়মকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে যেভাবে দেশের সুবিশাল ও অমূল্য লোহা সম্পদ দিনের পর দিন উত্তোলিত ও নামমাত্র দামে পাচার হয়ে গেছে, সংরক্ষিত অরণ্যের মধ্যে দিয়ে বে আইনি মাইনিং (খননকার্য) হয়েছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে সর্ষের মধ্যেই ভূত ছিল। হ্যাঁ, এঁরাই সেই কুখ্যাত রেড্ডি ভ্রাতৃদ্বয়। কর্ণাটকের দুই মন্ত্রী। পরে তদন্তে বেরিয়েছে, এঁরাই ছিলেন সেই মাইনিং কোম্পানির মালিক। তদন্তের শুরুর কৃতিত্ব অবশ্য সন্তোষ হেগড়ের।প্রাক্তন বিচারপতি হেগড়ের নে্তৃত্বে কর্ণাটক লোকায়ুক্ত ২০০৮ সালেই রিপোর্ট পেশ করে বেশ কিছু অনিয়মের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রচুর প্রমাণ, পুঁথি পত্তর যোগাড় করে। কিন্ত হাইকোর্টে সব খারিজ হয়ে যায় । সরকার ও কোন কর্ণপাত করেনা। কোথাও কোন হেলদোল হয়না। বে আইনি মাইনিং চলতে থাকে রমরমিয়ে, আগের থেকে অনেক গুণ বেশি উৎসাহে। আর হেগড়ে কমিশনের লোকজন পেতে থাকেন নানাবিধ হুমকি। এই অবস্থাতেই হায়ারামাথের মঞ্চে প্রবেশ। কথা বলতে থাকেন স্থানীয় লোকজনের সাথে, খুঁজে বের করতে থাকেন সৎ সরকারি কর্মচারি, আমলাদের। তাঁদের সাহায্য নিয়ে যোগাড় করেন আরও অনেক কাগজপত্তর, সাক্ষী প্রমাণ। হেগড়ে কমিশনের রিপোর্টের সাথে সাথে সেসব নিয়ে এবার সোজা চলে যান, হ্যাঁ সুপ্রিম কোর্টে। পি আইল এল ঠোকেন। এই কোর্টের অভিজ্ঞতা তাঁর প্রথম বারের নয়। এর আগে বড় বড় ইস্যুতে চারবার মামলা ঠুকেছেন ও প্রতিবার জিতেছেন। প্রতিবারেই রাজনৈতিক আর সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি হাতিয়ার করে নিয়েছেন আইনি লড়াইকেও।
শুরু সেই আশির দশকের মাঝামাঝি। বিড়ালার হরিহর পলিফাইবার কারখানা তুঙ্গভদ্রার জল প্রচুর পরিমাণে দূষিত করে চলেছিল, তার বিরুদ্ধে পাব্লিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন ও বহু বছর লেগে থেকে তাতে সাফল্য পাওয়া। এর পাশাপাশি চলছিল সত্যাগ্রহও। ওঁর সমাজ পরিবর্তন সমুদয় ( এস পি এস) এর নেতৃত্বে একটি এখন নদীর দূষণ মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করে, কারখানা এখন ট্রীটমেন্ট ক’রে তবে নদীতে বর্জ্য ফেলে।
এই করতে করতেই দেখা গেল, বিড়লাদের আরেক কারখানা, কেপিএল আবার জঙ্গলের ৭৫০০০০ েকর জমি নষ্ট করছে, ছ’টি জেলায় পাঁচ লাখ গ্রামবাসীকে তাদের প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত করছে। য়ার সরকার বছরে মাত্র এক টাকা প্রতি একর দামে সেই জমি লিজ দিয়ে দিয়েছে ! লড়েছেন তাই নিয়েও। আবার কোর্টে পি আই এল ঠূকেছেন, আরো কয়েকজনকে সাথে করে। চিপকোর মত গাছ লাগানো নিয়ে অভিনব দুই সত্যাগ্রহের পাশাপাশি। সেই পি আই এল এর ভিত্তিতে সুপ্রীম কোর্ট স্থুগিতাদেশ দিয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার ৩৭০০০ একর জমি ওই প্রতিষ্ঠানকে দেবার ব্যবস্থা করলে তাই নিয়ে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছেন এবং অবশেষে জিতেছেন। করেছেন বেঙ্গাল্লুরু অব্দি সাইকেল জাঠা, ধর্ণা, মুখ্যমন্ত্রীর সাথে মিটিং। পাশে পেয়েছেন ৭২ জন বিধায়ককে, দলমতনির্বিশেষে, বিধানসভায় আলোড়ন হয়েছে। শেষ অব্দি ১৯৯১ সালে কেপিএল বন্ধ হয়েছে। বেঁচেছে ভূমিপুত্রদের জঙ্গল, জমি ও জীবন।
এরপর শুরু হল বাস্তারের লড়াই। কুখ্যাত মালিক-মাখবুজা কাণ্ড। বাস্তারে নব্বই দশকে মাফিয়াদের বে আইনি গাছ কাটার বিরুদ্ধে লড়াই। land alienation law যখন স্পষ্টভাবে রায় দিয়েছে, আদিবাসীদের কাছে থেকে অনাদিবাসী কেউ জমি কিনতে পারবে না, সেখানে সম্পূর্ণ বে আইনি ভাবে গরীব আদিবাসীদের জমি কেনার বিরুদ্ধে লড়াই। সেখানে বিরুদ্ধ পক্ষে কে নেই ? জমি –কাঠ মাফিয়া থেকে সরকারি নানা দপ্তরের কর্মচারী, এমনকি ধনী আদিবাসী রাজনৈতিক নেতারাও।
তো, এবার এই লড়াইয়ে সামিল হওয়ার জন্য বাস্তারের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ডাক পাঠালো হায়ারমাথকে। মামলাবাজ হায়ারমাথকে। মামলা ঠোকার জন্য। এবং আবার একটি পি আই এল করা হল, সুপ্রিম কোর্টে, ১৯৯৭ সালে। এর ফলেই এক বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে লোকায়ুক্ত আর সিবিয়াই এর এক উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করা হল, আর সেই তদন্তে বেরিয়ে এল মাফিয়া-রাজনীতিবিদ-আমলা নেক্সাসের স্বরূপ। এই লোকায়ুক্ত রিপোর্টেই জানা গিয়েছিল মহেন্দ্র কারমা, হ্যাঁ সম্প্রতি মাওবাদীদের হাতে নিহত সালওয়া জুডুম কুখ্যাত মহেন্দ্র কারমা সাংসদ থাকাকালীন কীভাবে এর সাথে জড়িয়ে ছিলেন। সিবিআই কেস ঠুকল বাস্তারের
্প্রাক্তন কমিশনারের বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্টে করা হায়ারমাথের রিট পিটিশনের ভিত্তিতে কালেক্টর ইত্যাদি বড় বড় আমলাদের বিরুদ্ধে এফ আই আর করা হল।
এখানেই লড়াইএর লিস্ট শেষ নয়। লড়েছেন, ৩০ টি এন জি ও নিয়ে তৈরি National Committee for Protection of Natural Resources (NCPNR) র আহ্বায়ক হয়ে, তৎকালীন পরিবেশমন্ত্রী কমল নাথের বিরুদ্ধে, ২ মিলিয়ন জঙ্গলের জমি শিল্প ও বাণিজ্যিকীকরণের জন্য নিয়ে নেবার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে। এবং জিতেছেন।
এই আইনি লড়াই আর লড়াইয়ে জয়ের সুদীর্ঘ ইতিহাস ছিল বলেই হয়তো বেল্লারির ব্যাপারেও এত নির্ভয়, নিশ্চিত ছিলেন। আর আত্মবিশ্বাসের সাথে ছিল অধ্যবসায়, অক্লান্ত পরিশ্রম। সুপ্রিম কোর্টে আবার ১৪০০ পাতার রিট পিটিশনে দেখিয়েছেন ২০০০ থেকে ২০১০ অব্দি কর্ণাটকে বে আইনি মাইনিং এর সমস্ত পুংখানুপুংখ বিবরণ। এর ভিত্তিতে সুপ্রীম কোর্ট সেন্ট্রাল এমপাওয়ারড কমিটি বানিয়েছে, তাকে নির্দেশ দিয়েছে সব কিছু খতিয়ে দেখার।
রেড্ডি ভাইয়েরা এখন জেলে, ইয়েদুরাপ্পার সরকারের পতন হয়েছে, েখন লক্ষ্য তার ও আগের প্রাক্তন মন্ত্রীরা , যাঁদের আমলে এই বেয়াইনি কাজকর্মের শুরু। রেড্ডি ভাইদের পরে এবারে কংগ্রেসি মন্ত্রী শিবকুমারের উইকেট পতনের অপেক্ষা। লক্ষ্য শুধু আইনি লড়াইয়ে জিতে দোষীদের শাস্তিই ত নয়, এই বেআইনি কাজকর্ম বাবদ যে বিপুল পরিমাণ টাকা নয়ছয় হয়েছে, সেই টাকা উদ্ধার করে এলাকার উন্নয়ন, মাইনিং জনিত পরিবেশের ক্ষতির পুনরুদ্ধারও।
হ্যাঁ, কারণ, জল, জমি ,জঙ্গল, খনিজ, বীজ এর অধিকার রক্ষার জন্য আইনি লড়াইখ্যাপা, এই পরিচয়ই তো একমাত্র নয়, এস আর হায়ারমাথের পরিচয়, তাঁর সমাজ পরিবর্তন সমুদয়ের পরিচয় সমাজ সংগঠক রূপেও। একজন পাশাপাশি কাজ করেছেন গ্রামোন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গ্রামস্বরাজ, পঞ্চায়েতি রাজ নিয়েও। লিখে শেষ করা যাবেনা। কাজেরও তো শেষ নেই। ১১ বছর আমেরিকার কর্পোরেট জগতে চাকরি করার পর যখন দেশে ফিরে এসেছিলেন, ভেবেছিলেন পেশার জগতের কাজের পাশাপাশি ্নানা সামাজিক কাজকর্ম চালিয়ে যাবেন। অচিরেই বুঝতে পারলেন, যা কাজ পড়ে আছে, তার জন্য পুরো সময় দেওয়াও যথেষ্ট নয়। নিজের পুরো সময়, পুরো জীবন দিয়েছেন। াশা করেন, আরো কেউ কেউ হয়তো এভাবেই আসবেন, তাঁদের সময় নিয়ে। সময় হয়তো বদলাবে। হায়ারমাথ আশাবাদী।



শেয়ার করুন


Avatar: prativa

Re: অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

হায়ারমাথরাই আশার সলতে জ্বালিয়ে রাখেন। ওঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি হোক।
Avatar: aranya

Re: অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

দারুণ মানুষ তো, হায়ারমাথ। জানতাম-ই না এর কথা।
Avatar: তন্বী দি

Re: অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

এমন একটা বিষয় যা আমার মতো অনেকেই জানে না।আসানসোল দুর্গাপুর অন্চলে এই ধরনের সমস্যা অনেক।কিন্তু লড়াইটা কে করবে
Avatar: তন্বী দি

Re: অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

এমন একটা বিষয় যা আমার মতো অনেকেই জানে না।আসানসোল দুর্গাপুর অন্চলে এই ধরনের সমস্যা অনেক।কিন্তু লড়াইটা কে করবে
Avatar: π

Re: অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

তন্বীদি, বর্ধমান, আসানসোলের কথা একটু আসুক না।
Avatar: paps

Re: অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

তন্বী দি, আপনিই লিখুন না প্লিজ।
Avatar: কল্লোল

Re: অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

অনেককাল আগে ব্যাঙ্গালোরে থাকতে রেড্ডি ভাইদের বেল্লারী লোহা খনি দুর্নীতি নিয়ে একটা ফিল্ম দেখেছিলাম। এই লেখাটায় মনে পড়লো। এরা নাকি (বেল্লারি সম্ভবতঃ অন্ধ্র-কর্ণাটক সীমান্তে) দরকার হলে, রাজ্য সীমান্ত পোস্ট তুলে খনির এপারে বা ওপারে সুবিধামত বসিয়ে দিতো। মানে কখনো খনিটি অন্ধ্রে চলে যেত, কখনো কর্ণাটকে ফিরে আসতো।
আর ঐ ফিল্মেই বড় রেড্ডী ভাইটি দাবী করেছিলেন ওনারা খাঁটি ঘিয়ের মতো "পুওর", তাই তো "থিরুপতি লার্ড"কে ৩২টি হীরে বসানো "ক্রেন" দান করেছেন।
Avatar: কল্লোল

Re: অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

সেই ফিল্মটা পেলাম না। অন্য একটা

https://www.youtube.com/watch?v=It9-gr8FS_A

পরঞ্জয়ের লেখা https://www.firstpost.com/politics/how-the-gali-reddy-brothers-ruled-b
ellary-with-iron-hand-79507.html

Avatar: রৌহিন

Re: অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

হায়ারমাথেরা তাদের কাজ করে চলেন। কিন্রু আমরা অধিকাংশই শুধু দেখে চলি। আর একদল মানুষ জানেন এই সব বে-আইনী কাজ করে চলা যাবে দিনের পর দিন, কারণ রাষ্ট্র তাতে মদত দেবে। অনেক সময় রাষ্ট্র নিজেই বে আইনী কাজ করবে, যেমন এখানেও দেখা যাচ্ছে। এক দুই পাঁচজন হায়ারমাথরা তো সর্বত্র উপস্থিত থাকতে পারবেন না। পক্ষ আমাদেরকেও নিতে হবে। নিতেই হবে।
Avatar: aranya

Re: অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

পক্ষ নেওয়া সহজ। হায়ারমাথ বা হায়ারমাথ-দের পক্ষে তো এই ফোরামের অনেকেই থাকবেন।
ইস্যুটা নিয়ে মিনিংফুল কিছু করা, তার জন্য সময় বার করা, রিস্ক নেওয়া -এগুলো কঠিন
Avatar: dc

Re: অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

"পক্ষ নেওয়া সহজ। ইস্যুটা নিয়ে মিনিংফুল কিছু করা, তার জন্য সময় বার করা, রিস্ক নেওয়া -এগুলো কঠিন"

কোট অফ দ্য সেঞ্চুরি।
Avatar: π

Re: অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

সেতো বটেই। কিন্তু সব ইস্যুতে সবাই তো পথে নামতে পারবে না বা সব কিছু করতে পারবেনা। নানাভাবে সমর্থনও ম্যাটার করে। জনসমর্থন। আর তার জন্য মানুষের কাছ সত্যি ছড়িয়ে যাওয়া, দেওয়া, সেসবও দরকার। লড়তে টাকাপয়সা দরকার। এসব পি আই এল এর কম খরচ?

লড়াইখ্যাপা হয়ার ক্যাপা কম লোকের হয়, কিন্তু তাদের পিছনের লোক অনেক হলেও অনেক।


আর যা আচ্ছে দিনকাল পড়েছে, এসব ইস্যুর বিপক্ষে খোলাখুলি বলার লোক অনেক বেশি, ভাুয়াল আইটিসেল তো আরৈ বেশি।
Avatar: দ

Re: অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প

অবশেষে পড়ে উঠলাম। কি দারুণ একজন লোক এই হায়ারমাথ।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন