Kallol Lahiri RSS feed

Kallol Lahiriএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • হাল্কা নারীবাদ, সমানাধিকার, বিয়ে, বিতর্ক ইত্যাদি
    কদিন আগে একটা ব্যাপার মাথায় এল, শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মেয়েদের মধ্যে একটা নরমসরম নারীবাদী ভাবনা বেশ কমন। অনেকটা ঐ সুচিত্রা ভট্টাচার্যর লেখার প্লটের মত। একটা মেয়ে সংসারের জন্য আত্মত্যাগ করে চাকরী ছেড়ে দেয়, রান্না করে, বাসন মাজে হতভাগা পুরুষগুলো এসব বোঝে ...
  • ক্যানভাস(ছোট গল্প)
    #ক্যানভাস১ সন্ধ্যে ছটা বেজে গেলেই আর অফিসে থাকতে পারে না হিয়া।অফিসের ওর এনক্লেভটা যেন মনে হয় ছটা বাজলেই ওকে গিলে খেতে আসছে।যত তাড়াতাড়ি পারে কাজ গুছিয়ে বেরোতে পারলে যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচে।এই জন্য সাড়ে পাঁচটা থেকেই কাজ গোছাতে শুরু করে।ছটা বাজলেই ওর ডেক্সের ...
  • অবৈধ মাইনিং, রেড্ডি ভাইয়েরা ও এক লড়াইখ্যাপার গল্প
    এ লেখা পাঁচ বছর আগের। আরো বাহু লেখার মত আর ঠিকঠাক না করে, ঠিকমত শেষ না করে ফেলেই রেখেছিলাম। আসলে যাঁর কাজ নিয়ে লেখা, হায়ারমাথ, তিনি সেদিনই এসেছিলেন, আমাদের হপকিন্স এইড ইণ্ডিয়ার ডাকে। ইনফরমাল সেটিং এ বক্তৃতা, তারপর বেশ খানিক সময়ের আলাপ আলোচনার পর পুরো ...
  • স্বাধীন চলচ্চিত্র সংসদ বিষয়ক কিছু চিন্তা
    জোট থাকলে জটও থাকবে। জটগুলো খুলতে খুলতে যেতে হবে। জটের ভয়ে অনেকে জোটে আসতে চায় না। তবে আমি চিরকালই জোট বাঁধার পক্ষের লোক। আগেও সময়ে সময়ে বিভিন্নরকম জোটে ছিলাম । এতবড় জোটে অবশ্য প্রথমবার। তবে জোটটা বড় বলেই এখানে জটগুলোও জটিলতর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কেউ ...
  • 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া
    বীতশোকের প্রথম দিকের কবিতা বাংলা কবিতা-কে এক অন্য স্বর শুনিয়েছিলো, তাঁর কণ্ঠস্বরে ছিলো নাগরিক সপ্রতিভতা, কিন্তু এইসব কবিতার মধ্যে আলগোছে লুকোনো থাকতো লোকজীবনের টুকরো ইঙ্গিত। ১৯৭৩ বা ৭৪ সালের পুরনো ‘গল্পকবিতা’-র (কৃষ্ণগোপাল মল্লিক সম্পাদিত) কোনো সংখ্যায় ...
  • তারাবী পালানোর দিন গুলি...
    বর্ণিল রোজা করতাম ছোটবেলায় এই কথা এখন বলাই যায়। শীতের দিনে রোজা ছিল। কাঁপতে কাঁপতে সেহেরি খাওয়ার কথা আজকে গরমে হাঁসফাঁস করতে করতে অলীক বলে মনে হল। ছোট দিন ছিল, রোজা এক চুটকিতে নাই হয়ে যেত। সেই রোজাও কত কষ্ট করে রাখছি। বেঁচে থাকলে আবার শীতে রোজা দেখতে পারব ...
  • দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,কোপেনহেগেনে বিড়ি
    এই ঘটনাটি আমার নিজের অভিজ্ঞতা নয়। শোনা ঘটনা আমার দুই সিনিয়রের জীবনের।দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেলকোপেনহেগেনে বিডি***********পুরোট...
  • অদ্ভুত
    -কি দাদা, কেমন আছেন?-আপনি কে? এখানে কেন? ঘরে ঢুকলেন কিভাবে?-দাঁড়ান দাঁড়ান , প্রশ্নের কালবৈশাখী ছুটিয়ে দিলেন তো, এত টেনশন নেবেন না-মানেটা কি আমার বাড়ি, দরজা বন্ধ, আপনি সোফায় বসে ঠ্যাঙ দোলাচ্ছেন, আর টেনশন নেব না? আচ্ছা আপনি কি চুরি করবেন বলে ঢুকেছেন? যদি ...
  • তারার আলোর আগুন
    তারার আলো নাকি স্নিগ্ধ হয়, কাল তাহলে কেন জ্বলে মরল বারো, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে আরো সত্তর জন! তবু মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। আজও রাস্তায় পড়ে এক স্বাস্থ্যবান শ্যামলা যুবক, শেষবারের মতো ডানহাতটা একটু নড়ল। কিছু বলতে চাইল কি ? চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা সশস্ত্র ...
  • 'হারানো সজারু'
    ১এক বৃষ্টির দিনে উল্কাপটাশ বাড়ির পাশের নালা দিয়ে একটি সজারুছানাকে ধেইধেই করে সাঁতার কেটে যেতে দেখেছিল। দেখামাত্রই তার মনে স্বজাতিপ্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্ববোধ দারুণভাবে জেগে উঠল এবং সে ছানাটিকে খপ করে তুলে টপ করে নিজের ইস্কুল ব্যাগের মধ্যে পুরে ফেলল। এটিকে সে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

হলদে টিকিটের শ্রদ্ধার্ঘ্য

Kallol Lahiri

গরমের ছুটিটা বেশ মজা করে জাঁকিয়ে কাটানো যাবে ভেবে মনটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছিলো সকাল থেকে। তার আগে বাবার হাত ধরে বাজার করতে যাওয়া। কিন্তু একি গঙ্গার ধারে এই বিশাল প্যান্ডেল...কি হবে এখানে? কেউ একজন সাইকেলে চড়ে যেতে যেতে বলে গেল “মাষ্টারমশাই...বালীতে ফিল্ম উতসব হচ্ছে গো...”।
“ফিল্ম উৎসব কি বাবা?”
“যেখানে অনেক ভালো ছবি একসঙ্গে দেখানো হয়...ছবি নিয়ে সবাই আলোচনা করেন...মশগুল হয়ে থাকেন কয়েকটা দিন”।
“আমরা মুশগুল হব না?”
বাবা হাসেন, কোনো জবাব দেন না। আমরা এগিয়ে যাই প্যান্ডেলের দিকে। অনেক পোষ্টারের সাথে একটা পোষ্টার আমার চোখকে টানে। সবে শেখা বর্ণমালার অক্ষরজ্ঞান কাজে লেগে যায়। বানান করে পড়তে শুরু করি আ...কা...লে...র স...ন...ধা...নে । এক মহিলা মাথায় পুঁটুলি, ঘোমটার খুঁটটা দাঁত দিয়ে চাপা, মুখে কষ্ট...মায়ের মতোই কপালের সিঁদুরটা তেলতেলে ল্যাপটানো। আশির দশকের গোড়ায় সেই প্রথম আমার স্মিতা পাতিলকে দেখা (ছবির নায়িকা)...মৃণাল সেন নামটা মনের কোথাও ঝুলতে থাকা...পরিচিত হওয়া কতকগুলো শব্দের সাথ... ফিল্ম উৎসব...ভালো ছবি...আর্ট ফিল্ম। বাজার ফিরতি পথে পুঁইশাক, চিংড়ি, চৌসা আমের বাজার ভর্তি ব্যাগের সাথে সাতটা হলদে টিকিট। আজ ফিল্ম উতসব, মশগুল হওয়ার দিন।
একি ছবির মধ্যেই ছবি তৈরীর গল্প। “ হ্যাঁ ঠিক এই ভাবে গাছের তলায় এসে দাঁড়ান স্মিতা। আঁচলের খুঁটটাকে দাঁতে চেপে ধরুন...ফিরে তাকান একবার আপনার গ্রামের দিকে...ঠিক ওখানে আর কোনো দিন...আর কোনো দিন ফিরে যেতে পারবেন না...” কেঁদে ওঠেন পর্দার স্মিতা। পর্দার পরিচালক কাট বলেন। ফিরে দেখি পাশে বসা পিসির চোখে জল...ও বাড়ির হাবুলের বাবা হাউ হাউ করে কাঁদছে। মন্বন্তরের গল্প শুনতে বসে দেশ ছাড়া ভিটে ছাড়া মানুষ গুলোর চোখে বেদনার ধারা। পরের কদিন পাড়ার সবার মুখে গানটা ফিরে ফিরে ঘুরলো “হেই সামালো ধান হো...কাস্তেটা দাও শান হো...জান কবুল আর মান কবুল...”।
“একেই কি ভালো ছবি বলে বাবা?”
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেদিন আমাকে কোনো জবাব দেন নি। এর অনেক পরে যখন সিদ্ধান্ত নিলাম ছবি নিয়ে পড়াশুনো করবো তখনো বাবা কোনো বাধা দেন নি। কিছু বলেন নি। বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-স্বজনরা বারবার ভেবে দেখতে বলেছিলো, “ওটা আমদের লাইন নয়”। আমি তখন বে-লাইন হওয়ার মতলবে। আমি তখন ভালো ছবির উৎস সন্ধানে।
আমার কোনো তথ্যচিত্র...প্রথম চিত্রনাট্য লেখা ছবির মুক্তি কিছুই বাবা দেখে যেতে পারেন নি। তারো অনেক আগে...অনেক আগে... শীতের এক দুপুরে বাবা তার কলাপোতার স্মৃতি জড়ানো চোখ বন্ধ করে পৃথিবী থেকে সরে গেছেন। কিন্তু কোথাও রেখে গেছেন গরমের এক ছুটির সকাল... ফিল্ম উৎসব...ভালোলাগা ছবি...।
এরপর অনেক বার অনেক অনুষ্ঠানে খুব কাছ থেকে দেখেছি মৃণাল সেনকে। শুনেছি তাঁর অন্তরঙ্গ আড্ডা। কিন্তু কখোনো বলতে পারিনি এক সকালে পুঁই শাক, চিংড়ির সাথে গোটা সাতেক হলুদ রঙের টিকিটের কথা। বলতে পারিনি হাবুলের বাবার হাউহাউ কান্না...পিসির বিষাদ...।
বলতে পারিনি কারণ এটাই হয়তো বলতে না পারার ভালো লাগা।
এটাই হয়তো আজ তাঁর পঁচানব্বইয়ের জন্মদিনে আমার তরফ থেকে তাঁকে দেওয়া হলদে টিকিটের শ্রদ্ধার্ঘ্য।


শেয়ার করুন


Avatar: Kallol Lahiri

Re: হলদে টিকিটের শ্রদ্ধার্ঘ্য

ভালো।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন