Muradul islam RSS feed

www.muradulislam.me

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মানবিক
    এনআরএস-এর ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এরকম ঘটনা বারেবারেই ঘটে চলেছে এবং ভবিষ্যতে ঘটতে চলেছে আরও। ঘটনাটি সমর্থনযোগ্য নয় অথবা ঘৃণ্য অথবা পাশবিক (আয়রনি); এই জাতীয় কোনো মন্তব্য করার জন্য এই লেখাটা লিখছি না। বরং অন্য কতগুলো কথা বলতে চাই। আমার মনে হয় এই ঘটনার ...
  • ডিগ্রি সংস্কৃতি
    মমতার সবৈতনিক শিক্ষানবিস শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের ঘোষণায় চারপাশে প্রবল হইচই দেখছি। বিশেষ গাদা গাদা স্কুলে হাজার হাজার শিক্ষক পদ শূন্য, সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে কিছুই না করে এই ঘোষণাকে সস্তায় কাজ করিয়ে নেওয়ার তাল মনে হইয়া খুবই ...
  • বাংলাদেশের শিক্ষিত নারী
    দেশে কিছু মানুষ রয়েছে যারা নারী কে সব সময় বিবেচনা করে নারীর বিয়ে দিয়ে। মানে তাদের কাছে বিয়ে হচ্ছে একটা বাটখারা যা দিয়ে নারী কে সহজে পরিমাপ করে তারা। নারীর গায়ের রং কালো, বিয়ে দিতে সমস্যা হবে। নারী ক্লাস নাইন টেনে পড়ে? বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। উচ্চ মাধ্যমিকে ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৫)
    স্কিউ – মারখা (০৫.০৯.২০১৮)--------...
  • গন্ডোলার গান
    সে অনেককাল আগের কথা। আমার তখন ছাত্রাবস্থা। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের টাকার ভরসায় ইটালি বেড়াতে গেছি। যেতে চেয়েছিলাম অস্ট্রিয়া, সুইৎজারল্যান্ড, স্ট্রাসবুর্গ। কারণ তখন সবে ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল শুনতে শুরু করেছি। মোৎজার্টে বুঁদ হয়ে আছি। কিন্তু রিসার্চ ...
  • শেকড় সংবাদ : চিম্বুকের পাহাড়ে কঠিন ম্রো জীবন
    বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমি অধিগ্রহণের ফলে উচ্ছেদ হওয়া প্রায় ৭৫০টি ম্রো আদিবাসী পাহাড়ি পরিবার হারিয়েছে অরণ্যঘেরা স্বাধীন জনপদ। ছবির মতো অনিন্দ্যসুন্দর পাহাড়ি গ্রাম, জুম চাষের (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ চাষাবাদ) জমি, ...
  • নরেন হাঁসদার স্কুল।
    ছাটের বেড়ার ওপারে প্রশস্ত প্রাঙ্গণ। সেমুখো হতেই এক শ্যামাঙ্গী বুকের ওপর দু হাতের আঙুল ছোঁয়ায় --জোহার। মানে সাঁওতালিতে নমস্কার বা অভ্যর্থনা। তার পিছনে বারো থেকে চার বছরের ল্যান্ডাবাচ্চা। বসতে না বসতেই চাপাকলের শব্দ। কাচের গ্লাসে জল নিয়ে এক শিশু, --দিদি... ...
  • কীটদষ্ট
    কীটদষ্টএকটু একটু করে বিয়ারের মাথা ভাঙা বোতল টা আমি সুনয়নার যোনীর ভিতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছিলাম আর ওর চোখ বিস্ফারিত হয়ে ফেটে পড়তে চাইছিলো। মুখে ওরই ছেঁড়া প্যাডেড ডিজাইনার ব্রা'টা ঢোকানো তাই চিৎকার করতে পারছে না। কাটা মুরগীর মত ছটফট করছে, কিন্তু হাত পা কষে বাঁধা। ...
  • Ahmed Shafi Strikes Again!
    কয়দিন আগে শেখ হাসিনা কে কাওমি জননী উপাধি দিলেন শফি হুজুর। দাওরায় হাদিস কে মাস্টার্সের সমমর্যাদা দেওয়ায় এই উপাধি দেন হুজুর। আজকে হুজুর উল্টা সুরে গান ধরেছেন। মেয়েদের ক্লাস ফোর ফাইভের ওপরে পড়তে দেওয়া যাবে না বলে আবদার করেছেন তিনি। তাহলে যে কাওমি মাদ্রাসা ...
  • আলতামিরা
    ঝরনার ধারে ঘর আবছা স্বয়ম্বর ফেলেই এখানে আসা। বিষাদের যতো পাখিচোর কুঠুরিতে রাখিছিঁড়ে ফেলে দিই ভাষা৷ অরণ্যে আছে সাপ গিলে খায় সংলাপ হাওয়াতে ছড়ায় ধুলো। কুটিরে রেখেছি বই এবার তো পড়বোই আলোর কবিতাগুলো।শুঁড়িপথ ধরে হাঁটিফার্নে ঢেকেছে মাটিকুহকী লতার জাল ফিরে আসে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

হেলেন

Muradul islam

এমন হয়, প্রায়শই হয়। কথাবার্তায় উঠে আসে কোনও কোনও নাম। আমাদের লেখকের ক্ষেত্রেও তাই হলো। লেখক ও তার বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনু সেইদিন রাত আটটা ন’টার দিকে জিন্দাবাজারে হাঁটছিলেন। তারা বাদাম খাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে রিকাবিবাজার যাবেন, ও সেখানে গুড়ের চা খাবেন।

তখন শীতের সময়। চারিদিকে পড়েছে শীত। মানুষজন গরম কাপড় পরে বের হয়েছেন। অনেকে ব্যস্তভাবে হাঁটছেন, অনেকে দাঁড়িয়ে ভাপা পিঠা খাচ্ছেন। ব্যস্ত রাতের পূণ্যভূমি।

এমন অবস্থায় আমাদের লেখক ও তার বন্ধু হাঁটতে হাঁটতে বললেন হেলেনের কথা। ইনু বললেন, তার পরিচিত একজন মহিলার নাম হেলেন। মহিলার স্বামীর নাম মাহবুবুর রহমান।

লেখকের মনে হলো যে তিনিও একজন মহিলাকে চেনেন, যার নাম হেলেন, কিন্তু তার স্বামীর নাম মাহবুবুর রহমান কি না তিনি তা জানেন না।

এটাই গল্পের মূল সমস্যা। হেলেন ও মাহবুবুর রহমান।

লেখকের বন্ধু ইনু বললেন, “এটা তো খুব অদ্ভুত! অদ্ভুত নয় কী?”

লেখক জিজ্ঞেস করলেন, “কোনটা অদ্ভুত?”

লেখকের বন্ধু বললেন, “এই যে, মহিলার নাম হেলেন!”

লেখক তখন ভাবলেন যে হয়ত তা অদ্ভুতই। কারণ এই নাম শোনা যায় না। বিখ্যাত ট্রয়ের হেলেনের কথা শোনা যায়। ট্রয়ের যুদ্ধ হেলেনের জন্যই হয়েছে বলে অনেকে বলে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশে সেই হেলেনের সূত্রে কি নাম রাখবে লোকে?

ঘটনা ধীরে ধীরে গুরুতর হতে শুরু করলো যখন আমাদের লেখক খোঁজ নিয়ে দেখতে চাইলেন তার জানা সেই হেলেনের স্বামীর নাম মাহবুবুর রহমান কি না। তিনি রিকাবিবাজার পয়েন্টে, স্টেডিয়ামের পাশে বসে গুড়ের চা খেতে খেতে বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিলেন। সবার কাছেই তিনি হেলেনের ব্যাপারে খোঁজ নিলেন ও তার স্বামীর নাম জানতে চাইলেন।

অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জানতে পারলেন, হ্যা, তার জানা সেই হেলেনের স্বামীর নামও মাহবুবুর রহমান।

তখন লেখকের বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনু বললেন যে, হতে পারে এই হেলেনই আমার পরিচিত হেলেন। হতে পারে তারা দুইজন নন। হতে পারে আমরা একজনকেই দুই দিক দিয়ে চিনি। এবং তার স্বামীর নাম দুই দিক দিয়েই মাহবুবুর রহমান।

এই এক নতুন সমস্যায় লেখক, আবার খোঁজখবর নেয়া শুরু করলেন। তার বন্ধুও খোঁজ নিতে শুরু করলেন। এই খোঁজাখোঁজির এক পর্যায়ে তারা দুইজনই হেলেনের ফেইসবুক আইডির খোঁজ পেলেন। কিন্তু দেখা গেল আইডি দুইটা, অর্থাৎ হেলেন দুইজন।

এবং অদ্ভুত বিষয়, দুই হেলেনের স্বামীর নামই মাহবুবুর রহমান।

এটা কেমন করে হয়?

লেখক এবং তার বন্ধু চা শেষ করলেন। তারা ওয়ান টাইম প্লাস্টিক গ্লাসটি ফেলে দিয়ে পরস্পরের দিকে তাকালেন। তারা দুজনই বুঝতে পারলেন যে নতুন একটি সমস্যার উদয় হয়েছে। হেলেনদের স্বামীর নাম কেন মাহবুবুর রহমান হয়?

অথবা আসলে কি সব হেলেনেরই স্বামীর নাম মাহবুবুর রহমান?

লেখক ও তার বন্ধু এবার আরো খোঁজাখোঁজি শুরু করলেন। তারা সমস্ত শহরের এবং সমস্ত দেশের হেলেনদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া শুরু করলেন। তারা জানতে চাইলেন যে হেলেনদের স্বামীর নাম কি মাহবুবুর রহমান? আসলেই?

এই খোঁজা বৃথা গেল না।

কয়েকদিন সময় লাগল একটা মোটামোটি ধারণা পেতে। একেবারে ঠিকঠাক ধারণা পাওয়া অসম্ভব। কারণ শহর ও দেশ অনেক বড় বিষয়। আর হেলেনেরা প্রকাশ্য নয়। কতো কতো হেলেন যে কতো ভাবে লুকিয়ে থাকে শহর ও দেশের নানা স্থানে, তাই সব জানা সম্ভব হয় না।

কিন্তু যা মোটামোটি জানা গেল তাতেই বিস্ময়।

দেখা গেল, জানা সব হেলেনের স্বামীর নামই মাহবুবুর রহমান হয়।

লেখক এবং তার বন্ধু অবাক হলেন। লেখক তার বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনুকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কেমন করে হচ্ছে?

লেখকের বন্ধু স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারলেন না। তিনি কেবল বললেন, জানেন, গড অলমাইটি।
এই হেলেন ও তার স্বামী মাহবুবুর রহমান জনিত সমস্যা আমাদের লেখককে প্রায় উদভ্রান্ত করে তুললো। তিনি তার খোঁজ থামালেন না। তিনি খোঁজতে থাকলেন এবং খোঁজতেই থাকলেন। তার মনে হলো যে কোথাও কোন সমস্যা আছে। এমন হবার কথা নয়। এমন হয় না কোথাও, কোনকালে। কোনকালেই সব হেলেনদের স্বামী মাহবুবুর রহমান হতে পারে না।

লেখকের দিন যায় নিত্য নতুন হেলেনদের খুঁজে এবং তাদের স্বামীর নাম জানতে জানতে।

যেখানেই তিনি খোঁজ পেতেন যে একজন হেলেন আছেন, তিনি সেখানে গিয়ে উপস্থিত হতেন। জানার চেষ্টা করতেন তার স্বামীর নাম কী। প্রতিবারই দেখা যেত নাম মাহবুবুর রহমান।

হতাশ ও বিষন্ন হয়ে পড়লেন আমাদের লেখক।

একপর্যায়ে তিনি জগৎ সংসারের উপর সব আশা ছেড়ে দিলেন, ও লেখালেখি ছেড়ে দিলেন।

তিনি লেখালেখি ছেড়ে দিয়ে কাঠের ব্যবসা শুরু করেন। সেই ব্যবসার নাম থিসিয়াসের জাহাজ। তার ব্যবসা খুব ভালো চলে। তিনি উন্নতি করতে থাকেন, এবং আস্তে আস্তে একসময় ভুলে যান হেলেন ও মাহবুবুর রহমানকে।

তার বিয়ে হয়। বউ সুন্দরী, নানা গুণে গুণান্বিত মহিলা। তাদের এক বাচ্চা হয়, সুখী পরিবার।

কিন্তু হঠাৎ একদিন, এক শীতের রাতে আমাদের লেখক জানতে পারেন তার স্ত্রীর নাম হেলেন।

বাচ্চাকালে প্রথম এই নামই রাখা হয়েছিল। পরে স্কুলে ভর্তির সময় বাদ দেয়া হলেও এই নামেও তাকে চিনে থাকেন নিজ বাড়ির লোকজন।

এটা জানার পরে লেখকের মাথা ঘুরে যায়।

তিনি পড়ে যান।

তার মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানো হয়। তিনি উঠে দাঁড়ান এবং দৌড়ে চলে যান আয়নার সামনে।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেকে দেখতে থাকেন, নিরীক্ষণ করতে থাকেন।

এবং এরপর থেকে এটাই তার কাজ হয়ে দাঁড়ায়।

আয়নার সামনে তিনি দাঁড়ান, ও নিজেকে দেখেন আর ভাবেন, তিনি কি মাহবুবুর রহমান?


115 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: T

Re: হেলেন

মুরাদুলের লেখায় একটা নিরাসক্তি থাকে, এটা আকর্ষণীয়। ঐ নিজের লেখার থেকে সজ্ঞানে দূরে দাঁড়িয়ে পেন্সিলের নড়াচড়া দেখার মতন। পাঠককেও উনি সচরাচর চরিত্রদের কাছে ঘেঁষতে দেন না। বিভিন্ন লেগো ব্লক দিয়ে বাড়ি বানানোর মতন। ইন্টারঅ্যাকশনের একটা অংশ পর্দানসীন। এটা বেশ লাগে।

এই গল্পটা ভালো লেগেছে, তবে শেষ দিকটা একটু তাড়াহুড়ো মনে হ'ল।
Avatar: স

Re: হেলেন

কেয়াবাত!


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন