Muradul islam RSS feed

www.muradulislam.me

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অনন্ত দশমী
    "After the torchlight red on sweaty facesAfter the frosty silence in the gardens..After the agony in stony placesThe shouting and the crying...Prison and palace and reverberationOf thunder of spring over distant mountains...He who was living is now deadWe ...
  • ঘরে ফেরা
    [এ গল্পটি কয়েক বছর আগে ‘কলকাতা আকাশবাণী’-র ‘অন্বেষা’ অনুষ্ঠানে দুই পর্বে সম্প্রচারিত হয়েছিল, পরে ছাপাও হয় ‘নেহাই’ পত্রিকাতে । তবে, আমার অন্তর্জাল-বন্ধুরা সম্ভবত এটির কথা জানেন না ।] …………আঃ, বড্ড খাটুনি গেছে আজ । বাড়ি ফিরে বিছানায় ঝাঁপ দেবার আগে একমুঠো ...
  • নবদুর্গা
    গতকাল ফেসবুকে এই লেখাটা লিখেছিলাম বেশ বিরক্ত হয়েই। এখানে অবিকৃত ভাবেই দিলাম। শুধু ফেসবুকেই একজন একটা জিনিস শুধরে দিয়েছিলেন, দশ মহাবিদ্যার অষ্টম জনের নাম আমি বগলামুখী লিখেছিলাম, ওখানেই একজন লিখলেন সেইটা সম্ভবত বগলা হবে। ------------- ধর্মবিশ্বাসী মানুষে ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি #সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যমন ভালো রাখতে কবিতা পড়ুন,গান শুনুন,নিজে বাগান করুন আমরা সবাই শুনে থাকি তাই না।কিন্তু আমরা যারা স্পেশাল মা তাঁদেরবোধহয় না থাকে মনখারাপ ভাবার সময় না তার থেকে মুক্তি। আমরা, স্পেশাল বাচ্চার মা তাঁদের জীবন টা একটু ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা▶️অন্তরীক্ষে এই ঊষাকালে অতসী পুষ্পদলের রঙ ফুটি ফুটি করিতেছে। অংশুসকল ঘুমঘোরে স্থিত মেঘমালায় মাখামাখি হইয়া প্রভাতের জন্মমুহূর্তে বিহ্বল শিশুর ন্যায় আধোমুখর। নদীতীরবর্তী কাশপুষ্পগুচ্ছে লবণপৃক্ত বাতাস রহিয়া রহিয়া জড়াইতে চাহে যেন, বালবিধবার ...
  • #চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি(35)#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যআমরা যারা অটিস্টিক সন্তানের বাবা-মা আমাদের যুদ্ধ টা নিজের সাথে এবং বাইরে সমাজের সাথে প্রতিনিয়ত। অনেকে বলেন ঈশ্বর নাকি বেছে বেছে যারা কষ্ট সহ্য করতে পারেন তাঁদের এই ধরণের বাচ্চা "উপহার" দেন। ঈশ্বর বলে যদি কেউ ...
  • পটাকা : নতুন ছবি
    মেয়েটা বড় হয়ে গিয়ে বেশ সুবিধে হয়েছে। "চল মাম্মা, আজ সিনেমা" বলে দুজনেই দুজনকে বুঝিয়ে টুক করে ঘরের পাশের থিয়েটারে চলে যাওয়া যাচ্ছে।আজও গেলাম। বিশাল ভরদ্বাজের "পটাকা"। এবার আমি এই ভদ্রলোকের সিনেমাটিক ব্যাপারটার বেশ বড়সড় ফ্যান। এমনকি " মটরু কে বিজলী কা ...
  • বিজ্ঞানের কষ্টসাধ্য সূক্ষ্মতা প্রসঙ্গে
    [মূল গল্প - Del rigor en la ciencia (স্প্যানিশ), ইংরিজি অনুবাদে কখনও ‘On Exactitude in Science’, কখনও বা ‘On Rigour in Science’ । লেখক Jorge Luis Borges (বাংলা বানানে ‘হোর্হে লুই বোর্হেস’) । প্রথম প্রকাশ – ১৯৪৬ । গল্পটি লেখা হয়েছে প্রাচীন কোনও গ্রন্থ ...
  • একটি ঠেকের মৃত্যুরহস্য
    এখন যেখানে সল্ট লেক সিটি সেন্টারের আইল্যান্ড - মানে যাকে গোলচক্করও বলা হয়, সাহেবরা বলে ট্র্যাফিক টার্ন-আউট, এবং এখন যার এক কোণে 'বল্লে বল্লে ধাবা', অন্য কোণে পি-এন্ড-টি কোয়ার্টার, তৃতীয় কোণে কল্যাণ জুয়েলার্স আর চতুর্থ কোণে গোল্ড'স জিম - সেই গোলচক্কর আশির ...
  • অলৌকিক ইস্টিমার~
    ফরাসী নৌ - স্থপতি ইভ মার একাই ছোট্ট একটি জাহাজ চালিয়ে এ দেশে এসেছিলেন প্রায় আড়াই দশক আগে। এর পর এ দেশের মানুষকে ভালোবেসে থেকে গেছেন এখানেই স্থায়ীভাবে। তার স্ত্রী রুনা খান মার টাঙ্গাইলের মেয়ে, অশোকা ফেলো। আশ্চর্য এই জুটি গত বছর পনের ধরে উত্তরের চরে চালিয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

হেলেন

Muradul islam

এমন হয়, প্রায়শই হয়। কথাবার্তায় উঠে আসে কোনও কোনও নাম। আমাদের লেখকের ক্ষেত্রেও তাই হলো। লেখক ও তার বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনু সেইদিন রাত আটটা ন’টার দিকে জিন্দাবাজারে হাঁটছিলেন। তারা বাদাম খাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে রিকাবিবাজার যাবেন, ও সেখানে গুড়ের চা খাবেন।

তখন শীতের সময়। চারিদিকে পড়েছে শীত। মানুষজন গরম কাপড় পরে বের হয়েছেন। অনেকে ব্যস্তভাবে হাঁটছেন, অনেকে দাঁড়িয়ে ভাপা পিঠা খাচ্ছেন। ব্যস্ত রাতের পূণ্যভূমি।

এমন অবস্থায় আমাদের লেখক ও তার বন্ধু হাঁটতে হাঁটতে বললেন হেলেনের কথা। ইনু বললেন, তার পরিচিত একজন মহিলার নাম হেলেন। মহিলার স্বামীর নাম মাহবুবুর রহমান।

লেখকের মনে হলো যে তিনিও একজন মহিলাকে চেনেন, যার নাম হেলেন, কিন্তু তার স্বামীর নাম মাহবুবুর রহমান কি না তিনি তা জানেন না।

এটাই গল্পের মূল সমস্যা। হেলেন ও মাহবুবুর রহমান।

লেখকের বন্ধু ইনু বললেন, “এটা তো খুব অদ্ভুত! অদ্ভুত নয় কী?”

লেখক জিজ্ঞেস করলেন, “কোনটা অদ্ভুত?”

লেখকের বন্ধু বললেন, “এই যে, মহিলার নাম হেলেন!”

লেখক তখন ভাবলেন যে হয়ত তা অদ্ভুতই। কারণ এই নাম শোনা যায় না। বিখ্যাত ট্রয়ের হেলেনের কথা শোনা যায়। ট্রয়ের যুদ্ধ হেলেনের জন্যই হয়েছে বলে অনেকে বলে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশে সেই হেলেনের সূত্রে কি নাম রাখবে লোকে?

ঘটনা ধীরে ধীরে গুরুতর হতে শুরু করলো যখন আমাদের লেখক খোঁজ নিয়ে দেখতে চাইলেন তার জানা সেই হেলেনের স্বামীর নাম মাহবুবুর রহমান কি না। তিনি রিকাবিবাজার পয়েন্টে, স্টেডিয়ামের পাশে বসে গুড়ের চা খেতে খেতে বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিলেন। সবার কাছেই তিনি হেলেনের ব্যাপারে খোঁজ নিলেন ও তার স্বামীর নাম জানতে চাইলেন।

অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জানতে পারলেন, হ্যা, তার জানা সেই হেলেনের স্বামীর নামও মাহবুবুর রহমান।

তখন লেখকের বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনু বললেন যে, হতে পারে এই হেলেনই আমার পরিচিত হেলেন। হতে পারে তারা দুইজন নন। হতে পারে আমরা একজনকেই দুই দিক দিয়ে চিনি। এবং তার স্বামীর নাম দুই দিক দিয়েই মাহবুবুর রহমান।

এই এক নতুন সমস্যায় লেখক, আবার খোঁজখবর নেয়া শুরু করলেন। তার বন্ধুও খোঁজ নিতে শুরু করলেন। এই খোঁজাখোঁজির এক পর্যায়ে তারা দুইজনই হেলেনের ফেইসবুক আইডির খোঁজ পেলেন। কিন্তু দেখা গেল আইডি দুইটা, অর্থাৎ হেলেন দুইজন।

এবং অদ্ভুত বিষয়, দুই হেলেনের স্বামীর নামই মাহবুবুর রহমান।

এটা কেমন করে হয়?

লেখক এবং তার বন্ধু চা শেষ করলেন। তারা ওয়ান টাইম প্লাস্টিক গ্লাসটি ফেলে দিয়ে পরস্পরের দিকে তাকালেন। তারা দুজনই বুঝতে পারলেন যে নতুন একটি সমস্যার উদয় হয়েছে। হেলেনদের স্বামীর নাম কেন মাহবুবুর রহমান হয়?

অথবা আসলে কি সব হেলেনেরই স্বামীর নাম মাহবুবুর রহমান?

লেখক ও তার বন্ধু এবার আরো খোঁজাখোঁজি শুরু করলেন। তারা সমস্ত শহরের এবং সমস্ত দেশের হেলেনদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া শুরু করলেন। তারা জানতে চাইলেন যে হেলেনদের স্বামীর নাম কি মাহবুবুর রহমান? আসলেই?

এই খোঁজা বৃথা গেল না।

কয়েকদিন সময় লাগল একটা মোটামোটি ধারণা পেতে। একেবারে ঠিকঠাক ধারণা পাওয়া অসম্ভব। কারণ শহর ও দেশ অনেক বড় বিষয়। আর হেলেনেরা প্রকাশ্য নয়। কতো কতো হেলেন যে কতো ভাবে লুকিয়ে থাকে শহর ও দেশের নানা স্থানে, তাই সব জানা সম্ভব হয় না।

কিন্তু যা মোটামোটি জানা গেল তাতেই বিস্ময়।

দেখা গেল, জানা সব হেলেনের স্বামীর নামই মাহবুবুর রহমান হয়।

লেখক এবং তার বন্ধু অবাক হলেন। লেখক তার বন্ধু হাসানুজ্জামান ইনুকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কেমন করে হচ্ছে?

লেখকের বন্ধু স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারলেন না। তিনি কেবল বললেন, জানেন, গড অলমাইটি।
এই হেলেন ও তার স্বামী মাহবুবুর রহমান জনিত সমস্যা আমাদের লেখককে প্রায় উদভ্রান্ত করে তুললো। তিনি তার খোঁজ থামালেন না। তিনি খোঁজতে থাকলেন এবং খোঁজতেই থাকলেন। তার মনে হলো যে কোথাও কোন সমস্যা আছে। এমন হবার কথা নয়। এমন হয় না কোথাও, কোনকালে। কোনকালেই সব হেলেনদের স্বামী মাহবুবুর রহমান হতে পারে না।

লেখকের দিন যায় নিত্য নতুন হেলেনদের খুঁজে এবং তাদের স্বামীর নাম জানতে জানতে।

যেখানেই তিনি খোঁজ পেতেন যে একজন হেলেন আছেন, তিনি সেখানে গিয়ে উপস্থিত হতেন। জানার চেষ্টা করতেন তার স্বামীর নাম কী। প্রতিবারই দেখা যেত নাম মাহবুবুর রহমান।

হতাশ ও বিষন্ন হয়ে পড়লেন আমাদের লেখক।

একপর্যায়ে তিনি জগৎ সংসারের উপর সব আশা ছেড়ে দিলেন, ও লেখালেখি ছেড়ে দিলেন।

তিনি লেখালেখি ছেড়ে দিয়ে কাঠের ব্যবসা শুরু করেন। সেই ব্যবসার নাম থিসিয়াসের জাহাজ। তার ব্যবসা খুব ভালো চলে। তিনি উন্নতি করতে থাকেন, এবং আস্তে আস্তে একসময় ভুলে যান হেলেন ও মাহবুবুর রহমানকে।

তার বিয়ে হয়। বউ সুন্দরী, নানা গুণে গুণান্বিত মহিলা। তাদের এক বাচ্চা হয়, সুখী পরিবার।

কিন্তু হঠাৎ একদিন, এক শীতের রাতে আমাদের লেখক জানতে পারেন তার স্ত্রীর নাম হেলেন।

বাচ্চাকালে প্রথম এই নামই রাখা হয়েছিল। পরে স্কুলে ভর্তির সময় বাদ দেয়া হলেও এই নামেও তাকে চিনে থাকেন নিজ বাড়ির লোকজন।

এটা জানার পরে লেখকের মাথা ঘুরে যায়।

তিনি পড়ে যান।

তার মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানো হয়। তিনি উঠে দাঁড়ান এবং দৌড়ে চলে যান আয়নার সামনে।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেকে দেখতে থাকেন, নিরীক্ষণ করতে থাকেন।

এবং এরপর থেকে এটাই তার কাজ হয়ে দাঁড়ায়।

আয়নার সামনে তিনি দাঁড়ান, ও নিজেকে দেখেন আর ভাবেন, তিনি কি মাহবুবুর রহমান?


20 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: T

Re: হেলেন

মুরাদুলের লেখায় একটা নিরাসক্তি থাকে, এটা আকর্ষণীয়। ঐ নিজের লেখার থেকে সজ্ঞানে দূরে দাঁড়িয়ে পেন্সিলের নড়াচড়া দেখার মতন। পাঠককেও উনি সচরাচর চরিত্রদের কাছে ঘেঁষতে দেন না। বিভিন্ন লেগো ব্লক দিয়ে বাড়ি বানানোর মতন। ইন্টারঅ্যাকশনের একটা অংশ পর্দানসীন। এটা বেশ লাগে।

এই গল্পটা ভালো লেগেছে, তবে শেষ দিকটা একটু তাড়াহুড়ো মনে হ'ল।
Avatar: স

Re: হেলেন

কেয়াবাত!


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন