Binary RSS feed

Binary এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • কিংবদন্তীর প্রস্থান স্মরণে...
    প্রথমে ফিতার ক্যাসেট দিয়ে শুরু তারপর সম্ভবত টিভিতে দুই একটা গান শোনা তারপর আস্তে আস্তে সিডিতে, মেমরি কার্ডে সমস্ত গান নিয়ে চলা। এলআরবি বা আইয়ুব বাচ্চু দিনের পর দিন মুগ্ধ করে গেছে আমাদের।তখনকার সময় মুরুব্বিদের খুব অপছন্দ ছিল বাচ্চুকে। কী গান গায় এগুলা বলে ...
  • অনন্ত দশমী
    "After the torchlight red on sweaty facesAfter the frosty silence in the gardens..After the agony in stony placesThe shouting and the crying...Prison and palace and reverberationOf thunder of spring over distant mountains...He who was living is now deadWe ...
  • ঘরে ফেরা
    [এ গল্পটি কয়েক বছর আগে ‘কলকাতা আকাশবাণী’-র ‘অন্বেষা’ অনুষ্ঠানে দুই পর্বে সম্প্রচারিত হয়েছিল, পরে ছাপাও হয় ‘নেহাই’ পত্রিকাতে । তবে, আমার অন্তর্জাল-বন্ধুরা সম্ভবত এটির কথা জানেন না ।] …………আঃ, বড্ড খাটুনি গেছে আজ । বাড়ি ফিরে বিছানায় ঝাঁপ দেবার আগে একমুঠো ...
  • নবদুর্গা
    গতকাল ফেসবুকে এই লেখাটা লিখেছিলাম বেশ বিরক্ত হয়েই। এখানে অবিকৃত ভাবেই দিলাম। শুধু ফেসবুকেই একজন একটা জিনিস শুধরে দিয়েছিলেন, দশ মহাবিদ্যার অষ্টম জনের নাম আমি বগলামুখী লিখেছিলাম, ওখানেই একজন লিখলেন সেইটা সম্ভবত বগলা হবে। ------------- ধর্মবিশ্বাসী মানুষে ...
  • চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি #সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যমন ভালো রাখতে কবিতা পড়ুন,গান শুনুন,নিজে বাগান করুন আমরা সবাই শুনে থাকি তাই না।কিন্তু আমরা যারা স্পেশাল মা তাঁদেরবোধহয় না থাকে মনখারাপ ভাবার সময় না তার থেকে মুক্তি। আমরা, স্পেশাল বাচ্চার মা তাঁদের জীবন টা একটু ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    দক্ষিণের কড়চা▶️অন্তরীক্ষে এই ঊষাকালে অতসী পুষ্পদলের রঙ ফুটি ফুটি করিতেছে। অংশুসকল ঘুমঘোরে স্থিত মেঘমালায় মাখামাখি হইয়া প্রভাতের জন্মমুহূর্তে বিহ্বল শিশুর ন্যায় আধোমুখর। নদীতীরবর্তী কাশপুষ্পগুচ্ছে লবণপৃক্ত বাতাস রহিয়া রহিয়া জড়াইতে চাহে যেন, বালবিধবার ...
  • #চলো এগিয়ে চলি
    #চলো এগিয়ে চলি(35)#সুমন গাঙ্গুলী ভট্টাচার্যআমরা যারা অটিস্টিক সন্তানের বাবা-মা আমাদের যুদ্ধ টা নিজের সাথে এবং বাইরে সমাজের সাথে প্রতিনিয়ত। অনেকে বলেন ঈশ্বর নাকি বেছে বেছে যারা কষ্ট সহ্য করতে পারেন তাঁদের এই ধরণের বাচ্চা "উপহার" দেন। ঈশ্বর বলে যদি কেউ ...
  • পটাকা : নতুন ছবি
    মেয়েটা বড় হয়ে গিয়ে বেশ সুবিধে হয়েছে। "চল মাম্মা, আজ সিনেমা" বলে দুজনেই দুজনকে বুঝিয়ে টুক করে ঘরের পাশের থিয়েটারে চলে যাওয়া যাচ্ছে।আজও গেলাম। বিশাল ভরদ্বাজের "পটাকা"। এবার আমি এই ভদ্রলোকের সিনেমাটিক ব্যাপারটার বেশ বড়সড় ফ্যান। এমনকি " মটরু কে বিজলী কা ...
  • বিজ্ঞানের কষ্টসাধ্য সূক্ষ্মতা প্রসঙ্গে
    [মূল গল্প - Del rigor en la ciencia (স্প্যানিশ), ইংরিজি অনুবাদে কখনও ‘On Exactitude in Science’, কখনও বা ‘On Rigour in Science’ । লেখক Jorge Luis Borges (বাংলা বানানে ‘হোর্হে লুই বোর্হেস’) । প্রথম প্রকাশ – ১৯৪৬ । গল্পটি লেখা হয়েছে প্রাচীন কোনও গ্রন্থ ...
  • একটি ঠেকের মৃত্যুরহস্য
    এখন যেখানে সল্ট লেক সিটি সেন্টারের আইল্যান্ড - মানে যাকে গোলচক্করও বলা হয়, সাহেবরা বলে ট্র্যাফিক টার্ন-আউট, এবং এখন যার এক কোণে 'বল্লে বল্লে ধাবা', অন্য কোণে পি-এন্ড-টি কোয়ার্টার, তৃতীয় কোণে কল্যাণ জুয়েলার্স আর চতুর্থ কোণে গোল্ড'স জিম - সেই গোলচক্কর আশির ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

Binary

কিউবায় মোট পনেরোটি প্রভিন্স আর একটি যাকে ওরা বলে স্পেশাল মিউনিসিপ্যালিটি। আমরা যেখানে গেছিলাম সেই প্রভিন্সের নাম ভিলাক্লারা। আর যে শহরের এয়ারপোর্টে নামলাম বা উঠলাম , সেটা সান্টাক্লারা। এইটুকু ইনফরমেশন অবশ্য যাবার আগেই জানতাম। আর তার সাথে যেটা আমার শিকড়গত বামপন্থা জানিয়ে রেখেছিলো, যে এই সেই সান্টাক্লারা, গেরিলা যুদ্ধের তীর্থক্ষেত্র। চে'র মাত্র সাড়ে তিনশ গেরিলা বাহিনী হারিয়ে দিয়েছিলো আমেরিকান মদতপুষ্ট পাঁচ হাজার সেনা , ট্যাংক , কামান বন্দুক আর সবচেয়ে বড়ো কথা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা-কে। রক্তপাত বেশি হয়নি তার কারণ গেরিলা বাহিনীর ছিল তুমুল জনসমর্থন। এমনকি এরকম-ও শোনা যায় , পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার সৈন্যরাও পরে স্বতঃস্ফূর্ত যোগ দিয়েছিলো চে'র সঙ্গে। সে যাগ্গে যাক। এসব কথা অবশ্য কোনো গাইড সেরকম করে বলেনি। খালি 'ব্যাটেল অফ সান্টাক্লারা' মেমোরিয়াল গ্রাউন্ড দেখানোর সময় বলেছিলো ১৯৫৮'র সেই যুদ্ধের কথা। আমাদের সঙ্গে যেসব অন্যান্য টুরিস্ট ছিল , তারা বেশি জিজ্ঞেস করেনি , আমিও আর সেসব প্রসঙ্গ তুলিনি। আর তাছাড়া মেমোরিয়াল গ্রাউন্ডটা বহরে বেশ ছোট , আর গেরিলা যুদ্ধের সাক্ষি হিসেবে ট্রেনের ওয়াগনটা রাখা আছে। আসলে এই আবেগগুলো আমার যুবাবয়সের , তাই মাঝে মাঝে শিরদাঁড়া শিরশির করে।

চে মেমোরিয়াল। অনেকগুলো কিউবিকল কংক্রিটের স্ট্রাকচার। একটা সাদা অনেক উঁচু রেকটেঙ্গুলার থামের ওপরে বাইশ ফুট দৈর্ঘের চে'র মূর্তি। এখানে ১৯৯৭ সালে বলিভিয়া থেকে উদ্ধার করা চে'র দেহাবশেষ সমাধিস্থ আছে। আর সঙ্গে তার ছয়জন গেরিলা কমরেড-এর দেহাবশেষ। রাজনীতি মানুন আর নাই মানুন, বামপন্থায় বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এইখানে দাঁড়ালে মন উতলা হবেই। আমি অন্তত রোমান্স-এ বিশ্বাস করি। এই একজনের স্বপ্নে আমার কলেজ জীবনের পরে প্রজন্ম পেরিয়ে এসেও গায়ে কাঁটা দেয় আমার। একটা সফল বিপ্লবে যার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় না। তারপরে-ও কঙ্গো আসে বলিভিয়া আসে। খুব কি মেলোড্রামাটিক শোনাচ্ছে ? নাহয় তাই। মেনে নিতে দোষ নেই।

যাই হোক , সান্টাক্লারা দেখা ওই পাঁচ ছয় ঘন্টা। প্রথমত: আমরা যেখানে রিসর্টে থাকতাম , সেখান থেকে সান্টাক্লারা শহর প্রায় দুই ঘন্টার পথ। তাই রিসর্টে আরাম করব, সমুদ্রে চান করে বাদামি চামড়া আরো বাদামি করবো, সকাল বিকেল হাভানাক্লাব-উইথ-আনারসস্মুথি খাব, জীপসাফারি যাব , কার্নিভাল দেখতে যাব , মেয়ে-র বায়না মতো ডলফিনশো দেখতে যাব এইসব করে সান্টাক্লারা দেখতে দেখতে একদম ফেরারদিনে হয়ে গেল । আমাদের ফেরার উড়ান ছিল সন্ধ্যে সাতটায়। সকাল নয়টায় বেড়িয়ে , গোভিয়াটা বাস সান্টাক্লারা শহর দেখিয়ে , এয়ারপোর্টে নামিয়ে দিলো বিকেল পাঁচটায়। চে'মেমোরিয়াল আর ব্যাটেলগ্রাউন্ড দেখা লাঞ্চ করার পরে আর অন্যকিছু দেখার সময় ছিল না।

এইখানে বলে রাখি। আমার সাথে যতজন কিউবান মানুষের কথা হয়েছিল তারা সবাই প্রায় নবীন প্রজন্মের। আশির দশকে জন্ম। খুব বেশি হলে সত্তরের শেষ-এ। এরাই একটু আধটু যা ইংরেজি বলতে পারে। তো এদের চে'র ওপর শ্রদ্ধা আছে , আমাদের যেমন আছে মহাত্মা গান্ধী বা নেতাজি কে নিয়ে। এরা একটা সমাজতান্ত্রিক সিস্টেম-এ জন্মেছে , বড়ো-ও হয়েছে। এদের কাছে বিপ্লবটা নকশাল আন্দোলন-এর চেয়েও আগের। এদের কাছে ১৯৫৯ এর বিপ্লব ঠিক সপ্ন নয় বরং কিউবা'র একটা গৌরবময় ইতিহাস। এই রকম-ই আমার মনে হলো। একদিন রাতের দিকে বার-এ বসেছিলাম। একটি মেয়ে সার্ভ করছিলো। বয়স চব্বিশ-পঁচিশ হবে। একটু রাতের দিকে বলে একটু ফাঁকা-ই ছিল। আমি মেয়েটাকে পাঁচ পেসো টিপস দেওয়াতে , খুব খুশি হয়ে গালে একটা চুমু দিলো। এরকম হাসি খুশি মেয়েপুরুষের কথা তো বলেই আসছি। তো সেই মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম চে'র কথা। তাতেই মনে হলো , চে আর ফিদেল ওদের কাছে স্বতঃসিদ্ধ'র মতো। আমাদের রিসোর্টের কাছে, একটা শপিং প্লাজা ছিল। বা সান্টাক্লারাতেও দেখলাম অনেক কিউবান মেমেন্টো শপ। যেরকম সব শহরে , সব টুরিস্ট স্পটেই থাকে। সেইসব দোকানে অন্য অনেক কিছুর সাথে ভরিয়ে চে। বাঁশের মগ-এ চে'র ছবি। চে টিশার্টে-র আলাদা একটা সেকশন। শটগ্লাসে চে'র ছবি। বুকসেল্ফ-এ চে'ফিদেল-র বই। বিপ্লবের ইতিহাস। আমি-ও কয়েকটা জিনিষ কিছু কিনলাম। একটা বই কিনলাম 'ফিদেল আর রিলিজিওন'। এখনো পড়তে শুরু করা হয়নি। সবচেয়ে জরুরি ছিল বয়স্ক মানুষের সাথে কথা বলা যারা ১৯৫০-১৯৫৫-এর আগে জন্মেছেন। এরকম মানুষ কম-ই আলাপ হওয়ার সুযোগ হলো , আর হলেও হয়তো ভাষা ব্যবধানে আলাপচারিতা জমতো না।

শপিংপ্লাজা বলতে মনে হলো বলে রাখি , কিউবা'র শহরের রাস্তাঘাট, সান্টাক্লারাতে পেডেস্ট্রিয়ান স্ট্রিট , রিসর্টের লাগোয়া প্লাজা সবখানে ইউরোপিয়ান স্টাইল। মানে রোম , ফ্লোরেন্স মনে পরে গেলো হাতে হাতে। সেইরকম ছাতাওয়ালা বাইরে বসার রেস্তোরা। সেই রকম গিটার বাজিয়ে গাইয়ে। দোকান বাড়িগুলোর সেই রকম আর্কিটেকচার। তফাতের মধ্যে এটাই , আগে যেমন বলেছি , এখানে কোনো ম্যাকডোনাল্ডস নেই বা নাইকের শোরুম নেই। শুধু তাই নয়, একটাও বিজ্ঞাপনে-র বিলবোর্ড নেই। একদিন রিসর্টের কাছে প্লাজাতে , একটা হলুদরঙের সিমেন্টের গাজিবো মতো জায়গায় বসে আছি। বেশ বড়ো জায়গাটা। ছয়-সাতটা লোহার বেঞ্চ। চারিদিকে ঘাসের লন। তিরিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ঝলমলে রোদের মধ্যে শীতল ছায়া টাইপ। দুজন বয়স্ক লোক , স্বামী-স্ত্রী-ই হবে। বরের হাতে গিটার , আর মহিলার হাতে একটা বংগো । আমায় জিজ্ঞেস করলো 'ইংলিশ ওর স্প্যানিশ'। আমি ইংলিশ বলাতে , আমার হাতের ঝোলা থেকে বের করে দুটো ম্যারাকাস ধরিয়ে দিলো। তারপর মহিলা আমার পাশে বসে স্প্যানিশ গান ধরলেন। নিজেই বংগো বাজালেন সাথে , আর ওর বর ঝমঝমিয়ে গিটার। আমায় ম্যারাকাস নিয়ে তালে তালে ঠেকা দিতে হলো। অসাধারণ একটা নাচুনে সুর। মন খুশি হয়ে যায়। আমার মেয়ে খুশি হয়ে একটু কোমর দোলালো। তারপর ওরা আরো একটা গান গাইলো। সেটা অবশ্য অতি পরিচিত গান। গোয়ান্তানামেরা। আমরা ছাড়াও বাকি যারা আশেপাশে ছিল , সবাই তিন পেসো চার পেসো করে বকশিস দিলো বুড়োবুড়িকে।

***
কিউবার সমুদ্র অত্যন্ত সুন্দর। মিহি সাদা বালির সাগর সৈকত। জুন জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হ্যারিকেন সিজিন বাদ দিলে , শান্ত আটলান্টিক।
সাদা বালিয়াড়ি পেরিয়ে , অনেকদূর হেঁটে জলের ভেতর যাওয়া যায়। প্রায় স্বচ্ছ নীল জল। মোটরাইসড স্পোর্টস প্রায় নেই বলে দিগন্তে কিছু মার্চেন্ট শীপ ছাড়া ধু ধু নীল জল। আমাদের রিসর্টের নিজস্ব বীচ-এ দুটো বীচবার ছিল। সকাল ছটা থেকে বিকেল ছটা পর্যন্ত অফুরান সূরাপানের আয়োজন। ডিসেম্বরে তাপমান আঠাশ থেকে তিরিশের কাছে সেন্টিগ্রেড স্কেলে। তবে আদ্রতা তেমন নেই , যেমন থাকার কথা সমুদ্রের জন্য। প্রতিদিন ঝলমলে রুদ্দুর ছিল , আমরা যেকদিন ছিলাম।

ফেরারদিন দেখলাম সান্টাক্লারা এয়ারপোর্টের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ট্রানসিট লাউঞ্জ। দুটো মাত্র গেট , আর সব উড়ান-ই কানাডা-র আর একটা ফ্লোরিডা যাচ্ছে। কোনো এয়ারওব্রিজ-টিজ নেই। উড়োজাহাজ গুলো দাঁড়াচ্ছে প্রায় গেটে-র মুখে , আমরা গেট দিয়ে বেরিয়ে হেঁটে হেঁটে প্লেনে উঠলাম। একটা মাত্র ডিউটি ফ্রি শপ। আর একটা ক্যান্টিনের মতো কাউন্টারে বার্গার বিক্রি হচ্ছে। তিরিশ ডিগ্রি তাপে আমি গেঞ্জি আর হাপ্প্যান্ট পড়ে ছিলাম , প্লেনে ওঠার আগে বাথরুমে ঢুকে শীতের জোব্বা পরে নিলাম , কারণ পাঁচ ঘন্টার উড়ানের পরে দ্যাশে-র শহরে নামবো , ওয়েদার নেটওয়ার্ক বলছে সেখানে -৩০ ইন সেন্টিগ্রেডস্কেল।

আগাম ওয়েদার দেখার কথায় মনে হলো , ইন্টারনেট ইত্যাদি কিউবা তে খুব-ই কন্ট্রোলড। প্রায় অলভ্য-ও বলতে পারেন। কাজকর্ম-ও বহু জায়গায় জাবেদা খাতায় হাতে লিখে হচ্ছে দেখলাম। আমাদের রিসর্টে , বাফে ছাড়াও দুটো আলাকারটা রেস্তোরা ছিল। সেখানে আগে থেকে বুকিং করতে হতো। তো সেসব বুকিং দেখলাম প্রাকঐতিহাসিক নীল রঙের বাঁধাই খাতায় হচ্ছে। রেস্তোরা-টা অবশ্য খুব-ই হাল ফ্যাশনে-র আর ভালো। একদিন স্টার্টারে , ঝিনুকের মধ্যে নারকোল আর চিংড়ি দিয়ে একটা আইটেম খাওয়ালো , মনে করলেই ভালোলাগছে। যেকথা বলছিলাম , ইন্টারনেট পরিষেবা-র অৱস্থা নেহাত-ই করুন। ETECS যেটা নাকি কিউবান টেলিকম কোম্পানি , তাদের ডাটা কার্ড কিনতে পাওয়া যেত ঘন্টাপ্রতি এক পেসো। কিন্তু তাতেও অনেক সাইট রেস্ট্রিক্টেড আর কন্ট্রোলড ছিল। এর কারণ কি, কেন, কোথায় নিয়ে বিস্তারিত অন্য কোনোখানে বলা যাবে , আপাতত বলি , ইন্টারনেট নিয়ে ওই আটদিন প্রভূত সমস্যায় ছিলাম আমরা , বিশেষ করে আমার মেয়ে।

আমেরিকার সাথে কিউবা'র লাভ-হেট সম্পর্কের কথা হোক একটু। ১৯৫৯-এর বিপ্ল্বের পর , কিউবায় আমেরিকার যত বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান , পাওয়ার প্ল্যান্ট , তৈল শোধনাগার সব কিউবার প্রলেতারিয়েত সরকার দখল করে। তারপরে ১৯৫৯ থেকে পরবর্তী কুড়ি বছরে প্রায় দশ শতাংশ কিউবান নাগরিক আমেরিকায় পালিয়ে আসে। এরা যদিও প্রধানত বিপ্লব পূর্ববর্তী জামানার উচ্চবিত্তশ্রেণী , কিন্তু মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবি -ও আছে এদের মধ্যে। প্রথম দিকে আমেরিকান এমবার্গো'র জন্য , এরা গেছিলো বেআইনি পথে , নৌকায় , স্টিমারে। পরে আমেরিকা নিজেদের স্বার্থে বছরে ২০,০০০ কিউবান কে ভিসা দেওয়ার নীতি নেয়। যাই হোক এমবার্গো চালু আছে গত অর্ধশতক। আমেরিকা কিউবার অর্থনীতিতে সাহায্য করে না, এমনকী বন্ধু দেশ যারা আমেরিকান ডলারের মুখাপেক্ষই তাদের-ও ঘুরিয়ে সাহায্য না করা শর্তাধীন রাখে। ওই আগে যেটা বললাম, কিউবা'র ইন্টারনেট ব্যবস্থার দুর্দশা হওয়ার এটাও একটা কারণ। তো যাইহোক এতো কথা বলতে গেলে ইতিহাস লেখা হয়ে যাবে। আমেরিকায় চলে আসা কিউবান আমেরিকানরা দেশে ফেলে আসা আত্নীয় স্বজন বন্ধুবান্ধব-কে এখনো ডলার পাঠিয়ে থাকে। ওবামা জামানায় কিছু কিছু শিথিলতা হয়েছিল এমবার্গো-তে, সেই সময়-ই কিউবার কমিউনিকেশ ব্যবস্থা-র কিছু উন্নতি হয়। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প সাহেব আবার এইরকম ডলার ট্রান্সাকশন-র ওপরেও বিধি নিষেধ আরোপ করার চেষ্টায় আছে।

তো আমায় এলিন (সেই জীপসাফারির গাইড মেয়েটি) বললো যে , কিউবা ক্লাসলেস সমাজ। মোটের ওপরে কথাটা সত্যি হলেও আমেরিকান সাহায্য পাওয়া আত্মীয় বন্ধুবান্ধব নাগরিক বৃন্দ অপেক্ষাকৃত বিলাসিতা করতে-ও পারে। ভালো জুয়েলারি পড়তে পারে , সৌখিন জুতো জামা পড়তে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাতে অবশ্য কোনো আফশোস নেই কিউবাতে। হাজারহোক একশো আমেরিকান ডলার মানিট্রান্সফার হয়ে এলে , সে যে নামেই আসুক , একশ ডলারতো যোগ হচ্ছে কিউবার অর্থনীতিতে।

আরেকটা গুরত্বপূর্ন কথা। ক্রিসমাসের দিন বা ক্রিসমাস ইভে দেখলাম খুব হৈচৈ। কার্নিভালের কথা তো বললাম-ই , তাছাড়া-ও রিসর্টে স্পেশাল ডিনার। রিসর্টের থিয়েটারে সান্তাক্লজ শো বাচ্চাদের জন্য। এইসব দেখে আমি সেই ম্যানেজার কে জিজ্ঞেস করেছিলাম , 'ডু ইউ প্রাকটিস রিলিজিওন ?, কারণ আমি জানি ক্লাসিকাল ক্যামিউনিজম ধর্ম মানে না , যেমন চীন'। তাতে বললো , কিউবান রা রোমান ক্যাথলিক। আর পুরো দস্তুর ধর্মীয় আবেগপ্রবন। চার্চ আছে প্রতিশহরে , গ্রামে। ধর্মকে আমরা সংস্কৃতি হিসেবে দেখি। তবে চার্চের কোনো একটিভিটি নেই , চার্চ থেকে সমাজের ওপর কোনো আদেশ দেওয়া নিষিদ্ধ। এইটুকু-ই জানলাম। ফুর্তিবাজ কিউবানদের ক্রিসমাস ইভে নাচতে দেখলাম।

সান্তা ক্লারা এয়ারপোর্ট থেকে একটা ইলাস্ট্রেটেড চে'র পোস্টারে-র বই কিনে ছিলাম। তাতে চে'র বাণী দেখলাম If you tremble with indignation at every injustice, then you are a comrade of mine.

বিদায় কমরেড। তোমার স্ট্যাচু আমার কাছে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির থেকেও উঁচু।

(শেষ)


384 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8]   এই পাতায় আছে 133 -- 152
Avatar: b

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

বাইনারী কিউবা-য় গেলেন অথচ আমাদের মিনিকিট খেলেন না? মর্ম্মাহত হলাম।
Avatar: Binary

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

মিনিকিট কি রকম জিনিষ ?
Avatar: Ishan

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

ইনোভেশনের গলা টিপে মারার জন্য কিউবার কী দরকার। এই পশ্চিমবঙ্গে বছর তিরিশ আগে নোবেল প্রাইজ পাবার যোগ্য কাজ হয়েছিল, কোনো সরকারি সাহায্য ছাড়াই। ডঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায় বিশ্বের দ্বিতীয় টেস্টটিউব বেবির জন্ম দিয়েছিলেন। আমি বায়োলজির কিছুই জানিনা, কিন্তু যা পড়েছি, তাঁর পদ্ধতি অন্যজনের চেয়ে (মানে যিনি ৬৭ দিন আগে বিদেশে আরেকটি টেস্টটিউব বেবির জন্ম দিয়েছিলেন) তুলনামূলক ভাবে আধুনিকতর ছিল। তা তাতে কী হল, প্রচুর প্যাঁক দেওয়া হল, কমিশন বসে তাঁকে মিথ্যেবাদী বলল, এবং তিনি সুইসাইড করলেন। বাঙালি মুদ্ধিজীবি রেগুলার মায়াকোভস্কির সুইসাইড নিয়ে কেঁদে মরে যাচ্ছে, নেরুদাকে নিয়ে আদিখ্যেতার শেষ নাই, কিন্তু গলা টিপে মারার উদাহরণের জন্য চিলি কী রাশিয়ায় যাবার তো দরকার নেই। বঙ্গেই মজুদ। এগুলো টিপিকাল তৃতীয় বিশ্বের সিনড্রোম। সবাই হাহাকার করবে, কিছুই পাথব্রেকিং কাজ নাই বলে, কিন্তু কেউ করলে তাকে গলা টিপে মারবে। পুঁজি নাই, অর্থ নাই, নিজের উপর বিশ্বাস নাই -- সবই চক্রাকার পদ্ধতি। তৃতীয় বিশ্বের এই টিপিকাল "আমরা পারিনা" সিনড্রোম থেকে রাশিয়া, কিউবা বহুলাংশে কেটে বেরিয়েছে, সন্দেহ নাই।
Avatar: b

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

ও না না, মিনিকিট একরকম বঙ্গীয় চাল (মানে রাইস আর কি)। এক সময় কিউবাতে এখেন থেকে চাল পাঠানো হত কি না।
Avatar: PT

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

Avatar: Ishan

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

মৃণালকান্তি দাশগুপ্ত, ডিএন কুন্ডু, জেসি চট্টোপাধ্যায়, কৃপা মিনা, অজিত মাইতি, অচিন্ত্য মুখোপাধ্যায়। কৃতবিদ্য হুজ হু সব। ডিরেক্টর, অমুক তমুক। এঁরাই তো বলেছিলেন সুভাষবাবু বুজরুক। আন্দাজ করতে পারি, এর জায়গায় অন্য পাঁচটি নাম বসালেও, একই রিপোর্ট আসত। সমস্যাটা কি তাহলে পরিকাঠামোর, নাকি মাইন্ডসেটের? আর এই মাইন্ডসেট নিয়ে কোনোদিন পাথব্রেকিং কিছু হবে?
Avatar: কিউবান ছাগল

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

পশ্চিমবঙ্গের কমরেড-দের চাল আমরা ভুলি নি, ভুলবো না
Avatar: dc

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

ঈশান যেটা লিখেছেন, সেটাকেই বোধায় কলোনিয়াল হ্যাংওভার বলা হয়। সত্যেন বসু থেকে ডঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়, কতোজনকে যে এই অবিশ্বাস আর তাচ্ছিল্য পোয়াতে হয়েছে তার ঠিক নেই। সেজন্যই আগে লিখেছিলাম, ক্ষমতাকে অন্ধভাবে অনুসরন করা, তাকে প্রশ্ন না করা, এটা বোধায় ভারতীয় ঐতিহ্য।
Avatar: Atoz

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

মেঘনাদ সাহাকেও। অনেক তাচ্ছিল্য পোয়াতে হয়েছে।
Avatar: dc

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

অনেক নাম আছে, আরেকজন তো ক্লাসিক, রামানুজন। আর এঁরা তো তাও যেভাবেই হোক ফেমাস হয়েছেন, পরবর্তী প্রজন্ম অন্তত এঁদের কাজ বুঝতে পেরেছেন। আরও কতো লাখ সম্ভাবনাময় মানুষজন তো কোথাও পৌঁছতেই পারেন নি।
Avatar: b

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

আমাকে এই কেসটা বরাবর হন্ট করে।
আজকাল তো অনেক ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম হচ্চে, এটা নিয়ে করা যায় না? সেই সময়ে কনফারেন্স গুলোতে যাঁরা সুভাষ বাবুকে হ্যাটা করেছিলেন, তাঁদের এখনকার পজিশন নিয়ে। নাকি কাদা ঘাঁটার ভয় আছে?

তবে কুন্ডু-মিনা-দাশগুপ্ত-মাইতি এদের পাশাপাশি ডক্টর আনন্দ কুমারও থাকেন। কি বলব, সিলভার লাইনিং?
Avatar: ল্যাগব্যাগর্নিস

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

ওই তো বললাম - জুগাড় ইনোভেশনে মেরে রেখেছে। আর আপনার কাজ জরুরী কিনা সেটা বলে দেবে বর্তমান বিজনেস ইউনিট (যারা শুধু আজকেরটা নিয়ে ভাবে)।

ঘোড়ার মুখে শুনুন - গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না - কথাটা অত্যন্ত বাস্তব। এরাজ্যে আলাদা করে না, গোটা ভারতেই।
Avatar: aranya

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

আমাকেও হন্ট করে, এমন একটা কাজ করেছিলেন ডঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়, ঐ সময়ে, কত অসুবিধার মধ্যে..

তাচ্ছিল্য একটা ফ্যাকটর, ঈর্ষাও থাকতে পারে হয়ত, সেই বাঙালী কাঁকড়ার গপ্পো
Avatar: de

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

সত্যিই এই কেসটা রিওপেন হওয়া উচিত - এমন একজন মানুষের এতো অসম্মান! এই প্যানেলের লোকেদের শাস্তি হোলো না! এরকম আরো একটা কেস বোধহয় চঞ্চল মজুমদারের কেসটা। একই রকম বদনাম, অপমান ওনাকেও অকারণে ফেস করতে হয়েছিলো -

মেয়ের ব্যাগে একটা ব্যাজ দেখলাম - জুগাড়, দিশি সিনোনিম অব ক্রেয়েটিভিটি!
Avatar: b

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

কিন্তু উইকি বলছে চঞ্চল মজুমদারের বিপক্ষে টাকা তছরুপের অভিযোগ করে হেনস্থা করা হয়েছিলো। দুটো ঠিক এক নয় মনে হচ্ছে।


Avatar: de

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

না না , একদম একইরকম ঘটনা ঘটেছিলো বলিনি তো -

কিন্তু অকারণ হেনস্থা, অসম্মান একইরকম - ওরকম একজন শিক্ষক যে কতো বড়ো অ্যাসেট - উনি টিআইএফারের থিওরেটিক্যাল ফিজিক্সের হেড পোস্ট ছেড়ে বাংলায় এসেছিলেন -
Avatar: sm

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

সুভাষ মুখর্জি, ফিজিওলজি ডিগ্রী করলো সচ্চিদা নন্দ ব্যানার্জির আন্ডারে, কাজ করলো সরোজ ভৎচার্জি আর সুনীত মুখার্জীর সঙ্গে।
আবার যাঁরা হেনস্থা করল তার মধ্যেও রয়েছে অচিন্ত্য মুকুজ্জে আর জে সি চাটুজ্জে।
ব্রাহ্মন্য বাদের হদ্দ মুদ্দ!
Avatar: de

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

দ্যাখেন দিকি - এই কথাটা বুইবার জন্য আপনার কিউবা অব্দি আসতে হোলো! চে-কাস্ত্রোর দেশ কত জিনিসই শেখায় - ঃ)
Avatar: sm

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

যতো নষ্টের গোঁড়া, এই ব্রাহ্মন্য বাদ।কিউবা তে আছে নাকি?
Avatar: Atoz

Re: ফিদেল কাস্ত্রো-র দেশে (পর্ব ৪)

একেই বুঝি বলে "ব্রাহ্মণের হিতের নিমিত্ত ব্রাহ্মণ কর্তৃক ব্রাহ্মণ শাসন" ?
ঃ-)

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8]   এই পাতায় আছে 133 -- 152


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন