Zarifah Zahan RSS feed

Zarifah Zahanএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • এখন সন্ধ্যা নামছে
    মৌসুমী বিলকিসমেয়েরা হাসছে। মেয়েরা কলকল করে কথা বলছে। মেয়েরা গায়ে গা ঘেঁষটে বসে আছে। তাদের গায়ে লেপ্টে আছে নিজস্ব শিশুরা, মেয়ে ও ছেলে শিশুরা। ওরা সবার কথা গিলছে, বুঝে বা না বুঝে। অপেক্ষাকৃত বড় শিশুরা কথা বলছে মাঝে মাঝে। ওদের এখন কাজ শেষ। ওদের এখন আড্ডা ...
  • ছবিমুড়া যাবেন?
    অপরাজিতা রায়ের ছড়া -ত্রিপুরায় চড়িলাম/ ক্রিয়া নয় শুধু নাম। ত্রিপুরায় স্থাননামে মুড়া থাকলে বুঝে নেবেন ওটি পাহাড়। বড়মুড়া, আঠারোমুড়া; সোনামুড়ার সংস্কৃত অনুবাদ আমি তো করেছি হিরণ্যপর্বত। আঠারোমুড়া রেঞ্জের একটি অংশ দেবতামুড়া, সেখানেই ছবিমুড়া মানে চিত্রলপাহাড়। ...
  • বসন্তের রেশমপথ
    https://s19.postimg....
  • ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ্যা ও লিঙ্গ অসাম্য
    ভারতের সেরা প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান কোনগুলি জিজ্ঞেস করলেই নিঃসন্দেহে উত্তর চলে আসবে আইআইটি। কিন্তু দেশের সেরা ইনস্টিটিউট হওয়া সত্ত্বেও আইআইটি গুলিতে একটা সমস্যা প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে। সেটা হল ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যার মধ্যে তীব্ররকমের লিঙ্গ অসাম্য। ...
  • যে কথা ব্যাদে নাই
    যে কথা ব্যাদে নাইআমগো সব আছিল। খ্যাতের মাছ, পুকুরের দুধ, গরুর গোবর, ঘোড়ার ডিম..সব। আমগো ইন্টারনেট আছিল, জিও ফুন আছিল, এরোপ্লেন, পারমানবিক অস্তর ইত্যাদি ইত্যাদি সব আছিল। আর আছিল মাথা নষ্ট অপারেশন। শুরু শুরুতে মাথায় গোলমাল হইলেই মাথা কাইট্যা ফালাইয়া নুতন ...
  • কাল্পনিক কথোপকথন
    কাল্পনিক কথোপকথনরাম: আজ ডালে নুন কম হয়েছে। একটু নুনের পাত্রটা এগিয়ে দাও তো।রামের মা: গতকাল যখন ডালে নুন কম হয়েছিল, তখন তো কিছু বলিস নি? কেন তখন ডাল তোর বউ রেঁধেছেন বলে? বাবা: শুধু ডাল নিয়েই কেন কথা হচ্ছে? পরশু তো মাছেও নুন কম হয়েছিল। তার বেলা? ...
  • ছদ্ম নিরপেক্ষতা
    আমেরিকায় গত কয়েক বছর ধরে একটা আন্দোলন হয়েছিল, "ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার" বলে। একটু খোঁজখবর রাখা লোকমাত্রেই জানবেন আমেরিকায় বর্ণবিদ্বেষ এখনো বেশ ভালই রয়েছে। বিশেষত পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গদের হেনস্থা হবার ঘটনা আকছার হয়। সামান্য ট্রাফিক ভায়োলেশন যেখানে ...
  • শুভ নববর্ষ
    ২৫ বছর আগে যখন বাংলা নববর্ষ ১৪০০ শতাব্দীতে পা দেয় তখন একটা শতাব্দী পার হওয়ার অনুপাতে যে শিহরণ হওয়ার কথা আমার তা হয়নি। বয়স অল্প ছিল, ঠিক বুঝতে পারিনি কি হচ্ছে। আমি আর আমার খালত ভাই সম্রাট ভাই দুইজনে কয়েকটা পটকা ফুটায়া ঘুম দিছিলাম। আর জেনেছিলাম রবীন্দ্রনাথ ...
  • আসিফার রাজনৈতিক মৃত্যু নিয়ে কিছু রাজনৈতিক কথা
    শহিদদের লম্বা মিছিলে নতুন নাম কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার আট বছরের ছোট্ট মেয়ে আসিফা। এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় মন্দিরে হাত-পা বেঁধে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে তাকে ধর্ষণ করা হল একাধিক বার, শ্বাসরোধ করে খুন করা হল মন্দিরের উপাসনালয়ে। এবং এই ধর্ষণ একটি প্রত্যক্ষ ...
  • হউল মাছের মজা
    এইবার আমি যেই গল্পটি বলব আপনাকে তা কিন্তু আমার জীবনের না সরাসরি, তবে একেবারে আমার জীবনের না তাও বলা যায় না, বরং একরকম জীবনের সাথে সংযুক্ত বলা যায়; কিন্তু একেবারে নিজের গল্প যেমন, যেমন আমার ছেলেবেলার গল্প, আলোর ইস্কুলে যাবার গল্প, কিংবা কিংবা দূর দীঘির জলে ...

বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

গ্রিটিংস কার্ড

Zarifah Zahan

স্কুলবেলা থেকেই নতুন বছরের জন্য অপেক্ষা করতাম আমি। শুধু আমি কেন, 'আমরা' বলাই ভাল, আমরা : ক্লাসের ছেলেমেয়ে সবাই। সেসময় নভেম্বরের কুঁড়িতে ডিসেম্বরের নরম দুপুরফুল ফোটার গন্ধে রোদ্দুর আলসেমি খেলে, বইপত্তর ছড়াতে হত না মাদুরের বেলাভূমিতে। পরীক্ষাপাতির চক্কর ছিল আরও মাস তিনেক পর। ২৫ শে ডিসেম্বরের পর থেকেই শুরু হত সে মাধুকরী অপেক্ষা, কবে আসবে বছরের প্রথম দিন। স্কুল খুললেই গ্রিটিংস কার্ডের ঝাঁপি নিয়ে বসব। কত রঙের সেসব কার্ড, কোথাও ফুল, কোথাও একটা ছোট্ট ঘর , আকাশে দু'তিনটে পাখি, একটা নারকেল গাছ আর নীল নদী - আঁকার ক্লাসে সব বাচ্চারাই যা আঁকে আর কি; 'সিনারি' বললেই যে ছবি চোখের সামনে হাজির হয় সনাতন অভ্যেসে। কার্ডগুলোর দাম হত তিন টাকা, পাঁচ টাকা। টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে সেসব কেনা। ফিরতি পথগুলো তখন যেন মোহময়ী: এত রং, নকশা, কারুকার্য প্রতিটা দোকানে। সে দু'সপ্তাহ যেন সম্মিলিত জিহ্বা, স্বাদকোরকের মোহে বিন্দু বিন্দু মিশেল, মোক্ষের সমাহার। আরও ছিল দশ টাকার কার্ড। সেগুলো ফোল্ডিং কার্ড, বেশ ঢাউস হত বাকিগুলোর তুলনায়, একটার পর একটা পরতে থাকত চমক আর সব শেষে থাকত থ্রি ডি ছবি। তখন এমন 'থ্রি ডি' নকশা বলতাম না, কার্ডের ওপর যে ছবি সেটাই আবার খুললে পরে তেড়ে ফুঁড়ে হাত পা ছড়িয়ে দিব্যি সত্যি সত্যি ছবি হয়ে যায় তাই ওগুলো ছিল 'সত্যি ছবিওয়ালা কার্ড'। আমরা, ক্লাসের সবাই মিলে পয়সা জমিয়ে কোন কোন বার 'সত্যি ছবিওয়ালা কার্ড' ম্যাডামদের দিতাম। আর পয়সা না জমলে, নিজেরাই হাতে এঁকে বানাতাম। অপটু মোম রং সেখানে নৈমিত্তিক।

হাই স্কুলে তখন। প্রথম রেডিওয় শুনলাম 'ভালবাসা মানে আর্চিস গ্যালারি'। মফস্বল - কানে সেটাই ছিল সদ্যজাত নাম। আর্চিসের দোকান দেখেছি তারও অনেক পর। একটা শুধু ছবি, কেমন প্রাণহীন, যেন বহু অযত্নে পড়ে থাকা দেওয়ালে টুকরো আঁচড়, তার দামই পঞ্চাশ টাকা! আমরা তো তিন টাকার কার্ডেও কত চকচকে স্পার্কেল দেখতাম : সরু মিহি টানা.. ছবির একেকটা বর্ডারের গায়ে। কিন্তু এই আর্চিসে 'সত্যি ছবিওয়ালা কার্ড' কিনতে বহু বছরের টিফিনের পয়সা বাঁচাতে হবে। আর কেউ নতুন বছরে কার্ড নিয়ে মাথাই ঘামায় না, সবাই সবাইকে কার্ড দেয়না এমনি এমনিই। কেউ বলেনা "ও তোকে স্পার্কেল ওয়ালা ছবি দিয়েছে? তাহলে আমি হাতে এঁকে বানিয়ে দেব - বল এবারে আমি তোর বেস্ট ফ্রেন্ড না, ও?" এখন কার্ড দিতে বিশেষ উপলক্ষ চাই, বিশেষ সম্পর্ক। ভালবাসার মানুষের জন্য বরাদ্দ একটা দিন, পরিচিতের জন্মদিনের জন্য , মা-বাবার জন্যও আলাদা আলাদা দিন। অথচ এসব উপলক্ষের মোড়কে দিনগুলো যেন একা, পতঝরি গাছ। সমস্ত প্রাণের স্ফুরণ ওই কঠিন মিতায়ু হাওয়ায় গুমোট, দমবন্ধ, সঙ্গীহীন, মুহূর্তবন্দীর খসা পলেস্তারার গায়ে অশান্ত।

এখন রাস্তার ধারে কোন রঙিন ছবি থাকেনা, স্বপ্ন নাওয়ে। বছরভর কার্ডের দোকান, উপলক্ষে সেই খুচরো ছেলেমানুষি ভাল লাগাও নেই আর। না পাওয়ার সমারোহে যতটুকু আহ্লাদী মিশেল যুগপৎ পাক খেয়ে চলে, মাথা কোটে বেমিশাল, তারা সব দিগভ্রান্ত ... যেন জীবন হারিয়ে ফেলেছে চৌরাস্তার ভুল সিগন্যালে। চেয়ারের নিচে, টেবিলের কোণ... আঁতিপাতি খুঁজেও সে ছন্নছাড়া, সময় নামে শেষ বাসের জানলায়, পড়ন্ত বিকেল .... শুধু মাই জানে সেসব জীবন আমরা ছুঁড়ে ফেলেছি সেই কবে, সহস্র সারল্যে।

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন