Muradul islam RSS feed

www.muradulislam.me

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমার প্রতিবাদের শাড়ি
    আমার প্রতিবাদের শাড়িসামিয়ানা জানেন? আমরা বলি সাইমানা ,পুরানো শাড়ি দিয়ে যেমন ক্যাথা হয় ,গ্রামের মেয়েরা সুচ সুতো দিয়ে নকশা তোলে তেমন সামিয়ানাও হয় । খড়ের ,টিনের বা এসবেস্টাসের চালের নিচে ধুলো বালি আটকাতে বা নগ্ন চালা কে সভ্য বানাতে সাইমানা টানানো আমাদের ...
  • টয়লেট - এক আস্ফালনগাথা
    আজ ১৯শে নভেম্বর, সলিল চৌধুরী র জন্মদিন। ইন্দিরা গান্ধীরও জন্মদিন। ২০১৩ সাল অবধি দেশে এটি পালিত হয়েছে “রাষ্ট্রীয় একতা দিবস” বলে। আন্তর্জাতিক স্তরে গুগুল করলে দেখা যাচ্ছে এটি আবার নাকি International Men’s Day বলে পালিত হয়। এই বছরই সরকারী প্রচারে জানা গেল ...
  • মার্জারবৃত্তান্ত
    বেড়াল অনেকের আদরের পুষ্যি। বেড়ালও অনেককে বেশ ভালোবাসে। তবে কুকুরের প্রভুভক্তি বা বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ালের কাছে আশা করলে দুঃখ লাভের সম্ভাবনা আছে। প্রবাদ আছে কুকুর নাকি খেতে খেতে দিলে প্রার্থনা করে, আমার প্রভু ধনেজনে বাড়ুক, পাতেপাতে ভাত পড়বে আমিও পেটপুরে ...
  • বসন্তবৌরী
    বিল্টু তোতা বুবাই সবাই আজ খুব উত্তেজিত। ওরা দেখেছে ছাদে যে কাপড় শুকোতে দেয়ার একটা বাঁশ আছে সেখানে একটা ছোট্ট সবুজ পাখি বাসা বেঁধেছে। কে যেন বললো এই ছোট্ট পাখিটার নাম বসন্তবৌরী। বসন্তবৌরী পাখিটি আবার ভারী ব্যস্তসমস্ত। সকাল বেলা বেরিয়ে যায়, সারাদিন কোথায় ...
  • সামান্থা ফক্স
    সামান্থা ফক্সচুপচাপ উপুড় হয়ে শুয়ে ছবিটার দিকে তাকিয়েছিলাম। মাথায় কয়েকশো চিন্তা।হস্টেলে মেস বিল বাকি প্রায় তিন মাস। অভাবে নয়,স্বভাবে। বাড়ি থেকে পয়সা পাঠালেই নেশাগুলো চাগাড় দিয়ে ওঠে। গভীর রাতের ভিডিও হলের চাম্পি সিনেমা,আপসু রাম আর ফার্স্ট ইয়ার কোন এক ...
  • ইংরাজী মিডিয়ামের বাংলা-জ্ঞান
    বাংলা মাধ্যম নাকি ইংরাজী মাধ্যম ? সুবিধা কি, অসুবিধাই বা কি? অনেক বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়েছে এই সিদ্ধান্ত নিতে! তারপরেও সংশয় যেতে চায় না। ঠিক করলাম, না কি ভুলই করলাম? উত্তর একদিন খানিক পরিস্কার হল। যেদিন একটি এগার বছরের আজন্ম ইংরাজী মাধ্যমে পড়া ছেলে এই ...
  • রুশ বিপ্লবের ইতিহাস
    রুশ বিপ্লবের ইতিহাসরাশিয়ায় শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের বিষয়টিকেই বলা হয় রুশ বিপ্লব। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ‘দুনিয়া কাঁপানো দশদিন’ সময়পর্বের মধ্যে এই বিপ্লবের চূড়ান্ত পর্বটি সংগঠিত হয়েছিল।অবশ্য দুনিয়া কাঁপানো এই দশ ...
  • হিজিবিজি
    শীত আসছে....মানে কোলকাতার শীত আর কি। কোলকাতার বাইরে সব্বাই শুনে যাকে খিল্লি করে সেই শীত। অবশ্য কোলকাতার সব কিছু নিয়েই তো তামাশা চলে আজকাল, গরীব আত্মীয় বড়লোকের ড্রয়িংরুমে যেমন। তাও কাঁথার আরামের মতোই কোলকাতার মায়া জড়িয়ে রাখে, বড় মায়া হে এ শহর ছাড়িয়ে মাঠ ...
  • আমার কালী....... আমিও কালী
    কালী ঠাকুরে আমার খুব ভয়। গলায় মুন্ডমালা,হাতে একটা কাটা মুন্ডু থেকে রক্ত ঝরে পড়ছে, একটা হাড় জিরজিরে শেয়াল তা চেটে চেটে খাচ্ছে, হাতে খাঁড়া, কালো কুস্টি, এলো চুল,উলঙ্গ দেহ, সেই ছোট বেলায় মন্ডপে দেখে এমন ভয় পেয়েছিলাম সেই ভয় আমার আজও যায়নি। আর আমার এই কালী ...
  • নভেম্বর ২০১৭
    ষাট বা সত্তর সম্পর্কে প্রত্যক্ষজ্ঞান নেই, তবে আশির দশক মোটামুটিভাবে ছিল শ্রেণীসংগ্রামের যুগ। মানে ভারতের বামঘরানার লোকজনের চিন্তনে। ফ্রান্সে ১৯৬৮ সালের বিপ্লব প্রচেষ্টা তখন অতীত। সেসব উত্তাল সময়ে অদ্ভুত তত্ত্বের জন্ম হয়েছে জানা ছিল। কিন্তু সেগুলো খায় না ...

ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দ

Muradul islam

নুরুন্নবী ভাবিয়া যায়। আমি নতুন ভাষায় কথা বলব। নতুন ভাষায় তুই তাই করে কথা বলব নামীদামী লোকের লগে। কবিতা বলব, গান লেখব, ইচ্ছা হইলে অশ্রাব্য কুকথা লেইক্ষা টেইক্ষা ভরাইয়া ফেলব। কিন্তু কেউ বুঝতে পারবে না।

নুরুন্নবী ভেতরে ভেতরে উৎসাহ পায়। পানি খাওয়ার গ্লাসের মধ্যে মুখ রাইখা সে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলে। তারপর গ্লাস চোখে লাগাইয়া আশপাশরে ঝাপসা দেখতে দেখতে তার মনে হয় চারপাশের সমস্ত গাছ বিরিক্ষি লতা পাতা, কাঠের দেয়াল সবাই তারে যেন গ্লাসের ঝাপসায় অস্পষ্টভাবে দেখছে। নুরুন্নবী কয়েকটা লাফ দিয়া নিজেরে নিজেই বলে, আমি তো ঝাপসা হইয়া গেলাম রে নুরুন্নবী। এইটা কেমনে হইল? এইটা ক্যামনে হইল? ক্যামনে ক্যামনে ক্যামনে...!

নুরুন্নবীর এক সময় চিৎকার করতে থাকে। এক পর্যায়ে হাতের গ্লাস ছুঁড়ে ফেলে দেয় মেঝেতে। একধরনের কাচব শব্দের মাধ্যমে গ্লাস ভেঙ্গে যায়। নুরুন্নবীর কিছুটা হুশ ফিরে তখন। সে ভেঙ্গে যাওয়া গ্লাসের দিকে অবাক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। শালিক পাখি যখন খাঁচায় থাকে তখন মাঝে মাঝে এরা মাথা ঘুরিয়ে অদ্ভুত ভাবে তাকায়। নুরুন্নবী সেইভাবেই তাকিয়ে থাকে।

ভাঙ্গা গ্লাস দেখে তার গ্লাসের জন্য দুঃখবোধ জেগে উঠে। সে তখন তার রুক্ষ চুলভর্তি মাথা চুলকে বিষন্ন কন্ঠে অস্পষ্টভাবে বলে, গেলাশ ভাইঙ্গা ফেললাম নাকী রে নুরুন্নবী!

এইসব, সব কিছুই যেন কেমন কেমন। এমন কেন হয়? নুরুন্নবী মাটিতে বসে মাথায় এক হাত দিয়া ভাবে। এমন ক্যান হয়? ক্যানো হয়? কেনো কাচের গ্লাসে নিঃশ্বাস ফেললে ঝাপসা হইয়া যায় কারো কারো পৃথিবী? কেনো কিছু ভাষায় কথা কইলে কেউ বুঝে না? কেনো, ও ঈশ্বর! কেনো কাচের গ্লাস মাটিতে পইড়া ভাইঙ্গা যায়?

নুরুন্নবী এইসব প্রশ্নের কোন উত্তর খুঁজে পায় না। তার কাছে সব কিছু অর্থহীন লাগে। তার কাছে মনে হয় এই যে কাচের গ্লাস পইড়া এক ধরনের অদ্ভুত শব্দের সহিত ভাইঙ্গা গেল, কোন ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই; এগুলা যেন অযৌক্তিক। যুক্তি কোথাও নাই। খালি যুক্তিহীনতা। কাচের গ্লাস এইভাবে পইড়া ভাইঙ্গা যাওয়ার কোন মানে হয়?

নুরুন্নবীর দুঃখবোধ কমে না। বরং আরো বাড়তে থাকে। যুক্তিহীনতা তারে এক প্রগাঢ় দুঃখের দিকে যেন টানতে থাকে। নুরুন্নবী তার চোখ মুছে। গাল মুছে। মাথার পিছনে খামছি দিয়া কিছু চুল ধরে উঁকুনের বসতবাটি বিধ্বস্ত করে দিতে চায়। তারপর সে গলা দিয়ে গড় গড় গড় শব্দ করে। প্রথমে আস্তে আস্তে। তারপর ধীরে ধীরে শব্দ বাড়তে থাকে।

কিছুক্ষণ পর একটা নির্দিষ্ট তালে।

গড় গড় গড়

গড়গড়গড়

গড় গড় গড়

গড়গড়গড়গড়গড়গড়

গড়

হুশ

হুশহুশহুশ!

নুরুন্নবী চুপ হয়ে যায়।

একেবারে নিরব। সে মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকে। মেঝেতে কয়েকটি পিঁপড়া ছন্নছাড়ার মত ঘুরে বেড়াচ্ছে। নুরুন্নবী তাদের দেখতে থাকে। তার মনে হয় এই পিঁপড়াগুলো দলছুট। এরা দলহারা হয়েছে। দলের পিঁপড়াগুলো এদের আর খেলায় নেয় না। মেলায় নেয় না। বিয়াতে দাওয়াত দেয় না। কিছুতেই নেয় না।

তাই তারা একা একা ঘুরে বেড়ায়। এরা কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। কোথায় যাবে তাও বুঝতেছে না। নুরুন্নবী যেন পিঁপড়াগুলোকে বুঝতে পারে। সে উবু হয়ে কাছ থেকে পিঁপড়াদের দেখতে থাকে।

এবং এক সময় নিজের জিহবা দিয়ে একটা পিঁপড়াকে তুলে আনে। জিহবায় লেগে পিঁপড়াটি ছাড়া পাওয়ার জন্য ছোটাছোটি করে। নুরুন্নবী দুই চোখ দ্বারা নাকের উপর দিয়ে জিহবায় তাকিয়ে পিঁপড়াকে দেখে। এক সময় তার জিহবায় ব্যথা হয়। তখন সে তার জিহবা ভিতরে ঢুকিয়ে ফেলে। এর সাথে পিঁপড়াটিও তার ভিতরে ঢুকে যায়।

সম্পূর্ণ অজ্ঞাত কারণে নুররুন্নবীর মন ভাল হয়ে যায় এরপর। সে কয়েকটা লাফ দেয়। তারপর সারা ঘর ঘুরে বেড়ায়। তার ঘরে জিনিসপত্র কিছুই নেই তেমন। কয়েকটি কাঠের ভাঙ্গা টেবিল, পোকায় খাওয়া টেবিল। একটি দুই পা ভাঙ্গা খাট। আর চারপাশে কাঠের দেয়াল।

নুরুন্নবীর ঘরময় ঘুরতে ঘুরতে টেবিল গুলোকে ইচ্ছামত কিল ঘুষি লাথি মারে। এতে এক ধরনের শব্দ হয় যা তার ভাল লাগে। টেবিলগুলো ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এক ধরনের শব্দ হয়। হয়ত তাদের জীবনের শেষ শব্দ। নুরুন্নবী কান পেতে শুনে। কাঠের টেবিল ভাঙ্গার শব্দ, খাট ভাঙ্গার শব্দ, দেয়াল ভাঙ্গার শব্দ, দরজা ভাঙ্গার শব্দ, গাছ ভেঙ্গে পড়ার শব্দ। সব ভাঙ্গার শব্দ তার ভাল লাগে।

এগুলোর সাথে সে নিজের মিল খুঁজে পায়। নুরুন্নবীর মূর্তিমান অস্তিত্বটিই যেন তার একান্ত নিজের ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দ। তাই নুরুন্নবী সবকিছুই ভাঙ্গতে চায়। নিজেকেও ভাঙ্গতে চায়।

---------




আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন