একক RSS feed

ঋণাত্মক শুন্যতায় ডুবে যেতে, যেতে যেতে যেতে, হুলো বেড়ালের মত ফ্যাঁস করে জেগে ওঠে আলো

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • শো কজের চিঠি
    প্রিয় কমরেড,যদিও তুমি আমার একদা অভিভাবক ছিলে, তবুও তোমায় কমরেড সম্মোধন করেই এই চিঠি লিখছি, কারন এটা সম্পূর্নভাবে রাজনৈতিক চিঠি। এই চিঠির মারফত আমি তোমায় শো কজ জানাচ্ছি। তুমি যে রাজনীতির কথা বলে এসেছো, যে রাজনীতি নিয়ে বেচেছো, যে রাজনীতির স্বার্থে নিজের ...
  • ক্যালাইডোস্কোপ ( ১)
    ক্যালাইডোস্কোপ ১। রোদ এসে পড়ে। ধীরে ধীরে চোখ মেলে মানিপ্যান্টের পাতা। ওপাশে অশ্বত্থ গাছ। আড়াল ভেঙে ডেকে যায় কুহু। ঘুমচোখ এসে দাঁড়ায় ব্যালকনির রেলিং এ। ধীরে ধীরে জেগে ওঠা শহর, শব্দ, স্বরবর্ণ- ব্যঞ্জন; যুক্তাক্ষর। আর শুরু হল দিন। শুরু হল কবিতার খেলা-খেলি। ...
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...
  • পুরীযাত্রা
    কাল রথের মেলা। তাই নিয়ে আনন্দ করার বয়স পেরিয়ে গেছে এটা মনে করাবার দরকার নেই। তবু লিখছি কারণ আজকের সংবাদপত্রের একটি খবর।আমি তাজ্জব কাগজে উকিলবাবুদের কান্ডকারখানা পড়ে। আলিপুর জাজেস কোর্ট ও পুলিশ কোর্টে প্রায় কোন উকিলবাবু নেই, দু চারজন জুনিয়র ছাড়া। কি ...
  • আমার বন্ধু কালায়ন চাকমা
    প্রথম যৌবন বেলায় রাঙামাটির নান্যাচরের মাওরুম গ্রামে গিয়েছি সমীরণ চাকমার বিয়েতে। সমীরণ দা পরে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেই গ্রুপ ছেড়েছেন, সে-ও অনেকদিন আগের কথা। এরআগেও বহুবার চাকমাদের বিয়ের নিমন্ত্রণে গিয়েছি। কিন্তু ১৯৯৩ সালের শেষের ...
  • শুভ জন্মদিন শহীদ আজাদ
    আজকে এক বাঙ্গালি বীরের জন্মদিন। আজকে শহীদ আজাদের জন্মদিন। মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার কিংবদন্তীর ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য, রুমির সহযোদ্ধা এবং অবশ্যই অবশ্যই মোসাম্মাৎ সাফিয়া বেগমের সন্তান। শহীদ আজাদ হচ্ছেন এমন একজন মানুষ যার কথা বলতে গেলে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এমাজনের পেঁপে

একক


একটি তেপায়া কেদারা, একটি জরাগ্রস্ত চৌপাই ও বেপথু তোষক সম্বল করিয়া দুইজনের সংসারখানি যেদিন সাড়ে ১২১ নম্বর অক্রুর দত্ত লেনে আসিয়া দাঁড়াইল, কৌতূহলী প্রতিবেশী বলিতে জুটিয়াছিল কেবল পাড়ার বিড়াল কুতকুতি ও ন্যাজকাটা কুকুর ভোদাই। মধ্য কলিকাতার তস্য গলিতে অতটা আধুনিকতা এখনো প্রবেশ করে নাই যে নূতন ভাড়াটে আসিলেও পড়শীদের কৌতূহল যৎপর্নাস্তি সংবৃত থাকিবে । এই ক্ষেত্রে, মালবাহী টেম্পোর সঙ্গে একটি মধ্যবয়স্ক পুরুষ ও প্রায় চলচ্ছক্তিহীন সত্তরোর্ধ বৃদ্ধা ও সেই তেপায়া কেদারা, জীর্ণ চৌপাই ইত্যাদির বা সবকিছুর মধ্য দিয়া এমন একটি হতশ্রী ফুটিয়া বাহির হইতেছিল যে সকল স্বাভাবিক পরচর্চায় সেই স্থানেই ছেদ পড়িয়া যায়।

প্রথমদিকে মাতাপুত্রের সংসারে চতুষ্পদ ভিন্ন কাহারো উৎসাহ না থাকিলেও, অচিরে কাক -শালিখরা টের পাইল যে এমত কলহমুখীন প্রতিবেশী তাহারা দীর্ঘকাল প্রত্যক্ষ করে নাই । বৃদ্ধ বায়স রামাধীন, দত্ত গিন্নির ফেলিয়া দেওয়া ম্যাকডি বার্গার জুৎ করিতেছিল ভগ্ন পাঁচিলে বসিয়া । অকস্মাৎ ধাতব তৈজসপত্র পতনের বিকট আওয়াজ ও "মর মর মরিসনে কেন বুড়ি !! " চিৎকারে তাহার বার্গার ছিটকাইয়া পার্শ্ববর্তী নালায় পতিত হয় । বায়সকুলে ভূপতিত খাবার তুলিয়া খাইবার রেওয়াজ থাকিলেও বার্গারবিচ্যুত একটি সতেজ মাংসখণ্ডকে কাকচক্ষু নর্দমার জলে বহিয়া যাইতে দেখিয়া বুকে শেল বাজিল রামাধীনের। সে প্রতিজ্ঞা করিল এ পাঁচিলে, আর নয় ।

কুতকুতি কিন্তু ইতর মনুষ্যের ভাষা বুঝিত, তথাপি তাহার বাপ বহুবাজারের ডাকসাইটে হুলো এই অভিমানে ম্যাওভাষা ভিন্ন উচ্চারণ করিত না । মাতা ও পুত্রের শ্রীহীন সংসার , মারমুখী সন্তান , ক্রন্দনরতা মা এইসকল অলীক রঙ্গ দিন দুই ন্যাজ খাড়া করিয়া শ্রবণপূর্বক সে প্রতীত হইল যে মানবজগতে স্নেহ ও মমতার যে সামাজিকতা সে ইতিপূর্বে দেখিয়া আসিয়াছে তাহা আর যাহাই হউক স্বতঃসিদ্ধ নহে । মধ্যবয়স্ক সন্তানটি কোনো অজ্ঞাত কারণে বারবেলা অবধি বিছানা আঁকড়াইয়া পড়িয়া থাকে । বৃদ্ধা মাতা তখন নাকিসুরে দরোজায় বসিয়া কাঁদিয়া মরে। নিদ্রা ভাঙিয়াই কুম্ভকর্ণ ক্ষুধায় চিৎকার জোড়ে ও মাকে গালিগালাজ শুরু হয় । বৃদ্ধার নাকিসুর উচ্চগ্রামে উঠিতে উঠিতে পরের পর সপ্তক আরোহণ করিতে থাকে সেইসঙ্গে অনুযোগ যে ; বাজার না করিলে রন্ধন কিরূপে হইবে, এই বয়েসে হাড় কালি করিয়া বাজার ঘর করা অসম্ভব, ঈশ্বর কেন তাঁহাকে মৃত্যুর পরম আশীর্বাদ দেন না ইত্যাদি ইত্যাদি ও অতঃপর সন্তানের দ্বারা মাতার মৃত্যুকামনা ।

কুতকুতি এই খণ্ডহরগীতি একদিন শুনিল , তিনদিন শুনিল , অতঃপর নেহাতই ব্যাজার ও বিরক্ত হইয়া ; দত্তগিন্নি , বোসজায়া প্রমুখের দ্বিপ্রাহরিক আড্ডায় কান দেওয়া অধিক মনোরঞ্জনের , বিশেষত পাঁচিলে পাঁচিলে না ঘুরিয়াও পাঁচ পাড়ার খপর তো পাওয়া যায় , এই ভাবিয়া স্থানত্যাগ করিল ।


মার্জারকুলীনের অলক্ষ্যে কিছু ঘটনা ঘটিতেছিল।


সাড়ে ১২১ নম্বরের বাটীতে বহুকাল কোনো ভাড়াটে আসে নাই । মামলা ও ডিসপুটের হেতু বাটীর অর্ধ অংশ বিলকুল ফাঁকা ও কালক্রমে মনুষ্যবাসের অযোগ্য হইয়াছিল । কুম্ভকর্ণ সন্তানটি একরাত্রে কিঞ্চিৎ অসাব্যস্ত হইয়া আসিয়া বাটীর ভগ্নাংশ বরাবর ঝাঁকি দিতেছিল , উদ্দেশ্য পুরাতন পরিত্যক্ত আসবাব বেচিয়া দিবার মতো কিছু আছে কিনা তল্লাশ । এমতাবস্থায় বাটীর প্রান্তে একটি ক্ষুদ্রায়তন ঘরে এক পানওয়ালার সহিত সাক্ষাৎ , অন্তত তাহার রকম সকম দেখিয়া সেইরূপ বোধ হয় । তক্তপোষে বসিয়া বিপুলাকৃতি ডালায় জলসিক্ত লাল শালু মুড়িয়া সে কে বা কাহাদের সহিত দরদাম হাঁকডাক করিতেছিল তাহা কুম্ভ ঠাহর পায় নাই । অদ্ভুত শান্ত এই ভগ্নবাটীর মধ্যে এইরূপ একটি জমকালো বিপণি আছে তাহাই সে জানিত না ! পীতাভ অন্ধকারে অগ্রসর হইয়া লাল শালুর দিকে সে অঙ্গুলিনির্দেশ করিল । পানওয়ালা কাপড় সরাইযা যাহা বাহির করিল তাহা পান নহে , পেঁপে । ঘন সবুজ নধরকান্তি পেঁপের গাত্রে ততোধিক সবুজে লিখিত "এমাজনের পেঁপে , সুনকারিনারপুল" । একখানি কর্তনী লইয়া পেঁপে চারফালি করিয়া কুম্ভের হস্তে একফালি তুলিয়া দিল পানওয়ালা । চতুষ্পার্শ্ব হইতে কাহারা যেন বলিল : খাইয়া লও , সে নির্দেশে তীব্রতা নাই কিন্তু তীক্ষ্ণতা আছে , যেন অনাদিকালের মালসাভোগের মাঝে আসিয়া সে ভাগ্যক্রমে প্রসাদ পাইয়া গিয়াছে। কুম্ভ সেই এমাজনের কাঁচা পেঁপে কচকচ শব্দে চর্বণ করিতে করিতে ভগ্নাংশময় ভ্রমণ করিতে লাগিল।

পূর্বে সে কখনো খেয়াল করে নাই এই বাড়িটির দেয়ালে দেয়ালে এতো ছবি । খুব স্পষ্ট নয় আবার সেইসব ভাষা যে বড় দুর্গম তাহাও নহে । একটি বেগনী দেয়ালে ঘন নীল বাঁশির শব্দ চলিয়া গিয়াছে, তাহার পার্শ্বে জলের কুলকুল ছবি আর ছাতিমছাপ আইসকিরিমের গন্ধ । আরেকটু আগাইলেই মাটি কাঁপে । ও কাহারা করমচা আঁকিয়াছে গৃহের ছাদ জুড়ে ? ক্রমে কুম্ভের সামনে দৃশ্য আসিল , অগণিত অস্পষ্ট তবু নিশ্চিত অবয়ব ছেনি লইয়া দেয়াল কুটিতেছে আর প্রতিটি আঘাতে দেয়ালময় ছবি রং আর ছবি । হাতুড়ি পড়িতেছে ছেনির উপর টুং ড্রঙ ঢিন ঝিপ ঝিপ টং সু সু । আর রক্ত । রক্ত না হইলে কি রং হয় । বড় প্রীত হইয়া এদিক সেদিক ঘুরিতে লাগিল কুম্ভ , কখন যে নিজেও একটি ছেনি ও হাতুড়ি তুলিয়া লইয়াছে টের ও পাইল না । যেন এক আনন্দ রেলগাড়িতে উঠিয়া পড়া ;আর ক্ষুধা নাই , তৃষ্ণা নাই , মা মাগীর নিত্যি মুখঝামটা নাই শুধু টুং ড্রঙ ঝিপ ঝিপ সু ।

কুম্ভ আলোয় ডুবিয়া গেল । আর দেয়াল কুটিবার অনাহত শব্দে ।রূপ । ভলকে ভলকে রূপ ।

দুইদিবস পরঃপ্রাতে কুতকুতি যখন পুনরায় সরেজমিনে আসিল , বিস্ময়জনকভাবে আর চিল্লৌত নাই । ক্ষুধায় তৃষ্ণায় বৃদ্ধাটি উচ্চৈঃস্বরে কাঁদিবার অবস্থাতেও ছিল না । দাঁতে দাঁত চাপিয়া অস্ফুটে কিছু গাল দিতেছিল অদৃষ্টের উদ্দেশে আর তাহার কুম্ভকর্ণ পুত্রটি দুইদিবস যাবৎ নাসিকা গর্জন করিয়া নিদ্রিত , খাইতে চাহে নাই , গালিগালাজ করে নাই । তাহার মাথার পার্শ্বে অর্ধভুক্ত কাঁচা পেঁপের ফালি এবং ছেনি ও হাতুড়ি রাখা ।

জানালা দিয়া ব্যাপার দেখিয়া কুতকুতি বলিল : ম্যাও । অর্থাৎ গৃহে শান্তি ফিরিয়াছে । বৃদ্ধ বায়স রামাধীন রাস্তার উল্টোবাগের কার্নিশে বসিয়া রোহিতকন্টকে বৃথাই মৎস্যসন্ধান করিতেছিল । সে বলিল : ক্ব । অর্থাৎ লক্ষণ ভালো নয় ।


সেই প্রথমদিবসে বার্গারবিয়োগহেতু, রামাধীন সাড়ে ১২১ নম্বর বাটীর পাঁচিলে আর বসে নাই কিন্তু তাহার প্রাজ্ঞ নজরের বাহিরেও কিছু নহে । উপরন্তু সায়ংকালে যখন সে দেখিল কুম্ভকর্ণ জাগিয়া উঠিয়া চৌপাইতে বসিয়া কাঁচা পেঁপে চিবাইতেছে তাহার আর বুঝিতে বিশেষ বাকি রহিল না । ব্যঞ্জনবর্ণমালার প্রথম অক্ষরে তাহার অবস্থান , কুলীন বায়স ; ম্যাওভাষায় অভিমানী কুতকুতি মেনি কী বুঝিবে এ রহস্যের ! বৃদ্ধা মাতা কাঁদিয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া হীনবল হতআশা হইয়া একবার প্রবল চিক্কুর দিল : মর মর ! পুরুষমানুষ ভাত জোটাতে পারিস না সব খেয়েছিস এবার মা টারেও খা খেয়ে মরণ হোক তোর !! রামাধীন খানিক চমকাইয়া টাটকা নেংটিতে মনোনিবেশ করিল । কিয়ৎক্ষণের মধ্যেই গবাক্ষ হইতে আবার পরুষ চিৎকার : আলো আলো কত রং ! রং খাবো ! খেতে দে !! এবং ভগ্ন ক্লিষ্ট নারীকণ্ঠে একটি অস্ফুট আর্তনাদ । রামাধীন হলুদ আকাশের পানে চাহিল একবার । একবার অভুক্ত নেংটির প্রতি ।

এই ছিন্নমুণ্ড কাহিনীতে ভোদাই এর কোনো গুরুদায়িত্ব এতদবধি নাই । প্রাণীকুল সে সর্বাপেক্ষা অকুলীন । শুধু কয় দিবস পর তাহার চিৎকার ও অস্থির দৌড়াদৌড়িতে আকর্ষিত হইয়া পাড়ার কয়টি চেঙ্গড়া ছেলে বৃদ্ধার দুর্গন্ধময় শব উদ্ধার করে । কপাল কীলকবিদ্ধ । হাঁ মুখ বহিয়া পিপীলিকার পাল । ম্যুনিসিপ্যালিটির শকট আসিয়া শবদেহ সংগ্রহপূর্বক ধাপার মাঠে চলিয়া যায়।পুরা সময় টুকু গাড়ির সামনে পিছনে দৌড়াইয়া,আত্মঘোষণা করিয়া ভোদাই তাহার সামাজিক কর্তব্যে অবিচল থাকে।যদিও ন্যাজ কাটা হওয়ায় এবিষয়ে তাহার মানসিক পরিস্থিতি ঠাহর পাওয়া যায় নাই ।
কুতকুতির ব্যস্ততা সর্বাপেক্ষা বেশি গিয়াছে কারণ দত্তগিন্নি , বোস জায়া ও নকুড় মিষ্টান্ন ভান্ডারের সম্মুখের আড্ডাস্থল এই পুরা এলাকাটি ঘুরিয়া পরচর্চার দলিল সংগ্রহ তো ফেলনা কাজ নয় । প্রকৃত সত্য সেও বুঝি কিছু জানিত ।তবে ম্যাওভাষাভিন্ন অপর জবান মুখে না লওয়ার ঘোর প্রতিশ্রুতি বলিয়া কথা !

রামাধীন কোনো চঞ্চলতা প্রকাশ করে নাই । মা -ছেলের ঘরের মেঝেতে পড়িয়া থাকা অভুক্ত এমাজনের কাঁচা পেঁপের শেষতম টুকরাটি চাখিয়া দেখিবার কিঞ্চিৎ ইচ্ছা তাহার হইয়াছিল , কিন্তু ত্রিকালদর্শনের প্রাজ্ঞতা হেতু নিজেকে সংবরণ করে । কুম্ভকে শেষ মুহূর্তে ছুটিয়া সাড়ে একশো একুশ নম্বর বাটীর ভগ্নাংশের দিকে যাইতে সে দেখিয়াছিল । সন্ধ্যার পীতাভ আকাশে বার দুই ডানা ঝাপ্টাইয়া রামাধীনও সেই পানে উড়িয়া যায় ।

শেয়ার করুন


Avatar: একক

Re: এমাজনের পেঁপে

#
Avatar: i

Re: এমাজনের পেঁপে

কী লেখা!!!
কী ভাষা কী এক্সপ্রেশন কী গল্প...
একক, আপনি কে বলুন তো?

ছোটাই
Avatar: dd

Re: এমাজনের পেঁপে

উফ। কী পড়িলাম। জন্ম জন্মান্তরেও ঝট করিয়া ভুলিবো না।

এককই কি নেতাজী? বংগ সাহিত্যের ঘোর দুর্দিনে মাউস হাতে আবির্ভাব ?
Avatar: d

Re: এমাজনের পেঁপে

প্রথম লাইনেই হোঁচট খেলাম। "বেপথু তোষক"??
খাইসে!
Avatar: T

Re: এমাজনের পেঁপে

বেপথু মানে তিরিতিরি কাঁপা। কিন্তু,

ওঃ, লাল সেলাম বস।
Avatar: avi

Re: এমাজনের পেঁপে

এককের কি এক হাতে চীন, অন্য হাতে রাশিয়া আছে? থাকলে এককই নেতাজী। না হলে, একক কি বিপ্লব? অবশেষে এসে পড়েছেন! স্টানিং ইনিংস।
Avatar: de

Re: এমাজনের পেঁপে

একক বিপ্লব!!!
Avatar: de

Re: এমাজনের পেঁপে

*(পাল নয়)
Avatar: শিবাংশু

Re: এমাজনের পেঁপে

বাঃ...
Avatar: রোবু

Re: এমাজনের পেঁপে

ভালো লেগেছে।
Avatar: Suhasini

Re: এমাজনের পেঁপে

জোরদার।
Avatar: Rabaahuta

Re: এমাজনের পেঁপে

বেপথু তোষকটা নিয়ে আমিও ভাবছিলাম, তারপর মনে হলো নিশ্চয় ভেবেচিন্তে লিখেছে কিছু, ছিঁড়ে ফেটে নিভুনিভু তোষক, হবেওবা। আবার নাও হতে পারে, হয়তো নিতান্তই ল্যম্পপোস্টের একটা লাইট খারাপ। আর চীনের কাঁঠাল এমাজানের পেঁপে কামচাটকার চালকুমড়ো কতই না দেখবো।
সে যাই হোক গল্পটা ফেঁদেছে ভয়ানক, কাল রাত থেকে অনেকবার পড়ে ফেললাম। এককের ভাষার ঘোরপ্যাঁচ আর নানাবিধ অব্যয় একেবারে লক্ষ্যভেদী মনে হয়।
তবে কিনা কুতকুতিকে আরেকটু ফুটেজ দিলে তাকে বিড়াল টইয়ে নিয়ে যাওয়া যেত।
Avatar: শঙ্খ

Re: এমাজনের পেঁপে

দুএকটা জায়গা একটু শিশিবোতল ঠেকল, কিন্তু সুখপাঠ্য। বরাবরের মতই।
Avatar: Atoz

Re: এমাজনের পেঁপে

তোষকটা কাঁপছিল? ঃ-)
Avatar: de

Re: এমাজনের পেঁপে

কাঁপতেই পারে - পাতলা, জ্যালজ্যালে তোষক - হাওয়ায় কাঁপছিলো হয়তো!
Avatar: Atoz

Re: এমাজনের পেঁপে

লক্ষ লক্ষ ছারপোকা তোষকের ভিতরে একত্রে নৃত্য করছিল, তাও হতে পারে। ঃ-)
Avatar: একক

Re: এমাজনের পেঁপে

দুরন্ত, দূর্মদ, একঘর হয়েছে
Avatar: Du

Re: এমাজনের পেঁপে

উফ পুরো ঝড় একঘর। ব্রেনের সবকটা পয়েন্টে কানেকশন হল একবার করে।
Avatar: একক

Re: এমাজনের পেঁপে

কমলকুমার


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন