San Gita RSS feed

San Gitaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মন্দিরে মিলায় ধর্ম
    ১নির্ধারিত সময়ে ক্লাবঘরে পৌঁছে দেখি প্রায় জনা দশেক গুছিয়ে বসে আছে। এটা সচরাচর দেখতাম না ইদানীং। যে সময়ে মিটিং ডাকা হ’ত সেই সময়ে মিটিঙের আহ্বাহক পৌঁছে কাছের লোকেদের ফোন ও বাকিদের জন্য হোয়া (হোয়াটস্যাপ গ্রুপ, অনেকবার এর কথা আসবে তাই এখন থেকে হোয়া) গ্রুপে ...
  • আমাদের দুর্গা পূজা
    ছোটবেলায় হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসছি্ল সব প্রতিমার মুখ দক্ষিন মুখি হয় কেন? সমবয়সী যাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম সে উত্তর দিয়েছিল এটা নিয়ম, তোদের যেমন নামাজ পড়তে হয় পশ্চিম মুখি হয়ে এটাও তেমন। ওর জ্ঞান বিতরন শেষ হলো না, বলল খ্রিস্টানরা প্রার্থনা করে পুব মুখি হয়ে আর ...
  • দেশভাগঃ ফিরে দেখা
    রাত বারোটা পেরিয়ে যাওয়ার পর সোনালী পিং করল। "আধুনিক ভারতবর্ষের কোন পাঁচটা ঘটনা তোর ওপর সবচেয়ে বেশী ইমপ্যাক্ট ফেলেছে? "সোনালী কি সাংবাদিকতা ধরল? আমার ওপর সাক্ষাৎকার মক্সো করে হাত পাকাচ্ছে?আমি তানানা করি। এড়িয়ে যেতে চাই। তারপর মনে হয়, এটা একটা ছোট্ট খেলা। ...
  • সুর অ-সুর
    এখন কত কূটকচালি ! একদিকে এক ধর্মের লোক অন্যদের জন্য বিধিনিষেধ বাধাবিপত্তি আরোপ করে চলেছে তো অন্যদিকে একদিকে ধর্মের নামে ফতোয়া তো অন্যদিকে ধর্ম ছাঁটার নিদান। দুর্গাপুজোয় এগরোল খাওয়া চলবে কি চলবে না , পুজোয় মাতামাতি করা ভাল না খারাপ ,পুজোর মত ...
  • মানুষের গল্প
    এটা একটা গল্প। একটাই গল্প। একেবারে বানানো নয় - কাহিনীটি একটু অন্যরকম। কারো একান্ত সুগোপন ব্যক্তিগত দুঃখকে সকলের কাছে অনাবৃত করা কতদূর সমীচীন হচ্ছে জানি না, কতটুকু প্রকাশ করব তা নিজেই ঠিক করতে পারছি না। জন্মগত প্রকৃতিচিহ্নের বিপরীতমুখী মানুষদের অসহায় ...
  • পুজোর এচাল বেচাল
    পুজোর আর দশদিন বাকি, আজ শনিবার আর কাল বিশ্বকর্মা পুজো; ত্রহস্পর্শ যোগে রাস্তায় হাত মোছার ভারী সুবিধেজনক পরিস্থিতি। হাত মোছা মানে এই মিষ্টি খেয়ে রসটা বা আলুরচপ খেয়ে তেলটা মোছার কথা বলছি। শপিং মল গুলোতে মাইকে অনবরত ঘোষনা হয়ে চলেছে, 'এই অফার মিস করা মানে তা ...
  • ঘুম
    আগে খুব ঘুম পেয়ে যেতো। পড়তে বসলে তো কথাই নেই। ঢুলতে ঢুলতে লাল চোখ। কি পড়ছিস? সামনে ভূগোল বই, পড়ছি মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ। মা তো রেগে আগুন। ঘুম ছাড়া জীবনের কোন লক্ষ্য নেই মেয়ের। কি আক্ষেপ কি আক্ষেপ মায়ের। মা-রা ছিলেন আট বোন দুই ভাই, সর্বদাই কেউ না ...
  • 'এই ধ্বংসের দায়ভাগে': ভাবাদীঘি এবং আরও কিছু
    এই একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে ক্রমে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে সংকটের এক নতুন রুপরেখা তৈরি হচ্ছে। যে প্রগতিমুখর বেঁচে থাকায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠছি প্রতিনিয়ত, তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, "কোথায় লুকোবে ধু ধু করে মরুভূমি?"। এমন হতাশার উচ্চারণ যে আদৌ অমূলক নয়, তার ...
  • সেইসব দিনগুলি…
    সেইসব দিনগুলি…ঝুমা সমাদ্দার…...তারপর তো 'গল্পদাদুর আসর'ও ফুরিয়ে গেল। "দাঁড়ি কমা সহ 'এসেছে শরৎ' লেখা" শেষ হতে না হতেই মা জোর করে সামনে বসিয়ে টেনে টেনে চুলে বেড়াবিনুনী বেঁধে দিতে লাগলেন । মা'র শাড়িতে কেমন একটা হলুদ-তেল-বসন্তমালতী'...
  • হরিপদ কেরানিরর বিদেশযাত্রা
    অনেকদিন আগে , প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে এই গেঁয়ো মহারাজ , তখন তিনি আরোই ক্যাবলা , আনস্মার্ট , ছড়ু ছিলেন , মানে এখনও কম না , যাই হোক সেই সময় দেশের বাইরে যাবার সুযোগ ঘটেছিলো নেহাত আর কেউ যেতে চায়নি বলেই । না হলে খামোখা আমার নামে একটা আস্ত ভিসা হবার চান্স নেই এ ...

#পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

San Gita


পুঁটির জীবনে শান্তি নেই। কারো বাড়ির লোক যে এরকম শত্রুতা করতে পারে, না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল! মা, বোন তো বটেই! এমনকি বাবা, মামা, মাসি, কাকা, পিসি- কত নাম আর নেওয়া যায়!! ভাল্লাগে না!! বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে না!

আচ্ছা, ছোটবেলা থেকে কি সবাই বিশুদ্ধ বাংলায় কথা বলে? কত বাচ্চাই তো কত কিছু বলে। সেটা আঁচলে শক্ত করে গিঁট দিয়ে রেখে কার বাড়ির লোক সারাটা জীবন এমন দুর্বিষহ করে তোলে, শুনি? তাও তেমন কিছু না। জোরে বৃষ্টি পড়লে ছোট বাচ্চা বললই নাহয় "কী মুছলমান ধারায় বিত্তি পচ্চে!", বা হিন্দিভাষী বন্ধুর থেকে প্রভাবিত হয়ে "বালিশ হো রহা হ্যায়" তাতে কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হল যে চেনা তো চেনা, সদ্য আলাপ হওয়া, এমনকি অচেনা লোক ডেকে ডেকে তাকে দিয়ে বলানো হত "খুব জোরে বৃষ্টিকে কী যেন বলে, সোনা? কিছুতেই মনে পড়ছে না।" আর সেও কিনা সরল মনে তাদের হাজারবার মনে পড়িয়ে দিয়েছে। কিম্বা ধরুন কেজি ক্লাসে সে পাশে বসা দেবযানী ভট্টাচার্য্যকে দেজ্জামি ঘট্টাচাজ্জো বলত। বা বাউল গানকে বলত বাবুল গাম। মামাতো দিদির স্কুলের নামটা নব নালন্দা বিদ্যামন্দির না বলে বলত নব নিমন্দা বিমন্দা, মহাভারত আর মহালয়াকে মোগাভারোত আর মোগালয়া। আরো আছে টুকটাক। সো হোয়াট?

সেইসব গল্প এখনও, ভাবতে পারেন এখনও জনে জনে বলা হয়- নতুন জামাইবাবুদের, নিজের হবু বরকে, মায় সদ্য বিয়ের পরে ওদিককার শ্বশুর-শাশুড়িদের আর ছোট ছোট দেওর-ননদদেরও। গল্প যেন কম পড়িয়াছে! ছিঃ!! এও যদি ক্ষমতার অপব্যবহার না হয়, তবে আর কোনটা ক্ষমতার অপব্যবহার? মান-সম্মান পুরো ধুলোয় গড়াগড়ি।

সবাই জানে যে, হাসপাতালের গন্ধে তার গা গোলায় বলে মা যখন নার্সিং হোমে ভর্তি ছিল, সে ওপরে উঠত না। একদিন শুধু লিফ্টে উঠে মায়ের কেবিনে উঁকি দিয়েই কথা-টথা না বলে ফিরতি লিফ্টে চোঁ-চাঁ করে নেমে এসেছিল। আর পুঁটির বন্ধু চন্দ্রিমার যেবার ছানা হয়, পুঁটি তখন বেশ বড়, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশানের সময়, তাকে দেখতে গিয়েই পুঁটি যায় যায়! বাড়িতে বেমালুম চেপে গিয়েছিল। কিন্তু বিধি বাম! রাতে কাকীমা ফোন করে "পুঁটির শরীর এখন ভালো তো?" বলেই দিলেন বারোটা বাজিয়ে। তাতেই বা এতো কী হাসির খোরাক থাকতে পারে, পুঁটির তো বোধগম্য হয় না!

শুধু হ্যাহ্যাহ্যাহ্যা আর হিহিহিহি। গাম্ভীর্য কথাটার মানেও বোধ হয় এরা জানে না। নিজেরা কত বীর সব জানা আছে! মাসি শ্বশুরবাড়ি যাবার আগে তাকে সাজানো হচ্ছে, একবার মাথা ডানদিকে ঢলে পড়ছে, একবার বাঁদিকে, হ্যাঁ রে বাবা, ক্ষণে ক্ষণে। ওদিকে দিদাও অন্য ঘরে সামান্য কম ফ্রিকোয়েন্সিতে লুটোচ্ছেন। সেবার কেমন করে যেন মা নিজেকে সামলেছিল, নইলে উনি তো আবার এসবের চ্যাম্পিয়ান।সেই বেলা?

একবার পাড়া থেকে পিকনিকে যাওয়া হল। বোটিংএর ব্যবস্থাও ছিল। খুব মজা হয়েছিল। প্রচুর খেলাধুলা, গপ্পো-আড্ডা, খাওয়াদাওয়া। রোদ পড়তে পুঁটি আরো বন্ধুদের সাথে গেল বোটে চড়তে। পা দিতেই বোটটা এমন টলমল করে উঠল যে পুঁটি গেল টোটাল ঘাবড়ে। ঝপ করে নৌকার ধারটায় হাত দিয়ে সাপোর্ট নিতে গেল, আর কেমন করে ধাক্কা লেগে একটা নখ গেল উল্টে। সে কী রক্ত! তখনও পুঁটি নার্ভাস হয়নি, জনে জনে বলছে "নখটা একটু সোজা করে দাও না!" সবার চোখ গোল! আর মা পাঁইপাঁই করে পুঁটির উল্টোদিকে হাঁটছে। এই তো সব সাহসী! সব চেনা আছে!! পুঁটি শুধু ডাক্তারের কাছে গিয়ে ধমকে বলেছিল যে, "ইঞ্জেকশান কিন্তু দিতে দেব না"। কিন্তু ডাক্তারবাবু যখন বোঝালেন যে, ইন্ফেকশান হলে আঙুল পর্যন্ত্য কাটতে হতে পারে, তখন তো সে এক কথায় রাজি হয়ে গেছিল, নাকি? ওষুধের দোকানের কম্পাউন্ডারকেও বিপদে ফেলে দিয়েছিল সেবার। সে বলেছিল "এখনও তো ইঞ্জেকশান নামাইই নি, কাঁদছো কেন?"

সবেতেই শুধু ওদের হাসি পায়! আশ্চর্য্য! ছোট থেকেই পুঁটি একটু আহ্লাদী আর অভিমানী। তুলোর মত নরম মন তার, কথায় কথায় চোখে জল আসে আর কাঁদলে নাকি পুঁটির মুখটা এমন কার্টুনের মত হয় যে নিজের গর্ভধারিণী মা পর্যন্ত্য (হে ভগবান) হেসে লুটোপুটি!! তাও তো প্রথমবার কন্টাক্ট লেন্স নিতে গিয়ে কী হয়েছিল, লক্ষী সোনা বাবা সেটা চেপে গেছিল!

কিন্তু সে বাবাও কি আর কম যায়? পুঁটি যখন দিল্লীতে সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের বেশ ভালো ভালো চাকরি পেল, বাবাই তখন সবচেয়ে বেঁকে বসল। বলল "পোস্ট গ্র্যাজুয়েশান শেষ হয়নি, যাস না, এখানেও চাকরি পাবি। আমার কথা শোন! তোর চাকরির অভাব হবে না।" শেষমেশ পুঁটি স্টেট গভর্নমেন্টের চাকরি জয়েন করল। তখনও বাবা- মা সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের চাকুরে। ওদের ডিএ বাড়লে রেগুলার বাড়িতে খিল্লি- "দুঃখ করে আর কী করবি বল! তোদের ছুটি দেয় আর আমাদের টাকাপয়সা!" যাচ্ছেতাই সব!

যাগ্গে, দুঃখের কথা আর কাকে বলবে পুঁটি? বললেই বা বুঝবে কে? জালিম দুনিয়া!! ঐ জন্যই তো পুঁটি এখন খুব চালাক হয়ে গেছে। কারো কাছে সহজে নিজের মনের কথা বলে না। ডাইরীর পাতায় লুকিয়ে লুকিয়ে লিখে রাখে। শুধু মরে যাওয়ার আগে ডাইরীগুলোর একটা গতি করে যেতে হবে। নাহলে, বলা যায় না, শত্রুর দল হয়ত বই করে ছাপিয়েই দিল। বুদ্ধির তো সব বৃহস্পতি!

©sangitaghoshdastidar
#পুঁটিকাহিনী 2 - আহা আজি এ বসন্তে
------------------------------------------------------
পুঁটির হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা শেষ হয়েছে, এমতাবস্থায় সে প্রথম ছাত্রী পেটানোর সুযোগ পেল, পাড়াতেই। ক্লাস ফাইভের ছাত্রী, বাবা-মা বেরিয়ে যান বলে খুব বেশী সময় দিতে পারেন না। পুঁটি তো এক পায়ে খাড়া! কিন্তু বাবা-মা বিশেষ ইচ্ছুক নন। কাকীমা লেগে থেকে ওঁদের রাজি করালেন। আগে দূর থেকে দেখা ছিল ঠিকই, কিন্তু ছাত্রীর বাড়িতেই তাকে ভালো করে চেনা হল। পাঠক-পাঠিকা, নড়েচড়ে বসলেন নাকি? আহা!! বসন্তকাল, মধুমাস, তায় অষ্টাদশী পুঁটিরাণী (যতই খ্যাঁদাবোঁচা হোক, লোকে বলে দিব্যি মিষ্টি লাগত), প্রাণে তার ফুরফুর করছে পুলক আর ভুরভুর করছে প্রেমের সৌরভ- আমি আপনাদের জায়গায় থাকলে আমারও 'সে'টি কে জানার জন্য প্রাণ আঁকুপাঁকু করত বৈকি!! ছাত্রীর দাদা, না কাকা, নাকি খোদ বাবা?

বলি তাহলে আপনাদের সব আশায় জল ঢেলে? সে হল ছাত্রীর দিদি, পিউ- সেও ISC দিয়ে বেকার বসে আছে, পুঁটিরই ব্যাচমেট। সে অবশ্য বেকার থাকার পাত্রী নয়। হাজার বন্ধু তার, তাদের সাথে বিস্তর ঘোরাঘুরি তার, মাঝেসাঝে খুব প্রিয় বন্ধুদের বাড়িতে থেকেও যেত। পুঁটির সাথে কথা কইত না মোটে। যে ঘরে পুঁটি পড়াত, সেই ঘরে আসত মাঝে মধ্যে- গম্ভীরভাবে। পুঁটি ছাত্রীর মন পাওয়ার জন্য পড়ার ফাঁকে গল্পও করত, কখনও বা দুজনে মিলে লম্বা খাতার মলাটের ক্রিকেটারদের ছবিতে গোঁফ, দাড়ি, লম্বা চুল বা টিপ যোগ করত (এই কাজটিতে পুঁটির আন্তরিক ইচ্ছে না থাকলেও ছাত্রীটির কাছে খাতা আসা মানে এটি ছিল অবশ্যকর্তব্য)। একদিন পিউ গাম্ভীর্যের প্রতীক হয়ে পড়ার ঘরে এল। উপরের খাতাটা তুলে আঁকাজোকা দেখল খানিকক্ষণ! তারপর দাপুটে স্বরে জানতে চাইল "কে করেছে এসব?" ছাত্রী বিনা বাক্যব্যয়ে পুঁটিকে দেখিয়ে দিল। পিউ বিরক্ত স্বরে বলল " টিচারের এই অবস্থা হলে স্টুডেন্টের কি অবস্থা হবে!! এই পড়াশুনা হচ্ছে!" সমবয়স্ক একটি কিশোরীর এহেন আচরণে পুঁটি তো হাঁ। মনে মনে ভাবল "কী উদ্ধত আর অসভ্য রে বাবা!" পরবর্তীকালে বন্ধুত্বের সময় যখন পিউয়ের ঐ ব্যবহারের মানে জানতে চেয়েছে, ও পরিষ্কার বলেছে "তখন আমি ছিলাম মালিক আর তুই আমার কর্মচারী!! ঠিক ব্যবহারই তো করেছি।" এইরকম বদ্ধ পাগল ছিল পিউ!

পিউ সুন্দর ছেলে দেখলেই প্রেমে পড়ত! ঠিক ধরেছেন! এটা পিউয়ের প্রেমের গল্প।

যথাসময়ে পুঁটি-পিউ দুজনেরই রেজাল্ট বেরল। পুঁটি ছাত্রীপেটানোয় ক্ষান্ত দিয়ে বাঁচল। কেন? সব ছাত্র-ছাত্রী কি আর মেধাবী আর বুদ্ধিমান হয়? এমনও তো হয় যাদের পড়াতে গেলে নিজের শেখা বিদ্যেও ভুলে যাওয়ার উপক্রম হয়! যাই হোক, ওরা দুজনে একই সাবজেক্ট নিয়ে আলাদা কলেজে ভর্তি হল। কিন্তু অনার্সের পড়ায় কারো সাহায্য পেলেই ভালো হয়। পিউ এখন অনেক সহজ, সে খোঁজখবর নিয়ে একজন স্যারের কথা বলল পুঁটিকে। পুঁটিও রাজি।

পড়তে গিয়ে দেখা গেল যে, খুবই সুদর্শন স্যার একাধারে দুটি বিষয় পড়ান। প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী। কলেজেও উনি দুটি বিষয়ের পার্টটাইম শিক্ষক। পুঁটিরা নিতান্ত সংখ্যালঘু। অন্য বিষয়ের গাদা গাদা স্টুডেন্ট। স্যার ওদের বুঝিয়ে দিয়ে কাগজে হাতে লেখা নোট দেন, ওরা তাই টুকে আনে। একই সময় অন্যদলের নানা ইয়ারের স্টুডেন্টও পড়াচ্ছেন অর্থাৎ তাদের অল্প বুঝিয়ে নোট দিচ্ছেন।

এখন হয়েছে কি, সল্ট লেকের এক আবাসনে স্যারের ছোট ফ্ল্যাট। সেখানেই অন্য অন্য ব্লকে তার প্রবাসী দাদার ও ছোট ভাইয়ের ফ্ল্যাট। তাই কোনদিন দাদার ফ্ল্যাটে, কোনদিন ভাইয়ের ফ্ল্যাটে, কোনদিন স্যারের ফ্ল্যাটে, কোনদিন বা ছাদে পড়ানো হতে লাগল। একসময় তো স্যারের শ্বশুরবাড়ি মানে সল্ট লেকের এক প্রাসাদোপম বাড়িতেও পড়তে যেতে হয়েছে। স্যারের প্রবাসী দাদার ফ্ল্যাটে স্যারের মা থাকতেন। সেখানে স্যারের দিদির ছেলেও থাকত বা খুবই যাতায়াত করত। সেও বোধহয় স্টুডেন্টই ছিল সেই সময়, কিন্তু সে ছিল যাকে বলে যাতা রকম হ্যান্ডসাম। সেই ৬ ফুট লম্বা মডেলের মত দেখতে তথাগত মুখার্জীকে দেখেই ৪ ফুট ১০ ইঞ্চির পিউ চ্যাটার্জী ( পুঁটিকে বিন্দুমাত্র চান্স না দিয়ে) হুড়মুড়িয়ে প্রেমে পড়ে গেল।

পড়তে যাবার দিনগুলোয় একেকদিন পিউকে ডাকতে গিয়ে একেক রকমভাবে চমকাত পুঁটি- কোনদিন লং স্কার্ট-টপের সাথে লম্বা সিল্কি স্কার্ফ দিয়ে চুল বাঁধা, কোনদিন বা ঝলমলে শাড়ী পরণে পিউকে দেখে সাদামাটা পুঁটির চোখ কপালে! আর সারাদিন, সারারাত, বিশেষ করে সারারাস্তা পিউদেবীর সেকি টানটান উত্তেজনা!! আজ কোন ফ্ল্যাটে পড়া হবে কে জানে!! দেখা কি পাওয়া যাবে আজ "তার"! আর যদি কোনক্রমে অন্য ফ্ল্যাটে পড়া হত, তাহলে টোকার ফাঁকে ফাঁকে চলত গুজুরগুজুর শলাপরামর্শ- কোন অজুহাতে ঐ ফ্ল্যাটে যাওয়া যায় কিনা!! দিদার ফ্ল্যাটে পড়া হলেও তথাগতর দেখা পাওয়া যাবেই তার কোন গ্যারান্টি ছিল না।

তথাগত কোনদিন তাদের খেয়ালও করেছে কিনা সন্দেহ, কিন্তু পিউ তাকে নিজের জীবনমরণ সবকিছু বলে ধরে নিয়েছে। একদিন স্যারের বাড়ির বাথরুমে ছোট ট্যান্ক ভরে জল উপচে পড়ছে, ফ্ল্যাটে স্যার নেই। পুঁটি হাত বাড়িয়ে সেই ট্যাপ বন্ধ করে দিতেই যাচ্ছিল। কিন্তু ওকে থামিয়ে পিউ ঝপ করে উঠে পড়ল কমোডের ওপর, এমনিতে তো হাত পৌঁছত না ওর। ঘেন্নায় মরে গিয়ে পুঁটি বলল- "এ আবার কী? আমি করছিলাম তো। ফট করে তুই ওখানে উঠে পড়লি কেন?" পিউ বলল- "আমার মামাশ্বশুরের বাড়ির কাজ আমি থাকতে তুই কেন করবি?"

স্যারের মাথায় নানা অদ্ভুত অদ্ভুত বুদ্ধি খেলত। একবার মনে হল যে, ছেলেমেয়েগুলো এত দূর থেকে পড়তে আসে, এতক্ষণ থাকে, ওদের নিশ্চয়ই খুব ক্ষিদে পেয়ে যায়। একটা টিফিনের ব্যবস্থা করতে হবে, সেই বাবদ কিছু টাকা বাড়তি দেবে ছাত্র-ছাত্রীরা। তো সেইমত শুরু হল টিফিনপর্ব। রোজ কেউ না কেউ টিফিন ম্যানেজার হত, দোকানে গিয়ে তাকে কেক, মিষ্টি এসব নিয়ে আসতে হত। যেদিন পুঁটি-পিউ পড়তে যেত, সেদিন অবধারিতভাবে পিউই ম্যানেজার, ঐ সেই একই "মামাশ্বশুর" থিয়োরী অনুযায়ী!

কী যে উথালপাতাল দিন সে সব! ফার্স্ট ইয়ার প্রায় শেষ হয় হয়, পিউর প্রেমপর্ব যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই। এমন সময় একদিন পিউ কলেজে একজনের কাছে মানেবই ধরণের একটা বই দেখল। আর কী আশ্চর্য, দেখা গেল যে স্যারের দেওয়া সমস্ত নোট ঐ বইতেই আছে। পুঁটি তো পুঁটি, পিউ পর্যন্ত রেগে টং!! এভাবে লোকঠকানো!! আর ঐমুখো হওয়া নেই, যথেষ্ট হয়েছে! পুঁটি পিউকে নিয়ে একটু চিন্তায় ছিল। কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল সেই বেশি চটিতং। ওরা নিজেরাই ন্যাশনাল লাইব্রেরী গিয়ে পড়াশুনা শুরু করল। সে আরেক দারুণ মজার পর্ব! যাই হোক, রেজাল্ট হল মোটামুটি! আর সেকেন্ড ইয়ারে উঠেই পিউ হাঁটু ভেঙ্গে এক সহপাঠীর প্রেমে পড়ল।

তবে এইবার পুঁটি বন্ধুর প্রেমে ভাগ বসায় নি বলে যে সে কোনকালেই কোন বন্ধুর প্রেমে ভাগ বসায় নি এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই কিন্তু! কথাতেই তো আছে "everything is fair in ......" etc হেঁ হেঁ হেঁ!!

©sangitaghoshdastidar


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 3 -- 22
Avatar: de

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

খুব ভালো হচ্চে রাত্তির! পরের পর্ব তাড়াতাড়ি আসুক!
কতো দিন পর দেখলাম-
Avatar: Sangita

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

ওহ!! থেন্কু!!
Avatar: কান্তি

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

এমন রসের ভাঁড়ার নিয়ে কোরছিলে কি? তাড়াতাড়ি চাই এবার।
Avatar: Du

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

হোক হোকঃ) পুঁটিকাহিনী জিন্দাবাদ!
Avatar: San Gita

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

আহা!! পুঁটি বিগলিত!!
Avatar: aranya

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

বাঃ, দারুণ
Avatar: Sangita

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

ধন্যবাদ! বড় উৎসাহ পাই!
Avatar: Boka

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

দিব্বি। পরের কিস্তির--
Avatar: Suhasini

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

আরও রোমাঞ্চের আশায় বসে আছি। দাও, তাড়াতাড়ি?
Avatar: San Gita

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

তৃতীয় কিস্তি দিলাম। আলাদা করে।
Avatar: Titir

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

পুঁটিকথা জমে ক্ষীর! আরো চাই।
Avatar: San Gita

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

আনন্দ আমারই বেশি। ধন্যবাদ!
Avatar: PM

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

খুব ভলো হছ্ছে। কুমুদির লেখার ইস্টাইল অনেককে অনুপ্রানিত করছে ঃ)..... খরা কবলিত গুরুতে স্বস্তির বৃষ্টি ঃ)
Avatar: Du

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

আরে এটা আগেই লেখা
Avatar: Du

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

দেখেছ অনেকদিন না লিখলে কি হয়!
Avatar: PM

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

দুঃখিত--জান্তাম না। লেখার স্টাইলে খুম মিল আছে মোনে হোলো বলে বল্লাম
Avatar: Suhasini

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

তৃতীয় কিস্তি কোথায় দিলে? খুঁজে পাচ্ছি না।
Avatar: Suhasini

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

পেয়েছি এইবারে।
Avatar: নিনা

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

পুঁটিরানি গেল কই-- নেশা হয়ে গেছে অথ পুঁটি ঘটিত পড়ার ---
Avatar: San Gita

Re: #পুঁটিকাহিনী 1- একেই কি বলে ফেমিলি?

চতুর্থপর্ব দিলাম নীনাদি।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 3 -- 22


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন