Arijit Guha RSS feed

Arijit Guhaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সেটা কোনো কথা নয় - দ্বিতীয় পর্ব - ত্রয়োদশ তথা অন্তিম ভাগ
    অবশেষে আমরা দ্বিতীয় পর্বের অন্তিমভাগে এসে উপস্থিত হয়েছি। অন্তিমভাগ, কারণ এরপর আমাদের তৃতীয় পর্বে চলে যেতে হবে। লেখা কখনও শেষ হয় না। লেখা জোর করেই শেষ করতে হয়; সেসব আমরা আগেই আলোচনা করেছি।তবে গল্পগুলো শেষ করে যাওয়া প্রয়োজন কারণ এই পর্বের কিছু গল্প পরবর্তী ...
  • প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে..
    'তারা' আসেন, বিলক্ষণ!ক্লাস নাইনযষ্ঠীর সন্ধ্যে। দুদিন আগে থেকে বাড়াবাড়ি জ্বর, ওষুধে একটু নেমেই আবার উর্ধপারা।সাথে তীব্র গলাব্যাথা, স্ট্রেপথ্রোট। আমি জ্বরে ঝিমিয়ে, মা পাশেই রান্নাঘরে গুড় জ্বাল দিচ্ছেন, দশমীর আপ্যায়ন-প্রস্তুতি, চিন্তিত বাবা বাইরের ...
  • জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরী, করেছো দান
    Coelho র সেই বিখ্যাত উপন্যাস আমাদের উজ্জীবিত করবার জন্যে এক চিরসত্য আশ্বাসবাণী ছেড়ে গেছে একটিমাত্র বাক্যে, “…when you want something, all the universe conspires in helping you to achieve it.”এক এন জি ও'র বিশিষ্ট কর্তাব্যক্তির কাছে কাতর ও উদভ্রান্ত আবেদন ...
  • 'দাগ আচ্ছে হ্যায়!'
    'দাগ আচ্ছে হ্যায়!'ঝুমা সমাদ্দার।ভারতবর্ষের দেওয়ালে দেওয়ালে গান্ধীজির চশমা গোল গোল চোখে আমাদের মুখের দিকে চেয়ে থাকে 'স্বচ্ছ ভারত'- এর 'স্ব-ভার' নিয়ে। 'চ্ছ' এবং 'ত' গুটখা জনিত লালের স্প্রে মেখে আবছা। পড়া যায় না।চশমা মনে মনে গালি দিতে থাকে, "এই চশমায় লেখার ...
  • পাছে কবিতা না হয়...
    এক বিশ্ববন্দিত কবি , কবিতার চরিত্রব্যাখ্যায় বলেছিলেন, '... Spontaneous overflow of powerful feeling,it takes its origin from emotion recollected in tranquility'আমি কবি নই, আমি সুললিত গদ্য লিখিয়েও নই, শব্দ আর মনের ভাব প্রকাশ সর্বদা কলহরত দম্পতি রুপেই ...
  • মনীন্দ্র গুপ্তর মালবেরি ও বোকা পাঠক
    আমি বোকা পাঠক। অনেক পরে অক্ষয় মালবেরি পড়লাম। আমার একটি উপন্যাস চির প্রবাস পড়ে দেবারতি মিত্রর খুব ভাল লাগে। উনিই বললেন, তুমি ওনার অক্ষয় মালবেরি পড় নি? আজি নিয়ে যাও, তোমার পড়া বিশেষ প্রয়োজন। আমি সম্মানিত বধ করলাম। তাছাড়া মনীন্দ্র গুপ্ত আমার প্রিয় কবি প্রিয় ...
  • আপনি কি আদর্শ তৃণমূলী বুদ্ধিজীবি হতে চান?
    মনে রাখবেন, বুদ্ধিজীবি মানে কিন্তু সিরিয়াস বুদ্ধিজীবি। কথাটার ওজন রয়েছে। এই বাংলাতে দেব অথবা দেবশ্রী রায়কে যতজন চেনেন, তার দুশো ভাগের এক ভাগও দীপেশ চক্রবর্তীর নাম শোনেননি। কিন্তু দীপেশ বুদ্ধিজীবি। কবির সুমন বুদ্ধিজীবি। তো, বুদ্ধিজীবি হতে গেলে নিচের ...
  • উন্নয়নের তলায় শহিদদের সমঝোতা
    আশা হয়, অনিতা দেবনাথরা বিরল বা ব্যতিক্রমী নন। কোচবিহার গ্রামপঞ্চায়েতের এই তৃণমূল প্রার্থী তাঁর দলের বেআব্রু ভোট-লুঠ আর অগণতন্ত্র দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই তামাশায় তাঁর তরফে কোনও উপস্থিতি থাকবে না। ভোট লড়লে অনিতা বখেরা পেতেন, সেলামি পেতেন, না-লড়ার জন্য ...
  • ইচ্ছাপত্র
    আমার ডায়াবেটিস নেই। শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে (যদি কখনো ধরা পড়েও বা, আমি আর প্যাথোলজিস্ট ছাড়া কাকপক্ষীতেও টের পাবে না বাওয়া হুঁ হুঁ! ) হ', ওজন কিঞ্চিত বেশী বটেক, ডাক্তারে বকা দিলে দুয়েক কেজি কমাইও বটে, কিঞ্চিত সম্মান না করলে চিকিচ্ছে করবে কেন!! (তারপর যে ...
  • হলদে টিকিটের শ্রদ্ধার্ঘ্য
    গরমের ছুটিটা বেশ মজা করে জাঁকিয়ে কাটানো যাবে ভেবে মনটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছিলো সকাল থেকে। তার আগে বাবার হাত ধরে বাজার করতে যাওয়া। কিন্তু একি গঙ্গার ধারে এই বিশাল প্যান্ডেল...কি হবে এখানে? কেউ একজন সাইকেলে চড়ে যেতে যেতে বলে গেল “মাষ্টারমশাই...বালীত...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

টুকরোটাকরা ৪

Arijit Guha

দাদামণি অশোক কুমারের প্রপিতামহ মানে মায়ের ঠাকুরদা ছিলেন ভাগলপুরের রাজা শিবচন্দ্র ব্যানার্জি।আগেই লিখেছি সে কথা।ছোটবেলায় অশোক কুমার একটা বড় সময় ভাগলপুরে কাটিয়েছিলেন।সেই সময় মাঝে মাঝেই রাজা শিবচন্দ্র ব্যানার্জি বাচ্চা অশোক কুমারকে ডেকে বলতেন 'অ্যাই ছোড়া, একটা গল্প শোনা'।আসলে অশোক কুমার ছোটবেলায় খুব ভালো বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলতে পারতেন।এবার পরদাদা,মানে প্রপিতামহর নির্দেশে গল্প বলতে শুরু করতেন, 'কাল আমি একটা জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হাঁটছিলাম তখন কত কত পাখিরা কিচিরমিচির করছিল ময়ূর নাচছিল আমার খুব ভালো লাগছিল।এই সময়ে কি হল জানো,একটা বাঘের গর্জন শুনতে পেলাম।ঘুরে তাকাতেই দেখি একটা বাঘ আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।আমি তো ভয়ে ছুটে পালাতে লাগলাম।বাঘটা এই ধরে ফেলে ধরে ফেলে,সেই সময়ে আমার দু পাশ থেকে দুটো পাখা বেরিয়ে এলো আর বাঘটা ধরার আগেই আমি গাছপালা ভেদ করে উড়ে উড়ে বাড়িতে চলে এলাম।'
শিবচন্দ্র ব্যানার্জি জিজ্ঞাসা করল, 'বটে, তা তখন আমি কি করছিলাম!এত কিছু হয়ে গেল আমি জানতেই পারলাম না।'
অশোক কুমার বললেন, 'তুমি তো দুপুরবেলা তখন নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছিলে।'
এরকম মাঝে মাঝেই এক বৃদ্ধ আর এক শিশুর গল্প জমে ওঠে।একদিন এরকম গল্পের মাঝেই একজন যুবক ঢুকল।গায়ের রঙ কালো কিন্তু দেখতে খুব সুন্দর।আর সবথেকে উজ্জ্বল তার চোখদুটো।
উনি ঘরে আসতেই শিবচন্দ্র বলে উঠলেন, 'আরে এসো এসো,বসো।তারপর তোমার মামার সাথে সেদিন দেখা হল।খুব দুঃখ করে বলছিলেন জানেন রাজা সাহেব,আমার ভাগ্নেটা কিছু করে না।খুব দুশ্চিন্তায় আছি ওকে নিয়ে।মানুষ হল না।' বলে অশোক কুমারকে দেখিয়ে বললেন এই দেখো এ হচ্ছে আমার নাতনির ছেলে অশোক।
যুবকটি বলল অশোক নামে তো একজন পৃথিবীবিখ্যাত সম্রাটও ছিলেন।
রাজা সাহেব তখন বললেন আমার পুতিও কিন্তু তোমার চেয়ে কম যায় না।ও-ও খুব ভালো গল্প বলে জানো।
যুবকটি শুনে বলল,তাই নাকি?তা বেশ বেশ।আমাকে একটা গল্প শোনাও তো।
অশোক কুমার তখন যুবকটিকে বলল তুমি রুপোর ভাত আর রুপোর পটলভাজা খেয়েছ?
যুবকটি হেসে তখন বললেন,ওসব রুপোর জিনিস দেখলেই খেয়ে ফেলব সাথে সাথে।
দুজনের জমে গেল খুব।

এর অনেক পরে যখন অশোক কুমার সিনেমার হিরো আর তার ছবি পরপর হিট হয় তখন কলকাতার নিউ থিয়েটার্স এর এমডি বীরেন্দ্র সরকার অশোক কুমারকে নিউ থিয়েটার্সে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং অশোক কুমারকে ওনাদের অফিসে আসতে বলেন।
নিউ থিয়েটার্সের অফিসে এসে অশোক কুমার দেখেন বোর্ডের সদস্যরা ছাড়াও আরো একজন কালো মত সুদর্শন লোক বসে আছেন।মাথার চুলগুলো ধবধবে সাদা আর চোখ দুটো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে।
ভদ্রলোক অশোক কুমারকে বলে উঠলেন,আমাকে চিনতে পারছ?ছোটবেলায় আমাকে রুপোর ভাত আর রুপোর পটলভাজার গল্প শুনিয়েছিলে মনে আছে?
পাশ থেকে বীরেন্দ্র সরকার অশোক কুমারের সাথে ওনার পরিচয় করিয়ে দিলেন, 'ইনি আমাদের গর্ব শ্রীযুক্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।'
অশোক কুমার নিচু হয়ে প্রণাম করলে পর শরৎচন্দ্র বলে ওঠেন 'ওই রুপোর ভাত আর রুপোর পটলভাজা কিন্তু এখনো জোটে নি।'

এরপর অশোক কুমার সবাইকে বললেন 'শরৎ বাবুর মামা নভেলিস্ট উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় আমার পরদাদাকে খালি বলতেন আমার ভাগ্নেটাকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।কিছুতেই মানুষ হল না।

শেয়ার করুন


Avatar: Arindam

Re: টুকরোটাকরা ৪

প্রমাতামহ?

Avatar: Du

Re: টুকরোটাকরা ৪

ভালো লাগলো পড়ে। আঅরো হোক এরকম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন