Tathagata Dasmjumder RSS feed

Tathagata Dasmjumderএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ট্রিনিটি
    ট্রিনিটিসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পসিড একটু নড়েচড়ে বসে মাথা চুলকে বলল, পিকুদা, মোটা মাথায় কিস্সু ঢুকছে না। একটু বুঝিয়ে বলো। একদিকে এক বিশাল কৃষ্ণ গহ্বর, অপরদিকে একটি সুপারনোভা। মাঝের জায়গাটাই আপাতত স্বর্গের বর্তমান ঠিকানা। তারই একপাশে এক সবুজ প্রশস্ত ...
  • এবং আফস্পা...
    (লেখাটি আঁকিবুকি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।)২১শে ফেব্রুয়ারী,১৯৯১। কাশ্মীরের কুপওয়াড়া জেলার কুনান পোসপোরা গ্রামে ইন্ডিয়ান আর্মি সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের খোঁজে ঢোকে।পুরুষ ও নারীদের আলাদা করা হয়।পুরুষদের অত্যাচার করা হয় তদন্তের নামে। আর সেই রাতে ১৩ থেকে ৮০ ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-৩স্নেহের বরেণ, মানিকচকের বাজারসরকার মারফৎ সংবাদ পেলাম তোমার একটি পুত্র সন্তান হয়েছে। বংশের পিদিম জ্বালাবার লোকের যে অভাব ছিল তা বুঝি এবার ঘুঁচলো। সঙ্গে একটি দুঃসংবাদে হতবাক হলাম।সন্তান প্রসবকালে তোমার স্ত্রী রানীর অকাল মৃত্যু। তুমি আর কি করবে বাবা? ...
  • পুঁটিকাহিনী ৮ - বাড়ি কোথায়!!
    একটা দুষ্টু পরিবারের বাড়িতে পুঁটিরা ভাড়া থাকত। নেহাত স্কুল কাছে হবে বলে বাড়িটা বাছা হয়েছিল, নইলে খুবই সাদামাটা ছিল বাড়িটা। ২৭৫ টাকা ভাড়ায় কেজি টুতে ঐ বাড়িতে চলে আসে পুঁটিরা। ও বাড়ির লোকেরা কথায় কথায় নিজেদের মধ্যে বড্ড ঝগড়া করত, যার মধ্যে নাকি খারাপ খারাপ ...
  • WannaCry : কি এবং কেন
    "স্টিভেন সবে সকালের কফি টা হাতে করে নিয়ে বসেছে তার ডেস্ক এ. রাতের শিফট থাকলে সব সময়েই হসপিটাল এ তার মেজাজ খারাপ হয়ে থাকে। উপরন্তু রেবেকার সাথে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ঝগড়া টাও তার মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। বাড়ি ফিরেই আজ তার জন্যে কিছু একটা ভালো কিছু ...
  • কাফিরনামা...(পর্ব ২)
    আমার মতন অকিঞ্চিৎকর লোকের সিরিজ লিখতে বসা মানে আদতে সহনশীল পাঠকের সহ্যশক্তিকে অনবরত পরীক্ষা করা ।কোশ্চেনটা হল যে আপনি কাফিরনামা ক্যানো পড়বেন? আপনার এই দুনিয়াতে গুচ্ছের কাজ এবং অকাজ আছে। সব ছেড়ে কাফিরনামা পড়ার মতন বাজে সময় খুদাতলা আপনাকে দিয়েছেন কি? ...
  • #পুঁটিকাহিনী ৭ - ছেলেধরা
    আজ পুঁটির মস্ত গর্বের দিন। শেষপর্যন্ত সে বড় হল তাহলে। সবার মুখে সব বিষয়ে "এখনও ছোট আছ, আগে বড় হও" শুনে শুনে কান পচে যাবার জোগাড়! আজ পুঁটি দেখিয়ে দেবে সেও পারে, সেও কারো থেকে কম যায় না। হুঁ হুঁ বাওয়া, ক্লাস ফোরে কি আর সে হাওয়া খেয়ে উঠেছে!! রোজ মা মামনদিদি ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-২ঝাঁ-চকচকে শহরের সবচেয়ে বিলাসবহুল বহুতলের ওপরে, সৌর বিদ্যুতের অসংখ্য চাকতি লাগানো এ্যান্টেনার নীচে, একটা গুপ্ত ঘর আছে। সেটাকে ঠিক গুপ্ত বলা যায় কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। যাহা চোখের সামনে বিরাজমান, তাহা গুপ্ত হয় কেমনে? ভাষা-বিদ্যার লোকজনেরা চোখ ...

মানবজনম

Tathagata Dasmjumder



পঁচিশ লক্ষ বছর আগে, দক্ষিণ আফ্রিকা, দিনালেদি নদীর উপত্যকা

মাহর প্রসবকাল আসন্ন, তাই তাকে আর খাদ্যসংগ্রহে যেতে হয়না। গোষ্ঠীবদ্ধ জীব হওয়ার এই একটা বড় সুবিধা, তার ওপর আবার মাহ দলপতির সঙ্গিনী, তাই আগত শিশু এবং শিশুর মায়ের খাদ্যাভাব হয়না। একটা পাথরের ছায়ায় ডিসেম্বরের অসহনীয় গরম থেকে তাই নিজেকে রক্ষা করছিল মাহ। গোষ্ঠীর প্রায় সকলেই খাদ্যসংগ্রহে গেছে, কিছু শিশু আর সদ্যমাতা ছাড়া কেউ নেই আশেপাশে। মাহরা যে রক আউটক্রপটার ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিল, তার ঠিক পেছনে আরেকজন মা তার বাচ্চাদের জন্য শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
এই দুপেয়ে লেজকাটা বাঁদরগুলোকে শিকার করা সবচেয়ে সোজা যদিনা এদের দলটা বড় হয়, অসুবিধা হয় তখনই যখন এরা জাদুবলে দূর থেকে নিজেদের থাবা ছুঁড়ে দেয় বা সরু লম্বা থাবা দিয়ে খোঁচাতে আসে। আজ সুবর্ণ সুযোগ, এদের দলের একটা বড় অংশ কোথায় একটা গেছে, এই সুযোগে একটা বাচ্চাকে যদি শিকার করে আনা যায় তাহলে দিনদুয়েকের জন্য মা সেবারটুথের চিন্তার অবসান হয়।
********************************************
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩, জোহানেসবার্গের অদূরে

রিক আর স্টিফেন অনেকক্ষণ ধরে ঘুরতে ঘুরতে রক আউটক্রপটার তলায় এসে বসেছিল।
"আজকের দিনটা মনে হয় বৃথাই গেল, একটা গুহা পেলামনা যেটা ইন্টারেস্টিং"
ওয়াটার বটলটাকে গলায় উপুড় করে দিয়ে বলল রিক।
"যা বলেছ, পেড্রো বলেছিল ১২৭ আওয়ার্স সিনেমায় দেখানো গুহার মত গুহা পাওয়া যাবে এখানে যা নাকি রাইজিং স্টার কেভ সিস্টেমের অংশ, কিন্তু কোথায় কি?"
হাতের লাঠিটা দিয়ে সামনের ধুলোয় আঁকিবুকি কাটতে কাটতে উত্তর দিল স্টিফেন।
রিক বলল,
"স্টিভ, এক কাজ করি চল, একটু বিশ্রাম নিয়ে এই আউটক্রপটার ওপরে উঠে চারদিকটা শেষবারের মত সার্ভে করে নি, যদি কিছু নজরে আসে"
স্টিফেন বলল,
"হুম, ঠিক বলেছ, আরেকটু বসে নিলে হয়না?
যা গরম, একটা বিয়ার দাও তো"
ঘন্টাখানেক পরে দুই ক্লান্ত অ্যামেচার কেভার রক আউটক্রপটার ওপরে উঠে দেখল ওপর থেকে একটা গর্ত নীচে নেমে গেছে। আনন্দে লাফিয়ে উঠল দুজনে, এখানে এরকম একটা গুহা আছে বলে তো জানা ছিলনা।

পঁচিশ লক্ষ বছর আগে, দক্ষিণ আফ্রিকা, দিনালেদি নদীর উপত্যকা

মাহরা এই রক আউটক্রপটার ছায়াতে বাস করে একটা বিশেষ কারনে। গাছে রাত্রিবাস করলে যদিও বিপদের সম্ভাবনা কম থাকে, কিন্তু ফল পাড়া ছাড়া শাখামৃগবৃত্তি তারা আর তেমন করেনা, যদিও মাটির সাথে গাছেও তারা সমানভাবে স্বচ্ছন্দ। মা
সেবারটুথের লক্ষ্য এখন মাহর মধ্যম সন্তান সেথের দিকে স্থির। সেথ তখন একটা কাঠি মুখে নিয়ে চুষছিল, লালায় ভিজে গেলে সেটা সে ঢোকাবে উইঢিপির মধ্যে, উঠে আসবে স্বাদু পোকাগুলো।
আসন্ন মুখরোচক খাবারের লোভে সে বেশ অন্যমনস্ক। মা সেবারটুথ ঘাসের আড়ালে গুঁড়ি মেরে ততক্ষণে অনেকটাই এগিয়ে এসেছে, মাহ যখন তাকে দেখতে পেল ততক্ষণে অনেকটাই দেরী হয়ে গেছে। মা সেবারটুথ সেথের গলা লক্ষ্য করে ঝাঁপ দিয়ে দিয়েছে ততক্ষণে। গর্ভিনী মাহ হাতের কাছে থাকা পাথরটাকেই ছুঁড়ে দিল মা সেবারটুথের চোখটা লক্ষ্য করে। তার লক্ষ্য ভুল হয়না, লক্ষ্যভেদে এই দক্ষতাই তার দলপতির প্রধান সঙ্গিনী হয়ে ওঠার অন্যতম কারন।
********************************************
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩, জোহানেসবার্গের অদূরে

দড়িদড়া বেয়ে কোনরকমে নিচে নামল দুজনে, গুহার অভ্যন্তর বেশ অপ্রশস্ত আর ততোধিক অন্ধকার। স্টিফেন টর্চটা জ্বালিয়ে একটু ভাল করে দেখে নিতে চাইল চতুর্দিক। যা দেখল তাতে তার মনটা আনন্দে প্রায় নেচে উঠল, যে খাড়াই অংশটা বেয়ে তারা নেমেছে সেটাকে বড়জোর মুখ বলা চলে, গুহাটা এরপর ঢালু হয়ে মিশে গেছে গভীর অন্ধকারে।
রিক বলল,
"এগোবে নাকি?"
"এগোতে তো হবেই, আমার মনে হয় আগে গিয়ে এই গুহাটা মূল রাইজিং স্টার কেভ সিস্টেমের সাথে যুক্ত হয়েছে"
"চল, দেখি গিয়ে"
বেশ কিছুটা এগোনোর পর তারা দেখল সামনে পাথুরে দেওয়াল। তারা হতাশ হয়ে ফিরেই আসত, যদিনা রিকের নজর পড়ত দেওয়ালের একদম তলার একটা গর্তের দিকে, যার উচ্চতা বড়জোর দশ ইঞ্চি।
"যাবে নাকি?"
"যদি এটা ডেড এন্ড হয়?"
"এক কাজ করি চল, আগে টর্চের আলো ফেলে দেখি?"
"ভাল আইডিয়া"
টর্চের আলো আঁধারিতে গর্তটার অন্যদিকে আরেকটা বড়সড় চেম্বার আছে বলেই বোধ হল দুজনের। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় দুই যুবকের রক্ত ততক্ষণে গরম হয়ে উঠেছে, তাদের মনে পড়ে যাচ্ছে ১২৭ ঘন্টার কথা। কে জানে, অপরপ্রান্তের চেম্বারে ১২৭ ঘন্টার মত কোন ভার্জিন লেক আছে কিনা।
******************************************

পঁচিশ লক্ষ বছর আগে, দক্ষিণ আফ্রিকা, দিনালেদি নদীর উপত্যকা

চোখের নিচে প্রবল আঘাত পেয়ে মা সেবারটুথ পিছু হঠল বটে, কিন্তু তার আগেই সেথের গলায় অতিবৃহৎ শ্বদন্তগুলো বসিয়ে দিয়েছিল। ততক্ষণে মাহর প্রবল গোষ্ঠীতে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে, একটু বড় বাচ্চারা হাতে তুলে নিয়েছে গাছের ডাল, অন্যান্য গর্ভিনী মহিলাদের হাতেও উঠে এসেছে পাথর। পূর্বঅভিজ্ঞতা থেকে তারা জানে যে একমাত্র বাধ্য না হলে সেবারটুথরা তাদের আক্রমণ করেনা, কারন তাদের কাছে যে আকাশের হলদে গোলকপ্রদত্ত লাল ফুল আছে। তাই সেবারটুথ হয়ত আবার ফিরে আসবে।
সেথের মৃতদেহ ঘিরে বসে রইল একদল গর্ভিনী ও বাচ্চা, আজ আর ফল ও মধু সংগ্রহে যাওয়া হবেনা, সৎকার করতে হবে যে।
এই সাভানার অন্য বাঁদরদের থেকে তারা এখানেই আলাদা। মৃত মানে মৃত নয় তাদের কাছে, মৃত মানে এক গভীর অন্ধকারের পথে যাত্রা, যে যাত্রার শেষে মৃতরা আকাশের হলুদ গোলকের পথে যাচ্রা করে এমন এক দেশে পৌঁছয়, যেখানে শ্বাপদ নেই, রাত নেই।
ইতিমধ্যে গোষ্ঠীর বাকি নারী পুরুষেরা ফিরে এসেছে। আজকের দিনটা বেশ ভাল ছিল, শিকারের প্রয়োজন হয়নি, একটা হায়নার দলকে তাড়িয়ে তাদের শিকার করা মোষের মাংস খুব সহজেই জোগাড় করা গেছে।
কিন্তু আজ মহাভোজের দিন নয়, সেথকে অন্ধকারের পথে যাত্রা করাতে হবে যে।
***********************************************

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩, জোহানেসবার্গের অদূরে

গুঁড়ি মেরে গর্তটার ভেতরে ঢুকে পড়ল দুজনে, প্রথমে রিক, তার পেছনে স্টিভেন। গর্তটা এতটাই অপ্রশস্ত যে হাতদুটোকে পর্যন্ত শরীরের পাশে রাখা যাচ্ছেনা। একটা হাতকে সামনে এগিয়ে রাখতে হচ্ছে।
রিক মনে মনে হেসে বলল,
"স্টিভেন, কেমন যেন মনে হচ্ছে সুপারম্যানের স্টাইলে উড়ছি, এই গর্তটার নাম সুপারম্যানস ক্রস দিলে কেমন হয়?"
স্টিভেন বহু কষ্টে শরীরটাকে সামনের দিকে টানতে টানতে বলল,
"যা বলেছ"
সামান্য এগোতেই দুজনে এসে পড়ল বেশ বড় একটা চেম্বারের মধ্যে। কিন্তু এ তো ফাঁকা, কিচ্ছু নেই। আবার হতাশা। এত কষ্ট করে শেষে এই?
এদিক ওদিক টর্চ ফেলে দেখা গেল যে সামনে একটা পাথুরে দেওয়াল ধাপে ধাপে ওপরে উঠে গেছে। রোগা রোগা চেহারার দুই দামাল দমলনা। ড্র্যাগনের পিঠের মত খাঁজকাটা দেওয়ালটার ওপরে ওঠা পর্যন্ত ওদের শান্তি নেই যে।
দেওয়ালটার একদম ওপরে আরেকটা গর্ত , গর্তের বদলে ক্র্যাক বলাই ভাল যেটা কিনা সোজা নিচে নেমে গেছে।
রিক বলল,
"এখানকার রক ফর্মেশনগুলো কিন্তু অসাধারন, কিছু ছবি তুলে রাখতেই হবে। স্টিফেন, একটু ক্র্যাকটায় নেমে যাবে? তুমি যা রোগা, ক্র্যাকটায় নিশ্চয় ফিট করে যাবে।"
রিককে জায়গা করে দেওয়ার জন্য স্টিফেন একটু নিচে নেমে গেল। কিন্তু একি, পায়ের নিচে মাটি নেই যে। না পড়ে সে যাবেনা, এতদিনের কেভিংএর অভিজ্ঞতায় সে জানে যে বড়জোর সাত ইঞ্চি চওড়া এই ক্র্যাকে নিজেকে কিকরে স্থির রাখতে হয়। কিন্তু পায়ের নিচে মাটি না থাকার অর্থ একটাই, এই গুহার বিস্তার আরও অনেক বড়। স্টিভেন ঠিক করল আরেকটু নিচে গিয়ে দেখবে। রিককে সেকথা জানিয়ে তাই শরীরটাকে একটু একটু করে ছাড়তে শুরু করল সে। প্রায় চল্লিশ ফুট নিচে যাওয়ার পর গুহার তলদেশ খুঁজে পেল সে। টর্চের আলোতে চারিদিকটা দেখে সে রিককে উদ্দেশ্য করে বলল,
"রিক, এখানকার স্ট্যালাকটাইট ফর্মেশনগুলো আরো সুন্দর"
তখনও সে জানেনা যে গুহার মূল বিস্ময় কিন্তু মাথার ওপরে বা পাশের দেওয়ালে নয়, পায়ের নিচে।
******************************************

পঁচিশ লক্ষ বছর আগে, দক্ষিণ আফ্রিকা, দিনালেদি নদীর উপত্যকা

সযত্নে লালিত লাল ফুলের অংশ শুকনো ডালের মুখে জন্ম দিল তার সন্তানের। আর সেই নতুন লাল ফুল মৃতকে নিয়ে যাবে অন্ধকারের পথে, যে পথ শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে যাবে হলুদ গোলকের দেশে। গোষ্ঠীপতি মাহস পথ দেখাল। পেছনে পেছনে আরও দুজন বহন করছে সেথের মৃতদেহ তারও পেছনে লাল ফুল হাতে আরও একজন। মিছিলটা ধীরে ধীরে ঢুকে গেল গুহার অভ্যন্তরে। মাহ ও মাহসদের বহু পূর্বপুরুষের ব্যবহৃত এই পথ বড়ই দুর্গম। সাভানা তার সন্তানদের ছাড়তে চায়না যে, তাই হয়ত যাত্রাপথ এত দুর্গম। লাল ফুলের আলোয় আলোকিত গুহার অভ্যন্তরে তখন নীল ও সবুজ রঙের খেলা। প্রাচীন আত্মারা হাত বাড়াচ্ছে সেথকে কাছে টেনে নেওয়ার জন্য। সাভানা যেখানে ঝুঁকে পড়ে মৃতদের আটকানোর শেষ চেষ্টা করে, সেই অংশে তাদেরকে নত হতে হয়। প্রায় শুয়ে পড়ে বুক ঘষে এগোতে এগোতে সাভানার কাছে চাইতে হয় মৃতকে হলুদ গোলকের রাজ্যে পাঠাবার অনুমতি। এরপর আর তেমন বাধা নেই, মশালের আলোয় পূর্বপুরুষদের অনেক অনেক হাত যেন ডাকছে সেথকে। ওই তো, সামনেই যাত্রাপথের শেষ, পরলোকের দরজা, অন্ধকার সেই গর্তের মধ্যে মাহরা ধীরে ধীরে নামিয়ে দিল সেথের মৃতদেহ। সেথের দেহ যখন গভীর অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে, মাহসের চোখে তখন বাষ্পের আগমণ। সেথ যে মাহর সাথে সাথে মাহসেরও ছেলে।
**********************************************

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩, জোহানেসবার্গের অদূরে

টর্চের আলো নিচে পড়ামাত্র চমকে উঠল স্টিভেন। এত হাড়!!!!! কিসের হাড় এগুলো? ভাবতে ভাবতেই স্টিভেনের চোখে পড়ল একটু দূরেই কার যেন চোয়ালের অংশ। স্টিভেন নৃতত্ত্ববিদ না হলেও বহুদিনের কেভিংএর অভিজ্ঞতা থেকে সে এটা অন্তত বোঝে যে এই চোয়ালটা সম্ভবত কোন মনুষ্যজাতীয় প্রাণীর। সঙ্গে সঙ্গে তার মনে পড়ে গেল পেড্রোর কথা। স্টিভেন রিককে ডেকে বলল।,
"এই ট্রিপটা বেশ লাভজনক হবে বলে মনে হয়, পেড্রো যা চেয়েছিল সেরকম অনেক ফসিল এখানে"

পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ আরো চিত্তাকর্ষক। গুহা থেকে বেরিয়ে রিক আর স্টিভেন ফোন লাগাল পেড্রোকে। শখের ফসিল হান্টার পেড্রো দুজনের তোলা ছবি দেখে এতটাই উত্তেজিত হয়ে হয়ে পড়ল যে রাত একটার সময় দৌড়ে গেল লি বার্জারের বাড়ি। জোর জোর ধাক্কা পড়ল বার্জারের দরজায়। বার্জার ঘুম থেকে উঠে কিছু বলার আগেই পেড্রো একটা ল্যাপটপের স্ক্রিন খুলে ধরল বার্জারের সামনে। স্ক্রিনের ছবিগুলো দেখে বার্জারের তো চক্ষু চড়কগাছ। এ তো প্রায় কমপ্লিট স্কেলিটন মনে হচ্ছে, সম্ভবত হোমো বা অস্ট্রালোপিথেকাসদের।
কদিন পরে বার্জার ফেসবুকে একটা পোস্ট দিলেন। যার বয়ান অনেকটা এরকম
"খ্যাংরাকাঠি অ্যানথ্রোপলজিস্ট চাই, যার ক্লস্টোফোবিয়া নেই"
তিপ্পান্নটা অ্যাপ্লিকেশন এসেছিল, যার মধ্যে থেকে সিলেক্ট করা ছজনই ছিল রোগাপাতলা চেহারার মহিলা। রোগাপাতলা না হলে যে গুহায় ঢোকাই যাবেনা।
***********************************************

উপসংহার

এখন এটা মোটামুটি সবাই জানে যে মানব বিবর্তনের সূত্রপাত হয় মোটামুটি ষাট থেকে সত্তর লক্ষ বছর আগে যখন শিম্পাঞ্জী ও মানুষের পূর্বপুরুষরা আদিম কোন এপ পূর্বপুরুষদের থেকে দুটো আলাদা পথে যেতে শুরু করে। এই ভাগ হয়ে যাওয়ার পর থেকে মানুষের পূর্বপুরুষরা দুপায়ে চলার কৌশল আবিষ্কার করে আর শিম্পাঞ্জীদের পূর্বপুরুষরা বেছে নেয় নাকল ওয়াকিংকে। তবে মানুষের এই পূর্বপুরুষরা দুপায়ে চলা শুরু করলেও আদতে তারা ছিল এপই। কোমরের নিচ থেকে দুপায়ে হাঁটার অভিযোজন থাকলেও কোমরের উপরের অংশতে তারা তখনও বানর। তাদের মস্তিষ্কের আকার অত্যন্ত ছোট, তারা যে অস্ত্র ব্যবহার করত এরকম কোন প্রমাণও মেলেনি। এই জাতীয় প্রাণীদেরকেই আমরা অস্ট্রালোপিথেকাস বলি যে গ্রুপের সবচেয়ে বিখ্যাত সদস্য হল লুসি। এই অস্ট্রালোপিথেকাসদেরই একটা অংশ ক্রমে বিবর্তিত হয়ে জন্ম দেয় প্রথমযুগের হোমো ইরেকটাসদের। কিন্তু মুশকিল হল এই অস্ট্রালোপিথেসিন আর হোমোদের সময়কালের মধ্যে প্রায় দশ লক্ষ বছরের ফারাক, আর এই সময়কালের মধ্যেকার যে ট্রানজিশন যেখানে কিছু কিছু অস্ট্রালোপিথেসিন গোষ্ঠী ক্রমে হোমো গোষ্ঠীতে পরিবর্তিত হতে শুরু করল সেই সময়ের ফসিল বড়ই অপ্রতুল। ফলে এই সময়কালটা বড়ই ধোঁয়াশায় ঢাকা। এই সময়ের প্রতিভূ হিসেবে মূলত যে দুটি প্রাণীকে চিহ্নিত করা হয়, তারা হল হোমো হ্যাবিলিস আর হোমো রুডলফেনসিস। কিন্তু এদের ফসিল যতটা না পাওয়া গেছে তার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে এদের ব্যবহৃত অস্ত্র। ফলে মোটামুটি এটা ধারনা করা হয়েছিল যে কিছু অস্ট্রালোপিথেকাস যখন ক্রমে হোমো গোষ্ঠীতে বিবর্তিত হতে থাকে তখন তাদের মূল পরিবর্তন হয় মস্তিষ্কের আকারবৃদ্ধিতে এবং যার ফলে এরা অস্ত্র তৈরি করতে শেখে। কিন্তু মুশকিলটা হল যখন অস্ট্রালোপিথেকাস গারহির ফসিল আবিষ্কার হল তখন দেখা গেল তারা অস্ট্রালোপিথেকাস হলেও সম্ভবত অস্ত্র ব্যবহার করত। লি বার্জারের আবিষ্কৃত ( আসলে তাঁর নবছরের ছেলে ম্যাক্সের আবিষ্কৃত) অস্ট্রালোপিথেকাস সেডিবার ফসিলের সাথে অস্ত্র না পাওয়া গেলেও দেখা গেল যে তাদের হাতের বুড়ো আঙ্গুল কিন্তু অপেজেবল (যেরকমটা মানুষের হয়) , অর্থাৎ তোরা কিন্তু চাইলে অস্ত্র ব্যবহার করতেই পারত। মহা মুশকিল।
আসলে ত্রিশ থেকে বিশ লক্ষ বছরের মধ্যবর্তী সময়ে পৃথিবীর জলবায়ু এত দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছিল যে অস্ট্রালোপিথেকাসদের নিজেকে অতি দ্রুত পরিবর্তিত করতে হয়েছিল। তাই প্রায় কুড়ি থেকে ত্রিশ লক্ষ বছর তারা এপ হিসেবে থেকেও মাত্র দশলক্ষ বছরের মধ্যে নিজেদের পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। কিন্তু সেইসময়ের ইতিহাসটা বড়ই ধোঁয়াশায় ঢাকা। আর এই অবস্থাতেই সম্ভবত রিক আর স্টিভেনের আবিষ্কৃত ফসিলগুলো।
সাধারনত একটা ফসিল পাওয়ার সমস্যাজনক। কিন্তু দিনালেদি গুহা থেকে প্রাপ্ত ফসিলগুলোতে অন্তত পনেরজন আদিমানবের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, শুধু তাই নয়, পাওয়া গেছে তাদের প্রায় সম্পূর্ণ কঙ্কাল। কিন্তু এরা কারা?
উত্তর পাওয়া গেল তাদের খুলির গড়ন থেকে। তারা অস্ট্রালোপিথেকাস নয়, বরং তারা যাত্রা শুরু করেছে হোমো হওয়ার পথে। কিন্তু তাদের শরীরের বাকি অংশতে আবার অস্ট্রালোপিথেকাসদের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। যেমন তাদের কাঁধের গঠন, বাঁকা আঙুল দেখে মনে হয় যে তারা সম্ভবত গাছে চড়তেও বেশ দক্ষ ছিল। এদিকে তাদের মস্তিষ্কের আকার অস্ট্রালোপিথেকাসদের চেয়ে কিছুটা বড়। এককথায় এরা হোমো আর অস্ট্রালোপিথেকাসদের বৈশিষ্ট্যের নকশীকাঁথার বলা যায়।
খুব সম্ভবত প্রকৃতি সেসময় হোমো গোষ্ঠী তৈরির আগে নানা পরীক্ষানীরিক্ষা চালাচ্ছিল। তাই একই সময়ে হোমো হ্যাবিলিস, হোমো রুডলফেনসিস এবং সদ্য আবিষ্কৃত এই ফসিল যার নাম দেওয়া হয়েছে হোমো নালেদি তাদের উদ্ভব।
কিন্তু সদ্য আবিষ্কৃত হোমো নালেদির সবচেয়ে চমকে দেওয়া বৈশিষ্ট্য অন্য জায়গায়। রিক আর স্টিভেন আবিষ্কৃত গুহা, যেখানে হোমো নালেদির এই ফসিলগুলো পাওয়া গেছে, সেই গুহা সম্ভবত লক্ষ লক্ষ বছর ধরে একইরকম আছে। তাহলে ফসিলগুলো ওখানে এল কেমন করে? একটা সম্ভাবনা হতে পারে যে কোন শ্বাপদ শিকার করে এনেছিল। কিন্তু সেই সম্ভাবনাটাকে বাদ দেওয়া যায় একারনেই যে গুহার ভেতরে একটিমাত্র পেঁচার ফসিল ছাড়া বাকি সবকটাই কিন্তু হোমো নালেদির। এমন কোন শ্বাপদের অস্তিত্ত্ব কল্পনা করা সত্যিই মুশকিল যে শ্বাপদ শুধুমাত্র আদিমানবদের শিকার করত। তাহলে?
আরেকটা সম্ভাবনা হতে পারে যে জলের সাথে ভেসে এসেছে। কিন্তু তাহলেও সে সমস্যাটা দেখা দিচ্ছে সেটা হল শুধুমাত্র হোমো নালেদির ফসিল এল কিকরে? অন্য কোনরকম প্রাণী, এমনকি গাছপালার চিহ্নও নেই কেন? এটাও টিকছেনা। তাহলে?
তৃতীয় সম্ভাবনা হল যে হোমো নালেদির একটা দল গুহার ভেতরে প্রবেশ করার পর কোনভাবে গুহার ছাদ ধ্বসে পড়ে, তাই তারা সেখানে আটকা পড়ে মারা যায়। কিন্তু লি বার্জার ভূতত্ত্ববিদদের মতামত নিয়ে দেখেছেন যে দিনালেদি গুহায় সম্ভবত এরকম কিছু ঘটেনি।
শার্লক হোমসের পদ্ধতি অবলম্বন করলে বলা যায় যে সমস্ত সম্ভাবনা যখন ভুল প্রমাণিত হয়, তখন পড়ে থাকা একমাত্র সম্ভাবনা, তা যতই অবিশ্বাস্য হোকনা কেন সেটাই সত্যি।
তাহলে এক্ষেত্রে সত্যটা কি?
দিনালেদি গুহার ফসিলগুলো মূলত বৃদ্ধ ও শিশুদের। হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে যেন কবরস্থান থেকে তোলা দেহাবশেষ। তাহলে কি এই গুহাকে হোমো নালেদিরা কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার করত? যদি তাই হয় তাহলে অস্ট্রালোপিথেকাস থেকে হোমো গোষ্ঠীর বিবর্তনের ইতিহাসটাই অন্যভাবে ভাবতে হয়। প্রাচীনতম মাস গ্রেভের প্রমাণ যা পাওয়া গেছে তা হল স্পেনে। হোমো হাইডেলবার্গেনসিসরা প্রায় পাঁচ লক্ষ বছর আগে এরকম মাস গ্রেভে তাদের আপনজনদের কবর দিত। কিন্তু তারা তো প্রায় মানুষই বলা চলে, সেক্ষেত্রে তাদের এরকম ব্যবহার আমাদেরকে অতটা আশ্চর্যজনক মনে হয়না। কিন্তু কুড়ি থেকে পঁচিশ লক্ষ বছর আগের এক প্রাণী, যাদের মস্তিষ্কের আকার বড়জোর সাড়ে পাঁচশ কিউবিক সেন্টিমিটার তাদের কাছ থেকে বারোশ কিউবিক সেন্টিমিটার মস্তিষ্কের হোমো হাইডেলবার্গেনসিসের সমতূল সাংস্কৃতিক রিচ্যুয়ালের অস্তিত্ত্ব পাওয়া শুধু অস্বাভাবিক নয়, অবিশ্বাস্যও বটে। লি বার্জারের প্রস্তাবিত হোমো নালেদির এই রিচ্যুয়ালিস্টিক ব্যবহার নৃতত্ত্ববিদদের মধ্যে এখনও হটলি ডিবেটেড যাকে বলে।
কিন্তু অন্যভাবে যদি ভেবে দেখা যায়, তাহলে কি এই ব্যবহার সত্যিই এতটা আশ্চর্যজনক? শিম্পাঞ্জীদের মধ্যেও কিন্তু মৃতদের জন্য শোকপ্রকাশের কিছু কিছু লক্ষণ দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা মৃতদেহকে ফেলে রেখে যেতেই চায়না, মা শিম্পাঞ্জীরা অনেকসময় মৃত বাচ্চাদেরকে বুক থেকে ছাড়তেই চায়না। এমনকি হাতিদেরও কিন্তু মাস গ্রেভ হয়। সেক্ষেত্রে এদের তুলনায় উন্নততর মস্তিষ্কের অধিকারী এই হোমো নালেদিদের মধ্যে তাদের থেকে উন্নতততর রিচ্যুয়ালের অস্তিত্ত্ব থাকাটা কিন্তু ততটাও অস্বাভাবিক নয়। হোম নালেদিরা সত্যিই কবর দিত কিনা তা অবশ্যই সময় বলবে, কিন্তু দুপায়ে হাঁটা বানরদের থেকে হোমো ইরেকটাসে বিবর্তনের, এককথায় মানবজনমের ধোঁয়াশাভরা ইতিহাসে হোমো নালেদিরা অবশ্যই আলো ফেলবে। যাদের কথা হয়ত জানাই যেতনা যদিনা দুজন অ্যামেচার কেভার অত্যন্ত রোগা না হত।
















মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 17 -- 36
Avatar: t

Re: মানবজনম

একটু কডা সমালোচনা চাই
Avatar: sswarnendu

Re: মানবজনম

লেখাটা বেশ সুখপাঠ্য হযেছে। কিন্তু অনেকগুলো জিনিস বুঝলাম না।

অস্ট্রালোপিথেকাস আর হোমো দের মধ্যে দশ লক্ষ বছরের ফারাক --- এইটা বুঝলাম না। A.Sediba তো ১৯ লক্ষ বছর আগের মোটামুটি আর সবচেয়ে পুরনো H. Habilis ফসিল ১৮ লক্ষ, তফাত তো এক লক্ষ বছরের। ঐটা কি টাইপো?

হোমো নালেদি ফসিলদের তো ডেটিং এখনো শেষ হয়নি বলে জানতাম। রিসেন্ট কিছু বেরিয়েছে? ( বেরোলে লিঙ্কটা এইখানে দেওয়ার দাবী জানালুম :) ) আগের রাফ এস্টিমেট এ রেঞ্জে ২৫ লক্ষটা এক্সট্রিম এন্ড ( রেঞ্জটা ২৫ লক্ষ থেকে ৯ লক্ষ ), তাই সেইটার ওপর ভিত্তি করেই লেখা হলে ২৫ লক্ষ না লেখাই ভাল। আর অস্ট্রালোপিথেকাসদের মত ছোট ব্রেইন সাইজ মানেই সময়কাল ও ওইরকম পুরনোর দিকেই হবে, বিবর্তন অত লিনিয়ার জিনিস নয় প্রায়শই।

শেষটা রিচুয়ালিস্টিক বারিয়ালই কিনা তাই নিয়ে, তবে তাতে বলার কিছু নেই, কারণ লেখাটা খুব স্পষ্ট করেই বলেছে যে এই নিয়ে বিতর্ক আছে, বলে সেই বিতর্কে একটা পক্ষ নিয়েছে। তবে আমার ব্যক্তিগত মতে এখনো অবধি নন-এক্সপার্ট দের কোন পক্ষ নেওয়ার মত তথ্যও সামনে আসেনি।
Avatar: Tathagata Dasmjumder

Re: মানবজনম

প্রতিটা কথাই ঠিক, সেদিবা সত্যিই হোমোদের প্রায় সমসাময়িক, কিন্তু সেদিবার মধ্যে বেশ কিছু হোমোদের চিহ্ন আছে (যেমন বুড়ো আঙুল)। যেমন হাতের আঙুলের গঠন। কিন্তু সেদিবার পরের সময়কালে আবার কোনরকম অস্ট্রালোপিথদের ফসিল পাওয়া যায়নি। আবার ত্রিশ থেকে বিশ লক্ষ বছরের মধ্যেকার সময়ে কোনরকম আদিমানবের ফসিলই অপ্রতুল। এদিকে সেদিবা হোক বা হোমো হ্যাবিলিস তাদের সবার মধ্যেই হোমোদের কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। কারো মস্তিষ্কের আকার বড়, কারো বা ছোট। মানে এই দশ লক্ষ বছরে হোমো হয়ে ওঠার পথে নিশ্চয়ই নানারকম এক্সপেরিমেন্ট হয়েছিল। তাই তার শেষে আমরা একদিকে পাই সেদিবা, অন্যদিকে হোমো হ্যাবিলিস। এমনকি নানারকম অস্ট্রালোপিথ ও প্রি হোমোদের মধ্যেকার ইন্টারব্রিডিংএর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায়না। সেজন্যই ওই দশ সক্ষ বছরের ধোঁয়াসার কথা বলেছি।

আর ২৫ লক্ষ বছরের ব্যাপারটা গল্প অংশটাকে নাটকীয়তা দেওয়ার জন্য মাত্র। ডেটিং এখনো হয়নি। ডেটিংএর সবচেয়ে বড় অসুবিধা হল যে এই ফসিলগুলো কোন নির্দিষ্ট ভূতাত্ত্বিক স্তরের মধ্যে পাওয়া যায়নি।
এই আলোচনাটাই চাইছিলাম, ধন্যবাদ sswarnendu
Avatar: Tathagata Dasmjumder

Re: মানবজনম

বিবর্তন লিনিয়ার নয় বলেই লি বার্জার একটি সুন্দর উপমা দিয়েছেন, যে মানব বিবর্তন সম্ভবত ব্রেইডেড স্ট্রিমের মত।
Avatar: sswarnendu

Re: মানবজনম

"হোমো হয়ে ওঠার পথে নিশ্চয়ই নানারকম এক্সপেরিমেন্ট হয়েছিল।" -- এইরকম বাক্যে বহু ভুল বোঝার সম্ভাবনা থেকে যায়। বিবর্তনের হোমো হয়ে ওঠার প্রতি বিশেষ যে মাথাব্যাথা নেই, ছিল না, থাকতে পারে না... সে আমরা নিজেদেরকে যতই স্পেশাল ভাবি না কেন--- এই ব্যাপারটা খানিক ঢাকা পড়ে যায় এরকম বাক্যে। ঐ সময়ের ক্লাইমেটিক ভ্যারিয়েশনের রেসপন্সে নানারকম ইভোল্যুশনারি স্ট্র্যাটেজি ইভল্ভ করে, এইরকম লেখায় সেই সম্ভাবনা কম। বস্তুত তখনকার স্ট্র্যাটেজি হিসেবে হোমো হ্যাবিলিস-এর স্ট্র্যাটেজি বেটার ছিল না বইসেই-র, সেটা আমরা আদৌ জানি না, তাই না? বরং খুব সম্ভবত বইসেই-ই বেটার অ্যাডাপ্টেড ছিল। পরের ক্লাইম্যাটিক চেঞ্জ উলটোদিকে না হয়ে আরও হার্শ হতে থাকলে হয়ত আর্লি হোমোরাই উবে যেত, বইসেই-রা থেকে যেত। প্রসঙ্গত বইসেইদের অনেক কিছুই গরিলাদের মত, অথচ তারা গরিলাদের পূর্বপুরুষ আদৌ নয়, সম্পূর্ণ আলাদা লিনিয়েজ। তাই হোমোদের বৈশিষ্ট্য থাকা মানেই সেদিবা জাতীয় লেট অস্ট্রালোপিথেসিনরা হোমোদের পূর্বপুরুষ, এইরকম একদমই নাও হতে পারে।
Avatar: dc

Re: মানবজনম

"হোমো হয়ে ওঠার পথে নিশ্চয়ই নানারকম এক্সপেরিমেন্ট হয়েছিল।" -- এইরকম বাক্যে বহু ভুল বোঝার সম্ভাবনা থেকে যায়।

একমত। যদিও দশ লক্ষ বছর ধরে এক্সপেরিমেন্ট করাটা একটু বাড়াবাড়ি।
Avatar: sswarnendu

Re: মানবজনম

দশ লক্ষ আর বিবর্তনের পক্ষে এমন কি বেশী সময়? সদ্য পুরোদস্তুর বাইপেডাল হয়েছে এমন স্পিসিস থেকে পাথরের টুল বানাতে জানে এমন স্পিসিস ইভল্ভ করা কি চাট্টিখানি কথা নাকি?
Avatar: sswarnendu

Re: মানবজনম

কম বেশী ২০ কোটি বছর পৃথিবীতে শুধু সরীসৃপরা রাজত্ব করে গেল, দশ লক্ষ তো নস্যি :)
Avatar: বোকা

Re: মানবজনম

অফ টপিক: এখন তো হোমো religionis।
Avatar: sswarnendu

Re: মানবজনম

সে তো অনেককালই :) এখন একটু বাড়াবাড়ির পিরিয়ড এই যা
Avatar: রৌহিন

Re: মানবজনম

নানারকম এক্সপেরিমেন্ট হয়েছিল - এতে ভুল বোঝার সম্ভাবনা কেন, ঠিক বুঝলাম না স্বর্ণেন্দু - মানে আমার অন্ততঃ পড়ে এরকম মনে হয় নি যে হোমো বানিয়ে উঠতে প্রকৃতি খুব ব্যস্ত ছিল এরকম অর্থ করা হয়েছে। এক্সপেরিমেন্ট তো হয়েই চলেছে - এখনো। শুধু হোমো নিয়ে এমনও নয় - পক্ষপাতের প্রশ্নও নেই। এই সেদিনই তো শুনলাম ডেঙ্গির মশার নাকি চরিত্র পালটে গেছে (কী শুনেছিলাম এখন মনেও পড়ছে না ছাই)।
Avatar: dc

Re: মানবজনম

ওরে বাবা একটু মজা করতে গেছিলাম ঃ(
Avatar: রৌহিন

Re: মানবজনম

আচ্ছা আচ্ছা - আসলে আজকাল মজা বুঝতেও সময় লেগে যাচ্ছে। :P তবে আমি দোষারোপ করিনি - সিরিয়াসলি যদি বলতেন তাহলে সিগনিফিকান্সটা বুঝতে চেয়েছিলাম মাত্র।
Avatar: রৌহিন

Re: মানবজনম

ওহহ ডিসি ওটা ইগনোর করুন - আমি ভেবেছিলাম ওটা স্বর্ণেন্দু লিখেছে - এখানে তো মন্তব্য মোছার উপায় নেই - দুঃখিত
Avatar: sswarnendu

Re: মানবজনম

@রৌহিন
আমিও লিখেছিই...

না সেই অর্থ বলতে চাওয়া হয়নি এতে আমিও নিশ্চিত, আমিও পরে এই অর্থ করিনি, আপনিও করেননি। কিন্তু অনেকে করে ফেলবেন, অজান্তেই। বিবর্তন নিয়ে সাধারণভাবে বেশিরভাগ মানুষের ধারণার মধ্যে একটা প্রোগ্রেসিভিস্ট নোশন আছে ( এক সময় আমার নিজেরও ছিল )-- সেইজন্যেই করে ফেলবেন। এই নিয়ে গুরুতেই একবার কোন একটা আলোচনায় লিখেছিলাম ।
Avatar: sswarnendu

Re: মানবজনম

ওহো, আপনারই সমকামিতা নিয়ে লেখার তলায় আলোচনাটা চলছিল।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: মানবজনম

বাপ্রে! কি কাণ্ড!
Avatar: Tathagata Dasmjumder

Re: মানবজনম

বইসেইদের কথাটা আমি ইচ্ছা করেই আনিনি স্বর্ণেন্দু, যেহেতু লেখাটায় মূলত হোমোদের উদ্ভবের কথা ধরতে চেয়েছিলাম। তবে যেহেতু এটার জন্য অনেকেরই মনে হতে যে বিবর্তন মানেই প্রোগ্রেসিভিস্ট, তাই শেষটা একটু চেঞ্জ করব ভাবছি। 🙂
Avatar: Tathagata Dasmjumder

Re: মানবজনম

আসলে এই লেখাটা অন্য একটা বড় লেখার অংশমাত্র, মানে এটা ওয়ান অফ পিস নয়, সেজন্যই সব দিকগুলো এখানে নেই। পুরো সিরিজটা চুক্তিবদ্ধতার কারনে এখানে দিতে পারছিনা, তবে এই আলোচনাটা চাইছিলাম, কারন নিজের কোন ভুল হচ্ছে কিনা, হলে কোথায় হচ্ছে এসব বোঝার জন্য। 🙂
Avatar: Debabrata Mukherjee

Re: মানবজনম


গল্পটা অত্যন্ত সুন্দর। কিন্তু দুটো জিনিঅস আমার একটু খট্কা লাগলো। সেই দুটো ব্যাপার এখানে লিখ্লাম।

সেবার টুথ্ড টাইগার এর ফোসিল সুধুমত্রো নোর্থ আর সাউথ আমেরিকাতেই পাওআ গে্ছে। সাউথ আফ্রিকাতে কোখোনো সেবার টুথ্ড টাইগার ছিলো বোলে প্রমাণ নেই।

প্র থ ম আগুনের ব্যবোহার হোমো ইরেক্তাস গোস্ঠী ১৮-২০ লাখ ব্ছ র আগে করে্ছিলো বলে প্রমাণ পাওআ যায়। তাই এই গল্পে বর্নিত ২৫ লখ্য বছর আগের মসাল জেলে যাওআটা নিছক ই কাল্পনিক।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 17 -- 36


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন