Jhuma Samadder RSS feed

Jhuma Samadderএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • লড়িয়ে দেবেন না, প্লিজ
    পদ্মাবতী ডিবেটের সূত্রে একটা কথা চার পাশে শোনা যাচ্ছে, যে এ সব পদ্মাবতী ইত্যাদি দেশের আসল ইস্যু নয়। এই মুহূর্তে দিল্লির কৃষক বিক্ষোভটাই দেশের সমস্যা, সেখান থেকে নজর ঘোরাতেই রাষ্ট্র ও মিডিয়া পদ্মাবতীর মত উল্টোপাল্টা ফিল্মি ইস্যু বানানোর কারসাজি করছে। আমি ...
  • আজকের নাটক -পদ্মাবতী
    পরের পর নাটক আসতেই থাকে আজকাল। গল্প সাধারণ, একটা জনগোষ্ঠীর গরিষ্ঠ অংশের অহংকে সুড়সুড়ি দেওয়া প্লট। তাদের বোঝান যে বাকিরা ও তাদের পূর্বপুরুষেরা লুঠতরাজ করে তোমাদের লাট করে দিয়েছিল, আজই সময় হয়েছে বদলা নিয়ে নাও, নয়ত কাল আবার ওরা তোমাদের শেষ করে দেবে। এই নাটক ...
  • বেশ্যাদ্বার
    বেশ্যাদ্বার (প্রথম পর্ব)প্রসেনজিৎ বসুরামচন্দ্র দুর্গাপুজো করছেন। রাবণবধের জন্য। বানরসেনা নানা জায়গা থেকে পুজোর বিপুল সামগ্রী জোগাড় করে এনেছে। রঘুবীর পুজো শুরু করেছেন। ষষ্ঠীর বোধন হয়ে গেছে। চলছে সপ্তমীর মহাস্নান। দেবীস্বরূপা সুসজ্জিতা নবপত্রিকাকে একেকটি ...
  • অন্য পদ্মাবতী
    রাজা দেবপালের সহিত দ্বন্দ্বযুদ্ধে রানা রতন সিংয়ের পরাজয় ও মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ রাজপুরীতে পঁহুছানোমাত্র সমগ্র চিতোরনগরীতে যেন অন্ধকার নামিয়া আসিল। হায়, এক্ষণে কে চিতোরের গরিমা রক্ষা করিবে? কেই বা চিতোরমহিষী পদ্মাবতীকে শত্রুর কলুষ স্পর্শ হইতে বাঁচাইবে? ...
  • আমার প্রতিবাদের শাড়ি
    আমার প্রতিবাদের শাড়িসামিয়ানা জানেন? আমরা বলি সাইমানা ,পুরানো শাড়ি দিয়ে যেমন ক্যাথা হয় ,গ্রামের মেয়েরা সুচ সুতো দিয়ে নকশা তোলে তেমন সামিয়ানাও হয় । খড়ের ,টিনের বা এসবেস্টাসের চালের নিচে ধুলো বালি আটকাতে বা নগ্ন চালা কে সভ্য বানাতে সাইমানা টানানো আমাদের ...
  • টয়লেট - এক আস্ফালনগাথা
    আজ ১৯শে নভেম্বর, সলিল চৌধুরী র জন্মদিন। ইন্দিরা গান্ধীরও জন্মদিন। ২০১৩ সাল অবধি দেশে এটি পালিত হয়েছে “রাষ্ট্রীয় একতা দিবস” বলে। আন্তর্জাতিক স্তরে গুগুল করলে দেখা যাচ্ছে এটি আবার নাকি International Men’s Day বলে পালিত হয়। এই বছরই সরকারী প্রচারে জানা গেল ...
  • মার্জারবৃত্তান্ত
    বেড়াল অনেকের আদরের পুষ্যি। বেড়ালও অনেককে বেশ ভালোবাসে। তবে কুকুরের প্রভুভক্তি বা বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ালের কাছে আশা করলে দুঃখ লাভের সম্ভাবনা আছে। প্রবাদ আছে কুকুর নাকি খেতে খেতে দিলে প্রার্থনা করে, আমার প্রভু ধনেজনে বাড়ুক, পাতেপাতে ভাত পড়বে আমিও পেটপুরে ...
  • বসন্তবৌরী
    বিল্টু তোতা বুবাই সবাই আজ খুব উত্তেজিত। ওরা দেখেছে ছাদে যে কাপড় শুকোতে দেয়ার একটা বাঁশ আছে সেখানে একটা ছোট্ট সবুজ পাখি বাসা বেঁধেছে। কে যেন বললো এই ছোট্ট পাখিটার নাম বসন্তবৌরী। বসন্তবৌরী পাখিটি আবার ভারী ব্যস্তসমস্ত। সকাল বেলা বেরিয়ে যায়, সারাদিন কোথায় ...
  • সামান্থা ফক্স
    সামান্থা ফক্সচুপচাপ উপুড় হয়ে শুয়ে ছবিটার দিকে তাকিয়েছিলাম। মাথায় কয়েকশো চিন্তা।হস্টেলে মেস বিল বাকি প্রায় তিন মাস। অভাবে নয়,স্বভাবে। বাড়ি থেকে পয়সা পাঠালেই নেশাগুলো চাগাড় দিয়ে ওঠে। গভীর রাতের ভিডিও হলের চাম্পি সিনেমা,আপসু রাম আর ফার্স্ট ইয়ার কোন এক ...
  • ইংরাজী মিডিয়ামের বাংলা-জ্ঞান
    বাংলা মাধ্যম নাকি ইংরাজী মাধ্যম ? সুবিধা কি, অসুবিধাই বা কি? অনেক বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়েছে এই সিদ্ধান্ত নিতে! তারপরেও সংশয় যেতে চায় না। ঠিক করলাম, না কি ভুলই করলাম? উত্তর একদিন খানিক পরিস্কার হল। যেদিন একটি এগার বছরের আজন্ম ইংরাজী মাধ্যমে পড়া ছেলে এই ...

গান-ভাষী

Jhuma Samadder

গান-ভাষী
ঝুমা সমাদ্দার
কানের পেছনে এক ঝলক ঠান্ডা ঠান্ডা মিষ্টি গন্ধের হাওয়ার ঝাপটা । হাল্কা …. শুকনো… মিহি ধুলো ওড়ানো । 'লছমনন্ ঝুউলা’... 'লছমনন্ ঝুউলা’... বলে গেল হাওয়াটা , তিন্নির কানে কানে, ফিস ফিস করে । কেমন সুন্দর নাম ! উচ্চারণ করলেই যেন বাজনা বাজে ! তিন্নিরা যাবে দিন কয়েক বাদে । বাবা বলেছে । শুনে অবধি তিন্নি বার বার উচ্চারণ করে নামটা মনে মনে । শুনেছে সেখানে পাহাড় আছে । পাহাড়ের সুরটা কি ওই রকম ?
ঝিরর্ ! মাথায় , হাতে গোটা কতক হলদে রঙের নিমের পাতা ঝরে পড়ল । কতক আবার উড়ে গেল খানিক দূর পর্যন্ত । গড়ালও খানিকটা , ধুলোর সঙ্গে । নিমগাছটায় তবু একটা দুটো হলুদ পাতা আছে এখনও । লাল লাল নরম পাতাগুলো সবে উঁকি মেরেছে ।
মাঠের ওপাড়ের গাছগুলো তো একেবারে শুকিয়ে কাঠ … চার'টে - ছ'টা হাত তুলে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কেবল । হাওয়ায় নড়ে না । মাঝে মাঝে কি-জানি কি পাখি এসে ঠোকরায় - ‘ঠক ঠক' 'খুট খুট' শব্দ তুলে । আমূলের কৌটোয় বাজনা বাজালে যেমন শব্দ হয় । হাওয়ায় কান পাতলে , ‘ঠক ঠক – ঝিরর্' , ‘ঠক ঠক – ঝিরর্' শব্দ শুনতে পায় তিন্নি । গতবছর রাণাঘাটে মামাবাড়ি যাওয়ার সময় মাঠে পাকা ধান দোল খেতে দেখেছিল । এ কি সেই পাকা ধান ক্ষেতের গান ? তেমনই যেন মনে হয় তিন্নির ।
অনেএএক … অনেএএক দূরের ওই যে ঝাঁকড়া অশ্বত্থ গাছটা … যার মাথার দিকে চাইলেই কেমন ….হাল্কা সবুজ আর কালচে সবুজের ঝিলমিল... ফিসফিসিয়ে বলে , “ পিইক কিইবা কুঞ্জে কুঞ্জে ...কুউহু কুউহু কুউহু গায়"… সবটা বোঝে না তিন্নি - শুধু মনে মনে বার বার বলে যায় - “কুউহু কুউহু কুউহু গায় ...” বার বার "কুউহু" শব্দটা ওকে কেমন যেন ঝিলমিলে সবুজে দোল খাওয়ায় ।
“কঁহি…... দূর যব দিন ঢল যায়ে… সাঁঝ কি দুলহান বদন চুরায়ে … চুপকে সে আয়ে...”
- কোথা থেকে যেন ভেসে আসছে মাঝে মাঝে - আবার হারিয়ে যাচ্ছে । গলার কাছটা কেমন যেন করে তিন্নির…. বুকের মধ্যেটা মোচড় দেয় … নাঃ , কাঁদে না সে । দু'পা ছড়িয়ে বসে হাতের ন্যাড়া পুতুলটাকে শাড়ী পরাতে পরাতে ভুলে যায় সব কিছু … ন্যাড়া পুতুলের বলে এখন কত কাজ ! গিন্নী-বান্নী মানুষ বলে কথা !
সকালে ঘুম ভেঙে উঠে দেখে গতরাতের ঝড়-বৃষ্টিতে সজনে গাছের ডাল ভেঙেছে । সন্ধে নাগাদ শুরু হয়েছিল ঝড়টা । সজনে ডাঁটা কাদা মেখে পড়ে উঠোনে। এখনও মাঝেই মাঝে মাঝেই কখনও ঝির ঝির, কখনও টিপ টিপ বৃষ্টি ।বৃষ্টি একটু ধরতেই ক'টা চড়াই লাফিয়ে বেড়াচ্ছে ভেঙে পড়া গাছের ডালে । কেমন ভারী ভারী গন্ধ বয়ে নিয়ে হাওয়া ভেসে আসছে । উঠোনের জায়গায় জায়গায় জল জমেছে । পাথুরে মাটিতে ছোট্ট গর্তে টল টলে জল। নিজের ছায়া দেখা যাচ্ছে তাতে । 'টুপ' করে পাতার জল পড়লেই আবার মিলিয়ে যাচ্ছে ।
“খবর পড়ছি নীলিমা সান্যাল-” বাপ্পার বাবা খবর শুনছেন । গম্ভীর অথচ সুরেলা গলা । খবর শেষ হতে না হতেই - “ চলো না দীঘার সৈকত ছেড়ে “ - ওই জমে থাকা জলটুকুর সুর শুনতে পাচ্ছে তিন্নি ।
দুই বিনুনী ঝোলানো তিন্নির আজ মাধ্যমিক পরীক্ষা - এমনই সময় - “এক গোছা রজনীগন্ধা হাতে দিয়ে বললাম- চললাম ...” আঃ ! কেন যে এমন গান গায় এ সময়ে ? গম্ভীর দানাদার গলা , অভিমানে টলটল করছে । একে তো বছরের এমন একটা সময় , যখন সবকিছুর দিকেই হাঁ করে তাকিয়ে থাকা দরকার – কই এতো বছরে তো এমন সুন্দর দিন দেখতেই পাওয়া যায় নি ? তিন্নির জীবনের এমন একটা সময় , যার থেকে সুন্দর আর কিছুই হয় না - ঠিক তখনই এমন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটা … এ যে সব কিছু নষ্ট করে দিচ্ছে , কাকে বোঝাবে তিন্নি ? তার উপর এমন গান পাশের কোনো বাড়ির রেডিও থেকে ভেসে আসছে । কোনো মানে হয় ? এর পরেও পরীক্ষা খারাপ না হয় কার ?




আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন