Debabrata Chakrabarty RSS feed

Debabrata Chakrabartyএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমার ব্যথার পূজা
    ব্যর্থতাকে গ্রহন করতে শেখা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা। অনুভব হয় সেই শিক্ষা আমার অসম্পুর্ন রয়ে গেছে। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম না করতে পারার মানসিক যন্ত্রনা ছাপিয়ে গেছে শারীরিক যন্ত্রনাকেও.. এই কি সেই " মাঝবয়েসী সংকট"? নাকি, ছোট্টবেলা থেকে ...
  • বইমেলা নোটবই
    উপক্রমনিকাঃ গুরু এবং শুরুষাট সত্তরের দশকের হিন্দি ছবিতে কুম্ভ মেলা অর্থাৎ “কুম কে মেলে”-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকত। ওই ভাইয়ো অর বহেনোরা (মিত্রো নয় কিন্তু) কুম-কে মেলে’তে হারিয়ে যেত আর সিনেমার শেষে ফের দেখা হয়ে যেত, হ্যাপ্পি এন্ডিং আর কি। আর এই আলাদা আর ...
  • ভাসাইলি রে
    মুম্বাই থেকে ট্রেনে কলকাতা ফিরছি,সাল আমার মনে নেই। এক পুণে প্রবাসী বাঙালী পরিবারের সাথে আলাপ। তারা আত্মীয়র বিয়ে উপলক্ষে কলকাতা আসছেন। এনারা নিজেদের বাবার আমল থেকেই প্রবাসী। বহুদিন, বোধহয় প্রায় দশ-পনেরো বছর বাদে কলকাতায় আসছেন। খুবই আগ্রহী, যদি সময় করে ...
  • সংস্কৃত বাংলা ভাষার জননী নয়, সাঁওতালী ভাষার কাঠামোতেই বাংলা ভাষার বিকাশ
    বাংলা ভাষা একটি মিশ্র ভাষা। তার মধ্যে বৈদিক বা সংস্কৃত ভাষার অবদান যেমন আছে, তেমনি আছে খেরওয়াল বা সাঁওতালী সহ বেশ কিছু মুণ্ডা ভাষার অতি গুরূত্বপূর্ণ অবদান। বাংলা ভাষার জননী হিসেবে কেবল সংস্কৃত আর্য ভাষার দাবি সম্বলিত যে মিথটি গড়ে উঠেছিল – সেই দাবিকে ...
  • রক্তকরবী, অল্প কথায়
    মানুষের স্বতস্ফুর্ততা যখন মরে যায় তখন যন্ত্রে আর মানুষে তফাত থাকে কই! একটা ঘোর মেক্যানিক্যাল সিস্টেমের মধ্যে আবর্তিত হয় তার দৈনিক যাপন, বাকি সমাজের সাথে সম্পর্ক হয় অ্যালগোরিদিমিক্যাল। কাজের সূত্রে সে কথা বলে আবার ঢুকে যায় নিজের মৃত চামড়ার খোলসে।ঠিক যেন এই ...
  • একাত্তরের দিন গুলি
    কোন এক পড়ন্ত বিকেলে আমরা ঢাকার রাস্তায় কণিকা নামের একটা বাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। অনেকক্ষণ ধরে। আসলে আমরা খুঁজছিলাম একটা ফেলে আসা সময়কে। একটা পরিবারকে। যে বাড়িটা আসলে ব্লাইন্ড লেনের এক্কেবারে শেষ সীমায়। যে বাড়ির গলি আঁধার রাতে ভারী হয়েছিল পাকিস্তানী ...
  • #পুরোন_দিনের_লেখক-ফিরে_দেখা
    #পুরোন_দিনের_লেখক-ফি...
  • হিমুর মনস্তত্ত্ব
    সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যারিশমাটিক চরিত্র হিমু। হিমু একজন যুবক, যার ভালো নাম হিমালয়। তার বাবা, যিনি একজন মানসিক রোগী ছিলেন; তিনি ছেলেকে মহামানব বানাতে চেয়েছিলেন। হিমুর গল্পগুলিতে হিমু কিছু অদ্ভুত কাজ করে, অতিপ্রাকৃতিক কিছু শক্তি তার আছে ...
  • এক অজানা অচেনা কলকাতা
    ১৬৮৫ সালের মাদ্রাজ বন্দর,অধুনা চেন্নাই,সেখান থেকে এক ব্রিটিশ রণতরী ৪০০ জন মাদ্রাজ ডিভিশনের ব্রিটিশ সৈন্য নিয়ে রওনা দিলো চট্টগ্রাম অভিমুখে।ভারতবর্ষের মসনদে তখন আসীন দোর্দন্ডপ্রতাপ সম্রাট ঔরঙ্গজেব।কিন্তু চট্টগ্রাম তখন আরাকানদের অধীনে যাদের সাথে আবার মোগলদের ...
  • ভারতবর্ষ
    গতকাল বাড়িতে শিবরাত্রির ভোগ দিয়ে গেছে।একটা বড় মালসায় খিচুড়ি লাবড়া আর তার সাথে চাটনি আর পায়েস।রাতে আমাদের সবার ডিনার ছিল ওই খিচুড়িভোগ।পার্ক সার্কাস বাজারের ভেতর বাজার কমিটির তৈরি করা বেশ পুরনো একটা শিবমন্দির আছে।ভোগটা ওই শিবমন্দিরেরই।ছোটবেলা...

বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

Debabrata Chakrabarty

অশোক খেমকা কে নিয়ে অনেক হইচই হয়েছে , এই বিখ্যাত আই এ এস অফিসার আজ পর্যন্ত তার ২৩ বছরের কর্মজীবনে বদলী হয়েছেন ৪৫ বার -কারন সহজবোধ্য ,শাসকের আনুগত্য অস্বীকার । তা আমাদের রাজ্যে সমস্ত ভবিষ্যৎ স্কুল শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক আনুগত্য আদায়ের পথ খোলা রাখতে তৃনমূল সরকার পাশ করেছেন এমন একটি বিল যা নিয়ে সংবাদমাধ্যম , বিরোধীপক্ষ এমনকি সোশ্যাল নেট ওয়ার্ক বিন্দুমাত্র আলোচনা করবার দরকার মনে করেননি । ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেছে West Bengal School Service Commission (Amendment) Bill, 2017 এবং শিক্ষা সংক্রান্ত আরও দুটি বিল । এই বিল অনুসারে চুপি চুপি শিক্ষকদের বদলির প্রথা চালু হয়ে গেল।
বলা হল, এতদিন পর্যন্ত শিক্ষকদের নিয়োগকর্তা ছিল স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি। স্কুল সার্ভিস কমিশন ইন্টারভিউ ও কাউন্সেলিংয়ের পর ম্যানেজিং কমিটির কাছে পাঠাবেন। ম্যানেজিং কমিটি সেই শিক্ষকদের নিয়োগপত্র দেবে।এবার থেকে নিয়োগ করবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। বদলির ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি অনেক সময় বাধা দেয়। শিক্ষকদের সমস্যা হয়। তাই বদলির ব্যাপারটাও ঠিক করবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।
আপাতভাবে মনে হল, কী সুন্দর ব্যবস্থা। সত্যিই তো, ম্যানেজিং কমিটির লোকগুলো অতি বদ ,আস্ত হারামজাদা । ওদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া গেল। সবকিছু কত স্বচ্ছভাবে হবে!‌ হায় রে!‌ কত বড় চক্রান্ত বিলের আড়ালে রয়ে গেছে, তা কেউ বুঝতেই পারল না!‌ পুরনো শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য হলে হয়ত বাধা আসত। কিন্তু নতুন শিক্ষকদের জন্য এই নিয়ম। যাঁরা এখনও যোগদানই করলেন না, তাঁরা বাধা দেবেন কীভাবে?‌ আর পুরনো শিক্ষকরা ভাবলেন, আমাদের তো কোনও ক্ষতি হচ্ছে না। অতএব তাঁরাও উদাসীন থেকে গেলেন।
এইবার থেকে শিক্ষক বদলি ঠিক করবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ যদি সত্যিই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মতো চলত, তাহলে হয়ত তেমন সমস্যা হত না। কিন্তু প্রতিটি পর্ষদের মাথায় যাঁদের বসানো হয়েছে, তাঁদের পরিচিতিটা একবার মনে করুন। প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশন, চেয়ারম্যান হিসেবে যাঁদের বসানো হয়েছে, তাঁরা তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের কর্তা। দলের হয়ে কেউ ভোটে লড়েছেন, কেউ মিছিলে হেঁটেছেন। এঁরা কাদের কথায় পরিচালিত হবেন, সেটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় ।
ফল কী হতে পারে?‌ আপনি শাসক দলের সংগঠনে নাম লেখালেন না, বা মিছিলে হাঁটলেন না। তৈরি থাকুন, আপনাকে হয়ত কোচবিহারে পাঠিয়ে দেওয়া হল। বা কোচবিহারের শিক্ষককে হয়ত পাঠানো হল পশ্চিম মেদিনীপুরে বা পুরুলিয়ায়। বিলে বলা আছে, অন্য জেলাতেও বদলি করা হতে পারে। বেগড়বাই করলেই স্থানীয় তৃণমূল নেতা যেখানে কলকাঠি নাড়ার, নাড়বেন। আপনার কাছে সুন্দরবনে বদলির চিঠি চলে আসবে। আগে কোনও শিক্ষক বদলির আবেদন করলে মিউচুয়াল ট্রান্সফারের ব্যবস্থা ছিল। অর্থাৎ, আপনি না চাইলে বদলি হত না। এখন আপনি চাইছেন না, কিন্তু বদলির ফরমান এসে যাবে। অর্থাৎ, কথা না শুনলেই তৈরি থাকুন। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ছাপানো প্যাডে বদলির চিঠি চলে আসতেই পারে। হুমকি দেওয়ার এমনই এক মোক্ষম অস্ত্র তুলে দেওয়া হোল তৃনমূল নেতাদের হাতে।
বিধানসভায় কার্যত বিনা বাধায় গোটা ভবিষ্যৎ শিক্ষক সমাজের আনুগত্য আদায়ের এমন মারাত্মক একটা বিল পাস হয়ে গেল। আর সংবাদ মাধ্যম , একদা দাপুটে শিক্ষক সংগঠন , বিরোধী নেতাগণ নাকে তেল দিয়ে ঘুমালেন । ভবিষ্যতের শিক্ষকরা টের পাবেন, কী মারাত্মক একটা আইন তাঁদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কীভাবে তাঁদের পায়ে আনুগত্যের শিকল পরানো হয়েছে। হয় মাথা নত কর অথবা সুন্দরবন ।

শেয়ার করুন


Avatar: ইতস্তত

Re: আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

বুঝলাম। কিন্তু অন্যদিকে ভাবলে সুন্দরবন কি কোচবিহারের কি শিক্ষক দরকার নেই ? সব কলকাতা কেন্দ্রিক হবে কেন ?
Avatar: bip

Re: আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

শিক্ষকরা আজকাল স্কুলে কিছুই শেখায় না। থাকল না গেল, না স্কুল উঠে গেল- কিছু যায় আসে কি?
Avatar: সিকি

Re: আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

জয় হীরক রাজার জয়।
Avatar: Debabrata Chakrabarty

Re: আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

সুন্দরবন অথবা কোচবিহার শিক্ষক শূন্য বলে তো জানিনা । সাধারণত একজন স্কুল শিক্ষক একই স্কুলে তার প্রায় সমস্ত কর্মজীবন কাটিয়ে থাকেন - সেই শহর অথবা আধা শহরের আশেপাশে তার বাসস্থান থেকে প্রায় সমস্ত কিছু । এখন তিনি যেহেতু তৃনমূল অনুগত নন সুতরাং তাঁকে পটাং করে গোসাবা অথবা শীতলকুচি বদলী করে দেওয়া যায় এই নিয়মে এই তুঘলকি আইনে । কথাটা সেই বিষয় নিয়ে হচ্ছে কলকাতা কেন্দ্রিকতা নিয়ে নয় ।



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন