Debabrata Chakrabarty RSS feed

Debabrata Chakrabartyএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ট্রিনিটি
    ট্রিনিটিসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পসিড একটু নড়েচড়ে বসে মাথা চুলকে বলল, পিকুদা, মোটা মাথায় কিস্সু ঢুকছে না। একটু বুঝিয়ে বলো। একদিকে এক বিশাল কৃষ্ণ গহ্বর, অপরদিকে একটি সুপারনোভা। মাঝের জায়গাটাই আপাতত স্বর্গের বর্তমান ঠিকানা। তারই একপাশে এক সবুজ প্রশস্ত ...
  • এবং আফস্পা...
    (লেখাটি আঁকিবুকি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।)২১শে ফেব্রুয়ারী,১৯৯১। কাশ্মীরের কুপওয়াড়া জেলার কুনান পোসপোরা গ্রামে ইন্ডিয়ান আর্মি সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের খোঁজে ঢোকে।পুরুষ ও নারীদের আলাদা করা হয়।পুরুষদের অত্যাচার করা হয় তদন্তের নামে। আর সেই রাতে ১৩ থেকে ৮০ ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-৩স্নেহের বরেণ, মানিকচকের বাজারসরকার মারফৎ সংবাদ পেলাম তোমার একটি পুত্র সন্তান হয়েছে। বংশের পিদিম জ্বালাবার লোকের যে অভাব ছিল তা বুঝি এবার ঘুঁচলো। সঙ্গে একটি দুঃসংবাদে হতবাক হলাম।সন্তান প্রসবকালে তোমার স্ত্রী রানীর অকাল মৃত্যু। তুমি আর কি করবে বাবা? ...
  • পুঁটিকাহিনী ৮ - বাড়ি কোথায়!!
    একটা দুষ্টু পরিবারের বাড়িতে পুঁটিরা ভাড়া থাকত। নেহাত স্কুল কাছে হবে বলে বাড়িটা বাছা হয়েছিল, নইলে খুবই সাদামাটা ছিল বাড়িটা। ২৭৫ টাকা ভাড়ায় কেজি টুতে ঐ বাড়িতে চলে আসে পুঁটিরা। ও বাড়ির লোকেরা কথায় কথায় নিজেদের মধ্যে বড্ড ঝগড়া করত, যার মধ্যে নাকি খারাপ খারাপ ...
  • WannaCry : কি এবং কেন
    "স্টিভেন সবে সকালের কফি টা হাতে করে নিয়ে বসেছে তার ডেস্ক এ. রাতের শিফট থাকলে সব সময়েই হসপিটাল এ তার মেজাজ খারাপ হয়ে থাকে। উপরন্তু রেবেকার সাথে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ঝগড়া টাও তার মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। বাড়ি ফিরেই আজ তার জন্যে কিছু একটা ভালো কিছু ...
  • কাফিরনামা...(পর্ব ২)
    আমার মতন অকিঞ্চিৎকর লোকের সিরিজ লিখতে বসা মানে আদতে সহনশীল পাঠকের সহ্যশক্তিকে অনবরত পরীক্ষা করা ।কোশ্চেনটা হল যে আপনি কাফিরনামা ক্যানো পড়বেন? আপনার এই দুনিয়াতে গুচ্ছের কাজ এবং অকাজ আছে। সব ছেড়ে কাফিরনামা পড়ার মতন বাজে সময় খুদাতলা আপনাকে দিয়েছেন কি? ...
  • #পুঁটিকাহিনী ৭ - ছেলেধরা
    আজ পুঁটির মস্ত গর্বের দিন। শেষপর্যন্ত সে বড় হল তাহলে। সবার মুখে সব বিষয়ে "এখনও ছোট আছ, আগে বড় হও" শুনে শুনে কান পচে যাবার জোগাড়! আজ পুঁটি দেখিয়ে দেবে সেও পারে, সেও কারো থেকে কম যায় না। হুঁ হুঁ বাওয়া, ক্লাস ফোরে কি আর সে হাওয়া খেয়ে উঠেছে!! রোজ মা মামনদিদি ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...
  • আকাটের পত্র
    ভাই মর্কট, এমন সঙ্কটের সময়ে তোমায় ছাড়া আর কাকেই বা চিঠি লিখি বলো ! আমার এখন ক্ষুব্বিপদ ! মহামারি অবস্থা যাকে বলে । যেদিন টিভিতে বলেছে মাধমিকের রেজাল্ট বেরোবে এই সপ্তাহের শেষের দিকে, সেদিন থেকেই ঘরের পরিবেশ কেমনধারা হাউমাউ হয়ে উঠেছে। সবার আচার-আচরণ খুব ...
  • মন্টু অমিতাভ সরকার
    পর্ব-২ঝাঁ-চকচকে শহরের সবচেয়ে বিলাসবহুল বহুতলের ওপরে, সৌর বিদ্যুতের অসংখ্য চাকতি লাগানো এ্যান্টেনার নীচে, একটা গুপ্ত ঘর আছে। সেটাকে ঠিক গুপ্ত বলা যায় কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। যাহা চোখের সামনে বিরাজমান, তাহা গুপ্ত হয় কেমনে? ভাষা-বিদ্যার লোকজনেরা চোখ ...

আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

Debabrata Chakrabarty

অশোক খেমকা কে নিয়ে অনেক হইচই হয়েছে , এই বিখ্যাত আই এ এস অফিসার আজ পর্যন্ত তার ২৩ বছরের কর্মজীবনে বদলী হয়েছেন ৪৫ বার -কারন সহজবোধ্য ,শাসকের আনুগত্য অস্বীকার । তা আমাদের রাজ্যে সমস্ত ভবিষ্যৎ স্কুল শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক আনুগত্য আদায়ের পথ খোলা রাখতে তৃনমূল সরকার পাশ করেছেন এমন একটি বিল যা নিয়ে সংবাদমাধ্যম , বিরোধীপক্ষ এমনকি সোশ্যাল নেট ওয়ার্ক বিন্দুমাত্র আলোচনা করবার দরকার মনে করেননি । ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেছে West Bengal School Service Commission (Amendment) Bill, 2017 এবং শিক্ষা সংক্রান্ত আরও দুটি বিল । এই বিল অনুসারে চুপি চুপি শিক্ষকদের বদলির প্রথা চালু হয়ে গেল।
বলা হল, এতদিন পর্যন্ত শিক্ষকদের নিয়োগকর্তা ছিল স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি। স্কুল সার্ভিস কমিশন ইন্টারভিউ ও কাউন্সেলিংয়ের পর ম্যানেজিং কমিটির কাছে পাঠাবেন। ম্যানেজিং কমিটি সেই শিক্ষকদের নিয়োগপত্র দেবে।এবার থেকে নিয়োগ করবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। বদলির ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি অনেক সময় বাধা দেয়। শিক্ষকদের সমস্যা হয়। তাই বদলির ব্যাপারটাও ঠিক করবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।
আপাতভাবে মনে হল, কী সুন্দর ব্যবস্থা। সত্যিই তো, ম্যানেজিং কমিটির লোকগুলো অতি বদ ,আস্ত হারামজাদা । ওদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া গেল। সবকিছু কত স্বচ্ছভাবে হবে!‌ হায় রে!‌ কত বড় চক্রান্ত বিলের আড়ালে রয়ে গেছে, তা কেউ বুঝতেই পারল না!‌ পুরনো শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য হলে হয়ত বাধা আসত। কিন্তু নতুন শিক্ষকদের জন্য এই নিয়ম। যাঁরা এখনও যোগদানই করলেন না, তাঁরা বাধা দেবেন কীভাবে?‌ আর পুরনো শিক্ষকরা ভাবলেন, আমাদের তো কোনও ক্ষতি হচ্ছে না। অতএব তাঁরাও উদাসীন থেকে গেলেন।
এইবার থেকে শিক্ষক বদলি ঠিক করবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ যদি সত্যিই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মতো চলত, তাহলে হয়ত তেমন সমস্যা হত না। কিন্তু প্রতিটি পর্ষদের মাথায় যাঁদের বসানো হয়েছে, তাঁদের পরিচিতিটা একবার মনে করুন। প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশন, চেয়ারম্যান হিসেবে যাঁদের বসানো হয়েছে, তাঁরা তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের কর্তা। দলের হয়ে কেউ ভোটে লড়েছেন, কেউ মিছিলে হেঁটেছেন। এঁরা কাদের কথায় পরিচালিত হবেন, সেটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় ।
ফল কী হতে পারে?‌ আপনি শাসক দলের সংগঠনে নাম লেখালেন না, বা মিছিলে হাঁটলেন না। তৈরি থাকুন, আপনাকে হয়ত কোচবিহারে পাঠিয়ে দেওয়া হল। বা কোচবিহারের শিক্ষককে হয়ত পাঠানো হল পশ্চিম মেদিনীপুরে বা পুরুলিয়ায়। বিলে বলা আছে, অন্য জেলাতেও বদলি করা হতে পারে। বেগড়বাই করলেই স্থানীয় তৃণমূল নেতা যেখানে কলকাঠি নাড়ার, নাড়বেন। আপনার কাছে সুন্দরবনে বদলির চিঠি চলে আসবে। আগে কোনও শিক্ষক বদলির আবেদন করলে মিউচুয়াল ট্রান্সফারের ব্যবস্থা ছিল। অর্থাৎ, আপনি না চাইলে বদলি হত না। এখন আপনি চাইছেন না, কিন্তু বদলির ফরমান এসে যাবে। অর্থাৎ, কথা না শুনলেই তৈরি থাকুন। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ছাপানো প্যাডে বদলির চিঠি চলে আসতেই পারে। হুমকি দেওয়ার এমনই এক মোক্ষম অস্ত্র তুলে দেওয়া হোল তৃনমূল নেতাদের হাতে।
বিধানসভায় কার্যত বিনা বাধায় গোটা ভবিষ্যৎ শিক্ষক সমাজের আনুগত্য আদায়ের এমন মারাত্মক একটা বিল পাস হয়ে গেল। আর সংবাদ মাধ্যম , একদা দাপুটে শিক্ষক সংগঠন , বিরোধী নেতাগণ নাকে তেল দিয়ে ঘুমালেন । ভবিষ্যতের শিক্ষকরা টের পাবেন, কী মারাত্মক একটা আইন তাঁদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কীভাবে তাঁদের পায়ে আনুগত্যের শিকল পরানো হয়েছে। হয় মাথা নত কর অথবা সুন্দরবন ।


Avatar: ইতস্তত

Re: আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

বুঝলাম। কিন্তু অন্যদিকে ভাবলে সুন্দরবন কি কোচবিহারের কি শিক্ষক দরকার নেই ? সব কলকাতা কেন্দ্রিক হবে কেন ?
Avatar: bip

Re: আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

শিক্ষকরা আজকাল স্কুলে কিছুই শেখায় না। থাকল না গেল, না স্কুল উঠে গেল- কিছু যায় আসে কি?
Avatar: সিকি

Re: আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

জয় হীরক রাজার জয়।
Avatar: Debabrata Chakrabarty

Re: আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

সুন্দরবন অথবা কোচবিহার শিক্ষক শূন্য বলে তো জানিনা । সাধারণত একজন স্কুল শিক্ষক একই স্কুলে তার প্রায় সমস্ত কর্মজীবন কাটিয়ে থাকেন - সেই শহর অথবা আধা শহরের আশেপাশে তার বাসস্থান থেকে প্রায় সমস্ত কিছু । এখন তিনি যেহেতু তৃনমূল অনুগত নন সুতরাং তাঁকে পটাং করে গোসাবা অথবা শীতলকুচি বদলী করে দেওয়া যায় এই নিয়মে এই তুঘলকি আইনে । কথাটা সেই বিষয় নিয়ে হচ্ছে কলকাতা কেন্দ্রিকতা নিয়ে নয় ।



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন