Debabrata Chakrabarty RSS feed

Debabrata Chakrabartyএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মসলিন চাষী
    ঘুমালে আমি হয়ে যাই মসলিন চাষী, বিষয়টা আপনাদের কাছে হয়ত বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে না, কিন্তু তা সত্য এবং এক অতি অদ্ভুত ব্যবস্থার মধ্যে আমি পড়ে গেছি ও এর থেকে নিস্তারের উপায় কী তা আমার জানা নেই; কিন্তু শেষপর্যন্ত আমি লিখে যাচ্ছি, যা থাকে কপালে, যখন আর কিছু করা ...
  • সিরিয়ালচরিতমানস
    ‘একটি বনেদি বাড়ির বৈঠকখানা। পাত্রপক্ষ ঘটকের সূত্রে এসেছে সেই বাড়ির মেয়েকে দেখতে। মেয়েকে আনা হল। বংশপরম্পরা ইত্যাদি নিয়ে কিছু অবান্তর কথপোকথনের পর ছেলেটি চাইল মেয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে। যেই না বলা, অমনি মেয়ের দাদার মেজাজ সপ্তমে। ছুটে গিয়ে বন্দুক এনে ...
  • দেশ এবং জাতীয়তাবাদ
    স্পিলবার্গের 'মিউনিখ' সিনেমায় এরিক বানা'র জার্মান রেড আর্মি ফ্যাকশনের সদস্যের (যে আসলে মোসাদ এজেন্টে) চরিত্রের কাছে পিএলও'র সদস্য আলি ঘোষনা করে - 'তোমরা ইউরোপিয়ান লালরা বুঝবে না। ইটিএ, আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস, আইরিশ রিপাব্লিকান আর্মি, আমরা - আমরা সবাই ...
  • টস
    আমাদের মেয়েবেলায় অভিজ্ঞান মেনে কোন মোলায়েম ডাঁটির গোলাপ ফুল ছিলনা যার পরিসংখ্যান না-মানা পাঁচটাকা সাইজের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে সিরিয়ালের আটার খনি আর গ্লিসারিনের একটা ইনডাইরেক্ট প্রোপরশন মুখে নিয়ে টেনশনের আইডিয়ালিজম ফর্মুলায় ফেলবো - "He loves me, he loves ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • গো-সংবাদ
    ঝাঁ চকচকে ক্যান্টিনে, বিফ কাবাবের স্বাদ জিভ ছেড়ে টাকরা ছুঁতেই, সেই দিনগুলো সামনে ফুটে উঠলো। পকেটে তখন রোজ বরাদ্দ খরচ ১৫ টাকা, তিন বেলা খাবার সঙ্গে বাসের ভাড়া। শহরের গন্ধ তখনও সেভাবে গায়ে জড়িয়ে যায় নি। রাস্তা আর ফুটপাতের প্রভেদ শিখছি। পকেটে ঠিকানার ...
  • ফুরসতনামা... (পর্ব ১)
    প্রথমেই স্বীকারোক্তি থাক যে ফুরসতনামা কথাটা আমার সৃষ্ট নয়। তারাপদ রায় তার একটা লেখার নাম দিয়েছিলেন ফুরসতনামা, আমি সেখান থেকে স্রেফ টুকেছি।আসলে ফুরসত পাচ্ছিলাম না বলেই অ্যাদ্দিন লিখে আপনাদের জ্বালাতন করা যাচ্ছিলনা। কপালজোরে খানিক ফুরসত মিলেছে, তাই লিখছি, ...
  • কাঁঠালবীচি বিচিত্রা
    ফেসবুকে সন্দীপন পণ্ডিতের মনোজ্ঞ পোস্ট পড়লাম - মনে পড়ে গেলো বাবার কথা, মনে পড়ে গেলো আমার শ্বশুর মশাইয়ের কথা। তাঁরা দুজনই ছিলেন কাঁঠালবীচির ভক্ত। পথের পাঁচালীর অপু হলে অবশ্য বলতো কাঁঠালবীচির প্রভু। তা প্রভু হোন আর ভক্তই হোন তাঁদের দুজনেরই মত ছিলো, ...
  • মহাগুণের গপ্পোঃ আমি যেটুকু জেনেছি
    মহাগুণ মডার্ণ নামক হাউসিং সোসাইটির একজন বাসিন্দা আমিও হতে পারতাম। দু হাজার দশ সালের শেষদিকে প্রথম যখন এই হাউসিংটির বিজ্ঞাপন কাগজে বেরোয়, দাম, লোকেশন ইত্যাদি বিবেচনা করে আমরাও এতে ইনভেস্ট করি, এবং একটি সাড়ে চোদ্দশো স্কোয়্যার ফুটের ফ্ল্যাট বুক করি। ...

আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

Debabrata Chakrabarty

অশোক খেমকা কে নিয়ে অনেক হইচই হয়েছে , এই বিখ্যাত আই এ এস অফিসার আজ পর্যন্ত তার ২৩ বছরের কর্মজীবনে বদলী হয়েছেন ৪৫ বার -কারন সহজবোধ্য ,শাসকের আনুগত্য অস্বীকার । তা আমাদের রাজ্যে সমস্ত ভবিষ্যৎ স্কুল শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক আনুগত্য আদায়ের পথ খোলা রাখতে তৃনমূল সরকার পাশ করেছেন এমন একটি বিল যা নিয়ে সংবাদমাধ্যম , বিরোধীপক্ষ এমনকি সোশ্যাল নেট ওয়ার্ক বিন্দুমাত্র আলোচনা করবার দরকার মনে করেননি । ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেছে West Bengal School Service Commission (Amendment) Bill, 2017 এবং শিক্ষা সংক্রান্ত আরও দুটি বিল । এই বিল অনুসারে চুপি চুপি শিক্ষকদের বদলির প্রথা চালু হয়ে গেল।
বলা হল, এতদিন পর্যন্ত শিক্ষকদের নিয়োগকর্তা ছিল স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি। স্কুল সার্ভিস কমিশন ইন্টারভিউ ও কাউন্সেলিংয়ের পর ম্যানেজিং কমিটির কাছে পাঠাবেন। ম্যানেজিং কমিটি সেই শিক্ষকদের নিয়োগপত্র দেবে।এবার থেকে নিয়োগ করবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। বদলির ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি অনেক সময় বাধা দেয়। শিক্ষকদের সমস্যা হয়। তাই বদলির ব্যাপারটাও ঠিক করবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।
আপাতভাবে মনে হল, কী সুন্দর ব্যবস্থা। সত্যিই তো, ম্যানেজিং কমিটির লোকগুলো অতি বদ ,আস্ত হারামজাদা । ওদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া গেল। সবকিছু কত স্বচ্ছভাবে হবে!‌ হায় রে!‌ কত বড় চক্রান্ত বিলের আড়ালে রয়ে গেছে, তা কেউ বুঝতেই পারল না!‌ পুরনো শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য হলে হয়ত বাধা আসত। কিন্তু নতুন শিক্ষকদের জন্য এই নিয়ম। যাঁরা এখনও যোগদানই করলেন না, তাঁরা বাধা দেবেন কীভাবে?‌ আর পুরনো শিক্ষকরা ভাবলেন, আমাদের তো কোনও ক্ষতি হচ্ছে না। অতএব তাঁরাও উদাসীন থেকে গেলেন।
এইবার থেকে শিক্ষক বদলি ঠিক করবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ যদি সত্যিই মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মতো চলত, তাহলে হয়ত তেমন সমস্যা হত না। কিন্তু প্রতিটি পর্ষদের মাথায় যাঁদের বসানো হয়েছে, তাঁদের পরিচিতিটা একবার মনে করুন। প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশন, চেয়ারম্যান হিসেবে যাঁদের বসানো হয়েছে, তাঁরা তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের কর্তা। দলের হয়ে কেউ ভোটে লড়েছেন, কেউ মিছিলে হেঁটেছেন। এঁরা কাদের কথায় পরিচালিত হবেন, সেটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় ।
ফল কী হতে পারে?‌ আপনি শাসক দলের সংগঠনে নাম লেখালেন না, বা মিছিলে হাঁটলেন না। তৈরি থাকুন, আপনাকে হয়ত কোচবিহারে পাঠিয়ে দেওয়া হল। বা কোচবিহারের শিক্ষককে হয়ত পাঠানো হল পশ্চিম মেদিনীপুরে বা পুরুলিয়ায়। বিলে বলা আছে, অন্য জেলাতেও বদলি করা হতে পারে। বেগড়বাই করলেই স্থানীয় তৃণমূল নেতা যেখানে কলকাঠি নাড়ার, নাড়বেন। আপনার কাছে সুন্দরবনে বদলির চিঠি চলে আসবে। আগে কোনও শিক্ষক বদলির আবেদন করলে মিউচুয়াল ট্রান্সফারের ব্যবস্থা ছিল। অর্থাৎ, আপনি না চাইলে বদলি হত না। এখন আপনি চাইছেন না, কিন্তু বদলির ফরমান এসে যাবে। অর্থাৎ, কথা না শুনলেই তৈরি থাকুন। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ছাপানো প্যাডে বদলির চিঠি চলে আসতেই পারে। হুমকি দেওয়ার এমনই এক মোক্ষম অস্ত্র তুলে দেওয়া হোল তৃনমূল নেতাদের হাতে।
বিধানসভায় কার্যত বিনা বাধায় গোটা ভবিষ্যৎ শিক্ষক সমাজের আনুগত্য আদায়ের এমন মারাত্মক একটা বিল পাস হয়ে গেল। আর সংবাদ মাধ্যম , একদা দাপুটে শিক্ষক সংগঠন , বিরোধী নেতাগণ নাকে তেল দিয়ে ঘুমালেন । ভবিষ্যতের শিক্ষকরা টের পাবেন, কী মারাত্মক একটা আইন তাঁদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কীভাবে তাঁদের পায়ে আনুগত্যের শিকল পরানো হয়েছে। হয় মাথা নত কর অথবা সুন্দরবন ।


Avatar: ইতস্তত

Re: আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

বুঝলাম। কিন্তু অন্যদিকে ভাবলে সুন্দরবন কি কোচবিহারের কি শিক্ষক দরকার নেই ? সব কলকাতা কেন্দ্রিক হবে কেন ?
Avatar: bip

Re: আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

শিক্ষকরা আজকাল স্কুলে কিছুই শেখায় না। থাকল না গেল, না স্কুল উঠে গেল- কিছু যায় আসে কি?
Avatar: সিকি

Re: আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

জয় হীরক রাজার জয়।
Avatar: Debabrata Chakrabarty

Re: আনুগত্যের শেকল ঃ- সমবেত নাসিকা গর্জন

সুন্দরবন অথবা কোচবিহার শিক্ষক শূন্য বলে তো জানিনা । সাধারণত একজন স্কুল শিক্ষক একই স্কুলে তার প্রায় সমস্ত কর্মজীবন কাটিয়ে থাকেন - সেই শহর অথবা আধা শহরের আশেপাশে তার বাসস্থান থেকে প্রায় সমস্ত কিছু । এখন তিনি যেহেতু তৃনমূল অনুগত নন সুতরাং তাঁকে পটাং করে গোসাবা অথবা শীতলকুচি বদলী করে দেওয়া যায় এই নিয়মে এই তুঘলকি আইনে । কথাটা সেই বিষয় নিয়ে হচ্ছে কলকাতা কেন্দ্রিকতা নিয়ে নয় ।



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন