Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আবার কাঠুয়া
    ধর্ষণের মামলায় ফরেন্সিক ডিপার্টমেন্টের মুখ বন্ধ খাম পেশ করা হল আদালতে। একটা বেশ বড় খাম। তাতে থাকার কথা চারটে ছোট ছোট খামে খুন হয়ে যাওয়া মেয়েটির চুলের নমুনা। ঘটনাস্থল থেকে সিট ওই নমুনাগুলো সংগ্রহ করেছিল। সেগুলোর ডি এন এ পরীক্ষাও করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ...
  • ওই মালতীলতা দোলে
    ২আহাদে আহমদ হইলমানুষে সাঁই জন্ম নিললালন মহা ফ্যারে পড়ল সিরাজ সাঁইজির অন্ত না পাওয়ায়।এক মনে জমিতে লাঙল দিচ্ছিল আলিম সেখ। দুটি জবরজঙ্গী কালো মোষ আর লোহার লাঙল। অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে। আজকাল আর কেউ কাঠের লাঙল ব্যবহার করে না। তার অনেক দাম। একটু দূরে আলিম সেখের ...
  • শো কজের চিঠি
    প্রিয় কমরেড,যদিও তুমি আমার একদা অভিভাবক ছিলে, তবুও তোমায় কমরেড সম্মোধন করেই এই চিঠি লিখছি, কারন এটা সম্পূর্নভাবে রাজনৈতিক চিঠি। এই চিঠির মারফত আমি তোমায় শো কজ জানাচ্ছি। তুমি যে রাজনীতির কথা বলে এসেছো, যে রাজনীতি নিয়ে বেচেছো, যে রাজনীতির স্বার্থে নিজের ...
  • ক্যালাইডোস্কোপ ( ১)
    ক্যালাইডোস্কোপ ১। রোদ এসে পড়ে। ধীরে ধীরে চোখ মেলে মানিপ্যান্টের পাতা। ওপাশে অশ্বত্থ গাছ। আড়াল ভেঙে ডেকে যায় কুহু। ঘুমচোখ এসে দাঁড়ায় ব্যালকনির রেলিং এ। ধীরে ধীরে জেগে ওঠা শহর, শব্দ, স্বরবর্ণ- ব্যঞ্জন; যুক্তাক্ষর। আর শুরু হল দিন। শুরু হল কবিতার খেলা-খেলি। ...
  • শেষ ঘোড়্সওয়ার
    সঙ্গীতা বেশ টুকটাক, ছোটখাটো বেড়াতে যেতে ভালোবাসে। এই কলকাতার মধ্যেই এক-আধবেলার বেড়ানো। আমার আবার এদিকে এইরকমের বেড়ানোয় প্রচণ্ড অনীহা; আধখানাই তো ছুটির বিকেল--আলসেমো না করে,না ঘুমিয়ে, বেড়িয়ে নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। তো প্রায়ই এই টাগ অফ ওয়ারে আমি জিতে যাই, ...
  • পায়ের তলায় সর্ষে_ মেটিয়াবুরুজ
    দিল ক্যা করে যব কিসিসে কিসিকো প্যার হো গ্যয়া - হয়ত এই রকমই কিছু মনে হয়েছিল ওয়াজিদ আলি শাহের। মা জানাব-ই-আলিয়া ( বা মালিকা কিশওয়ার ) এর জাহাজ ভেসে গেল গঙ্গার বুকে। লক্ষ্য দূর লন্ডন, সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে সরাসরি এক রাজ্যচ্যুত সন্তানের মায়ের আবেদন ...
  • ফুটবল, মেসি ও আমিঃ একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন (পর্ব ৩)
    ফুটবল শিখতে চাওয়া সেই প্রথম নয় কিন্তু। পাড়ার মোড়ে ছিল সঞ্জুমামার দোকান, ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজের। ক্লাস থ্রি কি ফোর থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম হি-ম্যান আর চাচা চৌধুরীর কমিকস আর পুজোর সময় শীর্ষেন্দু-মতি নন্দীর শারদীয় উপন্যাস। সেখানেই একদিন দেখলাম ...
  • ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি
    অনেক সকালে ঘুম থেকে আমাকে তুলে দিল আমার ভাইঝি শ্রী। কাকা দেখো “ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি”। একটু অবাক হই। জানিস তুই, কাকে বলে ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি? ক্লাস এইটে পড়া শ্রী তার নাকের ডগায় চশমা এনে বলে “যে বৃষ্টিতে ইলিশ মাছের গন্ধ বুঝলে? যাও বাজারে যাও। আজ ইলিশ মাছ আনবে ...
  • দুখী মানুষ, খড়ের মানুষ
    দুটো গল্প। একটা আজকেই ব্যাংকে পাওয়া, আর একটা বইয়ে। একদম উল্টো গল্প, দিন আর রাতের মতো উলটো। তবু শেষে মিলেমিশে কি করে যেন একটাই গল্প।ব্যাংকের কেজো আবহাওয়া চুরমার করে দিয়ে চিৎকার করছিল নীচের ছবির লোকটা। কখনো দাঁত দিয়ে নিজের হাত কামড়ে ধরছিল, নাহলে মেঝেয় ঢাঁই ...
  • পুরীযাত্রা
    কাল রথের মেলা। তাই নিয়ে আনন্দ করার বয়স পেরিয়ে গেছে এটা মনে করাবার দরকার নেই। তবু লিখছি কারণ আজকের সংবাদপত্রের একটি খবর।আমি তাজ্জব কাগজে উকিলবাবুদের কান্ডকারখানা পড়ে। আলিপুর জাজেস কোর্ট ও পুলিশ কোর্টে প্রায় কোন উকিলবাবু নেই, দু চারজন জুনিয়র ছাড়া। কি ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ইশকাবনের বিবি

Sarit Chatterjee

ইশকাপনের বিবি
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প

সেদিন রিমির হাতটা ধরে এক ঝটকায় শিমূলগাছটার আড়ালে টেনে নিয়ে গেছিল রুদ্র। বুকটা ধড়াস ধড়াস করছিল রিমির। হাতটা ছাড়িয়ে ও বলেছিল, একী রুদ্রদা! কী করছ?
: যা বলছি মন দিয়ে শোন! তুই জিততে চাস?
: হ্যাঁ, কিন্তু ...
: একটু বুদ্ধি খাটালেই কিন্তু আমরা জিততে পারি।
: কী করে?
: চাস কি চাস না?
: চাই।
: তাহলে আগে প্রতীজ্ঞা কর কাউকে বলবি না!
: কী?
: যেটা বলব।
: আমায় কী করতে হবে?
: আগে প্রমিস কর!
: বেশ, প্রমিস করলাম।
: ভালো করে দেখ। আমি এইভাবে তাস ধরব। এক আঙুল দেখতে পেলে ইশকাপন চালবি, দু আঙুল হলে হরতন। তিন হলে ডায়মন্ড আর চার হলে চিড়িতন।
: ব্যস?
: ব্যস। আর আমি তাস দেখে যদি হাত গুটিয়ে রেখে দিই তাহলে ওই রঙের ছোট খেলবি। নাহলে সব সময় বড়ো দিয়ে লিড করবি।
: যদি কেউ বুঝে ফেলে?
: কেউ ধরতে পারবে না। আর হ্যাঁ, আমার চোখের দিকে তাকাবি না। শুধু হাতের দিকে নজর রাখবি।
: তুমি শিওর আমরা জিতব?
: মাঝে দু-একটা দান হারলেও শেষে ঠিকই জিতব। শুভ আর বাবির মুখগুলো কেমন হবে ভেবেই আনন্দ হচ্ছে।
: সত্যি, কদিন ধরে গোহারান হারাচ্ছে দু'জনে মিলে!
: তুই হবি আমার ইশকাপনের বিবি। কিন্তু খবরদার! প্রতীজ্ঞা করেছিস ভুলে যাস না। কেউ যেন জানতে না পারে!

আশির দশকের মাঝামাঝি। রিমি এই সবে এইটে উঠেছে। গরমের ছুটিতে প্রায় প্রতিবছর একমাসের জন্য রিমিরা রাঁচিতে বড়োমামার এই বাড়িতে ছুটি কাটাতে আসে। শুভ আর বাবি পিঠোপিঠি রিমির মামাতো দুই ভাইবোন, রিমির চেয়ে বছর দু-তিনের বড়ো। আর রুদ্র ওদের মাসতুতো দাদা, ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে, এই প্রথম এসেছে ছুটি কাটাতে। সারাদিন ধরে চলে গল্প আড্ডা আর ... আর তাস। আর তাস মানেই টোয়েন্টি-নাইন।

বাবি আর শুভ পাকা খেলোয়াড়। ক'দিন গোহারা হেরেছে রিমি আর রুদ্র। কিন্তু এই গোপন ফন্দির পর থেকেই রিমিরা জিততে থাকল। প্রথম প্রথম খুব ভয় করত রিমির কিন্তু যত দিন পেরতে লাগল ততই আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকল ওর। মনে মনে রুদ্রকে বেশ একটু হিরো ওরশিপই করতে শুরু করেছিল ও। ওর চোখে বোধহয় সেটা দেখেছিল রুদ্র, তাই দিন দশেক পর আবার সেই শিমূলের আড়ালে টেনে নিয়ে প্রথম চুমুটা খেয়েছিল সে। ঠোঁটে আর জিভে সেই অপরিচিত অনুভূতি কয়েক মুহূর্তের জন্য বিহ্বল করে দিয়েছিল রিমিকে। কিছু করার আগেই রুদ্র মুখ সরিয়ে ওর চুলটা এলোমেলো করে দিয়ে সেদিন হেসে বলে উঠেছিল, তুই এখনো বাচ্চা, যা পালা!

হয়ত সেদিন অন্য কিছু বলত রিমি কিন্তু এই কথার পর নিজে থেকেই ওর মুখ থেকে বেরিয়ে গেছিল, মোটেই না! আমি যথেষ্ট বড়ো হয়ে গেছি!
: তাই? আচ্ছা, আজ রাতে দেখা যাবে।

ছাদে ঢালাও বিছানা করে শুতো সব ভাইবোনেরা। সেদিন কায়দা করে রুদ্র রিমির পাশে শুয়েছিল। সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর রুদ্র শুরু করেছিল তার খেলা। অল্প সময়ের মধ্যেই ওর হাত খেলে বেড়াচ্ছিল রিমির শরীরে। বাধা দিচ্ছিল রিমি, কিন্তু নিঃশব্দে। যদি কারো ঘুম ভেঙে যায়! রুদ্রর হাত সে নিষেধ মানছিল না। বরং সে চেষ্টায় ছিল রিমির পোশাকের আবরণের ব্যবধানটুকুও পেরিয়ে যাবার। রিমি বুঝে উঠতে পারছিল না যে কী করবে। শেষে নখ বসিয়ে দিয়েছিল রুদ্রর কব্জিতে। অস্ফুটে উঃ বলে রিমির চুলটা মুঠো করে ধরে মুখটা ওর মুখের ওপর চেপে ধরে হিসহিসে গলায় রুদ্র বলেছিল, চুপচাপ শুয়ে থাক নাহলে সবাইকে বলে দেব তুই চোর, তাস খেলার সময় চুরি করিস!

আর প্রতিবাদ করার সাহস হয়নি রিমির। কাঠের মতো পায়ে পা চেপে শুয়েছিল বাকি রাত।
ভোররাতে রুদ্র আবার বলেছিল, আজ এগারোটার সময় ওই পোড়ো বাড়িটাতে তোকে নিয়ে যাব। দেখবি, বড়ো হওয়া কাকে বলে!

অ্যালবামটা রিমির হাত থেকে তুলে নিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল তিন্নি। তারপর বলল, এটা তো শুভমামা মা। আর এটা, বাবিমাসি। কিন্তু এই ছেলেটা কে? তোমার পাশে দাঁড়িয়ে?
: ও তো রুদ্রদা। বাবি অর শুভর মাসতুতো দাদা ছিল। বেচারা!
: কেন? কী হয়েছিল?
: সেবার সাপের কামড়ে মারা গেছিল।
: ইস্! বেশ হ্যান্ডসাম দেখতে ছিল তো!
: হ্যাঁ। আর তেমনি বেপরোয়া। ওখানে একটা পোড়ো বাড়ি ছিল। লোকে বলত ভূতবাঙ্গলো। ওখানেই মরে পড়েছিল। পায়ে কেউটের কামড়ের দাগও পাওয়া গেছিল।

তিন্নি চলে যায়। আর আজকের এই মাঝবয়েসী রিমি মনে মনে হাসতে থাকে।
হ্যাঁ, সাপের কামড়ের দাগ পাওয়া গেছিল ঠিকই। শুধু পাওয়া যায়নি বাবির কম্পাসটা। রুদ্রর বুকের বাঁদিকে সেদিন আমূল গেঁথে গেছিল ওটা। তারপর .., অদ্ভূত, শুধু একফোঁটা রক্ত বেরিয়েছিল। সেও টেনে বার করার পর।
আর পায়ের ওপর দাগদুটো দেওয়ার পরিকল্পনাটা হঠাৎই মাথায় এসে গেছিল।
পুলিস এসেছিল। সাপের কামড়ে মৃত্যু বলেই ধরে নিয়েছিল সবাই। পোস্টমরটেম হয়নি।

শুধু একটা জিনিসের কিনারা হয়নি। রুদ্রর মৃত শরীরের পাশে পড়ে থাকা, ইশকাপনের বিবিটার।

-০-

শেয়ার করুন


Avatar: I

Re: ইশকাবনের বিবি

অনেক রক্তো বেরোবে , এক ফোটা রক্তো নয়।
Avatar: Indranil

Re: ইশকাবনের বিবি

ওপরের I আমি নই।
Avatar: SD

Re: ইশকাবনের বিবি

সাপের কামড়ে মরলে , পোস্ট মর্টেম মাস্ট, তাছাড়া শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষন ফুটে বেরুবে।কম্পাসের কাঁটা ফোটা আর সাপের দাঁতের চিহ্ন এক হয় না। ইনফ্যাক্ট দাঁতের চিহ্ন দেখে বিষধর না নির্বীষ সাপ বা কোন সাপ সেটাও বলে দেওয়া যায়।

কম্পাসের কাঁটার দৈর্ঘ্য 1.5" তা ফুটিয়ে হার্ট বিদ্ধ করে খুন তাও এক জন আনাড়ি বালিকার পক্ষে, না দাদা, অনেকটা জেলুসিল মেরেও হ্জম করতে পারলাম না।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন