Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মানবিক
    এনআরএস-এর ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এরকম ঘটনা বারেবারেই ঘটে চলেছে এবং ভবিষ্যতে ঘটতে চলেছে আরও। ঘটনাটি সমর্থনযোগ্য নয় অথবা ঘৃণ্য অথবা পাশবিক (আয়রনি); এই জাতীয় কোনো মন্তব্য করার জন্য এই লেখাটা লিখছি না। বরং অন্য কতগুলো কথা বলতে চাই। আমার মনে হয় এই ঘটনার ...
  • ডিগ্রি সংস্কৃতি
    মমতার সবৈতনিক শিক্ষানবিস শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের ঘোষণায় চারপাশে প্রবল হইচই দেখছি। বিশেষ গাদা গাদা স্কুলে হাজার হাজার শিক্ষক পদ শূন্য, সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে কিছুই না করে এই ঘোষণাকে সস্তায় কাজ করিয়ে নেওয়ার তাল মনে হইয়া খুবই ...
  • বাংলাদেশের শিক্ষিত নারী
    দেশে কিছু মানুষ রয়েছে যারা নারী কে সব সময় বিবেচনা করে নারীর বিয়ে দিয়ে। মানে তাদের কাছে বিয়ে হচ্ছে একটা বাটখারা যা দিয়ে নারী কে সহজে পরিমাপ করে তারা। নারীর গায়ের রং কালো, বিয়ে দিতে সমস্যা হবে। নারী ক্লাস নাইন টেনে পড়ে? বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। উচ্চ মাধ্যমিকে ...
  • #মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৫)
    স্কিউ – মারখা (০৫.০৯.২০১৮)--------...
  • গন্ডোলার গান
    সে অনেককাল আগের কথা। আমার তখন ছাত্রাবস্থা। রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের টাকার ভরসায় ইটালি বেড়াতে গেছি। যেতে চেয়েছিলাম অস্ট্রিয়া, সুইৎজারল্যান্ড, স্ট্রাসবুর্গ। কারণ তখন সবে ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল শুনতে শুরু করেছি। মোৎজার্টে বুঁদ হয়ে আছি। কিন্তু রিসার্চ ...
  • শেকড় সংবাদ : চিম্বুকের পাহাড়ে কঠিন ম্রো জীবন
    বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমি অধিগ্রহণের ফলে উচ্ছেদ হওয়া প্রায় ৭৫০টি ম্রো আদিবাসী পাহাড়ি পরিবার হারিয়েছে অরণ্যঘেরা স্বাধীন জনপদ। ছবির মতো অনিন্দ্যসুন্দর পাহাড়ি গ্রাম, জুম চাষের (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ চাষাবাদ) জমি, ...
  • নরেন হাঁসদার স্কুল।
    ছাটের বেড়ার ওপারে প্রশস্ত প্রাঙ্গণ। সেমুখো হতেই এক শ্যামাঙ্গী বুকের ওপর দু হাতের আঙুল ছোঁয়ায় --জোহার। মানে সাঁওতালিতে নমস্কার বা অভ্যর্থনা। তার পিছনে বারো থেকে চার বছরের ল্যান্ডাবাচ্চা। বসতে না বসতেই চাপাকলের শব্দ। কাচের গ্লাসে জল নিয়ে এক শিশু, --দিদি... ...
  • কীটদষ্ট
    কীটদষ্টএকটু একটু করে বিয়ারের মাথা ভাঙা বোতল টা আমি সুনয়নার যোনীর ভিতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছিলাম আর ওর চোখ বিস্ফারিত হয়ে ফেটে পড়তে চাইছিলো। মুখে ওরই ছেঁড়া প্যাডেড ডিজাইনার ব্রা'টা ঢোকানো তাই চিৎকার করতে পারছে না। কাটা মুরগীর মত ছটফট করছে, কিন্তু হাত পা কষে বাঁধা। ...
  • Ahmed Shafi Strikes Again!
    কয়দিন আগে শেখ হাসিনা কে কাওমি জননী উপাধি দিলেন শফি হুজুর। দাওরায় হাদিস কে মাস্টার্সের সমমর্যাদা দেওয়ায় এই উপাধি দেন হুজুর। আজকে হুজুর উল্টা সুরে গান ধরেছেন। মেয়েদের ক্লাস ফোর ফাইভের ওপরে পড়তে দেওয়া যাবে না বলে আবদার করেছেন তিনি। তাহলে যে কাওমি মাদ্রাসা ...
  • আলতামিরা
    ঝরনার ধারে ঘর আবছা স্বয়ম্বর ফেলেই এখানে আসা। বিষাদের যতো পাখিচোর কুঠুরিতে রাখিছিঁড়ে ফেলে দিই ভাষা৷ অরণ্যে আছে সাপ গিলে খায় সংলাপ হাওয়াতে ছড়ায় ধুলো। কুটিরে রেখেছি বই এবার তো পড়বোই আলোর কবিতাগুলো।শুঁড়িপথ ধরে হাঁটিফার্নে ঢেকেছে মাটিকুহকী লতার জাল ফিরে আসে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ইশকাবনের বিবি

Sarit Chatterjee

ইশকাপনের বিবি
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প

সেদিন রিমির হাতটা ধরে এক ঝটকায় শিমূলগাছটার আড়ালে টেনে নিয়ে গেছিল রুদ্র। বুকটা ধড়াস ধড়াস করছিল রিমির। হাতটা ছাড়িয়ে ও বলেছিল, একী রুদ্রদা! কী করছ?
: যা বলছি মন দিয়ে শোন! তুই জিততে চাস?
: হ্যাঁ, কিন্তু ...
: একটু বুদ্ধি খাটালেই কিন্তু আমরা জিততে পারি।
: কী করে?
: চাস কি চাস না?
: চাই।
: তাহলে আগে প্রতীজ্ঞা কর কাউকে বলবি না!
: কী?
: যেটা বলব।
: আমায় কী করতে হবে?
: আগে প্রমিস কর!
: বেশ, প্রমিস করলাম।
: ভালো করে দেখ। আমি এইভাবে তাস ধরব। এক আঙুল দেখতে পেলে ইশকাপন চালবি, দু আঙুল হলে হরতন। তিন হলে ডায়মন্ড আর চার হলে চিড়িতন।
: ব্যস?
: ব্যস। আর আমি তাস দেখে যদি হাত গুটিয়ে রেখে দিই তাহলে ওই রঙের ছোট খেলবি। নাহলে সব সময় বড়ো দিয়ে লিড করবি।
: যদি কেউ বুঝে ফেলে?
: কেউ ধরতে পারবে না। আর হ্যাঁ, আমার চোখের দিকে তাকাবি না। শুধু হাতের দিকে নজর রাখবি।
: তুমি শিওর আমরা জিতব?
: মাঝে দু-একটা দান হারলেও শেষে ঠিকই জিতব। শুভ আর বাবির মুখগুলো কেমন হবে ভেবেই আনন্দ হচ্ছে।
: সত্যি, কদিন ধরে গোহারান হারাচ্ছে দু'জনে মিলে!
: তুই হবি আমার ইশকাপনের বিবি। কিন্তু খবরদার! প্রতীজ্ঞা করেছিস ভুলে যাস না। কেউ যেন জানতে না পারে!

আশির দশকের মাঝামাঝি। রিমি এই সবে এইটে উঠেছে। গরমের ছুটিতে প্রায় প্রতিবছর একমাসের জন্য রিমিরা রাঁচিতে বড়োমামার এই বাড়িতে ছুটি কাটাতে আসে। শুভ আর বাবি পিঠোপিঠি রিমির মামাতো দুই ভাইবোন, রিমির চেয়ে বছর দু-তিনের বড়ো। আর রুদ্র ওদের মাসতুতো দাদা, ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে, এই প্রথম এসেছে ছুটি কাটাতে। সারাদিন ধরে চলে গল্প আড্ডা আর ... আর তাস। আর তাস মানেই টোয়েন্টি-নাইন।

বাবি আর শুভ পাকা খেলোয়াড়। ক'দিন গোহারা হেরেছে রিমি আর রুদ্র। কিন্তু এই গোপন ফন্দির পর থেকেই রিমিরা জিততে থাকল। প্রথম প্রথম খুব ভয় করত রিমির কিন্তু যত দিন পেরতে লাগল ততই আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকল ওর। মনে মনে রুদ্রকে বেশ একটু হিরো ওরশিপই করতে শুরু করেছিল ও। ওর চোখে বোধহয় সেটা দেখেছিল রুদ্র, তাই দিন দশেক পর আবার সেই শিমূলের আড়ালে টেনে নিয়ে প্রথম চুমুটা খেয়েছিল সে। ঠোঁটে আর জিভে সেই অপরিচিত অনুভূতি কয়েক মুহূর্তের জন্য বিহ্বল করে দিয়েছিল রিমিকে। কিছু করার আগেই রুদ্র মুখ সরিয়ে ওর চুলটা এলোমেলো করে দিয়ে সেদিন হেসে বলে উঠেছিল, তুই এখনো বাচ্চা, যা পালা!

হয়ত সেদিন অন্য কিছু বলত রিমি কিন্তু এই কথার পর নিজে থেকেই ওর মুখ থেকে বেরিয়ে গেছিল, মোটেই না! আমি যথেষ্ট বড়ো হয়ে গেছি!
: তাই? আচ্ছা, আজ রাতে দেখা যাবে।

ছাদে ঢালাও বিছানা করে শুতো সব ভাইবোনেরা। সেদিন কায়দা করে রুদ্র রিমির পাশে শুয়েছিল। সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর রুদ্র শুরু করেছিল তার খেলা। অল্প সময়ের মধ্যেই ওর হাত খেলে বেড়াচ্ছিল রিমির শরীরে। বাধা দিচ্ছিল রিমি, কিন্তু নিঃশব্দে। যদি কারো ঘুম ভেঙে যায়! রুদ্রর হাত সে নিষেধ মানছিল না। বরং সে চেষ্টায় ছিল রিমির পোশাকের আবরণের ব্যবধানটুকুও পেরিয়ে যাবার। রিমি বুঝে উঠতে পারছিল না যে কী করবে। শেষে নখ বসিয়ে দিয়েছিল রুদ্রর কব্জিতে। অস্ফুটে উঃ বলে রিমির চুলটা মুঠো করে ধরে মুখটা ওর মুখের ওপর চেপে ধরে হিসহিসে গলায় রুদ্র বলেছিল, চুপচাপ শুয়ে থাক নাহলে সবাইকে বলে দেব তুই চোর, তাস খেলার সময় চুরি করিস!

আর প্রতিবাদ করার সাহস হয়নি রিমির। কাঠের মতো পায়ে পা চেপে শুয়েছিল বাকি রাত।
ভোররাতে রুদ্র আবার বলেছিল, আজ এগারোটার সময় ওই পোড়ো বাড়িটাতে তোকে নিয়ে যাব। দেখবি, বড়ো হওয়া কাকে বলে!

অ্যালবামটা রিমির হাত থেকে তুলে নিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল তিন্নি। তারপর বলল, এটা তো শুভমামা মা। আর এটা, বাবিমাসি। কিন্তু এই ছেলেটা কে? তোমার পাশে দাঁড়িয়ে?
: ও তো রুদ্রদা। বাবি অর শুভর মাসতুতো দাদা ছিল। বেচারা!
: কেন? কী হয়েছিল?
: সেবার সাপের কামড়ে মারা গেছিল।
: ইস্! বেশ হ্যান্ডসাম দেখতে ছিল তো!
: হ্যাঁ। আর তেমনি বেপরোয়া। ওখানে একটা পোড়ো বাড়ি ছিল। লোকে বলত ভূতবাঙ্গলো। ওখানেই মরে পড়েছিল। পায়ে কেউটের কামড়ের দাগও পাওয়া গেছিল।

তিন্নি চলে যায়। আর আজকের এই মাঝবয়েসী রিমি মনে মনে হাসতে থাকে।
হ্যাঁ, সাপের কামড়ের দাগ পাওয়া গেছিল ঠিকই। শুধু পাওয়া যায়নি বাবির কম্পাসটা। রুদ্রর বুকের বাঁদিকে সেদিন আমূল গেঁথে গেছিল ওটা। তারপর .., অদ্ভূত, শুধু একফোঁটা রক্ত বেরিয়েছিল। সেও টেনে বার করার পর।
আর পায়ের ওপর দাগদুটো দেওয়ার পরিকল্পনাটা হঠাৎই মাথায় এসে গেছিল।
পুলিস এসেছিল। সাপের কামড়ে মৃত্যু বলেই ধরে নিয়েছিল সবাই। পোস্টমরটেম হয়নি।

শুধু একটা জিনিসের কিনারা হয়নি। রুদ্রর মৃত শরীরের পাশে পড়ে থাকা, ইশকাপনের বিবিটার।

-০-

104 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: I

Re: ইশকাবনের বিবি

অনেক রক্তো বেরোবে , এক ফোটা রক্তো নয়।
Avatar: Indranil

Re: ইশকাবনের বিবি

ওপরের I আমি নই।
Avatar: SD

Re: ইশকাবনের বিবি

সাপের কামড়ে মরলে , পোস্ট মর্টেম মাস্ট, তাছাড়া শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষন ফুটে বেরুবে।কম্পাসের কাঁটা ফোটা আর সাপের দাঁতের চিহ্ন এক হয় না। ইনফ্যাক্ট দাঁতের চিহ্ন দেখে বিষধর না নির্বীষ সাপ বা কোন সাপ সেটাও বলে দেওয়া যায়।

কম্পাসের কাঁটার দৈর্ঘ্য 1.5" তা ফুটিয়ে হার্ট বিদ্ধ করে খুন তাও এক জন আনাড়ি বালিকার পক্ষে, না দাদা, অনেকটা জেলুসিল মেরেও হ্জম করতে পারলাম না।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন