Jhuma Samadder RSS feed

Jhuma Samadderএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • নীলতিমি
    সিলেবাসডোবায় বেশ একখানা কাঁটাসর্বস্ব পদ্ম ফুটত পরীক্ষার নামে, ফি বছর। সুখ অবশ্যি বেশি গিজগিজ করলে, গুপ্ত বিষফোঁড়ার মত 'মিনি'পরীক্ষা কখনো সখনো কপালে টোকা মেরে যেত, বছরের বাকি সময়েও। কোয়ার্টারলি, হাফ ইয়ার্লি। কখনো বা 'সারপ্রাইজ' অ্যাবস্ট্র‍্যাক্ট নাউন, ...
  • পারফিউম
    এত প্রশ্ন আমাকে আগে কেউ করেছে কিনা আমার ঠিক মনে পড়ল না। সেই প্রশ্ন কর্তাদের লিষ্টে অন্তর্ভুক্ত আছেঃ১। অ্যালাপ্যাথি ডাক্তার।হোমিওপ্যাথি ডাক্তার নয় কিন্তু – তাদের আবার বিরাট রেঞ্জের প্রশ্ন ক্ষেপণের স্বভাব আছে। আমাদের নিমো বাস স্ট্যান্ডের নারাণ ডাক্তার আমার ...
  • বল ও শক্তি: ধারণার রূপান্তর বিভ্রান্তি থেকে বিজ্ঞানে#2
    [৩] যাদুবিদ্যা ও ধর্মপৃথিবীর সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মই প্রথম যুগে এই ম্যাজিক সংস্কৃতির বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু কেন? আসুন, এবার আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখি। সমাজ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেখা যাবে, ধর্মের উদ্ভবের সময়কালের সাথে এই যাদুবিদ্যার আর্থসামাজিক ...
  • আমার বাবার বাড়ি
    আমাদের যাদের বয়েস স্বাধীনতার বয়েসের পাশাপাশি তারা ছোটবেলায় প্রায়ই একটা অদ্ভুত প্রশ্নের মুখোমুখি হতাম, দেশ কই? উত্তরে যে দেশের নাম বলার রীতি ছিলো যেমন ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, নোয়াখালী সব ছিলো ভারতের ম্যাপের বাইরে সবুজ এলাকায়। আবার সদ্যস্বাধীন দেশে আমরা খুব ...
  • পরীবালার দিনকাল
    ১--এ: যত তাড়াতাড়িই কর না কেন, সেই সন্ধ্যে হয়ে এলো ----- খুব বিরক্ত হয়ে ছবির মা আকাশের দিকে একবার তাকাল, যদি মেঘ করে বেলা ছোট লেগে থাকে৷ কিন্তু না: আকাশ তকতকে নীল, সন্ধ্যেই হয়ে আসছে৷ এখনও লালবাড়ির বাসনমাজা আর মুনি দের বাড়ি বাসন মাজা, বারান্দামোছা ...
  • বল ও শক্তি: ধারণার রূপান্তর বিভ্রান্তি থেকে বিজ্ঞানে#1
    আধুনিক বিজ্ঞানে বস্তুর গতির রহস্য বুঝতে গেলেই বলের প্রসঙ্গ এসে পড়ে। আর দু এক ধাপ এগোলে আবার শক্তির কথাও উঠে যায়। সেই আলোচনা আজকালকার ছাত্ররা স্কুল পর্যায়েই এত সহজে শিখে ফেলে যে তাদের কখনও একবারও মনেই হয় না, এর মধ্যে কোনো রকম জটিলতা আছে বা এক কালে ছিল। ...
  • আমার বাবা আজিজ মেহের
    আমার বাবা আজিজ মেহের (৮৬) সেদিন সকালে ঘুমের ভেতর হৃদরোগে মারা গেলেন।সকাল সাড়ে আটটার দিকে (১০ আগস্ট) যখন টেলিফোনে খবরটি পাই, তখন আমি পাতলা আটার রুটি দিয়ে আলু-বরবটি ভাজির নাস্তা খাচ্ছিলাম। মানে রুটি-ভাজি খাওয়া শেষ, রং চায়ে আয়েশ করে চুমুক দিয়ে বাবার কথাই ...
  • উপনিষদ মহারাজ
    একটা সিরিজ বানাবার ইচ্ছে হয়েছিলো মাঝে। কেউ পড়েন ভালোমন্দ দুটো সদুপদেশ দিলে ভালো লাগবে । আর হ্যা খুব খুব বেশী বাজে লেখা হয়ে যাচ্ছে মনে হলে জানাবেন কেমন :)******************...
  • চুনো-পুঁটি বনাম রাঘব-বোয়াল
    চুনো-পুঁটি’দের দিন গুলো দুরকম। একদিন, যেদিন আপনি বাজারে গিয়ে দেখেন, পটল ৪০ টাকা/কেজি, শসা ৬০ টাকা, আর টোম্যাটো ৮০ টাকা, যেদিন আপনি পাঁচ-দশ টাকার জন্যও দর কষাকষি করেন; সেদিনটা, ‘খারাপ দিন’। আরেক দিন, যেদিন আপনি দেখেন, পটল ৫০ টাকা/কেজি, শসা ৭০ টাকা, আর ...
  • আগরতলা নাকি বানভাসি
    আগরতলা বানভাসি। দামী ক্যামেরায় তোলা দক্ষ হাতের ফটোগ্রাফ বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে ফেসবুকের ওয়াল। দেখছি অসহায়ের মতো সকাল, দুপুর বিকেল, রাত হোল এখন। চিন্তা হচ্ছে যাঁরা নীচু এলাকায় থাকেন তাঁদের জন্য। আমাদের ছোটবেলায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হোত হাওড়া নদীর বুক ভরে উঠতো ...

অ-খাদ্য ভীমরতি

Jhuma Samadder






অ-খাদ্য ভীমরতি
ঝুমা সমাদ্দার

যত্ত আদিখ্যেতা আর ন্যাকামো । যেন চা দিয়ে পরোটা খেতে এতই খারাপ , হোলোই বা তা একখান পরোটা । আমাদের গরিব বেচারা দেশ , কতো কতো লোকের বলে এ-ই জোটে না । কি চাই ? না বাটার, জ্যাম, আচার ! আহা ! আল্হাদে মরে যাই । আবার দুপুরে ডাল-রুটি দেওয়া হচ্ছে বলে কথা , তারও আবার কত না বাহানা ! আরে বাবা , চাকরি করতে এসেছিস , জমিয়ে বসে বিরিয়ানি খেতে থোড়াই না এসেছিস ! মাইনে পাবি , কাজ করবি । কি খেতে পেলি, ক'ঘন্টা ঘুমোতে পেলি, ঠান্ডায় নাকি গরমে মরতে বসেছিলি, অত খতিয়ান শোনাবার দরকারটা কি শুনি ? তোরা কাজ করবি ,যুদ্ধু করবি, গোলাগুলি খাবি ,মাইনে পাবি । অত কথা কিসের ? তোদের কোনো কিছুতেই মন ওঠে না ।
এই যে তোদের নামে 'দেশপ্রমে'র প্যাকেজিং হচ্ছে , এ-ও তো তোদের উপরি, বাপু । দেখ তো কত কত গান, কত কত ইউটিউব ভিডিও বানাচ্ছি আমরা তোদের জয়গান করে , এতোতেও পেট ভরে না তোদের , না ? পেট ভরাবার জন্য কেবল তরকা-রুটিই চাই ? অদ্ভুত !
তা শুধুই কি তোরা ? এই যে দেখ , এই ইন্ডিয়ান রেলওয়ে , এদের নিয়েও কি কম ভিডিও বানিয়েছি আমরা ? কেমন গর্ব করে , বুক ফুলিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সকলে জয়গান করে । কেউ কি একবারও বলেছে , ‘লোকো পাইলটে'র ওইটুকু বসার সিট , যেখানে একটা বেড়ালও ঠিকমত শুয়ে থাকতে পারে না, সেখানে লোকগুলো ঘন্টার পর ঘন্টা বসে বসে ডিউটি করে । গার্ড, শান্টার, অ্যাসিসট্যান্ট, শীতের রাতে জেগে , গরমে দুপুরের রোদে পুড়ে , বর্ষায় , ও হ্যাঁ , বর্ষায় আবার ইঞ্জিনের চালের ফুটো দিয়ে জলও পড়ে আবার মাথার উপর (ন্যাচারাল সাওয়ার , স্নান করে না তো ভূতগুলো ! বলে নাকি , সময় পায় না, যত্ত বাহানা , তাই বাধ্য হয়েই আর কি - ),লিটার লিটার খাওয়ার জল নিজেদের বয়ে নিয়ে যেতে হয়, এমনকি প্রাকৃতিক ডাক এলে জলের বোতল নিয়ে মাঠে যেতে হয় , অথবা গাংম্যানগুলোর কথাই ধর না , সদা সর্বদা জান-প্রাণ এক করে খাটছে , তবু কি কেউ কিছু বলেছে কোনোদিন ? কভ্ভি নেহী । দেশের জন্য সব জান কবুল ।
তারপর দেখ , এই যে কর্পোরেশনের ময়লা পরিস্কার করার লোকগুলো , তাদের না দিয়েছি আমরা একটা মাস্ক, না একটা গ্লাভস, না একটা জুতো , ওরা কেউ কিছু বলেছে ? কেমন সোনামুখ করে হাত দিয়ে দিব্যি ময়লা পরিস্কার করে চলেছে । আমরা দেব-ই বা কোত্থেকে ? আমরা গরিব নই ? আর ওরা করবে না-ই বা কেন ? ওরা ছোটলোক নয় ? ওরা চাকরি করতে আসেনি ? মাইনে পাচ্ছে , তাই করছে ।
কিম্বা এই শীতে, গরমে , বর্ষায় রাস্তায় দাঁড়ানো ট্রাফিক পুলিশের কথাই ধর না , কেউ কখনও বলেছে , "আর যে পারছি না বাপু , এবার এট্টু বসি । কোমরখানা ধরে গেছে ।” কিম্বা , “ বড্ড গরম , এট্টু জল পাই কোথায় ?” বলে নি । চাকরি করতে গেলে এ সব বাহানা চলে কখনও ?
না করে যাবেই -বা কোথায় ? দেশে চাকরির যা আকাল সে কি আর জানে না কেউ ? আমরা যেমন রাখব তেমন না থেকে করবেই -বা কি ? আমরা যদি আট ঘন্টার জায়গায় বারো ঘন্টা বলি , কি আঠারো ঘন্টা , করবেই , করতেই হবে । তেমন না পোষায় চলে যা , ছেড়ে দে চাকরি । বাপু, ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না । কত কত লম্বা লম্বা ডিগ্রিওলা লোকেরাই পায়ে পড়ে যাবে এখনই ।
ভারী একজন হিং টিং ছট কি একখানা ভিডিও দেখিয়ে লোক ক্ষেপাতে লেগে পড়ল । আরে , বুদ্ধুগুলো এখনও জানে না, ওর এই 'ডাল-রুটি' ভিডিও হাতিয়ার করেই আমরা কেমন দেশপ্রেমের 'চিকেন বার্গার' প্যাকেজিং করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেব , দেখে নিও একবার ।



Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: অ-খাদ্য ভীমরতি

এপার ওপার সবখানেই একই, কাকের প্রাণ ওষ্ঠাগত, আর দেশপ্রেমের প্যাকেজং!
Avatar: de

Re: অ-খাদ্য ভীমরতি

সার্ভিস সেক্টরের লোকজনকে মানুষ না মনে করে যন্ত্র মনে করার অভ্যেস হয়ে গেছে সবার!


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন