Jhuma Samadder RSS feed

Jhuma Samadderএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অভিজ্ঞতার ঝুলি
    আমাদের পাশের পাড়ায় একটা কালিপুজো হত আদর্শ বালক সঙ্ঘের নামে।আমার জন্মের বহু আগে থেকে সেই পাড়ার কাকা জ্যাঠারা তারা যখন বালক ছিল সেই সময়ে ওই পুজোটা চালু করে।সেই জন্যই নাম ছিল আদর্শ বালক সঙ্ঘ বা এবিএস।তো বালকরা কালের নিয়মে কৈশোর পার করে যৌবনে উপনীত হল, তাতেও ...
  • বৃত্ত
    ১)এখনসকাল থেকেই বাড়িটায় হুলুস্থুলু, কি না কাজের লোক হার চুরি করে ধরা পড়েছে। "গত দুবছর ধরে তোকে খেতে পরতে দিচ্ছি, কাজ করতেও শিখিয়েছি, তার এই প্রতিদান?"ঘোষগিন্নীর গলাটা প্রায় পাড়ার মুখ থেকে শোনা যাচ্ছিল।"আসলে বৌদি, ছেলেটার অপারেশন করতে হবে, তোমাকে তো বলেছি, ...
  • অভিজ্ঞতার ঝুলি
    বারো তেরো বছর আগেকার কথা।তখন হৈ হৈ করে দুর্গা পুজো কালি পুজোর চাঁদা তুলতাম।একবার হয়েছে কি যে যে বাড়ির কোটাগুলো ছিল সেই সব কটা বাড়ির চাঁদা তোলা হয়ে গেছে।হাতে আরো কয়েকদিন সময়ও আছে।তো নতুন মার্কেট ধরার জন্য আমরা পাড়া থেকে একটু দূরে গেলাম।যদি কিছু চাঁদা আরো ...
  • অভিজ্ঞতার ঝুলি
    বারো তেরো বছর আগেকার কথা।তখন হৈ হৈ করে দুর্গা পুজো কালি পুজোর চাঁদা তুলতাম।একবার হয়েছে কি যে যে বাড়ির কোটাগুলো ছিল সেই সব কটা বাড়ির চাঁদা তোলা হয়ে গেছে।হাতে আরো কয়েকদিন সময়ও আছে।তো নতুন মার্কেট ধরার জন্য আমরা পাড়া থেকে একটু দূরে গেলাম।যদি কিছু চাঁদা আরো ...
  • বিসর্জন
    বিসর্জনঝুমা সমাদ্দারপড়ে রইল রাফখাতার শেষ পৃষ্ঠার এলোমেলো আঁকিবুকি... হলুদ প্লাস্টিকের ঝুটো দুল... চুলের তেলের গন্ধওয়ালা মাথার বালিশ...বেলতলার লাল কাঁকুড়ে পথ ... পড়ে রইল স্কুল ... আমগাছের নীচের বাঁধানো বেদী... পড়ে রইল হাসি-গল্প- ঝগড়া- খুনসুটি... বেগুনী ...
  • জ্যামিতিঃ পর্ব ৩
    http://bigyan.org.in...
  • বেতারে ‘অপারেশন সার্চলাইট'
    #MyStory #WarCrime #Joy71 #FFবিপ্লব রহমান, ঢাকা: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কারফিউ জারি করে বিদ্রোহ দমন করার নামে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, এর সামরিক অভিধা ছিল— ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে মুক্তিকামী ...
  • জ্যামিতি: পর্ব ২
    http://bigyan.org.in...
  • আমি যারে ভালবাসি, তারে আবার বাসি না...
    আটের দশকে এসএসসি পরীক্ষার পর আমার স্কুলের বন্ধুরা কেউ স্পোকেন ইংলিশ, কেউ বেসিক ইংলিশ, কেউ বা শর্টহ্যান্ড-টাইপরাইট...
  • চড়াই ঠাকুমা
    আজকে তো বিশ্ব চড়াই দিবস। এই প্রসঙ্গে আমার ছোট বেলার চেনা চড়াইদের কথা মনে পড়ছে। অসমে তখন ব্রিটিশ আমলের বাংলো বাড়ী নেই নেই করে ও ছিলো। ঠান্ডা গরমে সমান আরামের হতো বলে সেগুলোর এবং অন্য অনেক বাড়ীর চাল হতো সোনালী খড়ের, আঞ্চলিক ভাষায় আমরা বলতাম ছনের চাল। এরকম ...

অ-খাদ্য ভীমরতি

Jhuma Samadder






অ-খাদ্য ভীমরতি
ঝুমা সমাদ্দার

যত্ত আদিখ্যেতা আর ন্যাকামো । যেন চা দিয়ে পরোটা খেতে এতই খারাপ , হোলোই বা তা একখান পরোটা । আমাদের গরিব বেচারা দেশ , কতো কতো লোকের বলে এ-ই জোটে না । কি চাই ? না বাটার, জ্যাম, আচার ! আহা ! আল্হাদে মরে যাই । আবার দুপুরে ডাল-রুটি দেওয়া হচ্ছে বলে কথা , তারও আবার কত না বাহানা ! আরে বাবা , চাকরি করতে এসেছিস , জমিয়ে বসে বিরিয়ানি খেতে থোড়াই না এসেছিস ! মাইনে পাবি , কাজ করবি । কি খেতে পেলি, ক'ঘন্টা ঘুমোতে পেলি, ঠান্ডায় নাকি গরমে মরতে বসেছিলি, অত খতিয়ান শোনাবার দরকারটা কি শুনি ? তোরা কাজ করবি ,যুদ্ধু করবি, গোলাগুলি খাবি ,মাইনে পাবি । অত কথা কিসের ? তোদের কোনো কিছুতেই মন ওঠে না ।
এই যে তোদের নামে 'দেশপ্রমে'র প্যাকেজিং হচ্ছে , এ-ও তো তোদের উপরি, বাপু । দেখ তো কত কত গান, কত কত ইউটিউব ভিডিও বানাচ্ছি আমরা তোদের জয়গান করে , এতোতেও পেট ভরে না তোদের , না ? পেট ভরাবার জন্য কেবল তরকা-রুটিই চাই ? অদ্ভুত !
তা শুধুই কি তোরা ? এই যে দেখ , এই ইন্ডিয়ান রেলওয়ে , এদের নিয়েও কি কম ভিডিও বানিয়েছি আমরা ? কেমন গর্ব করে , বুক ফুলিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সকলে জয়গান করে । কেউ কি একবারও বলেছে , ‘লোকো পাইলটে'র ওইটুকু বসার সিট , যেখানে একটা বেড়ালও ঠিকমত শুয়ে থাকতে পারে না, সেখানে লোকগুলো ঘন্টার পর ঘন্টা বসে বসে ডিউটি করে । গার্ড, শান্টার, অ্যাসিসট্যান্ট, শীতের রাতে জেগে , গরমে দুপুরের রোদে পুড়ে , বর্ষায় , ও হ্যাঁ , বর্ষায় আবার ইঞ্জিনের চালের ফুটো দিয়ে জলও পড়ে আবার মাথার উপর (ন্যাচারাল সাওয়ার , স্নান করে না তো ভূতগুলো ! বলে নাকি , সময় পায় না, যত্ত বাহানা , তাই বাধ্য হয়েই আর কি - ),লিটার লিটার খাওয়ার জল নিজেদের বয়ে নিয়ে যেতে হয়, এমনকি প্রাকৃতিক ডাক এলে জলের বোতল নিয়ে মাঠে যেতে হয় , অথবা গাংম্যানগুলোর কথাই ধর না , সদা সর্বদা জান-প্রাণ এক করে খাটছে , তবু কি কেউ কিছু বলেছে কোনোদিন ? কভ্ভি নেহী । দেশের জন্য সব জান কবুল ।
তারপর দেখ , এই যে কর্পোরেশনের ময়লা পরিস্কার করার লোকগুলো , তাদের না দিয়েছি আমরা একটা মাস্ক, না একটা গ্লাভস, না একটা জুতো , ওরা কেউ কিছু বলেছে ? কেমন সোনামুখ করে হাত দিয়ে দিব্যি ময়লা পরিস্কার করে চলেছে । আমরা দেব-ই বা কোত্থেকে ? আমরা গরিব নই ? আর ওরা করবে না-ই বা কেন ? ওরা ছোটলোক নয় ? ওরা চাকরি করতে আসেনি ? মাইনে পাচ্ছে , তাই করছে ।
কিম্বা এই শীতে, গরমে , বর্ষায় রাস্তায় দাঁড়ানো ট্রাফিক পুলিশের কথাই ধর না , কেউ কখনও বলেছে , "আর যে পারছি না বাপু , এবার এট্টু বসি । কোমরখানা ধরে গেছে ।” কিম্বা , “ বড্ড গরম , এট্টু জল পাই কোথায় ?” বলে নি । চাকরি করতে গেলে এ সব বাহানা চলে কখনও ?
না করে যাবেই -বা কোথায় ? দেশে চাকরির যা আকাল সে কি আর জানে না কেউ ? আমরা যেমন রাখব তেমন না থেকে করবেই -বা কি ? আমরা যদি আট ঘন্টার জায়গায় বারো ঘন্টা বলি , কি আঠারো ঘন্টা , করবেই , করতেই হবে । তেমন না পোষায় চলে যা , ছেড়ে দে চাকরি । বাপু, ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না । কত কত লম্বা লম্বা ডিগ্রিওলা লোকেরাই পায়ে পড়ে যাবে এখনই ।
ভারী একজন হিং টিং ছট কি একখানা ভিডিও দেখিয়ে লোক ক্ষেপাতে লেগে পড়ল । আরে , বুদ্ধুগুলো এখনও জানে না, ওর এই 'ডাল-রুটি' ভিডিও হাতিয়ার করেই আমরা কেমন দেশপ্রেমের 'চিকেন বার্গার' প্যাকেজিং করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেব , দেখে নিও একবার ।



Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: অ-খাদ্য ভীমরতি

এপার ওপার সবখানেই একই, কাকের প্রাণ ওষ্ঠাগত, আর দেশপ্রেমের প্যাকেজং!
Avatar: de

Re: অ-খাদ্য ভীমরতি

সার্ভিস সেক্টরের লোকজনকে মানুষ না মনে করে যন্ত্র মনে করার অভ্যেস হয়ে গেছে সবার!


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন