বিপ্লব রহমান RSS feed

বিপ্লব রহমানের ভাবনার জগৎ

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অন্য পদ্মাবতী
    রাজা দেবপালের সহিত দ্বন্দ্বযুদ্ধে রানা রতন সিংয়ের পরাজয় ও মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ রাজপুরীতে পঁহুছানোমাত্র সমগ্র চিতোরনগরীতে যেন অন্ধকার নামিয়া আসিল। হায়, এক্ষণে কে চিতোরের গরিমা রক্ষা করিবে? কেই বা চিতোরমহিষী পদ্মাবতীকে শত্রুর কলুষ স্পর্শ হইতে বাঁচাইবে? ...
  • আমার প্রতিবাদের শাড়ি
    আমার প্রতিবাদের শাড়িসামিয়ানা জানেন? আমরা বলি সাইমানা ,পুরানো শাড়ি দিয়ে যেমন ক্যাথা হয় ,গ্রামের মেয়েরা সুচ সুতো দিয়ে নকশা তোলে তেমন সামিয়ানাও হয় । খড়ের ,টিনের বা এসবেস্টাসের চালের নিচে ধুলো বালি আটকাতে বা নগ্ন চালা কে সভ্য বানাতে সাইমানা টানানো আমাদের ...
  • টয়লেট - এক আস্ফালনগাথা
    আজ ১৯শে নভেম্বর, সলিল চৌধুরী র জন্মদিন। ইন্দিরা গান্ধীরও জন্মদিন। ২০১৩ সাল অবধি দেশে এটি পালিত হয়েছে “রাষ্ট্রীয় একতা দিবস” বলে। আন্তর্জাতিক স্তরে গুগুল করলে দেখা যাচ্ছে এটি আবার নাকি International Men’s Day বলে পালিত হয়। এই বছরই সরকারী প্রচারে জানা গেল ...
  • মার্জারবৃত্তান্ত
    বেড়াল অনেকের আদরের পুষ্যি। বেড়ালও অনেককে বেশ ভালোবাসে। তবে কুকুরের প্রভুভক্তি বা বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ালের কাছে আশা করলে দুঃখ লাভের সম্ভাবনা আছে। প্রবাদ আছে কুকুর নাকি খেতে খেতে দিলে প্রার্থনা করে, আমার প্রভু ধনেজনে বাড়ুক, পাতেপাতে ভাত পড়বে আমিও পেটপুরে ...
  • বসন্তবৌরী
    বিল্টু তোতা বুবাই সবাই আজ খুব উত্তেজিত। ওরা দেখেছে ছাদে যে কাপড় শুকোতে দেয়ার একটা বাঁশ আছে সেখানে একটা ছোট্ট সবুজ পাখি বাসা বেঁধেছে। কে যেন বললো এই ছোট্ট পাখিটার নাম বসন্তবৌরী। বসন্তবৌরী পাখিটি আবার ভারী ব্যস্তসমস্ত। সকাল বেলা বেরিয়ে যায়, সারাদিন কোথায় ...
  • সামান্থা ফক্স
    সামান্থা ফক্সচুপচাপ উপুড় হয়ে শুয়ে ছবিটার দিকে তাকিয়েছিলাম। মাথায় কয়েকশো চিন্তা।হস্টেলে মেস বিল বাকি প্রায় তিন মাস। অভাবে নয়,স্বভাবে। বাড়ি থেকে পয়সা পাঠালেই নেশাগুলো চাগাড় দিয়ে ওঠে। গভীর রাতের ভিডিও হলের চাম্পি সিনেমা,আপসু রাম আর ফার্স্ট ইয়ার কোন এক ...
  • ইংরাজী মিডিয়ামের বাংলা-জ্ঞান
    বাংলা মাধ্যম নাকি ইংরাজী মাধ্যম ? সুবিধা কি, অসুবিধাই বা কি? অনেক বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়েছে এই সিদ্ধান্ত নিতে! তারপরেও সংশয় যেতে চায় না। ঠিক করলাম, না কি ভুলই করলাম? উত্তর একদিন খানিক পরিস্কার হল। যেদিন একটি এগার বছরের আজন্ম ইংরাজী মাধ্যমে পড়া ছেলে এই ...
  • রুশ বিপ্লবের ইতিহাস
    রুশ বিপ্লবের ইতিহাসরাশিয়ায় শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের বিষয়টিকেই বলা হয় রুশ বিপ্লব। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ‘দুনিয়া কাঁপানো দশদিন’ সময়পর্বের মধ্যে এই বিপ্লবের চূড়ান্ত পর্বটি সংগঠিত হয়েছিল।অবশ্য দুনিয়া কাঁপানো এই দশ ...
  • হিজিবিজি
    শীত আসছে....মানে কোলকাতার শীত আর কি। কোলকাতার বাইরে সব্বাই শুনে যাকে খিল্লি করে সেই শীত। অবশ্য কোলকাতার সব কিছু নিয়েই তো তামাশা চলে আজকাল, গরীব আত্মীয় বড়লোকের ড্রয়িংরুমে যেমন। তাও কাঁথার আরামের মতোই কোলকাতার মায়া জড়িয়ে রাখে, বড় মায়া হে এ শহর ছাড়িয়ে মাঠ ...
  • আমার কালী....... আমিও কালী
    কালী ঠাকুরে আমার খুব ভয়। গলায় মুন্ডমালা,হাতে একটা কাটা মুন্ডু থেকে রক্ত ঝরে পড়ছে, একটা হাড় জিরজিরে শেয়াল তা চেটে চেটে খাচ্ছে, হাতে খাঁড়া, কালো কুস্টি, এলো চুল,উলঙ্গ দেহ, সেই ছোট বেলায় মন্ডপে দেখে এমন ভয় পেয়েছিলাম সেই ভয় আমার আজও যায়নি। আর আমার এই কালী ...

প্রাণে প্রাণ মেলাবোই...

বিপ্লব রহমান

কর্ণফুলীর কান্না, মধুপুরে মিশে গেছে, চলেশ রিছিলের তাজা রক্তে….’-

এমনই শাণিত কথামালা আর সুর-ঝংকার নিয়ে সারাদেশে পাহাড় থেকে সমতলে ছুটে বেড়াচ্ছে আদিবাসীর গানের দল ‘মাদল’। যেখানেই আদিবাসীর ওপর জুলুম চলে, সেখানেই সংগ্রামী গণসংগীত নিয়ে হাজির হয় এই গানের দল। ‘জেগে উঠুক মানবতার জয়োগান’ — এই হচ্ছে তাদের ‘মাদলের’ আহ্বান।

এই লেখকের সঙ্গে আলাপচারিতায় ‘মাদলের’ তরুণেরা বলেন, গানই আমাদের সংগ্রামের হাতিয়ার। আর আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীকে আমরা দেখাতে চাই নতুন দিনের স্বপ্ন।

‘মাদলের’ একাধিক কনসার্টের ফাঁকে ফাঁকে টুকরো কথায় জানা গেল, অভিনব এ গানের দলে রয়েছেন ভিন্ন ভাষাভাষী চাকমা, গারো, মারমা, বম ও সিং জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীরা। বাংলা ভাষার পাশাপাশি তাঁরা নিজস্ব জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গানও পরিবেশন করেন।

‘মাদলের’ শিল্পীরা এখন উদ্যোগ নিয়েছেন হারিয়ে যেতে বসা আদিম সুরের গানগুলো সংগ্রহের। পরে তাঁরা এগুলো আধুনিক বাদ্যযন্ত্রে নতুন করে পরিবেশন করবেন। বলা ভালো, দেশে এ ধরনের গানের দল এটিই প্রথম। তবে বিভিন্ন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর রয়েছে নিজ নিজ ভাষার অসংখ্য গানের দল।

বৃহত্তর উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলায় রয়েছে সাঁওতাল, ওঁরাও, মুণ্ডা, সিং, কোল, মাহতো, কড়াসহ প্রায় ৩৮টি আদিবাসীর প্রায় ১৬ লাখ মানুষের বসবাস। তাদের বেশির ভাগেরই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘মাদল’ নামের এক ধরনের ঢোল। সেখান থেকেই এ গানের দলের নামকরণ। উত্তরবঙ্গ ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের নানা প্রান্তে বাস করে ৫৪টিরও বেশি আদিবাসীর প্রায় ৪০ লাখ মানুষ।

পাহাড়ের আদিবাসীর বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব বিজু (চাকমা), বৈসুক (ত্রিপুরা), সাংগ্রাই (মারমা), বিষু (তঞ্চঙ্গ্যা) অথবা গারোদের নবান্ন উৎসব ‘ওয়ানগালা’তেও এরই মধ্যে গান গেয়ে সাড়া ফেলেছেন ‘মাদলের’ শিল্পীরা। মে দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ নানা জাতীয় দিবসেও গণসংগীত পরিবেশন করেন তাঁরা।

২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে মাদল হাজির ছিল গান নিয়ে। আবার ২০১৪ সালে একজন ওঁরাও নেত্রী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্ষুদ্রজাতির ৬৫ কিলোমিটার পদযাত্রায় গানে গানে প্রেরণা জুগিয়েছে মাদল। বছর সাতেক ধরে এভাবেই তারা অংশ নিয়েছে শতাধিক অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে।

ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যমেও সাড়া ফেলেছে মাদলের গান। বেশির ভাগ গানই তাদের নিজেদের লেখা। সুরারোপ করাটাও একান্তই নিজের।

‘মাদলের’ যাত্রা সম্পর্কে এর প্রধান কণ্ঠশিল্পী শ্যাম সাগর মানখিন এই লেখকের সঙ্গে আলাপচারিতায় বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আমরা কয়েকজন আদিবাসী সংগীত শিল্পী ‘উদীচী’ সাংস্কৃতিক দলে যোগ দিই। ‘সমগীত’ নামে আরেকটি গণসংগীত দলের সঙ্গেও ছিল আমাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। সেটি ২০০৯ সালের নভেম্বরের কথা। সেখান থেকেই আমরা ভিন্ন ভাষাভাষী ক্ষুদ্রজাতির ছাত্ররা জড়ো হয়ে ‘মাদল’ সংগঠনটি গড়ে তুলি। আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, ছাত্র ফেডারেশন, গারো সংগঠন চানচিয়াসহ (চিন্তা) বিভিন্ন সংগঠনের সূত্রে ক্রমেই আমরা ছড়িয়ে পড়ি ক্যাম্পাসের বাইরেও। প্রথমে বৃহত্তর রাজশাহীতে, পরে বৃহত্তর উত্তরবঙ্গ, ঢাকা, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে আমরা গান পরিবেশন করতে থাকি।…

‘মাদলের’ আরেক প্রতিষ্ঠাতা হরেন্দ্রনাথ সিং এই লেখককে বলেন, প্রথম দিকে রিটন চাকমা, পিন্টু ম্রং, মানিক সরেন প্রমুখ যুক্ত হন আমাদের সঙ্গে। আদিবাসী গবেষক পাভেল পার্থ আমাদের প্রেরণা দেন। এমনও দিন গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমাদের গানের অনুশীলনের জন্য বসার জায়গা ছিল না। ধীরে ধীরে আমাদের অবস্থান তৈরি করতে হচ্ছে। এখনো রাজশাহী, ঢাকা ও পার্বত্য চট্টগ্রামে আমাদের শিল্পীরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাস করেন বলে কোনো একটি অনুষ্ঠানের আগে সবাই ঢাকায় জড়ো হলেও অনুশীলনের যথেষ্ট সময় পান না। স্থানাভাবও আছে।…

মাদলের ড্রাম ও কাজন বাদক আন্তনী রেমাও জানালেন একসঙ্গে অনুশীলনে প্রতিবন্ধকতার কথা।

মাদল সম্পর্কে শ্যাম সাগর আরো বলেন, আদিবাসীর শোষণ-বঞ্চনার প্রতিবাদ করাই আমাদের লক্ষ্য। আর গানই আমাদের সংগ্রামের হাতিয়ার। আদর্শিক সংগ্রামটিকে আমরা এই ব্যান্ডের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চাই। পাশাপাশি মাদলকে টিকিয়ে রাখতে আমরা চাই বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে।

এদিকে আদিবাসী নেতারাও মাদল সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, মাদলের গানগুলো শোষিত আদিবাসীকে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়। গান গেয়ে তারা সৃষ্টি করেছে জগরণের এক নতুন ধারা।…

একনজরে ‘মাদল’ কর্মীরা : শ্যাম সাগর মানখিন (প্রধান কণ্ঠশিল্পী), হরেন্দ্রনাথ সিং (মাদল), রিটন চাকমা (গিটার), জেনসন আমলাই (লিড গিটার), অন্তুর স্কু (বেস গিটার), সায়ন মাংসাং (আড়বাঁশি), আন্তনী রেমা (ড্রাম, কাজন ও বঙ্গো) এবং যোয়েল চাকমা (ফটোগ্রাফি)।
---
*লেখার শিরোনামটি গণসংগীত শিল্পী কফিল আহমেদের গানের একটি লাইন থেকে নেওয়া।



Avatar: pi

Re: প্রাণে প্রাণ মেলাবোই...

আরে বাহ।
বেশ কিছু গানও ইউটিউবে খুঁজে শুনে ফেললাম ! বেশ ভাল লাগল।
এমনিতে বাংলাদেশে গণসঙ্গীতের চল কীরকম ছিল, এর আগে ?
আদিবাসীদের নিজেদের ব্যাণ্ড এদেশে কত কী আছে জানিনা। মিজোরামে আছে জানি।
এনাদের সব গানই নিজেদের লেখা ? আদিবাসীদের নিজেদের গান কিছু করেন না ?


https://www.youtube.com/watch?v=ZbhVxt1Y8TA


https://www.youtube.com/watch?v=4B-5ODpV6Js
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: প্রাণে প্রাণ মেলাবোই...

পাই,

আপনার বিনীত পাঠ ও মন্তব্যে জন্য ধন্যবাদ। ইউটিউবের লিংকগুলো এই লেখাটিকে সমৃদ্ধ করেছে।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় গণ সংগীতের ধারা খুব শক্তিশালী ছিল। আন্দোলনের ধারায় এটি আবারো শক্তিশালী হয়ে উঠবে নিশ্চয়ই।

"মাদল" শিল্পী গোষ্ঠির সব গান নিজেদেরই লেখা। আর তারা শুধু বাংলায় নয়, বিভিন্ন আদিবাসীর ভাষাতেই গান করেন। প্রাচীণ আদিবাসী লোক সংগীতের গানও তুলে নিয়ে এসেছেন তারা।

এপারে বড় জনগোষ্ঠি আদিবাসীদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব গানের দল রয়েছে, যেমন, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, গারোদের রয়েছে বেশ কিছু গানের দল। এসব গান ইউটিউবে তো বটেই ছড়িছে পড়েছে কনসার্ট ও বিভিন্ন গানের অ্যালবামে। ...তবে সবই গণসংগীত নয়। প্রকৃতি-প্রেম-বিরহ-উৎসব, সবই আছে এসব গানে। আছে প্রাচীন আদিবাসী লোক সংগীতও।




আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন