কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জী RSS feed

কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জীএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আজকের নাটক -পদ্মাবতী
    পরের পর নাটক আসতেই থাকে আজকাল। গল্প সাধারণ, একটা জনগোষ্ঠীর গরিষ্ঠ অংশের অহংকে সুড়সুড়ি দেওয়া প্লট। তাদের বোঝান যে বাকিরা ও তাদের পূর্বপুরুষেরা লুঠতরাজ করে তোমাদের লাট করে দিয়েছিল, আজই সময় হয়েছে বদলা নিয়ে নাও, নয়ত কাল আবার ওরা তোমাদের শেষ করে দেবে। এই নাটক ...
  • বেশ্যাদ্বার
    বেশ্যাদ্বার (প্রথম পর্ব)প্রসেনজিৎ বসুরামচন্দ্র দুর্গাপুজো করছেন। রাবণবধের জন্য। বানরসেনা নানা জায়গা থেকে পুজোর বিপুল সামগ্রী জোগাড় করে এনেছে। রঘুবীর পুজো শুরু করেছেন। ষষ্ঠীর বোধন হয়ে গেছে। চলছে সপ্তমীর মহাস্নান। দেবীস্বরূপা সুসজ্জিতা নবপত্রিকাকে একেকটি ...
  • অন্য পদ্মাবতী
    রাজা দেবপালের সহিত দ্বন্দ্বযুদ্ধে রানা রতন সিংয়ের পরাজয় ও মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ রাজপুরীতে পঁহুছানোমাত্র সমগ্র চিতোরনগরীতে যেন অন্ধকার নামিয়া আসিল। হায়, এক্ষণে কে চিতোরের গরিমা রক্ষা করিবে? কেই বা চিতোরমহিষী পদ্মাবতীকে শত্রুর কলুষ স্পর্শ হইতে বাঁচাইবে? ...
  • আমার প্রতিবাদের শাড়ি
    আমার প্রতিবাদের শাড়িসামিয়ানা জানেন? আমরা বলি সাইমানা ,পুরানো শাড়ি দিয়ে যেমন ক্যাথা হয় ,গ্রামের মেয়েরা সুচ সুতো দিয়ে নকশা তোলে তেমন সামিয়ানাও হয় । খড়ের ,টিনের বা এসবেস্টাসের চালের নিচে ধুলো বালি আটকাতে বা নগ্ন চালা কে সভ্য বানাতে সাইমানা টানানো আমাদের ...
  • টয়লেট - এক আস্ফালনগাথা
    আজ ১৯শে নভেম্বর, সলিল চৌধুরী র জন্মদিন। ইন্দিরা গান্ধীরও জন্মদিন। ২০১৩ সাল অবধি দেশে এটি পালিত হয়েছে “রাষ্ট্রীয় একতা দিবস” বলে। আন্তর্জাতিক স্তরে গুগুল করলে দেখা যাচ্ছে এটি আবার নাকি International Men’s Day বলে পালিত হয়। এই বছরই সরকারী প্রচারে জানা গেল ...
  • মার্জারবৃত্তান্ত
    বেড়াল অনেকের আদরের পুষ্যি। বেড়ালও অনেককে বেশ ভালোবাসে। তবে কুকুরের প্রভুভক্তি বা বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ালের কাছে আশা করলে দুঃখ লাভের সম্ভাবনা আছে। প্রবাদ আছে কুকুর নাকি খেতে খেতে দিলে প্রার্থনা করে, আমার প্রভু ধনেজনে বাড়ুক, পাতেপাতে ভাত পড়বে আমিও পেটপুরে ...
  • বসন্তবৌরী
    বিল্টু তোতা বুবাই সবাই আজ খুব উত্তেজিত। ওরা দেখেছে ছাদে যে কাপড় শুকোতে দেয়ার একটা বাঁশ আছে সেখানে একটা ছোট্ট সবুজ পাখি বাসা বেঁধেছে। কে যেন বললো এই ছোট্ট পাখিটার নাম বসন্তবৌরী। বসন্তবৌরী পাখিটি আবার ভারী ব্যস্তসমস্ত। সকাল বেলা বেরিয়ে যায়, সারাদিন কোথায় ...
  • সামান্থা ফক্স
    সামান্থা ফক্সচুপচাপ উপুড় হয়ে শুয়ে ছবিটার দিকে তাকিয়েছিলাম। মাথায় কয়েকশো চিন্তা।হস্টেলে মেস বিল বাকি প্রায় তিন মাস। অভাবে নয়,স্বভাবে। বাড়ি থেকে পয়সা পাঠালেই নেশাগুলো চাগাড় দিয়ে ওঠে। গভীর রাতের ভিডিও হলের চাম্পি সিনেমা,আপসু রাম আর ফার্স্ট ইয়ার কোন এক ...
  • ইংরাজী মিডিয়ামের বাংলা-জ্ঞান
    বাংলা মাধ্যম নাকি ইংরাজী মাধ্যম ? সুবিধা কি, অসুবিধাই বা কি? অনেক বিনিদ্র রজনী কাটাতে হয়েছে এই সিদ্ধান্ত নিতে! তারপরেও সংশয় যেতে চায় না। ঠিক করলাম, না কি ভুলই করলাম? উত্তর একদিন খানিক পরিস্কার হল। যেদিন একটি এগার বছরের আজন্ম ইংরাজী মাধ্যমে পড়া ছেলে এই ...
  • রুশ বিপ্লবের ইতিহাস
    রুশ বিপ্লবের ইতিহাসরাশিয়ায় শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের বিষয়টিকেই বলা হয় রুশ বিপ্লব। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ‘দুনিয়া কাঁপানো দশদিন’ সময়পর্বের মধ্যে এই বিপ্লবের চূড়ান্ত পর্বটি সংগঠিত হয়েছিল।অবশ্য দুনিয়া কাঁপানো এই দশ ...

ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জী

বেজায় গরম। অ্যান্টার্কটিকার একটা ইগলুর ভেতর দিব্যি চুপচাপ খালি গায়ে শুয়ে আছি, তবু ঘেমে অস্থির। পাশে হযবরল বইখানা রাখা ছিল, একটু পড়বার জন্যে যেই তুলতে গেছি; অমনি বইটা বললো, ‘হাহা’। কি আপদ! বই হাহা করে কেন ?

চেয়ে দেখি বইয়ের বদলে ফোনখানি হাতে নিয়েছি, আর সেখান থেকে হযবরলর জায়গায়, একশোটা লাইক আর কুড়িটা ‘হাহা’ রিয়াকশনে পুষ্ট বড়সড় একটি প্যারোডি আমার দিকে তাকিয়ে খ্যাঁকখ্যাঁক করে হাসছে। আমি বললাম, ‘কি মুশকিল! ছিল হযবরল, হয়ে গেল একটা প্যারোডি।’ অমনি প্যারোডিটা বলে উঠলো, 'মুশকিল আবার কি ? ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের বাবু, প্যারোডির চাপে হয়ে গেল কাবু। ছিল তোতাকাহিনী, কোনটা আসল, কোনটা প্যারোডি সে আর এখন খুঁজে পাইনি। এ তো হামেশাই হচ্ছে।'

আমি খানিক ভেবে বললাম, 'তাহলে তোমায় এখন কী বলে ডাকবো ? তুমি তো সত্যিকারের হযবরল নও, আসলে তুমি হচ্ছ প্যারোডি।' প্যারোডি বললো, 'হযবরলও বলতে পারো, প্যারোডিও বলতে পারো, ঘ্যাঁঘাসুরও বলতে পারো।' আমি বললাম, 'ঘ্যাঁঘাসুর কেন ?' শুনে প্যারোডিটা, 'তাও জানো না?' বলে খোঁয়াখোঁয়া শব্দে প্রবল হেসে প্রতিটা কমেন্টের রিপ্লাইয়ে LOL দিতে শুরু করলো। আমি ভারি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। মনে হলো ওই ঘ্যাঁঘাসুরের কথাটা নিশ্চয় আমার বোঝা উচিত ছিল। তাই থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি বলে ফেললাম, 'ও হ্যাঁ হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি।' লাইক পড়ার ধুম দেখে খুশি হয়ে, প্যারোডি বললো, 'হ্যাঁ, এ তো বোঝাই যাচ্ছে- ঘ্যাঁঘাসুরের চর্বি, প্যারোডির চর্বন আর হযবরলর ঘ্যাঁক - হল চর্বিতচর্বন। কেমন, হল তো ?' আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না, কিন্তু পাছে প্যারোডিটা আবার লোলোপদ্রব শুরু করে, তাই সঙ্গে সঙ্গে একটা লাভ দিয়ে দিলাম।

আমায় নিবিষ্টমনে কলম চিবুতে দেখে প্যারোডিটা হঠাৎ বলে উঠলো, 'লেখার আইডিয়া পাচ্ছ না, আমার মতো প্যারোডি লিখলেই তো পারো।' আমি বললাম ,'বলা ভারি সহজ, কিন্তু বললেই তো আর লেখা যায় না।' প্যারোডি বললো, 'কেন ? সে আর মুশকিল কি ?' আমি বললাম, 'কি করে লিখতে হয় তুমি তো জানো, বলে দাও দিখি।' প্যারোডি পাঁচখানা wow পেয়ে একগাল হেসে বললো, 'তা আর জানিনে! আসল টেক্সট, তার দুএকটা লাইন, বাদবাকি তোমার মস্তিস্কপ্রসূত গোবর - ব্যস ! দশমিনিটের লেখা, লিখেই পোস্ট, পোস্টের আধ ঘন্টার মধ্যেই সুখ্যাতির বন্যা ! লিখলেই হলো।' আমি বললাম, 'তাহলে লেখার ফর্মুলাটা আমায় বাতলে দিতে পারো ?' একটা sad পড়ায় প্যারোডি কেমন গম্ভীর হয়ে গেলো। তারপর মাথা নেড়ে বললো, 'উঁহু, সে আমার কর্ম নয়। আমার ফর্মুলার খাতাটা যদি থাকতো, তবে ঠিকঠিক বলে দিতে পারতাম।'

আমি বললাম, 'ফর্মুলার খাতাটা কোথায় ? খুঁজে আনা যায় না ?' প্যারোডি বললো, 'ফর্মুলার খাতা আবার কোথায় থাকবে! যেখানে থাকার সেখানেই। ইস্কুলে বেঞ্চের নিচে। কাল পরীক্ষায় চোতা করতে কাজে লাগবে।' আমি বললাম, "তাও অন্তত কয়েকটা লেখার ফর্মুলাও কি মনে নেই ?' প্যারোডি খুব জোরে মাথা নেড়ে বললো, (দুটো angry ) 'ওসব কি আর মনে রাখা যায় হে ! খুবই ঝামেলার কাজ।' আমি বললাম, 'কী রকম?' প্যারোডি বললো, 'সেটা কি রকম জানো ? মনে করো, তুমি নস্টালজিয়া নিয়ে লিখবে। তা ভালো ভালো স্মৃতির মধ্যে হঠাৎ ক্লাস এইটে অংকে ফেল করার কথা মনে চলে এলো। মেজাজ খিঁচড়ে সে লেখা আর হল না। ফেল করার সূত্রে আবার শিক্ষাব্যাবস্থার ত্রুটি নিয়ে লিখতে যাবে, অমনি মনে পড়লো তুমিই শিক্ষামন্ত্রী।আবার মন্ত্রীদের সততা নিয়ে লিখতে গেলে, এদিকে পকেটে আবার সদ্য হাতানো দুহাজারের নোটগুলো খোঁচা মারছে। ফলে কোনো কিছু নিয়ে লেখার জো নেই।'

আমি বললাম, 'তাহলে লোকে প্যারোডি কী করে লেখে?'

প্যারোডি বললো, 'সে অনেক হাঙ্গাম। আগে খুঁজে দেখতে হবে ভালো টেক্সট কী; তারপর দেখতে হবে ওই টেক্সট নিয়ে আগে কেউ প্যারোডি করেছে কিনা; প্যারোডি করলেও তার টপিক কী; সে প্যারোডিতে লোকজন কীরকম বাহবা দিয়েছে। তারপর দেখতে হবে -'

আমি তাড়াতাড়ি বাধা দিয়ে বললাম, 'সে কি রকম হিসেব?' প্যারোডি বললো, 'সে ভারি শক্ত। দেখবে কি রকম?' বলে একখানা পিডিএফ খুলে আমার সামনে ধরে বললে, 'এই হলো আসল টেক্সট।' বলেই, 'বালের লেখা' জাতীয় একটা কমেন্ট পেয়ে খানিকক্ষণ গম্ভীর হয়ে চুপ করে বসে রইল। তারপর কার যেন একটা লেখা খুলে আমায় দেখিয়ে বলল,'এই হলো সেটার প্যারোডি'। বলে আবার ঘাড় বেঁকিয়ে চুপ করে রইলো ( কমেন্ট : এসব ফালতু লেখার কী মানে ভাই?)। তারপর হঠাৎ সেই পূর্বপ্রদর্শিত প্যারোডির নিচে কমেন্টগুলো আমায় দেখিয়ে বললো, 'এই দ্যাখো লোকে আসল টেক্সটের অপমান করা হয়েছে বলে খিল্লি দিচ্ছে।' এরকম করে একটা একটা গালাগালির কমেন্ট খায়, আর সাথে সাথে নতুন নতুন পেজ খুলে আমায় দেখাতে থাকে, 'এই দ্যাখো কুড়িখানা লোক angry দিয়েছিল ' - 'এই যে লোকটা কাঁদছে' - 'পোস্টটা ডিলিট করে দিলো' - 'ক্ষমাপ্রার্থনা করছে-'

এইরকম শুনতে শুনতে শেষটায় আমার কেমন রাগ ধরে গেলো। আনলাইক করে দিলাম। বললাম, 'দূর ছাই! কি সব আবোল-তাবোল বকছো, আমার একটুও ভালো লাগছে না।' প্যারোডি বললো, 'আচ্ছা আমি আরেকটা টেক্সট খুঁজে আবার আসছি। চোখ বোজ - ফর্মুলার খাতাটাও আনিগে, কোথায় লুকিয়েছি দেখাবো না তোমায়।' আমি চোখ বুজলাম।

চোখ বুজেই আছি, বুজেই আছি,প্যারোডির কোনো সাড়াশব্দ নেই। হঠাৎ কেমন সন্দেহ হলো, চোখ চেয়ে দেখি প্যারোডিটা বিপুল গালাগালি খেয়ে ডিলিট হয়ে গেছে। আর ওই দূর থেকে করা যেন 'নতুন টেক্সট চাই', 'নতুন টেক্সট চাই' বলে চিৎকার জুড়েছে।

- সমাপ্ত-


Avatar: pi

Re: ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

প্যারোডির প্যারোডি দিব্ব লাগলো।
Avatar: রৌহিন

Re: ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

এটা পুরো ঘ্যাঁক হয়েছে


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন