কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জী RSS feed

কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জীএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মসলিন চাষী
    ঘুমালে আমি হয়ে যাই মসলিন চাষী, বিষয়টা আপনাদের কাছে হয়ত বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে না, কিন্তু তা সত্য এবং এক অতি অদ্ভুত ব্যবস্থার মধ্যে আমি পড়ে গেছি ও এর থেকে নিস্তারের উপায় কী তা আমার জানা নেই; কিন্তু শেষপর্যন্ত আমি লিখে যাচ্ছি, যা থাকে কপালে, যখন আর কিছু করা ...
  • সিরিয়ালচরিতমানস
    ‘একটি বনেদি বাড়ির বৈঠকখানা। পাত্রপক্ষ ঘটকের সূত্রে এসেছে সেই বাড়ির মেয়েকে দেখতে। মেয়েকে আনা হল। বংশপরম্পরা ইত্যাদি নিয়ে কিছু অবান্তর কথপোকথনের পর ছেলেটি চাইল মেয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে। যেই না বলা, অমনি মেয়ের দাদার মেজাজ সপ্তমে। ছুটে গিয়ে বন্দুক এনে ...
  • দেশ এবং জাতীয়তাবাদ
    স্পিলবার্গের 'মিউনিখ' সিনেমায় এরিক বানা'র জার্মান রেড আর্মি ফ্যাকশনের সদস্যের (যে আসলে মোসাদ এজেন্টে) চরিত্রের কাছে পিএলও'র সদস্য আলি ঘোষনা করে - 'তোমরা ইউরোপিয়ান লালরা বুঝবে না। ইটিএ, আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস, আইরিশ রিপাব্লিকান আর্মি, আমরা - আমরা সবাই ...
  • টস
    আমাদের মেয়েবেলায় অভিজ্ঞান মেনে কোন মোলায়েম ডাঁটির গোলাপ ফুল ছিলনা যার পরিসংখ্যান না-মানা পাঁচটাকা সাইজের পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে সিরিয়ালের আটার খনি আর গ্লিসারিনের একটা ইনডাইরেক্ট প্রোপরশন মুখে নিয়ে টেনশনের আইডিয়ালিজম ফর্মুলায় ফেলবো - "He loves me, he loves ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • সান্ধ্যসংলাপ: ফিরে দেখার অজ্যামিতিক রুপরেখা
    গত রবিবার সন্ধ্যেবেলা সাগ্নিক মূখার্জী 'প্ররোচিত' 'সাত তলা বাড়ি'-র 'সান্ধ্যসংলাপ' প্রযোজনাটি দেখতে গিয়ে একটা অদ্ভুত অনুভব এসে ধাক্কা দিল। নাটকটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার নেই আলাদা করে আমার। দর্শকাসনে বসে থেকে মনের ভেতর স্মিতহাসি নিয়ে একটা নাটক দেখা শেষ ...
  • গো-সংবাদ
    ঝাঁ চকচকে ক্যান্টিনে, বিফ কাবাবের স্বাদ জিভ ছেড়ে টাকরা ছুঁতেই, সেই দিনগুলো সামনে ফুটে উঠলো। পকেটে তখন রোজ বরাদ্দ খরচ ১৫ টাকা, তিন বেলা খাবার সঙ্গে বাসের ভাড়া। শহরের গন্ধ তখনও সেভাবে গায়ে জড়িয়ে যায় নি। রাস্তা আর ফুটপাতের প্রভেদ শিখছি। পকেটে ঠিকানার ...
  • ফুরসতনামা... (পর্ব ১)
    প্রথমেই স্বীকারোক্তি থাক যে ফুরসতনামা কথাটা আমার সৃষ্ট নয়। তারাপদ রায় তার একটা লেখার নাম দিয়েছিলেন ফুরসতনামা, আমি সেখান থেকে স্রেফ টুকেছি।আসলে ফুরসত পাচ্ছিলাম না বলেই অ্যাদ্দিন লিখে আপনাদের জ্বালাতন করা যাচ্ছিলনা। কপালজোরে খানিক ফুরসত মিলেছে, তাই লিখছি, ...
  • কাঁঠালবীচি বিচিত্রা
    ফেসবুকে সন্দীপন পণ্ডিতের মনোজ্ঞ পোস্ট পড়লাম - মনে পড়ে গেলো বাবার কথা, মনে পড়ে গেলো আমার শ্বশুর মশাইয়ের কথা। তাঁরা দুজনই ছিলেন কাঁঠালবীচির ভক্ত। পথের পাঁচালীর অপু হলে অবশ্য বলতো কাঁঠালবীচির প্রভু। তা প্রভু হোন আর ভক্তই হোন তাঁদের দুজনেরই মত ছিলো, ...
  • মহাগুণের গপ্পোঃ আমি যেটুকু জেনেছি
    মহাগুণ মডার্ণ নামক হাউসিং সোসাইটির একজন বাসিন্দা আমিও হতে পারতাম। দু হাজার দশ সালের শেষদিকে প্রথম যখন এই হাউসিংটির বিজ্ঞাপন কাগজে বেরোয়, দাম, লোকেশন ইত্যাদি বিবেচনা করে আমরাও এতে ইনভেস্ট করি, এবং একটি সাড়ে চোদ্দশো স্কোয়্যার ফুটের ফ্ল্যাট বুক করি। ...

ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জী

বেজায় গরম। অ্যান্টার্কটিকার একটা ইগলুর ভেতর দিব্যি চুপচাপ খালি গায়ে শুয়ে আছি, তবু ঘেমে অস্থির। পাশে হযবরল বইখানা রাখা ছিল, একটু পড়বার জন্যে যেই তুলতে গেছি; অমনি বইটা বললো, ‘হাহা’। কি আপদ! বই হাহা করে কেন ?

চেয়ে দেখি বইয়ের বদলে ফোনখানি হাতে নিয়েছি, আর সেখান থেকে হযবরলর জায়গায়, একশোটা লাইক আর কুড়িটা ‘হাহা’ রিয়াকশনে পুষ্ট বড়সড় একটি প্যারোডি আমার দিকে তাকিয়ে খ্যাঁকখ্যাঁক করে হাসছে। আমি বললাম, ‘কি মুশকিল! ছিল হযবরল, হয়ে গেল একটা প্যারোডি।’ অমনি প্যারোডিটা বলে উঠলো, 'মুশকিল আবার কি ? ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের বাবু, প্যারোডির চাপে হয়ে গেল কাবু। ছিল তোতাকাহিনী, কোনটা আসল, কোনটা প্যারোডি সে আর এখন খুঁজে পাইনি। এ তো হামেশাই হচ্ছে।'

আমি খানিক ভেবে বললাম, 'তাহলে তোমায় এখন কী বলে ডাকবো ? তুমি তো সত্যিকারের হযবরল নও, আসলে তুমি হচ্ছ প্যারোডি।' প্যারোডি বললো, 'হযবরলও বলতে পারো, প্যারোডিও বলতে পারো, ঘ্যাঁঘাসুরও বলতে পারো।' আমি বললাম, 'ঘ্যাঁঘাসুর কেন ?' শুনে প্যারোডিটা, 'তাও জানো না?' বলে খোঁয়াখোঁয়া শব্দে প্রবল হেসে প্রতিটা কমেন্টের রিপ্লাইয়ে LOL দিতে শুরু করলো। আমি ভারি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। মনে হলো ওই ঘ্যাঁঘাসুরের কথাটা নিশ্চয় আমার বোঝা উচিত ছিল। তাই থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি বলে ফেললাম, 'ও হ্যাঁ হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি।' লাইক পড়ার ধুম দেখে খুশি হয়ে, প্যারোডি বললো, 'হ্যাঁ, এ তো বোঝাই যাচ্ছে- ঘ্যাঁঘাসুরের চর্বি, প্যারোডির চর্বন আর হযবরলর ঘ্যাঁক - হল চর্বিতচর্বন। কেমন, হল তো ?' আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না, কিন্তু পাছে প্যারোডিটা আবার লোলোপদ্রব শুরু করে, তাই সঙ্গে সঙ্গে একটা লাভ দিয়ে দিলাম।

আমায় নিবিষ্টমনে কলম চিবুতে দেখে প্যারোডিটা হঠাৎ বলে উঠলো, 'লেখার আইডিয়া পাচ্ছ না, আমার মতো প্যারোডি লিখলেই তো পারো।' আমি বললাম ,'বলা ভারি সহজ, কিন্তু বললেই তো আর লেখা যায় না।' প্যারোডি বললো, 'কেন ? সে আর মুশকিল কি ?' আমি বললাম, 'কি করে লিখতে হয় তুমি তো জানো, বলে দাও দিখি।' প্যারোডি পাঁচখানা wow পেয়ে একগাল হেসে বললো, 'তা আর জানিনে! আসল টেক্সট, তার দুএকটা লাইন, বাদবাকি তোমার মস্তিস্কপ্রসূত গোবর - ব্যস ! দশমিনিটের লেখা, লিখেই পোস্ট, পোস্টের আধ ঘন্টার মধ্যেই সুখ্যাতির বন্যা ! লিখলেই হলো।' আমি বললাম, 'তাহলে লেখার ফর্মুলাটা আমায় বাতলে দিতে পারো ?' একটা sad পড়ায় প্যারোডি কেমন গম্ভীর হয়ে গেলো। তারপর মাথা নেড়ে বললো, 'উঁহু, সে আমার কর্ম নয়। আমার ফর্মুলার খাতাটা যদি থাকতো, তবে ঠিকঠিক বলে দিতে পারতাম।'

আমি বললাম, 'ফর্মুলার খাতাটা কোথায় ? খুঁজে আনা যায় না ?' প্যারোডি বললো, 'ফর্মুলার খাতা আবার কোথায় থাকবে! যেখানে থাকার সেখানেই। ইস্কুলে বেঞ্চের নিচে। কাল পরীক্ষায় চোতা করতে কাজে লাগবে।' আমি বললাম, "তাও অন্তত কয়েকটা লেখার ফর্মুলাও কি মনে নেই ?' প্যারোডি খুব জোরে মাথা নেড়ে বললো, (দুটো angry ) 'ওসব কি আর মনে রাখা যায় হে ! খুবই ঝামেলার কাজ।' আমি বললাম, 'কী রকম?' প্যারোডি বললো, 'সেটা কি রকম জানো ? মনে করো, তুমি নস্টালজিয়া নিয়ে লিখবে। তা ভালো ভালো স্মৃতির মধ্যে হঠাৎ ক্লাস এইটে অংকে ফেল করার কথা মনে চলে এলো। মেজাজ খিঁচড়ে সে লেখা আর হল না। ফেল করার সূত্রে আবার শিক্ষাব্যাবস্থার ত্রুটি নিয়ে লিখতে যাবে, অমনি মনে পড়লো তুমিই শিক্ষামন্ত্রী।আবার মন্ত্রীদের সততা নিয়ে লিখতে গেলে, এদিকে পকেটে আবার সদ্য হাতানো দুহাজারের নোটগুলো খোঁচা মারছে। ফলে কোনো কিছু নিয়ে লেখার জো নেই।'

আমি বললাম, 'তাহলে লোকে প্যারোডি কী করে লেখে?'

প্যারোডি বললো, 'সে অনেক হাঙ্গাম। আগে খুঁজে দেখতে হবে ভালো টেক্সট কী; তারপর দেখতে হবে ওই টেক্সট নিয়ে আগে কেউ প্যারোডি করেছে কিনা; প্যারোডি করলেও তার টপিক কী; সে প্যারোডিতে লোকজন কীরকম বাহবা দিয়েছে। তারপর দেখতে হবে -'

আমি তাড়াতাড়ি বাধা দিয়ে বললাম, 'সে কি রকম হিসেব?' প্যারোডি বললো, 'সে ভারি শক্ত। দেখবে কি রকম?' বলে একখানা পিডিএফ খুলে আমার সামনে ধরে বললে, 'এই হলো আসল টেক্সট।' বলেই, 'বালের লেখা' জাতীয় একটা কমেন্ট পেয়ে খানিকক্ষণ গম্ভীর হয়ে চুপ করে বসে রইল। তারপর কার যেন একটা লেখা খুলে আমায় দেখিয়ে বলল,'এই হলো সেটার প্যারোডি'। বলে আবার ঘাড় বেঁকিয়ে চুপ করে রইলো ( কমেন্ট : এসব ফালতু লেখার কী মানে ভাই?)। তারপর হঠাৎ সেই পূর্বপ্রদর্শিত প্যারোডির নিচে কমেন্টগুলো আমায় দেখিয়ে বললো, 'এই দ্যাখো লোকে আসল টেক্সটের অপমান করা হয়েছে বলে খিল্লি দিচ্ছে।' এরকম করে একটা একটা গালাগালির কমেন্ট খায়, আর সাথে সাথে নতুন নতুন পেজ খুলে আমায় দেখাতে থাকে, 'এই দ্যাখো কুড়িখানা লোক angry দিয়েছিল ' - 'এই যে লোকটা কাঁদছে' - 'পোস্টটা ডিলিট করে দিলো' - 'ক্ষমাপ্রার্থনা করছে-'

এইরকম শুনতে শুনতে শেষটায় আমার কেমন রাগ ধরে গেলো। আনলাইক করে দিলাম। বললাম, 'দূর ছাই! কি সব আবোল-তাবোল বকছো, আমার একটুও ভালো লাগছে না।' প্যারোডি বললো, 'আচ্ছা আমি আরেকটা টেক্সট খুঁজে আবার আসছি। চোখ বোজ - ফর্মুলার খাতাটাও আনিগে, কোথায় লুকিয়েছি দেখাবো না তোমায়।' আমি চোখ বুজলাম।

চোখ বুজেই আছি, বুজেই আছি,প্যারোডির কোনো সাড়াশব্দ নেই। হঠাৎ কেমন সন্দেহ হলো, চোখ চেয়ে দেখি প্যারোডিটা বিপুল গালাগালি খেয়ে ডিলিট হয়ে গেছে। আর ওই দূর থেকে করা যেন 'নতুন টেক্সট চাই', 'নতুন টেক্সট চাই' বলে চিৎকার জুড়েছে।

- সমাপ্ত-


Avatar: pi

Re: ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

প্যারোডির প্যারোডি দিব্ব লাগলো।
Avatar: রৌহিন

Re: ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

এটা পুরো ঘ্যাঁক হয়েছে


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন