কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জী RSS feed

কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জীএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বিসর্জন
    বিসর্জনঝুমা সমাদ্দারপড়ে রইল রাফখাতার শেষ পৃষ্ঠার এলোমেলো আঁকিবুকি... হলুদ প্লাস্টিকের ঝুটো দুল... চুলের তেলের গন্ধওয়ালা মাথার বালিশ...বেলতলার লাল কাঁকুড়ে পথ ... পড়ে রইল স্কুল ... আমগাছের নীচের বাঁধানো বেদী... পড়ে রইল হাসি-গল্প- ঝগড়া- খুনসুটি... বেগুনী ...
  • জ্যামিতিঃ পর্ব ৩
    http://bigyan.org.in...
  • বেতারে ‘অপারেশন সার্চলাইট'
    #MyStory #WarCrime #Joy71 #FFবিপ্লব রহমান, ঢাকা: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কারফিউ জারি করে বিদ্রোহ দমন করার নামে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, এর সামরিক অভিধা ছিল— ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে মুক্তিকামী ...
  • জ্যামিতি: পর্ব ২
    http://bigyan.org.in...
  • আমি যারে ভালবাসি, তারে আবার বাসি না...
    আটের দশকে এসএসসি পরীক্ষার পর আমার স্কুলের বন্ধুরা কেউ স্পোকেন ইংলিশ, কেউ বেসিক ইংলিশ, কেউ বা শর্টহ্যান্ড-টাইপরাইট...
  • চড়াই ঠাকুমা
    আজকে তো বিশ্ব চড়াই দিবস। এই প্রসঙ্গে আমার ছোট বেলার চেনা চড়াইদের কথা মনে পড়ছে। অসমে তখন ব্রিটিশ আমলের বাংলো বাড়ী নেই নেই করে ও ছিলো। ঠান্ডা গরমে সমান আরামের হতো বলে সেগুলোর এবং অন্য অনেক বাড়ীর চাল হতো সোনালী খড়ের, আঞ্চলিক ভাষায় আমরা বলতাম ছনের চাল। এরকম ...
  • মানবজনম
    পঁচিশ লক্ষ বছর আগে, দক্ষিণ আফ্রিকা, দিনালেদি নদীর উপত্যকামাহর প্রসবকাল আসন্ন, তাই তাকে আর খাদ্যসংগ্রহে যেতে হয়না। গোষ্ঠীবদ্ধ জীব হওয়ার এই একটা বড় সুবিধা, তার ওপর আবার মাহ দলপতির সঙ্গিনী, তাই আগত শিশু এবং শিশুর মায়ের খাদ্যাভাব হয়না। একটা পাথরের ছায়ায় ...
  • বিজেপি আর এস এস : হিন্দুত্বের রাজনীতি হিন্দুত্বের নেটওয়ার্ক
    হিন্দু মহাসভা আর এস এস জনসঙ্ঘ বিজেপি - হিন্দুত্ববাদ ও তার ইতিহাস------------৩ অক্টোবর ২০১৪, বিজয়া দশমীর দিনটাতে একটা বিশেষ ঘটনা ঘটল। সেদিন বেতারে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর দূরদর্শনের মতো সরকারী প্রচারমাধ্যমে ‘জাতির উদ্দেশে’ ...
  • তাজপুরের এলিয়েন
    এক ফেসবুক বন্ধু সদ্য তাজপুর গিয়ে এক অদ্ভুতদর্শন প্রাণী দেখেছিল, তারই কথায় এই লেখার অবতারনা।ছোটবেলায় ভ্যাকসিন নিয়েছেন তো? জানেন কি তার সাথে পঁয়তাল্লিশ কোটি বছরের ইতিহাস লুকিয়ে আছে। অবাক হচ্ছেন? অবাক হবেন না। চলুন আগে একটু তাজপুর ঘুরে আসি।একটু এলিট বাঙালী ...
  • গান-ভাষী
    গান-ভাষীঝুমা সমাদ্দারকানের পেছনে এক ঝলক ঠান্ডা ঠান্ডা মিষ্টি গন্ধের হাওয়ার ঝাপটা । হাল্কা …. শুকনো… মিহি ধুলো ওড়ানো । 'লছমনন্ ঝুউলা’... 'লছমনন্ ঝুউলা’... বলে গেল হাওয়াটা , তিন্নির কানে কানে, ফিস ফিস করে । কেমন সুন্দর নাম ! উচ্চারণ করলেই যেন বাজনা বাজে ! ...

ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জী

বেজায় গরম। অ্যান্টার্কটিকার একটা ইগলুর ভেতর দিব্যি চুপচাপ খালি গায়ে শুয়ে আছি, তবু ঘেমে অস্থির। পাশে হযবরল বইখানা রাখা ছিল, একটু পড়বার জন্যে যেই তুলতে গেছি; অমনি বইটা বললো, ‘হাহা’। কি আপদ! বই হাহা করে কেন ?

চেয়ে দেখি বইয়ের বদলে ফোনখানি হাতে নিয়েছি, আর সেখান থেকে হযবরলর জায়গায়, একশোটা লাইক আর কুড়িটা ‘হাহা’ রিয়াকশনে পুষ্ট বড়সড় একটি প্যারোডি আমার দিকে তাকিয়ে খ্যাঁকখ্যাঁক করে হাসছে। আমি বললাম, ‘কি মুশকিল! ছিল হযবরল, হয়ে গেল একটা প্যারোডি।’ অমনি প্যারোডিটা বলে উঠলো, 'মুশকিল আবার কি ? ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের বাবু, প্যারোডির চাপে হয়ে গেল কাবু। ছিল তোতাকাহিনী, কোনটা আসল, কোনটা প্যারোডি সে আর এখন খুঁজে পাইনি। এ তো হামেশাই হচ্ছে।'

আমি খানিক ভেবে বললাম, 'তাহলে তোমায় এখন কী বলে ডাকবো ? তুমি তো সত্যিকারের হযবরল নও, আসলে তুমি হচ্ছ প্যারোডি।' প্যারোডি বললো, 'হযবরলও বলতে পারো, প্যারোডিও বলতে পারো, ঘ্যাঁঘাসুরও বলতে পারো।' আমি বললাম, 'ঘ্যাঁঘাসুর কেন ?' শুনে প্যারোডিটা, 'তাও জানো না?' বলে খোঁয়াখোঁয়া শব্দে প্রবল হেসে প্রতিটা কমেন্টের রিপ্লাইয়ে LOL দিতে শুরু করলো। আমি ভারি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। মনে হলো ওই ঘ্যাঁঘাসুরের কথাটা নিশ্চয় আমার বোঝা উচিত ছিল। তাই থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি বলে ফেললাম, 'ও হ্যাঁ হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি।' লাইক পড়ার ধুম দেখে খুশি হয়ে, প্যারোডি বললো, 'হ্যাঁ, এ তো বোঝাই যাচ্ছে- ঘ্যাঁঘাসুরের চর্বি, প্যারোডির চর্বন আর হযবরলর ঘ্যাঁক - হল চর্বিতচর্বন। কেমন, হল তো ?' আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না, কিন্তু পাছে প্যারোডিটা আবার লোলোপদ্রব শুরু করে, তাই সঙ্গে সঙ্গে একটা লাভ দিয়ে দিলাম।

আমায় নিবিষ্টমনে কলম চিবুতে দেখে প্যারোডিটা হঠাৎ বলে উঠলো, 'লেখার আইডিয়া পাচ্ছ না, আমার মতো প্যারোডি লিখলেই তো পারো।' আমি বললাম ,'বলা ভারি সহজ, কিন্তু বললেই তো আর লেখা যায় না।' প্যারোডি বললো, 'কেন ? সে আর মুশকিল কি ?' আমি বললাম, 'কি করে লিখতে হয় তুমি তো জানো, বলে দাও দিখি।' প্যারোডি পাঁচখানা wow পেয়ে একগাল হেসে বললো, 'তা আর জানিনে! আসল টেক্সট, তার দুএকটা লাইন, বাদবাকি তোমার মস্তিস্কপ্রসূত গোবর - ব্যস ! দশমিনিটের লেখা, লিখেই পোস্ট, পোস্টের আধ ঘন্টার মধ্যেই সুখ্যাতির বন্যা ! লিখলেই হলো।' আমি বললাম, 'তাহলে লেখার ফর্মুলাটা আমায় বাতলে দিতে পারো ?' একটা sad পড়ায় প্যারোডি কেমন গম্ভীর হয়ে গেলো। তারপর মাথা নেড়ে বললো, 'উঁহু, সে আমার কর্ম নয়। আমার ফর্মুলার খাতাটা যদি থাকতো, তবে ঠিকঠিক বলে দিতে পারতাম।'

আমি বললাম, 'ফর্মুলার খাতাটা কোথায় ? খুঁজে আনা যায় না ?' প্যারোডি বললো, 'ফর্মুলার খাতা আবার কোথায় থাকবে! যেখানে থাকার সেখানেই। ইস্কুলে বেঞ্চের নিচে। কাল পরীক্ষায় চোতা করতে কাজে লাগবে।' আমি বললাম, "তাও অন্তত কয়েকটা লেখার ফর্মুলাও কি মনে নেই ?' প্যারোডি খুব জোরে মাথা নেড়ে বললো, (দুটো angry ) 'ওসব কি আর মনে রাখা যায় হে ! খুবই ঝামেলার কাজ।' আমি বললাম, 'কী রকম?' প্যারোডি বললো, 'সেটা কি রকম জানো ? মনে করো, তুমি নস্টালজিয়া নিয়ে লিখবে। তা ভালো ভালো স্মৃতির মধ্যে হঠাৎ ক্লাস এইটে অংকে ফেল করার কথা মনে চলে এলো। মেজাজ খিঁচড়ে সে লেখা আর হল না। ফেল করার সূত্রে আবার শিক্ষাব্যাবস্থার ত্রুটি নিয়ে লিখতে যাবে, অমনি মনে পড়লো তুমিই শিক্ষামন্ত্রী।আবার মন্ত্রীদের সততা নিয়ে লিখতে গেলে, এদিকে পকেটে আবার সদ্য হাতানো দুহাজারের নোটগুলো খোঁচা মারছে। ফলে কোনো কিছু নিয়ে লেখার জো নেই।'

আমি বললাম, 'তাহলে লোকে প্যারোডি কী করে লেখে?'

প্যারোডি বললো, 'সে অনেক হাঙ্গাম। আগে খুঁজে দেখতে হবে ভালো টেক্সট কী; তারপর দেখতে হবে ওই টেক্সট নিয়ে আগে কেউ প্যারোডি করেছে কিনা; প্যারোডি করলেও তার টপিক কী; সে প্যারোডিতে লোকজন কীরকম বাহবা দিয়েছে। তারপর দেখতে হবে -'

আমি তাড়াতাড়ি বাধা দিয়ে বললাম, 'সে কি রকম হিসেব?' প্যারোডি বললো, 'সে ভারি শক্ত। দেখবে কি রকম?' বলে একখানা পিডিএফ খুলে আমার সামনে ধরে বললে, 'এই হলো আসল টেক্সট।' বলেই, 'বালের লেখা' জাতীয় একটা কমেন্ট পেয়ে খানিকক্ষণ গম্ভীর হয়ে চুপ করে বসে রইল। তারপর কার যেন একটা লেখা খুলে আমায় দেখিয়ে বলল,'এই হলো সেটার প্যারোডি'। বলে আবার ঘাড় বেঁকিয়ে চুপ করে রইলো ( কমেন্ট : এসব ফালতু লেখার কী মানে ভাই?)। তারপর হঠাৎ সেই পূর্বপ্রদর্শিত প্যারোডির নিচে কমেন্টগুলো আমায় দেখিয়ে বললো, 'এই দ্যাখো লোকে আসল টেক্সটের অপমান করা হয়েছে বলে খিল্লি দিচ্ছে।' এরকম করে একটা একটা গালাগালির কমেন্ট খায়, আর সাথে সাথে নতুন নতুন পেজ খুলে আমায় দেখাতে থাকে, 'এই দ্যাখো কুড়িখানা লোক angry দিয়েছিল ' - 'এই যে লোকটা কাঁদছে' - 'পোস্টটা ডিলিট করে দিলো' - 'ক্ষমাপ্রার্থনা করছে-'

এইরকম শুনতে শুনতে শেষটায় আমার কেমন রাগ ধরে গেলো। আনলাইক করে দিলাম। বললাম, 'দূর ছাই! কি সব আবোল-তাবোল বকছো, আমার একটুও ভালো লাগছে না।' প্যারোডি বললো, 'আচ্ছা আমি আরেকটা টেক্সট খুঁজে আবার আসছি। চোখ বোজ - ফর্মুলার খাতাটাও আনিগে, কোথায় লুকিয়েছি দেখাবো না তোমায়।' আমি চোখ বুজলাম।

চোখ বুজেই আছি, বুজেই আছি,প্যারোডির কোনো সাড়াশব্দ নেই। হঠাৎ কেমন সন্দেহ হলো, চোখ চেয়ে দেখি প্যারোডিটা বিপুল গালাগালি খেয়ে ডিলিট হয়ে গেছে। আর ওই দূর থেকে করা যেন 'নতুন টেক্সট চাই', 'নতুন টেক্সট চাই' বলে চিৎকার জুড়েছে।

- সমাপ্ত-


Avatar: pi

Re: ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

প্যারোডির প্যারোডি দিব্ব লাগলো।
Avatar: রৌহিন

Re: ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

এটা পুরো ঘ্যাঁক হয়েছে


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন