কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জী RSS feed

কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জীএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • চম
    চমসিরিয়ে লিওন - ২০১৬, ১ ডিসেম্বর************...
  • সম্পর্ক
    চিরকালই আমার মনে হয়েছে মৃত্যু কোন সীমারেখা, ভেদাভেদের পরোয়া করেনা। আর যে মৃত তার ওপর এই পৃথিবীর কোন লেনদেন, সম্পর্ক,লিঙ্গ,ধর্ম, সমাজ সংস্কৃতির কোন নিয়ম খাটে না। কারণ সে আর কোথাও নেই। আঙুলের ফাঁকে গলে পড়া জল যেমন, শুধু স্মৃতির আর্দ্রতা অনুভব করা যায়। এমন ...
  • অমৃতকুম্ভের সন্ধানে'
    অমৃতকুম্ভের সন্ধানে' ঝুমা সমাদ্দার ১"বিরিয়ানি ? সেটা কি বস্তু হে দেবরাজ ?" "আরে, 'পলান্ন' রে, 'পলান্ন', পুরনো বোতলে নতুন মদ ।"ইন্দ্রের রাজসভায় মেনকার প্রশ্ন শুনে শুরুতেই এক দাবড়ানিতে থামিয়ে দিলেন দেবাদিদেব মহাদেব । অমনি ...
  • ম্যাচ পয়েন্ট
    ম্যাচ পয়েন্টসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্প: খবরদার, টাচ করবে না তুমি আমাকে!ওপাশ ফিরে শুয়ে আছে তুতুল। সুন্দর মুখটা রাগে অভিমানে কাশ্মিরি আপেলের মতো লাল হয়ে আছে। পলাশ কিছুক্ষণ নিজের মনেই হাসল। তারপর জোর করে তুতলকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, রাগটা কি আমার ওপর, ...
  • সুরের ভুবনে
    সুরের ভুবনেসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / অণুগল্পদশইঞ্চির স্কার্টটা হাঁটুর চার আঙুল ওপরেই শেষ হয়ে গেছে। লজ্জায় মুখ লাল হয়ে যাচ্ছিল পরমার। কোনরকমে হাঁটুতে হাঁটু চেপে মেক-আপ রুমে দাঁড়িয়েছিল সে। দীপ্তি ওকে বোঝাচ্ছিল।: দ্যাখ, আমাদের কাছে এই একটাই মূলধন, আমাদের গান। এই ...
  • আমেরিকা, আমি এসে গেছি
    আমেরিকা, আমি এসে গেছিআসলে কী --------------অ্যাকচ...
  • আতঙ্কিত ভীমরতি
    আতঙ্কিত ভীমরতিঝুমা সমাদ্দারপরিস্কার দেখতে পাচ্ছি দু' দু'খানা ইন্ডিয়া। দেশের ভিতর দেশ ।একখানা দেশ শপিংমলে গিয়ে খুঁজে খুঁজে ঢেঁকিছাঁটা চাল ( না হে , দিশী নাম নয় , নাম তার ‘ব্রাউন রাইস’), কিউয়ি-স্ট্রবেরীর মতো সাত-বাসী বিদেশী ফল(গাছ-পাকা পেয়ারা-কামরাঙায় ...
  • হালাল বইমেলায় হঠাৎ~
    অফিস থেকে দুঘণ্টা আগে ছাড়া পেয়েই ছুট। ঠিক দুবছর পর একুশের বইমেলায়। বলবেন, কেন? সে এক মেলা উত্তর, না হয় এইবেলা থাক। আপাত কারণ একটাই, অভিজিৎ নাই!ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেই মধুর কেন্টিনের কথা মনে পড়ে। অরুনের চায়ের কাপে চুমুক দিতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেখানে ...
  • নিলামওয়ালা ছ'আনা
    নিলামওয়ালা ছ'আনাসরিৎ চট্টোপাধ্যায় / ছোটগল্পপাঁচতারা হোটেলটাকে হাঁ করে তাকিয়ে দেখছিল সুদর্শন ছিপছিপে লম্বা ছেলেটা। আইপিএল-এর অকশান হবে এই হোটেলেই দুদিন পর। তারকাদের পাশাপাশিই সেদিন ভাগ্যনির্ণয় হবে ওর মতো কয়েকজন প্রায় নাম না জানা খেলোয়াড়ের। পাঁচতারায় ঢোকার ...
  • এক যে ছিল
    ১অমাবস্যা-পূর্ণিমা নয়, বছরের এপ্রিল-মে মাস এলেই জয়েন্টের ব্যথায় কাবু হয়ে পড়ে হরেরাম। গত তিন বছর ধরে এটি হচ্ছে। ক্রনিক রোগ বাঁধলো নাকি! হরেরামের চিন্তা হয়। অথচ চিকিৎসার তো কোনো ত্রুটি নেই। ...

ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জী

বেজায় গরম। অ্যান্টার্কটিকার একটা ইগলুর ভেতর দিব্যি চুপচাপ খালি গায়ে শুয়ে আছি, তবু ঘেমে অস্থির। পাশে হযবরল বইখানা রাখা ছিল, একটু পড়বার জন্যে যেই তুলতে গেছি; অমনি বইটা বললো, ‘হাহা’। কি আপদ! বই হাহা করে কেন ?

চেয়ে দেখি বইয়ের বদলে ফোনখানি হাতে নিয়েছি, আর সেখান থেকে হযবরলর জায়গায়, একশোটা লাইক আর কুড়িটা ‘হাহা’ রিয়াকশনে পুষ্ট বড়সড় একটি প্যারোডি আমার দিকে তাকিয়ে খ্যাঁকখ্যাঁক করে হাসছে। আমি বললাম, ‘কি মুশকিল! ছিল হযবরল, হয়ে গেল একটা প্যারোডি।’ অমনি প্যারোডিটা বলে উঠলো, 'মুশকিল আবার কি ? ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের বাবু, প্যারোডির চাপে হয়ে গেল কাবু। ছিল তোতাকাহিনী, কোনটা আসল, কোনটা প্যারোডি সে আর এখন খুঁজে পাইনি। এ তো হামেশাই হচ্ছে।'

আমি খানিক ভেবে বললাম, 'তাহলে তোমায় এখন কী বলে ডাকবো ? তুমি তো সত্যিকারের হযবরল নও, আসলে তুমি হচ্ছ প্যারোডি।' প্যারোডি বললো, 'হযবরলও বলতে পারো, প্যারোডিও বলতে পারো, ঘ্যাঁঘাসুরও বলতে পারো।' আমি বললাম, 'ঘ্যাঁঘাসুর কেন ?' শুনে প্যারোডিটা, 'তাও জানো না?' বলে খোঁয়াখোঁয়া শব্দে প্রবল হেসে প্রতিটা কমেন্টের রিপ্লাইয়ে LOL দিতে শুরু করলো। আমি ভারি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। মনে হলো ওই ঘ্যাঁঘাসুরের কথাটা নিশ্চয় আমার বোঝা উচিত ছিল। তাই থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি বলে ফেললাম, 'ও হ্যাঁ হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি।' লাইক পড়ার ধুম দেখে খুশি হয়ে, প্যারোডি বললো, 'হ্যাঁ, এ তো বোঝাই যাচ্ছে- ঘ্যাঁঘাসুরের চর্বি, প্যারোডির চর্বন আর হযবরলর ঘ্যাঁক - হল চর্বিতচর্বন। কেমন, হল তো ?' আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না, কিন্তু পাছে প্যারোডিটা আবার লোলোপদ্রব শুরু করে, তাই সঙ্গে সঙ্গে একটা লাভ দিয়ে দিলাম।

আমায় নিবিষ্টমনে কলম চিবুতে দেখে প্যারোডিটা হঠাৎ বলে উঠলো, 'লেখার আইডিয়া পাচ্ছ না, আমার মতো প্যারোডি লিখলেই তো পারো।' আমি বললাম ,'বলা ভারি সহজ, কিন্তু বললেই তো আর লেখা যায় না।' প্যারোডি বললো, 'কেন ? সে আর মুশকিল কি ?' আমি বললাম, 'কি করে লিখতে হয় তুমি তো জানো, বলে দাও দিখি।' প্যারোডি পাঁচখানা wow পেয়ে একগাল হেসে বললো, 'তা আর জানিনে! আসল টেক্সট, তার দুএকটা লাইন, বাদবাকি তোমার মস্তিস্কপ্রসূত গোবর - ব্যস ! দশমিনিটের লেখা, লিখেই পোস্ট, পোস্টের আধ ঘন্টার মধ্যেই সুখ্যাতির বন্যা ! লিখলেই হলো।' আমি বললাম, 'তাহলে লেখার ফর্মুলাটা আমায় বাতলে দিতে পারো ?' একটা sad পড়ায় প্যারোডি কেমন গম্ভীর হয়ে গেলো। তারপর মাথা নেড়ে বললো, 'উঁহু, সে আমার কর্ম নয়। আমার ফর্মুলার খাতাটা যদি থাকতো, তবে ঠিকঠিক বলে দিতে পারতাম।'

আমি বললাম, 'ফর্মুলার খাতাটা কোথায় ? খুঁজে আনা যায় না ?' প্যারোডি বললো, 'ফর্মুলার খাতা আবার কোথায় থাকবে! যেখানে থাকার সেখানেই। ইস্কুলে বেঞ্চের নিচে। কাল পরীক্ষায় চোতা করতে কাজে লাগবে।' আমি বললাম, "তাও অন্তত কয়েকটা লেখার ফর্মুলাও কি মনে নেই ?' প্যারোডি খুব জোরে মাথা নেড়ে বললো, (দুটো angry ) 'ওসব কি আর মনে রাখা যায় হে ! খুবই ঝামেলার কাজ।' আমি বললাম, 'কী রকম?' প্যারোডি বললো, 'সেটা কি রকম জানো ? মনে করো, তুমি নস্টালজিয়া নিয়ে লিখবে। তা ভালো ভালো স্মৃতির মধ্যে হঠাৎ ক্লাস এইটে অংকে ফেল করার কথা মনে চলে এলো। মেজাজ খিঁচড়ে সে লেখা আর হল না। ফেল করার সূত্রে আবার শিক্ষাব্যাবস্থার ত্রুটি নিয়ে লিখতে যাবে, অমনি মনে পড়লো তুমিই শিক্ষামন্ত্রী।আবার মন্ত্রীদের সততা নিয়ে লিখতে গেলে, এদিকে পকেটে আবার সদ্য হাতানো দুহাজারের নোটগুলো খোঁচা মারছে। ফলে কোনো কিছু নিয়ে লেখার জো নেই।'

আমি বললাম, 'তাহলে লোকে প্যারোডি কী করে লেখে?'

প্যারোডি বললো, 'সে অনেক হাঙ্গাম। আগে খুঁজে দেখতে হবে ভালো টেক্সট কী; তারপর দেখতে হবে ওই টেক্সট নিয়ে আগে কেউ প্যারোডি করেছে কিনা; প্যারোডি করলেও তার টপিক কী; সে প্যারোডিতে লোকজন কীরকম বাহবা দিয়েছে। তারপর দেখতে হবে -'

আমি তাড়াতাড়ি বাধা দিয়ে বললাম, 'সে কি রকম হিসেব?' প্যারোডি বললো, 'সে ভারি শক্ত। দেখবে কি রকম?' বলে একখানা পিডিএফ খুলে আমার সামনে ধরে বললে, 'এই হলো আসল টেক্সট।' বলেই, 'বালের লেখা' জাতীয় একটা কমেন্ট পেয়ে খানিকক্ষণ গম্ভীর হয়ে চুপ করে বসে রইল। তারপর কার যেন একটা লেখা খুলে আমায় দেখিয়ে বলল,'এই হলো সেটার প্যারোডি'। বলে আবার ঘাড় বেঁকিয়ে চুপ করে রইলো ( কমেন্ট : এসব ফালতু লেখার কী মানে ভাই?)। তারপর হঠাৎ সেই পূর্বপ্রদর্শিত প্যারোডির নিচে কমেন্টগুলো আমায় দেখিয়ে বললো, 'এই দ্যাখো লোকে আসল টেক্সটের অপমান করা হয়েছে বলে খিল্লি দিচ্ছে।' এরকম করে একটা একটা গালাগালির কমেন্ট খায়, আর সাথে সাথে নতুন নতুন পেজ খুলে আমায় দেখাতে থাকে, 'এই দ্যাখো কুড়িখানা লোক angry দিয়েছিল ' - 'এই যে লোকটা কাঁদছে' - 'পোস্টটা ডিলিট করে দিলো' - 'ক্ষমাপ্রার্থনা করছে-'

এইরকম শুনতে শুনতে শেষটায় আমার কেমন রাগ ধরে গেলো। আনলাইক করে দিলাম। বললাম, 'দূর ছাই! কি সব আবোল-তাবোল বকছো, আমার একটুও ভালো লাগছে না।' প্যারোডি বললো, 'আচ্ছা আমি আরেকটা টেক্সট খুঁজে আবার আসছি। চোখ বোজ - ফর্মুলার খাতাটাও আনিগে, কোথায় লুকিয়েছি দেখাবো না তোমায়।' আমি চোখ বুজলাম।

চোখ বুজেই আছি, বুজেই আছি,প্যারোডির কোনো সাড়াশব্দ নেই। হঠাৎ কেমন সন্দেহ হলো, চোখ চেয়ে দেখি প্যারোডিটা বিপুল গালাগালি খেয়ে ডিলিট হয়ে গেছে। আর ওই দূর থেকে করা যেন 'নতুন টেক্সট চাই', 'নতুন টেক্সট চাই' বলে চিৎকার জুড়েছে।

- সমাপ্ত-


Avatar: pi

Re: ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

প্যারোডির প্যারোডি দিব্ব লাগলো।
Avatar: রৌহিন

Re: ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

এটা পুরো ঘ্যাঁক হয়েছে


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন