কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জী RSS feed

কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জীএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমার ব্যথার পূজা
    ব্যর্থতাকে গ্রহন করতে শেখা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা। অনুভব হয় সেই শিক্ষা আমার অসম্পুর্ন রয়ে গেছে। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম না করতে পারার মানসিক যন্ত্রনা ছাপিয়ে গেছে শারীরিক যন্ত্রনাকেও.. এই কি সেই " মাঝবয়েসী সংকট"? নাকি, ছোট্টবেলা থেকে ...
  • বইমেলা নোটবই
    উপক্রমনিকাঃ গুরু এবং শুরুষাট সত্তরের দশকের হিন্দি ছবিতে কুম্ভ মেলা অর্থাৎ “কুম কে মেলে”-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকত। ওই ভাইয়ো অর বহেনোরা (মিত্রো নয় কিন্তু) কুম-কে মেলে’তে হারিয়ে যেত আর সিনেমার শেষে ফের দেখা হয়ে যেত, হ্যাপ্পি এন্ডিং আর কি। আর এই আলাদা আর ...
  • ভাসাইলি রে
    মুম্বাই থেকে ট্রেনে কলকাতা ফিরছি,সাল আমার মনে নেই। এক পুণে প্রবাসী বাঙালী পরিবারের সাথে আলাপ। তারা আত্মীয়র বিয়ে উপলক্ষে কলকাতা আসছেন। এনারা নিজেদের বাবার আমল থেকেই প্রবাসী। বহুদিন, বোধহয় প্রায় দশ-পনেরো বছর বাদে কলকাতায় আসছেন। খুবই আগ্রহী, যদি সময় করে ...
  • সংস্কৃত বাংলা ভাষার জননী নয়, সাঁওতালী ভাষার কাঠামোতেই বাংলা ভাষার বিকাশ
    বাংলা ভাষা একটি মিশ্র ভাষা। তার মধ্যে বৈদিক বা সংস্কৃত ভাষার অবদান যেমন আছে, তেমনি আছে খেরওয়াল বা সাঁওতালী সহ বেশ কিছু মুণ্ডা ভাষার অতি গুরূত্বপূর্ণ অবদান। বাংলা ভাষার জননী হিসেবে কেবল সংস্কৃত আর্য ভাষার দাবি সম্বলিত যে মিথটি গড়ে উঠেছিল – সেই দাবিকে ...
  • রক্তকরবী, অল্প কথায়
    মানুষের স্বতস্ফুর্ততা যখন মরে যায় তখন যন্ত্রে আর মানুষে তফাত থাকে কই! একটা ঘোর মেক্যানিক্যাল সিস্টেমের মধ্যে আবর্তিত হয় তার দৈনিক যাপন, বাকি সমাজের সাথে সম্পর্ক হয় অ্যালগোরিদিমিক্যাল। কাজের সূত্রে সে কথা বলে আবার ঢুকে যায় নিজের মৃত চামড়ার খোলসে।ঠিক যেন এই ...
  • একাত্তরের দিন গুলি
    কোন এক পড়ন্ত বিকেলে আমরা ঢাকার রাস্তায় কণিকা নামের একটা বাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। অনেকক্ষণ ধরে। আসলে আমরা খুঁজছিলাম একটা ফেলে আসা সময়কে। একটা পরিবারকে। যে বাড়িটা আসলে ব্লাইন্ড লেনের এক্কেবারে শেষ সীমায়। যে বাড়ির গলি আঁধার রাতে ভারী হয়েছিল পাকিস্তানী ...
  • #পুরোন_দিনের_লেখক-ফিরে_দেখা
    #পুরোন_দিনের_লেখক-ফি...
  • হিমুর মনস্তত্ত্ব
    সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যারিশমাটিক চরিত্র হিমু। হিমু একজন যুবক, যার ভালো নাম হিমালয়। তার বাবা, যিনি একজন মানসিক রোগী ছিলেন; তিনি ছেলেকে মহামানব বানাতে চেয়েছিলেন। হিমুর গল্পগুলিতে হিমু কিছু অদ্ভুত কাজ করে, অতিপ্রাকৃতিক কিছু শক্তি তার আছে ...
  • এক অজানা অচেনা কলকাতা
    ১৬৮৫ সালের মাদ্রাজ বন্দর,অধুনা চেন্নাই,সেখান থেকে এক ব্রিটিশ রণতরী ৪০০ জন মাদ্রাজ ডিভিশনের ব্রিটিশ সৈন্য নিয়ে রওনা দিলো চট্টগ্রাম অভিমুখে।ভারতবর্ষের মসনদে তখন আসীন দোর্দন্ডপ্রতাপ সম্রাট ঔরঙ্গজেব।কিন্তু চট্টগ্রাম তখন আরাকানদের অধীনে যাদের সাথে আবার মোগলদের ...
  • ভারতবর্ষ
    গতকাল বাড়িতে শিবরাত্রির ভোগ দিয়ে গেছে।একটা বড় মালসায় খিচুড়ি লাবড়া আর তার সাথে চাটনি আর পায়েস।রাতে আমাদের সবার ডিনার ছিল ওই খিচুড়িভোগ।পার্ক সার্কাস বাজারের ভেতর বাজার কমিটির তৈরি করা বেশ পুরনো একটা শিবমন্দির আছে।ভোগটা ওই শিবমন্দিরেরই।ছোটবেলা...

বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

কৃষ্ণেন্দু মুখার্জ্জী

বেজায় গরম। অ্যান্টার্কটিকার একটা ইগলুর ভেতর দিব্যি চুপচাপ খালি গায়ে শুয়ে আছি, তবু ঘেমে অস্থির। পাশে হযবরল বইখানা রাখা ছিল, একটু পড়বার জন্যে যেই তুলতে গেছি; অমনি বইটা বললো, ‘হাহা’। কি আপদ! বই হাহা করে কেন ?

চেয়ে দেখি বইয়ের বদলে ফোনখানি হাতে নিয়েছি, আর সেখান থেকে হযবরলর জায়গায়, একশোটা লাইক আর কুড়িটা ‘হাহা’ রিয়াকশনে পুষ্ট বড়সড় একটি প্যারোডি আমার দিকে তাকিয়ে খ্যাঁকখ্যাঁক করে হাসছে। আমি বললাম, ‘কি মুশকিল! ছিল হযবরল, হয়ে গেল একটা প্যারোডি।’ অমনি প্যারোডিটা বলে উঠলো, 'মুশকিল আবার কি ? ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের বাবু, প্যারোডির চাপে হয়ে গেল কাবু। ছিল তোতাকাহিনী, কোনটা আসল, কোনটা প্যারোডি সে আর এখন খুঁজে পাইনি। এ তো হামেশাই হচ্ছে।'

আমি খানিক ভেবে বললাম, 'তাহলে তোমায় এখন কী বলে ডাকবো ? তুমি তো সত্যিকারের হযবরল নও, আসলে তুমি হচ্ছ প্যারোডি।' প্যারোডি বললো, 'হযবরলও বলতে পারো, প্যারোডিও বলতে পারো, ঘ্যাঁঘাসুরও বলতে পারো।' আমি বললাম, 'ঘ্যাঁঘাসুর কেন ?' শুনে প্যারোডিটা, 'তাও জানো না?' বলে খোঁয়াখোঁয়া শব্দে প্রবল হেসে প্রতিটা কমেন্টের রিপ্লাইয়ে LOL দিতে শুরু করলো। আমি ভারি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। মনে হলো ওই ঘ্যাঁঘাসুরের কথাটা নিশ্চয় আমার বোঝা উচিত ছিল। তাই থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি বলে ফেললাম, 'ও হ্যাঁ হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি।' লাইক পড়ার ধুম দেখে খুশি হয়ে, প্যারোডি বললো, 'হ্যাঁ, এ তো বোঝাই যাচ্ছে- ঘ্যাঁঘাসুরের চর্বি, প্যারোডির চর্বন আর হযবরলর ঘ্যাঁক - হল চর্বিতচর্বন। কেমন, হল তো ?' আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না, কিন্তু পাছে প্যারোডিটা আবার লোলোপদ্রব শুরু করে, তাই সঙ্গে সঙ্গে একটা লাভ দিয়ে দিলাম।

আমায় নিবিষ্টমনে কলম চিবুতে দেখে প্যারোডিটা হঠাৎ বলে উঠলো, 'লেখার আইডিয়া পাচ্ছ না, আমার মতো প্যারোডি লিখলেই তো পারো।' আমি বললাম ,'বলা ভারি সহজ, কিন্তু বললেই তো আর লেখা যায় না।' প্যারোডি বললো, 'কেন ? সে আর মুশকিল কি ?' আমি বললাম, 'কি করে লিখতে হয় তুমি তো জানো, বলে দাও দিখি।' প্যারোডি পাঁচখানা wow পেয়ে একগাল হেসে বললো, 'তা আর জানিনে! আসল টেক্সট, তার দুএকটা লাইন, বাদবাকি তোমার মস্তিস্কপ্রসূত গোবর - ব্যস ! দশমিনিটের লেখা, লিখেই পোস্ট, পোস্টের আধ ঘন্টার মধ্যেই সুখ্যাতির বন্যা ! লিখলেই হলো।' আমি বললাম, 'তাহলে লেখার ফর্মুলাটা আমায় বাতলে দিতে পারো ?' একটা sad পড়ায় প্যারোডি কেমন গম্ভীর হয়ে গেলো। তারপর মাথা নেড়ে বললো, 'উঁহু, সে আমার কর্ম নয়। আমার ফর্মুলার খাতাটা যদি থাকতো, তবে ঠিকঠিক বলে দিতে পারতাম।'

আমি বললাম, 'ফর্মুলার খাতাটা কোথায় ? খুঁজে আনা যায় না ?' প্যারোডি বললো, 'ফর্মুলার খাতা আবার কোথায় থাকবে! যেখানে থাকার সেখানেই। ইস্কুলে বেঞ্চের নিচে। কাল পরীক্ষায় চোতা করতে কাজে লাগবে।' আমি বললাম, "তাও অন্তত কয়েকটা লেখার ফর্মুলাও কি মনে নেই ?' প্যারোডি খুব জোরে মাথা নেড়ে বললো, (দুটো angry ) 'ওসব কি আর মনে রাখা যায় হে ! খুবই ঝামেলার কাজ।' আমি বললাম, 'কী রকম?' প্যারোডি বললো, 'সেটা কি রকম জানো ? মনে করো, তুমি নস্টালজিয়া নিয়ে লিখবে। তা ভালো ভালো স্মৃতির মধ্যে হঠাৎ ক্লাস এইটে অংকে ফেল করার কথা মনে চলে এলো। মেজাজ খিঁচড়ে সে লেখা আর হল না। ফেল করার সূত্রে আবার শিক্ষাব্যাবস্থার ত্রুটি নিয়ে লিখতে যাবে, অমনি মনে পড়লো তুমিই শিক্ষামন্ত্রী।আবার মন্ত্রীদের সততা নিয়ে লিখতে গেলে, এদিকে পকেটে আবার সদ্য হাতানো দুহাজারের নোটগুলো খোঁচা মারছে। ফলে কোনো কিছু নিয়ে লেখার জো নেই।'

আমি বললাম, 'তাহলে লোকে প্যারোডি কী করে লেখে?'

প্যারোডি বললো, 'সে অনেক হাঙ্গাম। আগে খুঁজে দেখতে হবে ভালো টেক্সট কী; তারপর দেখতে হবে ওই টেক্সট নিয়ে আগে কেউ প্যারোডি করেছে কিনা; প্যারোডি করলেও তার টপিক কী; সে প্যারোডিতে লোকজন কীরকম বাহবা দিয়েছে। তারপর দেখতে হবে -'

আমি তাড়াতাড়ি বাধা দিয়ে বললাম, 'সে কি রকম হিসেব?' প্যারোডি বললো, 'সে ভারি শক্ত। দেখবে কি রকম?' বলে একখানা পিডিএফ খুলে আমার সামনে ধরে বললে, 'এই হলো আসল টেক্সট।' বলেই, 'বালের লেখা' জাতীয় একটা কমেন্ট পেয়ে খানিকক্ষণ গম্ভীর হয়ে চুপ করে বসে রইল। তারপর কার যেন একটা লেখা খুলে আমায় দেখিয়ে বলল,'এই হলো সেটার প্যারোডি'। বলে আবার ঘাড় বেঁকিয়ে চুপ করে রইলো ( কমেন্ট : এসব ফালতু লেখার কী মানে ভাই?)। তারপর হঠাৎ সেই পূর্বপ্রদর্শিত প্যারোডির নিচে কমেন্টগুলো আমায় দেখিয়ে বললো, 'এই দ্যাখো লোকে আসল টেক্সটের অপমান করা হয়েছে বলে খিল্লি দিচ্ছে।' এরকম করে একটা একটা গালাগালির কমেন্ট খায়, আর সাথে সাথে নতুন নতুন পেজ খুলে আমায় দেখাতে থাকে, 'এই দ্যাখো কুড়িখানা লোক angry দিয়েছিল ' - 'এই যে লোকটা কাঁদছে' - 'পোস্টটা ডিলিট করে দিলো' - 'ক্ষমাপ্রার্থনা করছে-'

এইরকম শুনতে শুনতে শেষটায় আমার কেমন রাগ ধরে গেলো। আনলাইক করে দিলাম। বললাম, 'দূর ছাই! কি সব আবোল-তাবোল বকছো, আমার একটুও ভালো লাগছে না।' প্যারোডি বললো, 'আচ্ছা আমি আরেকটা টেক্সট খুঁজে আবার আসছি। চোখ বোজ - ফর্মুলার খাতাটাও আনিগে, কোথায় লুকিয়েছি দেখাবো না তোমায়।' আমি চোখ বুজলাম।

চোখ বুজেই আছি, বুজেই আছি,প্যারোডির কোনো সাড়াশব্দ নেই। হঠাৎ কেমন সন্দেহ হলো, চোখ চেয়ে দেখি প্যারোডিটা বিপুল গালাগালি খেয়ে ডিলিট হয়ে গেছে। আর ওই দূর থেকে করা যেন 'নতুন টেক্সট চাই', 'নতুন টেক্সট চাই' বলে চিৎকার জুড়েছে।

- সমাপ্ত-

শেয়ার করুন


Avatar: pi

Re: ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

প্যারোডির প্যারোডি দিব্ব লাগলো।
Avatar: রৌহিন

Re: ঘ্যাঁক (একটি প্যারোডির প্যারোডি)

এটা পুরো ঘ্যাঁক হয়েছে


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন